Brand logo light
বাংলাদেশ

কাশিমপুর ভূমি অফিসে দালালচক্র ও অনিয়মের অভিযোগ: চার কর্মকর্তা-কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত, তদন্তে নতুন তথ্যের অপেক্ষা

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0

গাজীপুর: দীর্ঘদিনের অভিযোগ, সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি এবং সরকারি কাজে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ—সবকিছুর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার দাবি করে গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেন। তবে প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি চূড়ান্ত শাস্তি নয়; পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, আর অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টরা সরকারি বিধি অনুযায়ী অব্যাহতি পাবেন।

বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন—কাশিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ওয়াজেদ আলী খান, অফিস সহকারী শফিকুল ইসলাম, মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল এবং আব্দুল হালিম খান।

অভিযোগের কেন্দ্রে কী?

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে অবহেলা, সেবায় অনিয়ম, দালালনির্ভর কার্যক্রম এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা হচ্ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসক বিভিন্ন ভূমি অফিসে আকস্মিক পরিদর্শন শুরু করেন।

কাশিমপুর ভূমি অফিসে গিয়ে তিনি দেখতে পান—

  • সরকারি দাফতরিক কাজ বাইরের লোকজনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার অভিযোগ;
  • সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগের যথাযথ নিষ্পত্তি না হওয়া;
  • বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা;
  • দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য না পাওয়া;
  • নামজারি সফটওয়্যারের কার্যক্রম প্রদর্শনে ব্যর্থতা।

প্রশাসনের দাবি, এসব বিষয় সরকারি সেবা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

জেলা প্রশাসক যা বললেন

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, কাশিমপুর ভূমি অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছেন—এমন প্রমাণ তারা দিতে পারেননি।

তার ভাষায়, অভিযোগের ভিত্তিতে নথিপত্র ও বিভিন্ন মামলা পরীক্ষা করে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তারা সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রশাসনের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও নামজারির কাজ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজে না করে বাইরের লোকজন দিয়ে করানো হচ্ছিল। ভূমি সংক্রান্ত সরকারি কার্যক্রমে বহিরাগতদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুতর অনিয়ম বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুপস্থিত কর্মকর্তা, ঝুলে থাকা আবেদন

পরিদর্শনের সময় দুই কর্মকর্তা কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না বলেও জানান জেলা প্রশাসক।

তার দাবি, উপস্থিত কর্মকর্তারাও চলমান কাজের সঠিক হিসাব দিতে পারেননি। বিপুলসংখ্যক আবেদন দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে আছে এবং প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে।

এসব কারণেই তাৎক্ষণিকভাবে চার কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

তদন্তে কী হবে?

জেলা প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে।

তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তারা বিধি অনুযায়ী দায়িত্বে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন।

অন্য ভূমি অফিসে কী পাওয়া গেল?

কাশিমপুর পরিদর্শনের পর জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসও পরিদর্শন করেন।

সেখানে বড় ধরনের অনিয়ম না পেলেও কিছু প্রশাসনিক ত্রুটি চিহ্নিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এসব নির্দেশনার বাস্তবায়ন নিয়মিত তদারকি করা হবে।

ভূমি সেবায় প্রশাসনের বার্তা

জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে ভূমি সেবাকেন্দ্রের মাধ্যমে আবেদন করলে তা সরাসরি সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট তহসিল অফিসে পৌঁছে যায়। তহসিলদার আবেদন যাচাই-বাছাই করে যোগ্য হলে অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করবেন, আর অনুপযুক্ত হলে কারণ উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যানের প্রস্তাব দেবেন।

তিনি বলেন, ভূমি সংক্রান্ত সরকারি সেবা কোনোভাবেই দালাল বা বহিরাগতদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার সুযোগ নেই।

পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন

পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে ছিলেন—

  • অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা
  • গাজীপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন
  • টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) হাসিবুর রহমান
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
বরিশালে আরএকে সিরামিকের টাইলসে ত্রুটির অভিযোগ:কাঠের হাতুড়ির আঘাতেই ফাটছে টাইলস

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বাড়ির মেঝেতে ব্যবহারের জন্য প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার টাকা দিয়ে কেনা আরএকে (RAK) ব্র্যান্ডের টাইলস। কিন্তু মেঝেতে বসানোর আগেই কাটতে গিয়ে ভেঙে যাচ্ছে একের পর এক টাইলস। এমনকি সাধারণ কাঠের হাতুড়ির হালকা আঘাতেও ফেটে যাচ্ছে টাইলসের মাঝখান। অভিযোগকারী বলছেন, বিষয়টি কোম্পানিকে জানানোর পর তাদের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। একপর্যায়ে কোম্পানির এক প্রতিনিধির বক্তব্যে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় টাইলস পোড়ানোর কারণে ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে বলে দাবি তাঁর। এ ঘটনায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গেছে বাড়ির নির্মাণকাজ। টাইলসের মূল্য, স্থাপনকাজের খরচ ও আনুষঙ্গিক ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৬ টাকা লোকসানের দাবি করেছেন ভোক্তা। প্রতিকার না পেয়ে শেষ পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। যেভাবে সামনে আসে টাইলসের ত্রুটির অভিযোগ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযোগকারী তানভীর বাড়ির মেঝেতে ব্যবহারের জন্য RAK Elegant Alpha 8219 মডেলের মোট ১ হাজার ৪২০ বর্গফুট টাইলস কেনেন। এর ক্রয়মূল্য ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৬ টাকা। বাসায় টাইলস পৌঁছানোর পর রাজমিস্ত্রির মাধ্যমে স্থাপনের কাজ শুরু হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী টাইলস কাটতে গিয়ে দেখা যায়, সেগুলো স্বাভাবিকভাবে কাটার পরিবর্তে ভেঙে যাচ্ছে। শুধু কাটার সময়ই নয়, অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সাধারণ কাঠের হাতুড়ির হালকা আঘাতে বসানোর সময়ও টাইলসের মাঝখান ফেটে যেতে থাকে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিক্রেতা ও কোম্পানির প্রতিনিধিদের জানানো হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য, পরবর্তী সময়ে কোম্পানির পক্ষ থেকে নিজস্ব কাটিং মিস্ত্রি পাঠানো হয়। কিন্তু তাঁর হাতেও টাইলস কাটার সময় একই সমস্যা দেখা দেয়। এরপর কোম্পানির মার্কেট প্রতিনিধি ও এরিয়া ম্যানেজার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পোড়ানোর কথা, অডিও রেকর্ড থাকার দাবি অভিযোগকারী তানভীরের দাবি, সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার মৌখিকভাবে তাঁকে জানান, সংশ্লিষ্ট লটের টাইলস উৎপাদন বা ফ্যাক্টরি প্রসেসিংয়ের সময় অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পোড়ানোর কারণে অস্বাভাবিকভাবে ভঙ্গুর হয়ে থাকতে পারে। তানভীরের দাবি, এ বিষয়ে কোম্পানির প্রতিনিধির সঙ্গে কথোপকথনের অডিও রেকর্ড তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এ বক্তব্যের সত্যতা ও উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ টাইলসের স্থায়িত্ব ও মান নির্ভর করে উৎপাদনপ্রক্রিয়া, নির্ধারিত তাপমাত্রা এবং পণ্যের গুণগত পরীক্ষার ওপর। তবে অভিযোগকারীর দাবি, কোম্পানির প্রতিনিধিরা সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে শুধু আশ্বাস দিয়েছেন; কার্যকর কোনো সমাধান দেননি। আশ্বাসের পরও সমাধান নেই, ফেরত নিতে অস্বীকৃতির অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর গত ২৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ত্রুটিপূর্ণ টাইলস ফেরত নেওয়া অথবা সমমূল্যের ভালো টাইলস দিয়ে পরিবর্তন করে দেওয়ার দাবি জানান তানভীর। কিন্তু কোম্পানির পক্ষ থেকে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর। কোম্পানির প্রতিনিধিরা যুক্তি দেখান, ইতোমধ্যে স্থাপন করা কিংবা ভেঙে যাওয়া টাইলস ফেরত নেওয়া সম্ভব নয়। এরপর থেকে কোম্পানির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা তাঁর ফোন ধরছেন না বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি। এখানে ভোক্তার মূল প্রশ্ন—পণ্যটি যদি উৎপাদনগত ত্রুটির কারণে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে থাকে, তাহলে সেই দায় কে নেবে? শুধু টাইলস বিক্রি করেই কি বিক্রেতা ও উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়? একই মডেলের টাইলসে অন্য ভোক্তারও অভিযোগ অভিযোগকারী তানভীরের দাবি, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। একই মডেলের টাইলস নিয়ে অন্য একজন ভোক্তাও একই ধরনের সমস্যার কথা প্রকাশ করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ‘টাইলস ফিটিং গ্রুপ বাংলাদেশ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ঢাকার বাসিন্দা ফয়সাল ইসলাম RAK Elegant Alpha 8219 মডেলের ১ হাজার ৪৫০ বর্গফুট টাইলস কিনে একই ধরনের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ-সংক্রান্ত ফেসবুক পোস্টের লিংক ও স্ক্রিনশটও অভিযোগের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে।   প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার ক্ষতির দাবি তানভীরের ভাষ্য অনুযায়ী, শুধু টাইলস কিনতেই তাঁর ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৬ টাকা। এর বাইরে বালু, সিমেন্ট, রাজমিস্ত্রির মজুরি ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বাবদ আরও প্রায় ১ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ টাইলসের কারণে বাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ইতোমধ্যে যেসব টাইলস বসানো হয়েছে, সেগুলো ভবিষ্যতে আরও ফেটে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে নির্মাণকাজের অনিশ্চয়তা ও স্থায়িত্ব নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিযোগকারী। ভোক্তা অধিদপ্তরে অভিযোগ, চাওয়া হয়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার টাকার প্রতিকার এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী প্রতিকার চেয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন তানভীর। আবেদনে তিনি তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন— কেনা সম্পূর্ণ ১ হাজার ৪২০ বর্গফুট টাইলসের মূল্য বাবদ ১ লাখ ৮৮ হাজার ৫৮৬ টাকা ফেরত।  আনুষঙ্গিক ক্ষতি ও পুনরায় টাইলস স্থাপনের ব্যয় বাবদ ১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ।  ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ। অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের একজন সহকারী পরিচালক বলেন, “অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আমরা নোটিশ পাঠিয়ে শুনানি করার পর চূড়ান্তভাবে বলতে পারব।”   বিক্রেতার বক্তব্য: আমাদের গাফিলতি নেই অভিযুক্ত বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান নিউ সায়েম স্টোর কর্তৃপক্ষ বলেন, “ঘটনা জানি। কিন্তু এ বিষয়ে আমাদের গাফিলতি নেই। কোম্পানি জানে, এসব ঘটনার কারণ কী।” তবে পণ্য বিক্রেতা হিসেবে ভোক্তার অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব ও ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। আরএকে সিরামিকের এরিয়া ম্যানেজারের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে আরএকে সিরামিকের বরিশালের এরিয়া ম্যানেজার সোহেল রানা বলেন, “টাইলস যে তাপমাত্রায় পোড়ানোর নিয়ম, কোম্পানি তার চেয়ে বেশি পুড়িয়েছে বলে আমাদের টেকনিক্যাল শাখা থেকে বলেছে। তাই টাইলস ভেঙে যায়।” তাঁর এ বক্তব্য অভিযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। তবে উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত তাপমাত্রা প্রয়োগের বিষয়টি, এর ফলে টাইলসের গুণগত মানে কী ধরনের প্রভাব পড়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাচে এমন ত্রুটি ছিল কি না—এসব বিষয়ে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক লিখিত বক্তব্য ও কারিগরি ব্যাখ্যা প্রয়োজন। এখন প্রশ্ন, দায় নেবে কে? একজন ভোক্তা নিজের বাড়ির জন্য মানসম্মত পণ্য কিনতে অর্থ ব্যয় করেন। কিন্তু সেই পণ্য ব্যবহারের আগেই যদি ভেঙে যায়, তাহলে শুধু ক্রয়মূল্য নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা শ্রম, নির্মাণসামগ্রী ও সময়ের ক্ষতির দায়ও সামনে আসে। এই ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে— RAK Elegant Alpha 8219 মডেলের সংশ্লিষ্ট উৎপাদন লটে কোনো কারিগরি ত্রুটি ছিল কি না? কোম্পানির নিজস্ব কারিগরি বিভাগ কি টাইলসের মান পরীক্ষা করেছে? একই মডেলের টাইলস নিয়ে একাধিক অভিযোগ থাকলে কোম্পানি কি ব্যাচভিত্তিক তদন্ত করবে? ত্রুটিপূর্ণ পণ্য বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে ভোক্তার আর্থিক ক্ষতির প্রতিকার কীভাবে হবে? এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে ভোক্তা অধিদপ্তরের তদন্ত, শুনানি এবং প্রয়োজনে পণ্যের স্বাধীন কারিগরি পরীক্ষার মাধ্যমে। একই সঙ্গে অভিযোগের বিষয়ে কোম্পানির আনুষ্ঠানিক অবস্থান, উৎপাদন লটের তথ্য এবং মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও স্বচ্ছ হবে। এখন দেখার বিষয়, ভোক্তার অভিযোগের পর আরএকে সিরামিক কর্তৃপক্ষ দায় স্বীকার করে প্রতিকার দেয়, নাকি বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য শেষ পর্যন্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হয়।  

নিজস্ব প্রতিবেদক নভেম্বর ৩, ২০২৬ 0

পবিপ্রবিতে পরিবহন সংকট নিরসনে বিআরটিসির দুই ডাবল ডেকার বাস উদ্বোধন

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মাধ্যমিক শাখা বন্ধের ষড়যন্ত্র: প্রতিবাদে অভিভাবকদের স্মারকলিপি

দুই বছরে জিপিএ-৫ কমেছে ১ লাখের বেশি, পাসের হারেও বড় ধস

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ
বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ফল বিপর্যয়: নেপথ্যে শিক্ষকদের কোন্দল, অবহেলা ও রাজনীতি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:  একসময় যে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে ভর্তি হয়েছিল, তাদের অনেকেই এবার এইচএসসি পরীক্ষায় প্রত্যাশিত ফল অর্জন করতে পারেনি। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৩১৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৩৪ জন, ফেল করেছে ৮১ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১ জন। প্রতিষ্ঠানের এমন ফল বিপর্যয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নবাগত অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির এই ফল বিপর্যয়ের পেছনে শিক্ষক-শিক্ষকদের দলাদলি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, শিক্ষার্থীদের প্রতি যথাযথ মনোযোগের অভাব এবং প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের বিরোধের অভিযোগ সামনে এসেছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক শাখা বন্ধের ষড়যন্ত্র, প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এবং প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকেও সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।  ভালো ফল নিয়ে ভর্তি, শেষ পর্যন্ত হতাশাজনক পরিণতি চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মোট ৩১৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২৩৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৮১ জন। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র একজন শিক্ষার্থী। ফলাফলের এই চিত্র প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত তদারকি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ অর্জন করে কলেজ শাখায় ভর্তি হয়েছিল, তাদের অনেকের ফল প্রত্যাশার তুলনায় খারাপ হওয়ায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। নবাগত অধ্যক্ষ অধ্যাপক তপন কুমার সাহাও ফলাফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তবে এই বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ  নিয়মিত পাঠদান না করা,শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন পর্যালোচনা না করা,শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল না হওয়া।গাইড বই পড়তে উৎস্হ দেয়া,কলেজ শিক্ষকদের অভ্যান্তরীন কোন্দল।   শিক্ষক-কোন্দল, রাজনীতি ও প্রভাবের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও উঠেছে নানা অভিযোগ। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কলেজ শাখার শিক্ষকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দলাদলি ও কোন্দল চলছে। এর প্রভাব পড়ছে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের ওপর। অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন না। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ, দুর্বল শিক্ষার্থীদের বাড়তি সহযোগিতা এবং পরীক্ষার প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় মনোযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমিক শাখা বন্ধ করা এবং নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ ঘিরেও বিতর্ক ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। মাধ্যমিক শাখা বন্ধ করা এবং নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন শিক্ষক আবু মামুন,মাসুম বিল্লাহ ও ওয়াহিদুজ্জামান বলে জানিয়েছে অভিভাবকরা।    বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ,বেগম জিয়ার একটি বিশেষ  উদ্যোগ বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠার পেছনে ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম জিয়ার একটি বিশেষ  উদ্যোগ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের ছয়টি বিভাগীয় শহরে ১১টি মডেল স্কুল ও কলেজ প্রতিষ্ঠার জন্য ১১৪ কোটি টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। ২০০৬ সালের ৩১ জানুয়ারি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। ওই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই ২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বরিশাল  মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি চালুর লক্ষ্য ছিল মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিভাগীয় শহরের শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। কিন্তু প্রতিষ্ঠার প্রায় দুই দশক পর প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও প্রশাসনিক পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঐতিহ্য রক্ষায় প্রয়োজন জবাবদিহি ও কার্যকর উদ্যোগ সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার  নেয়া বিশেষ প্রকল্পের আওতায় প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বরিশালের শিক্ষাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষক-কোন্দল, প্রশাসনিক অস্থিরতা, পাঠদানে অবহেলা এবং শিক্ষকদের রাজনীতি ও প্রভাবের কারনে প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে হলে প্রথমেই ফল বিপর্যয়ের কারণ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়মিত পাঠদান পর্যবেক্ষণ, শিক্ষার্থীদের প্রতি বাড়তি যত্ন এবং প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের অবসান জরুরি। প্রতিষ্ঠানটিতে  প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, শিক্ষক ব্যবস্থাপনা, পাঠদানের মান এবং প্রভাব—সব দিক বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয় শুধু তার নাম কিংবা প্রতিষ্ঠার ইতিহাসে নয়; তার প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয় শিক্ষার্থীদের সাফল্য, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই মর্যাদা ফিরে পাবে কি না, এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৩১, ২০২৬ 0

বানারীপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতি,তালিকায় বিএনপি নেতাদের স্বজন ও স্বজনেরা

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বাকেরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও বাকেরগঞ্জে বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, জমি দখলের অভিযোগ

চরফ্যাশনে হর্টিকালচার প্রকল্পের রড গায়েব

চরফ্যাশনে ৮৪ কোটি টাকার প্রকল্পে রড উধাওয়ের অভিযোগ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়...
নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ স্থগিত

ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও সীমানা জটিলতা এড়াতে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ- ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সীমানা নিয়ে সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম স্থগিত করেছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম বন্ধ রাখতে দেশের সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। রোববার (২৫ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউপি-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনাটি দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার, স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবগতির জন্য এর অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। কোন কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে? স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ১১ ধারা অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তকরণের নীতিমালা এবং ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা ইউনিয়ন পরিষদ বিভক্তকরণের নীতিমালাসংক্রান্ত স্মারক এবং ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর জারি করা ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণসংক্রান্ত স্মারকের আলোকে পরিচালিত কার্যক্রমও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সংশ্লিষ্ট নির্দেশনার আওতায় ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ নিয়ে চলমান প্রশাসনিক কার্যক্রম আপাতত এগিয়ে নেওয়া যাবে না। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এ স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকবে। নির্বাচনকালীন প্রস্তুতিতে কেন গুরুত্ব পাচ্ছে সীমানা? ইউনিয়ন পরিষদের পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনিক কাঠামো এবং ভৌগোলিক সীমানার বিষয়টি জড়িত। ফলে নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের পরিবর্তন ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে জটিলতা তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা এড়ানোই সরকারের নির্দেশনার ঘোষিত উদ্দেশ্য। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং সীমানা-সংক্রান্ত সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানোর বিষয়টি সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার কথা বলা হয়েছে। আপাতত অপেক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রম জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনাটি পাঠানোর ফলে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমে এ সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়বে। তবে কোন কোন এলাকায় এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, কতটি ইউনিয়ন পরিষদ এ সিদ্ধান্তের আওতায় আসছে কিংবা স্থগিতাদেশের কারণে নির্দিষ্ট কোনো প্রকল্প বা প্রস্তাবের কাজ কতটা পিছিয়ে যাবে—সে বিষয়ে নির্দেশনায় বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। একইভাবে, ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ কার্যক্রম পুনরায় কবে শুরু হবে, সে বিষয়েও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। সব মিলিয়ে, নির্বাচনকালীন প্রস্তুতি ও সীমানা-সংক্রান্ত সম্ভাব্য জটিলতা এড়ানোর যুক্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন এবং বিভক্তকরণ কার্যক্রমে সাময়িক বিরতি দিয়েছে সরকার। পরবর্তী নির্দেশনা জারি না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের এ সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৬, ২০২৬ 0
পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু

পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহকে নিয়ে তোলপাড়!

ঢলুয়া ইউনিয়নে দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ৮০টি সচেতনতামূলক সভা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0