Brand logo light
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষ: যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চায় তালেবান, পাকিস্তান ঘোষণা করেছে খোলা যুদ্ধ,২৭৪ জন যোদ্ধা নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের সন্ধানে বিমান বিধ্বংসী বন্দুকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তালেবান সৈন্য
আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের সন্ধানে বিমান বিধ্বংসী বন্দুকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তালেবান সৈন্য

আল জাজিরা: কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের পর ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিবেশীদের "খোলা যুদ্ধ" ঘোষণা করার পর আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা বলেছেন যে তারা আলোচনায় আগ্রহী।

শুক্রবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহর, যেখানে তালেবান নেতারা অবস্থান করছেন, সেখানে হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য শহরগুলিতেও, সীমান্তে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছে।

পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের সাথে "সর্বাত্মক সংঘাত" ঘোষণা করেছেন, X-তে পোস্ট করেছেন: "এখন আমাদের এবং আপনার মধ্যে খোলা যুদ্ধ।"
আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন যে তালেবান নেতারা সহিংসতার অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

"ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান সর্বদা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে, এবং এখন আমরাও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করতে চাই," মুজাহিদ বলেছেন।

গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার সীমান্তে আফগান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়, যা পাকিস্তানের দাবির উপর দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৃদ্ধি করে যে আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান যোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়। আফগানিস্তান তা অস্বীকার করে।

মুজাহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়ার কিছু অংশে এবং শুক্রবার পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত এবং লঘমানে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

এর পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের ভাগাভাগি সীমান্ত বরাবর উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান এবং স্থাপনাগুলিতে আফগান ড্রোন হামলা শুরু হয়।

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানি বিমান ও স্থল অভিযানে আফগান বাহিনীর কমপক্ষে ২৭৪ জন সদস্য এবং সহযোগী যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে, যেখানে ১২ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে। অভিযানে একজন পাকিস্তানি সৈন্য নিখোঁজ রয়েছে।

মুজাহিদ বিপুল সংখ্যক আফগান সৈন্যের হতাহতের দাবিকে "মিথ্যা" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন যে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জনের মৃতদেহ আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে "অনেক" পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দী করা হয়েছে। তিনি বলেন, তেরোজন আফগান সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছে, এবং ১৩ জন বেসামরিক নাগরিকও আহত হয়েছে।                                                                                                                

পরবর্তীতে শুক্রবার, আফগান সরকার জানিয়েছে যে দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের খোস্ত এবং পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় ১৯ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে।

 

সম্পর্কের অবনতি
২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে এটি ছিল আফগানিস্তানের রাজধানীর উপর পাকিস্তানের সবচেয়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের দক্ষিণাঞ্চলীয় শক্তি ঘাঁটিতে প্রথম বিমান হামলা।

আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সংঘাতের বিশ্লেষক, সুইডেন-ভিত্তিক আব্দুল সাঈদ বলেছেন যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কারণগুলি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতার উপর একটি উল্লেখযোগ্য বাধা।

এই সীমাবদ্ধতা উভয় দেশের জনসংখ্যার, বিশেষ করে ডুরান্ড লাইনের উভয় পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত, ২,৫৭৫ কিলোমিটার (১,৬০০ মাইল) সীমান্ত যা আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের সীমান্ত হিসাবে স্বীকৃত কিন্তু আফগানিস্তান যাকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয় না।

“ফলস্বরূপ, তার বিশাল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সাথে সশস্ত্র সংঘাতের ফলে যে বৃহৎ পরিসরে রক্তপাত হতে পারে তা সহ্য করতে পারে না,” তিনি বলেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলিতে প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে, অক্টোবরে উভয় পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার পর থেকে স্থল সীমান্ত ক্রসিং মূলত বন্ধ হয়ে গেছে।

কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু প্রচেষ্টা স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের পর, সৌদি আরব এই মাসে হস্তক্ষেপ করে, অক্টোবরে আফগানিস্তান কর্তৃক বন্দী তিন পাকিস্তানি সৈন্যের মুক্তির মধ্যস্থতা করে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন যে তিনি আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে "সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক জনগণের উপর এর প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন", তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন। রাশিয়া, ইরান এবং ইরাক এমন দেশগুলির মধ্যে রয়েছে যারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

বরিশালে সাংবাদিকদের ওপর ডিসির ক্ষোভ: নির্বাচনী কার্ড ইস্যুতে হয়রানির অভিযোগ

বরিশালে কর্মরত সাংবাদিকদের ওপর যেন পাহাড়সম ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি)। পারিবারিক কলহ ও স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অতীতে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এই চটে থাকা বলে জানা গেছে। বর্তমানে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় 'নির্বাচনী কার্ড' ইস্যু করাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন তিনি। কার্ড ইস্যু নিয়ে চলছে টালবাহানা ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের দাবি, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করার পরেও কার্ড দিতে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হচ্ছে। মূলত ডিসির ব্যক্তিগত ক্ষোভের কারণেই মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকদের এই ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। বরিশালের সাংবাদিক সমাজ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং একে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। ব্যক্তিগত আক্রোশের প্রভাব পেশাগত কাজে উল্লেখ্য যে, ইতিপূর্বে এই জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার হয়। সেই থেকে সাংবাদিকদের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। ফলস্বরূপ, এখন সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার হরণ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিশেষে বলা যায়, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন আচরণ কাম্য নয়। নির্বাচনের মতো স্পর্শকাতর সময়ে সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। একজন সাংবাদিক লিখেছেন, বৌ পেটানো নিউজ করার মাসুল দিচ্ছে বরিশালের সাংবাদিকরা। আরেক সাংবাদিক প্রশাসনের এই প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করে লিখেছেন, ডিসি তার ক্ষমতা দেখাইছে, এখন আমাদের বরিশালের সাংবাদিকদের উচিত সবাই এক হয়ে ক্ষমতা দেখানো। কার পাশা যাবে কার টেবিলে, খেলা যে চলছে কোন লেভেলের! ​নির্বাচনী তথ্য সংগ্রহের জন্য কার্ড একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় নথি। কিন্তু কার্ড পেতে বিলম্ব হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রতিবেদন তৈরির কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সাংবাদিকদের অভিযোগ, ​সঠিক কারণ ছাড়াই আবেদন ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। ​জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। ​স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বরিশালের সংবাদকর্মী মহলে ঐক্যের ডাক দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এমন ‘ব্যক্তিগত রোষ’ এবং ‘ক্ষমতার দাপট’ রুখতে স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনগুলো কঠোর কর্মসূচির কথা ভাবছে। নির্বাচনী স্বচ্ছতা বজায় রাখতে অবিলম্বে সাংবাদিকদের কার্ড প্রদানের দাবি জানিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও। কে এই ডিসি খাইরুল আলম সুমন যৌতুক সংক্রান্ত মামলায় কারাবাসের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে বরিশালের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশাসনের ভেতর ও বাইরে বিস্ময় ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরিশালের ডিসি  খায়রুল আলম সুমন ২৯তম বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব জেলার আইনশৃঙ্খলা, ম্যাজিস্ট্রেসি ও ভূমিসংক্রান্ত সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করা—যেখানে ব্যক্তিগত সুনাম ও নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, যাদের ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, এমন কর্মকর্তাকে ডিসি পদে বসানো ইমেজ ও আস্থার প্রশ্ন তৈরি করে। আদালত ও মামলার তথ্য সূত্র অনুযায়ী, কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে যৌতুকের মামলা হয়। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে ওই মামলায় খায়রুল আলম সুমন ও তার মা খোদেজা বেগমকে আদালত কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা ওয়ারী থানার এসআই শাহ আলম আদালতে তাদের হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি দীর্ঘ সময় কারাবাসে ছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৫ জুন বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাতে ঢাকার ওয়ারী এলাকায় খায়রুলের বাসায় তার মায়ের মাধ্যমে গরম খুন্তি দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয় এবং এ সময় খায়রুল আলম সুমন ভুক্তভোগীর হাত চেপে ধরেন। পরদিন ওয়ারী থানায় মামলা করা হয়। বিভাগীয় মামলা ও পদোন্নতি স্ত্রীর করা মামলার পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ দেওয়া হলে খায়রুল আলম সুমনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়। এর ফলে নিয়মিত পদোন্নতি ব্যাহত হয় বলে জানা গেছে। গত বছরের ৩ ডিসেম্বর উপসচিব পদে তার পদোন্নতির আদেশ জারি হলেও সেখানে ২০২৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ভূতাপেক্ষ (ব্যাকডেটেড) পদোন্নতি দেখানো হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নিজেকে পদোন্নতিতে বঞ্চিত দাবি করে তিনি ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিসির বক্তব্য খায়রুল আলম সুমনের ‘ব্যক্তিগত ডাটা শিটে’ (পিডিএস) বর্তমানে তাকে ‘অবিবাহিত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে খায়রুল আলম সুমন বলেন, “এসব আমার ব্যক্তিগত তথ্য। আমার নামে বিভাগীয় মামলা  ছিল—সবই কর্তৃপক্ষ জানে এবং জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমি এসব নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।” প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মত জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, জেলা প্রশাসক পদটি কেবল প্রশাসনিক নয়—এটি নৈতিক নেতৃত্বেরও প্রতীক। একজন ডিসির ব্যক্তিগত জীবনে গুরুতর অভিযোগ থাকলে জেলার আইনশৃঙ্খলা ও ম্যাজিস্ট্রেসি কার্যক্রম পরিচালনায় প্রশ্ন ও অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। তাদের ভাষ্য, “ডিসির সুনামটাই সবচেয়ে জরুরি।” সূত্র জানায়, খায়রুল আলম সুমন প্রবেশনার হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চাকরি শুরু করেন। সে সময়ের ডিসি মো. আবদুল মান্নানের মেয়েকে তিনি বিয়ে করেছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম ডিসি কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া নাঙ্গলকোট, নিকলি ও বাজিতপুরে এসিল্যান্ড এবং ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী ও দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বরিশালের ডিসি হিসেবে তার  নিয়োগ প্রশাসনে নৈতিকতা ও যোগ্যতার প্রশ্ন নতুন করে সামনে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও অবস্থান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজেস্ব প্রতিবেদক

ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

View more
আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে পাকিস্তানি যুদ্ধবিমানের সন্ধানে বিমান বিধ্বংসী বন্দুকের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একজন তালেবান সৈন্য
আফগানিস্তান-পাকিস্তান সংঘর্ষ: যুদ্ধবিরতির জন্য আলোচনা চায় তালেবান, পাকিস্তান ঘোষণা করেছে খোলা যুদ্ধ,২৭৪ জন যোদ্ধা নিহত

আল জাজিরা: কয়েক মাস ধরে চলা উত্তেজনা এবং পরস্পরের বিরুদ্ধে সংঘর্ষের পর ইসলামাবাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রতিবেশীদের "খোলা যুদ্ধ" ঘোষণা করার পর আফগানিস্তানের তালেবান নেতারা বলেছেন যে তারা আলোচনায় আগ্রহী। শুক্রবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং কান্দাহার শহর, যেখানে তালেবান নেতারা অবস্থান করছেন, সেখানে হামলা চালিয়েছে, পাশাপাশি অন্যান্য শহরগুলিতেও, সীমান্তে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। উভয় পক্ষই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়েছে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের সাথে "সর্বাত্মক সংঘাত" ঘোষণা করেছেন, X-তে পোস্ট করেছেন: "এখন আমাদের এবং আপনার মধ্যে খোলা যুদ্ধ।" আফগান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন যে তালেবান নেতারা সহিংসতার অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের সাথে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। "ইসলামিক আমিরাত অফ আফগানিস্তান সর্বদা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছে, এবং এখন আমরাও আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধান করতে চাই," মুজাহিদ বলেছেন। গত সপ্তাহান্তে আফগান ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার সীমান্তে আফগান প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু হয়, যা পাকিস্তানের দাবির উপর দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা বৃদ্ধি করে যে আফগানিস্তান পাকিস্তানি তালেবান যোদ্ধাদের আশ্রয় দেয়। আফগানিস্তান তা অস্বীকার করে। মুজাহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিয়ার কিছু অংশে এবং শুক্রবার পাকতিয়া, পাকতিকা, খোস্ত এবং লঘমানে পাকিস্তানি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এর পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তাদের ভাগাভাগি সীমান্ত বরাবর উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানে পাকিস্তানি সামরিক অবস্থান এবং স্থাপনাগুলিতে আফগান ড্রোন হামলা শুরু হয়। পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী বলেছেন, পাকিস্তানি বিমান ও স্থল অভিযানে আফগান বাহিনীর কমপক্ষে ২৭৪ জন সদস্য এবং সহযোগী যোদ্ধা নিহত এবং ৪০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছে, যেখানে ১২ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছে। অভিযানে একজন পাকিস্তানি সৈন্য নিখোঁজ রয়েছে। মুজাহিদ বিপুল সংখ্যক আফগান সৈন্যের হতাহতের দাবিকে "মিথ্যা" বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেছেন যে ৫৫ জন পাকিস্তানি সৈন্য নিহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৩ জনের মৃতদেহ আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেছেন যে "অনেক" পাকিস্তানি সৈন্যকে বন্দী করা হয়েছে। তিনি বলেন, তেরোজন আফগান সৈন্য নিহত হয়েছে এবং আরও ২২ জন আহত হয়েছে, এবং ১৩ জন বেসামরিক নাগরিকও আহত হয়েছে।                                                                                                                 পরবর্তীতে শুক্রবার, আফগান সরকার জানিয়েছে যে দক্ষিণ-পূর্ব আফগানিস্তানের খোস্ত এবং পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানের হামলায় ১৯ জন বেসামরিক লোক নিহত এবং ২৬ জন আহত হয়েছে।   সম্পর্কের অবনতি ২০২১ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে এটি ছিল আফগানিস্তানের রাজধানীর উপর পাকিস্তানের সবচেয়ে ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং তালেবান কর্তৃপক্ষের দক্ষিণাঞ্চলীয় শক্তি ঘাঁটিতে প্রথম বিমান হামলা। আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের সংঘাতের বিশ্লেষক, সুইডেন-ভিত্তিক আব্দুল সাঈদ বলেছেন যে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ কারণগুলি আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু করার ক্ষমতার উপর একটি উল্লেখযোগ্য বাধা। এই সীমাবদ্ধতা উভয় দেশের জনসংখ্যার, বিশেষ করে ডুরান্ড লাইনের উভয় পাশে বসবাসকারী উপজাতিদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক থেকে উদ্ভূত, ২,৫৭৫ কিলোমিটার (১,৬০০ মাইল) সীমান্ত যা আন্তর্জাতিকভাবে পাকিস্তানের সীমান্ত হিসাবে স্বীকৃত কিন্তু আফগানিস্তান যাকে বৈধ বলে স্বীকৃতি দেয় না। “ফলস্বরূপ, তার বিশাল সামরিক সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও, পাকিস্তান আফগানিস্তানের সাথে সশস্ত্র সংঘাতের ফলে যে বৃহৎ পরিসরে রক্তপাত হতে পারে তা সহ্য করতে পারে না,” তিনি বলেন। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে প্রতিবেশীদের মধ্যে সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছেছে, অক্টোবরে উভয় পক্ষের ৭০ জনেরও বেশি লোক নিহত হওয়ার পর থেকে স্থল সীমান্ত ক্রসিং মূলত বন্ধ হয়ে গেছে। কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে বেশ কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে, কিন্তু প্রচেষ্টা স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘনের পর, সৌদি আরব এই মাসে হস্তক্ষেপ করে, অক্টোবরে আফগানিস্তান কর্তৃক বন্দী তিন পাকিস্তানি সৈন্যের মুক্তির মধ্যস্থতা করে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন যে তিনি আফগানিস্তান এবং পাকিস্তানের মধ্যে "সহিংসতা বৃদ্ধি এবং বেসামরিক জনগণের উপর এর প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন", তার মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছেন। রাশিয়া, ইরান এবং ইরাক এমন দেশগুলির মধ্যে রয়েছে যারা অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬ 0
বিল ক্লিনটন ও তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং জেফরি এপস্টেইন।

জেফরি এপস্টেইন কাণ্ড : তদন্তের মুখে ক্লিনটন দম্পতি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা

ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে শতাধিক দুর্নীতির অভিযোগ

শেখ হাসিনা

পিলখানা হত্যা মামলায় আসামি হচ্ছেন শেখ হাসিনা-তাপস-মির্জা আজম-নানক

জাতিসংঘ
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার চরম আক্রমণের মুখে: জাতিসংঘের কড়া হুঁশিয়ারি

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুদান, গাজা ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাপক লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আইনের শাসনের জায়গা এখন শক্তির শাসন দখল করে নিচ্ছে। মানবাধিকারকে পরিকল্পিতভাবে এবং কখনও কখনও প্রকাশ্য গর্বের সঙ্গে উপেক্ষা করা হচ্ছে।” সুদান, গাজা ও ইউক্রেনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সুদান এ চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজায় টানা যুদ্ধ ও অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “একদিকে মানবিক প্রয়োজন বিস্ফোরণোন্মুখ, অন্যদিকে তহবিলের জোগান পুরোপুরি ধসে পড়ছে।” তহবিল সংকটে জাতিসংঘের তদন্ত স্থগিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান  ভলকার তুর্ক জানান, ব্যাপক অর্থসংকট, বিশেষজ্ঞদের ওপর চাপ এবং কিছু প্রভাবশালী দেশের নিস্পৃহতার কারণে তার দফতর টিকে থাকার লড়াই করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির সবচেয়ে বড় দাতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়া থাকলেও দেশটি মাত্র ১৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। তহবিল সংকটের কারণে ২০২৫ সালে শুরু হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত স্থগিত রয়েছে— গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন অনুসন্ধান একজন কূটনীতিক জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মৌখিক সমর্থন থাকলেও অর্থের অভাবে এসব তদন্ত আলোর মুখ দেখছে না। ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করে গুতেরেস বলেন, “দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে দিবালোকেই ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি হতে দিতে পারে না।” সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এর ফলে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনি ভূমি কেনা আরও সহজ হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু  দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন। তবে ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরসহ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বড় অংশ অবস্থান নিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে তীব্র ক্ষমতার লড়াই ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমান বিশ্ব সবচেয়ে তীব্র ক্ষমতা ও সম্পদের লড়াই প্রত্যক্ষ করছে, যার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিভাজন, আঞ্চলিক সংঘাত এবং তহবিল সংকট একত্রে মানবাধিকার রক্ষার আন্তর্জাতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সুদান, গাজা, ইউক্রেন ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলমান মানবিক বিপর্যয় বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সতর্কবার্তা স্পষ্ট— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানবাধিকারের বৈশ্বিক কাঠামো আরও ভেঙে পড়তে পারে।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
ইরানে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা

ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা: তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী,ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

শহীদ মিনারে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

একুশের প্রহরে ব্যতিক্রমী প্রোটোকল: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের বার্তা?

নাইজারদের পালানোর পুরোনো দৃশ্য

নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ সশস্ত্র হামলা: মোটরসাইকেলে এসে ৫০ জনকে হত্যা, নারী-শিশু অপহরণ

ডোনাল্ড ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী গ্লোবাল ট্যারিফ নীতিকে 'অবৈধ' ঘোষণা করল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী ঢালাওভাবে শুল্ক আরোপ বা গ্লোবাল ট্যারিফ নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।উচ্চ আদালত রায় দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন "প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয় না"।রায়ে বলা হয়েছে জাতীয় জরুরি অবস্থার জন্য সংরক্ষিত আইনকে ব্যবহার করে শুল্ক আরোপের মাধ্যমে ট্রাম্প তার কর্তৃত্বের সীমা অতিক্রম করেছেন।   সংবিধান অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস রায়ে বলেন, প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপের মতো অসাধারণ ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন দেখাতে হবে। তিনি তা করতে পারেন না। এপ্রিল মাসে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশের পণ্যের উপর ১০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নির্দেশ দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মি. ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় একে 'অপমানজনক' বলে অভিহিত করেছেন। সরাসরি হোয়াইট হাউজ থেকে প্রতিক্রিয়া না এলেও, গভর্নরদের সাথে এক বৈঠকে বক্তৃতা দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেছেন ।   ট্রাম্পের শুল্ক নীতির প্রতি রিপাবলিকানদের সমর্থন বা চিন্তাভাবনা একরকম ছিল না। অনেকেই নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের চাপের মুখে পড়েছেন, যারা শুল্কের প্রভাবের মুখে পড়েছেন। কিছু ক্ষেত্রে প্রতীকীভাবে কিছু রিপাবলিকান ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে মিলে শুল্ক প্রত্যাহারের চেষ্টা করেছেন।   যেমন কেন্টাকি অঙ্গরাজ্যের সিনেটর মিচ ম্যাকওনেল গত বছর প্রকাশ্যে শুল্কের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, "বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতার প্রকৃত খরচ শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই পড়ে, ফলে তারা সবক্ষেত্রেই বেশি দাম দিচ্ছেন।" এই রায় ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হলেও প্রশাসন অন্য আইনও ব্যবহার করতে পারে এবং হোয়াইট হাউস থেকে বড় নীতিগত পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা কম। এমন বিশ্লেষণ করছেন বিবিসির আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ক সংবাদদাতা থিও লেগেট। কিন্তু অন্য পদ্ধতিতে শুল্ক আরোপ করতে গেলে কংগ্রেসের অনুমোদন বা বাণিজ্য দপ্তরের তদন্ত প্রয়োজন হতে পারে, যা বেশি সময় নিতে পারে।ফলে এই রায় একদিকে নিশ্চিত করেছে যে, প্রেসিডেন্ট এই নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে শুল্ক আরোপ করতে পারবেন না।   অন্যদিকে নতুন অনিশ্চয়তাও সৃষ্টি করেছে। কারণ মার্কিন আমদানিকারকরা ইতিমধ্যে যে শুল্ক পরিশোধ করে ফেলেছেন, তা ফেরতের ক্ষেত্রে কী হবে- তা এখনও স্পষ্ট নয়। সে শুল্ক ফেরত দিতে হলে মার্কিন সরকারের জন্য বিশাল অর্থ খরচ হতে পারে।সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের কিছু বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা বাতিল করার আগেই, কিছু বড় মার্কিন কোম্পানি ইতিমধ্যে পরিশোধ করা অর্থ ফেরত পেতে মামলা করেছিল।সুপ্রিম কোর্টের রায় কীভাবে কার্যকর হবে, সেটাও নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   আইন প্রতিষ্ঠান পিলসবারি-এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিভাগের প্রধান স্টিভ বেকার বিবিসিকে বলেন, আদালতের রায় কীভাবে কার্যকর হবে- তা নির্ধারণের দায়িত্ব থাকবে কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডের ওপর।আবার ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অন্য আইনের মাধ্যমে শুল্ক আরোপের বিকল্প পরিকল্পনা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করছেন মি. বেকার।   তিনি উদাহরণ দেন, এখন তিনি এমন একটি আইন ব্যবহার করতে পারেন, যা প্রেসিডেন্টকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের অনুমতি দেয়। সেক্ষেত্রে তিনি নির্দিষ্ট দেশ বা খাতকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারেন।আদালত আবার কিছু শুল্ক বহালও রেখেছে, যেগুলো নির্দিষ্ট দেশ থেকে নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছিল। এতে প্রশাসনের সামনে শুল্ক নীতি পুনর্গঠনের একটি সম্ভাব্য পথ রয়ে গেছে। যাই হোক, ট্রাম্প এই ইস্যু সহজে ছেড়ে দেবেন—এমন সম্ভাবনা কম। হোয়াইট হাউসে প্রার্থী হওয়ার অনেক আগ থেকেই তিনি শুল্ক নিয়ে সোচ্চার।সুপ্রিম কোর্ট তার এককভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করলেও, তিনি এই অবস্থান সহজে ত্যাগ করবেন না বলে ধারণা দিচ্ছেন বিবিসির ওয়াশিংটন সংবাদদাতা ড্যানিয়েল বুশ।

ইত্তেহাদ নিউজ : ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ‘নরক’

ইসরায়েলি কারাগারে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ‘নরক’: নির্যাতন, যৌন সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ভয়াবহ তথ্য

ইরানে যে কোনো সময় বড় হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানে বড় হামলার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের, যৌথ অভিযানে থাকতে পারে ইসরায়েল

বাংলাদেশের সাংবিধানে বেশ কিছু সংস্কারের প্রস্তাব করেছে সংবিধান সংস্কার কমিশন

বিএনপি শপথ না নেওয়ায় সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম অনিশ্চিত