Brand logo light
বাংলাদেশ

আগৈলঝাড়া থানায় নারী এএসআইকে ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য ও চরিত্রহননের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় কর্মরত এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) অশালীন ভাষায় গালাগাল ও চরিত্রহননের অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এএসআই শাহনাজ আক্তার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। তবে অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায় নির্ধারণের আগেই তাঁকে অন্য থানায় বদলি করা হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানেন বলে দাবি করা উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মামুনকেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

জিডি করার পর অভিযোগকারী ও ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়া এক পুলিশ সদস্যের একসঙ্গে বদলির ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ও স্বচ্ছতা নিয়ে। অভিযোগের বিষয়ে ওসি মাসুদ খান সব দাবি অস্বীকার করেছেন। বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাটিকে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, জিডির তথ্য এবং বদলির প্রেক্ষাপট মিলিয়ে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে: থানার ভেতরে ঠিক কী ঘটেছিল? অভিযোগের পর কেন ভুক্তভোগী ও এক সম্ভাব্য সাক্ষীকে অন্যত্র বদলি করা হলো? আর অভিযোগটির নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?

থানার ভেতরে কী ঘটেছিল?

জিডির বিবরণ ও প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে আগৈলঝাড়া থানায় যান ওসি মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমান। সে সময় এএসআই শাহনাজ আক্তার থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসে দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, থানায় প্রবেশের পর আঞ্জুমান শাহনাজকে উদ্দেশ করে অশালীন ও অপমানজনক ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন। একপর্যায়ে শাহনাজের চাকরিতে যোগদান এবং রাতে ওসির কক্ষে যাওয়া নিয়ে আপত্তিকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

সহকর্মীদের সামনে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে শাহনাজ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য। তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, থানার সিসিটিভি ফুটেজ এবং জিডির প্রত্যয়িত অনুলিপি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগের প্রতিটি বিবরণ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও শাহনাজকে নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তোলার ঘটনা ঘটেছিল। গত মার্চে নিজের ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে শাহনাজের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন আঞ্জুমান—এমনটাই দাবি করা হয়েছে। সে সময় বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও ৯ অক্টোবরের ঘটনার পর নিজের সুরক্ষার জন্য জিডি করেন শাহনাজ।

জিডির পরই বদলি

ঘটনার সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ অভিযোগ দায়েরের পর নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ।শাহনাজ আক্তার ৯ অক্টোবরই থানায় জিডি করেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। এরপর তাঁকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে সরিয়ে বানারীপাড়া থানায় পদায়ন করা হয়।

অন্যদিকে, ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানানো এবং ওসির স্ত্রীর মন্তব্য নিয়ে বক্তব্য দেওয়া এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনকেও দ্রুত অন্যত্র বদলি করা হয়। তাঁর ক্ষেত্রে জরুরি ছাড়পত্র দেওয়ার কথাও জানা গেছে।

বদলি দুটি একই অভিযোগের পরপরই হওয়ায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বদলির আদেশ, তারিখ, সরকারি কারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। তাই বদলিগুলো শাস্তিমূলক ছিল, নাকি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রয়োজনের অংশ—তা নিশ্চিতভাবে বলার সুযোগ নেই।

এ ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হলো, অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীকে অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার ফলে তদন্তে তাঁদের বক্তব্য সংগ্রহ বা প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাইয়ে কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে কী বলছেন শাহনাজ?

জিডি করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন এএসআই শাহনাজ আক্তার। তবে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয় উল্লেখ করে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

শাহনাজ বলেন, “বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ একটি ব্যাপার হওয়ায় বিস্তারিত মন্তব্য করা আমার জন্য সমীচীন নয়। তবে জিডি দাখিলের বিষয়ে যে তথ্য ছড়িয়েছে, তা শতভাগ সত্য। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যেভাবে পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে, আমি সেটাই মেনে নেব।”

তাঁর বক্তব্যে জিডি করার বিষয়টি নিশ্চিত হলেও ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে আর কিছু বলতে চাননি।

এসআই মামুনের বক্তব্য: ‘ঘটনার পেছনে পূর্ণ সত্যতা রয়েছে’

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনও বিস্তারিত বলতে অনীহা প্রকাশ করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে মন্তব্য করার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তবে যা শুনেছেন, সেই ঘটনার পেছনে পূর্ণ সত্যতা রয়েছে।”

নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতা সম্পর্কে মামুন বলেন, ওসির বিভিন্ন স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে তিনিও নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ বিষয়ে সুষ্ঠু বিচার চান বলেও জানান তিনি।

তবে মামুনের বক্তব্যের সমর্থনে কোনো স্বাধীন তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রামাণ্য নথি পাওয়া যায়নি। তাঁর অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান প্রয়োজন।

ওসি মাসুদ খানের বক্তব্য: ‘সবই ভিত্তিহীন’

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ওসি মাসুদ খান সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, তাঁকে প্রশাসনিকভাবে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে।

তিনি বলেন, “আমি দীর্ঘ ১০ মাস ধরে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে এই থানায় দায়িত্ব পালন করছি। আমাকে প্রশাসনিকভাবে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র অপপ্রচার চালাচ্ছে। এসব গুজবের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।”

জিডি ও অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের বদলির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর ভাষ্য, “এগুলো আমাদের প্রশাসনিক অভ্যন্তরীণ বিষয়। থানার গোপনীয় তথ্য ও অভ্যন্তরীণ ঘটনা বাইরে প্রকাশ হওয়া সরকারি গোপনীয়তা আইনের লঙ্ঘন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখে তথ্য ফাঁসে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারে।”

তবে অভিযোগের বিষয়ে তিনি অস্বীকৃতি জানালেও জিডি দায়েরের পর বদলির সিদ্ধান্তের নির্দিষ্ট প্রশাসনিক কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি বলে পাওয়া বক্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।

পুলিশ সুপারের বক্তব্য: ‘ভুল বোঝাবুঝি’

ঘটনার বিষয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি মূলত নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে ঘটেছে। প্রশাসনিকভাবে প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে কী ধরনের প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, কোনো বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে কি না, জিডির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে এবং অভিযোগকারী ও সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদের বদলির কারণ কী—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটিকে ভুল বোঝাবুঝি হিসেবে দেখার আগে অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। কারণ অভিযোগটি শুধু ব্যক্তিগত বিরোধের নয়; থানার ভেতরে একজন কর্তব্যরত নারী পুলিশ সদস্যের মর্যাদা ও পেশাগত নিরাপত্তার প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত।

প্রশাসনিক বদলি কি তদন্তের বিকল্প?

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কাজের প্রয়োজন, জনবল ব্যবস্থাপনা কিংবা শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে। কিন্তু কোনো অভিযোগ দায়েরের পরপরই অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বদলি হলে সিদ্ধান্তটির কারণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

বিশেষ করে, অভিযোগকারী যদি মনে করেন তাঁর অভিযোগের কারণেই তাঁকে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাহলে তা ভবিষ্যতে অন্য সদস্যদের অভিযোগ জানাতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। যদিও বর্তমান ঘটনায় বদলির উদ্দেশ্য সম্পর্কে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যাচাইকৃত নথি পাওয়া যায়নি, তবু সময়ের নৈকট্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় প্রশাসনিক ব্যাখ্যার প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।

এ ক্ষেত্রে তিনটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ:

  • জিডির বিষয়ে নিরপেক্ষ অনুসন্ধান হয়েছে কি না এবং অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে কী তথ্য পাওয়া গেছে;

  • অভিযোগকারী ও এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের বদলির লিখিত কারণ কী;

  • থানার ভেতরে ঘটনাটি ঘটেছে বলে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা যাচাইয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিউটি রোস্টার, উপস্থিত সদস্যদের বক্তব্য ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরীক্ষা করা হয়েছে কি না।

এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হবে।

কর্মক্ষেত্রে সম্মান ও নিরাপত্তার প্রশ্ন

পুলিশ বাহিনীতে শৃঙ্খলা ও ঊর্ধ্বতন-অধস্তন সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা কোনো সদস্যের মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রশ্নকে আড়াল করতে পারে না। কর্মক্ষেত্রে মৌখিক অপমান, চরিত্রহনন কিংবা হয়রানির অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণিত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া যেমন ঠিক নয়, তেমনি যথাযথ অনুসন্ধান ছাড়াই অভিযোগকে ব্যক্তিগত বিরোধ বলে উড়িয়ে দেওয়াও সমীচীন নয়।

অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য নেওয়া, প্রমাণ সংরক্ষণ, সিদ্ধান্তের লিখিত ভিত্তি যাচাই এবং অভিযোগকারীকে প্রতিশোধমূলক আচরণের আশঙ্কা থেকে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে জিডি দায়েরের পর অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বদলি নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার জবাব কেবল মৌখিক ব্যাখ্যায় সীমাবদ্ধ না রেখে প্রশাসনিক নথির ভিত্তিতে দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্তের বক্তব্য ও আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে।

এখন যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন

আগৈলঝাড়া থানার ঘটনাটি ঘিরে বিতর্কের নিষ্পত্তি নির্ভর করছে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের ওপর। জিডির ভিত্তিতে কোনো অনুসন্ধান শুরু হয়েছে কি না, অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে কি না, বদলির সিদ্ধান্ত কে নিয়েছেন এবং কী কারণে নিয়েছেন—এসব তথ্য প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।

এ ছাড়া অভিযোগকারী ও এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা, ওসি মাসুদ খান ও তাঁর স্ত্রীর বক্তব্য যথাযথভাবে নথিবদ্ধ করা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য সদস্যদের সাক্ষ্য নেওয়া জরুরি।

এখন পর্যন্ত পাওয়া বক্তব্য থেকে জিডি দায়ের ও বদলির ঘটনা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া গেলেও অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা কিংবা বদলির উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। তাই এ পর্যায়ে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও নথিভিত্তিক তদন্তই হতে পারে বিতর্ক নিষ্পত্তির সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।

মূল প্রশ্নটি থেকে যাচ্ছে: একজন নারী পুলিশ সদস্য থানার ভেতরে অপমানের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানালে সেই অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান কীভাবে নিশ্চিত হবে? আর অভিযোগকারী ও সম্ভাব্য সাক্ষীর বদলির প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা কি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করবে?

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
বিমানের ক্যাটারিং বিভাগে জহিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও প্রত্যাহার সাময়িক বরখাস্তের আদেশ; ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অন্তত ৯টি বিষয়ে ১৯টি নোটিশ, সতর্কপত্র ও প্রশাসনিক আদেশের তথ্য- ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টারের (বিএফসিসি) জুনিয়র শেফ মো. জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সহকর্মীকে মারধর, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে অসদাচরণ, দায়িত্বে অবহেলা এবং খাদ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের কয়েকটি ঘটনায় অতীতে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল। সর্বশেষ সহকর্মীকে মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে কাজে পুনর্বহাল করেছে কর্তৃপক্ষ। শাস্তি হিসেবে দেওয়া হয়েছে তিরস্কার এবং দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের আদেশ। বিএফসিসির প্রশাসন শাখার সাম্প্রতিক এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গত ২ মার্চ জহিরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। একই কর্মীর বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে অভিযোগ ওঠা, বিভিন্ন সময়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সতর্কপত্র জারি, সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে তুলনামূলক লঘু শাস্তিতে কাজে ফেরার এই ধারাবাহিকতা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।প্রশ্ন উঠেছে, বারবার অভিযোগ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার পরও কর্মস্থলে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ঠেকাতে কর্তৃপক্ষ কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পেরেছে? সিসিটিভিতে মারধরের দৃশ্য, এরপর বিভাগীয় তদন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দুটি সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বিএফসিসির কিচেন চত্বরের ভেতরে এক সহকর্মীকে মারধরের ঘটনা দেখা যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিন জহিরুল ইসলাম তাঁর এক সহকর্মীকে পরপর চড়-থাপ্পড় মারেন। ভিডিও দুটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রধান কার্যালয় বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে জহিরুলের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তদন্তে ঠিক কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তার বিস্তারিত সাম্প্রতিক অফিস আদেশে প্রকাশ করা হয়নি। বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও কেন সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে তুলনামূলক লঘু শাস্তি দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মারধরের শিকার এক বিএফসিসি কর্মী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিমানের প্রশাসন সব সময়ই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবানদের পক্ষে অবস্থান নেয়। কর্মস্থলে বারবার সহকর্মীদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটার পরও, এমনকি তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরেও নামমাত্র শাস্তি দিয়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হলো। এর মাধ্যমে বিমানে অপরাধীদের আরও উৎসাহিত করা হচ্ছে।” ভুক্তভোগী কর্মীর এই বক্তব্য প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষের চিত্র তুলে ধরে। তবে প্রশাসন প্রভাবশালীদের পক্ষ নেয়—এমন অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা অতিরিক্ত তথ্য পাওয়া না গেলে এটিকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে। ১৪ বছরে অন্তত ৯টি বিষয়ে ১৯টি নোটিশ ও প্রশাসনিক আদেশ প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৪ বছরে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে কর্মস্থলে শৃঙ্খলাভঙ্গ, মারধর, খাদ্য সুরক্ষায় অবহেলা এবং অসদাচরণসহ অন্তত ৯টি পৃথক বিষয়ে ১৯টি কারণ দর্শানোর নোটিশ, সতর্কপত্র ও প্রশাসনিক আদেশ জারি করা হয়েছে। নথিতে উঠে আসা ঘটনাগুলোর সময়ক্রম নিম্নরূপ: ২০১২: যাত্রীর খাবারে সিনথেটিক ফাইবার ফ্লাইটের এক যাত্রীর খাবারে সিনথেটিক ফাইবার পাওয়ার ঘটনায় জহিরুল ইসলামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সতর্কপত্রও জারি করা হয়েছিল। ২০১৩: অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি বিনা অনুমতিতে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০১৪–২০১৫: নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগ কর্তব্যরত এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের অভিযোগে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। পরে তাঁকে তিরস্কার করা হয়। ২০১৭: ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর সঙ্গে অসদাচরণ একজন ঊর্ধ্বতন সহকর্মীর সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে জহিরুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাঁকে কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ২০১৯: অনুমতি ছাড়া বিএফসিসির বাইরে যাওয়া প্রাতিষ্ঠানিক পাস বা অনুমতি ছাড়া বিএফসিসির বাইরে যাওয়ার অভিযোগে তাঁর কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। ২০২৩: ফ্লাইটের খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনা ফ্লাইটের খাবারে পোকা পাওয়ার ঘটনায় তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয় এবং সতর্ক করা হয়। ২০২৪: নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার নিরাপত্তা তল্লাশির সময় সিকিউরিটি স্টাফদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণের অভিযোগে তাঁকে নোটিশ দেওয়া হয়। ২০২৫: সহকর্মীকে প্রকাশ্যে থাপ্পড় এক সহকর্মীকে প্রকাশ্যে পরপর দুটি থাপ্পড় মারার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়। একই ঘটনায় তাঁর পদোন্নতি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৬: ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে জহিরুলকে আবারও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে তাঁর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে কাজে পুনর্বহাল করা হয়েছে। এ ঘটনাগুলোর সব কটিতে অভিযোগের প্রকৃতি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এক নয়। কোনো ঘটনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ, কোনো ঘটনায় সতর্কীকরণ, আবার কোনো ঘটনায় সাময়িক বরখাস্তের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ফলে নথিতে অভিযোগ ও আদেশের উপস্থিতি থেকে প্রতিটি অভিযোগের সত্যতা বা অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সিদ্ধান্ত টানা যায় না। তবে এত দীর্ঘ সময়ে একাধিকবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার তথ্য কর্মস্থলের শৃঙ্খলা রক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ভিত্তি তৈরি করে। সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহার, শাস্তি তিরস্কার ও ইনক্রিমেন্ট বন্ধ বিএফসিসির প্রশাসন শাখা থেকে সম্প্রতি জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করে জহিরুল ইসলামকে তিরস্কার এবং দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে গত ২ মার্চ জারি করা তাঁর সাময়িক বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাঁকে পুনঃপদায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ, বিভাগীয় তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও তাঁকে চাকরির দায়িত্বে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শাস্তির অংশ হিসেবে দুটি বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা বলা হলেও, আদেশে কোন কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি। প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা মূল্যায়নের জন্য তদন্ত প্রতিবেদনের বিস্তারিত, প্রমাণিত অভিযোগের প্রকৃতি, শাস্তি নির্ধারণের মানদণ্ড এবং একই ধরনের ঘটনায় অন্য কর্মীদের ক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্য ছাড়া শাস্তি যথাযথ হয়েছে কি না, কিংবা কোনো বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। অভিযোগগুলো নিয়ে জহিরুলের বক্তব্য কী? জহিরুল ইসলাম তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোকে বরাবরই ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করে আসছেন। তবে সর্বশেষ বিভাগীয় তদন্তে কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য কী, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তাঁর অভিযোগ-সংক্রান্ত বক্তব্যের পাশাপাশি তদন্ত প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি আরও নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। এদিকে, শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের জনসংযোগ বিভাগের নতুন মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ জানান, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করায় এ বিষয়ে বিস্তারিত অবগত নন। ফলে সাম্প্রতিক শাস্তি নির্ধারণের যুক্তি, তদন্তের সুপারিশ এবং সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের প্রশাসনিক ভিত্তি সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। বিমানের শৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থায় প্রশ্ন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস দেশের জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থা। এ প্রতিষ্ঠানের ফ্লাইট ক্যাটারিং বিভাগে খাবারের মান, খাদ্য সুরক্ষা, কর্মীদের আচরণ এবং কর্মস্থলের শৃঙ্খলা—সবকিছুরই সরাসরি গুরুত্ব রয়েছে। একই কর্মীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠা এবং একাধিকবার প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও নতুন অভিযোগের সৃষ্টি হওয়া প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। বিমানের অভ্যন্তরীণ কর্মীদের অভিযোগ, বারবার সতর্ক করা বা তুলনামূলক লঘু শাস্তি দেওয়ার কারণে শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা কার্যকরভাবে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। তাঁদের কারও কারও মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত কর্মীদের মধ্যে বৈষম্যের ধারণা তৈরি করতে পারে এবং কর্তৃপক্ষের ওপর আস্থা দুর্বল করতে পারে। তবে প্রশাসনিক পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ যাচাই করতে হলে শাস্তির নথি, তদন্তের সুপারিশ, সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের যুক্তি এবং একই ধরনের ঘটনায় নেওয়া ব্যবস্থার তুলনামূলক তথ্য প্রয়োজন। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক বছরে অভিযোগ ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য সামনে আসার পর কয়েকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রথমত, ২০২৫ সালের মারধরের ঘটনায় বিভাগীয় তদন্তে ঠিক কোন কোন অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে? দ্বিতীয়ত, তদন্তে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার পরও সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পেছনে কী যুক্তি ছিল? তৃতীয়ত, তদন্ত কমিটি কি কোনো নির্দিষ্ট শাস্তির সুপারিশ করেছিল? চতুর্থত, পূর্ববর্তী অভিযোগগুলোর পর নেওয়া প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো কতটা কার্যকর ছিল? এসব প্রশ্নের উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট তদন্ত প্রতিবেদন, শাস্তির আদেশ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মী ও কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। সব মিলিয়ে, জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ ইতিহাস এবং সর্বশেষ বিভাগীয় সিদ্ধান্ত কেবল একজন কর্মীর শাস্তির বিষয় নয়; এটি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কর্মস্থলের শৃঙ্খলা, অভিযোগ নিষ্পত্তির পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির কার্যকারিতা যাচাইয়েরও একটি সুযোগ। অভিযোগের যথাযথ তদন্ত, প্রমাণের ভিত্তিতে শাস্তি নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা সম্পর্কে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা গেলে কর্মীদের আস্থা রক্ষা এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৯, ২০২৬ 0

আগৈলঝাড়া থানায় নারী এএসআইকে ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য ও চরিত্রহননের অভিযোগ

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি স্থগিত

মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ইশরাকের পদত্যাগের খবর ঘিরে বিতর্ক: দপ্তরের দাবি, নির্দেশ দেওয়ার তথ্য ভিত্তিহীন

মুলাদী সরকারি কলেজে দুই ছাত্রীকে মারধর ও জুতাপেটার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন

মোবাইল নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ; নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনওর কাছে লিখিত আবেদন, অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্ত পক্ষের ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মুলাদী সরকারি কলেজে মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে মারধর ও জুতাপেটা করার অভিযোগ উঠেছে তাঁদের এক সহপাঠী ও কয়েকজন বহিরাগত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে কলেজ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শনিবার (১৭ অক্টোবর) নিরাপত্তা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী দুই ছাত্রী। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযুক্ত পক্ষ হামলা ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দুই ছাত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি হয়। ঘটনাটি ঘিরে কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, বিরোধ নিষ্পত্তিতে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে দুই পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী হওয়ায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর সত্যতা যাচাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নম্বর ব্লক করা নিয়ে বিরোধ, এরপর মারধরের অভিযোগ ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের সঙ্গে কলেজের এক সহপাঠীর বন্ধুত্ব ছিল। তাঁরা একসঙ্গে কলেজে যাতায়াতও করতেন। কয়েক দিন আগে তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে দুই ছাত্রী ওই সহপাঠীর মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করে দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নম্বর ব্লক করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই সহপাঠী বৃহস্পতিবার সকালে অন্য এক সহপাঠীর মাধ্যমে তাঁদের শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেন। পরে ওই সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তারসহ কয়েকজন বহিরাগত তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন দুই ছাত্রী। লিখিত অভিযোগে তাঁরা দাবি করেন, হামলাকারীরা তাঁদের চুল ধরে টানাটানি করেন, পেটে লাথি মারেন এবং কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দেন। এ ছাড়া জুতাপেটা, পোশাক ধরে টানাটানি এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগও করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কলেজে আসা এবং পড়াশোনা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তাঁরা দাবি করেছেন।   নিরাপত্তা চেয়ে ইউএনওর কাছে আবেদন ঘটনার পর নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শনিবার ইউএনওর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেন দুই ছাত্রী। তাঁরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। ভুক্তভোগী এক ছাত্রী বলেন, তাঁরা নিরাপদ ও স্বাভাবিক পরিবেশে কলেজে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, তাঁদের আশঙ্কা শুধু ঘটনার সময়কার শারীরিক নির্যাতনেই সীমাবদ্ধ নয়; কলেজে যাতায়াত ও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁরা নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করছেন। তবে তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য কী? অভিযুক্ত সহপাঠীর বড় বোন নাসরিন আক্তার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বহিরাগতদের নিয়ে দুই ছাত্রীকে পরিকল্পিতভাবে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগও তিনি নাকচ করেন। নাসরিনের দাবি, তাঁর ছোট বোনের নামে বদনাম করায় ওই দুই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। এ সময় হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।অর্থাৎ, ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে কিছুটা মিল থাকলেও শারীরিক নির্যাতনের ধরন, ঘটনার পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।  ভিডিওতে মারামারির দৃশ্য ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কলেজ চত্বরে কয়েকজন তরুণী ও ছাত্রীকে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়াতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। ভিডিওতে কয়েকজনকে দুই ছাত্রীর চুল ধরে টানতে, চড়-থাপ্পড় মারতে এবং জুতাপেটা করতে দেখা যায় বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।   কলেজ কর্তৃপক্ষের তদন্ত কমিটি কলেজের অধ্যক্ষ মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, অভিযোগ তদন্তে দুই শিক্ষকের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইউএনও ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মুলাদীর ইউএনও মো. গোলাম সরওয়ার বলেন, ঘটনাটি কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের দায়িত্ব কলেজের অধ্যক্ষকে দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষ এ ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তবে তদন্ত কমিটি কবে প্রতিবেদন দেবে, কমিটির কার্যপরিধি কী এবং তদন্তে কার কার বক্তব্য নেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। থানায় মামলা হয়েছে কি? ঘটনার বিষয়ে থানায় মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পুলিশের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। ফলে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত শুরু করেছে কি না, সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ ইউএনওর কার্যালয়ে জমা হয়েছে এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা, জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার পরবর্তী আইনি পরিণতি এখনো নির্ধারিত হয়নি। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করতে কয়েকটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি। প্রথমত, দুই ছাত্রীকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে নেওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন এবং তাঁদের কলেজ চত্বরের বাইরে থেকে কেউ সেখানে এসেছিলেন কি না। দ্বিতীয়ত, ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিদের পরিচয় ও ভূমিকা কী এবং ভিডিওটি ঘটনার পুরো প্রেক্ষাপট তুলে ধরে কি না। তৃতীয়ত, ভুক্তভোগীদের অভিযোগের পক্ষে প্রত্যক্ষদর্শী বা অন্য কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না। পাশাপাশি, দুই ছাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কলেজ কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত-সিদ্ধান্ত বা আইনি দায় নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়নি। দুই পক্ষের বক্তব্যের পার্থক্য বিবেচনায় অভিযোগের প্রতিটি দিক যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। মোবাইল ফোন নম্বর ব্লক করাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হলেও অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিষয়টি কেবল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও নির্যাতনের অভিযোগ মোকাবিলার প্রশ্নও সামনে আসবে। এখন নজর কলেজের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে। তদন্তে কী উঠে আসে এবং ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নেয়, তার ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৮, ২০২৬ 0

বরিশালের ডেফুলিয়ায় জিয়াউর রহমানের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ একর জমি বেহাতের অভিযোগ

বরিশালে সওজের কম্পিউটার অপারেটর ফারুকের কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তির তথ্য ফাঁস

ঝালকাঠিতে শিক্ষক বদলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, বাতিলের আশ্বাসেও অগ্রগতি নেই

রাজউক পরিচালক রেজাউল বারীকে ঘিরে ৬০ কোটি টাকার ঋণচুক্তির অভিযোগ, দুদকে আবেদন

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিচালক মো. রেজাউল বারীকে ঘিরে ৬০ কোটি টাকার কথিত ঋণচুক্তি, ২৪ মাসে সার্ভিস চার্জসহ ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের শর্ত এবং তাঁর সরকারি পদায়নের সঙ্গে সম্ভাব্য আর্থিক যোগসূত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে, একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৬০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছিলেন রেজাউল বারী। কথিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, ২৪ মাসের মধ্যে সার্ভিস চার্জসহ মোট ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের বিষয়ে সম্মতি দেওয়া হয়। এ জন্য সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।   ৬০ কোটি টাকার ঋণ, পরিশোধের অঙ্ক ১৬৮ কোটি অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, ৬০ কোটি টাকা ঋণের বিপরীতে ২৪ মাসে মোট ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের কথিত শর্ত। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই অর্থ পরিশোধের মধ্যে সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং চুক্তির বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের কয়েকটি ফাঁকা চেক দেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে উত্থাপিত অঙ্ক অনুযায়ী, ঋণের মূল অর্থ ৬০ কোটি টাকা এবং প্রস্তাবিত মোট পরিশোধের অঙ্ক ১৬৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মূল ঋণের তুলনায় পরিশোধের পরিমাণ ১০৮ কোটি টাকা বেশি। এখানে চুক্তিতে উল্লিখিত সার্ভিস চার্জের হার, হিসাবের পদ্ধতি, ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের পরিচয় এবং অর্থ পরিশোধের শর্তাবলি স্বাধীনভাবে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।    পদায়নের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র আছে কি? দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তোলা হয়েছে—কথিত ঋণচুক্তির সঙ্গে রাজউকের পরিচালক পদে রেজাউল বারীর পদায়নের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না।এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে তাঁর পদায়নসংক্রান্ত সরকারি নথি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সময়কাল এবং কথিত আর্থিক লেনদেনের সময়ের মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে, ঋণচুক্তি যদি বাস্তবে সম্পাদিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেন হিসেবে সংঘটিত হয়েছিল, নাকি এর সঙ্গে কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা দাপ্তরিক সুবিধার সম্পর্ক ছিল—তা পৃথকভাবে যাচাই করা দরকার। দুদকের কাছে যেসব বিষয়ে অনুসন্ধানের আবেদন দুদকে জমা দেওয়া লিখিত আবেদনে মূলত পাঁচটি বিষয়ে অনুসন্ধানের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ১. ঋণচুক্তির সত্যতা যাচাই: চুক্তির মূল কপি, স্বাক্ষর, সংশ্লিষ্ট নথিপত্র এবং চুক্তিতে উল্লেখিত পক্ষগুলোর পরিচয় পরীক্ষা করা। ২. অর্থের উৎস ও লেনদেনের প্রকৃতি: ৬০ কোটি টাকার কথিত ঋণের অর্থ কোথা থেকে এসেছে, কীভাবে লেনদেন হয়েছে এবং সার্ভিস চার্জের হিসাব কীভাবে নির্ধারিত হয়েছে, তা যাচাই করা। ৩. ফাঁকা চেক দেওয়ার অভিযোগ: সোনালী ব্যাংকের কথিত চেকগুলোর অস্তিত্ব, মালিকানা, নম্বর, ব্যবহার এবং চুক্তির সঙ্গে সেগুলোর সম্পর্ক পরীক্ষা করা। ৪. পদায়নে অনিয়মের সম্ভাবনা: রাজউকে পরিচালক পদে পদায়নের প্রক্রিয়ার সঙ্গে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা অনুসন্ধান করা। ৫. আইনগত ব্যবস্থা: অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। আবেদনটিতে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য দুদক চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। নথি যাচাই ও নিরপেক্ষ তদন্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ একজন সরকারি কর্মকর্তাকে ঘিরে বিপুল অঙ্কের ঋণচুক্তি এবং সরকারি পদায়নের সম্ভাব্য যোগসূত্রের অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার পরিবর্তে প্রমাণ, নথিপত্র এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে  চুক্তির সত্যতা, ব্যাংকিং নথি, অর্থের উৎস, সার্ভিস চার্জের হিসাব এবং পদায়নসংক্রান্ত সরকারি রেকর্ড যাচাইয়ের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা যেতে পারে। জনস্বার্থে এখন মূল প্রশ্ন হলো—কথিত ৬০ কোটি টাকার ঋণচুক্তি বাস্তবে হয়েছিল কি না, ১৬৮ কোটি টাকা পরিশোধের শর্তের ভিত্তি কী এবং এর সঙ্গে সরকারি পদায়নের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না। নিরপেক্ষ ও প্রমাণভিত্তিক অনুসন্ধানই এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৭, ২০২৬ 0
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) ঢাকা মেট্রো সার্কেলের বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুরুল আলম শরীফ

ঢাকা মেট্রো সার্কেলে মনজুরুল আলম শরীফের পদায়ন: পুরোনো বিভাগীয় মামলা ঘিরে নতুন প্রশ্ন

বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আখতার হোসেনের বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

বাউফলে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আদায় ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ

কর পরিদর্শক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি

প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে, কর পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0