Brand logo light

বরিশাল

ডা. ভাস্কর সাহা
মেডিকেল ভিসার আড়ালে দেশত্যাগের প্রস্তুতি? ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচারের অভিযোগে নতুন উত্তাপ

বরিশাল অফিস :    বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ গঠনের অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি গত ৯ এপ্রিল একটি মেডিকেল ভিসার জন্য আবেদন করেছেন—যা সংশ্লিষ্ট মহলে তার সম্ভাব্য দেশত্যাগ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তিনি স্থায়ীভাবে বিদেশে পাড়ি জমাতে পারেন। ইতোমধ্যে তার স্ত্রী ও সন্তানরা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া তিনি নিজ বাসভবনের বাইরে বর্তমানে বরিশাল সদরে  একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছেন—যা তার চলাফেরায় গোপনীয়তার ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছেন অনেকে। অর্থ পাচারের অভিযোগ ডা. ভাস্কর সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি একটি বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান “সাউথ অ্যাপোলো হাসপাতাল”-এর শেয়ার বিক্রি করে প্রায় দুই কোটি টাকা সংগ্রহ করেন এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করেন। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই অর্থ ভারতের দিকে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে। সম্পদের বিস্তার ও বিক্রির উদ্যোগ  অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বরিশাল শহরে তার মালিকানাধীন অন্তত তিনটি ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে দুটি বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে—যা সম্ভাব্য দেশত্যাগের প্রস্তুতির অংশ হতে পারে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। শুধু দেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসাত এলাকাতেও তার নামে একাধিক বাড়ির তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।  এসব তথ্য  গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। পারিবারিক নাগরিকত্ব ও অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন ডা. সাহার পরিবারের সদস্যদের নাগরিকত্ব, দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান এবং সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। এসব বিষয় ভবিষ্যৎ তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক যোগাযোগের ইঙ্গিত স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে, ডা. ভাস্কর সাহা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই ও দক্ষিণাঞ্চলের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। যদিও এই সম্পর্কের প্রভাব কতটুকু—তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। নজরদারি জোরদারের দাবি এমন পরিস্থিতিতে সচেতন মহল সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতি জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি— ভিসা প্রক্রিয়ার ওপর কঠোর নজরদারি। সম্ভাব্য দেশত্যাগে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা। অর্থের উৎস ও লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত। বিদেশে সম্পদের সত্যতা যাচাই। প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা দ্রুত গ্রহণ।   সচেতন মহলের মতে, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-প্রমাণ হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বৃহত্তর আর্থিক অনিয়মের চিত্রও উন্মোচন করতে পারে। ডা. ভাস্কর সাহাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ, তথ্য ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট একটি পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্রিয়তা এখনই নির্ধারণ করতে পারে—এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বড় কোনো আর্থিক জালিয়াতির অংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টন
বরিশালে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিল্টনের বিরুদ্ধে ‘অপহরণ নাটক ’সাজিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা

বরিশাল অফিস :    বরিশাল মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের  সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. রিয়াজ মাহমুদ খান মিল্টন অভিযোগ করেছেন, তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের একটি ‘বানোয়াট গল্প’ তৈরি করে সংবাদমাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত আসন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে—এমনটাই দাবি মিল্টনের। তার অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন একই সংগঠনের আরেক নেতা তারিক সুলাইমান, যার সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। অভিযোগের কাঠামো: ‘অপহরণ’ থেকে ‘সংবাদ’ মিল্টনের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি শুরু হয় একটি মামলাকে ঘিরে, যেখানে তার ছেলেকে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে থানায় তদ্বির করেছিলেন তারিক সুলাইমান।  গত ৬ এপ্রিল তারিকের ছেলে সুনানের সঙ্গে তার সরাসরি দেখা হয়। মিল্টনের বক্তব্য অনুযায়ী,  সুনান বলে কাকা আপনার ছেলে জড়িত নয়। তবে যা হয়েছে সে বিষয়ে আমার বাবাই ব্যাখ্যা দিতে পারবেন।। এরপর সুনান চলে যায়। কিন্তু এই কথোপকথনের কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটনাস্থলে সুনানের মা এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাও পৌঁছান। সবাই সুনানের অবস্থান জানতে চাইলে মিল্টন একই উত্তর দেন—সুনান ওই দিকেই চলে গেছে। মিল্টনের দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই সুনানের মা ফোন করে নিশ্চিত হন যে, সুনান নিজ বাসায় ফিরে গেছে এবং সে অপহৃত হয়নি। পুলিশের বক্তব্য: অভিযোগ এসেছিল, কিন্তু অপহরণ নয় ঘটনার দিন ঘটনাস্থলে যাওয়া কাউনিয়া থানার এএসআই কামরুল আহসান বলেন, থানায় একটি অপহরণের অভিযোগ আসার পর তারা সেখানে যান। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে সুনানের মায়ের কাছ থেকেই জানতে পারেন, তার ছেলে বাসায় ফিরে গেছে এবং কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তীতে ওসিকেও একই তথ্য জানানো হয় এবং পুলিশ সেখান থেকে চলে আসে। দুই দিন পর ‘অপহরণ’ সংবাদ! ঘটনার দুই দিন পর কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, মিল্টন নাকি সুনানকে অপহরণ করেছেন এবং পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। এই সংবাদকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’ বলে দাবি করেছেন মিল্টন। তার প্রশ্ন—যে ঘটনায় ঘটনাস্থলেই অপহরণ অস্বীকার করা হয়েছে, সেটি কীভাবে পরবর্তীতে ‘অপহরণ’ হিসেবে সংবাদে আসে? ‘১০ মিনিটে সাজানো নাটক?’ মিল্টনের দাবি, পুরো ঘটনাটি ঘটেছে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে—তার সঙ্গে সুনানের কথা বলা, সুনানের চলে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি এবং পুলিশের আগমন—সবই খুব দ্রুত ঘটে। তার ভাষায়, “এটা যদি পূর্ব পরিকল্পিত না হয়, তাহলে এত কম সময়ের মধ্যে এত কিছু কীভাবে সম্ভব?” তিনি আরও জানান, সুনানের সঙ্গে তার কথোপকথনের ভিডিও তার মোবাইলে সংরক্ষিত রয়েছে, যা পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। রিয়াজ খান মিল্টন বলেন,তারিক সুলাইমানের সাথে আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে পরাজিত করতে সে এই ঘৃন্য পথ বেছে নিয়েছে। অথচ তার ছেলে সুনানের বিরূদ্ধেই অপহরণের অভিযোগে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। দ্বন্দ্ব, তথ্যযুদ্ধ এবং মিডিয়ার ভূমিকা ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং রাজনৈতিক সংগঠনের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই কতটা তীব্র হতে পারে, তারও ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—যাচাই ছাড়া সংবেদনশীল অভিযোগ কীভাবে সংবাদে প্রকাশ পেল? একদিকে  মিল্টনের বিরুদ্ধে ‘সাজানো নাটক’ অভিযোগ, অন্যদিকে প্রাথমিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের তৎপরতা—সব মিলিয়ে ঘটনাটি এখন একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি রাখে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, প্রমাণ এবং পুলিশের আনুষ্ঠানিক নথি যাচাই ছাড়া এই বিতর্কের চূড়ান্ত সত্য উদঘাটন কঠিন—তবে এটুকু নিশ্চিত, বরিশালের এই ঘটনাটি এখন শুধুই একটি অভিযোগ নয়, বরং রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নও তুলে দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ডা. মানবেন্দ্র সরকার
ক্ষমতার ছায়ায় টিকে থাকা তত্ত্বাবধায়ক: হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে অনিয়ম, প্রভাব ও ভয়ের সংস্কৃতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর একসময়ের আস্থার প্রতীক হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতাল এখন যেন ধীরে ধীরে হারাচ্ছে তার বিশ্বাসযোগ্যতা। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা.মানবেন্দ্র সরকার—যিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বরিশাল নগরীর হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকার। হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্ধারিত বয়সসীমা অতিক্রম করার পরও তিনি এখনো দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কর্মকর্তাদের অবসরের বয়সসীমা ৬২ বছর নির্ধারণ করা হলেও ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বর্তমান বয়স ৭৪ বছর বলে জানা যায়। বয়সসীমা পেরিয়েও দায়িত্বে বহাল হাসপাতালের কার্যনির্বাহী কমিটির ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বরের সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কর্মকর্তাদের অবসর গ্রহণের বয়সসীমা ৬২ বছর এবং কর্মচারীদের জন্য তা ৬৫ বছর নির্ধারণ করা হয়। অথচ বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বয়স ৭৪ বছর—যা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অন্তত ৯ বছর বেশি। নিয়ম অনুযায়ী বহু আগেই তার দায়িত্ব ছাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সুপারিশের মাধ্যমে তিনি তার চাকরির মেয়াদ বাড়িয়ে নিয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালের ২০ নভেম্বর তিনি নিজেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও অল্প সময়ের মধ্যেই পুনরায় একই পদে বহাল হন। রাজনৈতিক ভারসাম্যের কৌশল ডা. মানবেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো—তিনি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে সময়োপযোগী সম্পর্ক বজায় রেখে নিজের অবস্থান নিশ্চিত করেন। আওয়ামী লীগ আমলে স্বাচিপ নেতা হিসেবে পরিচিত থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি বিএনপির নেতাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।উল্লেখ্য যে ‘এই হাসপাতালে তার চাকরি হয়েছিলো আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ ও সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর সুপারিশে। ২০২৩ সালে ২০ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব থেকে নিজেই অব্যহতি নিয়েছিলেন। এর কিছুদিন পর খোকন সেরনিবায়াত ও এমপি শাহজাহান ওমরের সুপারিশ নিয়ে আবার স্ব-পদে বহাল হন। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল সদর আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ারেরও সুপারিশ আনেন তার চাকরি টিকিয়ে রাখার জন্য। অভিযোগ রয়েছে মানবেন্দ্র তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার কারনে হিন্দু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিশেষ সুবিধা পেয়ে আসছেন। ডা: মানবেন্দ্র সরকারের খামখেয়ালীপনার সর্বশেষ শিকার হয়েছেন হাসপাতালের অফিস সহায়ক আনিসুর রহমান। এর আগেও তার কথা মতো না চলায় বেশ কয়েকজনকে তিনি বিনা নোটিশে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন। ৫ আগষ্টের পর ভোলপাল্টে তিনি এখন বিএনপি নেতা। হাসপাতালের একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বাসায় নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থানকে “অপরিহার্য” হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন। এর ফলে প্রশাসনিক জবাবদিহিতা কার্যত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অভিযোগ: দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম হাসপাতালের পরিচালনা পর্ষদের কিছু সদস্য ও কর্মকর্তার সঙ্গে যোগসাজশে গত কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অথচ কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের সময় নিয়মিতভাবে “টাকা নেই” বলে জানানো হয়। এই বৈপরীত্য কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়িয়েছে। অভ্যন্তরীণ একাধিক সূত্র দাবি করেছে, বিভিন্ন ক্রয়-বিক্রয়, নিয়োগ এবং সেবামূলক খাতে অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ লুটপাট হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের কোনো স্বচ্ছ তদন্ত এখনো দৃশ্যমান নয়। ভয় ও দমন-পীড়নের সংস্কৃতি হাসপাতালের ভেতরে ভয়ের একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন চিকিৎসক ও কর্মচারী। তারা জানান, তত্ত্বাবধায়কের নির্দেশ অমান্য করলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকে। সম্প্রতি আনিসুর রহমান নামের এক অফিস সহায়ককে কোনো লিখিত অভিযোগ ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সহকর্মীদের ভাষ্যমতে, ব্যক্তিগত অসন্তোষ থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগেও একই ধরনের ঘটনায় কয়েকজন কর্মচারীকে বিনা নোটিশে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যের অভিযোগ কিছু কর্মচারীর দাবি, নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায়ের সদস্যরা প্রশাসনিক সুবিধা বেশি পাচ্ছেন। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত হয়নি, তবুও এটি প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিভাজনকে আরও তীব্র করেছে। ক্ষোভে ফুঁসছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্রমাগত অনিয়ম, বেতন সংকট এবং প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতার কারণে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত তত্ত্বাবধায়ক অপসারণের দাবি জানিয়েছেন এবং একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। প্রশ্ন রয়ে যায় একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম ভেঙে, রাজনৈতিক পালাবদলের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারেন—এই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। হেমায়েত উদ্দিন ডায়াবেটিক হাসপাতালের মতো একটি জনস্বাস্থ্যকেন্দ্র যদি অনিয়ম ও প্রভাবের বলয়ে আটকে পড়ে, তবে এর প্রভাব পড়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবার ওপর। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ দেখাতে। কর্তৃপক্ষের নীরবতা এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ডা. সোলায়মান মাসুম
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি ও প্রশাসনিক নিপীড়নের অভিযোগ

বরিশাল অফিস:  বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (এমসিএইচ-এফপি) ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, নারী সহকর্মীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে  নারী সহকর্মী উম্মে হাবিবা ছন্দা যৌন হয়রানি ও প্রশাসনিক নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ঝালকাঠি জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালককে (এডি) প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অনৈতিক প্রস্তাব ও ছয় মাস বেতন বন্ধ থাকা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা উম্মে হাবিবা ছন্দা অভিযোগ করেছেন, ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে প্রশাসনিকভাবে ‘টার্গেট’ করা হয়েছে। নথিপত্র ও চিকিৎসা সনদ পর্যালোচনায় জানা যায়, ২০২৫ সালের ২০ জুলাই এক দুর্ঘটনায় আহত হন উম্মে হাবিবা ছন্দা। অর্থোপেডিক এর ডা. মো. ফেরদৌস রায়হান ছন্দাকে বিশ্রামের পরামর্শ দেন। ভুক্তভোগীর দাবি, ওই ঘটনার পর তার গর্ভপাত ঘটে এবং তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। সেই অবস্থাতেও ছুটি পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি আবার গর্ভধারণ করেন। ৫ জানুয়ারি গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা. তানিয়া আফরোজ ছন্দাকে পরীক্ষা করে জানান যে, তিনি গর্ভপাতের ঝুঁকিতে রয়েছেন এবং অন্তত এক মাস সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দেন। এ অবস্থায় তিনি ১১ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চিকিৎসাজনিত ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু ২৫ জানুয়ারি একটি অফিস চিঠিতে তাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়। একজন নারী কর্মীর ব্যক্তিগত মাতৃত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে এভাবে প্রমাণ চাওয়াকে অনেকেই প্রশাসনিক সংবেদনশীলতার অভাব হিসেবে দেখছেন। জবাবে উম্মে হাবিবা ছন্দা লিখেছেন, তার গর্ভকালীন স্বাস্থ্য ও মানসিক অবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, ছুটির আবেদন করার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে একের পর এক শোকজ পাঠানো হয় এবং পরে বিষয়টি বিভাগীয় মামলায় গড়ায়। এছাড়া কোনো স্পষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়াই টানা ছয় মাস তার বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তদন্ত বা বিভাগীয় মামলা চললেও সাধারণত পুরো বেতন বন্ধ রাখা হয় না বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। উম্মে হাবিবা ছন্দা আরও দাবি করেন, তিনি অন্যত্র বদলির আবেদন করলেও তা কার্যকর হতে দেওয়া হয়নি। এমনকি বদলি ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজেই ঢাকায় অধিদপ্তরে গিয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।  জানা গেছে, ছন্দাকে মেহেন্দিগঞ্জের একটি জরাজীর্ণ ও দুর্গম কোয়ার্টারে একা থাকার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। ভুক্তভোগীর মতে, একজন নারী হিসেবে সেখানে একা থাকা তার জন্য নিরাপদ নয়। অনুসন্ধানে কিছু নথিতে অসঙ্গতিও পাওয়া গেছে। পাক্ষিক সভায় উপস্থিত থেকেও তাকে অনুপস্থিত দেখিয়ে শোকজ করা হয়েছে এবং চিকিৎসা সনদ জমা দেওয়ার পরও তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।   সম্পদের পাহাড় এদিকে ডা. সোলায়মান মাসুমের পরিবারের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের পাহাড় গড়ে উঠেছে।  ঢাকার উত্তরা, ফরিদপুরের ওয়ারলেস পাড়া এবং মেহেন্দিগঞ্জের বদুরপুর এলাকায় একাধিক বহুতল ভবন রয়েছে।  এছাড়া বরিশাল নগরীর কাশিপুর ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ জমি ও একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিকানার তথ্যও সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এমপি পংকজ নাথের ঘনিষ্ঠ দোসর হওয়ায় দীর্ঘ ৮ বছর ধরে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে আছেন তিনি। তার ভয়ে অনেক  কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মুখ খুলতে সাহস পান না। তদন্ত কমিটি গঠন: পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ডা. এবিএম সোলায়মান মাসুমের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালককে (এডি) প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।   আইনগত ও প্রশাসনিক পরিপ্রেক্ষিত: মেহেন্দিগঞ্জ ঘটনা ১. যৌন হয়রানি ও কর্মস্থলের নিরাপত্তা বাংলাদেশে কর্মস্থলে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ আইন ২০১০ অনুযায়ী: যে কোনো নারী বা পুরুষ কর্মচারীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি করা, যার মধ্যে মৌখিক, শারীরিক বা মনস্তাত্ত্বিক প্ররোচনা অন্তর্ভুক্ত, তা অপরাধের পর্যায়ে গণ্য হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, অভিযুক্তকে শ্রম আইনের আওতায় শাস্তি, চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত বা স্থায়ী বরখাস্ত করা যেতে পারে। মামলা সরাসরি শ্রম আদালত, জেলা বা মহানগর পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন শাখাতে দায়ের করা যায়। প্রসঙ্গ: ভুক্তভোগী উম্মে হাবিবা ছন্দার অভিযোগ অনুযায়ী শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায়ও তাকে ছুটি না দিয়ে শোকজ ও বেতন বন্ধ করা হয়েছে। এটি প্রশাসনিক ও শ্রম আইন লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যেতে পারে। ২. বেতন স্থগিতকরণ ও ছুটি সংক্রান্ত বিধি সরকারি চাকরিতে বেতন স্থগিত করা সাধারণত তদন্ত বা বিচারের ফলাফলের ভিত্তিতে সীমিত সময়ের জন্য করা হয়। বাংলাদেশ সরকারি চাকুরি বিধিমালা অনুযায়ী: বিনা সিদ্ধান্তে দীর্ঘকাল বেতন বন্ধ রাখা অযৌক্তিক এবং আইনগতভাবে চ্যালেঞ্জযোগ্য। গর্ভধারণ বা মাতৃত্বকালীন অবস্থা একটি সংবেদনশীল বিষয়। কোনো সরকারি কর্মকর্তা শরীরিক বা গর্ভকালীন স্বাস্থ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে পদক্ষেপ নিতে পারবে না। ৩. দুর্নীতি ও অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জন সন্দেহ হলে দুদক তদন্ত শুরু করতে পারে। অভিযোগ অনুসারে, ডা. সোলায়মান মাসুমের পরিবারের বহুতল ভবন, জমি এবং হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত সম্পদ তার সরকারি আয়ের তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ হলে এটি অবৈধ সম্পদ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধের অন্তর্ভুক্ত। ৪. প্রশাসনিক তদন্ত ও বিভাগীয় মামলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যা সরকারি চাকরির আচরণবিধি অনুযায়ী সঠিক পদক্ষেপ। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট অনুযায়ী: অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বরখাস্ত, বদলি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারেন। সম্পদের অস্বাভাবিকতা যদি প্রমাণিত হয়, দুদকের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। ৫. নারীর অধিকার সংরক্ষণ ও সংবেদনশীলতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন , শ্রম অধিদপ্তর এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংস্থা নিশ্চিত করে যে: নারীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রতি প্রশাসন সংবেদনশীল হবে। চাকরিতে যৌন হয়রানি ও গর্ভকালীন সংক্রান্ত পদক্ষেপ আইনগতভাবে প্রমাণিত হলে শাস্তিমূলক হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
বাকেরগঞ্জ পৌরসভা
বাকেরগঞ্জ পৌরসভা: দুটি কক্ষ সাজাতে ৪৩ লাখ , ১০টি বেঞ্চ স্থাপনে ব্যয় সোয়া চার লাখ টাকা !

 বাকেরগঞ্জ পৌরসভার দরপত্রে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা: শেষ সময়ে ‘দ্রুত উন্নয়ন’ না কি অস্বচ্ছতার আড়াল? বরিশাল অফিস :    বরিশালের বাকেরগঞ্জ পৌরসভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আওতায় ছয়টি উন্নয়ন প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান ঘিরে ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ ৭ হাজার ৬৬৭ টাকা। কিন্তু কাজের ধরন, পরিসর এবং বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে এই ব্যয়ের সামঞ্জস্য নিয়ে সন্দিহান স্থানীয় বাসিন্দা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং ঠিকাদাররা। পৌর ভবনেই ব্যয়ের বড় অংশ দরপত্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মোট ব্যয়ের বড় অংশই কেন্দ্রীভূত হয়েছে পৌরসভা ভবন এবং এর আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়নে। ইউনিব্লক সড়ক ও প্ল্যাটফর্ম নির্মাণ: ৯,৪০,১৫২ টাকা কনফারেন্স ও অফিস কক্ষের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা: ৪৩,৩৬,৭৮৮ টাকা ছাদে টাইলস স্থাপন: ১১,৪৯,১২১ টাকা এই তিনটি কাজেই ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ ২৬ হাজার টাকা, যা মোট প্রকল্প ব্যয়ের অর্ধেকেরও বেশি। অন্যদিকে, জনসাধারণের সরাসরি ব্যবহারের প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রেও ব্যয়ের অস্বাভাবিকতা চোখে পড়ে: ১০টি বেঞ্চ স্থাপন: ৪,১৭,২২৭ টাকা (প্রতি বেঞ্চ ~৪১,৭২৩ টাকা) ৫০টি সড়ক বাতি: ২৫,৮৯,৫৭৬ টাকা (প্রতি বাতি ~৫১,৭৯২ টাকা) একটি অপেক্ষাকক্ষ নির্মাণ: ৬,৭৪,৮০৩ টাকা প্রশ্নবিদ্ধ ‘সাজসজ্জা’ খাতে বিপুল ব্যয় সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে মাত্র প্রায় ৩০০ বর্গফুটের দুটি কক্ষের সাজসজ্জায় ৪৩ লাখ টাকার প্রাক্কলন নিয়ে। স্থানীয়দের মতে, এটি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি অসামঞ্জস্যপূর্ণ। একজন অভিজ্ঞ ঠিকাদার জানান, ১,৫০০ বর্গফুট ছাদে টাইলস বসাতে যেখানে সর্বোচ্চ ৪ লাখ টাকা লাগার কথা, সেখানে প্রায় সাড়ে ১১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে—যা বাজারদরের তুলনায় অনেক বেশি। ‘শেষ সময়ের কাজ’—সন্দেহের কেন্দ্রে প্রশাসনিক পরিবর্তন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পৌর কর্মচারী ইঙ্গিত দিয়েছেন ভিন্ন এক বাস্তবতার দিকে। তার দাবি, প্রশাসক (ইউএনও) এবং প্রকৌশলীর বদলির প্রেক্ষাপটে এটি তাদের দায়িত্বের শেষ সময়ের কাজ হওয়ায় ব্যয় বাড়িয়ে ধরা হয়ে থাকতে পারে। এই বক্তব্য প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ উত্থাপন করেছে। রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলের প্রতিক্রিয়া সাবেক কাউন্সিলর আলিম জোমাদ্দারের ভাষায়, “পৌর ভবনের বেশিরভাগ কাজই অপ্রয়োজনীয়। যেখানে রাস্তা ভালো আছে, সেখানে নতুন করে নির্মাণ বা টাইলস বসানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই।” একই সুরে কথা বলেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা জামাল হোসেন বিপ্লব। তার মতে, “৬৩ লাখ টাকার কাজ পৌর ভবনে—এটা স্বাভাবিক নয়। বিষয়টি তদন্ত হওয়া উচিত।” ঠিকাদার জাকির হোসেন বলেন, “দরপত্রের ব্যয় আর বাস্তব কাজের মধ্যে কোনো মিল নেই। এটি পরিষ্কারভাবে অতিমূল্যায়ন।” প্রশাসনের অবস্থান: দায় এড়ানোর চেষ্টা? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দীন জানান, প্রাক্কলন সাধারণত বাজারদর বিবেচনা করেই করা হয়। তবে তিনি সংশ্লিষ্ট প্রাক্কলন না দেখে নির্দিষ্ট মন্তব্য করতে পারেননি। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক  স্বীকার করেছেন, বিষয়টি তার কাছেও “অস্বাভাবিক” মনে হয়েছে। তবে তিনি দায় চাপিয়েছেন প্রকৌশল বিভাগের ওপর, যারা প্রাক্কলন নির্ধারণ করে থাকে। স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, ছোট পরিসরের কাজেও অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো একটি বৃহত্তর সমস্যার ইঙ্গিত দেয়—যেখানে প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে বরাদ্দ ব্যবহারের ধরণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাদের দাবি, দরপত্র প্রক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ব্যয়ের প্রাক্কলনের স্বচ্ছতা যাচাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা   বাকেরগঞ্জ পৌরসভার এই প্রকল্পটি কেবল একটি স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নয়—এটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের একটি পরীক্ষাও বটে। দরপত্র বিক্রয়ের শেষ তারিখ ৬ এপ্রিল ২০২৬। তার আগেই যদি প্রশ্নগুলোর সন্তোষজনক উত্তর না আসে, তাহলে এই প্রকল্প ভবিষ্যতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা অফিসে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ
বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা অফিস : ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন ও প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

বরিশাল অফিস : বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:  বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দায়িত্বে গাফিলতি ও অসদাচরণের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া তিনি চাকুরীর শুরু থেকেই বরিশাল জেলায় ঘুরে ফিরে রয়েছেন। চাকুরীর শুরু উপজেলা মুলাদী থেকে শুরু করে বরিশাল ও বাবুগঞ্জে বিতর্ক আর প্রতিরোধের মুখে বদলী হয়েছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নাই। বাবুগঞ্জ থেকে বাকেরগঞ্জে যোগদানের পরেই পুর্বের কর্মস্থলের মত আচরন শুরু করেন।তার ওপরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকলেই ক্ষুব্ধ। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল বাকেরগঞ্জ পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা। বরিশাল ও বাবুগঞ্জের মত বাকেরগঞ্জে ও  তিনি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা হয়নি।  জানা গেছে, ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন  একই জেলায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকায় নানা অনিয়ম, দায়িত্বে অবহেলা, দুর্নীতি ও কর্মচারীদের প্রতি অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। এসব বিষয়ে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকার কারণে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে আলোর মুখ দেখেনি। ডা.সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ওপর  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরিবার পরিকল্পনার চিকিৎসা সেবা প্রদানের দায়িত্ব থাকলেও তিনি নিয়মিতভাবে তা পালন করছেন না।  যা সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিমূলক অপরাধ।  বরিশাল জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মেহবুব মোর্শেদের সাথে সু সম্পর্ক থকার কারনে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে নিজ ক্ষমতা প্রয়োগ করে দায়িত্ব এড়িয়ে চলেন। এতে করে সাধারন রোগীরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন নিয়মিত ইউনিয়নগুলোতে নির্ধারিত দায়িত্ব পালন না করেই ভুয়া টিএ (ভ্রমণ ভাতা) ও ডিএ (দৈনিক ভাতা) বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একাধিকবার একই ধরণের বিল জমা দিয়ে সরকারি অর্থ লোপাটের প্রমাণ রয়েছে বলে জানা যায়। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের পরিবার পরিকল্পনার সেবা নিতে আসা রোগীদের সাথে হরহামেশাই খারাপ আচরন করে থাকেন। এমনকি রোগীকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়ার নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের ব্যাপারে জানা যায়, দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা ইমপ্লান্ট পড়ানো ও খোলা দুইটিই ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের দায়িত্ব থাকলেও এফডাব্লিউভি (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শিকা) দ্বারা জোরপূর্বক তা করিয়ে থাকেন। যার ফলে প্রায়শই ব্যবস্থাটি ত্রুটিপূর্ন হয়ে থাকে। যা নিয়ে হর-হামেশাই সেবা প্রত্যাশীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।  বাবুগঞ্জে কর্মরত থাকাকালে মাধবপাশা ইউনিয়ন থেকে ইমপ্লান্ট এর চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রাবেয়া নামে এক নারী জানিয়েছিলেন আগে দুইবার এ পদ্ধতি নিলেও এইবারের মতো কষ্ট কখোনই পাইনি। ডা.নিজে তার কাজ না করে অনভিজ্ঞদের দ্বারা ইমপ্লান্ট পড়ায়। এতে অসহ্য রকমের ব্যাথা অনুভূত হয়। এভাবেই বাকেরগঞ্জে তিনি কর্ম করে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মচারীদের টিএ বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে বিলের ৩০-৪০% টাকা ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনকে ঘুষ দিতে হয়। কারন হিসেবে তিনি বলেন এ অর্থ বরিশাল অফিসে ও হিসাব শাখায় জমা দিতে হয়। এ টাকা কেউ না দিতে চাইলে তাকে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের রোষাণলে পরতে হয়। এমনকি বিল আটকে দেয়ার হুমকিও প্রদান করা হয়। এছাড়াও কথায় কথায় কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করার ও অসংখ্য নজিরও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।  ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়,মেডিকেল অফিসার ডা. সৈয়দা সুলতানা (সোনিয়া) কর্মস্থলে অধিকাংশ সময় অনুপস্থিত থাকেন, টি.এ বিল আত্মসাৎ করেন, এবং কর্মচারীদের সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন, যা সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯ (খারা ৩ ও ৭)-এর পরিপন্থী। তিনি চিকিৎসা সেবা সম্পর্কেও দায়িত্বহীন আচরণ করেন, ফলে মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ বিষয়ে বহুবার উপ-পরিচালক, পরিবার পরিকল্পনা, বরিশাল বরাবর মৌখিক ও লিখিতভাবে অভিযোগ জানানো হলেও, তিনি অভিযুক্তদের কাছ থেকে সুবিধা গ্রহণ করায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি, যা দুর্নীতি দমন আইন ও সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।আবেদনকারীরা স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছিলেন। প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:  অন্যদিকে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের বিরুদ্ধেও একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়— মুসলিম নারী কর্মীদের পোষাক নিয়ে বিদ্রুপ আচরন ধর্মীয় বৈষম্যমূলক আচরণ গর্ভবতী কর্মীদের অপমান করা হিন্দু কর্মীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া এছাড়া তিনি নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থেকে তার ঘনিষ্ঠ সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সবুর হোসেনের মাধ্যমে অফিস পরিচালনা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সবুর হোসেনের মাধ্যমে কর্মচারীদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ব্যাপারে ডা. সৈয়দা সুলতানা পারভীন বলেন,আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ দেয়া হয়েছে তা আমি জানিনা।তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আনা হয়েছে তার জন্য আমার বিভাগ তদন্ত করে যে শাস্তি দিবে তা মেনে নিবো।তিনি বলেন, আমি কর্মস্থলেই আছি,ফাঁকি কেন দিবো। এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাসের মোবাইলে কল করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সত্ত্বেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
বরিশালে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মশালা ও মিলন মেলা
বরিশালে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মশালা ও মিলন মেলা

বরিশাল অফিস :    বরিশাল নগরীর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে  অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে “রাজনৈতিক কর্মশালা ও মিলন মেলা–২০২৬”। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক আসাদ বিন রনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম কনক। সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বরিশাল জেলার আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সাঈদ মুসা। অনুষ্ঠানে জেলা সদস্য সচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ ফেরদৌস, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আবেদ আহমেদ রনি, দপ্তর সম্পাদক নাজমুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আসিফ আলি ও ইমরান মৃর্ধা, মহানগর সংগঠক মোহন হোসেন, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় সংগঠক বনি আমিনসহ জেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি আসাদ বিন রনি বক্তৃতায় বলেন, “দেশে একটি সুস্থ ও গঠনমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হলে তরুণ নেতৃত্বকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে।” বিশেষ অতিথি রফিকুল ইসলাম কনক বলেন, “গণতন্ত্র রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” সভাপতি আবু সাঈদ মুসা বলেন, “সংগঠনকে শক্তিশালী করতে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।” অনুষ্ঠানে বক্তারা বিরোধীদলের করণীয়, সুশাসন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চা এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিরা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সক্রিয়ভাবে মতবিনিময় করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
বরিশালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন  শাওন ও স্বপন
বরিশালে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন শাওন ও স্বপন : দুদকের তদন্ত শুরু

বরিশাল অফিস : গাড়ি, বাড়ি, প্লট, ফ্ল্যাট-কী নেই বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের। রীতিমতো গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। শুধু নিজের নামেই নয়; স্ত্রী ও স্বজনদের নামেও গড়েছেন বিপুল সম্পত্তি। এসব সম্পত্তি করেছেন জাল -জালিয়াতি,দুর্নীত ও অনিয়মের মাধ্যমে।অভিযোগ রয়েছে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ গড়ার।   দুদকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি তদন্ত শুরু করেছেন দুদক বরিশাল সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক খন্দকার কামরুজ্জামান। দুদক প্রধান কার্যালয়,ঢাকার   ০০,০১,০৬০০,৬৫২,০১,০৪৮,২৫-৫৬৯১৯, তারিখ: ২৯/১০/২০২৫ এর স্মারক, দুদক, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার ই/আর নম্বর। মল্ট তদন্ত-২/৫৭৪/২৫/বরিশাল, তারিখ: ০৮/১০/২০২৫ ও  দুদক, সজেকা, বরিশালের স্মারক নম্বর: ০০.০১.০৬০০,৭৪২,০১,০২৯.২৫-১৮৭৭ তারিখ: ০৯/১১/২০২৫ এ এই অভিযোগ তদন্ত শুরু করেছে বরিশাল দুদক অফিস।ইতিমধ্যে অভিযোগকারী ইমন খান ও বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনকে দুদক কার্যালয়ে তদন্তের জন্য ডেকে ছিল।   দুদকে বরিশালের ডোষ্ট পেট্রোল পাম্পের মালিক শাওন ও সুপারসনিক লঞ্চ মালিক স্বপনের বিরুদ্ধে কর ও ভ্যাট ফাঁকি,সরকারি জমি দখল,জাল জালিয়াতি,জাল বন্টন নামা সৃষ্টি,অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও অনিয়ম এবং পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট সরকারের দাপট দেখিয়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভুত সম্পদ অর্জন করে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড় এই মর্মে অভিযোগ দিয়েছিল ইমন খান নামের এক ব্যক্তি।   আরও পড়ুন: বরিশালে পৈতৃক সম্পত্তি থেকে ইমন খানকে বঞ্চিত করার অভিযোগ ভাইদের বিরুদ্ধে   ইমন খান  লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন-   বরিশালের বিশিষ্টি ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার খানের মৃত্যুর পরে তার মালিকানাধীন ডোষ্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন জাল বন্টননামা সৃষ্টি করে ফিলিং স্টেশনটির দখল নেয় ওয়ালী মোহাম্মাদ খান শাওন। এই  ফিলিং স্টেশনটি হয় শাওনের আলাদিনের চেরাগ।ফিলিং স্টেশনে ক্রেতাদের পেট্রোল,অকটেন, ডিজেলের পরিমাপে কম দেয়া,সরকারি -বেসরকারি অফিস প্রদত্ত পেট্রোল ও অকটেনের স্লিপ ক্রয়,সরকারি রাজস্ব ফাঁকি,ডিপো থেকে তেল নিয়ে পাচার,সরকারি জমি দখল,অনিয়ম দুর্নীতি করে শাওন গড়েছেন শতকোটি টাকার সম্পদ।এছাড়া পেট্রোল ,ডিজেল ও অকটেনের অবৈধ মুজুদদারীর অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘ দিনের। একটি তেলের পাম্প থেকে শাওন অসংখ্য ফিলিং ষ্টেশন গড়েছেন। এগুলো হলো,ডোষ্ট এলপিজি,মেসার্স রাব্বি ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স সারা ফিলিং ষ্টেশন, মেসার্স ইউনিক ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কামিনী ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স তুর্য্য ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স কনা ফিলিং ষ্টেশন,মেসার্স পাথরঘাটা ফিলিং ষ্টেশন।এছাড়া বরিশাল বিসিকে ৩০ শতাংশ জমির ওপর মেসার্স বরিশাল আয়রন এন্ড ইলিয়েড ইন্ডাস্ট্রিজ,গড়িয়ার পাড়ে ত্রিশ শতাংশ জমি ক্রয়,কাশিপুর হাইস্কুল সংলগ্ন ৩০ শতাংশ জমি ক্রয় ,সাগরদী পায়রা নার্সিং হোম নামক বিল্ডিং জমিসহ ক্রয়,কাটপট্টিতে চারতলা ভবন ও জমি,ডোস্ট পাম্পের বিপরীতে ৩০ শতাংশ জমি,ওয়াহেদিয়া স্কুলের পাশে জমি,রুপাতলী বিদ্যুৎ অফিসের পাশে ২০ শতাংশ জমি,আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস,ঢাকা বসুন্ধরায় ৩টি প্লট ,রাজা বাহাদুর সড়কে থ্রি প্লেক্স ভবন ও জমি,৪টি প্রাইভেটকার,একটি মাইক্রোবাসসহ নামে বেনামে শত কোটি টাকার সম্পদ ও নগদ অর্থ রয়েছে। এ ছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপনের রয়েছে এমভি সুপার সনিক ৩,এমভি সুপার সনিক ৬,এমভি সুপার সনিক ৭,এমভি সুপার সনিক ৮ ও সুপার সনিক ১০ নামে ৫টি লঞ্চ, একটি প্রাইভেট কারসহ নামে বেনামে  শত কোটি টাকার সহায় সম্পদ।   তাদের দুজনের বিরুদ্ধে রয়েছে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ। এছাড়া দ্বিল মোহাম্মাদ খান স্বপন তার পিতা মৃত আব্দুস সাত্তার খানের রেখে যাওয়া এমভি সুপার সনিক (এম -১৫০৪৮) ও এমভি গোলাম রসুল (এম -১৫০৪৯) লঞ্চ দুটি ইমন খান নাবালক অবস্থায় স্ক্রাপ হিসেবে বিক্রি করে দিয়ে নিজ নামে লঞ্চ গড়েন।অথচ ইমনসহ অংশীদারদের কাউকে কোন অংশ প্রদান করেননি।সম্পূর্ন অর্থ আত্মসাৎ করেন।   দুদকের তদন্ত শুরু হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেন ইমন খান।তিনি বলেন, তদন্তে সত্য বেড়িয়ে আসবে।ইমন খান বলেন,আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান মৃত্যুর সময় আমার বয়স ৮ বছর। পিতার মৃত্যুর বিশ দিন পরে আমার আপন ভাই  দিল মোহাম্মদ খান স্বপন ও সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন  যোগ সাজসে একটি বে আইনি আপোষ বন্টন নামা করে।আমি নাবালক হওয়া সত্ত্বেও আদালত থেকে কোন অনুমতি ছাড়াই বন্টনকৃত সম্পদ থেকে আমার প্রাপ্য অংশ রাখেনি।   ইমন খান বলেন, আমার পিতা আব্দুস সাত্তার খান লাইন রোডে ১০ শতাংশ জমির ওপর ভবন ,সাগরদী গাউসিয়া সড়কে ৯ শতাংশ জমির ওপর ২তলা ভবন,সাগরদীতে ডোস্ট ট্রেডার্স ফিলিং স্টেশন নামে একটি পেট্রোল পাম্প, এম ভি সুপার সনিক ,এম ভি গোলাম রসুল নামে দুটি লঞ্চ,ফকিরবাড়ি সড়কে একটি দোকান,লাইন রোডে একটি দোকান,পোর্ট রোডে মৎস্য বাজারে তিনটি দোকান,৪ টি ট্যাংক লরি,বাংলাদেশ বানিজ্য ভান্ডার নামে একটি চালের আড়ৎ,৪ টি তেলের লাইসেন্স,২টি গ্যাসের লাইসেন্স রেখে গেছেন।ইমন খান বলেন, আমার পিতা তিন স্ত্রী , ৮ পুত্র  ও দুই কন্যা রেখে ২০০৩ সালের ১৩ মার্চ ইন্তেকাল করেন।  আমার পিতার মৃত্যুর বিশ দিনের মধ্য সম্পত্তি ভাগ ভাটোয়ারা করা হয়।আমার অংশ না রেখেই।বন্টনে অনেক সম্পত্তির উল্লেখ না করে আমার পিতার সম্পত্তি গোপন রাখা হয়।আমার পিতার সম্পত্তি দিয়ে আমার ভাই দিল মোহাম্মাদ খান স্বপন ৫ টি লঞ্চ করেছে।গাড়ি রয়েছে।  আমার সৎ ভাই ওয়ালি মোহাম্মাদ খান শাওন ৭টি পেট্রোল পাম্প করেছে। বিসিক শিল্প নগরী,গড়িয়ার পাড়,কাশিপুর,সাগরদী,কাটপট্টি,ওয়াহেদ স্কুল সংলগ্ন, রুপাতলীতে জমি ক্রয় করেছে।আব্দুল্লাহ পরিবহন নামে ১৮টি বাস ক্রয় করেছে।ঢাকার বসুন্ধরায় ও রাজা বাহাদুর সড়কে জমি ক্রয় ও ভবন নির্মান ও তিনটি প্রাইভেট কার ও একটি মাইক্রোবাস ক্রয় করেছে। অথচ আমার পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির কোথাও আমার অংশ না রেখে আমাকে বঞ্চিত করা হয়েছে পৈত্তিক সম্পত্তি থেকে।ইমন খান ইতিমধ্যে লঞ্চ বিক্রির বিরুদ্ধে,স্বাক্ষর জালিয়াতি করা,আপোষ বন্টন নামা ও হেবার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।এ ব্যাপারে ইমন খান তিনি ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনসহ সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
জাল সনদে ১২ বছর সরকারি চাকরি -অভিযুক্ত অফিস সহায়ক সোহাগ
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে ১২ বছর জাল সার্টিফিকেটে সরকারি চাকরি

বরিশাল অফিস :    বরিশাল: শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. সোহাগ নামে এক  কর্মচারী দীর্ঘ ১২ বছর ধরে অফিস সহায়ক পদে চাকরি করছেন—যা একটি জাল সনদপত্রের মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে। সোহাগ বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের মগড়পাড়া গ্রামের মো. আবদুল মহিন আকন ও রহিমা খাতুনের ছেলে। সূত্র জানায়,  তিনি লাকুটিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ম শ্রেণি পাসের সনদপত্র জমা দিয়ে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন। পরবর্তীতে কোনো প্রক্রিয়া বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই তিনি দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। ঘটনার সূত্রপাত ঘটে, যখন মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহ একটি দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্রে উল্লেখ করেন, মো. সোহাগ কখনোই মাদ্রাসায় অধ্যয়ন করেননি। নথিপত্র বা রেজিস্টারও তার ছাত্রত্বের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “একজন ভুয়া সনদধারীর দীর্ঘকাল সরকারি চাকরিতে থাকা প্রশাসনিক চরম অবহেলার পরিচয়। এটি শুধু ব্যক্তিগত জালিয়াতি নয়, সরকারি ব্যবস্থার এক গভীর ফাঁক।” হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগটি গ্রহণ করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসনের দীর্ঘদিনের নীরবতা এবং যাচাই ব্যবস্থার ত্রুটি এই ধরনের ঘটনা জন্ম দেয়। সচেতন নাগরিকরা বলছেন, “ভুয়া সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার ঘটনা শুধু বরিশাল নয়, সারাদেশে সরকারি নিয়োগে সম্ভাব্য দুর্নীতির প্রতীক। সমন্বিত যাচাই-বাছাই, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ছাড়া এই ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করা যাবে না।” এই ঘটনায় স্থানীয় সমাজে ক্ষোভের স্রোত তৈরি হয়েছে। বহু নাগরিক মনে করছেন, শুধু অভিযুক্তকে বরখাস্ত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; প্রশাসনিক দায়িত্ব ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুনঃমূল্যায়ন জরুরি। জাল সনদ ও দীর্ঘকাল চাকরিতে থাকার এই কাহিনী একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা সরকার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সজাগ দৃষ্টিভঙ্গি দাবি করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
পল্লী দারিদ্র বিমোচন ফাউন্ডেশন উপ-পরিচালক নিজামুল হক
বরিশালে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  দেশের অন্যতম গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ) বরিশাল অঞ্চলের  উপ-পরিচালক মোঃ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি,দালালি, ক্ষমতার অপব্যবহার, পদোন্নতি, প্রশাসনিক ক্ষমতা ,অর্থের অপব্যবহার ও অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পিডিবিএফ‑এর বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা‑কর্মচারীরা তার দুর্নীতি ও অনিয়মে অতিষ্ঠ।  পিডিবিএফের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানিয়েছেন, নিজামুল হক এক আত্মীয়ের প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন অভিযোগগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তিনি বদলি, পদায়ন এবং পদোন্নতির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা নিয়েছেন, কিন্তু এখনো বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হয়নি।   নিজামুল হকের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ:   পিডিবিএফ‑এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আত্মীয়ের প্রভাবে তিনি নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে অনিয়ম করছেন। প্রশাসনিক ক্ষমতা ও আর্থিক ক্ষেত্রেও অনিয়োমের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ সমস্ত বিষয়ে অনেক অভিযোগ নিজামুল হকের বিরুদ্ধে রয়েছে।  একাধিক লিখিত অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ে রয়েছে বলে কর্মকর্তারা জানান। কিন্তু তার আত্মীয় থাকার কারণে এই অভিযোগের কোন সুরাহা হয়নি এখন পর্যন্ত। এছাড়া  নিজামুল হকের বিরুদ্ধে - ১. দালালি, বদলি ও নিয়োগ‑সংক্রান্ত অভিযোগ পিডিবিএফ‑এর কর্মকর্তারা জানান যে, নিজামুল হক বিভিন্ন কর্মকর্তা ও  কর্মচারীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা নেয়ার মাধ্যমে বদলি, পদায়ন ও পদোন্নতির প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি  পিরোজপুর অঞ্চলের পিডিবিএফ কর্মচারী নাসিমা বেগম, রুমু‑দে, তুনু রানি বিশ্বাস, মন্নান হোসেন, নার্গিস আক্তার, জাহিদ হোসেন, মিলেশ নন্দী বরিশাল  অঞ্চলের সেলিনা বেগম, রিতা রানী, ইয়াকুব হোসেনসহ আরো ৩ জনের কাছ থেকে বদলীর জন্য লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এদের দাবি, বদলির নামে একদিকে টাকা নেওয়া হয়েছে, অন্যদিকে আশ্বস্ত করা হয়েছে দ্রুত বদলি বা পদোন্নতি প্রদান করা হবে। অথচ এখনো তাদের বদলী করা হয়নি।টাকাও ফেরৎ দেয়নি নিজামুল হক। ২. পুরাতন মালামাল বিক্রয় ও অর্থের অপব্যবহার অভিযোগে বলা হয়, পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের উপ পরিচালকের  অফিসে থাকা পুরাতন মালামাল নিয়ম মেনে বিক্রয়ের বদলে তা থেকে অর্জিত অর্থ ব্যক্তিগত ব্যবহারে ও অস্বচ্ছভাবে ব্যক্তিগতকরণ করা হয়েছে। কর্মচারীদের বক্তব্য, টাকা ব্যয় সংক্রান্ত ভাউচার দেখিয়ে তা অফিস খাতের ব্যয়ের মতো দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে।বিভিন্ন সময়ে পুরাতন মালামাল বিক্রি করে টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । অফিসের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কথা বলে মোটা অংকের ভাউচার দেখিয়ে সেগুলোকে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ৩. ঋণ ও সম্পত্তি বিরোধ এক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন যে ২০১৮‑১৯ অর্থবছরে সাতক্ষীরা কর্মরত অবস্থায় তার সহকর্মীর কাছ থেকে অফিসের মাধ্যমে নেয়া ঋণে নিজামুল হকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ক্রয় করা হয়। সেই টাকা এখনো পরিশোধ হয়নি, এবং ঋণ সংক্রান্ত দলিলপত্র ও ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব সম্পর্কেও প্রশ্ন উঠেছে। ৪. ব্যাঙ্ক লেনদেন ও সন্দেহজনক অর্থপ্রাপ্তি অভিযোগ অনুযায়ী, বানারীপাড়া সোনালী ব্যাংক হিসাব নম্বর ০৫০৭৮২০১০১৮৩০ থেকে চেক নং ৮৭৩১৪০৮‑এর মাধ্যমে ১,২০,০০০ টাকার বিনিময়ে বদলী করা হয়েছে।  যাদের দু’জনকে স্বরূপকাঠি ও গৌরনদীর উপজেলায় পদায়ন করেন বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেন। ৫. প্রশাসনিক ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য কর্মকর্তারা বলেন, উপ-পরিচালক কর্মকর্তাদের হয়রানি করেন এবং প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে  নিজের ব্যক্তিগত কাজে অফিস সময় ও সম্পদ ব্যবহার করেন। এসব আচরণের ফলে অফিসের কর্মপরিবেশে ‘ভয়ের পরিবেশ’ সৃষ্টি হয়েছে এবং কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। পিডিবিএফ পরিচালনা পর্ষদের কাছে প্রত্যাশিত পদক্ষেপ:  পিডিবিএফ‑এর বরিশাল অঞ্চলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দাবী: স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে  অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিরাপদ সাক্ষাৎকার গ্রহণ, সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক লেনদেন, হিসাব ও ভাউচার যাচাই‑বাছাই,  প্রশাসনিক শক্তির অপব্যবহার ও অনিয়মের দায়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ। তারা মনে করেন, প্রমাণ‑ভিত্তিক তদন্ত হলে “যে কেউ হোক, যদি দোষী প্রমাণিত হন, তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত”।   উপ-পরিচালক নিজামুল হকের প্রতিক্রিয়া এ ব্যাপারে নিজামুল হক অভিযোগগুলো  অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি সব নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালন করি। এই অভিযোগগুলো ভুল তথ্যভিত্তিক ও অসত্য” তবে তিনি কোনো প্রমাণ তুলে ধরতে পারেননি। কর্মকর্তারা বলেন, “ভয়ের পরিবেশের কারণে কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে সাহস পাচ্ছেন না। স্বতন্ত্র তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে প্রমাণভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।” পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন দেশের সবচেয়ে বড় গ্রামীণ উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। এর অভ্যন্তরীণ স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ব্যাহত হলে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হয় এবং উন্নয়ন কর্মসূচিগুলো প্রভাবিত হয়। তাই নিজামুল হকের বিরুদ্ধে  অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা দরকার বলে মনে করেন পিডিবিএফ বরিশাল অঞ্চলের সাধারন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় জিম্মি
ইতালিতে কাজের প্রলোভন: লিবিয়ায় বন্দি বাংলাদেশি যুবকরা, নির্যাতন ও মুক্তিপণের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :   ইতালিতে কাজের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুবকদের লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি দালাল চক্রের বিরুদ্ধে। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার কয়েকজন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার বলছে, লাখ লাখ টাকা খরচ করেও তারা ইউরোপে পৌঁছাতে পারেননি; বরং মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে লিবিয়ায়।  যেভাবে শুরু হয় যাত্রা ভুক্তভোগীদের একজন মেহেদী হাসান খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইতালিতে বৈধভাবে কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাসে স্থানীয় এক দালাল চক্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরিবারের দাবি, জমি বিক্রি, ঋণ ও ধারদেনা করে প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ টাকা জোগাড় করে দালালদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রথমে নগদ অর্থ এবং পরে ব্যাংকের মাধ্যমে কিস্তিতে টাকা দেওয়া হয়।  ইতালির বদলে লিবিয়া মেহেদী হাসান জানান, তাকে প্রথমে সৌদি আরব নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে মিসর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাদের অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে খাবার কম দেওয়া, শারীরিক নির্যাতন এবং মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হতো। এক পর্যায়ে তাকে লিবিয়ার পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে বেনগাজির একটি কারাগারে পাঠানো হয়, যেখানে তিনি প্রায় দেড় মাস আটক ছিলেন।  ভিডিও কলে মুক্তিপণের দাবি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ভিডিও কলে যোগাযোগ করিয়ে তার করুণ অবস্থা দেখানো হতো বলে জানান মেহেদী। তার পরিবারের কাছ থেকে অতিরিক্ত আট লাখ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধ করার পর তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন। আরও অনেকের একই পরিণতি স্থানীয় সূত্র বলছে, আগৈলঝাড়া উপজেলার অন্তত পাঁচজনসহ বিভিন্ন জেলার মোট ১০৮ জন যুবক একইভাবে দালালদের মাধ্যমে ইতালিতে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অনেকেই এখনও লিবিয়ায় আটকা রয়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।  মামলা ও তদন্ত এ ঘটনায় মেহেদী হাসান খান বাদী হয়ে বরিশালের মানবপাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে আদালতের নির্দেশে আগৈলঝাড়া থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
চরমোনাই মাহফিলে আসিফ মাহমুদ
চরমোনাই মাহফিলে আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে এনসিপি নেতাদের অংশগ্রহণ

বরিশাল অফিস :   বরিশালের চরমোনাই দরবারে অনুষ্ঠিত মাহফিলে অংশ নিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার সকালে পৌঁছেছে। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। চরমোনাই পৌঁছে ফজর নামাজের পর তারা চরমোনাই পীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম-এর বয়ানে অংশ নেন। বয়ান শেষে একটি সংক্ষিপ্ত ঘরোয়া মতবিনিময় সভায়ও অংশ নেন এনসিপি নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলমসহ উভয় সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশীদসহ অন্যান্য নেতারা। চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ জানিয়েছেন, এনসিপি নেতারা সারাদিন চরমোনাইতে অবস্থান করবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
কীর্তনখোলা ১০ লঞ্চ
চরমোনাইয়ে কীর্তনখোলা -১০ লঞ্চের কেবিনে আগুন

বরিশাল অফিস :   বরিশালে কীর্তনখোলা নদীতে নোঙর করে রাখা একটি বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। বুধবার (১ এপ্রিল) রাত আটটার দিকে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই সংলগ্ন এলাকায় নোঙর করা এমভি কীর্তনখোলা-১০ লঞ্চের তৃতীয় তলার একটি কেবিনে আগুন লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লঞ্চটির ৩২৫ নম্বর কেবিন থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্টাফরা দ্রুত সেখানে পৌঁছান। কেবিনটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় তারা জানালার গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং পানি দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। লঞ্চ কর্তৃপক্ষ বলছে, অগ্নিকাণ্ডে কেবিনের ভেতরের আসবাবপত্র, বিছানা, বালিশ, ফ্যান এবং যাত্রীদের কিছু মালামাল পুড়ে গেছে। তবে আশপাশের কেবিনগুলো অক্ষত রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট অথবা মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। লঞ্চটির ব্যবস্থাপক বেল্লাল হোসেন বলেন, “ঘটনার সময় কেবিনে কেউ ছিলেন না। স্টাফরা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়ানো গেছে।” তিনি আরও জানান, লঞ্চটি ঢাকা থেকে চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে আসা মুসল্লিদের বহন করে বরিশালে পৌঁছেছিল এবং মাহফিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত নদীতেই নোঙর করে রাখা হয়েছিল। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের আশঙ্কা ছিল বলেও জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
বরিশালে বাড়ছে হাম
বরিশাল বিভাগে হামের প্রকোপ, ৮ শিশুর মৃত্যু

বরিশাল :  বিভাগের ৬ জেলায় শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৫২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বিভাগীয় তথ্য অনুযায়ী, বরগুনায় তিন, ঝালকাঠি ও ভোলায় দুইজন করে, এবং বরিশালে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৭ শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বরগুনায় উপসর্গ নিয়ে ৮০ শিশু ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে হাম পজিটিভ হয়েছেন ২২ জন এবং রুবেলা পজিটিভ এক শিশু। পটুয়াখালীতে ভর্তি ৩১ শিশুর মধ্যে দুইজনের হাম ধরা পড়েছে। বরিশালের বিভিন্ন হাসপাতালে ২৯ শিশু ভর্তি, যাদের মধ্যে ৮ জন হাম পজিটিভ এবং এক শিশুর অবস্থা মুমূর্ষু। নগরীতে আক্রান্ত শিশু ১৬, পরীক্ষা করিয়েছে ১৩ জন। হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে মার্চে ২০৬ শিশু ভর্তি হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৭৯ জনের পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং ৫২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বিষয়টিকে উদ্বেগজনক আখ্যায়িত করে বলেছেন, “শিশুদের এমনভাবে হামে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আগে দেখা যায়নি। বরগুনা ও পটুয়াখালীতে প্রকোপ বেশি। আক্রান্ত শিশুদের আইসোলেশনে রেখে চিকিৎসা দিতে হবে।” তিনি আরও বলেন, টিকাদানের ঘাটতি এ পরিস্থিতির মূল কারণ হতে পারে। শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রতি সাত মাস বয়সী শিশু সাফওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর জানান, এক থেকে পাঁচ বছরের শিশুরা মূলত আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ও আইসোলেশন ওয়ার্ডে ১০০-এর বেশি শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ডা. বিকাশ চন্দ্র নাগ জানিয়েছেন, সাধারণত ৯ মাসের পর থেকে হামের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমানে তার কম বয়সের শিশুরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। টিকা কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ
বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল :  বরিশাল প্রধান ডাকঘরের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহারসহ একাধিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগ স্থানীয় কর্মচারী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে রয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি বিগত সরকারের সময় তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক-এর প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, রেস্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ না করা এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের বিষয়ও সামনে এসেছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ সুবিধা প্রদান, ঘুষের বিনিময়ে বদলি বাণিজ্য, তদন্তের নামে অর্থ আদায় এবং অধীনস্ত কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের মতো ঘটনাও ঘটেছে তার মাধ্যমে। কর্মচারীদের একটি অংশ দাবি করেন, নিয়মিত ছুটি ছাড়াই তিনি নিজ জেলা ঝিনাইদহে যাতায়াত করতেন, যা সরকারি বিধি লঙ্ঘনের শামিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তিনি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত রেষ্টহাউজের ভাড়া পরিশোধ করেননি।নির্ধারিত বাসা থাকলেও তিনি সেখানে না থেকে রেষ্ট হাউজে বিনা ভাড়ায় বিদ্যুৎ,পানি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা গ্রহন করেছেন। ব্যাংক এশিয়া পোষ্ট অফিসে নিষিদ্ধ থাকলেও তিনি নিয়মিত বাজার ও অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে পোষ্ট অফিসের অভ্যান্তরে বসে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে "প" অদ্যক্ষরের এক নারীকে কু প্রস্তাব দেয়ার কারনে তিনি পোষ্ট অফিস ত্যাগ করেছেন। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ-এর বিরুদ্ধে বাজেটের টাকা থেকে বিদ্যুৎ বিল,ও বাজার করার অভিযোগও রয়েছে। ভুয়া ভাউচার দিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাত, কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরনে সকলেই অতিষ্ঠ। আব্দুর রশিদ-এর সাফ কথা আমাকে তেল দিয়ে চলতে হবে।আমার কথাই আদেশ। সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল আব্দুর রশিদ পোষ্ট অফিসকে বানিয়েছেন ঘুষের আখড়া। তার কাছে ঘুষই প্রধান।তিনি একই লোককে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করছেন। যে সেভিংস বিভাগে আত্মসাৎ সেখানেই নুরুল কবির ও তানজিম হোসেনকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বদলী করা হয়েছে। অফিসের মধ্যে তিনি নুরুজ্জামান ও মশিউর রহমানকে নিজের লোক বনিয়েছেন, ফলে তাদের কোন বদলী নাই।  কিছু কর্মচারীর দাবি, বাজেটের অর্থ থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ব্যক্তিগত খরচ মেটানো, ভুয়া ভাউচার ব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন তদন্তের মাধ্যমে হয়রানি করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে  আব্দুর রশিদের বিরুদ্ধে।  এসব অভিযোগের বিষয়ে আব্দুর রশিদ-এর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক
বরিশাল ও দক্ষিণাঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক, ট্যাগ অফিসারদের তদারকি অব্যাহত

বরিশাল: বরিশালসহ সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলে ৫টি তেল ডিপোতে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের সরবরাহ প্রায় স্বাভাবিক রয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে একজন করে প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তাকে ট্যাগ অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বরিশালের ২৯টি পেট্রোল পাম্পে এই কর্মকর্তারা সরেজমিনে জ্বালানির মজুত, বিক্রি ও বিপণন ব্যবস্থা তদারক করছেন। তাদের কার্যক্রম তদারকি করছেন সংশ্লিষ্ট ইউএনও এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা। ভ্রাম্যমাণ আদালতও ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সুমন জানিয়েছেন, এলাকায় জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই। তিনি বলেন, “ঈদের আগে বাড়তি যাত্রী পরিবহনের কারণে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে, তবে পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক।  কিছু মোটরবাইকের অতিরিক্ত জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতায় প্যানিক তৈরি হলেও, কর্মকর্তারা বলছেন, কাগজপত্র, লাইসেন্স ও হেলমেট থাকলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। জেলা প্রশাসকও এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাই জানিয়েছেন। বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো কৃষি সেচে ডিজেল সরবরাহ। দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধানের সেচে ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্পের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারই ডিজেল চালিত। প্রতিদিন প্রায় ৫ লক্ষ লিটার ডিজেল প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত সেচে বড় ধরনের জ্বালানি সংকট দেখা দেয়নি। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার জানিয়েছেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি মনিটর করছে। কৃষি মন্ত্রণালয় আশাবাদী, চলতি রবি মৌসুমে ৪ লাখ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ১৮ লাখ টন বোরো ধান উৎপাদন সম্ভব। জেলা প্রশাসক ২৮ মার্চ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে সরকারি কর্মকর্তাদের ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব প্রদান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও ইউএনওদের মনিটরিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। বরিশাল মহানগরী ও সদর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ফিলিং স্টেশনগুলোতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা ও খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা দায়িত্ব পালন করবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ট্যাগ অফিসাররা পাম্পে নিয়মিত তদারকি করবেন এবং কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিতে বাধ্য থাকলেও প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
বরিশালে বাড়ছে হাম
বরিশালে হামে আক্রান্ত শিশু ২০৬, মৃত্যুর সংখ্যা ৭

বরিশাল: চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের মধ্যে বরিশাল বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে সাত শিশুর। একই সময়ে ২০৬ শিশুর দেহে অত্যন্ত সংক্রামক হামের ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে বিভাগের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৭৭ শিশু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল জানিয়েছেন, হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনা সম্প্রতি ঘটেছে। বরিশাল বিভাগের ভোলা জেলায় টিকার সংকট থাকলেও অন্য পাঁচ জেলায় পর্যাপ্ত হামের টিকা মজুদ রয়েছে। শেরেবাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, এই তিন মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৩০ শিশু। শুধু মার্চ মাসেই আক্রান্ত হয়েছে ৮৯ শিশু। সোমবার দুপুরে হাসপাতালে ৩৪ জন হামে আক্রান্ত শিশু চিকিৎসাধীন ছিলেন। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশালের বানারীপাড়ার ওমর নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া সোমবার সকালে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। শেবাচিমের দায়িত্বরত নার্স তাৎক্ষণিকভাবে তার নাম-ঠিকানা জানাতে পারেননি। বরিশাল সদর উপজেলার কর্ণকাঠি এলাকার রহিমা তালুকদার জানান, তার ৯ মাস বয়সী কন্যাশিশুকে সাত দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে জ্বর মনে হলেও পরে চিকিৎসকরা হামের রোগ শনাক্ত করেন। এরপরই অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা হয়। শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শিশুদের হামের টিকা সাধারণত ৯ মাস বয়সে দেওয়া হয়। তবে বর্তমানে ৭ মাস বয়সের শিশুদেরও আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালের টিকা পর্যাপ্ত রয়েছে এবং ওয়ার্ডে বেড সংকটও সমাধান করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক। হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে দ্রুত ছড়ায় এবং রোগীর সঙ্গে একই ঘরে থাকলেও সংক্রমণ হতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের নিরাপদ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি  যেকোনো বয়সে হামের সংক্রমণের সম্ভাবনা রয়েছে এবং সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)
শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর সম্পদ রয়েছে বরিশালেও

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ওরফে লিকু গাজির উত্থান ও দুর্নীতির চিত্র একটি রূপকথার গল্পের মতো, যেখানে ক্ষমতার অপব্যবহার করে মাত্র কয়েক বছরে গড়ে তোলা হয়েছে বিপুল সম্পদের পাহাড়।  টেকনাফ  থেকে তেতুলিয়া,ঢাকা থেকে বরিশাল। কাশিয়ানী  থেকে  কুয়াকাটা । খুলনা থেকে সিলেট।সকল স্থানেই রয়েছে লিকু গাজির সম্পদ। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগের পর পিছু তাকাতে হয়নি। ছিলেন বিআরটিসির নিয়ন্ত্রকও।শেখ সেলিমের আশির্বাদে পেয়ে যান আলাদিনের চেরাগ।যখন তখন বিআরটিসির চেয়ারম্যানকে বাসায় তলব করতেন।ঢাকা-বরিশাল -ঢাকা  বিআরটিসির চলাচলরত বাসের আয় নিয়ে যেতেন নিয়মিত। বরিশাল বিআরটিসি ডিপোতে রেখেছিলেন আপন চাচাতো ভাইর পুত্র টিটু গাজি নামে একজন প্রতিনিধি।যেখানেই টাকা সেখানেই গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর হাত।বরিশালের রুপাতলীতে গড়ে তুলেন এক বিশাল সাম্রাজ্য।এক একরের ওপরে ক্রয় করেন জমি ।নির্মান করেন ডুপ্লেক্স বাড়ি। এখানে যখন আসতেন তখন সাথে থাকতো বিশাল গাড়ি বহর।রাতভর চলতো নারীদের নৃত্য। মদের এক মিনিবারও গড়ে তুলেছিলেন এখানে। লিকু গাজি ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর পালিয়ে গেছেন।সেই সাথে থেমে গেছে বরিশালের বাড়িরও  কোলাহল। বাড়িটি এখন নিরব নিস্তব্ধ। চারদিকে দেয়াল দিয়ে ঘেরা বাড়িটির সন্ধান জানেনা দুদকসহ অনেকেই।বিভিন্ন স্থানে লিকু গাজির সহায় সম্পদ বাজেয়াপ্ত হলেও বরিশালের জমি ও বাড়ি বাজেয়াপ্ত হয়নি এখনো।                                                                                             লিকু ও স্ত্রী রহিমা আক্তার লিকুর হাজার কোটি টাকার সম্পদ: সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)। ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তারপর থেকেই আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপ হাতে পান। পরবর্তীতে তিনি এপিএস হিসাবে পদোন্নতি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে কমিশন বাণিজ্য এবং প্রভাব খাটিয়ে অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন গাজী হাফিজুর রহমান (লিকু)। মূল বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে শুরু। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু নিজের নামে নয়; স্ত্রী, শ্যালক ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিঘার পর বিঘা জমি এবং ডজনখানেক বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সরকার পরিবর্তনের পর যেগুলোর সন্ধান মিলছে। মূল বেতন পাঁচ হাজার ১০০ টাকা দিয়ে শুরু। এরপর দুর্নীতি ও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে প্রায় হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। শুধু নিজের নামে নয়; স্ত্রী, শ্যালক ও আত্মীয়-স্বজনের নামে বিঘার পর বিঘা জমি এবং ডজনখানেক বাড়ি নির্মাণ করেছেন।নিজেকে আড়ালে রাখতে সব ধরনের ছলনার আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। দালিলিকভাবে নিজ নামে সম্পদ কম দেখিয়ে বেনামে গড়ে তুলেছেন অধিকাংশ অবৈধ সম্পদ। এ ছাড়া ভিয়েতনামে শত কোটি টাকা পাচার করেছেন, শ্যালককে সেই দেশের ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বর্তমানে পালিয়ে শালা-দুলাভাই দেশটিতে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) গোয়েন্দা অনুসন্ধানেও তার বিরুদ্ধে কয়েক-শ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের দালিলিক প্রমাণ মিলেছে। বাস্তবে যার মূল্য প্রায় হাজার কোটি টাকা। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে সংস্থাটি। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-২ গাজী হাফিজুর রহমান লিকু ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গোয়েন্দা অনুসন্ধানে তার নিজ ও আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে বিপুল সম্পদের প্রমাণ পাওয়ায় কমিশন থেকে প্রকাশ্যে অনুসন্ধানের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আয়কর ফাইলে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০ টাকা, নিট আয় নয় লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং নিট সম্পদ এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬০ লাখ ২১ হাজার ২৮৮ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ২৫ জুন স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মেটলাইফ এলিকোতে ২৮ লাখ টাকার পলিসির সন্ধান পেয়েছে দুদক লিকু প্রথম আয়কর প্রদান করেন ২০০৯-২০১০ করবর্ষে। তার আয়কর ফাইলে সর্বশেষ ২০২৩-২৪ করবর্ষে মূল বেতন ৬৭ হাজার ১০ টাকা, নিট আয় নয় লাখ পাঁচ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং নিট সম্পদ এক কোটি চার লাখ ৮৭ হাজার টাকা দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নের বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ৬০ লাখ ২১ হাজার ২৮৮ টাকার সন্ধান পাওয়া গেছে। যার মধ্যে ২০২৩ সালের ২৫ জুন স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে ৫০ লাখ টাকা স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া মেটলাইফ এলিকোতে ২৮ লাখ টাকার পলিসির সন্ধান পেয়েছে দুদক। লিকুর স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী থানাধীন রামদিয়াতে ‘মেসার্স রাফি অ্যাগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ’ নামের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার জমির পরিমাণ ৪৭১ শতাংশ এবং দালিলিক মূল্য প্রায় দুই কোটি টাকা রাজধানী ঢাকা শহরের মোহাম্মদপুর থানাধীন বসিলায় ‘মধু সিটিতে’ এক বিঘা জমির ওপর ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। যার মূল্য কোটি টাকা। এ ছাড়া ঢাকার আদাবরের ৬ নম্বর রোডের ৫৮৩ নম্বর বাড়ির এ-৬ ফ্ল্যাটটি তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে। ওই বাড়ির মালিক নজরুল ইসলাম রহিমা আক্তারের বন্ধু বলে জানা গেছে। ২৫ মিতালী রোড, আনোয়ার ল্যান্ডমার্ক, ধানমন্ডি, ঢাকায় লিকুর বেনামে আরও একটি ফ্ল্যাটের সন্ধান মিলেছে। স্ত্রী ও অন্যদের নামে অর্ধডজন প্রাইভেট গাড়ি ও মাইক্রোবাসের খোঁজ পাওয়া গেছে। খুলনা-ঢাকা-সাতক্ষীরা-গোপালগঞ্জ রুটে ‘ওয়েলকাম এক্সপ্রেস’ নামে ৪২টি যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল করছে। এর মধ্যে সাতটি গাড়ি তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। গাড়িগুলো টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কালু ও তার যৌথ মালিকানায় পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ির মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা মহানগরে ওয়েলকাম বাস সার্ভিসেও তার শেয়ার রয়েছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে (বেনামে) ১০তলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। যা ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে পরিচিত। জানা যায়, হালিম মোল্লা তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে এটি গড়েছেন অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানাধীন কুশলা ইউনিয়নসহ গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন কাজুলিয়া গ্রামে ৪০০ বিঘা জমিতে মৎস্যঘের রয়েছে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানাধীন থানাপাড়া রোডে পৈত্রিক জমিতে পাঁচতলা ভবন নির্মাণ করেছেন। যার মূল্য দুই কোটি টাকা। জানা যায়, লিকুর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লা। তিনি গার্মেন্টস ব্যবসার আড়ালে মূলত হুন্ডি ব্যবসা করতেন। হুন্ডির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা তিনি বিদেশে পাচার করেছেন। তিনি ভিয়েতনামে বসবাস করেন। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর সব অবৈধ অর্থ বৈধ করার কাজে তিনি সহযোগিতা করেন। দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বিষয়টি বেরিয়ে এসেছে। নিজ বাড়ির পাশে থানাপাড়া রোডে অনির্বাণ স্কুলের দক্ষিণ পাশে ছয়তলা ভবন নির্মাণ করেছেন লিকু। সেখানে তার শ্বশুর-শাশুড়ি বসবাস করছেন। গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নিলের মাঠের পাশে ১৩ শতাংশ জমির ওপর শ্যালক শেখ মো. ইকরাম ওরফে হালিম মোল্লার নামে (বেনামে) ১০তলা কমার্শিয়াল ও আবাসিক ভবন নির্মাণ করেছেন। যা ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ নামে পরিচিত। জানা যায়, হালিম মোল্লা তার স্ত্রী স্বর্ণা খানমের নামে এটি গড়েছেন। লিকুর সেজ ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ‘ওশান ব্লু’ নামের রিসোর্ট রয়েছে। এটি মূলত গড়েছেন লিকু। সেখানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লিকুর সেজ ভাই গাজী মুস্তাফিজুর রহমান দিপুর নামে পটুয়াখালীর কুয়াকাটার লাইট হাউজের পাশে ‘ওশান ব্লু’ নামের রিসোর্ট রয়েছে। এটি মূলত গড়েছেন লিকু। সেখানে সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানেরও শেয়ার রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর গোবরা নামক স্থানে লিকুর শ্যালক হালিম মোল্লার শ্যালক রিপন ফকিরের নামে ১৫ শতক জমিতে আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ির সন্ধান মিলেছে। একই ওয়ার্ডে হালিম মোল্লার অপর শ্যালক মিল্টন ফকিরের নামে তিনতলা বাড়ি এবং ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাকুড় নামক স্থানে নিলের মাঠের পাশে ১০ শতাংশ জায়গায় একতলা বাড়ির সন্ধান পাওয়া গেছে। লিকুর আপন ছোট ভাই গাজী শফিকুর রহমান ছোটনের নামে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ২২ শতাংশ জমি, ১০ নম্বর ওয়ার্ডে শ্যালকের নামে সোয়া কোটি টাকার সাত কাঠা জমি, গোপালগঞ্জের বেদগ্রাম মোড়ে স্ত্রী রহিমা বেগমের নামে ৮ শতাংশ ও ১০ শতাংশ বসতভিটা, গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে ১৫ বিঘা জমি, ভায়রাভাই ওমর আলীর নামে পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডে চারতলা বাড়ি ক্রয় করেছেন বলে দুদকের গোয়েন্দা অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে। লিকু গাজির বরিশালের বাড়ি                                                                                                                 ছবি - ইত্তেহাদ নিউজ   লিকু গাজির অনিয়ম ও দুর্নীতির বিবরণ: ১. শূন্য থেকে শতকোটিপতি ২০০৯ সালে মাত্র ৫,১০০ টাকা মূল বেতনের অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিলেন লিকু। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২  হওয়ার পর তার সম্পদ অবিশ্বাস্য গতিতে বাড়তে থাকে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। ২. ব্যাংকিং লেনদেন ও অর্থ পাচার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে তার এবং তার সহযোগীদের ব্যাংক হিসেবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। লিকু ও তার সংশ্লিষ্টদের নামে পরিচালিত ৩৩টি ব্যাংক হিসেবে প্রায় ১৪৪.৫৯ কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। দুদক তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচার এবং অবৈধভাবে সম্পদ রূপান্তরের অভিযোগে পৃথক চারটি মামলা করেছে। ৩. বেনামী সম্পদের পাহাড় নিজের পরিচয় আড়াল করতে লিকু অধিকাংশ সম্পদ তার স্ত্রী, ভাই এবং আত্মীয়-স্বজনের নামে করেছেন: স্ত্রীর নামে সম্পদ: তার স্ত্রী রহিমা আক্তারের নামে প্রায় ২৩.২৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। রিসোর্ট ও মৎস্য ঘের: কুয়াকাটায় 'ওশান ব্লু' নামক রিসোর্ট এবং গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে 'মেসার্স রফি এগ্রো অ্যান্ড ফিশারিজ'-এর নামে কয়েকশ বিঘা জমিতে মৎস্য ঘের গড়ে তুলেছেন। স্থাপনা: ঢাকার উত্তরা ও মোহাম্মদপুরে একাধিক ফ্ল্যাট এবং প্লট ছাড়াও গোপালগঞ্জে ১০ তলা বাণিজ্যিক ভবন ও বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে তার ও তার স্বজনদের নামে। ৪. আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা মামলা: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দুদক লিকু, তার স্ত্রী এবং স্বজনসহ মোট ১৫ জনের বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের করে। সম্পদ জব্দ: ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আদালতের নির্দেশে তার উত্তরায় অবস্থিত ৩ কাঠার প্লট, গোপালগঞ্জের জমি এবং ব্যাংক হিসাব, ক্রেডিট কার্ড ও সঞ্চয়পত্র জব্দ করা হয়। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: দুর্নীতির অনুসন্ধান চলাকালীন লিকু ও তার স্ত্রীর ওপর আদালত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ বাণিজ্য, কমিশন গ্রহণ এবং প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমেই লিকু এই বিশাল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন বলে দুদকের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। কে এই লিকু গাজি গাজী হাফিজুর রহমান লিকু সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২  ছিলেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায় এবং তিনি সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।  রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: তিনি গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ভিপি এবং পরবর্তীতে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।২০১৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-২ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় এই পদে তার নিয়োগ নবায়ন করা হয়েছিল। পদচ্যুতি: ২০২৪ সালের ২৯ মে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব-২ পদ থেকে তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়, যা ১ জুন ২০২৪ থেকে কার্যকর হয়। জন্ম ও আদি নিবাস: তিনি গোপালগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামে  জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম গাজী শুকুর আহম্মেদ। স্ত্রীর নাম রহিমা আক্তার (হকি)।     

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
আলাউদ্দিন আলো
বরিশালে ডিসির নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলোকে ঘিরে তোলপাড়

বরিশাল অফিস :   বরিশালে মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের নাম ভাঙিয়ে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ও ট্যাংক লরি মালিক সমিতির কথিত সভাপতি আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে। সম্প্রতি একটি ফাঁস হওয়া ফোনালাপের অডিও রেকর্ড ঘিরে শহরজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ফাঁস হওয়া ওই কল রেকর্ডে শোনা যায়, আলাউদ্দিন আলো পেট্রোল পাম্প মালিকদের প্রতি স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে প্রতি পাম্প থেকে ৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, এই অর্থ জেলা প্রশাসকের জন্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে প্রতিদিন পাম্পে অভিযান পরিচালনার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেকেই বিষয়টিকে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে সংঘটিত সুসংগঠিত চাঁদাবাজি হিসেবে দেখছেন। এদিকে আলাউদ্দিন আলোর বিরুদ্ধে বিতর্ক নতুন নয়। সম্প্রতি এক নারীর সঙ্গে তার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এছাড়া সাবেক মেয়র খোকন সেরনিয়াবাতের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে বিনা ভোটে ট্যাংক লরি মালিক সমিতির সভাপতির পদ দখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার ছাড়াই তেল সরবরাহ, সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামালের সময়ের বিতর্কিত তেল বিল পরবর্তীতে অবৈধভাবে উত্তোলন, বিআইডব্লিউটিএ কাঁচাবাজার নামমাত্র মূল্যে টেন্ডার গ্রহণ এবং স্টিমারঘাট মসজিদের সভাপতির পদ দখলসহ নানা অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঘুরপাক খাচ্ছে। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।  এতসব গুরুতর অভিযোগের পরও জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
আরিফুল ইসলাম
বরিশালে এলপিবিএল ভুয়া কোম্পানি : কোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়েছে প্রতারক আরিফুল ইসলাম

বরিশাল অফিস :   বরিশালে প্রতারণার অভিযোগে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে মুহা. আরিফুল ইসলাম। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি নিজেকে কখনো এলজিইডির অডিট কর্মকর্তা, কখনো এনএসআই কর্মকর্তা আবার কখনো বড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে কৌশলে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পলাতক রয়েছেন। আরিফুল ইসলামের বাড়ি বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম নলুয়া গ্রামে।তার পিতার নাম গোলাম রাজ্জাক। প্রতারণার মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘটনা ঘটেছে বরিশাল সিএন্ডবি রোডের বৈদ্যপাড়ার সজনী ভিলায়। সেখানে তিনি বিশাল অফিস ভাড়া নিয়ে এলপিবিএল  নামে একটি ডেভলপার কোম্পানির সাইনবোর্ড লাগিয়ে ভুয়া চুক্তি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।  আরিফুল ইসলাম বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দাবী করে চাকরির নাম করে তিনজনের কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা নেন। অফিস পরিচালনার নামে তিনি ৮ জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে তাদের তিন মাসের বেতন না দিয়ে অফিস তালা মেরে পালিয়ে যান। তার অফিসের ভাড়া বাবদ এক লাখ টাকা বাকি আছে বাড়িওয়ালার । এছাড়া, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলার ওয়ারেন্ট জারি রয়েছে। বিভিন্ন প্রতারণার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে।  জানা গেছে, তার স্ত্রী সালমা বেগম, বাবা মাওলানা গোলাম রাজ্জাক (ওরফে গোলাম রাজা) এবং ভাই মহিবুল্লাহ এই প্রতারণার সাথে জড়িত ছিলেন। স্থানীয়রা সতর্ক করেছেন, কেউ যেন আরিফুল ইসলামকে ব্যবসা বা চাকরির জন্য অর্থ প্রদান না করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
বরিশালের তিন ‘নীরব এলাকা’ এখনও কাগজে-কলমে, বাস্তবায়নে নেই অগ্রগতি

বরিশাল : বরিশাল নগরীর শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং বরিশাল আইন মহাবিদ্যালয় এলাকাকে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ‘২০২১ সালে নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন আজও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় এসব এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। প্রচারণায় স্থানীয় জনগণকে শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। শব্দদূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তুলে ধরা হয়, যেখানে বলা হয়—এটি মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, অনিদ্রা, স্মৃতিশক্তি হ্রাসসহ বিভিন্ন জটিলতার কারণ হতে পারে। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সরেজমিনে দেখা গেছে, ঘোষিত নীরব এলাকাগুলোতে যানবাহনের হর্ন বাজানো, উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার এবং অন্যান্য শব্দদূষণ কার্যক্রম আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল এলাকার মতো সংবেদনশীল স্থানে রোগী ও তাদের স্বজনদের জন্য নিরিবিলি পরিবেশ নিশ্চিত করার যে লক্ষ্য ছিল, তা এখনও অর্জিত হয়নি। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য প্রচারণা চালানো হলেও পরবর্তী ধাপে কঠোর আইন প্রয়োগের কথা থাকলেও তা দৃশ্যমান হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণের অভাব এবং নিয়মিত তদারকির ঘাটতির কারণে উদ্যোগটি অনেকাংশেই থমকে আছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছিল, বিধিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে এবং পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু বাস্তবে এই আইন প্রয়োগের নজির খুবই সীমিত। সচেতন মহলের মতে, শুধুমাত্র প্রচারণা নয়, কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং, আইন প্রয়োগে কঠোরতা এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ। অন্যথায় ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণার এই উদ্যোগ কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। বরিশালের গুরুত্বপূর্ণ তিনটি স্থানে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ হলেও দীর্ঘদিনেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন না হওয়া উদ্বেগজনক। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

মন্ত্রী আফরোজা খানম

মায়ের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সবুজের সমারোহ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে ৯ হাজার হেক্টরে বোরো চাষ, সবুজে ছেয়ে গেছে কৃষি মাঠ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0