Brand logo light
বাংলাদেশ

৫০ কোটি থেকে ৫০৪ কোটি: আশুলিয়ায় জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্পে গবেষণার চেয়ে ভবন নির্মাণেই জোর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
৫০০ কোটির ভবনবিলাস
৫০০ কোটির ভবনবিলাস

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সাভারের আশুলিয়ার গণকবাড়ী এলাকায় ঢুকতেই দূর থেকে চোখে পড়ে সারি সারি ঝকঝকে সুউচ্চ ভবন। কাচঘেরা আধুনিক স্থাপনা, প্রশস্ত রাস্তা, গোলাকার লাইটপোস্ট, সাজানো বাগান আর আকাশছোঁয়া আবাসিক টাওয়ার—সব মিলিয়ে জায়গাটি যেন কোনো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি নগরী বা বিদেশি গবেষণা কমপ্লেক্সের অংশ।

কিন্তু মূল ফটক পেরিয়ে ভেতরে ঢুকতেই দৃশ্যপট বদলে যায়।

বিশাল সব ভবন দাঁড়িয়ে আছে, অথচ নেই মানুষের আনাগোনা। আধুনিক আবাসিক টাওয়ার আছে, কিন্তু সেখানে বসবাসের কেউ নেই। কোটি কোটি টাকার লিফট, ডরমিটরি, কোয়ার্টার ও অফিস ভবন যেন ব্যবহারের অপেক্ষায় নিস্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও জিন গবেষণার নামে নির্মিত জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্প এখন প্রশ্নের মুখে—এটি কি সত্যিই গবেষণা অবকাঠামো, নাকি “ভবন নির্মাণকেন্দ্রিক” একটি প্রকল্প?

ছোট প্রকল্প থেকে ‘মেগা অবকাঠামো’

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি (এনআইবি) ২০১৮ সালে “জাতীয় জিন ব্যাংক” প্রকল্প হাতে নেয়।

মূল উদ্দেশ্য ছিল উদ্ভিদ, প্রাণী, অণুজীব ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের জিন সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও গবেষণা। দেশের জিনগত সম্পদ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করাই ছিল এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে প্রকল্পটি ছিল তুলনামূলক ছোট পরিসরের। প্রায় ৫০ কোটি টাকার মধ্যে একটি কার্যকর জিন ব্যাংক স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল।

কিন্তু সময়ের সঙ্গে প্রকল্পে একের পর এক অবকাঠামো যুক্ত হতে থাকে।

ল্যাব ভবনের সঙ্গে যোগ হয় কর্মকর্তাদের আবাসিক টাওয়ার, স্টাফ কোয়ার্টার, ভিআইপি ডরমিটরি, পরিচালক বাংলো, সাবস্টেশন ও অন্যান্য স্থাপনা। শেষ পর্যন্ত প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৫০৪ কোটি টাকায়।

প্রশ্ন উঠেছে—একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য এত বিপুল আবাসিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনার প্রয়োজনীয়তা কতটা ছিল?

গবেষণার চেয়ে বেশি ‘রিয়েল এস্টেট’?

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এনআইবির মূল ভবনের পেছনে দাঁড়িয়ে আছে ১২ তলা জাতীয় জিন ব্যাংক ও ল্যাব ভবন। চকচকে দেয়ালে বড় অক্ষরে লেখা—“জাতীয় জিন ব্যাংক”।

ভবনের সামনে ছোট ছোট ঝাউগাছ ও পামগাছ দিয়ে সাজানো বাগান। দূর থেকে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাকেন্দ্র বলেই মনে হয়।

কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন।

ল্যাব ভবনের পাশেই রয়েছে কর্মকর্তাদের জন্য ১৪ তলা ও ১০ তলা আবাসিক ভবন। কিছুটা দূরে ২০ তলা ও ১০ তলার বিশাল স্টাফ কোয়ার্টার। আরো রয়েছে ১০ তলা ভিআইপি ডরমিটরি এবং আলাদা পরিচালক বাংলো।

তবে এসব ভবনের বড় অংশই এখনো কার্যত জনমানবশূন্য।

বারান্দাগুলো ফাঁকা, করিডরে নেই মানুষের শব্দ, আবাসিক ভবনের সামনে নেই কোনো দৈনন্দিন জীবনের চিহ্ন। স্থানীয়দের কেউ কেউ কটাক্ষ করে বলছেন, “জিন ব্যাংকের নামে আসলে জ্বিনের আবাসস্থল বানানো হয়েছে।”

ভবন আছে, নেই জনবল

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্পের অবকাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের জুনে। কিন্তু এখনো পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হয়নি।

মূল কারণ—প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব।

ডিপিপি অনুযায়ী, জাতীয় জিন ব্যাংক পরিচালনার জন্য ২৫৪ জন জনবলের প্রয়োজন নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তিন ধাপে ৫৮টি পদ সৃষ্টির সম্মতি দেয়, যার মধ্যে ৩১টি পদ ছিল জিন ব্যাংকের বিভিন্ন ডিভিশনের জন্য।

পরবর্তীতে ২০২১ সালের ৬ জুন অর্থ বিভাগ সেই সংখ্যা কমিয়ে দুই ধাপে ৪৪টি পদ অনুমোদন করে। তবে এখনো সেই ৪৪ জন নিয়োগেরও ছাড়পত্র মেলেনি।

ফলে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে এনআইবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারী মিলিয়ে মোট জনবল ৮৬ জন। এর মধ্যে কর্মকর্তা ৫৫ জন এবং কর্মচারী ৩১ জন। অথচ আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রায় ১৮০ জনের জন্য।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষায়, বাস্তবে এত আবাসনের প্রয়োজনই ছিল না।

কেন খালি পড়ে আছে আবাসিক টাওয়ার?

এনআইবির কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, আশপাশে তুলনামূলক কম ভাড়ায় বাসা পাওয়া যায়। ফলে সরকারি কোয়ার্টারে উঠতে অনেকে আগ্রহী নন।

কারণ সরকারি আবাসনে থাকলে বেতন থেকে যে পরিমাণ ভাড়া কাটা হয়, বাইরে তার চেয়েও কম খরচে বাসা ভাড়া পাওয়া সম্ভব।

তাঁদের মতে, জিন ব্যাংকের জন্য একটি আধুনিক গবেষণা ভবনই যথেষ্ট ছিল। মূল প্রয়োজন ছিল গবেষণা সক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক মানের ল্যাব স্থাপন এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া তরুণ গবেষকদের জন্য গবেষণার সুযোগ তৈরি করা।

কিন্তু বাস্তবে গবেষণার চেয়ে ভবন নির্মাণেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

দায় নিচ্ছে না কেউ

অপ্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রকল্প তৈরির সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না। তাই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চান না।

প্রকল্প প্রণয়নের সময় এনআইবির ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ছিলেন ড. মো. সলিমুল্লাহ। তাঁর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “মন্ত্রণালয় করেছে; আমরা শুধু বাস্তবায়ন করেছি।”

অন্যদিকে এনআইবির বর্তমান মহাপরিচালক ড. মো. ছগীর আহমেদ বলেন, প্রকল্পের আওতায় নির্মিত অবকাঠামোগত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং ভবনগুলোর “সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে” সরকারের উচ্চ পর্যায় ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—যে প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলই নিশ্চিত হয়নি, সেখানে শত শত কোটি টাকার আবাসিক অবকাঠামো নির্মাণের যৌক্তিকতা কী ছিল?

জাতীয় জিন ব্যাংক প্রকল্প এখন তাই শুধু একটি গবেষণা উদ্যোগ নয়; এটি বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্নও সামনে এনে দিয়েছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ এলাকায় বিক্রি করা হচ্ছে গরুর মাংস।
“আমাদের জীবনে তো আর ঈদ নেই”— কোরবানির দিনে পরিবার ছেড়ে ঢাকায় শত মানুষের জীবিকার যুদ্ধ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কোরবানির ঈদ মানেই পরিবার, আনন্দ আর উৎসব— বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষের কাছে এমনই পরিচিত এক বাস্তবতা। কিন্তু রাজধানী ঢাকার অলিগলিতে ঈদের দিন দেখা মেলে ভিন্ন এক বাংলাদেশের; যেখানে উৎসবের চেয়ে জীবিকা বড়, আনন্দের চেয়ে প্রয়োজনের মূল্য বেশি। প্রতি বছরের মতো এবারও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে শত শত মানুষ ঢাকায় এসেছেন শুধুমাত্র বাড়তি আয়ের আশায়। কেউ মৌসুমি কসাই, কেউ পশু ব্যবসায়ী, কেউ আবার সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করে সংসারের খরচ জোগান। তাদের অনেকের কাছেই ঈদ মানে পরিবার থেকে দূরে কাটানো আরেকটি কর্মদিবস। “অভাবী মানুষ, সংসারের জন্যই তো আমার ঈদ” পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বাসিন্দা ১৩ বছর ধরে কোরবানির ঈদের সময় ঢাকায় আসেন আইয়ুব হোসেন। মৌসুমি কসাই হিসেবে কাজ করেন, পাশাপাশি সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করেন সড়কের পাশে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদ এলাকায় তার সঙ্গে কথা হয়। সামনে সাজানো গরুর মাংস দেখিয়ে তিনি ক্রেতাদের ডাকছিলেন— “স্যার, মাত্র তিনশ টাকা কেজি।” ঈদের দিন পরিবার ছেড়ে ঢাকায় থাকার কারণ জানতে চাইলে আঞ্চলিক ভাষায় একটি গানের লাইন শোনান তিনি— “অভাবে স্বভাব নষ্ট, ভজনে কূল নষ্ট, বাড়ি নষ্ট বুড়ির কারণে।” এর ব্যাখ্যায় আইয়ুব বলেন, “অভাবী মানুষ। কষ্টের মধ্যে চলে আসছি। সংসার আছে, বৌ-বাচ্চা আছে। তাদের জন্যই তো আমার ঈদ।” তার ভাষায়, ঈদের পর পরিবারের মুখে হাসি দেখাটাই আসল আনন্দ। “আমার মতো অনেকেই ঈদের দিন অন্যের কোরবানির গরুর মাংস তৈরি করে বাড়তি টাকা আয় করেন। ঈদের পর বৌ-বাচ্চা নিয়ে আনন্দ বেশি হয়।” “আমাদের জীবনে তো আর ঈদ নেই” ৬৪ বছর বয়সী চাঁদ আলীর গল্প আরও দীর্ঘ। কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়ি এলাকার এই বাসিন্দা গত চার দশক ধরে কোরবানির ঈদের দিন কাটাচ্ছেন ঢাকায়। এবারও কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে পাঁচটি গরু জবাই ও মাংস প্রস্তুতের কাজ করেছেন তিনি। চাঁদ আলী বলেন, “জীবনের ৪০ বছর কোরবানির ঈদ কখনও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে করতে পারিনি। অভাবের সংসারে তিন বেলা খাবার জোগাড় করতেই বছর চলে যায়।” তার স্ত্রী মনোয়ারা খাতুন প্রায় সমবয়সী। তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এখনও এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে অপেক্ষা করেন ঈদের পরদিনের জন্য। ঈদের দিন বাড়িতে থাকতে না পারার আক্ষেপ আছে কি না— এমন প্রশ্নে কিছুক্ষণ নীরব থেকে চাঁদ আলী বলেন, “প্রথম দিকে খুব খারাপ লাগতো। এখন আর লাগে না। আমাদের জীবনে তো আর ঈদ নেই।” ঈদের দিনও রাজধানীতে শ্রমের বাজার শুধু আইয়ুব বা চাঁদ আলী নন— কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে তৈরি হয় এক অস্থায়ী শ্রমবাজার। দেশের উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ ঢাকায় আসেন কয়েক দিনের কাজের আশায়। পঞ্চগড়ের শাহীন ও নূন হোসেন জানান, প্রতি বছরই তারা ঈদের সময় ঢাকায় থাকেন। কারণ একটাই— বাড়তি আয়। অন্যদিকে শরিয়তপুরের ছাগল ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন মাঝি বলেন, “১৯৮৮ সাল থেকে কোরবানির ঈদ পরিবারের সঙ্গে করিনি। আগে খুব খারাপ লাগতো। এখন মনে হয় লাভ বেশি হলেই আনন্দ।” ঢাকায় ঘর ভাড়া নিয়ে ছাগলের সঙ্গেই রাত কাটানোর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, ঈদের কয়েকদিন তাদের জীবন পুরোপুরি রাস্তাকেন্দ্রিক হয়ে যায়। ২৫০ টাকার মাংসের বাজার ঈদের দিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠে কমদামের মাংসের অস্থায়ী বাজার। নারী ও শিশুরা বিভিন্ন বাসা-বাড়ি থেকে সংগ্রহ করা মাংস বিক্রি করেন ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে। এসব মাংসের ক্রেতাদের বড় অংশ নিম্নমধ্যবিত্ত ও স্বল্পআয়ের মানুষ। অনেকে হোটেল ব্যবসার জন্যও কিনে নেন। একজন ক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “ভালো মাংস পেলে কিনবো। বাজারের দামের চেয়ে অনেক কম।” একই এলাকায় কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী সরাসরি গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করছিলেন। সেখানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয়েছে ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায়। মোহাম্মদী হাউজিং এলাকায় ভ্যানে মাংস বিক্রি করছিলেন আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, “যারা কোরবানি দিতে পারেন না, তাদের জন্য মাংস বিক্রি করি। যা আয় হয়, সেটা ঈদের সময় সংসারে কাজে লাগে।” তবে এবার লাভ কম হওয়ার আশঙ্কার কথাও জানান তিনি। কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন গরুর উচ্চমূল্য। ঈদের অন্তরালের অর্থনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি একটি বড় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক চক্রও। পশু পরিবহন, কসাই, মাংস বিক্রি, পশুখাদ্য, চামড়া ও অস্থায়ী শ্রমবাজার— সব মিলিয়ে কয়েক দিনের জন্য তৈরি হয় বিপুল নগদ অর্থপ্রবাহ। কিন্তু এই অর্থনীতির সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকা মানুষগুলোর বাস্তবতা ভিন্ন। তাদের কাছে ঈদ আনন্দের নয়, বরং বেঁচে থাকার একটি মৌসুমি সুযোগ। ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে— যখন অনেক পরিবার কোরবানির মাংস ভাগাভাগি ও উৎসবে ব্যস্ত, তখন অন্য একদল মানুষ একই দিনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে দরদাম করছেন, মাংস কাটছেন, কিংবা পরদিনের খাবারের টাকা জোগাড়ে ব্যস্ত রয়েছেন। কোরবানির ঈদের এই বিপরীত বাস্তবতা যেন বাংলাদেশের সামাজিক বৈষম্যেরও এক নীরব প্রতিচ্ছবি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন

ত্যাগ, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় আবহে ভাবগাম্ভীর্যে উদযাপিত ঈদুল আযহা

ওসি কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার অ’বৈধ সম্পদের অভিযোগ

পুলিশ কর্মকর্তা কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ, টঙ্গী-ভালুকা-ত্রিশাল ঘিরে নতুন আলোচনা

গণপূর্তে কোটি টাকার অনিয়মের অভিযোগ,চাকরি না করেই অর্থ উত্তোলন

গণপূর্ত অধিদপ্তরে অবৈধ পদোন্নতি ও ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশও উপেক্ষিত

আজ পবিত্র ঈদুল আযহা
ঈদুল আযহার জামাত ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ও বিশেষ প্রস্তুতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় শহর ও ঐতিহাসিক ঈদগাহগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সম্ভাব্য ঝড়-বৃষ্টি ও বিপুল মুসল্লির সমাগম বিবেচনায় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিকল্প জামাত এবং নজরদারিতে রাখা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এবারের আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বিকল্প প্রধান জামাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুই দফায় জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৮টা ৩০ মিনিটে। এছাড়া বিভিন্ন হল মসজিদ ও মাঠেও পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গুলশান এলাকার মসজিদগুলোতেও একাধিক জামাতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৯টা ৩০ মিনিটে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে শতাধিক ঈদগাহ এবং দেড় হাজারের বেশি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা ঈদের দিন ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিকল্প আয়োজন রাখা হয়েছে। কোথাও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ঈদগাহ, কোথাও রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পলিথিন, আবার কোথাও নির্ধারণ করা হয়েছে বিকল্প মসজিদ। চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে পুরো ঈদগাহ ঢেকে দেওয়া হয়েছে ত্রিপল দিয়ে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে বিকল্প হিসেবে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রস্তুত রয়েছে। রাজশাহীতেও একই ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি হলে শাহ মখদুম দরগা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় আয়োজন করা হবে। দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানেও বৃষ্টির কথা বিবেচনায় নিচু স্থানে বালু ভরাট এবং পলিথিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শোলাকিয়ায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা দেশের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদ জামাত। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো বস্তু—যেমন ছাতা, ব্যাগ বা লাঠি—নিয়ে মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি ও ৫৫ জন র‍্যাব সদস্য। এছাড়া বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৭টি আর্চওয়ে গেট, ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর এবং ৩২টি চেকপোস্ট। পুরো এলাকাকে ভাগ করা হয়েছে আটটি নিরাপত্তা সেক্টরে। দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ট্রেন ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’। সিলেট, খুলনা ও বরিশালে প্রস্তুতি সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বিকল্প হিসেবে দরগাহ জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামাতের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। খুলনায় সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে টাউন জামে মসজিদে আয়োজন করা হবে বিকল্প জামাত। বরিশালে প্রায় ৩৫০টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদ, জামে এবাদুল্লাহ মসজিদ ও সদর রোডের বায়তুল মোকাররম মসজিদে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চরমোনাই, গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ এবং ছারছীনা দরবার শরীফেও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও নজরদারিতে গুরুত্ব বিভিন্ন ঈদগাহে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র, পানির ব্যবস্থা, অজুখানা ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। বরিশালে র‍্যাব-৮ জানিয়েছে, প্রবেশপথগুলোতে স্ক্রিনিং গেট থাকবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি পরিচালনা করা হবে। শোলাকিয়ায় চিকিৎসক, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে অস্থায়ী অজুখানা, টয়লেট ও পানির ভ্যান স্থাপন করা হচ্ছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের চেষ্টা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া ও নিরাপত্তা—দুই চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই এবারের ঈদ জামাত আয়োজন করা হচ্ছে। দেশজুড়ে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ধর্মীয় আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. খুরশীদ আলম

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্তে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য

ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খান

ভোলার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভুয়া বিল, অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর-চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে বুধবার ঈদুল আজহা

বরিশালে বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত, মহাসড়কে বিক্ষোভ

বরিশাল অফিস :    বরিশালের গৌরনদীতে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলে থাকা একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বামী-স্ত্রী ও তাদের কন্যাসন্তান। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের বিক্ষোভ ও বাস ভাঙচুরের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন উজিরপুর পৌরসভার বাসিন্দা ফিরোজ মাহমুদ, তার স্ত্রী মনিরা বেগম এবং তাদের মেয়ে জান্নাত আক্তার। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে উজিরপুরের দিকে যাচ্ছিলেন ফিরোজ মাহমুদ। বাটাজোর এলাকায় যানজটের কারণে মোটরসাইকেল থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকাকালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির ‘তাজ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস তাদের ধাক্কা দেয়। ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সবাইকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার অভিযানে থাকা গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মিজানুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার সময় মোটরসাইকেলটি স্থির অবস্থায় ছিল। পেছন থেকে বাসের ধাক্কা এতটাই শক্তিশালী ছিল যে ঘটনাস্থলেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ঘাতক বাসটিতে ভাঙচুর চালায়। এতে কিছু সময়ের জন্য ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহসীন বলেন, দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বাটাজোর অংশে প্রায়ই যানজট ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিংয়ের ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহাসড়কে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ ও গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
তাজমিন আক্তার-আবুল খায়ের

কুমিল্লায় স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগটি কি পরিকল্পিত নাটক? সিসিটিভিতে ভিন্ন চিত্র

কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ

সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর স্বীকৃতি পেলেন কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ

পদ্মায় ট্রলারডুবে ২৩ গরুসহ খামারি নিখোঁজ

পদ্মা সেতুর কাছে গরুবাহী ট্রলারডুবি: ২৩ গরুসহ নিখোঁজ ব্যবসায়ী, ঝড় ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0