বরিশাল অফিস : বরিশালে এক দিনের ধারাবাহিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় ঐক্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি, উন্নয়ন-নীতির পুনর্মূল্যায়ন এবং পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন।
সোমবার বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত বিভাগীয় সাংগঠনিক সভায় তিনি বলেন, দলের ভেতরে মতপার্থক্য থাকতে পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই ঐক্য নষ্ট না করে।
“ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা কোনো গুপ্তচর দলে ঢুকে সুবিধা নিতে পারবে না। ঐক্যে ফাটল ধরলেই তারা সুযোগ নেবে,” — তারেক রহমান।
দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বিগত ১৭ বছরের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গুম, খুন ও নির্যাতনের মধ্যেও তারা ঐক্যবদ্ধভাবে দলকে ধরে রেখেছেন।
“তখন সবাই সবার পাশে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে দল চালিয়েছেন। এখন নির্যাতনের সেই ভয় নেই, তাহলে এখন কেন ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবেন না?”
তার বক্তব্যে স্পষ্টভাবে উঠে আসে যে, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএনপির জন্য অভ্যন্তরীণ সংহতি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি বলে তিনি মনে করেন।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে তিনি তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দেন। তারেক রহমান বলেন, বর্ষার পর আলোচনা করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে।
“তৃণমূলকে শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করতে হবে। তবে দল গোছানোর ক্ষেত্রে ‘হাইব্রিড’ ও ‘গুপ্ত’—এই দুটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে,”
এ বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, বিএনপি সংগঠনের ভেতরে অনুপ্রবেশ বা সুযোগসন্ধানী নেতৃত্বের সম্ভাবনা নিয়ে নেতৃত্বের উদ্বেগ রয়েছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আসন্ন প্রধান ধর্মীয় উৎসবের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন।
“যেকোনো মূল্যে এই ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে ফায়দা লুটতে না পারে,”
তিনি দেশের সকল ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন এবং ধর্মীয় ভেদাভেদ না করে মানবিকতার ভিত্তিতে দেশ পুনর্গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তারেক রহমান দাবি করেন, উন্নয়নের নামে ব্যাপক অর্থ পাচার হয়েছে।
“গত ১৭ বছরে উন্নয়নের নামে আসলে লুটেরাদের পকেটের উন্নয়ন হয়েছে। মেগা প্রজেক্টের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে,”
তিনি ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, প্রতি বছর গড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা সেখানে উঠে এসেছে। পাশাপাশি পদ্মা সেতু ও ভারতের ভূপেন হাজারিকা সেতুর নির্মাণ ব্যয়ের তুলনাও টানেন।
তার মতে, উন্নয়ন শুধু রাস্তাঘাট নির্মাণ নয়; স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষি খাতের সার্বিক উন্নয়নই প্রকৃত উন্নয়ন। এ প্রসঙ্গে তিনি উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি এবং শিশুদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও বলেন।

গৌরনদীর বাটাজোরে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া নারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তারেক রহমান বলেন, সারাদেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ধীরে ধীরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।
“আমাদের উদ্দেশ্যই হলো, আমাদের মায়েরা যাতে ভালো থাকতে পারেন, দেশের মানুষ যাতে একটু হলেও ভালো থাকতে পারেন,”
তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন সম্ভব হবে বলে সরকার বিশ্বাস করে।

সকালে গৌরনদীর সরিকল-বাটজোর খালপাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তারেক রহমান দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে নাগরিক দায়িত্বের ওপর জোর দেন।
“আমরা যদি নিজের ঘর এবং দেশকে নিজেরা পরিষ্কার না রাখি, তাহলে এই দেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকবে না। বাইরে থেকে কেউ এসে আমাদের দেশকে পরিষ্কার করে দিয়ে যাবে না,”
খালে ভাসমান প্লাস্টিকের বোতল দেখিয়ে তিনি বলেন, দেশকে পরিচ্ছন্ন রাখা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; প্রতিটি নাগরিকের আচরণ ও অভ্যাসের সঙ্গে এটি সরাসরি সম্পর্কিত।
বরিশালের এই কর্মসূচিগুলোতে তারেক রহমানের বক্তব্যে কয়েকটি বিষয় স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে:
দলীয় ঐক্য: বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংহতি বজায় রাখাকে তিনি রাজনৈতিক টিকে থাকার প্রধান শর্ত হিসেবে দেখিয়েছেন।
নির্বাচনী প্রস্তুতি: স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে তৃণমূল সংগঠনকে শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক সম্প্রীতি: ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং সব ধর্মের মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করতে আহ্বান জানিয়েছেন।
অর্থনৈতিক সমালোচনা: পূর্ববর্তী সরকারের উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ পুনরুল্লেখ করেছেন।
নাগরিক দায়িত্ব: পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষাকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন।
সবশেষে তারেক রহমান দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ”—এই লক্ষ্য নিয়েই বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এগিয়ে নিতে চায় বিএনপি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওঠা বিতর্কের পর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি। সোমবার রাতে প্রকাশিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে কমিটি জানায়, পরীক্ষার ৬ ও ৭ নম্বর সৃজনশীল প্রশ্ন সম্পর্কে উত্থাপিত অভিযোগ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পর্যালোচনায় প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে প্রয়োজনে ওই দুটি প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ অনুষ্ঠিত এইচএসসি ও সমমানের পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র পরীক্ষার সৃজনশীল অংশের দুটি প্রশ্ন নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অবগত এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নসমূহ পর্যালোচনার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি স্পষ্ট করেছে, প্রচলিত পরীক্ষা মূল্যায়ন নীতিমালা অনুযায়ী কোনো প্রশ্নে ত্রুটি বা অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ সম্পূর্ণভাবে সংরক্ষণ করা হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমিটির ভাষ্য অনুযায়ী, পর্যালোচনার ফলাফলে যদি সংশ্লিষ্ট প্রশ্নে ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে মূল্যায়ন নীতিমালা অনুসরণ করে ওই প্রশ্নগুলোর জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। গণবিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। কমিটি বলেছে, পর্যালোচনার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত যথাসময়ে জানিয়ে দেওয়া হবে। এই ঘোষণা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হওয়া অনিশ্চয়তা কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও যাচাই প্রক্রিয়ার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনারও জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ও সমমানের একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকল করতে না দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় প্রায় ১০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাতে চরফ্যাশন থানায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. মহিউদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এর আগে শনিবার দুপুরে চরফ্যাশন উপজেলা শহরের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের একটি অংশ প্রশ্ন কমন না পড়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে জড়ায়। পরে পরিস্থিতি সহিংসতায় রূপ নেয় বলে মামলার এজাহার, পুলিশ ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে। কেন্দ্রে কী ঘটেছিল? বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের আওতায় পরিচালিত ওই কেন্দ্রে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। শনিবার ছিল তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা। সকালে নিয়মিতভাবে এমসিকিউ প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর কেন্দ্রের ৩০৪ নম্বর কক্ষে কিছু পরীক্ষার্থী দাবি করেন যে প্রশ্ন তাদের “কমন” পড়েনি। কলেজ সূত্র জানায়, ওই সময় কিছু শিক্ষার্থী নকলের চেষ্টা করলে দায়িত্বরত শিক্ষকরা নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নেন। অভিযোগ রয়েছে, এরপর কিছু পরীক্ষার্থী নকল করার সুযোগ দাবি করে এবং কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে। পরীক্ষা শেষে সহিংসতা মামলার এজাহার অনুযায়ী, পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টা ৫ মিনিটের দিকে একদল শিক্ষার্থী কলেজের পকেট গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। তারা পরীক্ষার খাতা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইটপাটকেলের আঘাতে পরীক্ষাকক্ষে দায়িত্ব পালনকারী ৭ জন শিক্ষক এবং কলেজের গভর্নিং কমিটির সভাপতিসহ কয়েকজন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এরপর কেন্দ্র এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মামলার অগ্রগতি চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহামুদ আল-ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেছেন। তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার তাৎপর্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নকলবিরোধী ব্যবস্থা গ্রহণকে কেন্দ্র করে সহিংসতার এই অভিযোগ শিক্ষা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা, পরীক্ষা পরিচালনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের মাধ্যমে হামলায় জড়িতদের শনাক্ত করা এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় টানা এক সপ্তাহের ভারি বৃষ্টিতে বেঁড়িবাধ ভেঙে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। গত দুদিন বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমলেও রোববার সকাল থেকে আবারও ভারি বৃষ্টি শুরু হলে পানির উচ্চতা বাড়তে থাকে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই উপজেলার বহু ঘরবাড়ি এখনও পানির নিচে রয়েছে। অনেক পরিবার ঘরছাড়া হয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে, আবার কেউ কেউ নৌকাকে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছেন। স্লুইসগেট ও কালভার্ট নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ জলাবদ্ধতার কারণ হিসেবে স্থানীয় বাসিন্দারা শুধু অতিবৃষ্টিকেই দায়ী করছেন না। তাঁদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলোতে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে কিছু অসাধু চক্র মাছ শিকারের ব্যবস্থা করেছে। এতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ আহমেদ বলেন, “অনেকেই মাছ ধরার জন্য ইচ্ছা করে স্লুইসগেটগুলো বন্ধ করে রাখে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।” এই অভিযোগের স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ বাড়ছে। কুতুবদিয়ার যেসব এলাকা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সরেজমিনে দেখা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার লেমশীখালী ইউনিয়নের মতির বাপের পাড়া, চিন্নি খাইয়ে পাড়া, শাহজীর পাড়া, গাইনে কাটা, নয়াঘোনা ও ধুপি পাড়া পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া দক্ষিণ ধূরুং ইউনিয়নের কিল্লার পাড়া ও বাতিঘর এলাকা, উত্তর ধূরুং ইউনিয়নের আজিম উদ্দিন সিকদার পাড়া, চাটি পাড়া, জইজ্যার পাড়া, ছাদের ঘোনা, জুম্মা পাড়া ও বাকখালী এলাকায়ও জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বড়ঘোপ ইউনিয়নের আজম কলোনিতে কোমরসমান পানি জমে রয়েছে। পাশাপাশি আলী আকবর ডেইল ইউনিয়নের পূর্ব তাবালেরচর, আনিছর ডেইল ও জেলে পাড়া; বড়ঘোপ ইউনিয়নের বদাইয়ার পাড়া, মনোহরখালী, মিয়ার ঘোনা, কালাইয়া পাড়া ও দক্ষিণ অমজাখালী; এবং কৈয়ারবিল ইউনিয়নের মলমচর, কিল্লার পাড়া ও নজর আলী মাতবর এলাকায়ও মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পেকুয়ায় নৌকাই প্রধান যাতায়াতের মাধ্যম পেকুয়া উপজেলার টইটং, বারবাকিয়া, শিলখালী, পেকুয়া সদর, উজানটিয়া, রাজাখালী ও মগনামা ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রাম এখনও পানির নিচে রয়েছে। অনেক এলাকায় রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় নৌকাই মানুষের চলাচলের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে। উজানটিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শনে এলেও তাঁদের সমস্যার কথা যথাযথভাবে শোনা হয়নি। তাঁরা বলেন, “রাতে ঘুমাতে পারছি না, ছেলে-মেয়েরা না খেয়ে আছে। আমরা পর্যাপ্ত সাহায্য পাচ্ছি না।” ত্রাণ সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের অভিযোগ, দুই উপজেলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত শুকনো খাবার সরবরাহ করা হয়নি। ফলে অনেক পরিবার খাবার সংকটে দিন কাটাচ্ছে। কৃষক হারুন বলেন, “বৃষ্টির প্রথম রাতেই আমার ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যায়। ঘরের হাঁড়ি-পাতিলসহ অনেক জিনিসপত্র ভেসে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে অন্যের ঘরে আশ্রয় নিয়ে আছি।” তিনি আরও বলেন, “আমার মাছের ঘেরটাই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র উপায়। সেটাও ভেসে গেছে। এখন আমি পুরোপুরি নিঃস্ব।” প্রশাসনের বক্তব্য কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “স্লুইসগেট ও কালভার্টগুলো নজরদারি করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনও বিষয়টি তদারকি করছে। পানিবন্দি পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবার বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রশাসনের টিম কাজ করছে। সাতটি ইউনিয়নের জন্য ১০ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও সহায়তা চাওয়া হবে। শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” তদন্তের দাবি কেন জোরালো হচ্ছে স্থানীয়দের অভিযোগ যদি সত্য হয়, তবে এটি শুধু প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা নয়; বরং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম বা অব্যবস্থাপনার ইঙ্গিতও বহন করতে পারে। স্লুইসগেট ও কালভার্টের কার্যকারিতা, এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে পানি চলাচলে বাধা সৃষ্টি করেছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। বিশেষজ্ঞদের মতে, উপকূলীয় অঞ্চলে জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় স্লুইসগেট, কালভার্ট ও বেঁড়িবাধের কার্যকর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব অবকাঠামো সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে অতিবৃষ্টির সময় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।