মাত্র ১৭ দিনের মাথায় দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ শরীফকে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযোগ তদন্তের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রবিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) তাকে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করার আদেশ দেয়।
একই সঙ্গে একজন উপপুলিশ কমিশনারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পক্ষপাত, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি আধা সরকারি (ডিও) চিঠি পাঠান।
পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-২ শাখার উপসচিব নাসরীন সুলতানা পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) কাছে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। ওই চিঠিতে প্রতিমন্ত্রীর ডিও পত্রকে তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিটি চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশে পৌঁছানোর পরই ওসি মুহাম্মদ শরীফকে সদরঘাট থানা থেকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনায় মুহাম্মদ শরীফের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠে এসেছে।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—
চিঠিতে এসব অভিযোগ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রমাণ উপস্থাপিত হয়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর সদরঘাট থানার ওসিকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযোগ তদন্তে একজন উপপুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রত্যাহার হওয়া ওসি মুহাম্মদ শরীফ।
তিনি বলেন,
"আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নই। কর্ণফুলী থানায় দায়িত্ব পালনকালে এক আওয়ামী লীগ নেতার মেয়ের বিয়েতে গিয়েছিলাম। সেই অনুষ্ঠানের ছবি ব্যবহার করে বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। সম্ভবত এ কারণেই আমাকে বদলি করা হয়েছে।"
গত ১৮ জুন মুহাম্মদ শরীফকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখা থেকে সদরঘাট থানার ওসি হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর তিনি সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শকের পদ থেকে এস্টেট অ্যান্ড বিল্ডিং শাখায় বদলি হন। এছাড়া তিনি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) থেকে কর্ণফুলী থানার ওসি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে—
এসব প্রশ্নের উত্তর এখন নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ওপর।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : একদিকে টানা বর্ষণ, অন্যদিকে নরম হয়ে আসা পাহাড়ের মাটি। গভীর রাতে মুহূর্তের ব্যবধানে ধসে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে নিভে গেল আটটি জীবন। কিন্তু সেই মৃত্যুর পরও বদলায়নি বাস্তবতা—কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশে এখনও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন লাখো মানুষ। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা, মাইকিং এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও আশ্রয়ের সীমাবদ্ধতা, ঘনবসতি এবং বিকল্প জায়গার অভাবে বহু পরিবার এখনও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রয়ে গেছে। ফলে যেকোনও সময় আবারও ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। পাহাড় কেটে তৈরি আশ্রয়, বর্ষায় বাড়ে বিপদ বিশ্বের সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির হিসেবে পরিচিত কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় বসবাস করছেন ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনা অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এসব মানুষের জন্য পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে ঘরবাড়ি, সড়ক ও বিভিন্ন অবকাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে বসতি গড়ে ওঠায় প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই এসব এলাকায় তৈরি হয় ভয়াবহ পাহাড়ধসের ঝুঁকি। প্রতি বছরই ক্যাম্পগুলোতে পাহাড়ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সোমবার গভীর রাতে উখিয়ার ৭ ও ১৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসের ঘটনায় নারী ও শিশুসহ আটজন নিহত হন। ঘটনার পর ক্যাম্পজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে পাহাড়ঘেঁষা বসতিতে থাকা হাজারো পরিবারের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন আতঙ্ক। আট মৃত্যুর পরও ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে মানুষ স্থানীয় প্রশাসন এবং শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় জানিয়েছে, ভারী বর্ষণের সময় অতি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিছু পরিবার সেখানে আশ্রয় নিয়েছে। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক মানুষ পাহাড়ের ঢাল ও পাদদেশের ঝুঁকিপূর্ণ বসতিতে অবস্থান করছেন। এ কারণে নতুন করে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কাটছে না। ৭ নম্বর ক্যাম্প: পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা জনপদ উখিয়ার কুতুপালং টিভি টাওয়ারসংলগ্ন পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে ৭ নম্বর রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির। এখানে ১০ হাজারের বেশি পরিবারের প্রায় অর্ধলাখ রোহিঙ্গার বসবাস। ক্যাম্পটির বড় একটি অংশ পাহাড়ের ঢাল ও নিচু এলাকায় অবস্থিত। বর্ষা এলেই এসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে তৈরি হয় চরম উদ্বেগ। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে এই ক্যাম্পে মো. একরাম (৭) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ৭ নম্বর ক্যাম্পের চেয়ারম্যান রোহিঙ্গা নেতা আবদুল মাবুদ বলেন, পুরো ক্যাম্পই পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় টানা বৃষ্টির সময় প্রায় অর্ধলাখ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার কিছু পরিবারকে লার্নিং সেন্টারে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মাইকিং করে সবাইকে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। নয়টি ক্যাম্পে বড় ঝুঁকি খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের ৩২টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মধ্যে অন্তত নয়টি ক্যাম্প পাহাড়ধসের মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশ এবং খাড়া ঢালজুড়ে তৈরি হওয়া অসংখ্য বসতিতে বসবাস করছেন এক লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। বর্ষার ভারী বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এসব পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ক্যাম্প-১৫-এর বাসিন্দা মো. আক্তার বলেন, বর্ষা এলেই তাদের ভয় বেড়ে যায়। সোমবার রাতের পাহাড়ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এমন ঘটনা ক্যাম্পবাসীর মধ্যে গভীর আতঙ্ক তৈরি করেছে। তিনি বলেন, এখনও টানা বৃষ্টি চলছে। কেউ জানেন না কখন কোথায় আবার পাহাড় ধসে পড়বে। প্রশাসনের সতর্কতা, কিন্তু সংকট রয়ে গেছে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মিজানুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বড় অংশ পাহাড় কেটে তৈরি হওয়ায় ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়ে। তিনি বলেন, সোমবারের ঘটনায় নারী-শিশুসহ আটজনের মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ক্যাম্পের লার্নিং সেন্টারগুলোকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো—ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও বিকল্প জায়গার অভাবে বহু মানুষ এখনও বিপজ্জনক ঢালেই বসবাস করছেন। আবহাওয়া পরিস্থিতি আরও বাড়াচ্ছে উদ্বেগ কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী দুই দিন কক্সবাজারে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে। বারবার সতর্কতার পরও কেন থামছে না ঝুঁকি? রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধস এখন শুধু একটি মৌসুমি দুর্যোগ নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, পাহাড় কেটে বসতি তৈরি, সীমিত পুনর্বাসন সুযোগ এবং বর্ষার তীব্রতা—সব মিলিয়ে প্রতিবছর নতুন করে তৈরি হচ্ছে প্রাণহানির আশঙ্কা। প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—আর কত প্রাণহানির পর পাহাড়ের ঢালে বসবাসরত মানুষগুলোকে স্থায়ীভাবে নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়া সম্ভব হবে?
মাদারীপুর: মাদারীপুর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর একাধিক মামলার আসামি পারভেজ ব্যাপারী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার মধ্যে পুলিশ হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট। ঘটনার পর তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পর সদর উপজেলার লক্ষীগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে পারভেজ ব্যাপারীকে আটক করা হয়। এ সময় তার ফেলে দেওয়া ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর অভিযানের ধারাবাহিকতায় পারভেজকে নিয়ে একটি স্থানে যাওয়ার সময় তার সহযোগীরা ঘটনাস্থলে একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে পারভেজ পালিয়ে যান। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী দাবি করেন, পারভেজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের উদ্দেশ্যে পুলিশ তাকে একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের শব্দে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং ওই পরিস্থিতির মধ্যেই পারভেজ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু নাঈম বলেন, "পারভেজ একজন মাদক ব্যবসায়ী। তাকে আটকের পরই তার সহযোগীরা একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ওই পরিস্থিতিতে সে পালিয়ে যায়। ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য আহত হননি।" পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক পারভেজকে পুনরায় গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বোমা বিস্ফোরণে জড়িত সহযোগীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। তবে ঘটনায় কতজন হামলায় অংশ নিয়েছিল, কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে এবং পুলিশের নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কীভাবে আসামি পালাতে সক্ষম হন—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত পদযাত্রা-পরবর্তী সমাবেশে ককটেল বা বিস্ফোরক জাতীয় বস্তু বিস্ফোরণের ঘটনায় নতুন একটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—বিস্ফোরণের ঠিক আগে কেন বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল? ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানিয়েছেন, ঘটনাটির সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের কারণ, পরিকল্পনা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার (৬ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে সাভার থানা স্ট্যান্ড ঈদগাহ মাঠে ঘটে। তখন এনসিপির সমাবেশ চলছিল। কী ঘটেছিল? দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ বক্তব্য দিচ্ছিলেন। সেই সময় সমাবেশস্থলে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন এমপি, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। তবে তারা কেউ আহত হননি। বিস্ফোরণে চারজন আহত হন। আহতরা হলেন— মো. শাহীন খন্দকার (৩০) মো. জসিম (২৬) মো. শাহাদাত হোসেন (৪০) অপর একজন, যার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকদের বক্তব্য এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাসান জানান, আহত চারজনকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজনের পায়ে গুরুতর আঘাত ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর বাকি তিনজনকে জরুরি বিভাগ থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, আহতরা বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছেন। এক্স-রে এবং অন্যান্য পরীক্ষার পর আঘাতের প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটনার পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন বলেন, বিস্ফোরণের ঠিক আগে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার বিষয়টিকে তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, "কোনো কিছুই আমরা সন্দেহের বাইরে রাখছি না। কেন ঠিক ওই মুহূর্তে বিদ্যুৎ চলে গেল, এরপরই বিস্ফোরণ ঘটল—বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে, যাতে ওই সময়ের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ যাচাই করা যায়। তবে পুলিশ এখনো বলেনি যে বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং বিস্ফোরণের মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্ক পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের বক্তব্য পুলিশ সুপার জানান, পদযাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পাকিজা মোড় থেকে সমাবেশস্থল পর্যন্ত নেতাদের নিরাপত্তা দিয়ে আনা হয়। ঘটনার পরও মঞ্চে থাকা শীর্ষ নেতাদের নিরাপত্তার সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে তারা সাভার থানায় যান। তদন্তে কী কী খতিয়ে দেখা হচ্ছে? পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে— বিস্ফোরণে ব্যবহৃত বস্তুটির ধরন। হামলাকারীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য। ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য। হামলাটি পরিকল্পিত ছিল কি না। এ ঘটনায় ঢাকা জেলার দুই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবং সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মামলা বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের সদস্যসচিব সালামত উল্লাহ রনি, জুলাই যোদ্ধা মো. ইউনুস আলী এবং আজহারুল ইসলাম তামিম অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ বলছে, তদন্তে যার সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এনসিপির প্রতিক্রিয়া এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আরিফুর রহমান তুহিন বলেন, বিস্ফোরণে দলের চার কর্মী আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দলীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ মিছিল করেন। পরে আহতদের দেখতে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পুলিশও এখন পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে— সমাবেশ চলাকালে একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে। চারজন আহত হয়েছেন। শীর্ষ নেতারা অক্ষত রয়েছেন। বিস্ফোরণের আগে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়েছিল। পুলিশ বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে দেখছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের উদ্দেশ্য, হামলাকারীদের পরিচয় কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সঙ্গে ঘটনার সম্পর্ক সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এখন নজর তদন্তের ফলাফলের দিকে।