Brand logo light
বাংলাদেশ

জামালপুরের বকশীগঞ্জে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: সাত আসামির মৃত্যুদণ্ড, একজন খালাস

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৭, ২০২৬ 0

জামালপুর: জামালপুরের বকশীগঞ্জে এক গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মামলার আরেক আসামি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক মো. ইদ্রিছ আলীকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল ৩টার দিকে জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত সাতজনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— বকশীগঞ্জ উপজেলার নীলক্ষীয়া পশ্চিম পাড়ার জাফর মেম্বারের ছেলে মো. রাশেদুর রহমান ওরফে পাপ্পু (৩০), জানকি মহরবান গ্রামের শাহাজাদা ঠিকাদারের ছেলে মো. বিজু মিয়া (৩৬), জানকিপুর মহরবান গ্রামের মুকুল মিয়ার ছেলে মো. বাদশা মিয়া (৩৫), একই এলাকার জাফর মিয়ার ছেলে মো. আলী (৩৬), দিকপাড়ার বাসনকান্দা গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো. আসমত আলী (৩০), জানকিপুর চকপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে মনিরুজ্জামান ওরফে জুয়েল মিয়া (৩৫) এবং জানকিপুর মহরবান গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৪০)।

কী ঘটেছিল

মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ মে রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় ঝগড়ারচর বাজার থেকে নীলক্ষীয়া বাজারে যাচ্ছিলেন। তিনি স্বামীর সঙ্গে বকশীগঞ্জ উপজেলার একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার স্বামী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক।

পথে উপজেলার মাঞ্জালিয়া সেতু এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি অটোরিকশার গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা ওই নারীকে জোর করে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে অন্য একটি ভ্যানগাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় একটি পরিত্যক্ত বাড়ির রান্নাঘরে নিয়ে তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

ঘটনার খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী তাকে উদ্ধার করে প্রথমে বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরদিন ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে বকশীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করা হয়।

আদালতের পর্যবেক্ষণ

দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায়ে উল্লেখ করেন এবং তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, মামলার আরেক আসামি মো. ইদ্রিছ আলীকে খালাস দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য

জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-১-এর সরকারি কৌঁসুলি ফজলুল হক বলেন,

"মামলায় ভুক্তভোগী গৃহবধূসহ সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন আদালত। দীর্ঘ শুনানিতে অভিযোগটি প্রমাণিত হয়েছে। এ কারণে আদালত সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন এবং একজনকে খালাস দেন।"

মামলায় আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে ছিলেন মো. মোকাম্মেল হক।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মৃত্যুদণ্ড চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন:  জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে দেওয়া ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডকে ‘অপর্যাপ্ত’ মনে করছে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। সোমবার সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। রাষ্ট্রপক্ষের ভাষ্য, ইনুর বিরুদ্ধে প্রমাণিত অপরাধের প্রকৃতি, ব্যাপকতা, সংঘটনের প্রেক্ষাপট এবং তাঁর কথিত ভূমিকার তুলনায় ১০ বছরের কারাদণ্ড যথেষ্ট নয়। এ কারণে সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করা হয়েছে। আট অভিযোগের তিনটি প্রমাণিত হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এর মধ্যে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়। গত ৩০ জুন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ইনুকে প্রতিটি প্রমাণিত অভিযোগে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। তবে আদালত নির্দেশ দেন, সাজাগুলো যুগপৎভাবে চলবে। ফলে সব মিলিয়ে তাঁর কারাদণ্ডের মেয়াদ দাঁড়ায় ১০ বছর। রাষ্ট্রপক্ষ এখন সেই সাজাকেই চ্যালেঞ্জ করেছে। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম বলেন, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজাকে অপর্যাপ্ত মনে করেই প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে আপিল করা হয়েছে। আপিলে মোট ১১টি গ্রাউন্ড বা কারণ তুলে ধরা হয়েছে। খালাস পাওয়া অভিযোগেও সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—শুধু যেসব অভিযোগে ইনু দণ্ডিত হয়েছেন, সেগুলোর সাজা বাড়ানোর আবেদনই নয়; খালাস পাওয়া কয়েকটি অভিযোগেও তাঁকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। প্রসিকিউটর তামীমের ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধের শাস্তি নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সে অপরাধের ভয়াবহতা, গভীরতা এবং ‘স্কেল অব দ্য অ্যাটাক’ বা হামলার ব্যাপ্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কত মানুষের ওপর হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছে, কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন এবং এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সমাজের প্রত্যাশা কী—এসব বিষয়ও রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রসিকিউশনের যুক্তির কেন্দ্রে রয়েছে শুধু কোনো একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার দায় নয়; বরং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের সামগ্রিক ব্যাপকতা এবং সেই প্রেক্ষাপটে ইনুর কথিত ভূমিকা। শেখ হাসিনার সঙ্গে কথোপকথন ও আন্দোলন দমনের প্রসঙ্গ ইনুর সাজা বাড়ানোর আবেদনের ক্ষেত্রে ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছে রাষ্ট্রপক্ষ। প্রসিকিউশন বলছে, ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে দেওয়া পর্যবেক্ষণে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর কথোপকথন, আন্দোলন দমনের বিষয়ে পরামর্শ, কারফিউ জারি এবং আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তারের পরামর্শ দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করেছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডকে ট্রাইব্যুনাল ‘সত্য’ হিসেবে পর্যবেক্ষণে তুলে ধরার পরও ইনুকে মাত্র ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া ওই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই আপিলে সাজা পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর তামীম। বেসামরিক নেতার নির্দেশ কতটা প্রভাবশালী? রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ যুক্তি হলো বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রভাব। প্রসিকিউটর তামীম বলেন, আন্তর্জাতিক জুরিসপ্রুডেন্সের ভিত্তিতে একজন বেসামরিক ঊর্ধ্বতন নেতার আদেশ অনেক ক্ষেত্রে একজন সামরিক কমান্ডারের আদেশের চেয়েও বেশি প্রভাবশালী হতে পারে। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, একজন সামরিক কমান্ডার অধস্তনদের কোনো নির্দেশ দিলে তারা সেটি মানতে পারেন, আবার নাও পারেন। কিন্তু একজন বেসামরিক নেতা শুধু সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার মাধ্যমেই নয়, বক্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমেও অপরাধ সংঘটনের পরিবেশ তৈরি করতে পারেন। এই যুক্তির ভিত্তিতেই ইনুর কথিত ভূমিকার দায় ও তার মাত্রা পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। ‘সর্বোচ্চ শাস্তি’ চায় প্রসিকিউশন প্রসিকিউটর তামীম জানান, আপিল গ্রহণ করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় ইনুকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার আবেদন করা হয়েছে। তবে আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের কারাদণ্ডই ইনুর ক্ষেত্রে কার্যকর রায় হিসেবে বহাল রয়েছে। গত ২০ সেপ্টেম্বর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনের ২১(৩) ধারা অনুযায়ী, রায়ের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হয়। আর ২১(৪) ধারায় আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে ইনু ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। এখন রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের মধ্য দিয়ে মামলাটি নতুন একটি আইনি পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। ট্রাইব্যুনালের দেওয়া ১০ বছরের সাজা যথেষ্ট কি না, প্রমাণিত ও খালাস পাওয়া অভিযোগগুলোর ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির সুযোগ রয়েছে কি না এবং ইনুর কথিত ভূমিকার মাত্রা আন্তর্জাতিক অপরাধের আইনি মানদণ্ডে কীভাবে মূল্যায়িত হবে—এসব প্রশ্নই আপিলের পরবর্তী শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। রাষ্ট্রপক্ষের চাওয়া, এসব প্রশ্নের পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে ইনুর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা।তবে আপিলের চূড়ান্ত ফল কী হবে, তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট উচ্চতর আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0

১৭০ বছরের চা শিল্পে সংকট: উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও দাম কম, বিপর্যয়ের আশঙ্কা

এএসআই মো. শফিকুল ইসলাম

এএসআইয়ের ইয়াবা কারবারের অভিযোগ: ৫ হাজার ৩১০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুইজন

চাঁদার অভিযোগ, ব্যানার পোড়ানো ও হামলার দাবি: বানারীপাড়ায় সাময়িক স্থগিত ফুটবল টুর্নামেন্ট

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় অধ্যাপক রফিক উল্লাহ সিকদার

এম নজরুল ইসলাম:  দৈনিক আলোর বার্তা–এর সম্পাদক, দি ডেইলি স্টেট পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য অধ্যাপক রফিক উল্লাহ সিকদার আর নেই। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে ‘রফিক উল্লাহ সিকদার আলো’ নামেই পরিচিত এই প্রবীণ সাংবাদিক ও সম্পাদককে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গত রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র প্রকাশনার সঙ্গে দীর্ঘদিনের একটি কর্মময় অধ্যায় রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর অধ্যাপক রফিক উল্লাহ সিকদারকে প্রথমে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্ট্রোক করেন বলে পরিবার জানিয়েছে। পরবর্তীতে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেলে তাঁর মৃত্যু হয়। দুই দফা জানাজা, মিরপুরে শেষ ঠিকানা মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রোববার রাত ৯টায় রাজধানীর বাংলামোটর বড় মসজিদের সামনে। পরে তাঁর মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান মসজিদে নেওয়া হয়। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাঁকে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানেই দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সাংবাদিকতা, সম্পাদনা ও সংবাদপত্র প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত দীর্ঘ কর্মজীবনের পর চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন অধ্যাপক রফিক উল্লাহ সিকদার। সাংবাদিকতা অঙ্গনে দীর্ঘ পথচলা অধ্যাপক রফিক উল্লাহ সিকদার দীর্ঘদিন দৈনিক আলোর বার্তা–এর সম্পাদক এবং দি ডেইলি স্টেট পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা প্রেস ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। সহকর্মী ও সাংবাদিক মহলে ‘আলো’ নামে পরিচিত রফিক উল্লাহ সিকদার সাংবাদিকতা অঙ্গনে নিজের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছিলেন। সংবাদপত্র প্রকাশনা ও সাংবাদিকতার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ সম্পৃক্ততা তাঁকে এই অঙ্গনের পরিচিত মুখে পরিণত করে। তাঁর মৃত্যুর খবরে ঢাকা প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিকতা অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ‘একজন পথপ্রদর্শক ও অভিভাবককে হারালাম’ অধ্যাপক রফিক উল্লাহ সিকদারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ঢাকা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু। শোকবার্তায় তিনি বলেন, সাংবাদিকতা জীবনে তিনি একজন পথপ্রদর্শক ও শ্রদ্ধেয় অভিভাবককে হারিয়েছেন। মোসলেহ উদ্দিন বাচ্চু মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে তাঁর জীবনের জানা-অজানা ভুলত্রুটি ক্ষমা, কবরকে নূরে পরিপূর্ণ করা এবং তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দানের জন্য দোয়া করেন। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতিও গভীর সমবেদনা জানান। অধ্যাপক রফিক উল্লাহ সিকদারের মৃত্যু সাংবাদিকতা ও সংবাদপত্র প্রকাশনা অঙ্গনের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। তাঁর কর্মময় জীবন এবং সাংবাদিকতায় রাখা অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
নওমালা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে

আ’লীগ সমর্থক থেকে জামায়াত : নওমালা স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচনকে নিয়ে বিতর্ক

শেবাচিম কেন্দ্রীয় মসজিদ

বরিশালে সরকারি পদ আছে, নিয়োগ নেই, বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় ইমাম-মুয়াজ্জিন

দুই পোষা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা, পটুয়াখালীতে দুই ব্যক্তির ২০ হাজার টাকা জরিমানা

ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর ও অফিসিয়াল প্যাড জাল করে বদলির চেষ্টা? এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে মামলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের স্বাক্ষর ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেড জাল করে নিজের বদলি ঠেকানো এবং ঢাকায় কাঙ্ক্ষিত পদায়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে—এমন অভিযোগে বরগুনা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের করা মামলাটি করেছেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ উপবিভাগ-১-এর পরিচালক মো. মনির হোসেন। মামলায় শাওন মজুমদারকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। পাশাপাশি, ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ কী? মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডেপুটি স্পিকারের জাল স্বাক্ষর এবং সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেড ব্যবহার করে একটি ভুয়া আধা-সরকারি (ডিও) চিঠি প্রস্তুত করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ভুয়া চিঠির মাধ্যমে তাঁর বদলির আদেশ পরিবর্তনের সুপারিশ দেখিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়। নথিপত্রে দেখা যায়, শাওন মজুমদারকে বরগুনা সদর থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু জাল করা ডিও লেটারে সেই বদলির আদেশ বাতিল করে তাঁকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে পদায়নের অনুরোধ জানানো হয়। কীভাবে ধরা পড়ে? সংসদ সচিবালয়ে চিঠিটি যাচাইয়ের সময় অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া যায়, এমন কোনো চিঠি সংসদ সচিবালয় থেকে কখনোই ইস্যু করা হয়নি। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ভুয়া চিঠিতে ব্যবহৃত ডেপুটি স্পিকারের স্বাক্ষর, ভাষার ধরন, নথির বিন্যাস এবং নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সংসদ সচিবালয়ের সংরক্ষিত মূল নথির সঙ্গে মিলেনি। মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রতারণামূলকভাবে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই জাল নথিটি তৈরি ও ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তে যে আশঙ্কা মামলার বাদী আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ঘটনার পেছনে একটি সুসংগঠিত জালিয়াত চক্র সক্রিয় থাকতে পারে। এ কারণে তদন্তে শুধু অভিযুক্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নয়, বরং পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এজাহারে তদন্তকারী সংস্থার কাছে যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে— অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও ই-মেইলের ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষা; ভুয়া নথির প্রিন্ট বা মুদ্রণের উৎস শনাক্ত করা; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের তথ্য ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ; জালিয়াতির সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা চক্র জড়িত কি না, তা অনুসন্ধান। যেসব ধারায় মামলা মামলাটি দণ্ডবিধির জালিয়াতি, জাল নথি আসল হিসেবে ব্যবহার, প্রতারণা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রসংক্রান্ত সংশ্লিষ্ট ধারায় রুজু করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে প্রমাণ হিসেবে ভুয়া ডিও চিঠির অনুলিপি, সংসদ সচিবালয়ের প্রকৃত অফিসিয়াল লেটারহেডের নমুনা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথিও জমা দেওয়া হয়েছে। তদন্তের সামনে যেসব প্রশ্ন এই ঘটনাকে ঘিরে এখন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— ভুয়া ডিও লেটারটি কোথায় এবং কার সহায়তায় প্রস্তুত করা হয়েছিল? সংসদ সচিবালয়ের অফিসিয়াল লেটারহেডের নমুনা কীভাবে সংগ্রহ করা হয়? এটি কি একক কোনো উদ্যোগ, নাকি বৃহত্তর জালিয়াত চক্রের অংশ? সরকারি বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার আরও কোনো চেষ্টা হয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে। তবে মামলার অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি এবং অভিযুক্তের বক্তব্যও প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তদন্তের ফলাফলের ওপরই পরবর্তী আইনি অবস্থান নির্ভর করবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0
বরিশালে সরকারি পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি

বরিশালে সরকারি খাসজমির ১০ কোটি টাকার পুকুর ভরাটের অভিযোগ, প্লট করে বিক্রির প্রস্তুতি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্বোধন: খুলছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

৫ আগস্ট ২০২৪: কারফিউ, ‘মার্চ টু ঢাকা’ এবং একদিনে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0