Brand logo light
নির্বাচিত সংবাদ

সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই,নিখোঁজ বহু যাত্রী, স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই
সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি, উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে বিলম্ব হওয়ায় সেখানে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল প্রায় সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।

ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ১০ থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকিদের অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে, ফলে ভেতরে থাকা যাত্রীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ

ঘটনার খবর পেয়ে ঘাটে ছুটে আসা স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে।

এক ভুক্তভোগী জানান, তার পরিবারের পাঁচজন ওই বাসে ছিলেন। তার স্ত্রী, দুই বছরের মেয়ে ও বোন প্রাণে বাঁচলেও সাত বছর বয়সী ছেলে ও ১১ বছরের ভাগনে এখনও নিখোঁজ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“আমার সন্তান তো আর নাই। ওর লাশটা আমারে দেন… আমাদের টাকার দরকার নাই, শুধু লাশগুলো দেন।”

হতাহতের আশঙ্কা বাড়ছে

প্রত্যক্ষদর্শীরা আশঙ্কা করছেন, যারা সাঁতরে উঠতে পেরেছেন তারা ছাড়া বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই প্রাণ হারিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্বজনরা নিখোঁজদের তথ্য শেয়ার করছেন।

একজন কলেজ শিক্ষক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তার ছোট বোনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, তবে ভাগনে ও নাতি এখনও বাসের ভেতরে আটকে রয়েছে।

উদ্ধার অভিযান

ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর সময় পন্টুনের সোজা পকেট দিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, স্থানীয় ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে এবং ঢাকার সদর দপ্তর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া—ঝড় ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান  করছে।

প্রশাসনের বক্তব্য

প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ও নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।

উত্তেজনা ও নিরাপত্তা

উদ্ধারে বিলম্বের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচিত সংবাদ

View more
সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই
সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই,নিখোঁজ বহু যাত্রী, স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি, উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে বিলম্ব হওয়ায় সেখানে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল প্রায় সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ১০ থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকিদের অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে, ফলে ভেতরে থাকা যাত্রীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ ঘটনার খবর পেয়ে ঘাটে ছুটে আসা স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। এক ভুক্তভোগী জানান, তার পরিবারের পাঁচজন ওই বাসে ছিলেন। তার স্ত্রী, দুই বছরের মেয়ে ও বোন প্রাণে বাঁচলেও সাত বছর বয়সী ছেলে ও ১১ বছরের ভাগনে এখনও নিখোঁজ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সন্তান তো আর নাই। ওর লাশটা আমারে দেন… আমাদের টাকার দরকার নাই, শুধু লাশগুলো দেন।” হতাহতের আশঙ্কা বাড়ছে প্রত্যক্ষদর্শীরা আশঙ্কা করছেন, যারা সাঁতরে উঠতে পেরেছেন তারা ছাড়া বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই প্রাণ হারিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্বজনরা নিখোঁজদের তথ্য শেয়ার করছেন। একজন কলেজ শিক্ষক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তার ছোট বোনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, তবে ভাগনে ও নাতি এখনও বাসের ভেতরে আটকে রয়েছে। উদ্ধার অভিযান ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর সময় পন্টুনের সোজা পকেট দিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, স্থানীয় ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে এবং ঢাকার সদর দপ্তর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া—ঝড় ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান  করছে। প্রশাসনের বক্তব্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ও নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান। উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্ধারে বিলম্বের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস

যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশে গণহত্যার স্বীকৃতির প্রস্তাব উত্থাপন

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব

ট্রাম্প

ইরানের কৌশল: যুদ্ধ দীর্ঘায়িত, ব্যয় বাড়ানো ও ট্রাম্পকে অপসারণের চেষ্টা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, নিহত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী - ২০১৬ সালের ছবি
ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে ভারতের নীরবতা : মোদী সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার ঘটনায়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশ একেকটি পক্ষের সমর্থনে সরব হলেও ভারত সরকারের অবস্থান তুলনামূলকভাবে সংযত। এই নীরবতা ঘিরেই দেশে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। ভারতের সরকারি অবস্থান: সংযম ও কূটনীতির আহ্বান ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতিতে “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” এবং সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতিকে “গুরুতর উদ্বেগের বিষয়” বলে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে আলোচনা করেন এবং পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব ও জর্ডানের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গেও ফোনালাপ করেন। তবে খামেনির মৃত্যু নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করায় প্রশ্ন উঠেছে—ভারত কি কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে, নাকি এটি ঘোষিত পররাষ্ট্রনীতির সঙ্গে অসঙ্গত? ইসরায়েল সফর ও সময় নিয়ে বিতর্ক সম্প্রতি ইসরায়েল সফর করেন নরেন্দ্র মোদী। সফরে দুই দেশের মধ্যে একাধিক কৌশলগত চুক্তি হয় এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের বার্তা দেওয়া হয়। এর আগে ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার তীব্র নিন্দা করে তাকে “বর্বরোচিত” বলে মন্তব্য করেছিলেন মোদী। ‘গাজা পিস ইনিশিয়েটিভ’-এর প্রতিও সমর্থন জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সংঘাত ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সফরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত এক উত্তর সম্পাদকীয় প্রবন্ধে মোদী সরকারের অবস্থানকে সংবিধানের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ভারতের ঐতিহাসিক পররাষ্ট্রনীতি সার্বভৌম সমতা, হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। ইরানের ওপর হামলা ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের নিন্দা না করা সেই নীতির সঙ্গে অসঙ্গত। সোনিয়া গান্ধী আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৯৪ সালে ওআইসি-তে কাশ্মীর ইস্যুতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রস্তাব আনার প্রচেষ্টা ঠেকাতে তেহরান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ-ও মোদীর ইসরায়েল সফরের সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষজ্ঞদের ভিন্নমত দ্য টাইমস কুয়েতের এক্সিকিউটিভ ম্যানেজিং এডিটর র‍্যাভেন ডিসুজা মনে করেন, ভারত সামরিক অভিযানের অংশ না হলেও এই সময়ে ইসরায়েল সফর এড়ানো যেত। তার মতে, আরব দেশগুলো প্রকাশ্যে সমালোচনা না করলেও বিষয়টি নজরে রাখছে। অন্যদিকে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শশাঙ্কের মতে, ইসরায়েল ভারতের দীর্ঘদিনের অংশীদার এবং কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন। সাবেক রাষ্ট্রদূত অনিল ত্রিগুনায়েত বলেন, ভারতের “ডি-হাইফেনেশন নীতি” স্পষ্ট—এক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রভাবিত করে না। কৌশলগত ভারসাম্য না নীতিগত সরে আসা? ভারত ঐতিহাসিকভাবে জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের অন্যতম স্তম্ভ। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখে ইরানের সঙ্গেও সম্পর্ক ধরে রাখা একটি সূক্ষ্ম কূটনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় নীরবতা ভারতের ঐতিহ্যবাহী অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত। অন্যদিকে সরকারের সমর্থকদের মতে, এই নীরবতাই কৌশলগত পরিপক্বতা—যেখানে প্রকাশ্য বিবৃতির চেয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।   মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে বিতর্ক আপাতত থামছে না। ইরান ও ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে ভবিষ্যতে ভারত কীভাবে কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ করবে, তা এখন সময়ই বলে দেবে। পশ্চিম এশিয়ার এই সংকট শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক রাজনীতির ভারসাম্যকেও প্রভাবিত করছে—আর সেই প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রতিটি পদক্ষেপই আন্তর্জাতিক মহলে গভীরভাবে পর্যবেক্ষিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায়  তেহরানে

ইরান ইস্যুতে বাংলাদেশের বিবৃতি নিয়ে সমালোচনা

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

দরিদ্র পরিবার থেকে যেভাবে ক্ষমতার শীর্ষে উঠে এসেছিলেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি কে?

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
খামেনির মৃত্যু হলে থমকে যাবে না ইরান

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি ১৯৮৯ সাল থেকে দেশটি শাসন করছেন, বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়ের মুখোমুখি হচ্ছেন। ৮৬ বছর বয়সী এই শিয়া ইসলামি নেতা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি বিমান হামলার লক্ষ্যবস্তু হন। যদিও খামেনি তেহরানে ছিলেন না এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, তবুও এই হামলা ইরানের আঞ্চলিক শক্তি এবং পারমাণবিক কার্যক্রমের উপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত কয়েক দশক ধরে খামেনি উপসাগরীয় অঞ্চলে সুন্নি মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলেছেন এবং পারমাণবিক প্রযুক্তি উন্নয়ন করেছেন। এই কর্মকাণ্ডগুলি পার্শ্ববর্তী দেশগুলির জন্য এক ধরনের আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। ইরান ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সম্পর্ক এখন উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা পরবর্তী সময়ে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এর আগে, জুন মাসে বেশ কয়েকজন রেভল্যুশনারি গার্ড কমান্ডারের প্রাণহানির পর খামেনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন। ইরান সরকারের বিরুদ্ধে গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়েছিল, যা কঠোরভাবে দমন করা হয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিল। ইরান সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটিকে একটি বড় সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নিরাপত্তা শনিবার সকালে তেহরানসহ একাধিক শহরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলা চললেও, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্পর্কে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার কোনো ক্ষতি হয়নি। এই হামলার পর শহরগুলোর আকাশে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা পরিস্থিতির চরম উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশ্ব রাজনীতিতে ইরানের ভূমিকা এই হামলা শুধু ইরান নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল করে তুলবে। আয়াতুল্লাহ খামেনির নেতৃত্বে ইরান দীর্ঘদিন ধরেই একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বের পরবর্তীকালে দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে, এবং সামরিকভাবে তেহরানকে মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক শক্তিগুলি আরও পদক্ষেপ নিতে পারে।   ইরানের উপর এই হামলা, দেশের রাজনৈতিক সংকট এবং আঞ্চলিক প্রভাবের উপর গভীর প্রভাব ফেলবে বলে মনে হচ্ছে। বিশ্বের নজর এখন ইরানের পরিস্থিতির দিকে। বিশেষত, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির নিরাপত্তা এবং তার শাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যত কেমন হবে, তা সময়ই বলে দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১, ২০২৬ 0
ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ইউক্রেন থেকে মধ্যপ্রাচ্য: ইরানের ড্রোন কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের ভুল হিসাব কি বড় যুদ্ধের ইঙ্গিত?

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর:গোপনীয়তা ও তদারকিতে বিতর্ক

অর্থনীতি

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0




অপরাধ

হাতিরঝিল থানার ওসি

‘নবীন’ পাঞ্জাবির দোকান বন্ধে চাপ: হাতিরঝিল থানার ওসি ক্লোজড, ডিএমপির তদন্ত কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা  দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

সার ডিলার নিয়োগ ও বিতরণ নীতিমালা দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0