Brand logo light

উদ্ধার অভিযান

শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মেয়েকে আগলে রাখলেন মা
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প: নিজের জীবন দিয়ে মেয়েকে বাঁচালেন এক মা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসছে একের পর এক হৃদয়বিদারক গল্প। এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো—নিজের ছোট্ট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আন্দ্রেয়া নামের এক নারী। তিনি ভেনেজুয়েলার ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী। স্বজন ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের মেয়েকে আগলে রেখেছিলেন আন্দ্রেয়া। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে একই ভবনে থাকা তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়, যা অনেকেই অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন।   'একদিন আমি আমাদের মেয়েকে সব বলব' স্ত্রীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন ফুটবলার হেক্টর বেলো। তিনি লেখেন, "একদিন আমি আমাদের মেয়েকে বলব, কীভাবে তুমি তাকে বাঁচিয়েছিলে। বলব, নিজের জীবন দিয়ে তুমি তাকে রক্ষা করেছ। তুমি ছিলে এক সাহসী মা, যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের সন্তানকে ছেড়ে যায়নি।" হেক্টর জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজধানী কারাকাসে ছুটে যান। বর্তমানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আমার মেয়ে ও তার খালা ভালো আছে। তবে আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হচ্ছে না। এই অসহনীয় কষ্টের সময় পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।" ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আরও একটি আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, "আমি কীভাবে আমার মেয়েকে বোঝাব, তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা নিজের জীবন দিয়েছে? আমি তখন সেখানে ছিলাম না, কিছুই করতে পারিনি। আমাকে শক্তি দাও।"   মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত ক্রীড়া সংগঠন ভেনেজুয়েলার ক্রীড়া সংগঠন কুমানা দে কাম্পেওনেস জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আন্দ্রেয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়েছে, তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও আন্দ্রেয়ার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন আরও দুই ফুটবলার এই দুর্যোগে শুধু সাধারণ মানুষ নন, ক্রীড়াঙ্গনও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভেনেজুয়েলা ফুটবল ফেডারেশন (এফভিএফ) এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুই তরুণ ফুটবলার নিহত হয়েছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্লাব স্পোর্ট সান আগুস্তিন নিশ্চিত করেছে, তাদের একাডেমির খেলোয়াড় ভিক্টর পালাসিওসও ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন। ক্লাবটি এক শোকবার্তায় জানায়, "তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।"   সাবেক মিস ভেনেজুয়েলার পরিবারেও শোক ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে ভেনেজুয়েলার পরিচিত ব্যক্তিদের পরিবারেও। সাবেক মিস ভেনেজুয়েলা গিসেল রেয়েস জানিয়েছেন, লা গুয়াইরায় তার মায়ের বসবাস করা ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ওই ঘটনার ধাক্কায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। তিনি জানান, তার মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন নার্স জীবিত উদ্ধার হন এবং তিনিই পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন।   উদ্ধার অভিযান অব্যাহত বুধবার (২৪ জুন) রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
ভেনেজুয়েলায় প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্প: ৫০ হাজারের বেশি নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে নবজাতক উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। রাজধানী কারাকাস থেকে উপকূলীয় লা গুয়াইরা—হাসপাতাল, মর্গ এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন একটাই দৃশ্য—স্বজনের খোঁজে উদ্বিগ্ন মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ১৭২ জন জীবিত আটকে থাকতে পারেন। তবে বিপুলসংখ্যক নিখোঁজ মানুষের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অলৌকিক উদ্ধার: ৩২ ঘণ্টা পর জীবিত নবজাতক বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা শহরে উদ্ধারকাজের মধ্যেই এক বিরল মানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর মাত্র ১৮ দিনের এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এএফপির বরাত দিয়ে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনছেন। উপস্থিত উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে তখন আনন্দের আবহ তৈরি হয়। শিশুটিকে কাপড়ে মুড়ে একজন উদ্ধারকর্মীর হাত থেকে আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তার শরীর আলতো করে পরিষ্কার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আন্দ্রেয়িনা কুইন্তেরোর প্রকাশিত ভিডিও এবং চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযানের প্রায় এক ঘণ্টা পর একই ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, ভূমিকম্পের সময় মা নিজের শরীর দিয়ে সন্তানকে আড়াল করে রেখেছিলেন। সেই আত্মত্যাগই শিশুটির জীবন রক্ষা করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কার্লোস, হাল ছাড়েনি পরিবার ভূমিকম্পের দুই দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবনের ইঙ্গিত মিলছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদোয়ার্দো ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন। শনিবার তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার গোঙানির শব্দ শুনেছেন। কার্লোসের এক চাচাত ভাই বলেন, "প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে আমরা তার গোঙানির শব্দ শুনেছি। এরপর আর কোনো সাড়া পাইনি।" পরিবারের খবর পেয়ে একটি স্প্যানিশ উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায়। তবে তারা জীবনের নিশ্চিত কোনো আলামত শনাক্ত করতে পারেনি। তবুও পরিবার হাল ছাড়েনি। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে তারা নিজেরাই হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট, ক্ষোভ বাড়ছে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে উদ্ধার তৎপরতার ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ক্রেন, এক্সকাভেটর ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জামের অভাবে বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। হুগো শ্যাভেজ হাউজিং কমপ্লেক্সের বাসিন্দা জেনিফার পালাসিও জানান, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, যার মধ্যে ছয় বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা। তার ভাষায়, "জীবিত মানুষদের বাঁচাতে এখনই ভারী যন্ত্রপাতি দরকার।" অন্যদিকে কারাবালেদার ৭৩ বছর বয়সী আইনজীবী রিকার্ডো ত্রিয়াস অভিযোগ করেন, তার ধর্মপুত্র আরমান্দো লোপেজের মরদেহ উদ্ধার হলেও তা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। তিনি দ্রুত ফরেনসিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। আফটারশকে নতুন আতঙ্ক, লুটপাটের ঘটনাও শুক্রবার বিকেলে ৪.৯ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হলে রাজধানী কারাকাস ও মারাকাই শহরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই লা গুয়াইরার কাতিয়া লা মার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ছে মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে উদ্ধার অভিযানে জাহাজ, হেলিকপ্টার ও বিমান পাঠানো হয়েছে। এল সালভাদরের ৫০ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ড্রোন, তাপীয় স্ক্যানার এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চালাচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কয়েকটি ভবনের ভেতর থেকে এখনও মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি বহুতলের নবম তলায় আটকে থাকা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার পোষা প্রাণীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অর্থনৈতিক ক্ষতি ও রাজনৈতিক চাপ জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই দুর্যোগ দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে। এমনটি হলে এটি লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে গত শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার আশঙ্কা, এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কোথাও শিশুর কান্না, কোথাও ক্ষীণ গোঙানি, কোথাও আবার নিস্তব্ধতা। প্রতিটি ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমছে, কিন্তু স্বজনদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। উদ্ধারকারীদের কাছে এখন প্রতিটি ইট সরানো মানেই হয় নতুন একটি মৃত্যু, নয়তো আরেকটি অলৌকিক জীবনের সন্ধান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত
ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ২৩৫, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ বহু মানুষ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি। রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পরপর দুই ভূমিকম্প, ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২, যার মাত্র কয়েক সেকেন্ড বা প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পই ছিল অগভীর। প্রথমটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ২০.৩ কিলোমিটার নিচে এবং দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হয় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, এ পর্যন্ত ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরা অঞ্চলে। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, লা গুয়াইরায় একটি ১০ তলা হোটেল সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে স্বজনদের খোঁজে বহু মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাজধানী কারাকাসেও বহু আবাসিক ভবন, সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কিত মানুষকে ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। "মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী কাঁপছে" কারাকাসের এক বাসিন্দা বলেন, "মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী দীর্ঘ সময় ধরে কেঁপে উঠছে।" অন্যদিকে লিয়েন্ডার নামে আরেক বাসিন্দা জানান, বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুরো রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন। মেডিকেল শিক্ষার্থী হুয়ান ওর্তিজ বিবিসিকে বলেন, তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় তার পরিচিত অন্তত ২০ জন এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, "আমি হতবাক এবং অসহায় বোধ করছি। সাহায্য করতে না পারার হতাশা কাজ করছে।" আফটারশকে বাড়ছে উদ্বেগ ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১৩৮টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও পরবর্তী এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তত ৩০টি উল্লেখযোগ্য আফটারশকের কথা জানান। ক্রমাগত আফটারশকের কারণে দুর্বল ভবনগুলো আরও ধসে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহায়তা অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধাও চালু করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, স্পেন, কাতার এবং জাতিসংঘের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, পরিবহন বিমান এবং ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ দেলসি রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসের কাছে মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুরুতর ক্ষতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে ছাদ থেকে ধুলো ও ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে। আরও প্রাণহানির আশঙ্কা USGS সতর্ক করেছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। সংস্থাটির প্রাথমিক ঝুঁকি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে— ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ। এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এগুলো কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়; অতীতের অনুরূপ ভূমিকম্প, জনঘনত্ব, কম্পনের মাত্রা ও গভীরতা বিবেচনায় জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার জন্য তৈরি করা ঝুঁকি মূল্যায়ন। জাতীয় সংকট জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে একটি বড় জাতীয় সংকটের মুখোমুখি। তার ভাষায়, "এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আগামী কয়েক দিনে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
দিল্লির মেহরৌলিতে পাঁচতলা ভবন ধস: নিহত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের রাজধানী দিল্লির মেহরৌলি এলাকায় একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন ধসে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কেউ আটকে আছেন কি না, তা নিশ্চিত হতে উদ্ধারকারীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), দমকল বিভাগ, দিল্লি পুলিশ এবং জেলা বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরোনো ভবনটি হঠাৎ করেই ধসে পড়ে। ভবনের একটি অংশ পাশের আরেকটি স্থাপনার ওপর গিয়ে পড়ায় সেখানে অবস্থানরত কয়েকজনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন বলে জানা গেছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে সম্ভাব্য আটকে পড়াদের সন্ধান করছেন। এ ঘটনায় নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পেছনে কী ছিল? দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ ভবনটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল এবং নির্মাণ কিংবা রক্ষণাবেক্ষণে অনিয়ম থাকতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারির ঘাটতির কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো অনেক সময় ব্যবহার উপযোগী হিসেবেই থেকে যায়। ফলে এমন দুর্ঘটনা প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যদিও ভবন ধসের সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি, তবে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে। স্থানীয়দের ভূমিকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবন ধসের পর উদ্ধারকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেরাই উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে কয়েকজনকে বের করে আনতেও তারা সহায়তা করেন। এ ধরনের ঘটনায় দুর্ঘটনার পরের প্রথম কয়েক ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা। কারণ এই সময়ের মধ্যেই আটকে পড়া ব্যক্তিদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত প্রশাসনের আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন। এ কারণে ভারী যন্ত্রপাতি ও বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো এলাকা নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনা হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩১, ২০২৬ 0
নারী-শিশুসহ ১১ জনকে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী
রাঙামাটিতে নৌকাডুবি: অল্পের জন্য রক্ষা, দ্রুত অভিযানে ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাঙামাটির দুর্গম জুরাছড়ি উপজেলায় কাপ্তাই হ্রদের বুকে ঘটে যাওয়া একটি নৌকাডুবির ঘটনায় নারী ও শিশুসহ ১১ জন যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্থানীয় সময় বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত প্রায় ৮টার দিকে কারবারি পাড়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রিপুরা সম্প্রদায়ভুক্ত নারী, শিশু ও পুরুষ মিলিয়ে ১১ জন একটি ছোট নৌকায় করে গন্তব্যে যাচ্ছিলেন। যাত্রাপথে হঠাৎ যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ডুবে যায়।  দ্রুত সাড়া, সময়মতো উদ্ধার ঘটনার খবর দ্রুত পৌঁছে যায় নিকটবর্তী রাজমনিপাড়া আর্মি ক্যাম্পে। এরপর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়। দুর্গম এলাকা এবং রাতের অন্ধকার সত্ত্বেও তারা দ্রুত সেখানে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। সেনাবাহিনীর সদস্যরা পানিতে ডুবে যাওয়া নৌকার সব যাত্রীকে একে একে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসেন। দ্রুত এই অভিযান সম্পন্ন হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা কাটে। ঝুঁকিতে ছিলেন একজন গর্ভবতী নারী উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে একজন সন্তানসম্ভবা নারী অসুস্থ বোধ করলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় তাকে দ্রুত রাঙামাটি সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়, যাতে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়। অন্যদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই ঘটনায় কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কাপ্তাই হ্রদে নিয়মিত যাতায়াতকারী ছোট নৌযানগুলোর নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দুর্গম এলাকায় নৌযানই প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হওয়ায় এ ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ফলে নিয়মিত তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জোরদার দাবি জানিয়েছেন তারা। কৃতজ্ঞতা ও স্বস্তি দ্রুত ও কার্যকর উদ্ধার অভিযানের জন্য ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সময়মতো এই পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারত।   এই ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দেয়, দুর্গম জলপথে চলাচলের ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটিও বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে—আর সেই ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি ও দ্রুত প্রতিক্রিয়াই হতে পারে জীবনরক্ষার একমাত্র ভরসা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি
দৌলতদিয়ায় বাসডুবি: নিহত ২৬, জীবিত উদ্ধার ৮,লাশ উদ্ধার অভিযান সাময়িক স্থগিত

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় জীবিত উদ্ধার হয়েছেন ৮ জন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আপাতত উদ্ধার অভিযানে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে। তবে নিখোঁজদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে পুনরায় উদ্ধার অভিযান চালানো হবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে নিখোঁজদের তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি তথ্যকেন্দ্র চালু রয়েছে। কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ থাকলে স্বজনরা ইউএনও অফিস বা ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করলে উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করা হবে। এর আগে ঘটনাস্থলে উপস্থিত নৌবাহিনীর এক কর্মকর্তা মাইকিং করে নিখোঁজদের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস, নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম জানান, বুধবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় উদ্ধার অভিযান চালিয়ে রাত ১২টা ৩৮ মিনিটে বাসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে প্রায় ৪০ জন যাত্রী ছিলেন। উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয়দের সহায়তায় ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও ৫ জন নারী থাকলেও হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক দুই নারীকে মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাসের ভেতর থেকেই ২২ জনের মরদেহ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ১১ জন নারী এবং ৫ জন শিশু (৪ জন ছেলে ও ১ জন মেয়ে) রয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৬ জনে। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার করেছে ২৩ জন, স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ২ জনকে হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয় এবং নৌবাহিনীর ডুবুরিরা উদ্ধার করেন আরও ১ জন। উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ও ১০ জন ডুবুরি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। বর্তমানে নিখোঁজদের সন্ধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আবারও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই
সন্তানের লাশটা আমারে বুঝায়ে দেন ভাই,নিখোঁজ বহু যাত্রী, স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ

দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী একটি বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় স্বজনদের আহাজারি, উৎকণ্ঠা ও ক্ষোভে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে বিলম্ব হওয়ায় সেখানে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল প্রায় সোয়া ৫টার দিকে ঘাটের ৩ নম্বর পন্টুন এলাকায় কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’-এর একটি বাস ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাসটিতে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় ১০ থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকিদের অনেকেই এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বাসটি প্রায় ৬০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে, ফলে ভেতরে থাকা যাত্রীদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। স্বজনদের আহাজারি ও ক্ষোভ ঘটনার খবর পেয়ে ঘাটে ছুটে আসা স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। অনেকেই অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করতে বিলম্ব হয়েছে। এক ভুক্তভোগী জানান, তার পরিবারের পাঁচজন ওই বাসে ছিলেন। তার স্ত্রী, দুই বছরের মেয়ে ও বোন প্রাণে বাঁচলেও সাত বছর বয়সী ছেলে ও ১১ বছরের ভাগনে এখনও নিখোঁজ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমার সন্তান তো আর নাই। ওর লাশটা আমারে দেন… আমাদের টাকার দরকার নাই, শুধু লাশগুলো দেন।” হতাহতের আশঙ্কা বাড়ছে প্রত্যক্ষদর্শীরা আশঙ্কা করছেন, যারা সাঁতরে উঠতে পেরেছেন তারা ছাড়া বাসে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই প্রাণ হারিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও স্বজনরা নিখোঁজদের তথ্য শেয়ার করছেন। একজন কলেজ শিক্ষক তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, তার ছোট বোনের লাশ উদ্ধার হয়েছে, তবে ভাগনে ও নাতি এখনও বাসের ভেতরে আটকে রয়েছে। উদ্ধার অভিযান ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন, পুলিশ, নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফেরিতে গাড়ি ওঠানোর সময় পন্টুনের সোজা পকেট দিয়ে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন জানান, স্থানীয় ডুবুরি দল উদ্ধার কাজ শুরু করেছে এবং ঢাকার সদর দপ্তর থেকে বিশেষ ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া—ঝড় ও বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান  করছে। প্রশাসনের বক্তব্য প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আবহাওয়া ও নদীর স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিলম্ব হলেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান। উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্ধারে বিলম্বের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা স্লোগান দিতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেনাবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
দৌলতদিয়া ঘাটে বাসডুবি
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ বাসডুবি: টেনে তোলা হলো বাস

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ভয়াবহ বাসডুবির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’র সহায়তায় পানির নিচে ডুবে যাওয়া বাসটি টেনে তোলা হয়। বুধবার রাত ১২টা ৫০ মিনিটে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে রাত সোয়া ১১টার দিকে ডুবে থাকা বাসটির একটি অংশ দৃশ্যমান হয় এবং সাড়ে ১১টার দিকে জাহাজ ‘হামজা’র ক্রেন দিয়ে পুরো বাসটি পানির ওপরে তোলা হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাসটি থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে আরও দুইজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে রাত ১২টা ৩৫ মিনিটে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, তখন পর্যন্ত ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে তিনজন শিশু, ছয়জন নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। জানা গেছে, বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে নদী পারাপারের জন্য অপেক্ষমাণ ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। শুরুতে বাসটিতে মাত্র ছয়জন যাত্রী থাকলেও পথিমধ্যে বিভিন্ন কাউন্টার থেকে যাত্রী ওঠানো হয়। কাউন্টার মাস্টারের তথ্যমতে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে অন্তত ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা আবদুস সালাম জানান, ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সড়কে বাসটি দাঁড়িয়ে ছিল। ফেরি ঘাটে ভেড়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ বাসটি চলতে শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। চালক অনেক চেষ্টা করেও বাসটি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি। রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার সাংবাদিকদের জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি তাকে নিয়মিত পরিস্থিতি অবহিত করতে বলা হয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কমিটিতে জেলা প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি এবং পুলিশের প্রতিনিধিরা থাকবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ডিসি সুলতানা আক্তার
যাত্রীবাহী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে: ডিসি সুলতানা আক্তার

রাজবাড়ী: রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (বিকেল সোয়া ৫টার দিকে) এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। জানা গেছে, সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে এসে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটের পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। বাসটিতে মোট ৫৬ জন যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জানান, বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ছাড়ার পর বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী উঠেছিল। কুষ্টিয়া অঞ্চলের প্রায় ২০-২৫ জন যাত্রী ছাড়াও পাংশা ও অন্যান্য স্থান থেকে আরও যাত্রী ওঠেন। ফেরিতে ওঠার সময় মাত্র তিনজন যাত্রী বাসের বাইরে ছিলেন, বাকিরা ভেতরে অবস্থান করছিলেন। তিনি আরও জানান, বাসটির গতি বেশি থাকায় ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি সরাসরি নদীতে পড়ে যায়। স্থানীয়দের বরাতে তিনি বলেন, অন্তত ৭ জন যাত্রী নদী থেকে সাঁতরে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এখনও ৩০ থেকে ৪০ জনের মতো যাত্রী বাসের ভেতরে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পরপরই উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদীতে নেমে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইন্সপেক্টর মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানান, বাসটি প্রায় ৩০ ফুট গভীরে তলিয়ে গেছে। খবর পাওয়ার ছয় মিনিটের মধ্যে গোয়ালন্দ থেকে একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং পরে আরিচা থেকে আরেকটি দল যোগ দেয়। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ সদস্যের একটি উদ্ধারকারী দল কাজ করছে। উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় ডুবুরি দল সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। বিআইডব্লিউটিসির এক কর্মচারী জানান, পাটুরিয়া থেকে আসা একটি ফেরি আনলোড হওয়ার সময় বাসটি সাইড করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। ঢাকা থেকেও অতিরিক্ত ডুবুরি দল পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। নদীর গভীরতা বেশি হওয়ায় উদ্ধার অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে। নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
স্বজনদের অপেক্ষা-আহাজারি
দৌলতদিয়ার পদ্মা নদীতে বাসডুবি: ফেরিঘাটে স্বজনদের অপেক্ষা-আহাজারি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। বাসটিতে অর্ধশতাধিক যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কয়েকজনকে উদ্ধার করা গেলেও অধিকাংশ যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। বুধবার (২৪ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটিতে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ১১ জন যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও বাকিরা নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’, ফায়ার সার্ভিসের সদস্য এবং মানিকগঞ্জ ও ফরিদপুর থেকে আসা ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে রাত ৮টার পর প্রবল ঝড়-বৃষ্টির কারণে উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ জানান, ফেরিতে ওঠার সময় হঠাৎ করেই বাসটি পদ্মায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। এদিকে, নিখোঁজ যাত্রীদের স্বজনদের আহাজারিতে ফেরিঘাট এলাকায় শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনাও ঘটে। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। উদ্ধার হওয়া এক যাত্রী আইন উদ্দিন জানান, তিনি পরিবারসহ ঢাকার সাভার যাচ্ছিলেন। পরিবারের সবাই বেঁচে ফিরলেও তার মেয়ে এখনও বাসের মধ্যে নিখোঁজ রয়েছে। অন্যদিকে, স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তার ছোট বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা এখনও নিখোঁজ। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত তিনজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুই নারী নিহত হয়েছেন। জেলা সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তথ্য জানার জন্য রাজবাড়ী জেলা প্রশাসনের কন্ট্রোল রুম নম্বর: ০১৭৩৩৩৩৬৪০৯।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন উদ্ধার
টেকনাফ থেকে ৫৫ জন উদ্ধার, মানবপাচারে ৫ জন আটক: বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অভিযান

উন্নত জীবনের প্রলোভনে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে ৫৫ জনকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড। এ সময় মানবপাচারে জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া-সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কোস্টগার্ড সদর দপ্তারের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নারী ও শিশুসহ বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি টেকনাফের বাহারছড়া সমুদ্র এলাকায় অবস্থান করছে এমন গোপন তথ্য পাই আমরা। পরে বৃহস্পতিবার রাতে কোস্টগার্ডের ৩টি দল সেখানে বিশেষ অভিযান শুরু করে। অভিযানে সাগরে একটি সন্দেহজনক ট্রলারকে থামার সংকেত দেয়া হলে তা অমান্য করে ট্রলারটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তবে কোস্টগার্ড সদস্যরা ধাওয়া করে টেকনাফের বাহারছড়ার কচ্ছপিয়া-সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় ট্রলারটি আটক করতে সক্ষম হন। তিনি আরও বলেন, পরে ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে নারী ও শিশুসহ ৫৫ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি ৫ জন মানবপাচারকারীকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, কয়েকটি সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্র বিদেশে উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন, উচ্চ বেতনের চাকরি এবং অল্প খরচে বিদেশযাত্রার প্রলোভন দেখিয়েছিল। টেকনাফসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের মালয়েশিয়ায় নিয়ে যেতে সাগরপথে পাচারের পরিকল্পনা করছিল তারা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও আটক মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া মানবপাচার রোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান কোস্টগার্ডের এই কর্মকর্তা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0