ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের শিক্ষা প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল এনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এবং দেশের পাঁচটি শিক্ষা বোর্ডে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
সোমবার (৮ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। মন্ত্রণালয় বলছে, জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
নতুন নিয়োগ অনুযায়ী, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম কমার্স কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা। দেশের পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, পাঠ্যপুস্তক প্রণয়ন ও শিক্ষা নীতির বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত এই প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে পরিবর্তনকে শিক্ষা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ময়মনসিংহ শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোর্ড হিসেবে পরিচিত ঢাকা বোর্ডের প্রশাসনিক ও পরীক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রমে তার নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে বোর্ডটির বর্তমান সচিব শামীম আরা চৌধুরীকে। দীর্ঘদিন প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় নিয়েই তাকে এই পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে শিক্ষা প্রশাসনের সূত্রগুলো জানিয়েছে।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দাউদকান্দি-দেবিদ্বার সরকারি এসএস কলেজের অধ্যক্ষ মো. আহসান পারভেজ। একই সঙ্গে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খুলনার হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফারুখে আযম মু. আব্দুস ছালামকে।
এছাড়া বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের বর্তমান সচিব অধ্যাপক খোন্দকার মোহাম্মদ সাদেকুর রহমান।
শিক্ষা খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্ব পরিবর্তন সরকারের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনার প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। বিশেষ করে পাঠ্যক্রম বাস্তবায়ন, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনা, সনদ প্রদান এবং শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন চলমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন নেতৃত্বের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণে থাকবে সংশ্লিষ্ট মহল।
তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে এসব পরিবর্তনের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। মন্ত্রণালয় শুধু জানিয়েছে, জনস্বার্থ বিবেচনায় এ নিয়োগাদেশ জারি করা হয়েছে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পাবনা শহরে সন্তানের সামনেই আলী হোসেন (৫৩) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার একজন স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে সন্তানকে মাদরাসায় রাখতে যান আলী হোসেন। এ সময় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলী হোসেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাটি ছিল অত্যন্ত দ্রুত এবং লক্ষ্যভেদী। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা আলী হোসেনের গতিবিধি সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত ছিল। তবে হত্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এবং শিশুর উপস্থিতিতে সংঘটিত এমন হত্যাকাণ্ড এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার পর মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নিহতের সাম্প্রতিক যোগাযোগের তথ্য পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটনে তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ এক দশক ধরে দেশের অন্যতম আলোচিত ও রহস্যাবৃত হত্যাকাণ্ড হিসেবে আলোচনায় থাকা সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলার তদন্তে নতুন অগ্রগতি এসেছে। কুমিল্লার একটি আদালত দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন এবং তাঁদের অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (৮ জুন) বিকেলে কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতের বিচারক মুমিনুল হক এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশীদ। কারা এই দুই সাবেক সেনাসদস্য? আদালতের আদেশে যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন তৎকালীন কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত সার্জেন্ট জাহিদুজ্জামান (জাহিদ) এবং সৈনিক শাহীন আলম। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের সময় জাহিদুজ্জামান ১২ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার গড়ঘাটা এলাকায়। অন্যদিকে শাহীন আলম তখন ২ সিগন্যাল ব্যাটালিয়নে দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর বাড়ি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। আদালতের নির্দেশনায় কী আছে? মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম সম্প্রতি আদালতে একটি আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে দুই সাবেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ গ্রহণ এবং হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা নথি সেনাবাহিনীর কাছে থাকলে তা তদন্তকারী সংস্থাকে সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়। আদালত ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পরোয়ানা জারি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার নির্দেশ দেন। তদন্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম বলেন, মামলাটির শুনানির তারিখ থাকলেও আদালতের আদেশের অনুলিপি হাতে না পাওয়ায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করতে পারেননি। ডিএনএ বিশ্লেষণে নতুন তথ্য তদন্তে সম্প্রতি আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা আলামতের ডিএনএ বিশ্লেষণে পূর্বে শনাক্ত তিনজনের পাশাপাশি আরও একজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নতুন করে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তির রক্তের নমুনার সঙ্গে আলামত থেকে পাওয়া নমুনার মিল পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের মতে, এই তথ্য মামলার গতিপথে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে এবং দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সহায়ক হতে পারে। কারাগারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমানকে সোমবার কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তাঁর পক্ষে কোনো জামিন আবেদন না থাকায় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার। ২০২৩ সালে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। চলতি বছরের ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন। এক দশকের বেশি সময় ধরে উত্তরহীন প্রশ্ন ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু টিউশনি করতে গিয়ে নিখোঁজ হন। পরে কুমিল্লা সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসসংলগ্ন একটি ঝোপ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে হত্যার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা, প্রতিবাদ ও প্রশ্ন তৈরি হয়। বিভিন্ন সময় তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে সমালোচনাও হয়েছে। সাম্প্রতিক আদালতের নির্দেশনা, নতুন ডিএনএ তথ্য এবং সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে প্রায় এক দশক ধরে আলোচিত এই মামলাটি আবারও নতুন করে জনমতের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এখন নজর থাকবে, নতুন তদন্ত তথ্য ও আইনগত পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত তনু হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং বিচার নিশ্চিত করতে কতটা ভূমিকা রাখতে পারে তার ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপ্যারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল—এই দুই মাসে দেশে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ২০৯টি ধর্ষণ, ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। রোববার (৭ জুন) রাজধানীর ধানমন্ডিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। ‘সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতিবিরোধী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের ১০০ দিনের কার্যক্রম’ শীর্ষক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনের বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করা হয় অনুষ্ঠানে। অপরাধের পরিসংখ্যান কী বলছে? টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে সংঘটিত অপরাধের সংখ্যা দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংস্থাটির তথ্যমতে— হত্যাকাণ্ড: ৬০৫টি ধর্ষণ: ২০৯টি নারী ও শিশু নির্যাতন: ৩,৪৯৬টি অপহরণ: ১৯৬টি এছাড়া একই সময়ে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৮০টি ঘটনায় ৪২ জন নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচিত সময়কালে একটি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং কারা হেফাজতে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিন: আশার পাশাপাশি উদ্বেগ নির্বাচন-পরবর্তী সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম মূল্যায়ন করতে গিয়ে টিআইবি বলছে, কিছু ইতিবাচক সম্ভাবনা দৃশ্যমান হলেও সুশাসন প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দুর্নীতি প্রতিরোধে এখনো সুস্পষ্ট ও কার্যকর রোডম্যাপের ঘাটতি রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও নীতিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কিছু উদ্যোগ দেখা গেলেও বাস্তবায়ন কাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রশ্নে এখনও উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। তার মতে, এসব সীমাবদ্ধতা দূর করা না গেলে ভবিষ্যতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের বাধা তৈরি হতে পারে। নিয়োগে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ টিআইবির পর্যবেক্ষণে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনার অভিযোগও গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটি মনে করছে, প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত না হলে প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ জনআস্থার জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিতে পারে। উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগে দুদকের ভূমিকা চাইল টিআইবি সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও মন্তব্য করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক। তিনি বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা থাকলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উচিত নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্ত পরিচালনা করা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের ঘোষিত অবস্থানকে বিশ্বাসযোগ্য করতে হলে অভিযোগের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা পদমর্যাদা নয়, বরং তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিবেদন? বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা, মানবাধিকার এবং সুশাসন নিয়ে আলোচনার মধ্যে টিআইবির এই প্রতিবেদন নতুন করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মব সহিংসতার পরিসংখ্যান জননিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে সুশাসন, জবাবদিহিতা এবং দুর্নীতি দমনের ক্ষেত্রে সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, বিচারিক স্বচ্ছতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ—এই চারটি ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের সক্ষমতা আগামী দিনের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।