Brand logo light

দক্ষিণ এশিয়া

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন সন্ধিক্ষণে: হাসিনার ফেরার ঘোষণা কি বদলে দেবে কূটনৈতিক সমীকরণ?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :   বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আবারও এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। প্রায় আড়াই বছর আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা হারিয়ে দেশ ছাড়ার পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি নতুন মাত্রা পেয়েছে। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের উদ্দেশে দেওয়া এক অনলাইন বক্তব্যে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে ফিরলে কারাবরণ কিংবা মৃত্যুদণ্ডের মতো পরিণতির আশঙ্কা থাকলেও দেশের মানুষের সেবা করার দায়িত্ববোধ থেকেই তিনি ফিরতে চান। এই ঘোষণার পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ঢাকা। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অভিযোগ করে, নয়াদিল্লিতে এমন সংবাদ সম্মেলনের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে আগেই ভারতকে সতর্ক করা হয়েছিল। তারপরও অনুষ্ঠানটি আয়োজনের সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। ঢাকার দৃষ্টিতে, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিন এমন আয়োজন শুধু কূটনৈতিক সংবেদনশীলতাই নয়, বরং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতিও অসম্মান। ভারত কী বলছে? ভারত সরকার শুরু থেকেই নিজেদের এই আয়োজন থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছে। তাদের দাবি, ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ভারতের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সরকারিভাবে কোনো অনুমোদনও দেওয়া হয়নি। তবে এই ব্যাখ্যা ঢাকার উদ্বেগ দূর করতে পারেনি। ২০২৪ সালের গণ-আন্দোলনের ছায়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় এক মোড় তৈরি করে। আন্দোলন দমনে কঠোর অভিযানে এক হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারত চলে যান। তার ভারতে অবস্থান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের বিষয়। বিশেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এরপর থেকেই বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করা এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে প্রত্যর্পণের আহ্বান জানায়। কিন্তু ভারত এখন পর্যন্ত সেই অনুরোধে সাড়া দেয়নি। নয়াদিল্লির কৌশলগত হিসাব ভারতের নীতিনির্ধারকদের কাছে বাংলাদেশ কেবল প্রতিবেশী নয়; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। ৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত, উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে স্থল যোগাযোগ, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং বিদ্রোহ দমনে বাংলাদেশের সহযোগিতা ভারতের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। নয়াদিল্লির ধারণা, জোরপূর্বক শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠানো ভারতের জন্য গ্রহণযোগ্য বিকল্প নয়। তবে তার স্বেচ্ছায় দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত বর্তমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত করতে পারে। কূটনৈতিক মহলে এমন গুঞ্জনও রয়েছে যে, দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে ভারত নীরবে যোগাযোগ রাখছে। যদিও এ বিষয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ক্ষমতার পালাবদল ও বদলে যাওয়া কূটনীতি শেখ হাসিনার সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। কিন্তু তার পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি এবং ভারতের উদ্বেগকে গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগে সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সম্পর্ক পুনর্গঠনের চেষ্টা শুরু হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি ও লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার উপস্থিতি সেই বার্তারই অংশ হিসেবে দেখা হয়। এরপর ভারত বাংলাদেশে জ্বালানি সহায়তা হিসেবে ৪৫ হাজার টন ডিজেল পাঠায়, নতুন রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেয় এবং সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানায়। তবে একই সময়ে পাকিস্তান, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বৃদ্ধিকে ভারত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে। সামনে বড় পরীক্ষা: গঙ্গা ও তিস্তা দুই দেশের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর একটি হলো পানিবণ্টন। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গা চুক্তির ৩০ বছরের মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর প্রবাহ এবং আঞ্চলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নতুন চুক্তি দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বহু বছর ধরে ঝুলে থাকা তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তিও আবার আলোচনায় এসেছে। বর্তমানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং পশ্চিমবঙ্গ—উভয় জায়গাতেই বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় নতুন সমঝোতার সম্ভাবনা আগের তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন অনেক পর্যবেক্ষক। চীনের প্রভাব নিয়ে ভারতের উদ্বেগ ভারতের পার্লামেন্টারি কমিটি অন এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্স সম্প্রতি সরকারকে বাংলাদেশে উন্নয়ন সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। কমিটির মতে, বাংলাদেশে অবকাঠামো, বন্দর উন্নয়ন এবং প্রতিরক্ষা খাতে চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। তাদের সুপারিশ—বিশ্বাসভিত্তিক অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী করে বাংলাদেশে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করতে হবে। একদিকে বিচার, রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার প্রশ্ন; অন্যদিকে সীমান্ত, বাণিজ্য, পানি, আঞ্চলিক কৌশল এবং চীন-ভারত প্রতিযোগিতার বাস্তবতা—সব মিলিয়ে আগামী কয়েক মাস দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল সময় হতে যাচ্ছে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন এবং একই সময়ে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন এক পরীক্ষার সামনে দাঁড় করিয়েছে। এই সংকট কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তার ওপরই নির্ভর করবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের আগামী অধ্যায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0
ভারত সীমান্তে পাকিস্তানের ২৫০ এসএইচ-১৫ কামান মোতায়েনের দাবি

ভারত সীমান্তে ২৫০টি এসএইচ-১৫ ট্রাক-মাউন্টেড সেলফ-প্রোপেল্ড হাউইটজার মোতায়েন করেছে পাকিস্তান। ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলোতে চীনের তৈরি এই ১৫৫ মিলিমিটারের কামান ব্যবস্থাগুলো সুসংগঠিতভাবে স্থাপন করতে শুরু করেছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। সোমবার (৩ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।  মূলত, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের ‘অপারেশন সিঁদুর’ অভিযানের পর নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে পাকিস্তান।  প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা সংস্থা নোরিনকো’র তৈরি এসএইচ-১৫ মূলত পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) ব্যবহৃত পিসিএল-১৮১ হুইলড সেলফ-প্রোপেল্ড হাউইটজারের রপ্তানি সংস্করণ। ৬X৬ আর্মার্ড শানসি ট্রাক চ্যাসিসের ওপর স্থাপিত এই কামান ব্যবস্থা দ্রুত মোতায়েন ও উচ্চ গতিশীলতার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলতে পারে এবং দুর্গম এলাকায় দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনে সক্ষম। এই ১৫৫ মিমি/৫২-ক্যালিবআরের আর্টিলারি প্ল্যাটফর্ম থেকে মানসম্মত ন্যাটো-স্ট্যান্ডার্ড গোলাবারুদ ছুড়ে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা সম্ভব। অন্যদিকে, রকেট-অ্যাসিস্টেড ভি-ল্যাপ প্রজেক্টাইল ব্যবহার করে এটি দিয়ে ৫৩ থেকে ৭২ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালানো যায় বলে জানা গেছে। চীনা এই কামান ব্যবস্থা একটি স্বয়ংক্রিয় ফায়ার-কন্ট্রোল সিস্টেম এবং হাইড্রোলিক স্ট্যাবিলাইজিং স্পেড দ্বারা সজ্জিত। ফলে, এর ক্রুরা খুব দ্রুত কামান প্রস্তুত করে মিনিটে ৬ রাউন্ড পর্যন্ত গোলাবর্ষণ করতে পারে। প্রতিপক্ষ ঠিকঠাক বুঝে ওঠার আগেই এটি দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে সরে যেতে পারে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা সূত্র বলছে, ২৫০টি এসএইচ-১৫ ব্যবস্থার সংযোজন একাধিক আর্টিলারি রেজিমেন্টকে সজ্জিত করার জন্য যথেষ্ট। এটি পাকিস্তানের দূরপাল্লার কনভেনশনাল স্ট্রাইক ক্ষমতাকে বহুলাংশে বাড়িয়ে দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0
সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত: যুদ্ধের হুঁশিয়ারি, কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও দক্ষিণ এশিয়ার নতুন জল-সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা-সংকট এবার আরও স্পষ্টভাবে পানি কূটনীতির কেন্দ্রে এসে দাঁড়িয়েছে। ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি কার্যত স্থগিত রাখার ভারতের সিদ্ধান্তকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি বলেছেন, পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতকে মোকাবিলায় যুদ্ধ করতেও প্রস্তুত রয়েছে পাকিস্তান। বিশ্লেষকদের মতে, পানি ইস্যু এখন শুধু সম্পদ ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন নয়; এটি দুই পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা হয়ে উঠছে। সেনাবাহিনীর বার্তা: পানি নিরাপত্তা রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার মঙ্গলবার (৬ জুলাই) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ২৭৬তম কোর কমান্ডারস সম্মেলনে সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের প্রাপ্য পানি নিশ্চিত করতে সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। সেনাবাহিনীর এই অবস্থান থেকে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ইসলামাবাদ পানি ইস্যুকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। উত্তেজনার সূত্র কোথায় বর্তমান সংকটের পটভূমিতে রয়েছে গত বছর পেহেলগামে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলা, যেখানে ২৬ জন নিহত হন। ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত একাধিক কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় নয়াদিল্লি ১৯৬০ সালের সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। এরপর থেকেই দুই দেশের মধ্যে পানি কূটনীতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিলাওয়াল ভুট্টোর যুদ্ধের ইঙ্গিত এক জনসভায় পাকিস্তান পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি অভিযোগ করেন, ভারত সিন্ধু নদীর পানিকে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে। তিনি বলেন, "সিন্ধু পানি চুক্তির বিষয়ে পাকিস্তান কোনো ধরনের আপস করবে না এবং প্রয়োজন হলে যুদ্ধের পথেও যেতে প্রস্তুত থাকবে।" তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যেও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ভারতের অবস্থান অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত সপ্তাহে বলেন, "সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে ভারতের উদ্বেগ দূর না হওয়া পর্যন্ত সিন্ধু পানি চুক্তি স্থগিতই থাকবে।" তিনি আরও দাবি করেন, পাকিস্তানকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে সন্ত্রাসে সমর্থন বন্ধের পদক্ষেপ নিতে হবে। ভারতের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তারা পানি চুক্তির বিষয়টিকে নিরাপত্তা ও সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত উদ্বেগের সঙ্গে যুক্ত করছে। সিন্ধু পানি চুক্তি কী বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি অনুযায়ী— রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার ভারতের। সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাব নদীর পানি ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের। এই চুক্তিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অন্যতম সফল আন্তঃসীমান্ত পানি বণ্টন চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেন উদ্বিগ্ন পাকিস্তান পাকিস্তানের কৃষি উৎপাদনের বড় অংশ সিন্ধু অববাহিকার নদীগুলোর ওপর নির্ভরশীল। দেশটির সেচ ব্যবস্থা, খাদ্য উৎপাদন এবং গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় অংশ এই নদী ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ফলে চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। পানি কি নতুন ভূরাজনৈতিক অস্ত্র? দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের মতে, পানি এখন কেবল পরিবেশ বা উন্নয়ন ইস্যু নয়; এটি ক্রমেই ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ হয়ে উঠছে। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ, সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ এবং রাজনৈতিক অবিশ্বাসের সঙ্গে পানি কূটনীতি যুক্ত হওয়ায় সংকট আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আলোচনার পথ সংকুচিত হলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় দেশের অবস্থান কঠোর থাকায় কূটনৈতিক সমাধান কত দ্রুত সম্ভব হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
ট্রেনের বগি
রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরও থামেনি প্রকল্প, বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে ভারতের নতুন ২০ রেল কোচ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ভারত থেকে বাংলাদেশে আসছে নতুন যাত্রীবাহী রেল বগি। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আগামী জুলাই মাসে ২০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির প্রথম চালান বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইকোনোমিক টাইমস বুধবার (২৪ জুন) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৯১৫ কোটি রুপির চুক্তির আওতায় নির্মিত ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগির মধ্যে প্রথম ২০টি ইতোমধ্যে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, জুলাই মাসেই প্রথম চালান পাঠানোর লক্ষ্য নিয়ে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। বগিগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ কারখানায় (Rail Coach Factory) নির্মাণ করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রকল্পে অনিশ্চয়তা বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভারতীয় এই রপ্তানি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কিছু সময়ের জন্য প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরগতিতে চললেও শেষ পর্যন্ত চুক্তির বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখা হয়েছে। ভারতীয় রেলওয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইকোনোমিক টাইমসকে বলেন, “চুক্তির প্রথম রেকগুলো আগামী জুলাইয়ের মধ্যে প্রস্তুত হয়ে যাবে। বাংলাদেশের কাছে সময়মতো বগিগুলো হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।” বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও অবকাঠামোগত সহযোগিতা অব্যাহত রাখা দুই দেশের অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। আন্তর্জাতিক অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প ২০০টি ব্রডগেজ বগি সরবরাহের এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (ইআইবি)। ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান এই নির্মাণ কাজের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পটি শুধু রেল বগি সরবরাহেই সীমাবদ্ধ নয়। চুক্তি অনুযায়ী ভারত বাংলাদেশকে ডিজাইন সহায়তা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ প্রশিক্ষণ এবং বগিগুলো পরিচালনার জন্য কারিগরি সহযোগিতাও দেবে। দীর্ঘমেয়াদি রেল সহযোগিতার ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের রেল অবকাঠামো উন্নয়নে ভারতের অংশগ্রহণ নতুন নয়। এর আগে দুই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারত বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ, ২৫টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছিল। সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন ২০০ কোচের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে আন্তঃনগর ও দূরপাল্লার রুটে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই চালান? হাসিনা-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা আলোচনা চললেও রেল বগির এই চালান দেখাচ্ছে যে অবকাঠামো ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বড় প্রকল্পগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। ফলে আগামী মাসে প্রথম ২০টি বগির আগমন শুধু একটি পরিবহন প্রকল্প নয়, বরং দুই দেশের চলমান কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্কেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৫, ২০২৬ 0
বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ
বিহারের ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে বিবাদ: শিরশ্ছেদ, গণপিটুনিতে অভিযুক্ত নিহত

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ভারতের বিহারের আরারিয়া জেলার ফরবিসগঞ্জে পার্কিং নিয়ে সামান্য এক বিবাদকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল চরম নৃশংসতা। বিবাদের জেরে এক পিকআপ ভ্যান চালককে কুপিয়ে শিরশ্ছেদ করার অভিযোগ উঠল এক হকারের বিরুদ্ধে। এর কিছুক্ষণ পরই উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তকে ধরে গণপিটুনি দিলে তারও মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবারের এই জোড়া খুনের ঘটনায় গোটা এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত চালকের নাম আলি হুসেন। তিনি যোগবনীর বাসিন্দা। ফরবিসগঞ্জ শহরে গাড়ি পার্কিং করা নিয়ে স্থানীয় এক রাস্তার ধারের বিক্রেতা রবি চৌহানের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সামান্য বচসা দ্রুত সহিংসতায় রূপ নেয়। রাগের মাথায় রবি চৌহান একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আলিকে আক্রমণ করেন এবং সবার সামনে তাঁর শিরশ্ছেদ করেন। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "ঘটনার পর রবি বিচ্ছিন্ন মাথাটি হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। মানুষ আতঙ্কে দিভ্রান্ত হয়ে পড়েছিল, অনেকেই এগিয়ে না এসে ভিডিও করতে ব্যস্ত ছিল।" এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের আত্মীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তাঁরা অভিযুক্ত রবি চৌহানকে তাঁর বাড়ির কাছ থেকে খুঁজে বের করেন। উত্তেজিত জনতা রবিকে টেনে-হিঁচড়ে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসে এবং লাঠি ও রড দিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করে। পুলিশের উপস্থিতিতেই উন্মত্ত জনতার মারে মৃত্যু হয় অভিযুক্ত রবির। জোড়া খুনের ঘটনায় ফরবিসগঞ্জ জুড়ে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটবৃষ্টি করে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। মৃতদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য আসা একটি অ্যাম্বুল্যান্স ভাঙচুর করা হয়। এমনকি ফরবিসগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালেও হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা, যার ফলে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রাণভয়ে পালিয়ে যান। আতঙ্কে শহরের সমস্ত দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরারিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) জিতেন্দ্র কুমার বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স।পুলিশ সুপার বলেন, "আমরা দুটি ঘটনারই তদন্ত শুরু করেছি। যারা এই হত্যাকাণ্ড এবং ভাঙচুরের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় নিয়মিত টহল দেওয়া হচ্ছে।" বর্তমানে ফরবিসগঞ্জের পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও পুলিশি নজরদারিতে তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে। এই ঘটনায় সাম্প্রদায়িক বা গোষ্ঠী সংঘর্ষের আশঙ্কা এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0