Brand logo light
অর্থনীতি

দেশীয় গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাপে সরকার

বাংলাদেশে ৪৭টি তেল-গ্যাস ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র শিগগির: এলএনজি নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র
তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে ৪৭ ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

বাংলাদেশে গ্যাসের ঘাটতি মোকাবিলা এবং ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে স্থলভাগ ও সমুদ্রের মোট ৪৭টি ব্লকে দ্রুত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন চুক্তি (PSC) কাঠামোর আওতায় ২১টি অনশোর (স্থলভাগ) এবং ২৬টি অফশোর (সমুদ্র) ব্লকে বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিকে অনুসন্ধানের সুযোগ দেওয়া হবে।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, তারা ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বানের জন্য প্রস্তুত। এখন শুধু সরকারের চূড়ান্ত অনুমতির অপেক্ষা।

জ্বালানি বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, “স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।”

গ্যাসের স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি ও ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি কমাতে স্থলভাগ ও সাগরের ব্লকগুলোতে দ্রুত আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করতে চায় সরকার। মোট ৪৭টি ব্লকে দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগসংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। সাগরে ও স্থলভাগে অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বান বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে বলে বণিক বার্তাকে জানিয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘স্থলভাগের পাশাপাশি সমুদ্রেও তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের অগ্রাধিকার ১৮০ দিনের মধ্যে দরপত্রের এ বিষয়ও থাকছে।’ জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সংশোধিত উৎপাদন-বণ্টন কাঠামোর (পিএসসি) আওতায় দেশের স্থলভাগে ২১টি ব্লক এবং অফশোরে (সাগরে) ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর (আইওসি) অনুসন্ধানের জন্য দরপত্র আহবান করা হবে। এ উদ্দেশ্যে পেট্রোবাংলা তাদের প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়েছে। সরকারের কাছ থেকে অনুমতি পেলে সাগরে ও স্থলভাগে দ্রুতই আন্তর্জাতিক দরপত্রে যেতে চায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) প্রকৌশলী মো. শোয়েব বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্থলভাগে ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে পেট্রোবাংলা প্রস্তুত রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায়ও গ্যাস অনুসন্ধানে অফশোর-অনশোরে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এখন সরকারের অনুমতি পেলে দ্রুতই দরপত্র আহ্বানের কার্যক্রম শুরু করা হবে।’ বর্তমান নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পর জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ পাঁচ বছরের এক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে সরকারের কাছে। ওই কর্মপরিকল্পনায় ১০০ দিনের মধ্যে উৎপাদন-বণ্টন চুক্তির আওতায় স্থলভাগ ও সমুদ্র অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মডেল পিএসসি ২০২৬ চূড়ান্তকরণের কথা বলা হয়। যা জ্বালানি বিভাগ এরই মধ্যে চূড়ান্ত করেছে। এছাড়া ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্থলভাগ ও সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে বিডিং রাউন্ড আহ্বান করার কথা তুলে ধরা হয়। এ কর্মপরিকল্পনায় আরো রয়েছে সাইসমিক ডেটা অ্যাকুইজিশন শেষ করা, ৫০০ লাইন কিলোমিটার টুডি সাইসমিক সার্ভে, ভোলার চরফ্যাশন এলাকায় থ্রিডি সাইসমিক সার্ভে এবং স্থলভাগে সিলেট অঞ্চলে লালাবাজার, গোয়াইনঘাট, কৈলাসটিলা সাউথ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ওয়েস্ট স্ট্রাকচার সার্ভে করা। দেশে জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ফেব্রুয়ারিতে আইন মন্ত্রণালয় অফশোর মডেল প্রডাকশন শেয়ারিং কন্ট্রাক্ট-২০২৬-এর খসড়া যাচাই করার পর দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ হয়েছে। অফশোর ও অনশোরে আইন মন্ত্রণালয় বেশকিছু বিষয়ে জানতে চেয়েছে। সেসব বিষয়ে তথ্যও এরই মধ্যে পেট্রোবাংলা থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের ১১ দিনের মাথায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন চলছে। এরই মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এলএনজির দাম জাপান-কোরিয়া মার্কেটে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় সাড়ে ১৬ ডলারের কাছাকাছি চলে গেছে। স্পট মার্কেট থেকে বাংলাদেশ প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজি সর্বশেষ ২১ ডলারে কিনেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল-গ্যাস সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ও সরবরাহের তথ্যে দেখা গেছে, প্রতি বছরই উল্লেখযোগ্য হারে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। ২০২০ সালে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে দেশীয় কূপগুলো থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ করা যেত প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সেটি কমে গতকাল সরবরাহ নেমেছে ১ হাজার ৭০১ মিলিয়ন ঘনফুটে। গত ছয় বছরে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় বাড়তি চাহিদা পূরণে ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করতে হচ্ছে। দেশে মোট গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট থাকলেও গতকাল এলএনজিসহ জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করা হয় ২ হাজার ৫৪৩ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে বড় ঘাটতি থাকায় শিল্প-কারখানা, আবাসিক, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ সব ক্ষেত্রেই গ্যাসের সংকট চলছে। সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে সর্বশেষ ২০২৪ সালের মার্চে পতিত আওয়ামী লীগ সরকার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। ওই দরপত্রের চূড়ান্ত সময়সীমা ছিল নয় মাস। সংশ্লিষ্ট সময়ে সাতটি কোম্পানি তেল-গ্যাসের নথি কিনলেও শেষ পর্যন্ত কোনো কোম্পানি দরপত্রে অংশ নেয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। পেট্রোবাংলা-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সে সময় জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে দেশের অফশোরে বিদেশী অনেক কোম্পানির আগ্রহ থাকলেও দরপত্রে অংশ নেয়নি। তবে বহুজাতিক দুটি কোম্পানির সঙ্গে গত বছরের এপ্রিলে বণিক বার্তা যোগাযোগ করলে তারা জানায়, সাগরে দরপত্র আহ্বানে পেট্রোবাংলা যে পিএসসি তৈরি করেছে, সেখানে তেল-গ্যাসের দামে বৈশ্বিক কোম্পানিকে আকর্ষণ করার মতো তেমন কিছু নেই। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে সাগরে বিপুল পরিমাণ তেল-গ্যাস রয়েছে—এমন সম্ভাবনা পেট্রোবাংলার তথ্য-উপাত্তে পাওয়া যায়নি বলেও দাবি এসব বহুজাতিক কোম্পানির। দেশের সমুদ্রসীমায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বানে বিদেশী কোম্পানির সাড়া না দেয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে পেট্রোবাংলা। সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারও নতুন করে সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র আহ্বানের কথা জোরালোভাবে তুলে ধরে। যদিও সে সরকার তাদের ১৮ মাসের মেয়াদে আর নতুন করে দরপত্র আহ্বানে জোরালা কোনো তৎপরতা দেখাতে পারেনি। পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা গেছে, নতুন পিএসসি মডেল চুক্তিতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াতে গ্যাসের দাম নির্ধারণ পদ্ধতি, পাইপলাইন ব্যয়ের পুনরুদ্ধার, কাজের বাধ্যবাধকতা এবং শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে অবদানের ক্ষেত্রে বেশকিছু সংস্কার আনা হয়েছে। গ্যাসের দাম আগের উচ্চ সালফার ফুয়েল অয়েল সূচকের বদলে এখন থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। গভীর সমুদ্রের গ্যাসের দাম নির্ধারণ হবে ব্রেন্টের তিন মাসের গড় দামের ১১ শতাংশ (৭০ থেকে ১০০ ডলার ব্যারেল সীমা ধরে)। অগভীর সমুদ্রের ক্ষেত্রে হার হবে ১০ দশমিক ৫ শতাংশ। স্থলভাগের সমতল এলাকায় ৮ শতাংশ এবং পাহাড়ি এলাকায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পাইপলাইন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আলোচনা সাপেক্ষ ট্যারিফ চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। শ্রমিক কল্যাণ তহবিলে বাধ্যতামূলক অবদানও ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে আসন্ন দরপত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের ব্লকগুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে দরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নতুন সরকারের যুগান্তকারী উদ্যোগ। এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিদেশী কোম্পানি দেশের অভ্যন্তরে বিস্তৃত আকারে অনুসন্ধান চালালে আশাব্যঞ্জক ফলাফল পাওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হবে। বড় ধরনের কোনো গ্যাসের মজুদ পাওয়া গেলে ব্যয়বহুল এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমে আসবে। সেই সঙ্গে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনায় দেশের জ্বালানি খাতের অনুসন্ধান কার্যক্রমের তৎপরতাও উঠে আসবে।’

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থনীতি

View more
করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ভিত্তি মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট। কিন্তু ২০২৫–২৬ অর্থবছরেও এই খাত ঘিরে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঘাটতি ও অনিয়মের চিত্র। বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর কৌশলী কর ব্যবস্থাপনা, ভুয়া চালান, আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেন এবং আইনের ফাঁক ব্যবহার করে একটি জটিল ‘ফাঁকি নেটওয়ার্ক’ গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই–মার্চ সময়ে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা। একই সময়ে সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা গেছে আয়কর খাতে, প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি। ভ্যাট খাতে ঘাটতি প্রায় ৩৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। কাস্টমস খাতেও লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘাটতির বড় অংশই কাঠামোগত দুর্বলতা এবং কর ফাঁকির আধুনিক কৌশলের ফল। বিশ্বব্যাংক ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেনের মতে, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সরাসরি আইন ভাঙার চেয়ে আইনের ভেতরের ফাঁক ব্যবহার করে কর কমিয়ে দিচ্ছে। তার মতে, বিক্রয় কম দেখানো, ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটের অপব্যবহার এবং আন্তঃপ্রতিষ্ঠান লেনদেনের মাধ্যমে করযোগ্য আয় কমিয়ে ফেলার প্রবণতা বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কাগজে-কলমে সবকিছু বৈধ থাকলেও বাস্তবে রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। অর্থনীতিবিদদের মতে, বড় কোম্পানিগুলোর অভ্যন্তরীণ জটিল কর কাঠামো ও একাধিক সহযোগী প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করে লেনদেন সাজানো হচ্ছে, যাতে প্রকৃত মুনাফা আড়াল করা যায়। এতে করে করের বোঝা তুলনামূলকভাবে বেশি পড়ছে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের ওপর। এছাড়া আমদানি–রফতানি খাতে পণ্যের মূল্য কম বা বেশি দেখিয়ে ভ্যাট ফাঁকি এবং ট্রেড-বেইজড মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগও রয়েছে। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মুনাফা বিদেশে স্থানান্তরের কারণে দেশের কর ভিত্তি আরও সংকুচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নীতিনির্ধারকদের মতে, ভ্যাট কাঠামোর জটিলতা এই সমস্যাকে আরও গভীর করেছে। বিভিন্ন খাতে ভিন্ন ভিন্ন ভ্যাট হার ও কর ছাড় ব্যবস্থার কারণে পুরো কাঠামো আরও দুর্বোধ্য হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, এনবিআরের প্রশাসনিক সক্ষমতা ও ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। রিয়েল-টাইম অডিট ও পর্যবেক্ষণের ঘাটতিতে বড় লেনদেনগুলো অনেক সময় নজরদারির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এনবিআর বলছে, কিছু ক্ষেত্রে অভিযান ও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, বিশেষ করে ই-কমার্স ও উৎপাদন খাতে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ সামগ্রিক সমস্যার তুলনায় যথেষ্ট নয়। রাজস্ব ঘাটতির প্রভাব ইতোমধ্যেই অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। সরকারের ঋণনির্ভরতা বাড়ছে, যার ফলে সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। একই সঙ্গে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে হলে ভ্যাট কাঠামো সরল করা, ডিজিটাল ইনভয়েসিং বাধ্যতামূলক করা এবং উন্নত ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা জরুরি। তাদের মতে, শুধু অভিযান নয়—কার্যকর আইন প্রয়োগ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া এই ‘করপোরেট ভ্যাট ফাঁকি নেটওয়ার্ক’ ভাঙা সম্ভব নয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ

ফারইস্ট ইসলামী লাইফে গভীর সংকট:দাবির টাকা আটকে, ব্যয়ে লাগামহীনতা

বাংলাদেশে ক্রেডিট কার্ডে ঋণসীমা ৪০ লাখ টাকা: বদলে যাচ্ছে নগদ অর্থের ব্যবহার

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট

ব্রি-তে নজিরবিহীন অস্থিরতা: এক দিনের ব্যবধানে ডিজি নিয়োগ বাতিল, থমকে গেছে গবেষণা কার্যক্রম

পায়রা বন্দর
পায়রা বন্দরের আয় কমায় বরিশালে রাজস্বে বড় পতন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সংকট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল কর অঞ্চলে রাজস্ব আয়ে সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পায়রা বন্দরের আয় কমে যাওয়া। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দরের কার্যক্রমে ধীরগতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়েও। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে পায়রা বন্দরকেন্দ্রিক রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৪৪ কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয় বরিশাল কর অঞ্চল। বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা নিয়ে গঠিত এই কর অঞ্চলের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ২০০১–০২ অর্থবছরে যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল মাত্র ২৩ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে তা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৩০ কোটি টাকা। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। ২০২৩–২৪ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১,০৭১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। পরের অর্থবছর ২০২৪–২৫-এ তা কমে দাঁড়ায় ৮৫০ কোটি ৮০ লাখ টাকায়। অর্থাৎ এক বছরে রাজস্ব কমেছে ২২০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। পায়রা বন্দরের প্রভাব কর কর্মকর্তারা বলছেন, এই পতনের বড় কারণ পায়রা বন্দরের আয় কমে যাওয়া। বরিশালের উপ-কর কমিশনার প্রীতিশ বিশ্বাস জানান, “২০২৩–২৪ অর্থবছরে যে রাজস্ব আদায় হয়েছে, তার বড় অংশই এসেছে পায়রা বন্দর থেকে। বর্তমানে সেখানে কার্যত রাজস্ব আদায় বন্ধ রয়েছে।” পায়রা বন্দরের কার্যক্রম শুরু হয় ২০১৩ সালের ১৯ নভেম্বর নির্মাণকাজের মাধ্যমে এবং ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হয়। প্রথম বছর বন্দরে আসে ১০টি বিদেশি জাহাজ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে জাহাজ আগমনের সংখ্যা কমে গেছে: ২০২৩–২৪ অর্থবছর: ১২৩টি জাহাজ ২০২৪–২৫ অর্থবছর: ৮৫টি জাহাজ ২০২৫–২৬ অর্থবছর (এপ্রিল পর্যন্ত): মাত্র ২৯টি জাহাজ  কেন কমছে জাহাজ? বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, নাব্যতা কমে যাওয়ায় বড় জাহাজ আসতে পারছে না। পায়রা বন্দরের সদস্য কমডোর জামাল চৌধুরী বলেন, “পূর্ণ নাব্যতা থাকাকালে আমরা রাজস্বে বড় অবদান রাখতে পেরেছি। এখন নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ কম আসছে, ফলে রাজস্বও কমে গেছে।” একই সুর শোনা গেছে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও। তাদের মতে, বন্দরের কার্যক্রম যত বেশি সক্রিয় থাকে, তত বেশি রাজস্ব আসে।  আয়ের বড় ধস পায়রা বন্দর থেকে রাজস্ব আয়ের পরিসংখ্যান এই পতনকে স্পষ্ট করে: ২০২৩–২৪ অর্থবছর: ২৫৯ কোটি ৪ লাখ টাকা ২০২৪–২৫ অর্থবছর: মাত্র ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আয় প্রায় সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক অনিশ্চয়তায়: অংশীদারদের সরে যাওয়া, আস্থা সংকট ও ভবিষ্যৎ প্রশ্নে বাংলাদেশ ব্যাংক

ইরানি রিয়াল

ইরানি রিয়ালের রেকর্ড দরপতন: ১৮ লাখ ইরানি রিয়ালে মিলছে মাত্র এক ডলার

সয়াবিন তেল

বাংলাদেশে সয়াবিন তেল সংকট ও দামবৃদ্ধি: সিন্ডিকেট ও সরবরাহ ঘাটতির অভিযোগে বাজার অস্থির

তরুণ উদ্যোক্তা মো. ফরহাদ হোসেন।
তরুণ উদ্যোক্তার মিষ্টি আঙুর চাষে সাফল্য, বছরে লাখ টাকার সম্ভাবনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার খবদার গ্রামের এক তরুণ কৃষক-উদ্যোক্তা মো. ফরহাদ হোসেন, যিনি শৈশবের একটি ছোট উদ্যোগকে পুঁজি করে আজ মিষ্টি আঙুর চাষে সফলতার গল্প লিখছেন। ফরহাদ জানান, তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্কুলের টিফিনের টাকা জমিয়ে ৩০ টাকায় স্থানীয় বাজার থেকে একটি আঙুরের চারা কিনেছিলেন। এক বছর পর সেই গাছে ফল ধরলেও স্বাদে কিছুটা টক ছিল। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে মিষ্টি আঙুর চাষে আগ্রহী করে তোলে। দীর্ঘদিনের সেই আগ্রহকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আঙুর চাষ শুরু করেন। শুরুতে মাত্র ১২টি চারা রোপণ করেই ছয় মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফলন পান। পরবর্তীতে উৎসাহ পেয়ে আরও প্রায় ২৫টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করেন। বাড়ির পাশের ছোট একটি জায়গায় গড়ে তোলা বাগানে তার মোট বিনিয়োগ প্রায় দেড় লাখ টাকা। চলতি বছরেই তিনি প্রায় এক লাখ টাকা আয় করেছেন। আগামী বছরে এ আয় দুই থেকে তিন লাখ টাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করছেন তিনি। ফরহাদের বাগানে বর্তমানে বাইকুনুর, একুলা, ডিক্সন, গ্রিন লং, ব্ল্যাক ম্যাজিক, ব্ল্যাক জাম্বো, সুপার সোনাকা, অস্ট্রেলিয়ান কিং, ভেলেস, প্রেস্টিজ, ইয়ামিন, ড্রিম অব পর্তুগাল, গোল্ডেন সান মাসকাট, জেসমিন ও গোল্ডেন সিক্রেট ড্রিমসহ প্রায় ২৫টি জাতের আঙুর রয়েছে। এসব আঙুর আকার ও রঙে ভিন্ন হলেও স্বাদে সবই মিষ্টি। তিনি বলেন, কিছু বারোমাসি জাতের কারণে সারা বছরই কমবেশি ফল পাওয়া যায়। এছাড়া আঙুর গাছ দীর্ঘমেয়াদী হওয়ায় ১০০ থেকে ১৫০ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে, যা থেকে দীর্ঘ সময় ধরে আয় সম্ভব। স্থানীয় বাজারে তার উৎপাদিত আঙুরের চাহিদাও বেশ বেশি। প্রতি কেজি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা বাজারের প্রচলিত দামের চেয়েও বেশি। নিরাপদ ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত মিষ্টি আঙুরের প্রতি ভোক্তাদের আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি। শ্রীপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, দেশে আঙুর চাষ একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে এগিয়ে আসছে। বিভিন্ন মিষ্টি জাতের আঙুর চাষের বিস্তার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
আলতাফ হোসেন

ইসলামী ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুককে পাঠানো হলো ছুটিতে , ভারপ্রাপ্ত এমডি আলতাফ হোসেন

মন্ত্রী আফরোজা খানম

মায়ের কাছ থেকে প্রায় ১৮ কোটি টাকার শেয়ার পেলেন মন্ত্রী আফরোজা খানম

অগ্রণী ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর (ডিএমডি) আবুল বাশার

অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ পদে নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, আবুল বাশারের বিরুদ্ধে বদলি-নিয়োগ,পদোন্নতি বাণিজ্যের অভিযোগ

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0