Brand logo light
বাংলাদেশ

সংসদে ৯১ বিল পাস: অন্তর্বর্তী সরকারের ১১৩ অধ্যাদেশ অনুমোদন, ২০টির কার্যকারিতা শেষ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
জাতীয় সংসদ
জাতীয় সংসদ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক :  অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বৈধতা দেওয়ার কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদ। জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্তসহ ১১৩টি অধ্যাদেশকে ৮৭টি বিল পাসের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চারটি পৃথক বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশকে বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের জারি করা বাকি ১৩টি অধ্যাদেশে সংসদের অনুমোদন মেলেনি। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যদেশের মধ্যে ২০টি আজ থেকে কার্যকরিতা হারালো।

শুক্রবারসহ টানা ছয় দিনে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি হয়। দেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক বিল পাসের নজির নেই। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) শেষ দিনে ২৪টি বিল পাস হয়। এছাড়া ৫ এপ্রিল ২টি, ৬ এপ্রিল ৭টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি ও ৯ এপ্রিল ৩১টি বিল পাস হয়।

রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশে গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা দেওয়া হলেও গণভোট, দুদক এবং গুমসহ ১৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আসেনি। ফলে এসব অধ্যদেশের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা কী হবে তা অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে। এমনটি গণভোট অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট ২০২৬’সহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হলো।

সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেসব অধ্যাদেশ জারি করেন তা সংসদের বৈঠকে উত্থাপনের এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শুক্রবার ছিল সংসদে নিষ্পত্তির শেষ সময়। ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে এ ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন। পরে অধ্যাদেশগুলো যাছাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়।

২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে প্রতিবেদন পেশ করেন। ওই প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু ও ১৫টি সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ৪টি বাতিল ও ১৬টি পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইসহ অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। বিশেষ কমিটির সুপারিশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ থাকলেও সুপারিশের বাইরে গিয়ে সংসদে বিল তুলে অধ্যাদেশটি রহিত করে আগের মানবাধিকার কমিশন আইনকে পুনর্বহাল করা হয়েছে।

অপরদিকে কমিটির প্রতিবেদনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশকে সংশোধিত আকারে বিল পাসের সুপারিশ হলেও এই অধ্যাদেশটি তোলাই হয়নি। এদিকে বিশেষ কমিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ হলেও শেষ দিনে তোলা এ সংক্রান্ত বিলটি সংশোধিত আকারে পাস হয়।

বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিলটি সংশোধন হওয়ার কারণে বিরোধী দল এর তীব্র প্রতিবাদ করে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বলেন, আপনার সামনে (স্পিকারের) দিনে দুপুরে ছলচাতুরি ও জোচ্চুরির মাধ্যমে সংসদে পাস করা হয়েছে। এ বক্তব্যের জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাহাস হয়।

এ সময়ে সমঝোতা ভঙ্গের বিষয়টি স্বীকার করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তবে তিনি দাবি করেন, বেসরকারি সদস্যের সংশোধনী প্রস্তাবের ফলে এই সংশোধনীটি গ্রহণ করা হয়েছে। দুই পক্ষের আলোচনার এক পর্যায়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। এর আগে তারা স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

এদিকে সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে যেসব অধ্যাদেশ রহিতকরণ করা হয়েছে সেগুলো হলো- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত এবং মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত।

 

দ্রুততম সময়ে নজিরবিহীন বিল পাস

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে টানা ছয় দিনে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়—যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন।

বিল পাসের দিনভিত্তিক হিসাব:

  • ৫ এপ্রিল: ২টি
  • ৬ এপ্রিল: ৭টি
  • ৭ এপ্রিল: ১৪টি
  • ৮ এপ্রিল: ১৩টি
  • ৯ এপ্রিল: ৩১টি
  • ১০ এপ্রিল: ২৪টি

১৩ অধ্যাদেশে অনিশ্চয়তা

যেসব ১৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • গণভোট অধ্যাদেশ
  • পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ
  • গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত ২টি অধ্যাদেশ
  • দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধনী
  • তথ্য অধিকার সংশোধনী
  • আয়কর ও কাস্টমস সংশোধনী
  • মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন

এসব অধ্যাদেশের অধীনে নেওয়া কার্যক্রমের আইনি অবস্থান এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ‘গণভোট ২০২৬’-এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

কমিটির সুপারিশে ব্যত্যয়

বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে পাসের সুপারিশ করলেও সংসদ কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে আগের আইন পুনর্বহাল করা হয়, যা কমিটির সুপারিশের বাইরে।
এছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ সংসদে তোলাই হয়নি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল সংশোধন করে পাস করায় বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়।

সংসদে উত্তেজনা ও ওয়াকআউট

বিল সংশোধন নিয়ে বিরোধী দল সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তোলে। বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সংসদে এটিকে ‘ছলচাতুরি’ আখ্যা দেন।

আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংশোধনের বিষয়টি স্বীকার করলেও তা বেসরকারি সদস্যের প্রস্তাবের কারণে হয়েছে বলে জানান।

একপর্যায়ে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করে।

শেষ দিনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিল

শেষ দিনে ২৮টি বিল পাস হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য—

  • বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল (নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, রংপুরসহ)
  • বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সংশোধন বিল
  • বনশিল্প ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিল
  • ব্যাংক ও অর্থনীতি সংক্রান্ত একাধিক বিল
  • সাইবার সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল
  • নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধনী
  • জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবার কল্যাণ বিল


সংসদে উত্থাপন হলেও আইনী সুরক্ষা না দেওয়ার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের যে ১৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে আজ থেকে কার্যকারিতা হারাচ্ছে সেগুলো হলো- গণভোট অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত ২টি অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ এবং রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ।

শেষদিনে ২৮ বিল


শুক্রবার শেষ দিনে ২৮টি বিল পাস হয়েছে। এগুলো হলো- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উত্থাপিত নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল; বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল; ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল; কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল।

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উত্থাপিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর উত্থাপিত বাংলাদেশ বনশিল্প কর্পোরেশন বিল এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) বিল।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত আমানত সুরক্ষা বিল; দ্যা এক্সসাইজ এন্ড সল্ট (সংশোধন) বিল; মুল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল; গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল; বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল; ব্যাংক রেজুলেশন বিল এবং অর্থ (২০২৫-২৫) অর্থ বৎসর বিল।

শিক্ষমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উত্থাপিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সির্টি বিল; বিশ্বদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল এবং সাইবার সুরক্ষা বিল; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উত্থাপিত মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের উত্থাপিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উত্থাপিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংরক্ষণ) বিল; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান উত্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল পাস হয়েছে।

অধিবেশন মুলতবি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১৫ এপ্রিল (বুধবার) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ মুলতবি ঘোষণা করেন।

Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু
পবিপ্রবির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

ছেলেসহ একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ, সরকারের আর্থিক ক্ষতি ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা- ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) নিজের ছেলেসহ একাধিক ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুকেও আসামি করা হয়েছে। দুদকের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদনবহির্ভূত এবং নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত পদের অতিরিক্ত পদে জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এসব নিয়োগের মাধ্যমে সরকারের ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের পটুয়াখালী সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে যেসব অভিযোগ দুদক সূত্রে জানা গেছে, স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত ও সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, দুই আসামি পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধমূলক অসদাচরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে জনবল নিয়োগ দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব নিয়োগের ক্ষেত্রে ইউজিসির অনুমোদন ছিল না। একই সঙ্গে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদের চেয়েও অতিরিক্ত পদে জনবল নেওয়া হয়। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, বাছাই বোর্ডের সদস্যদের অবৈধভাবে প্রভাবিত করে সাবেক উপাচার্যের ছেলেসহ অন্যদের নিয়োগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রিজেন্ট বোর্ডের রেজুলেশন তৈরি ও অনুমোদন করা হয়েছিল।   ৮০ লাখ টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ দুদকের এজাহার অনুযায়ী, অভিযোগে উল্লিখিত নিয়োগগুলোর বিপরীতে বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮০ লাখ ৭৫ হাজার ১৩১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কমিশনের অভিযোগ, এই অর্থ ব্যয়ের ফলে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।এখন তদন্তের ক্ষেত্রে নিয়োগের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট পদগুলোর বৈধতা, বাছাই বোর্ডের কার্যক্রম, রিজেন্ট বোর্ডের সিদ্ধান্ত এবং বেতন-ভাতা পরিশোধের নথি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। জবাবদিহির প্রশ্ন সরকারি অর্থে পরিচালিত একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে অনুমোদিত পদ, নির্ধারিত যোগ্যতা ও প্রযোজ্য বিধিবিধান অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। দুদকের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলতে পারে। উল্লেখ্য, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) যেন একটি পারিবারিক বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তা পদে কর্মরত আছেন ২৫ দম্পতি ও বিভিন্ন পরিবারের সদস্যরা। কারও ছেলে, কারও মেয়ে, কারও ভাই, কারও বোন, কারও শ্যালক, কারও শ্যালিকা, কারও শ্বশুর, কারও জামাতা, কারও ননদ, কারও জা কর্মরত এখানে। সর্বশেষ ২ ডিসেম্বর'২০২৪ সেকশন অফিসার পদে উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলেসহ বিভিন্ন পদে কয়েকজন কর্মকর্তার স্বজন নিয়োগ পেয়েছেন। পবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি এবং যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ না পাওয়া সাবেক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ২ ডিসেম্বর'২০২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড তৎকালীন উপাচার্যের ছেলেসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী পদে মোট ৫৮ জনকে নিয়োগ দেয়। তবে ২০২২ সালের ১৬ নভেম্বর এবং এর আগের কয়েকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে মোট পদ ছিল ৩৯টি। ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সেকশন অফিসার পদে তিনজনকে নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে ২ ডিসেম্বর'২০২৪  নিয়োগ পান ছয়জন। তাঁরা হলেন তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক স্বদেশ চন্দ্র সামন্তের ছেলে শাওন চন্দ্র সামন্ত তনু, পবিপ্রবি কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান জুয়েলের ছোট ভাই মো. আরিফুর রহমান পিয়েল, সহকারী রেজিস্ট্রারের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা, পবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকের বড় ভাই মো. হাফিজুর রহমান, দুমকী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালামের ছেলে তানভীর হাসান স্বাধীন, অপরজন তাকছিনা নাজনীন নামের এক নারী। ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ইউজিসির করা অর্গানোগ্রামে পবিপ্রবিতে সেকশন অফিসারের পদ ৩০টি। তবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৪৮ জন সেকশন অফিসার। অভিযোগ রয়েছে, ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে ইউজিসির অনুমোদন না নিয়েই পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগে ১ জন প্রভাষক নিয়োগের উল্লেখ করা হয়। সমালোচনার মুখে ওই পদে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করা হলেও নতুন বিজ্ঞপ্তি না দিয়েই ২ ডিসেম্বর'২০২৪ দুজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের একজন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান সোহাগের স্ত্রী শেখ তানজিলা ইসলাম দোলা। ২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ১১ অক্টোবর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড সিস্টেম ইনফরমেশন বিভাগ এবং ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে তিনজন প্রভাষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। তবে মেধাতালিকায় ৭ শতাংশের মধ্যে থাকা পবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থীদের কেউ ভাইভা কার্ড না পাওয়ায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা  ১৯ নভেম্বর ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড সিস্টেম ইনফরমেশন বিভাগের নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত করে বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগের দাবিতে রেজিস্ট্রার বরাবর স্মারকলিপি দেন। এতে সেদিনই ওই বিভাগের প্রভাষক পদে নিয়োগ স্থগিত করা হয়। তবে ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগে নিয়োগ দেওয়া হয় ল্যান্ড রেকর্ড অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন বিভাগের চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক সাউদ বিন আলমের (প্রতীক) স্ত্রী আমিনা সারওয়ারকে।   এ দিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বিতর্কিত শিক্ষক  সন্তোষ কুমার বসুকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তার বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ৫ হাজার ছাত্র হত্যার হুমকি ও আন্দোলন চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং শিক্ষার্থীদের হল থেকে জোরপূর্বক বের করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।  পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি)শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বিতর্কিত মন্তব্যে তোপের মুখে পড়েন সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসু। একইসাথে তার কয়েকটি অডিও ক্লিপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেসবুক গ্রুপসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট পেজে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে। যা নিয়ে সাবেক রেজিস্ট্রার সন্তোষ কুমার বসুর বিরুদ্ধে ব্যপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে । অজানা কারনে এখনো স্থায়ীভাবে তাকে বরখান্ত না করায় ক্ষোভের সৃষ্টি জনমনে হয়েছে ।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২৬, ২০২৬ 0

রাজাপুর সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শহিদুল্লাহকে নিয়ে তোলপাড়!

ঢলুয়া ইউনিয়নে দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে ৮০টি সচেতনতামূলক সভা

বরিশালে মাদকের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতা ফারুকের উদ্যোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা

উজিরপুরে ঘুষের ভিডিও ধারণের জেরে ব্যবসায়ীকে মারধরের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বরিশালের উজিরপুরে ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ ও ভিডিও ধারণের জেরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক ও দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাহমুদ আহমেদ ওরফে সবুজ এবং ভূমি অফিসের অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিরাজ হোসেন। মিরাজের অভিযোগ, তাঁকে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে মারধর করা হয়। একই সঙ্গে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উজিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্রও জমা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মিরাজ।  অন্যদিকে, ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানম জানিয়েছেন, তিনি অভিযোগের লিখিত জবাব দেবেন। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। নামজারির কাজ, টাকা দাবি ও ভিডিওর সূত্রপাত মিরাজ হোসেনের লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উজিরপুর উপজেলায় কম্পিউটার ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তাঁর নিকটাত্মীয়দের জমির নামজারি ও মিউটেশনের কাজের জন্য ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানমের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন তিনি। মিরাজের দাবি, কাজের অগ্রগতি জানতে গেলে তাঁকে বারবার ঘোরানো হয়। একপর্যায়ে কাজ সম্পন্ন করতে টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়। কয়েক দফায় টাকা দেওয়ার পরও কাজ শেষ না হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, নতুন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগ দেওয়ার পর সুরাইয়া খানমের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেন। তখনও টাকা ছাড়া কাজ হবে না বলে তাঁকে জানানো হয় বলে দাবি তাঁর। একপর্যায়ে আরও বেশি টাকা দাবি করে সেই অর্থ ভূমি অফিসের অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধার কাছে দিতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন মিরাজ।   প্রমাণ দেখানোর পর হুমকির অভিযোগ মিরাজের দাবি, আগে টাকা দেওয়ার প্রমাণ তাঁর কাছে রয়েছে বলে জানালে সুরাইয়া খানম সেই প্রমাণ দেখতে চান। পরে তিনি সুরাইয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে সংশ্লিষ্ট প্রমাণ পাঠান। এরপর সুরাইয়া খানম ও রাসেল মৃধা তাঁকে ডেকে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তাঁকে সবুজের চেম্বারে ডেকে নেওয়া হয়। মিরাজের অভিযোগ, মো. আজিজুল সিকদার নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে ডেকে সেখানে নেওয়া হয়। পরে সবুজ ও রাসেল মৃধা তাঁকে আটকে রেখে মারধর করেন। প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা আটকে রাখার সময় ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দেওয়া হয় এবং হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি। মিরাজ আরও দাবি করেন, পরিস্থিতির চাপে একপর্যায়ে তিনি অভিযুক্তদের কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন। প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মিরাজ ইউএনও, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উজিরপুর মডেল থানাসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের সঙ্গে ভিডিও ফুটেজ ও ছয়টি স্থিরচিত্র জমা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই ব্যবসায়ী। ফলে অভিযোগের প্রতিটি অংশ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযুক্তদের বক্তব্য কী? ভূমি অফিসের সার্টিফিকেট সহকারী সুরাইয়া খানম অভিযোগের বিষয়ে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ হয়েছে। আমি এর লিখিত জবাব দেব। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।” অস্থায়ী গাড়িচালক রাসেল মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ওই ভিডিওতে নেই। আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে জড়ানো হচ্ছে।” মিরাজ বিভিন্ন সময়ে তাঁদের অফিসে নামজারির দালালি করতে আসেন বলেও দাবি করেন তিনি। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন ঘটনাটি ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে। নামজারির কাজ সম্পন্ন করতে সত্যিই কোনো অর্থ দাবি করা হয়েছিল কি না, অর্থ লেনদেনের অভিযোগের পক্ষে কী ধরনের প্রমাণ রয়েছে, ভিডিও ধারণের পর ব্যবসায়ীকে আটকে রাখা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছিল কি না এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের প্রত্যেকের ভূমিকা কী—এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে কথিত অর্থ লেনদেনের সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, থাকলে তা ব্যক্তিগত পর্যায়ে সীমাবদ্ধ ছিল নাকি অন্য কেউ জড়িত—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, মোবাইল ফোনে পাঠানো কথিত প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট নামজারি নথি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এ বিষয়ে উজিরপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে সালমা খানম বলেন, “একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, তিনি অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। জবাবদিহির প্রশ্ন ভূমি ব্যবস্থাপনায় নামজারি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা। এই সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু একজন আবেদনকারীর ভোগান্তির বিষয় নয়; বরং সরকারি সেবার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন তোলে। অন্যদিকে, প্রমাণ যাচাই, সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য গ্রহণ এবং নিরপেক্ষ তদন্তের ভিত্তিতেই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নির্ধারণ করা প্রয়োজন।এখন দেখার বিষয়, মিরাজ হোসেনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কী পদক্ষেপ নেয় এবং অভিযোগের পক্ষে জমা দেওয়া ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২২, ২০২৬ 0

রাজাপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ঘিরে অভিযোগ, তদন্তে দুই সদস্যের কমিটি

গণপূর্তে লটারি নিয়ে বিতর্ক : বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

ফিরতে মরিয়া নথি রক্ষক শাহীন

বরিশাল সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন : আগে আবেদন করেও পিছিয়ে অন্যরা

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তনে রাজস্ব ফাঁকির দাবি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল নিবন্ধন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং ঘুষের বিনিময়ে দলিল সম্পাদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসাধু দলিল লেখকদের একটি চক্রের যোগসাজশে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করে জমির দলিল নিবন্ধন করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জমি কেনাবেচা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন করে নিবন্ধনমূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে সরকারি ফি ও রাজস্ব কম দেওয়ার বিষয়টি। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালাজমিকে পতিত জমি দেখিয়ে একটি দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দলিলে জমির নিবন্ধনমূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র চার লাখ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নিবন্ধনের ফলে সরকার নির্ধারিত রাজস্বের একটি অংশ ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।  নালাজমি দেখানো হয়েছে পতিত, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নিবন্ধনমূল্য কম দেখানোর অভিযোগ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালাজমি পতিত জমি হিসেবে দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন করা হয়। দলিলে জমিটির নিবন্ধনমূল্য দেখানো হয় মাত্র চার লাখ টাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জমির প্রকৃত মূল্য ছিল ২৬ কোটি ৪৬ হাজার টাকা। জমির প্রকৃত শ্রেণি ও মূল্য যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হলে সরকার নির্ধারিত হারে বেশি রাজস্ব পাওয়ার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। কিন্তু জমিটিকে পতিত দেখিয়ে আট শতাংশ রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাম্প ফি ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের কয়েক হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—জমিটির প্রকৃত শ্রেণি কী ছিল, দলিল নিবন্ধনের সময় কোন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কত টাকা রাজস্ব দেওয়ার কথা ছিল? এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট দলিল, ভূমির শ্রেণিসংক্রান্ত রেকর্ড, মৌজা মূল্যতালিকা, নিবন্ধন ফি ও স্ট্যাম্প শুল্কের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রারের আশীর্বাদপুষ্ট একটি অসাধু দলিল লেখকচক্র এ কাজে জড়িত। সাব-রেজিস্ট্রারের একান্ত সহকারী হিসেবে পরিচিত তাপস নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।  ঘুষ ছাড়া দলিল নিবন্ধন হয় না—ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা হয়। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাব-রেজিস্ট্রারসংকট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মকর্তাদের দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের দাবি, বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকা প্রয়োজন। উপজেলার চরএকরিয়া এলাকার জসিম বলেন, জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এ জন্য বায়নাও করেছেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরসংক্রান্ত জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না বলে তাঁর অভিযোগ। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন উলানিয়া এলাকার আকবার। তিনি বলেন, নিজের একটি নালাজমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে এবং নিজের চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরসংক্রান্ত জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না। দুজনের বক্তব্যেই উঠে এসেছে একটি সাধারণ সমস্যা—জমি বিক্রি করে জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে চাইলেও নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন তাঁরা।   অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে দলিল নিবন্ধনের কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বারবার দপ্তরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের মতে, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের জন্য স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকলে দলিল নিবন্ধনের কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয় এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।   স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশীর্বাদপুষ্ট একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, এই চক্রের প্রভাবের কারণে অফিসে বদলি হয়ে আসা কর্মকর্তারা বেশিদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। চাপের মুখে কিছু কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং দলিল লেখকদের সঙ্গে অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ছড়ানোর পর তৎপরতা গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর অফিসের কার্যক্রম এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতে সাব-রেজিস্ট্রার বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা, এতে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার সময় এবং লেনদেনের প্রকৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওটিকে ঘুষ লেনদেনের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে এর উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। এর আগেও মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এসব প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জবাবদিহি কোথায়? সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি, দলিলে ঘোষিত মূল্য, প্রযোজ্য স্ট্যাম্প শুল্ক ও নিবন্ধন ফি—প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগ সত্য হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা ও জনস্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত চারটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: ১. ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৫৮ শতাংশ জমির দলিল, জমির শ্রেণি এবং ঘোষিত মূল্য। ২. জমিটির প্রকৃত শ্রেণি ও প্রযোজ্য মৌজা মূল্যতালিকা অনুযায়ী সরকার কত টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল। ৩. দলিল নিবন্ধনের সময় সাব-রেজিস্ট্রার, সংশ্লিষ্ট সহকারী ও দলিল লেখকদের দায়িত্ব এবং ভূমিকা কী ছিল। ৪. গত ৫ ফেব্রুয়ারি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর উৎস, সত্যতা এবং এতে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ রয়েছে কি না। এসব বিষয়ে নথিভিত্তিক তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি, দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যেতে পারে। মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ওঠা ঘুষ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত নিবন্ধনসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।   

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0

বিমানের ক্যাটারিং বিভাগে জহিরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের দীর্ঘ তালিকা

আগৈলঝাড়া থানায় নারী এএসআইকে ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে অশালীন মন্তব্য ও চরিত্রহননের অভিযোগ

গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর দাবি স্থগিত

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0