ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অন্যতম দাবি—বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ। সেই দাবিকে সামনে রেখে এবার জাতীয় সংসদে নতুন করে আশ্বাস দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে ১৩তম গ্রেডে থাকা শিক্ষকদের সরাসরি ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং সম্ভাব্য অতিরিক্ত ব্যয় মোকাবিলায় প্রস্তাবিত বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবে এই ঘোষণা এখনই কোনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত নয়। সংসদে দেওয়া বক্তব্য অনুযায়ী, বিষয়টি এখনও নীতিগত আলোচনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার পর্যায়ে রয়েছে। সংসদে কী বললেন প্রতিমন্ত্রী? রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, রংপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য মওলানা নুরুল আমিন প্রাথমিক শিক্ষকদের বর্তমান ১৩তম গ্রেড থেকে অন্তত ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার দাবি উত্থাপন করেন। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু ১০ম গ্রেড নয়, শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছে। বাজেটে কী রয়েছে? প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বাবদ ২০ হাজার ৪২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি আরও জানান, শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা হলে অতিরিক্ত প্রায় দেড় হাজার থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সেই সম্ভাব্য ব্যয় বিবেচনায় রেখেই বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ সংস্থানের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, সরকার সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব মূল্যায়ন করে আগাম পরিকল্পনা করছে। তবে বাজেটে অর্থের সংস্থান রাখা হলেও গ্রেড উন্নীতকরণ কার্যকর করতে আলাদা প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘোষণা? প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, তাদের দায়িত্ব, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নিয়োগ কাঠামোর সঙ্গে বর্তমান বেতন গ্রেডের সামঞ্জস্য নেই। বিশেষ করে সরকারি চাকরির অন্যান্য সমপর্যায়ের পদের সঙ্গে বেতন বৈষম্যের বিষয়টি শিক্ষক সংগঠনগুলো নিয়মিতভাবে তুলে ধরছে। ফলে ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার সম্ভাব্য উদ্যোগ শিক্ষকদের জন্য আর্থিক ও পেশাগত—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখন কী অপেক্ষা? প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে সরকারের ইতিবাচক অবস্থানের ইঙ্গিত মিললেও এখনও— ৯ম গ্রেড কার্যকরের কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা হয়নি। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়নি। সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান বেতন কাঠামো বহাল থাকবে। অর্থাৎ, সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে নীতিগত অগ্রগতির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা গেলেও এটি এখনো বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত নয়। শিক্ষা খাত নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা খাতকে আধুনিক ও কার্যকর করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। আগামী পাঁচ বছর একই ধারায় সংস্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও শক্তিশালী ভিত্তি পাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মূল তথ্য এক নজরে প্রাথমিক শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে উন্নীত করার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বর্তমানে শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শিক্ষকদের বেতনের জন্য বরাদ্দ ২০,৪২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ৯ম গ্রেড কার্যকর হলে অতিরিক্ত প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। বিষয়টি এখনও নীতিগত আলোচনা পর্যায়ে; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদক-সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সাইবার স্পেসে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে শনিবার দুটি পৃথক সংশোধনী বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কেবল আইনের ভাষাগত পরিবর্তন নয়; বরং বিচার কাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মাদক মামলার জট কমাতে ফিরছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ থাকায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও সরকার মনে করছে। এ কারণে বিদ্যমান সাধারণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বহাল রেখেই মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান পুনরায় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধেও নজর সংশোধনীতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন বিধান সংযোজনের কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, লেনদেন ও যোগাযোগের মতো অপরাধ দমনে নতুন আইনি কাঠামো যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা বাড়াতে— আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আইনগত প্রাধিকার; বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড গঠন; —সংক্রান্ত বিধানও সংযোজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সাইবার আইন থেকে বাদ যাচ্ছে জুয়ার বিধান একই দিনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা-সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিধান অপসারণ করা হবে। এর পরিবর্তে 'জুয়া প্রতিরোধ আইন' নামে পৃথক একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ একটি স্বতন্ত্র আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। বিলটিও পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ: কেন একসঙ্গে দুটি আইনে পরিবর্তন? দুটি বিল একসঙ্গে সংসদে আনার মধ্য দিয়ে সরকার অপরাধ দমন নীতিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মূল পরিবর্তনগুলো হলো— মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা; প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধকে আইনের আওতায় আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি; সাইবার আইনকে মূলত ডিজিটাল অপরাধকেন্দ্রিক রেখে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনে স্থানান্তর করা। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেই বিচার দ্রুত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিচারক, প্রসিকিউশন, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক সক্ষমতা সমানভাবে বাড়ানো না গেলে মামলার জট পুরোপুরি কমানো কঠিন হতে পারে। একইভাবে, জুয়া-সংক্রান্ত বিধান আলাদা আইনে স্থানান্তরের ফলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে নতুন আইনের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা পরিষদ চত্বরে সংসদ সদস্য (এমপি) ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা পরিষদের অনুকূলে ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধির উদ্যোগ হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও এর পেছনে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতার প্রশ্নও সামনে এসেছে। কী বলছে সরকার? গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারের প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী জানান, দেশের সব উপজেলায় সংসদ সদস্যসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যবহারের জন্য একটি করে পরিদর্শন কক্ষ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কক্ষ কেবল সংসদ সদস্যদের জন্য নয়; বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও দাপ্তরিক কাজে এগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে প্রতিটি উপজেলা পরিষদের জন্য ছয় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে। কেন উঠেছিল এই দাবি? উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর তৈরির বিষয়টি প্রথম আলোচনায় আসে চলতি বছরের ৩১ মার্চ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে। সেদিন এনসিপির সংসদ সদস্য আতিকুর রহমান নির্বাচনী এলাকায় এমপিদের জন্য বসার জায়গা নিশ্চিত করার দাবি উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে ২১ এপ্রিল স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে জানান, উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যদের জন্য বসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই দিনে এনসিপির আরেক সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধার পরিবর্তে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকর অফিস স্থাপনের দাবি জানান। সাম্প্রতিক এই উদ্যোগকে অনেকেই ওই ধারাবাহিক দাবির বাস্তবায়ন হিসেবে দেখছেন। প্রশাসনিক সুবিধা নাকি ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র? বাংলাদেশের উপজেলা পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এলাকায় নিয়মিত উপস্থিতি এবং সরকারি কার্যক্রম তদারকির জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিসর থাকা কার্যকর হতে পারে। তবে প্রশ্ন উঠছে, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে এমপিদের জন্য আলাদা অবকাঠামো তৈরি হলে স্থানীয় সরকারের ক্ষমতার ভারসাম্যে কোনো প্রভাব পড়বে কি না। অতীতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন এবং সংসদ সদস্যদের ভূমিকা ও কর্তৃত্ব নিয়ে বিভিন্ন সময় বিতর্ক দেখা গেছে। ফলে নতুন এই কক্ষগুলো কেবল দাপ্তরিক ব্যবহারে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবেও ব্যবহৃত হবে—সেই প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে। কত টাকা ব্যয় হবে? বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে। সে হিসাবে প্রতিটি উপজেলায় ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ দিলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২৯ কোটি ৭০ লাখ টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও সরকার এখন পর্যন্ত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ ব্যয়, নকশা কিংবা বাস্তবায়ন সময়সূচি প্রকাশ করেনি। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নতুন বার্তা? স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ইতোমধ্যে সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে উপজেলা পর্যায়ে সংসদ সদস্যদের জন্য নতুন অবকাঠামো নির্মাণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তাদের মতে, নির্বাচনী এলাকায় জনপ্রতিনিধিদের প্রশাসনিক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ আরও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যও এর পেছনে থাকতে পারে। তবে এই উদ্যোগ স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে কতটা শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন ধরনের প্রভাব বলয়ের জন্ম দেবে—সেই মূল্যায়ন নির্ভর করবে এর বাস্তব প্রয়োগের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইসলামী ব্যাংকের মালিকানা, নিয়োগ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিয়ে জাতীয় সংসদে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় (বাজেট) অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে দেওয়া নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি দাবি করেন, অতীতে জোরজবরদস্তি ও অনিয়মের মাধ্যমে ইসলামী ব্যাংকের প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে মালিকানা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই মালিকানা অবিলম্বে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া প্রয়োজন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান ও অতীত মালিকানা কাঠামো নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। শেয়ারহোল্ডাররা কীভাবে মালিকানা অর্জন করেছেন, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। ‘জোরপূর্বক মালিকানা হস্তান্তরের’ অভিযোগ সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রকৃত শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার হস্তান্তর করানো হয়েছিল। তার দাবি, এর ফলে ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আর্থিক অবস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তিনি এসব অভিযোগের পক্ষে নতুন কোনো নথি বা প্রমাণ সংসদে উপস্থাপন করেননি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ইসলামী ব্যাংকের নিয়োগ কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, নির্ধারিত নিয়ম, প্রকাশ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার বাইরে গিয়ে হাজার হাজার কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার মতে, এ ধরনের নিয়োগ প্রক্রিয়া ব্যাংকের প্রশাসনিক কাঠামো ও জবাবদিহিতাকে দুর্বল করতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট নিয়োগগুলোর বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়কাল বা প্রশাসনের নাম উল্লেখ করেননি। ৭০০ কোটি টাকার অভিযোগে পাল্টা চ্যালেঞ্জ আলোচনার একপর্যায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় শফিকুর রহমান ৭০০ কোটি টাকার ঋণ নির্বাচনি তহবিলে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন, অভিযোগটি প্রমাণিত হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘মেডেল’ দেবেন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিযোগটির সত্যতা নিয়ে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। ‘শুধু একটি ব্যাংক নয়, আস্থার প্রতীক’ শফিকুর রহমানের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ব্যাংকটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব নিয়ে তার মূল্যায়ন। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি লাখো গ্রাহকের আস্থার জায়গা। ব্যাংকটি কোনো কারণে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়লে শুধু প্রতিষ্ঠানটি নয়, পুরো ব্যাংকিং খাতেই আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। সম্প্রতি গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তা দেশের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। সরকারের প্রতি আহ্বান বক্তব্যের শেষাংশে তিনি সরকারের প্রতি রাজনৈতিক অবস্থান বা পূর্বধারণার বাইরে গিয়ে বাস্তবতার ভিত্তিতে ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এর প্রভাব শুধু একটি ব্যাংকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাংলাদেশে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে দীর্ঘদিন ধরে চলমান যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় ২০১০ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতির গেজেট বাতিল করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খান। সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে বিষয়টি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়। মন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা হয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। তিনি জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকার সদস্যদের নিয়ে গঠিত একটি উপকমিটি তদন্ত, শুনানি এবং নথিপত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি পরীক্ষা করে। যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট বাতিলের সুপারিশ করা হয়। মন্ত্রী আরও বলেন, এ ধরনের তদন্ত একটি নিয়মিত ও চলমান প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সঠিক ও নির্ভুল রাখার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৮১ জনের গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকাভুক্তির স্বীকৃতিও বাতিল করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়া প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরের নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম। তবে তাকে অভিনন্দন জানিয়ে স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট এক নেতার ফেসবুক পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর তালিকায় নাদিয়া পাঠান পাপনের নাম রয়েছে ৩২ নম্বরে। নাদিয়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মরহুম আনোয়ার হোসেন এবং জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য ও উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সৈয়দা নাখলু আক্তারের মেয়ে। শিক্ষাজীবনে তিনি দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, কাজী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকার বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিকভাবে নাদিয়া পাঠান পাপন ২০০০ সাল থেকে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কলেজে পড়াকালীন তিনি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও সক্রিয় ছিলেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্য। দলীয় সূত্র বলছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে গিয়ে তিনি একাধিকবার পুলিশি অভিযান ও হামলার মুখে পড়েন। এদিকে, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মৃধা তার ফেসবুক পোস্টে নাদিয়ার মনোনয়নকে “রাজনীতিতে অপ্রত্যাশিত পরিবর্তনের উদাহরণ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি নাদিয়ার মায়ের দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতার কথা তুলে ধরে লিখেছেন, ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও বিজয়নগরের সন্তান হিসেবে নাদিয়াকে অভিনন্দন জানানো উচিত। স্থানীয় পর্যায়ে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে অনেকেই তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয়ে নাদিয়া পাঠান পাপন গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৭ বছরে আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে নানা হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন, কিন্তু তখন এসব প্রশ্ন তোলা হয়নি। তার দাবি, দলীয় নেতৃত্ব যাচাই-বাছাই করেই তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। এখন তার লক্ষ্য দলের নীতি ও কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। কিন্তু বিএনপির ঘোষিত ৩৬ জনের তালিকায় জায়গা পাননি তিনি। সেই আসনে মনোনয়ন পেয়েছেন ফরিদা ইয়াসমিন। এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়েছেন চমক। রোববার (২০ এপ্রিল) বেলা ৩টা ১৩ মিনিটে দেওয়া ওই পোস্টে চমক লিখেছেন, ‘কুষ্টিয়া থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীত হওয়ার জন্য ফরিদা ইয়াসমিন আপাকে জানাই অনেক অনেক অভিনন্দন। আমি রাজনীতিতে একেবারেই নতুন এবং সংরক্ষিত নারী আসনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমার রাজনীতির পথচলা শুরু। দল থেকে যে অসামান্য সমর্থন ও সহযোগিতা পেয়েছি, তার জন্য আমি চিরকৃতজ্ঞ।’তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার মূল লক্ষ্য দেশ ও দশের সেবা করা। আমি কুষ্টিয়ার মানুষের জন্য কাজ করতে চাই এবং আমাদের হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চাই। আমার রাজনীতির এই নতুন পথচলায় আপনাদের সবার দোয়া ও ভালোবাসা প্রত্যাশা করছি।’
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য যে ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে আলোচিত তরুণ মুখ ফারজানা সিঁথির নাম নেই। ফলে তার সংসদ সদস্য হওয়ার আশা আপাতত পূরণ হয়নি। সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত তালিকায় এই সিদ্ধান্ত সামনে আসে। এর আগে ১১ এপ্রিল সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন সিঁথি, যা ঘিরে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। মনোনয়ন ফরম তোলার সময় তিনি বলেছিলেন, নড়াইল-২ আসন থেকে তিনি ফরম নিয়েছেন এবং চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তবে চূড়ান্ত তালিকায় নাম না থাকায় সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়িত হয়নি। মনোনয়ন না পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি নিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ব্রিফিং করবেন এবং সেখানে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরবেন। ফারজানা সিঁথি ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় শাহবাগ এলাকায় সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে আলোচনায় আসেন। ওই ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। পরে সমালোচনার মুখে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। যশোরের বাসিন্দা সিঁথি গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের শিক্ষার্থী। তিনি এর আগে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট, বাংলাদেশ’-এর বরগুনা সদর শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী সংরক্ষিত নারী আসনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে যাওয়ার পথে রয়েছেন। দলটির পক্ষ থেকে ঘোষিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করেন। ওই তালিকায় স্থান পান নিপুণ রায় চৌধুরী। এই মনোনয়নের ফলে একই পরিবারের তিনজন সদস্য জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নিপুণ রায়ের বাবা নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সংস্কৃতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার শ্বশুর গয়েশ্বর চন্দ্র রায় চৌধুরী ঢাকা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। নিপুণ রায় চৌধুরী নিজে এবারের সাধারণ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও বাবার ও শ্বশুরের নির্বাচনি এলাকায় সক্রিয় প্রচারণা চালান। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এই নেত্রী বিগত সরকারের সময় একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। দলীয় সূত্র বলছে, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের এই তালিকায় বিএনপির বেশ কয়েকজন পরিচিত ও আলোচিত নারী নেত্রী শেষ পর্যন্ত স্থান পাননি। তাদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, নাজমুন নাহার বেবী, হাসনা মওদুদ, হাসিনা আহমদ, নাঈমা খন্দকার এবং নাসিমা আক্তার কল্পনা। এছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদের স্ত্রী সৈয়দা আসিফা আশরাফি পাপিয়াও মনোনয়ন তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, চূড়ান্ত তালিকায় না থাকলেও এসব নেত্রীদের ভবিষ্যতে অন্যভাবে মূল্যায়ন করা হতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুই দিনব্যাপী সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শেষে এই মনোনয়ন নিশ্চিত করা হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ তথ্য জানান। রিজভী বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিন ধরে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেন। সাক্ষাৎকার শেষে মনোনয়ন বোর্ড ৩৬ জনকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করে। মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন: সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা, রেজেকা সুলতানা এবং নাদিয়া পাঠান পাপন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি তাদের ৩৬ জন প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করেছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এই তালিকা ঘোষণা করেন। তবে এই তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন গোপালগঞ্জের সুবর্ণা ঠাকুর। আওয়ামী লীগের কাশিয়ানী উপজেলার বর্তমান পদে থেকেও বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়ন পাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়।যদিও সুবর্ণা ঠাকুরের দাবি, তাকে না জানিয়ে আওয়ামী লীগে পদ দেওয়া হয়েছে। তিনি পদত্যাগও করেছেন। কোনোদিন কোনো মিছিল মিটিংয়ে যাননি আওয়ামী লীগের পক্ষে। অবশ্য কবে পদত্যাগ করেছেন তা জানাতে পারেননি বিএনপির টিকিটে এমপি হতে যাওয়া এই শিক্ষক।জানা গেছে, সুবর্ণা ঠাকুর বর্তমানে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি ওড়াকান্দি হরিচাঁদ ঠাকুর পরিবারের সদস্য ও পেশায় একজন শিক্ষক। তবে আওয়ামী লীগের পদধারী হয়েও বিএনপির প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগে তাকে যে পদ দেওয়া হয়েছে, তা তাকে না জানিয়েই দেওয়া হয়েছে। তিনি কোনোদিন দলটির কোনো মিছিল বা মিটিংয়ে অংশ নেননি।’ উল্টো নিজেকে বিএনপির লোক পরিচয় দিতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘১৯৯২ সাল থেকেই তার পরিবার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা নিয়মিত শহীদ জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেন। বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা করেছেন। একসময় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গেও দেখা করেছেন। মাতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করেছেন।’ বিএনপির মনোনয়ন কেনার আগেই কি আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পদত্যাগ করেছি। তবে কবে করলাম সেটার তারিখ এখন মনে নেই।’ আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় নেত্রী হিসেবে পরিচিত সুবর্ণা ঠাকুরের নাম বিএনপির চূড়ান্ত তালিকায় আসায় দলের ভেতরে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম করে জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন, তারা এই সিদ্ধান্তকে ‘হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীদের মতে, দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত কর্মীদের মূল্যায়ন না করে এভাবে অন্য দলের পদধারী নেত্রীকে সরাসরি মনোনয়ন দেওয়া দলের আদর্শিক অবস্থানের পরিপন্থী। তারা একে ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবেও দেখছেন। এদিকে বিএনপির কোনো পদে না থেকেও হঠাৎ সংসদ সদস্য হতে যাওয়া সুবর্ণা ঠাকুর নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী মনে করেন। তিনি বলেন, ঠাকুর পরিবারের সদস্য হিসেবে এবং শিক্ষক হিসেবে মানুষের পাশে থাকার কারণেই তিনি এই পর্যায়ে এসেছেন। বিএনপির হাইকমান্ড তাকে বেছে নেওয়ার পেছনে তার জনসম্পৃক্ততা সুবিধা করেছে বলে মনে করেন। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে বিএনপির মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান একাধিকবার ফোন করলেও কথা সম্ভব হয়নি। আর কাশিয়ানী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা মোল্লাকে ফোন করলে তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তার পদ আছে। বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক। পদত্যাগ করেছেন কী করেননি সেটা তিনি বলতে পারবেন না ।’ ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা ও মাদারীপুর-২ আসনের একাদশ সংসদ নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী মিল্টন বৈদ্য আক্ষেপ জানিয়ে লিখেছেন, কাশিয়ানী উপজেলা আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদিকা শ্রীমতী সুবর্ণা ঠাকুরকে বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী এমপি মনোনীত করায় মনোনয়ন বোর্ডের সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা এবং অভিনন্দন। অভিনন্দন শ্রীমতি সুবর্ণা ঠাকুর।’
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বৈধতা দেওয়ার কাজ শেষ করেছে জাতীয় সংসদ। জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংক্রান্তসহ ১১৩টি অধ্যাদেশকে ৮৭টি বিল পাসের মাধ্যমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। চারটি পৃথক বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশকে বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশসহ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের জারি করা বাকি ১৩টি অধ্যাদেশে সংসদের অনুমোদন মেলেনি। ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যদেশের মধ্যে ২০টি আজ থেকে কার্যকরিতা হারালো। শুক্রবারসহ টানা ছয় দিনে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি হয়। দেশের জাতীয় সংসদের ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে এত সংখ্যক বিল পাসের নজির নেই। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) শেষ দিনে ২৪টি বিল পাস হয়। এছাড়া ৫ এপ্রিল ২টি, ৬ এপ্রিল ৭টি, ৭ এপ্রিল ১৪টি, ৮ এপ্রিল ১৩টি ও ৯ এপ্রিল ৩১টি বিল পাস হয়। রহিতকরণ বিল পাসের মাধ্যমে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ ৭টি অধ্যাদেশে গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা দেওয়া হলেও গণভোট, দুদক এবং গুমসহ ১৩টি অধ্যাদেশের ক্ষেত্রে কোনো সুরাহা আসেনি। ফলে এসব অধ্যদেশের অধীনে অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত কার্যক্রমের সুরক্ষা কী হবে তা অস্পষ্ট থেকে যাচ্ছে। এমনটি গণভোট অধ্যাদেশের অধীনে অনুষ্ঠিত ‘গণভোট ২০২৬’সহ অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হলো। সংসদ না থাকা অবস্থায় রাষ্ট্রপতি যেসব অধ্যাদেশ জারি করেন তা সংসদের বৈঠকে উত্থাপনের এবং ৩০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে। শুক্রবার ছিল সংসদে নিষ্পত্তির শেষ সময়। ১২ মার্চ সংসদ অধিবেশনের শুরুর দিনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংসদে এ ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করেন। পরে অধ্যাদেশগুলো যাছাই-বাছাইয়ের জন্য সংসদে গঠিত বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়। ২ এপ্রিল বিশেষ কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন সংসদে প্রতিবেদন পেশ করেন। ওই প্রতিবেদনে ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু ও ১৫টি সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ করা হয়। এছাড়া ৪টি বাতিল ও ১৬টি পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইসহ অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। বিশেষ কমিটির সুপারিশে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ভবিষ্যতে নতুন বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ থাকলেও সুপারিশের বাইরে গিয়ে সংসদে বিল তুলে অধ্যাদেশটি রহিত করে আগের মানবাধিকার কমিশন আইনকে পুনর্বহাল করা হয়েছে। অপরদিকে কমিটির প্রতিবেদনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশকে সংশোধিত আকারে বিল পাসের সুপারিশ হলেও এই অধ্যাদেশটি তোলাই হয়নি। এদিকে বিশেষ কমিটিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ হলেও শেষ দিনে তোলা এ সংক্রান্ত বিলটি সংশোধিত আকারে পাস হয়। বিশেষ কমিটির সিদ্ধান্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে বিলটি সংশোধন হওয়ার কারণে বিরোধী দল এর তীব্র প্রতিবাদ করে। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বলেন, আপনার সামনে (স্পিকারের) দিনে দুপুরে ছলচাতুরি ও জোচ্চুরির মাধ্যমে সংসদে পাস করা হয়েছে। এ বক্তব্যের জের ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বাহাস হয়। এ সময়ে সমঝোতা ভঙ্গের বিষয়টি স্বীকার করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তবে তিনি দাবি করেন, বেসরকারি সদস্যের সংশোধনী প্রস্তাবের ফলে এই সংশোধনীটি গ্রহণ করা হয়েছে। দুই পক্ষের আলোচনার এক পর্যায়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। এর আগে তারা স্পিকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এদিকে সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে যেসব অধ্যাদেশ রহিতকরণ করা হয়েছে সেগুলো হলো- সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত, জাতীয় সংসদ সচিবালয় সংক্রান্ত এবং মানবাধিকার কমিশন সংক্রান্ত। দ্রুততম সময়ে নজিরবিহীন বিল পাস ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে টানা ছয় দিনে ৯১টি বিল পাসের মাধ্যমে ১২০টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়—যা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে নজিরবিহীন। বিল পাসের দিনভিত্তিক হিসাব: ৫ এপ্রিল: ২টি ৬ এপ্রিল: ৭টি ৭ এপ্রিল: ১৪টি ৮ এপ্রিল: ১৩টি ৯ এপ্রিল: ৩১টি ১০ এপ্রিল: ২৪টি ১৩ অধ্যাদেশে অনিশ্চয়তা যেসব ১৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: গণভোট অধ্যাদেশ পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত ২টি অধ্যাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন সংশোধনী তথ্য অধিকার সংশোধনী আয়কর ও কাস্টমস সংশোধনী মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আইন এসব অধ্যাদেশের অধীনে নেওয়া কার্যক্রমের আইনি অবস্থান এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ‘গণভোট ২০২৬’-এর বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কমিটির সুপারিশে ব্যত্যয় বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু এবং ১৫টি সংশোধন করে পাসের সুপারিশ করলেও সংসদ কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়। জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে আগের আইন পুনর্বহাল করা হয়, যা কমিটির সুপারিশের বাইরে। এছাড়া পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ সংসদে তোলাই হয়নি। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল সংশোধন করে পাস করায় বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ দেখা যায়। সংসদে উত্তেজনা ও ওয়াকআউট বিল সংশোধন নিয়ে বিরোধী দল সমঝোতা ভঙ্গের অভিযোগ তোলে। বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম সংসদে এটিকে ‘ছলচাতুরি’ আখ্যা দেন। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সংশোধনের বিষয়টি স্বীকার করলেও তা বেসরকারি সদস্যের প্রস্তাবের কারণে হয়েছে বলে জানান। একপর্যায়ে বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তুলে ওয়াকআউট করে। শেষ দিনে পাস হওয়া গুরুত্বপূর্ণ বিল শেষ দিনে ২৮টি বিল পাস হয়, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য— বিভিন্ন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল (নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, রংপুরসহ) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী সংশোধন বিল বনশিল্প ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিল ব্যাংক ও অর্থনীতি সংক্রান্ত একাধিক বিল সাইবার সুরক্ষা ও জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন সংশোধনী জুলাই যোদ্ধা ও শহিদ পরিবার কল্যাণ বিল সংসদে উত্থাপন হলেও আইনী সুরক্ষা না দেওয়ার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের যে ১৩টি অধ্যাদেশ বাতিল হয়ে আজ থেকে কার্যকারিতা হারাচ্ছে সেগুলো হলো- গণভোট অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত ২টি অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) সংশোধন অধ্যাদেশ এবং রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ। শেষদিনে ২৮ বিল শুক্রবার শেষ দিনে ২৮টি বিল পাস হয়েছে। এগুলো হলো- গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের উত্থাপিত নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল; বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল; ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল; কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর উত্থাপিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী (সংশোধন) বিল ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর উত্থাপিত বাংলাদেশ বনশিল্প কর্পোরেশন বিল এবং বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) বিল। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত আমানত সুরক্ষা বিল; দ্যা এক্সসাইজ এন্ড সল্ট (সংশোধন) বিল; মুল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল; গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল; বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল; ব্যাংক রেজুলেশন বিল এবং অর্থ (২০২৫-২৫) অর্থ বৎসর বিল। শিক্ষমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের উত্থাপিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সির্টি বিল; বিশ্বদ্যালয় সংক্রান্ত কতিপয় আইন (সংশোধন) বিল; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম উত্থাপিত জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা বিল এবং সাইবার সুরক্ষা বিল; প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উত্থাপিত মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেনের উত্থাপিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন উত্থাপিত ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংরক্ষণ) বিল; মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান উত্থাপিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার এবং জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল পাস হয়েছে। অধিবেশন মুলতবি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১৫ এপ্রিল (বুধবার) বেলা ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) এ মুলতবি ঘোষণা করেন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে। নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের পথে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এখন ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন চূড়ান্ত করার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে। দলীয় হাইকমান্ডের টেবিলে ইতোমধ্যেই একটি খসড়া তালিকা পৌঁছেছে, তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশন আগামী ৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে, আর ভোটগ্রহণ নির্ধারিত হয়েছে ১২ মে। সংসদে আসনসংখ্যার অনুপাতে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী একটি সংরক্ষিত আসন। মনোনয়ন নিয়ে কৌশল ও অনিশ্চয়তা দলের ভেতরে এখনো একটি বড় প্রশ্ন—এই মনোনয়ন প্রক্রিয়া কতটা আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হবে। কারণ সরাসরি নির্বাচিত ৩০০ আসনের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংরক্ষিত আসনের জন্য নতুন করে সাক্ষাৎকার আয়োজন করা হবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। দলীয় সূত্র বলছে, তফসিল ঘোষণার পর আগ্রহী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হতে পারে। এরপরই প্রকাশ পাবে বহুল প্রতীক্ষিত চূড়ান্ত তালিকা। আলোচনায় শীর্ষ নামগুলো মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন দলটির মহিলা শাখা ও কেন্দ্রীয় রাজনীতির পরিচিত কয়েকজন মুখ। তাদের মধ্যে রয়েছেন আফরোজা আব্বাস, নিলোফার চৌধুরী মনি, হেলেন জেরিন খান, শাম্মী আক্তার এবং রেহানা আক্তার রানু। এছাড়া সাম্প্রতিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত কয়েকজন নেত্রীও সক্রিয় লবিং করছেন—ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, সাবিরা সুলতানা, সানজিদা ইসলাম তুলি ও নাদিরা চৌধুরী তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। পরিবার ও পরিচয়ের প্রভাব রাজনীতির পুরোনো পরিবারগুলোর উত্তরাধিকারও এই তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রয়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদ, ব্যারিস্টার সালিমা বেগম অরুনি, মাহারীন খান, ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, ফারহানা চৌধুরী বেবী, সাবরিনা খান ও খাদিজাতুল কোবরা সুমাইয়ার নাম ঘুরছে জোরালোভাবে। মাঠের রাজনীতি বনাম “হাইব্রিড” বিতর্ক দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশ চাইছেন, দীর্ঘদিন রাজপথে থাকা ত্যাগী নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হোক। ঢাকা মহানগরের এক নেত্রী আরিফা সুলতানা রুমার ভাষায়—দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে যারা ছিলেন, তারাই যেন মূল্যায়িত হন। অন্যদিকে “হাইব্রিড” বা হঠাৎ উঠে আসা নতুন মুখদের নিয়ে রয়েছে অসন্তোষ। অনেকেই মনে করছেন, এতে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে। বহুমাত্রিক বিবেচনা মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় শুধু রাজনৈতিক অবদান নয়, আরও কিছু বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে: শিক্ষাগত যোগ্যতা সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সক্ষমতা সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী মনে করছেন, প্রান্তিক ও পিছিয়ে পড়া নারীদেরও এই প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। শেষ মুহূর্তের চমক? দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত—বর্তমান আলোচিত তালিকার বাইরেও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে কয়েকজন নতুন মুখ যুক্ত হতে পারেন। ফলে শেষ মুহূর্তে বড় ধরনের চমক থাকতেই পারে। সব মিলিয়ে, বিএনপির এই ৩৬টি সংরক্ষিত নারী আসন শুধু একটি মনোনয়ন তালিকা নয়—এটি হয়ে উঠেছে ত্যাগ বনাম প্রভাব, অভিজ্ঞতা বনাম নতুনত্ব এবং রাজনীতি বনাম পরিচয়ের এক জটিল সমীকরণ। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কারা পান কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তখনকার মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম বহাল রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। পরে কণ্ঠভোটে সেটি পাস হয়। তবে বিলে আপত্তি জানিয়ে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। অবশ্য তাদের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পক্ষ থেকে এই বিলের ওপর কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে জানানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে সংসদের বিশেষ কমিটি। বিশেষ কমিটির এই প্রতিবেদনে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) জানিয়ে জামায়াতের এমপিরা বলেন, জামুকা অধ্যাদেশটি বর্তমান অবস্থায় কোনো পরিবর্তন ছাড়া পাস হলে দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক দল মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামের মতো দলগুলো পাকিস্তানের সহযোগী হিসেবে থেকে যাবে, যা কোনোভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়। জামায়াতের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়, ২০০২ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের আইনে দলগুলোকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী বলা হয়নি। রাজনৈতিক দলকে সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে চিহ্নিত করা ফ্যাসিবাদী রাজনীতির প্রতি সমর্থন। অধ্যাদেশের ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ ও মুক্তিযুদ্ধের সংজ্ঞায় পরিবর্তন আনার দাবিও জানান জামায়াত এমপিরা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) সংশোধন বিল-২০২৬ পাস হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে সেটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এ বিল পাসের মধ্যদিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক থাকছে না। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর, জবাবদিহিতামূলক ও সময়োপযোগী করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন আইন সংশোধন করা হয়। এই সংশোধন বিলও সেই প্রক্রিয়ার অংশ। এদিকে বিলটি পাসের সময় ওয়াকআউট করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। সংসদ অধিবেশনে বিরতির পর তারা আবার সংসদে ফেরেন। পরে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ বলেন, আওয়ামী লীগ খারাপ, কিন্তু ক্ষমতা ধরে রাখতে তাদের করা সব আইন আজ ভালো হয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এখন আবার কী বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি হলো, জানতে চাই। এর মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধির পরিবর্তে দলীয় প্রশাসক বসানো হচ্ছে। এই আইনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে গলাটিপে হত্যা করা হল। বিকেলে সংসদে ‘স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। বিরোধীদলীয় এমপিরা এতে না ভোট দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় শফিকুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। এদিকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশের মধ্যে সংসদে ৭২টি বিল আকারে পাস হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে সাউন্ড সিস্টেমে গুরুতর বিভ্রাটের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার হোসেনকে জনস্বার্থে ঢাকার ই/এম বিভাগ-১২-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। তাকে ২ এপ্রিলের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে, অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বর্তমান দায়িত্ব থেকে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে। গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তবে উদ্বোধনী দিনেই সাউন্ড সিস্টেম ও হেডফোনে ত্রুটির কারণে অধিবেশনে বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে অধিবেশন মুলতবি করতে বাধ্য হন। নতুন সংসদের প্রথম দিনেই এ ধরনের ঘটনায় সংসদ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এ ঘটনার পর ১৪ মার্চ বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে। পরবর্তীতে সাউন্ড সিস্টেমের ত্রুটি কোনো অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের ফল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ২৮ মার্চ একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে ৩ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীকে বদলি করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ভবিষ্যতে সংসদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনা হতে পারে, যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি আর না ঘটে।
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের আসন্ন নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোটে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে সোমবার (৩০ মার্চ) এ তথ্য জানা গেছে। ইসি সচিবালয় জানিয়েছে, সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সামনে রেখে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়েছিল। ওই চিঠিতে দলগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানাতে বলা হয়—তারা জোটগতভাবে নাকি স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী দেবে। এর জবাবে রুমিন ফারহানা কমিশনকে জানিয়েছেন, তিনি কোনো জোটে যোগ দেবেন না। ফলে এই নির্বাচনে তিনি কেবল একজন ভোটার হিসেবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কোনো দল বা জোটের পক্ষে প্রার্থী মনোনয়নে তার ভূমিকা থাকবে না। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। বিদ্যমান আইনে সংসদে দলগুলোর প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী, যেসব দলের সংসদে সদস্য সংখ্যা বেশি, তারা বেশি সংখ্যক সংরক্ষিত আসন পায়। বর্তমানে নির্বাচন কমিশন আনুপাতিক হার নির্ধারণ এবং ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত মহিলা আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ অনুযায়ী, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা চাইলে কোনো জোটে যোগ দিয়ে তাদের ভোট জোটের অনুকূলে দিতে পারেন, যা সংশ্লিষ্ট জোটের আসন সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে রুমিন ফারহানা সেই সুযোগ গ্রহণ না করে স্বতন্ত্র অবস্থানেই থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বাবা ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভার সদস্য। মেয়ে তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বলছি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কথা। ফরিদপুর- ২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা, সালথা) আসনে ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হন কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি ৩২ হাজার ৩৮৯ ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হন। শামা ওবায়েদ প্রবীণ রাজনীতিবিদ প্রয়াত কেএম ওবায়দুর রহমানের কন্যা। শামা ওবায়েদ তার নির্বাচনি এলাকায় জনগণের পাশে থেকে ব্যাপক কাজ করেছেন। সেই কারণে ভোটারদের ভালোবাসায় তিনি বিপুল ভোটে এমপি নির্বাচিত হন।নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই গুঞ্জন ছিল তার মন্ত্রিত্ব পাওয়ার। এবার সে গুঞ্জনই সত্যি হলো। শামা ওবায়েদের বাবা কে এম ওবায়দুর রহমান বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। তিনি ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন ফরিদপুর-৭ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৩-১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের ডাক ও তার প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর তিনি খোন্দকার মোশতাক আহমেদের সরকারে যোগ দেন। ১৯৭৫ সালের জেল হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে জেল হত্যা মামলায় তিনি খালাস পেয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগ দেন এবং ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।এ সময় তিনি প্রথমে মৎস্য ও পশুপালন এবং পরে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-১৯৮৮ সালে তিনি বিএনপির মহাসচিব ছিলেন। জুন ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে ফরিদপুর-২ আসনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।আমৃত্যু বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ধানের শীষ প্রতীকে ৪৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে। অপরদিকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ তথ্য জানান। ইসির তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ৫০টি রাজনৈতিক দল ও ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। অন্যান্য দলের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীকে ৩২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভোট পেয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীকে ২৫৭টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রিকশা প্রতীকে ৩৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২ দশমিক ০৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জাতীয় পার্টি লাঙ্গল প্রতীকে ১৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে শূন্য দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এছাড়া নির্বাচনে ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ ভোট। ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসি সচিব জানান, ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রামের দুটি আসনের (চট্টগ্রাম ২ ও ৪) ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। বাকি ২৯৭টি আসনের প্রাপ্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং খেলাফত মজলিস ১টি আসনে জয়লাভ করে। এছাড়া ৭টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রদত্ত ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। আর গণভোটে কাস্টিং ভোটের হার ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ।
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান—এমন তথ্য জানিয়েছে দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র। পাশাপাশি বিরোধীদলীয় উপনেতা পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন নাহিদ ইসলাম। তবে এসব পদে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও হুইপ পদ নিয়েও দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। চিফ হুইপ বা হুইপ হওয়ার আলোচনায় রয়েছেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এবং মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এ ছাড়া চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী ও সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলাম-কে বিরোধী দলে সম্মানজনক কোনো পদে রাখা হতে পারে বলেও জানা গেছে। বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ডেপুটি স্পিকার পদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় আলোচনায় আছেন দলের সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামী-এর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলি-এর ছেলে, আয়নাঘর থেকে ফেরত আসা ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। তবে দলীয় ভেতরে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি বলে আলোচনা রয়েছে। ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্য থেকেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হতে পারে। জোটের শরিক এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ বিরোধী দলের হুইপ হতে পারেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ বিষয়ে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম বলেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে এখনো দলের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি জানান, ১১ দলীয় জোট অটুট রাখতে শরিক দলগুলোর জন্যও কিছু পদ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। জোটের বৈঠকের পরই বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা, চিফ হুইপ, হুইপ ও ডেপুটি স্পিকারসহ সংসদের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে আভাস দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে নিরঙ্কুশ সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ও তাদের জোট সমর্থিত প্রার্থীরা। বিভাগের ২১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি ও তাদের শরিকরা বিজয়ী হয়েছেন। বাকি দুটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং একটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী। বরিশালের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম ফলাফলের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে বিভাগের প্রতিটি আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট বিজয়ী হয়েছে বলে জানা গেছে। ১০ নতুন মুখ সংসদে বিভাগের সব আসন মিলিয়ে প্রথমবারের মতো ১০ জন প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জাতীয় সংসদে যাচ্ছেন, যা এবারের নির্বাচনে বরিশাল বিভাগের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক। ভোলা জেলা: চার আসনেই বিএনপি জোটের প্রাধান্য ভোলা জেলার চারটি আসনের মধ্যে: ভোলা-১: গরুর গাড়ি প্রতীকের আন্দালিব রহমান পার্থ (বিজেপি) দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-2: ধানের শীষের হাফিজ ইব্রাহিম দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। ভোলা-৩: মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম সপ্তমবারের মতো নির্বাচিত। ভোলা-৪: ধানের শীষের মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। বরিশাল জেলা: পাঁচ আসনের চিত্র বরিশাল জেলার ছয়টি আসনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফলাফল: বরিশাল-১: এম জহির উদ্দিন স্বপন তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-২: সরদার সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু প্রথমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৩: অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরিশাল-৪: মো. রাজিব আহসান প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য। বরিশাল-৫: অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার পঞ্চমবারের মতো জয়ী। বরিশাল-৬: আবুল হোসেন খান দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী: চার আসনে ভিন্নধর্মী ফলাফল পটুয়াখালী জেলার চারটি আসনের ফলাফল: পটুয়াখালী-১: আলতাফ হোসেন চৌধুরী তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-২: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রথমবারের মতো জয়ী। পটুয়াখালী-৩: ট্রাক প্রতীকের নুরুল হক নূর (গণ অধিকার পরিষদ) প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পটুয়াখালী-৪: এ বি এম মোশাররফ হোসেন দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। বরগুনা: দুই আসনে দুই দল বরগুনা-১: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মো. অলি উল্লাহ প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। বরগুনা-২: ধানের শীষের মো. নূরুল ইসলাম মনি চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। ঝালকাঠি: দুই আসনেই বিএনপি ঝালকাঠি-১: রফিকুল ইসলাম জামাল প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। ঝালকাঠি-২: ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো দ্বিতীয়বারের মতো জয়ী। পিরোজপুর: বিএনপি ও জামায়াতের ভাগাভাগি পিরোজপুর জেলার তিনটি আসনের মধ্যে: পিরোজপুর-১: জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মাসুদ সাঈদী প্রথমবারের মতো নির্বাচিত। পিরোজপুর-২: আহম্মদ সোহেল মনজুর প্রথমবারের মতো জয়ী। পিরোজপুর-৩: মো. রুহুল আমীন দুলাল প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত। সারসংক্ষেপ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল বিভাগে বিএনপি ও তাদের জোটের নিরঙ্কুশ আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ২১টির মধ্যে ১৮টি আসনে জয়, ১০ জন নতুন মুখের অভিষেক এবং সব আসনে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোটের বিজয়—এই তিনটি বিষয় এবারের নির্বাচনে বরিশালকে বিশেষভাবে আলোচনায় এনেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।