ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আবারও দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুর থেকে সীমান্তঘেঁষা রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষ চলাকালে একের পর এক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে। এতে বাংলাদেশের হোয়াইক্যং ও হ্নীলা সীমান্তবর্তী এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে সীমান্তঘেঁষা এলাকার বাড়িঘর পর্যন্ত কেঁপে ওঠে। ঘটনাটির পর সীমান্তের বাসিন্দাদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে বুধবার (১ জুলাই) দিন ও রাতে রাখাইনের মংডু শহরে বিমান থেকে বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। হোয়াইক্যংয়ের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, দুপুরের দিকে রাখাইনের বলিবাজার ও কুমিরখালী এলাকা থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তাঁর ভাষ্য, এ পর্যন্ত অন্তত সাতটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং প্রতিটি বিস্ফোরণেই সীমান্ত এলাকার বাড়িঘর কেঁপে ওঠে। হোয়াইক্যং ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিরাজুল মোস্তফা লালু বলেন, প্রায় এক বছর আগে একই সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার জান্তা বাহিনীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়েছিল। সে সময় সীমান্ত এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন আতঙ্কে ছিলেন। নতুন করে বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের খবর স্থানীয়দের মধ্যে সেই উদ্বেগ আবারও ফিরিয়ে এনেছে। হ্নীলা মৌলভীবাজার এলাকার জেলে রহমত উল্লাহ জানান, সকালে নাফ নদীতে মাছ ধরতে গেলেও দুপুরের দিকে রাখাইন সীমান্ত থেকে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শুনে তিনি আতঙ্কিত হয়ে দ্রুত তীরে ফিরে আসেন। এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, বিস্ফোরণের শব্দের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে এবং বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতি কেন গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের টেকনাফ অংশ অতীতে একাধিকবার সংঘর্ষের অভিঘাতের মুখে পড়েছে। সীমান্তের ওপারে সংঘর্ষ শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে এবং সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনাও সেই আশঙ্কাকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং হতাহতের কোনো তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনেই নরসিংদীর একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে গুরুতর প্রশাসনিক ত্রুটির অভিযোগ উঠেছে। বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় একাধিক পরীক্ষার্থীর হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র তুলে দেওয়া হয়। প্রায় ১৫ মিনিট পর ভুলটি ধরা পড়লে নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হলেও পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, হারিয়ে যাওয়া সময়ের কোনো ক্ষতিপূরণ তারা পাননি। ঘটনার পর কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীন নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারের ২০১ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ১৫ মিনিট পর ধরা পড়ে ভুল কেন্দ্র সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর কিছু শিক্ষার্থী প্রশ্নপত্রে অসঙ্গতি লক্ষ্য করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, তাদের হাতে চলতি বছরের পরিবর্তে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়েছে। এরপর নতুন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা অব্যাহত রাখা হলেও পরীক্ষার্থীদের দাবি, ভুলের কারণে নষ্ট হওয়া সময়ের জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়নি। তবে কোনো শিক্ষার্থীই পরিচয় প্রকাশে রাজি হননি। ওই কক্ষে মোট কতজন পরীক্ষার্থী ছিলেন, তাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। 'বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর' কেন্দ্রসচিব ও নরসিংদী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ নাছিমা আক্তার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "২০১ নম্বর কক্ষে ভুলবশত পুরোনো সিলেবাসের প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি জানতে পেরে ২০২৬ সালের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাদের জন্য বিব্রতকর।" তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক দায়ে প্রশ্নপত্র আনা-নেওয়া ও কেন্দ্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অলক কুমার পাল এবং হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুব্রত কুমার সাহাকে সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অধ্যক্ষের ভাষ্য, তদন্ত শেষে লিখিত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসনের তদন্ত এইচএসসি কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলম জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মু. রাসেদুজ্জামানকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি নিজেই কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনাটি যাচাই করেছেন। তার ভাষায়, "ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" কত শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়েছেন? জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুল খালেক জানান, মূল কেন্দ্রের প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থী সরকারি মহিলা কলেজের সাব-সেন্টারে পরীক্ষায় অংশ নেন। এদিকে জেলা শিক্ষা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর নরসিংদী জেলায় মাধ্যমিক, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলিয়ে ৩১টি কেন্দ্রে ১৫ হাজার ১৬৮ জন পরীক্ষার্থী প্রথম দিনের পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রথম দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ২১৪ জন। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ঘটনাটি শুধু মানবিক ভুল, নাকি প্রশ্নপত্র ব্যবস্থাপনায় আরও বড় ধরনের ত্রুটির ইঙ্গিত—তা এখন তদন্তের বিষয়। তদন্তে যেসব বিষয় গুরুত্ব পেতে পারে— কেন ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র পরীক্ষাকক্ষে পৌঁছালো? প্রশ্নপত্র গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের দায়িত্বে কারা ছিলেন? ভুল শনাক্ত হওয়ার পর পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কে নিয়েছিলেন? এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়নে কোনো প্রভাব পড়বে কি না? শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা পরিচালনা নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না? প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এসব প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর মিলতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে কীভাবে একের পর এক ইয়াবার চালান ভেতরে প্রবেশ করছে—এই প্রশ্ন এখন শুধু কারা প্রশাসনের নয়, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনার পর কারাগারের অভ্যন্তরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এর কয়েকদিন আগেই আরেক বন্দির কাছ থেকেও ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল। এসব ঘটনায় কারাগারের দুই ডেপুটি জেলারসহ কয়েকজন কারারক্ষীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি এবং প্রশাসন বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। এক ঘটনার পর আরেক ঘটনা কারা সূত্র বলছে, ১০ জুন নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৬ জুন কীর্তনখোলা-২ ভবনে বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে আরও ১০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনাটিসহ একাধিক মাদক উদ্ধারের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কারাগারের ভেতরে কীভাবে পৌঁছায় মাদক? বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুস্তরবিশিষ্ট। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একাধিক তল্লাশি ও নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে কীভাবে ইয়াবার মতো নিষিদ্ধ মাদক বন্দিদের হাতে পৌঁছায়? কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় শুধু নিচু স্তরের কারারক্ষীরা নন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কিছু কর্মকর্তাও জড়িত থাকতে পারেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, দুই ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ও আনন্দ শীল ছাড়াও কয়েকজন কারারক্ষী ও নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সদস্য এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত। '২০ হাজার টাকায় আপস'—অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের এক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, ৬ জুন বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত না করে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস করা হয়। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল দুই ডেপুটি জেলার নির্দেশনায় এবং এতে কারাগারের গোয়েন্দা দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কারারক্ষী ভূমিকা রাখেন। অভিযোগের মুখে কর্মকর্তারা ডেপুটি জেলার আনন্দ শীলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অপরদিকে ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ফোনে বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন এবং পরে কথা বলবেন। পরে আর যোগাযোগ করেননি। কারাগারের সর্বপ্রধান রক্ষী গাজী রশিদের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। জেল সুপার যা বললেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বন্দিদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নারী বন্দি সুবর্ণার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারারক্ষী মৌ ও শারমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ এবং কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি তদন্তাধীন। কারাগারকে মাদকমুক্ত করতে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" ডিআইজি প্রিজনের নীরবতা কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) অসীম কান্ত পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করলেও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের মাদককাণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরোনো অভিযোগ, নতুন প্রশ্ন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এর আগেও একাধিকবার ইয়াবা ও স্মার্টফোন উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। কারা প্রশাসনের ভেতরে দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অতীতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ঘটনাগুলো আবারও প্রশ্ন তুলেছে—কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকা একটি কারাগারে বারবার মাদক প্রবেশের নেপথ্যে কেবল বিচ্ছিন্ন অনিয়ম, নাকি সংঘবদ্ধ কোনো চক্র কাজ করছে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ফলাফলের ওপর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার একটি শিব মন্দিরের জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও গুরুতর হামলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জমি দখলে বাধা দেওয়ায় স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলা চালানো হয়। এতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) এক ইউপি কমান্ডারসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। সোমবার (২৯ জুন) উপজেলার ষোলসত বাবুরহাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন—ষোলসত গ্রামের সোনারাম চক্রবর্তীর ছেলে ও স্থানীয় আনসার ভিডিপির ইউপি কমান্ডার তপন চক্রবর্তী, তার মা বকুল রানী চক্রবর্তী এবং প্রতিবেশী মিলন কুমার শিল। অভিযুক্ত হিসেবে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সহসভাপতি মো. আজিজুল শেখ, তার স্ত্রী মুঞ্জিলা বেগম এবং পুত্রবধূ আরজু বেগমের নাম উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘদিনের বিরোধ, নতুন করে উত্তেজনা স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুরহাট এলাকার ‘নিলখোলা শিব মন্দির’-এর জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই জমি দখলের চেষ্টা বহুদিন ধরেই চলছিল। স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম বলেন, আজিজুল শেখ স্থানীয় আওয়ামী লীগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সহসভাপতি ছিলেন এবং জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সোমবার সকালে অভিযুক্তরা মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিলে তপন চক্রবর্তী বাধা দেন। এরপরই তার ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার মা ও প্রতিবেশীকেও মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরিবারের অভিযোগ আহত তপন চক্রবর্তীর বাবা সোনারাম চক্রবর্তী বলেন, মন্দিরের জমিতে ঘর নির্মাণের চেষ্টা ঠেকাতে গেলে তার ছেলের ওপর হামলা চালানো হয়। তার ভাষ্য, হামলায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন এবং তার ছেলে বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকের বক্তব্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আকাশ কুণ্ড জানান, তপন চক্রবর্তীর মাথায় ধারালো অস্ত্রের গুরুতর আঘাত রয়েছে। সেখানে একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অন্য দুই আহত ব্যক্তি নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশের অবস্থান নাজিরপুর থানার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধ সম্পর্কে পুলিশ আগে থেকেই অবগত ছিল এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানানো হয়েছে। তার দাবি, অভিযুক্ত আজিজুল শেখের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান অভিযুক্তসহ অন্যদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান চলছে। তদন্তে যেসব প্রশ্ন সামনে এসেছে ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— শিব মন্দিরের জমির প্রকৃত মালিকানা ও রেকর্ড কী বলছে? জমি নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ থাকলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কেন হয়নি? হামলার আগে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পূর্বের অভিযোগগুলোর অগ্রগতি কী ছিল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল। এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট আরও স্পষ্ট হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ বদরুল আলম খানকে ঘিরে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, কমিশন গ্রহণ এবং ঠিকাদারি ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, আনুষ্ঠানিক পদমর্যাদার বাইরে গিয়ে তাঁর প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে প্রধান প্রকৌশলীর সমপর্যায়ের, এমনকি তারও বেশি। ক্ষমতার উত্থান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বদরুল আলম খান তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, সেই রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন এবং বড় প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার করেন। ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নতুন ক্ষমতার বলয়ে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে আবার নিজেকে অন্য রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলেও দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। বদলি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ সার্কেলগুলোতে দায়িত্ব পালনকালে বদরুল আলম খান বদলি ও পদায়নে অনানুষ্ঠানিক প্রভাব বিস্তার করেছেন। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের দরপত্র নির্দিষ্ট ঠিকাদারদের অনুকূলে প্রভাবিত করার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কয়েকটি প্রকল্পে কমিশনের বিনিময়ে কাজ পাইয়ে দেওয়ার একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল। ঠিকাদারি ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, "আসিফ" নামের এক ঠিকাদারের সঙ্গে বদরুল আলম খানের ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন নির্বাহী প্রকৌশলীকে ফোন করে ওই ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের কয়েকটি থানা ভবন নির্মাণ এবং অন্যান্য সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পেও এই প্রভাব খাটানো হয়েছে। মিরপুর আবাসিক প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, মিরপুর পাইকপাড়া আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের আরবরিকালচার কাজ সংশ্লিষ্ট বিভাগে না দিয়ে অন্য বিভাগের মাধ্যমে টেন্ডার করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, নির্দিষ্ট ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তখন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন বদরুল আলম খান। অতীত কর্মস্থল নিয়েও অভিযোগ ভোলা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালনকালেও তাঁর বিরুদ্ধে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। ময়মনসিংহে কর্মরত অবস্থায় ভবনের নকশা অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে ওএসডি করা হয়েছিল বলেও কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে। যা বলছেন সংশ্লিষ্টরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেছেন, বদরুল আলম খানের নির্দেশ অমান্য করলে বদলি বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার আশঙ্কা থাকে। ফলে অনেক কর্মকর্তা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর নির্দেশ অনুসরণ করেন বলে অভিযোগ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মাদক-সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সাইবার স্পেসে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। জাতীয় সংসদে শনিবার দুটি পৃথক সংশোধনী বিল উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমন ও বিচারব্যবস্থায় নতুন নীতিগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো কেবল আইনের ভাষাগত পরিবর্তন নয়; বরং বিচার কাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ক্ষমতা বৃদ্ধির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মাদক মামলার জট কমাতে ফিরছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল উত্থাপন করেন। বিলটি পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সাধারণ আদালতে বিপুলসংখ্যক মামলার চাপ থাকায় মাদক-সংক্রান্ত অপরাধের বিচার কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও সরকার মনে করছে। এ কারণে বিদ্যমান সাধারণ আদালতের বিচারিক এখতিয়ার বহাল রেখেই মাদকপ্রবণ এলাকাগুলোতে পৃথক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার বিধান পুনরায় যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধেও নজর সংশোধনীতে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ মোকাবিলায় নতুন বিধান সংযোজনের কথাও বলা হয়েছে। বিশেষ করে সাইবার স্পেস ব্যবহার করে মাদক ব্যবসা, লেনদেন ও যোগাযোগের মতো অপরাধ দমনে নতুন আইনি কাঠামো যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কার্যকারিতা বাড়াতে— আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের আইনগত প্রাধিকার; বিশেষায়িত ডগ স্কোয়াড গঠন; —সংক্রান্ত বিধানও সংযোজনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সাইবার আইন থেকে বাদ যাচ্ছে জুয়ার বিধান একই দিনে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপন করেন। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বর্তমান সাইবার সুরক্ষা আইন থেকে সাইবার স্পেসে জুয়া খেলা-সংক্রান্ত অপরাধ ও শাস্তির বিধান অপসারণ করা হবে। এর পরিবর্তে 'জুয়া প্রতিরোধ আইন' নামে পৃথক একটি আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধ একটি স্বতন্ত্র আইনি কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হয়। বিলটিও পরীক্ষা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। অনুসন্ধানী বিশ্লেষণ: কেন একসঙ্গে দুটি আইনে পরিবর্তন? দুটি বিল একসঙ্গে সংসদে আনার মধ্য দিয়ে সরকার অপরাধ দমন নীতিতে একটি কাঠামোগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে। মূল পরিবর্তনগুলো হলো— মাদক মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা; প্রযুক্তিনির্ভর মাদক অপরাধকে আইনের আওতায় আরও স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা; মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি; সাইবার আইনকে মূলত ডিজিটাল অপরাধকেন্দ্রিক রেখে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধকে পৃথক আইনে স্থানান্তর করা। তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ট্রাইব্যুনাল গঠন করলেই বিচার দ্রুত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। বিচারক, প্রসিকিউশন, তদন্ত কর্মকর্তা এবং ফরেনসিক সক্ষমতা সমানভাবে বাড়ানো না গেলে মামলার জট পুরোপুরি কমানো কঠিন হতে পারে। একইভাবে, জুয়া-সংক্রান্ত বিধান আলাদা আইনে স্থানান্তরের ফলে আইন প্রয়োগ আরও কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করবে নতুন আইনের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগের ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ আবারও ভেঙেছে নিজস্ব রেকর্ড। ছয় মাস পর খোলা ১৩টি দানসিন্দুক থেকে এবার পাওয়া গেছে ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা, যা এ পর্যন্ত মসজিদটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার। শনিবার (২৭ জুন) সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়ে টানা প্রায় সাড়ে ১৩ ঘণ্টা ধরে চলে টাকা গণনার কাজ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ১৩টি সিন্দুক থেকে মোট ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এছাড়া দানবাক্সে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়। নজিরবিহীন নিরাপত্তায় খোলা হয় ১৩ সিন্দুক শনিবার সকালেই প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দানসিন্দুকগুলো খোলা হয়। পুরো কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. এরশাদুল আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), মসজিদ কমিটির সদস্যসচিব কামরুল হাসানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট। ৫ শতাধিক মানুষের অংশগ্রহণে গণনা বিপুল পরিমাণ অর্থ গণনার কাজে অংশ নেন প্রায় ৫ শতাধিক ব্যক্তি। তাদের মধ্যে ছিলেন আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া ও পাগলা মসজিদের এতিমখানাসহ দুটি মাদ্রাসার প্রায় সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থী, রূপালী ব্যাংক-এর ১৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, মসজিদ কমিটির সদস্য, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা। দানের অর্থ কোথায় যায়? জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন জানান, পাগলা মসজিদ ও ইসলামিক কমপ্লেক্সের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের পর অবশিষ্ট অর্থ ব্যাংকে জমা রাখা হয়। বর্তমানে মসজিদের তহবিলে ব্যাংকে জমা রয়েছে প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা। এছাড়া অনলাইন মাধ্যমে পাওয়া দানের আরও প্রায় ২৫ লাখ টাকা রয়েছে। এবার পাওয়া অর্থও ব্যাংকে জমা রাখা হবে। তিনি আরও জানান, দানবাক্সে পাওয়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার জেলা প্রশাসনের ট্রেজারিতে সংরক্ষণ করা হয়। পরে সেগুলো উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থও মসজিদের তহবিলে যুক্ত করা হয়। শুধু মসজিদ নয়, সমাজকল্যাণেও ব্যয় মসজিদ পরিচালনা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, তহবিলের মুনাফা থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়া হয়। পাশাপাশি অসহায়, দরিদ্র এবং জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদেরও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। কেন এত দান আসে? মসজিদ কমিটি বলছে, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে হাজারো মানুষ পাগলা মসজিদে আসেন। অনেকেই বিশ্বাস ও মানতের অংশ হিসেবে নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা কিংবা স্বর্ণালঙ্কার দান করেন। সাধারণত প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর সিন্দুক খোলা হলেও এবার প্রায় ছয় মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে, ফলে দানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর প্রায় ৩ মাস ২৭ দিন পর দানসিন্দুক খুলে ৩৫ বস্তা টাকা থেকে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই সময়ও বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং হীরা উদ্ধার হয়েছিল। এবারের সংগ্রহ সেই রেকর্ডকে ছাড়িয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। নগদ অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ১২ লাখ টাকা বেশি হওয়ায় এটি পাগলা মসজিদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দান হিসেবে নতুন মাইলফলক হয়ে থাকল। তথ্যসংক্ষেপ মসজিদ: পাগলা মসজিদ, কিশোরগঞ্জ খোলা সিন্দুক: ১৩টি মোট প্রাপ্ত অর্থ: ১৫,৯০,৮০,১৪৬ টাকা অতিরিক্ত উদ্ধার: বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার গণনার সময়: প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিট অংশগ্রহণকারী: ৫ শতাধিক ব্যক্তি বর্তমান ব্যাংক তহবিল: প্রায় ১১৪ কোটি ১৩ লাখ টাকা অনলাইন দান: প্রায় ২৫ লাখ টাকা
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার বরিশালে সামনে এসেছে ভিন্ন এক অভিযোগ। এক কলেজছাত্রী দাবি করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে একদল কিশোরী গ্যাং তার ওপর হামলা চালিয়েছে, পরে তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাবেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে প্রথম দফায় রাবেয়ার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন পরে ফকিরবাড়ি রোডে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে ও তার মাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়। কি ঘটেছিল সেই দিন : থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন একই কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। রাবেয়ার অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে,ঝালকাঠির বহুল আলোচিত জেসলি জান্নাত,অন্তি ও কলির নেতৃত্বে একদল কিশোরী গ্যাং ২২ জুন দুপুর দেড় টায় প্রথম দফায় বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে সিটি কলেজের ছাত্রী রাবেয়ার ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে।কলেজের শিক্ষার্থীদের বাঁধায় পালিয়ে যায় এই কিশোরী গ্যাংয় গ্রুপটি। পরে দ্বিতীয় দফায় কলেজ ছাত্রী রাবেয়ার ফকিরবাড়ি রোডস্থ ভাড়া বাসায় হামলা করে। এ সময় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে।লুটপাট করে মালামাল। কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অন্তির সাথে রাবেয়া একই কলেজের শিক্ষার্থী।টুকটাক ঝামেলা চলে আসছিলো দু জনের মাঝে।সেই ঝামেলার সুত্রধরে বাসায় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।এ ছাড়া রাবেয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তারা। আরও গুরুতর অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং তথাকথিত "হানিট্র্যাপ" কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত একটি ঘটনায় এক যুবক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন। কিশোরী গ্যাং তারা তাদের গ্যাংয়ে মেয়েদের হায়ার করার জন্য হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্লাকমেইলিং করে গ্রুপ বড় করছে। এই গ্রুপ সরকারি চাকুরীজীবি, বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানিট্রাপের টোপ ফেলে ব্লাকমেইলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।এছাড়া আবাসিক হোটেল ডেটের জন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটন এলাকার বিলাসবহুল হোটেল আমোদফুর্তির অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি এক যুবককে ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে সেই যুবক থানায় সাধারন ডায়েরী করার পরে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়ে যায় হানিট্রাপ গ্রুপের সেই বহুল আলোচিত কিশোরী গ্যাং প্রধান। ভুক্তভোগীর বক্তব্য এ ব্যাপারে হামলার শিকার শিক্ষার্থী রাবেয়া জানান,আমাকে ও আমার মায়ের ওপর হামলা করেছে। পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে তারা তাদের মোবাইলে ভিডিও করে তারা তাদের ফেসবুক আইডিতে এবং তাদের লোকজনদের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। রাবেয়া আরো জানান,আমাদের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ও টাকা নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিবো। তিনি বিতর্কিত কিশোরী গ্যাং গ্রুপের হাত থেকে বাচাঁর জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশের অবস্থান বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেট থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারি আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কি তার বদলির প্রধান কারণ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে কয়েকটি ঘটনা, যা গত কয়েক মাসে সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী ‘ডেগ’ সিলগালা করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ এটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা একে ধর্মীয় ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। ‘ডিসি’ সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে মাজার ভক্তরা ‘ওলির সঙ্গে বেয়াদবির খেসারত’ বললেও অপর একটি পক্ষ বিষয়টিকে মাজারে ‘মদ গাঁজার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একজন ভালো প্রশাসকের পরিণতি’ বলছেন। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ ঘটনার সূত্রপাত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ থেকে। গত ১৮ জুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের বিদ্যমান দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন তিনটি ঐতিহ্যবাহী ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু সিদ্ধান্তটি মুহূর্তেই ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। মাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, সাতশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের এ ধরনের হস্তক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনপন্থী একটি অংশ এটিকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছে। তিন দিনের মাথায় প্রত্যাহার ডেগ ও দানবাক্স সিলগালার ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় আসে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ। যদিও সরকারিভাবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি, তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ের অনেকেই মনে করছেন, মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট জনমতের চাপ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। সিলেটের বিভিন্ন মহলে এখনো আলোচনা চলছে—এটি কি কেবল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক পরিণতি? সারওয়ার আলমের অবস্থান: ‘ভালো কাজ শেষ করতে পারলাম না’ প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়ায় মো. সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলি স্বাভাবিক বিষয়। তবে তার বক্তব্যে আক্ষেপের সুরও ছিল। তিনি বলেন, “একটি ভালো কাজ শুরু করেছিলাম, শেষ করা গেল না। অনেকের পেটে হাত পড়ায় তারা এর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।” তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তিনি কি মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিলেন, নাকি প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন? সিলেটে দায়িত্ব পালন: সাফল্য ও সমালোচনার মিশ্র চিত্র গত বছরের আগস্টে সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন সারওয়ার আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বেশ কিছু আলোচিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল— সাদাপাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনিক অভিযান; সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত সম্পন্নের ঘোষণা; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ; বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা। তবে এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, তিনি অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করতে পারেননি। ‘অতিরিক্ত সক্রিয়’ না ‘সংস্কারক’? সচেতন নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, সারওয়ার আলম প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগে অনেক সময় অতিরিক্ত আগ্রাসী ছিলেন। তাদের মতে, মাজারের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৃহত্তর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে তার সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিমের ভাষায়, সাদাপাথর রক্ষায় তার ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। তবে মাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু পদক্ষেপ জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। মাজার ভক্তদের ক্ষোভ মাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসন দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে চাইলে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোতে পারত। মাজার ভক্ত সোহেল আলী মনে করেন, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশকে অযথা বিতর্কিত করার কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ভক্ত আব্দুল হান্নান বলেন, মাজারকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন সারওয়ার আলমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যে আবার সামনে এসেছে মঙ্গল দাসের ঘটনাও। বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় কারাগারে যাওয়া মঙ্গল দাসের মুক্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বহাল রাখার দাবিও আছে তবে বিতর্কের পাশাপাশি তার পক্ষে অবস্থানও দেখা গেছে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সিলেটে যুবসমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। বক্তারা দাবি করেছেন, সিলেটের স্বার্থে সারওয়ার আলমকে বহাল রাখা উচিত। এতে স্পষ্ট হয়, জেলা প্রশাসক হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সিলেটে বিভক্ত জনমত তৈরি করেছে। মূল প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত—এটি কি কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট বিতর্কের প্রত্যক্ষ ফল? সরকার এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ঘটনাপ্রবাহ বলছে, মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা, জনমতের প্রতিক্রিয়া এবং তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি ঘটনার সময়গত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। সিলেটের ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং জনমতের সংঘাত—এই তিন বাস্তবতার মধ্যেই এখন খোঁজা হচ্ছে সারওয়ার আলম অধ্যায়ের প্রকৃত ব্যাখ্যা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বিনোদন অঙ্গনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে অনলাইন ট্রলিং, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও সাইবার বুলিংয়ের ঘটনা। এই বাস্তবতার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণগুলোর একটি ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভা। প্রায় ১৬ বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, কটূক্তি ও মানসিক হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় নিজের দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙেছেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন সমাজের সেই প্রবণতা নিয়ে, যেখানে অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। ‘কিছু জ্বালাময়ী সত্যি কথা বলব’ ভিডিও বার্তার শুরুতেই প্রভা জানান, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে তিনি সাধারণত প্রকাশ্যে কথা বলেন না। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, অনেক সময় কথা বলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসে না। তবে দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে নীরব থাকা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের প্রতি আক্রমণাত্মক বিচার, ট্রলিং ও অপমানের পেছনে প্রায়ই ব্যক্তিগত অনিরাপত্তাবোধ বা ‘ইনসিকিউরিটি’ কাজ করে। প্রভার ভাষ্য অনুযায়ী, মনোবিজ্ঞান ও মানব আচরণবিষয়ক গবেষণায়ও এমন প্রবণতার ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। যারা নিজেদের জীবন, যোগ্যতা বা অবস্থান নিয়ে সন্তুষ্ট নন, তাদের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যকে হেয় করে আত্মতৃপ্তি খোঁজেন। ‘আমাকে বুলিং করা হচ্ছে প্রায় ১৬ বছর’ ভিডিও বার্তায় নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে প্রভা বলেন, প্রায় দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে অনলাইন বুলিংয়ের শিকার হয়ে আসছেন। তার দাবি, অনেকেই তাকে আক্রমণ করে ব্যক্তিগত আনন্দ পান। তবে এই একই শক্তি যদি প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত ও সামাজিকভাবে জবাবদিহির আওতায় আনার জন্য ব্যয় করা হতো, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। ভুক্তভোগী নয়, কেন নয় অপরাধী? প্রভার বক্তব্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ বা ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার সংস্কৃতি নিয়ে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন, অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত তথ্য বা ছবি প্রকাশ এবং কারও ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে ছড়িয়ে দেওয়া যখন আইনগতভাবে গুরুতর অপরাধ, তখন সমাজের বড় অংশ কেন অপরাধীর পরিবর্তে ভুক্তভোগীর দিকে আঙুল তোলে? তার মতে, অপরাধীর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে ওঠার বদলে ভুক্তভোগীকে বছরের পর বছর ট্রল ও অপমানের মুখে পড়তে হয়। সাইবার বুলিংয়ের সামাজিক প্রভাব ডিজিটাল অধিকার কর্মীদের মতে, সাইবার বুলিং শুধু ব্যক্তিগত মানসিক চাপ সৃষ্টি করে না; এটি দীর্ঘমেয়াদে আত্মবিশ্বাস, পেশাগত জীবন এবং সামাজিক সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন হয়রানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক সমাজেই ভুক্তভোগীকেই দায়ী করার প্রবণতা এখনও দৃশ্যমান। ফলে অপরাধীরা প্রায়ই দায়মুক্তির সুযোগ পায়। প্রভার বার্তার তাৎপর্য দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে প্রভার এই বক্তব্য শুধু তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার বর্ণনা নয়; বরং এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল পরিসরে নারীদের বিরুদ্ধে অনলাইন সহিংসতা, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং ভিকটিম ব্লেমিং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও উত্থাপন করেছে। তার বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপমানের লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তি, নাকি সেই অপরাধী, যিনি প্রথমে অন্যের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভেঙেছিলেন—কাকে সমাজের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শত বছরের ঐতিহ্য বহনকারী মানিকগঞ্জের বিখ্যাত হাজারী গুড় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু একটি কৃষিপণ্যের স্বীকৃতি নয়; বরং একটি অঞ্চলের ইতিহাস, সংস্কৃতি, উৎপাদন ঐতিহ্য এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে জিআই সনদের আওতায় আনার উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়। দীর্ঘদিন ধরে এর স্বাদ, গুণগত মান ও উৎপাদন পদ্ধতি দেশের অন্যান্য গুড় থেকে আলাদা পরিচিতি তৈরি করে এসেছে। কীভাবে মিললো জিআই স্বীকৃতি? জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’ জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সম্প্রতি জিআই ফরম-০১ অনুযায়ী আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই সনদের মাধ্যমে হাজারী গুড় এখন জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্যের মর্যাদা লাভ করেছে, যা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারে এর পরিচিতি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ হাজারী গুড়? মানিকগঞ্জ অঞ্চলের খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস ব্যবহার করে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি হয় হাজারী গুড়। স্থানীয়ভাবে এটি বহু দশক ধরে জনপ্রিয় হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। স্থানীয় উৎপাদকদের মতে, আবহাওয়া, মাটির বৈশিষ্ট্য, রস সংগ্রহের পদ্ধতি এবং প্রজন্মান্তরে চলে আসা প্রস্তুতপ্রণালী—সব মিলিয়ে হাজারী গুড়ের স্বাদ ও গুণগত মান অন্য অনেক গুড়ের তুলনায় আলাদা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিআই স্বীকৃতির মূল উদ্দেশ্য হলো নির্দিষ্ট অঞ্চলের বিশেষ বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন পণ্যের পরিচয় ও স্বকীয়তা সংরক্ষণ করা। ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোথাও উৎপাদিত গুড়কে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’ নামে বাজারজাত করার সুযোগ সীমিত হবে। অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে? স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষি সংশ্লিষ্টদের ধারণা, জিআই সনদ পাওয়ার ফলে হাজারী গুড়ের বাজারমূল্য বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে উৎপাদক, খেজুর রস সংগ্রহকারী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনাও তৈরি হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিংয়ের সুযোগ সৃষ্টি হলে রপ্তানি সম্ভাবনাও বাড়বে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাজার এবং ঐতিহ্যবাহী খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক বাজারে হাজারী গুড় নতুন অবস্থান তৈরি করতে পারে। ‘এটি শুধু একটি পণ্য নয়’ প্রতিক্রিয়ায় মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, “মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় শুধু একটি পণ্য নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অংশ। জিআই স্বীকৃতি অর্জনের মাধ্যমে এই ঐতিহ্য নতুন মর্যাদা পেল। এর ফলে স্থানীয় উৎপাদকরা ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং আন্তর্জাতিক বাজারেও হাজারী গুড়ের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে পণ্যটির উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। সামনে যে চ্যালেঞ্জ তবে জিআই স্বীকৃতি অর্জনের পর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ ও ব্র্যান্ড সুরক্ষা। কারণ শুধুমাত্র সনদ অর্জন করলেই কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক সুবিধা নিশ্চিত হয় না। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন মানদণ্ড নির্ধারণ, নকল পণ্য প্রতিরোধ, আধুনিক প্যাকেজিং এবং রপ্তানি উপযোগী সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলা না গেলে জিআই স্বীকৃতির পূর্ণ সুবিধা পাওয়া কঠিন হবে। তাদের ভাষায়, হাজারী গুড়ের জিআই স্বীকৃতি মানিকগঞ্জের জন্য একটি ঐতিহাসিক অর্জন হলেও এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে এই ঐতিহ্যকে কতটা কার্যকরভাবে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর করা যায় তার ওপর।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের রেল অবকাঠামো সম্প্রসারণের নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলসহ আরও ১০ জেলাকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে যেসব জেলার সঙ্গে এখনো ঢাকার সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই, সেসব এলাকাকে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের ৪৯টি জেলার সঙ্গে রেল যোগাযোগ রয়েছে। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল দেশের ৬৪টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নতুন ১০ জেলায় রেলসেবা সম্প্রসারণের সম্ভাব্য রুট ও প্রকল্প নিয়ে প্রাথমিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে। রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন রেললাইন নির্মাণ ও বিদ্যমান নেটওয়ার্ক আধুনিকায়নের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে রাজধানীর সঙ্গে রেল সংযোগবিহীন জেলাগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি নীতিগতভাবে বিবেচনায় রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে শেখ রবিউল আলম বলেন, কয়েকটি বড় অবকাঠামোগত প্রকল্প ইতোমধ্যে বাস্তবায়নের পথে রয়েছে। এর মধ্যে আখাউড়া-সিলেট এবং সিরাজগঞ্জ-বগুড়া রেলপথ প্রকল্প উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি ধীরাশ্রমে একটি আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে, যা পণ্য পরিবহন সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে বর্তমানে মিটারগেজ ও ব্রডগেজ উভয় ধরনের রেললাইন বিদ্যমান থাকায় পরিচালনাগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে টঙ্গী-আখাউড়া এবং লাকসাম-সিলেট অংশে ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত একটি নতুন কর্ড লাইন নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সম্প্রসারণ? রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সব জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে পারলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে সড়কপথের ওপর চাপ কমবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অর্থনীতি, শিল্পায়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চল ও অপেক্ষাকৃত কম সংযুক্ত জেলাগুলোতে রেলসেবা সম্প্রসারণ দীর্ঘদিনের দাবি। নতুন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর সঙ্গে এসব অঞ্চলের যোগাযোগ সময় ও ব্যয়ের দিক থেকে আরও সাশ্রয়ী হতে পারে। তবে ঘোষিত প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন, অর্থায়ন এবং সময়সীমা নিয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে পরিকল্পনাগুলো কত দ্রুত বাস্তবে রূপ পায়, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্ট মহল ও সাধারণ মানুষের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর ব্যস্ত নগরজীবনে ছিনতাই এখন কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তার আরেকটি মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে উঠেছে সোহেলি ইসলামের মৃত্যু। ভোরবেলায় মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে বাসা ফিরছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের এক ছিনতাইচেষ্টাই কেড়ে নিল তার জীবন। চার দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার সকালে মারা যান ৪২ বছর বয়সী এই কর্মজীবী নারী। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার ভোরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে। পরিবার ও স্বজনদের বর্ণনা অনুযায়ী, দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে ঢাকায় ফেরার পর গাবতলী এলাকায় বাস থেকে নেমে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রিকশায় করে ধানমন্ডির বাসার উদ্দেশে রওনা দেন সোহেলি ইসলাম। পথে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তাদের অনুসরণ করে। একপর্যায়ে হেলমেট পরা এক ব্যক্তি সোহেলির হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ টান দিতে শুরু করে। ব্যাগ রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে চলন্ত রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে যান তিনি। মাথায় গুরুতর আঘাত, শুরু হয় জীবন-মৃত্যুর লড়াই পড়ে গিয়ে সোহেলির ডান হাত ভেঙে যায়। একই সঙ্গে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত লাগে এবং কান দিয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজনের সহায়তায় তার মেয়ে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে তাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। শেষ পর্যন্ত উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। কর্মজীবী এক মায়ের অসমাপ্ত জীবন নিহত সোহেলি ইসলামের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায়। তিনি একটি বেসরকারি ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। কর্মসূত্রে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় বসবাস করতেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মেয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি। তার একমাত্র মেয়ে বর্তমানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থী। মায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে তিনি গভীর মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছেন। ভোরের ঢাকায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন পরিবার জানায়, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান শেষে শনিবার রাতে মেয়েকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন সোহেলি। ভোরে গাবতলীতে পৌঁছে কিছু সময় অপেক্ষা করার পর রিকশায় করে বাসার দিকে রওনা দেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হন। ঘটনাটি আবারও রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও হাসপাতালসংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে ভোররাত ও সকালবেলার সময় মোটরসাইকেলভিত্তিক ছিনতাই চক্রের সক্রিয়তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ রয়েছে। আহত অবস্থায় পড়ে থাকলেও দ্রুত সহায়তা মেলেনি স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় সড়কে পড়ে থাকলেও শুরুতে আশপাশের অনেক মানুষ এগিয়ে আসেননি। পরে রিকশাচালক ও কয়েকজন পথচারীর সহায়তায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়। মানবিক সহায়তার এই বিলম্ব আহত ব্যক্তির চিকিৎসা ও বেঁচে থাকার সম্ভাবনায় কতটা প্রভাব ফেলেছে, সেই প্রশ্নও উঠছে পরিবারের পক্ষ থেকে। মামলা হয়নি, আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে চিকিৎসা ও দাফনসংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবিতে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এদিকে সোহেলির মৃত্যুর ঘটনায় স্বজনরা দ্রুত তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : বরগুনা জেলা পরিষদের ডাকবাংলোর দুটি পৃথক কক্ষ থেকে মা ও তার দুই মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সাত দিন পর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বরগুনা সদর থানায় মামলাটি করেছেন। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ জুন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জেলা পরিষদ ডাকবাংলোর তৃতীয় তলার পাশাপাশি দুটি কক্ষ থেকে ইতি রানী (৩৪), তার বড় মেয়ে আরাধা বিশ্বাস (১২) এবং ছোট মেয়ে অনুরাধা বিশ্বাসের (৩) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিল, দুই মেয়েকে হত্যার পর ইতি রানী আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়। তবে ঘটনার শুরু থেকেই নিহতদের স্বজনরা এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করে আসছিলেন। তাদের অভিযোগ, ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। ঘটনার পরদিন, ৪ জুন বিকেলে বরগুনা পৌরশহরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন এবং সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময়ও বিচার দাবিতে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। তার দাবি, এর আগে থানায় মামলা করতে গেলে অন্য একজনকে বাদী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি আদালতের দ্বারস্থ হলেও মামলা গ্রহণে জটিলতার মুখে পড়তে হয়েছিল। এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, “নিহত ইতি রানীর স্বামী দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।”
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জান সেলুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও বেতন গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও প্রায় ২৩ বছর ধরে সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে নিজ বাসা থেকেই বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের ইতিহাস ও নিয়োগ স্থানীয় সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠিত হয় তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান সেলিমুজ্জান সেলু। ২০০৩ সালের জানুয়ারিতে বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হয়। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যান না বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তিনি নিয়মিত বেতন গ্রহণ করতেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পালন করছেন তার বড় ভাই শাহ আলম তালুকদার। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকা সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, সেলিমুজ্জান সেলু ২০০৩ সালে উপজেলা বিএনপির যুববিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৪ সালের পর থেকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তিনি উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন এবং ছয় মাসের জন্য সভাপতি নির্বাচিত হন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের কথা থাকলেও তা হয়নি। পরে কমিটির মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং নির্বাচন ছাড়াই তিনি দীর্ঘ সময় ধরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি একসঙ্গে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, তালুকদার সিরাজ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। আচরণবিধি নিয়ে প্রশ্ন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রণীত খসড়া আচরণবিধিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, রাজনৈতিক পদ গ্রহণ কিংবা রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের বিষয়ে বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রধান শিক্ষক সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলে বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিলে তা অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার আওতায় পড়তে পারেন। এ অবস্থায় একজন সক্রিয় রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সেলিমুজ্জান সেলুর দায়িত্ব পালন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। শিক্ষকদের অভিযোগ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক বলেন, বিশেষ অনুষ্ঠান বা আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ছাড়া সেলিমুজ্জান সেলুকে বিদ্যালয়ে খুব কমই দেখা যায়। তাদের একজন বলেন, “বিশেষ প্রোগ্রাম ছাড়া তিনি বিদ্যালয়ে আসেন না। অধিকাংশ দাপ্তরিক কাজ বাসা থেকেই পরিচালনা করেন।” প্রশাসনের বক্তব্য ভূঞাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, “সেলিমুজ্জান সেলু বিগত সরকার এবং বর্তমান সরকার—উভয় সময়েই প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ঈদের ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সম্প্রতি খুলেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একাডেমিক সুপারভাইজারকে পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিএনপির অবস্থান ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বলেন, “কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান যদি রাজনৈতিক দলের নেতাও হন, তবু তাকে নিজের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করলে তার দায় দল নেবে না।” শিক্ষক সমিতির বক্তব্য মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির জেলা শাখার একাংশের সভাপতি আব্দুল কাদের বলেন, “ভূঞাপুরের অ্যাডহক কমিটি গঠনের বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি।” অন্যদিকে জেলা শাখার আরেক অংশের সভাপতি শামিম আল মামুন জুয়েল বলেন, “প্রথমে ছয় মাসের জন্য অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছিল। পরে মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে নির্বাচন কেন অনুষ্ঠিত হয়নি, সেটি প্রশ্নসাপেক্ষ।” অভিযোগ অস্বীকার অভিযোগের বিষয়ে সেলিমুজ্জান সেলু বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।” মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির কমিটি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করে কথা বলার অনুরোধ জানান।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় একটি সড়কে অস্থায়ীভাবে বসানো ইট সফর শেষে তুলে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি ছিল মূল উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নেওয়া একটি অস্থায়ী ব্যবস্থা। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাবতলী উপজেলার নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চৌকির খাল হয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পৈতৃক বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৫০০ মিটার কাঁচা সড়কে সফরের আগে ইট ও বালু ফেলে চলাচলের উপযোগী করা হয়। সফর শেষ হওয়ার পর ওই সড়ক থেকে ইটগুলো অপসারণ করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সড়কটি পাকাকরণের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গত অর্থবছরে ৮৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করেনি। এমন পরিস্থিতিতে সফর উপলক্ষে দ্রুত অস্থায়ীভাবে ইট বিছানো হলেও পরে তা সরিয়ে নেওয়ায় সাধারণ মানুষের চলাচলে আবারও দুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সড়কে স্থায়ী উন্নয়নকাজের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই অস্থায়ী সোলিং করা হয়েছিল। এ বিষয়ে এলজিইডি বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাসুদুজ্জামান জানান, সড়কে স্থায়ীভাবে ইট বসানো হয়নি; বরং ভাড়া করা ইট ব্যবহার করে অস্থায়ী সোলিং করা হয়েছিল। মূল প্রকল্পের কাজ শুরু করার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পরে সেই ইট অপসারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইট ক্রয়ের পরিবর্তে ভাড়া নেওয়ার কারণে ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। পাশাপাশি সড়কটির স্থায়ী কার্পেটিং কাজ বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। অন্যদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকৌশল কর্মকর্তাদের দাবি, পুরো বিষয়টি একটি পরিকল্পিত উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ এবং অস্থায়ী ব্যবস্থাকে স্থায়ী উন্নয়নকাজের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, স্থায়ী কাজ শুরু না হওয়া পর্যন্ত কাঁচা সড়কে চলাচলের ভোগান্তি থেকে তাদের মুক্তি মিলছে না। ফলে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং কাজ শুরুর সময়সূচি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ইত্তেহাদনিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী পৌর ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) মো. শাহজাহান শিকদারের দৃশ্যমান সম্পদ, জমি ক্রয় এবং কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে অংশীদারিত্বের অভিযোগ ঘিরে স্থানীয়ভাবে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি চাকরির বেতন-ভাতার আয়ের তুলনায় তার সম্পদের পরিমাণ ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহজাহান শিকদার। অভিজাত বাড়ি নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, পটুয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ ৬ষ্ঠ লেনে প্রায় সাত শতাংশ জমির ওপর ‘জাহান মঞ্জিল’ নামে তিনতলা একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন শাহজাহান শিকদার। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আধুনিক নকশা, উন্নতমানের নির্মাণসামগ্রী এবং ব্যয়বহুল অবকাঠামো ব্যবহার করে নির্মিত বাড়িটির পেছনে কয়েক কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের প্রশ্ন, একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার সরকারি আয়ে এমন ব্যয়বহুল আবাসন নির্মাণ কতটা সম্ভব। জমি ও বিনিয়োগ নিয়ে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, দৃশ্যমান বাড়ির বাইরে শাহজাহান শিকদার ও তার স্বজনদের নামে বিভিন্ন স্থানে জমি ক্রয় করা হয়েছে। এছাড়া পর্যটন নগরী কুয়াকাটার একটি আবাসিক হোটেলে তার আর্থিক অংশীদারিত্ব রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে প্রাপ্ত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একই এলাকায় দীর্ঘদিন কর্মরত থাকার প্রশ্ন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহজাহান শিকদার নিজেও পটুয়াখালী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে নিজ এলাকার মধ্যেই দায়িত্ব পালন করায় স্বার্থের সংঘাত এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের প্রশ্ন উঠছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ, ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের অবস্থানের কারণে তিনি স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় তৈরি করেছেন। কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা দাবি করেন, প্রভাবশালী মহলের সমর্থন পাওয়ার কারণেই তিনি বছরের পর বছর একই এলাকায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। যদিও এই দাবিগুলোর স্বপক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। সম্পদের উৎস যাচাইয়ের দাবি স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, শাহজাহান শিকদারের চাকরি জীবনের আয়, ব্যাংক হিসাব, আয়কর নথি এবং দৃশ্যমান সম্পদের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সম্পদ বিবরণী, কর নথি এবং ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনা করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। যা বলছেন শাহজাহান শিকদার অভিযোগের বিষয়ে মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, “আমার সঙ্গে পটুয়াখালীর সব সাংবাদিকের ভালো সম্পর্ক আছে। আমার যোগ্যতা আছে বলেই আমাকে পৌরসভার মধ্যে রাখা হয়েছে। আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। আমার নামে কোনো বদনাম নেই।” প্রশাসনের বক্তব্য পটুয়াখালী সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তাফসীরুল হক মুন বলেন, “আমি এখানে এসেছি মাত্র নয় মাস হলো। তার সম্পর্কে আমার জানা নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পাবনা শহরে সন্তানের সামনেই আলী হোসেন (৫৩) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে শহরের জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী হোসেন পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার বাসিন্দা। তিনি জামেয়া আশরাফিয়া মাদরাসার একজন স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে সন্তানকে মাদরাসায় রাখতে যান আলী হোসেন। এ সময় আগে থেকেই ওঁৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলার পরপরই তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান আলী হোসেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, হামলাটি ছিল অত্যন্ত দ্রুত এবং লক্ষ্যভেদী। এতে ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারীরা আলী হোসেনের গতিবিধি সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত ছিল। তবে হত্যার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে—তা খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে এবং শিশুর উপস্থিতিতে সংঘটিত এমন হত্যাকাণ্ড এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ঘটনার পর মাদরাসা ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঘটনাস্থলের আশপাশের সম্ভাব্য সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং নিহতের সাম্প্রতিক যোগাযোগের তথ্য পর্যালোচনা করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় উদঘাটনে তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রকাশিত ১০০ দিনের অপরাধ পরিসংখ্যান। প্রতিবেদনে মাত্র দুই মাসে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ড, ১৯৬টি অপহরণ, ২৯৪টি ছিনতাই এবং ৩ হাজার ৪৯৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার তথ্য তুলে ধরা হয়। তথ্যগুলো প্রকাশের পর রাজনৈতিক অঙ্গন, সংসদ এবং প্রশাসনের ভেতরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেন, দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত এবং টিআইবির উপস্থাপিত চিত্র বাস্তবতার পূর্ণ প্রতিফলন নয়। তবে বিতর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি এসেছে পুলিশ সদর দপ্তরের প্রতিক্রিয়া থেকে। এক বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ বলেছে, টিআইবির প্রতিবেদনে যে সংখ্যাগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে, সেগুলোর সঙ্গে পূর্ববর্তী সময়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ নেই। ফলে পরিসংখ্যানগুলো পাঠকের কাছে একটি অসম্পূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। পুলিশ সদর দপ্তর অবশ্য দুই মাসে ৬০৫টি হত্যা মামলা নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য অস্বীকার করেনি। বরং তারা বলছে, এই সংখ্যাকে প্রেক্ষাপট ছাড়া উপস্থাপন করায় বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর সাধারণত ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৪ হাজার হত্যা মামলা রেকর্ড হয়। সে হিসাবে দুই মাসে ৬০৫টি হত্যাকাণ্ডের প্রবণতা বার্ষিক হিসাবে প্রায় ৩ হাজার ৬৩০ মামলার সমতুল্য, যা গত এক দশকের গড় পরিসংখ্যানের মধ্যেই পড়ে। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে টিআইবির তথ্য কি অতিরঞ্জিত? বিশ্লেষকরা বলছেন, এখানে মূল বিতর্ক সংখ্যার সত্যতা নিয়ে নয়, বরং তথ্য উপস্থাপনার পদ্ধতি নিয়ে। কারণ একটি নির্দিষ্ট সময়ের অপরাধ পরিসংখ্যান যখন তুলনামূলক প্রেক্ষাপট ছাড়া প্রকাশ করা হয়, তখন তা জনমনে ভিন্ন ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে। আবার একইসঙ্গে এসব সংখ্যা বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও বহন করে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ৫৫.৫ শতাংশ ঘটেছে পূর্বশত্রুতার জেরে। পারিবারিক কলহ থেকে ঘটেছে ২৪.১ শতাংশ, সম্পত্তি ও অর্থনৈতিক বিরোধে ১১.৪ শতাংশ এবং বাকি ঘটনাগুলো বিভিন্ন সামাজিক ও বিচ্ছিন্ন কারণে সংঘটিত হয়েছে। রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হত্যার হার মাত্র ০.৫ শতাংশ বলে দাবি করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এনেছে পুলিশ। তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর মামলা নথিভুক্তকরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগে যেসব অভিযোগ বা অপরাধ মামলা আকারে নথিভুক্ত হতো না, বর্তমানে সেগুলোর অনেকগুলোই রেকর্ড করা হচ্ছে। ফলে মামলা বৃদ্ধির অর্থ সবসময় অপরাধ বৃদ্ধি নয়; কখনও কখনও এটি জবাবদিহিতা ও রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নতিরও প্রতিফলন হতে পারে। তবে মানবাধিকার কর্মী ও সুশাসন বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করেন, সংখ্যাগুলোকে শুধুমাত্র গড়ের সঙ্গে তুলনা করলেই বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা যায় না। অপরাধের ধরন, ভুক্তভোগীর প্রোফাইল, অপরাধ সংঘটনের স্থান, বিচারপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং নাগরিক নিরাপত্তার অনুভূতি—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফলে টিআইবির ১০০ দিনের অপরাধ পরিসংখ্যানকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা মূলত দুই ধরনের ব্যাখ্যার সংঘর্ষ। একদিকে রয়েছে অপরাধের সংখ্যাগত চিত্র, অন্যদিকে রয়েছে সেই সংখ্যার প্রেক্ষাপট ও ব্যাখ্যা। বাস্তবতা বুঝতে হলে শুধু কতগুলো হত্যা হয়েছে তা নয়, কেন হয়েছে, কোথায় হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতার সঙ্গে তার সম্পর্ক কী—সেই প্রশ্নগুলোর উত্তরও খুঁজতে হবে। বর্তমান বিতর্কে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশে অপরাধ পরিসংখ্যানের স্বচ্ছতা, ব্যাখ্যা এবং তথ্য উপস্থাপনার মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। আর সেই আলোচনাই হয়তো ভবিষ্যতে আরও তথ্যনির্ভর জননীতি ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের পথ তৈরি করতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঢাকার মিরপুরের পল্লবীর একটি ফ্ল্যাট। বহুতল ভবনের চতুর্থ তলার একটি কক্ষ। দরজার ওপাশে পড়ে আছেন ৭২ বছর বয়সী নূরজাহান বেগম। মৃত্যু হয়েছে কয়েকদিন আগে। কিন্তু কেউ জানে না। কেউ খোঁজও নেয়নি। পুলিশ যখন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর ফোন পেয়ে সেখানে পৌঁছায়, তখন মরদেহে পচন ধরেছে। লাশে জন্ম নিয়েছে পোকা। ঘরজুড়ে দুর্গন্ধ। চারপাশে আবর্জনা। এমন এক দৃশ্য, যা শুধু একটি মৃত্যুর নয়—বরং সমাজের বিবেককে নাড়া দেওয়া এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এখন প্রশ্ন উঠছে—নূরজাহান বেগমের মৃত্যু কি স্বাভাবিক? নাকি এটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, বিচ্ছিন্নতা ও দায়িত্বহীনতার পরিণতি? মৃত্যুর আগে কতদিন ছিলেন নিঃসঙ্গ? পল্লবী থানার তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুন রাতে মিরপুরের ৬ নম্বর সেকশনের একটি ফ্ল্যাট থেকে নূরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, অন্তত সাত থেকে আট দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো—একই ফ্ল্যাটে তার মেয়ে বসবাস করলেও তিনি ছিলেন আলাদা একটি কক্ষে। কয়েকদিন ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে পরে একজন নার্সকে ডেকে আনা হয়। সেই নার্সই প্রথম বুঝতে পারেন, বৃদ্ধা অনেক আগেই মারা গেছেন। স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর পর বিষয়টি চেপে যাওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে নার্সের সন্দেহ হওয়ায় ৯৯৯-এ ফোন করা হয় এবং পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ হয়নি। ফলে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রতিষ্ঠিত সন্তান, কিন্তু প্রশ্নবিদ্ধ দায়িত্ববোধ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নূরজাহান বেগমের চার সন্তানই সমাজে প্রতিষ্ঠিত। বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর শিক্ষক, ছোট ছেলে কানাডাপ্রবাসী এবং মেয়ে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু তাদের সামাজিক অবস্থান যতই উঁচু হোক, মায়ের শেষ জীবন নিয়ে এখন ততটাই কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তারা। রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা না দিয়ে তাকে কার্যত অবহেলার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছিল। এমনকি তাকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। হাইকোর্টে রিট: অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত দাবি ঘটনার পর জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, আইনজীবী মো. শরীফ সরকারের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন। রিটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে— নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা; অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত; প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি; জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন; ৬৫ বছরের ঊর্ধ্বে নাগরিকদের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে কেয়ারগিভার নিয়োগের নীতিমালা। আগামী সোমবার হাইকোর্টে এ বিষয়ে শুনানি হতে পারে। সরকারি প্রতিক্রিয়া: যুগ্ম সচিবকে ওএসডি ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রতিক্রিয়াও নজর কাড়ছে। নূরজাহান বেগমের ছেলে এবং সরকারের যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানকে ইতোমধ্যে বর্তমান দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী জানিয়েছেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে পৃথকভাবে সুপ্রিম কোর্টের আরেক আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন (রাখি) চার সন্তানের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। আইন কী বলে? বাংলাদেশে পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, সন্তানদের ওপর বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব রয়েছে। আইনে বলা হয়েছে, কোনো সন্তান যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বাবা-মায়ের ভরণপোষণ না করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় সেই আইন কতটা প্রযোজ্য হবে, তা নির্ভর করবে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে তার ওপর। শুধু একটি পরিবার নয়, বৃহত্তর সামাজিক সংকট? নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রশ্নটি হলো—শিক্ষা, চাকরি ও সামাজিক প্রতিষ্ঠা কি মানুষের নৈতিক দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে পারে? কারণ এখানে অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন এমন কিছু মানুষ, যারা সমাজের উচ্চপদে অবস্থান করেন। সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণ, একক পরিবার ব্যবস্থা, বিদেশমুখী জীবনযাত্রা এবং পারিবারিক বন্ধনের পরিবর্তনের ফলে প্রবীণদের একাকিত্ব বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক সচ্ছলতা থাকলেও মানসিক, শারীরিক ও সামাজিক যত্নের অভাব প্রকট হয়ে উঠছে। তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো অজানা। তবে কয়েকটি প্রশ্ন ইতোমধ্যে সামনে এসেছে— মৃত্যু ঠিক কবে হয়েছিল? একই বাসায় থেকেও কেন দ্রুত বিষয়টি শনাক্ত হয়নি? বৃদ্ধার চিকিৎসা ও পরিচর্যার বাস্তব অবস্থা কী ছিল? তিনি কি দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার ছিলেন? পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন এখানে কতটা প্রযোজ্য? রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রবীণ সুরক্ষায় নতুন নীতিমালা প্রয়োজন কি না? ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত এবং সম্ভাব্য আদালতীয় শুনানির মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে। কিন্তু এরই মধ্যে পল্লবীর সেই ফ্ল্যাট থেকে উঠে আসা দুর্গন্ধ যেন বাংলাদেশের সমাজব্যবস্থার এক অস্বস্তিকর বাস্তবতাকেই সামনে এনে দিয়েছে—যেখানে একজন মা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনের সময়টিতে কতটা একা হয়ে যেতে পারেন, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুরো দেশ।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ ভাঙার জন্য আমদানি করা একটি কেমিক্যাল ট্যাংকারকে ঘিরে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর ‘মেমেই’ নামের জাহাজটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে আটকে আছে। ফলে জাহাজটি সৈকতে ভেড়ানো বা ভাঙার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ৬০ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের জাহাজটি ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসএন করপোরেশন। কী ঘটেছে? আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘মেমেই’ নামের ৪৪ হাজার ৮০০ টন ধারণক্ষমতার কেমিক্যাল ট্যাংকারটি স্ক্র্যাপ হিসেবে ভাঙার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আনা হয়। গত ২২ মে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছায়। তবে জাহাজটি বাংলাদেশে পৌঁছানোর মাত্র ছয় দিনের মাথায়, ২৮ মে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এবং অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) এটিকে নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত করে। এসএন করপোরেশনের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক ওমর ফারুক বলেন, জাহাজটি ভাঙার জন্য আমদানি করা হয়েছিল। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর পরিস্থিতি পরিবর্তিত হয়েছে। এখনো জাহাজটির মূল্য পরিশোধ করা হয়নি এবং সেটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। কেন নিষেধাজ্ঞা? মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ‘মেমেই’ ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য পরিবহনের সঙ্গে জড়িত ছিল। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলের অংশ হিসেবে জাহাজটিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। শুধু ‘মেমেই’ নয়, এর হংকংভিত্তিক মালিক ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘এভার শাইনিং লিমিটেড’ এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত ‘ফ্লোরা’ নামের আরেকটি জাহাজও একই নিষেধাজ্ঞার আওতায় এসেছে। চট্টগ্রামে কেন আটকে আছে জাহাজটি? আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সাধারণত বৈশ্বিক পর্যায়ে কার্যকর হয়। ফলে কোনো জাহাজ নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত হলে সেটিকে ঘিরে বন্দর কর্তৃপক্ষ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক অংশীদাররা অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নেয়। এই কারণে ‘মেমেই’কে চট্টগ্রামের শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে নিয়ে গিয়ে ভাঙার অনুমতি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে জাহাজটি বর্তমানে বহির্নোঙরেই অবস্থান করছে। শিপ ব্রেকিং শিল্পের জন্য কী বার্তা? বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জাহাজ ভাঙা শিল্পের কেন্দ্র। প্রতিবছর শতাধিক পুরোনো জাহাজ সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ইয়ার্ডে ভাঙা হয়। তবে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, জাহাজের অতীত কার্যক্রম এবং মালিকানা কাঠামো নিয়ে যথাযথ যাচাইয়ের গুরুত্ব আবারও সামনে নিয়ে এসেছে ‘মেমেই’ ঘটনা। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ আমদানির ঝুঁকি শুধু ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আর্থিক, আইনি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলতে পারে। এখন কী হবে? আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাহাজটির মূল্য পরিশোধ না করেই সেটি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোন গন্তব্যে যাবে এবং নিষেধাজ্ঞার কারণে আর কী ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে ঘটনাটি বাংলাদেশের শিপ ব্রেকিং শিল্পে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা-সংক্রান্ত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।