Brand logo light
বিশেষ সংবাদ

লাইভ বেকারির খাবারে দীর্ঘমেয়াদে রয়েছে ক্যান্সার ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
লাইভ বেকারি
লাইভ বেকারি

এবি সিদ্দীক ভুইয়া : লাইভ বেকারি বা তাৎক্ষণিক তৈরি বেকারি খাবার (যেমন কেক, পেস্ট্রি, বিস্কুট) তাজা মনে হলেও, এতে উচ্চমাত্রার চিনি, অস্বাস্থ্যকর ট্রান্স ফ্যাট, রিফাইন ময়দা (ময়দা) এবং অনেক সময় কাপড়ের রঙ ও মানহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়।এর ফলে স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে।এছাড়াও, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরির কারণে পেট খারাপ বা ফুড পয়জনিং হতে পারে।
রাজধানীসহ  সারা দেশের বিভাগীয় শহর থেকে শুরু করে জেলা শহর, উপজেলার শহরের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে ‘লাইভ বেকারি’ নামে তাৎক্ষণিক খাদ্যপণ্য উৎপাদন ও বিক্রির দোকান। কিন্তু এসব দোকানে মানের কোনো নিশ্চয়তা নেই। ভোক্তা টাটকা মনে করে পাউরুটি, বিস্কুট, টোস্ট, কেকসহ পণ্য কিনে খাচ্ছেন, কিন্তু স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার কোনো তদারকি নেই।

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘লাইভ বেকারির সংখ্যা এত দ্রুত বেড়েছে যে আমরা এগুলোর হিসাব রাখতে পারছি না। কেউ কোনো ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই উৎপাদন শুরু করছে। আমরা তাদের সচেতন করার চেষ্টা করছি, কিন্তু এতগুলো প্রতিষ্ঠান একবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়। আমাদের লোকবলও সীমিত, তাই যতটা কাজ করা দরকার, ততটাই করতে পারছি।’

অল্প জায়গায় স্বল্প পুঁজিতে ব্যবসা গড়া যায় বলে রাজধানীতে লাইভ বেকারির সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে। মুগদা থানাধীন পূর্ব মানিকনগরের ঢোকার মুখ থেকে খালপাড় নতুন রাস্তার মোড় পর্যন্ত সাড়ে ৮০০ মিটার জুড়ে ৫টি লাইভ বেকারি দেখা যায়। শুধু মানিকনগর নয়, রাজধানীর কমলাপুর, মতিঝিল, খিলগাঁও, মালিবাগ, রামপুরা, বনশ্রী, মোহাম্মদপুরসহ প্রায় সব এলাকার বাজার, পাড়া-মহল্লায় শত শত লাইভ বেকারি গড়ে উঠেছে।

ছোট একটি দোকানে ওভেন, মিক্সচার মেশিন, ট্রে টেবিল ও কিছু আসবাব বসিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কেক, বিস্কুট, পাউরুটি, পেটিস, টোস্ট, মিষ্টিসহ নানা খাদ্যপণ্য তৈরি করা হচ্ছে।

ঝিগাতলার সোনালী ব্যাংক সংলগ্ন ‘বেকার্স বে’ লাইভ বেকারি থেকে দুটি চিজ রোল ও একটি চিকেন রোল কিনে ফিরছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পলাশ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় খাদ্যপণ্য কিনি স্বাদ দেখে। কীভাবে মান যাচাই করব, তা জানি না। যে চিজ রোল আমি ৪০ টাকায় কিনেছি, ভালো কোনো দোকানে গেলে ৭০–৮০ টাকা লাগবে।’

পূর্ব মানিকনগরের খালিস বেকারির মালিক মো. জুবায়ের বলেন, ‘ভালো লাভের আশায় আরেক বেকারির মালিক আমাকে এই ব্যবসায় নামিয়েছে। কিছু টাকা দিয়ে সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েছি। দেড় বছর আগে শুরু করেছিলাম, তখন কিছু লাভ হতো। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যে আশপাশে বেকারির সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, এখন লোকসানে আছি।’

প্রথমে ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে কারখানা স্থাপন করতে হয়। তারপর নমুনা পণ্য উৎপাদন করে মান সনদের জন্য বিএসটিআইতে জমা দিতে হয়। এর জন্য প্রয়োজন হয় ট্রেড লাইসেন্স, শিল্প-নকশা বা ট্রেড মার্ক রেজিস্ট্রেশনের সত্যায়িত ফটোকপি, ভ্যাট সনদ, প্রিমিসেস লাইসেন্স, কর্মচারীর স্বাস্থ্য সনদ, পণ্যের মোড়কের নকশার কাগজ। জানাতে হয় কালার, ফ্লেভার, প্রিজারভেটিভ, আর্টিফিশিয়াল সুইটনারসহ পণ্যের উপকরণ। পরীক্ষণের যন্ত্রপাতির তালিকা, কারখানার যন্ত্রপাতি, লে-আউট ও প্রসেস ফ্লো-চার্টও দিতে হয়। এরপর পরিদর্শকরা কারখানা পরিদর্শন করে সন্তুষ্ট হলে মান সনদ দেয়।

কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া মানা হচ্ছে না। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স নিয়েই ব্যবসা শুরু করেন, কেউ নেই। সিংহভাগের কারখানিতে মানসনদ নেই। কারিগরদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও স্যানিটেশন সনদও নেই।

বুয়েটের ২০২১ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ৬৭ শতাংশ পাউরুটিতে নির্ধারিত মানের চেয়ে বেশি পটাশিয়াম ব্রোমেট রয়েছে, যা পাউরুটি ফোলাতে ব্যবহার হয়। এছাড়া বেকারি পণ্যে কাঁচামাল আটার সঙ্গে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট, কৃত্রিম রং ও সোডিয়াম সাইক্লোমেট ব্যবহৃত হচ্ছে।

রাজধানীতে কতটি লাইভ বেকারি রয়েছে, তা সিটি করপোরেশন বা বিএসটিআই-এর কাছে নেই। বিএসটিআই বলেছে, শত শত বেকারির মধ্যে মাত্র ২৭টির মান সনদ রয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাবিবুল আলম বলেন, ‘এসব ট্রেড লাইসেন্স করপোরেশনের জোনগুলো থেকে দেওয়া হয়। কতটি লাইসেন্স হয়েছে, তা আমাদের কাছে নেই।

বরিশালের অলিগলিতেও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে ‘লাইভ বেকারি’ বরিশাল সিটি করপোরেশনের কাছেও নেই  কোনো তালিকা।

বরিশালে কতটি লাইভ বেকারি রয়েছে, তা সিটি করপোরেশন বা বিএসটিআই-এর কাছে নেই তালিকা । বরিশালের বিএসটিআই কর্মকর্তা বলেছে, শত শত বেকারির মধ্যে মাত্র কয়েকটির সনদ রয়েছে। কিন্তু লাইভ বেকারি সনদ আমরা দেইনি।

লাইভ বেকারি খাবার খাওয়ার প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো নিচে দেওয়া হলো:

ওজন বৃদ্ধি ও হৃদরোগ: অতিরিক্ত চিনি এবং হাইড্রোজেনেটেড তেল বা ট্রান্স ফ্যাট শরীরের মেদ বাড়ায় এবং হার্টের রোগ তৈরি করে।

ক্যান্সারের ঝুঁকি: খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত কৃত্রিম রঙ, কাপড়ের রঙ, এবং উচ্চ তাপমাত্রায় বেকিংয়ের ফলে এক্রিলামাইড (Acrylamide) নামক ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদান তৈরি হতে পারে।

ডায়াবেটিস ও লিভারের সমস্যা: অনেক ক্ষেত্রে হাই-ফ্রুক্টোজ কর্ন সিরাপ ব্যবহার করা হয়, যা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায় এবং যকৃতের সমস্যা তৈরি করে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ: স্থানীয় অনেক লাইভ বেকারি অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরি করে, যা পেটের পীড়া বা গুরুতর ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।

পুষ্টিহীনতা: এই খাবারগুলোতে প্রয়োজনীয় ফাইবার বা পুষ্টি থাকে না, যা শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি করে।

সতর্কতা: নিয়মিত বা প্রতিদিন বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত বেকারির খাবার বেছে নেওয়া স্বাস্থ্যকর।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি শফিকুজ্জামান বলেন, মানহীন এসব পণ্যে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। যারা আইন মেনে উৎপাদন করবে না, তাদের ব্যবসা বন্ধ করা উচিত। দু-একটি বন্ধ করলে বাকিগুলোও ঠিক হয়ে যেত।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশেষ সংবাদ

View more
দোহা আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’, হরমুজ দিয়ে নিরাপদে বেরিয়ে গেল থাইল্যান্ডের ১০ জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত কূটনৈতিক আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার। একই সময়ে, দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালিতে আটকে থাকা থাইল্যান্ডের ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজের মধ্যে ১০টি নিরাপদে জলসীমা অতিক্রম করেছে, যা সামুদ্রিক বাণিজ্য স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কাতারি এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, আলোচনায় অংশ নেওয়া পক্ষগুলো সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোকে ‘খুব ভালো’ বলে মন্তব্য করেছেন। যদিও আলোচনার নির্দিষ্ট অগ্রগতি বা সম্ভাব্য সমঝোতা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0

কুয়াকাটায় সেঞ্চুরি গ্রুপের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ: ১০ বছরেও প্লট নয়, রেজিস্ট্রেশন ও উন্নয়ন ফি'র নামে কোটি টাকা আদায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

পশ্চিমবঙ্গে পরাজয়ের পর তৃণমূলে ভাঙন: মমতা নেতৃত্বে আস্থাহীনতা, দলত্যাগ ও আই-প্যাক বিতর্কে সংকট ঘনীভূত

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক

শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অভিযোগ, ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনায় কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ
আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া মৌজায় জমি দখল, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং অবৈধ বরাদ্দ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে রূপনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা সত্ত্বেও নির্মাণ ও বরাদ্দের অভিযোগ অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চলমান সিভিল পিটিশন নং-১৫২১/২১ মামলায় সংশ্লিষ্ট জমির ওপর “স্থিতাবস্থা” (Status quo) বজায় রাখার নির্দেশ রয়েছে। তবে অভিযোগে বলা হচ্ছে, ওই নির্দেশনা উপেক্ষা করে জমিতে নির্মাণকাজ, দখল কার্যক্রম এবং বরাদ্দ বাণিজ্য চালানো হচ্ছে। সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের দাবি, মোঃ মাহমুদুর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে দুয়ারীপাড়া এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফা স্টেটের প্রায় ৪৮ একর সম্পত্তি এবং জাতীয় গৃহায়নের প্রায় ১৯ একর জমি ঘিরে এই বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব জমি বিভিন্ন ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর নামে-বেনামে বরাদ্দ দিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। আদালত অবমাননার অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশ বলছে, আদালতের স্থিতাবস্থা বহাল থাকা অবস্থায় জমি বরাদ্দ দেওয়া গুরুতর আইনি প্রশ্ন তৈরি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আদালত অবমাননা এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল। দীর্ঘদিনের বাসিন্দাদের উদ্বেগ অভিযোগ রয়েছে, ওয়াকফা স্টেটের জমিতে ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে বসবাসকারী নিম্নআয়ের পরিবারগুলো প্রভাবশালীদের চাপের মুখে রয়েছে। তারা বলছেন, জমি ঘিরে চলমান কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। প্রভাবশালী ব্যবহার ও দখলচেষ্টার অভিযোগ স্থানীয়দের দাবি, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং কথিত সাংবাদিকদের ব্যবহার করে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। অভিযোগকারী মোঃ শিহাব উদ্দিন বলেন, “আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা চলছে, যা এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।” তিনি দ্রুত তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। সম্পদের অনুসন্ধানের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করছে, অভিযুক্ত কর্মকর্তার সম্পদের উৎস তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, অবৈধ বরাদ্দ, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখা জরুরি। প্রশ্নের মুখে প্রশাসনিক তদারকি এ ঘটনায় সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এসব কার্যক্রম চলতে পারছে? স্থানীয়দের অভিযোগ, এর পেছনে প্রভাবশালী একটি চক্র কাজ করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প

ডিপিএইচই’র উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: মোহাম্মদ হানিফকে ঘিরে টেন্ডার সিন্ডিকেট ও সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রশ্ন

কাস্টমসের ঝাড়ুদার সৈয়দ আলীর ৪০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ

কাস্টমস ট্রাইব্যুনালের নৈশপ্রহরী থেকে কোটিপতি: সম্পদের রহস্য ঘিরে অনুসন্ধান

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র দখল,নেতৃত্ব পরিবর্তন, ও ট্রাস্টি বোর্ড গঠন নিয়ে বিতর্ক: মব, অভিযোগ ও পাল্টা দাবি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙন: নেতৃত্ব সংকট, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক অচলাবস্থা এবং কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ—যা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নেতৃত্ব ছাড়ার পরেই সংকট তীব্র সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সংগঠনের একাধিক সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের পদত্যাগ ও দলত্যাগের কারণে কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ। এতে রাখা হয় আবু সাঈদ লিওন, হামযা মাহবুব, তারিকুল ইসলাম (রেজা), মুঈনুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনকে। বলা হয়, ৩০ দিনের মধ্যে তারা সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভেতরেই সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি। ‘অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’—বিরোধীদের অভিযোগ সংগঠনের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে দাবি করা সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই কয়েকজন নেতা সংগঠন ছেড়ে গেছেন। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসার পরই তারা সরে দাঁড়ান।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন আর্থিক বিষয়ে জবাব চাই, তখন আমাদের বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” উপদেষ্টা পরিষদের বিরোধিতা করায় আয়েশাকে সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ সংগঠনের ভেতরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। আয়েশা দাবি করেন, “কোটির ওপর একটি বড় অঙ্কের টাকা লুটপাট হয়েছে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, “কমিটিতে কোনো আর্থিক লেনদেনই হয়নি। অন্তত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সাবেক নেতারা সংগঠন ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন পুরো ঘটনাকে স্বাভাবিক সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “নতুন কমিটি বা কাঠামো গঠনের সময় এমন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা যায়। উপদেষ্টা পরিষদ তাদের মনমতো হয়নি বলেই এসব অভিযোগ আসছে।” তার দাবি, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে বৃহত্তর সমন্বয়ক কাঠামোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অরাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে বিতর্ক শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বলে একাধিক নেতা দাবি করেছেন। বিশেষ করে এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে হতাশা, তবে ঐক্যের আশ্বাস সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আন্দোলনের আদর্শকে পাশ কাটিয়ে ‘পকেট কমিটি’ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। তবে তারা আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিগগিরই নতুন রূপরেখা ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কোন দিকে? নেতৃত্ব শূন্যতা, সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উপদেষ্টা পরিষদ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কী ধরনের পুনর্গঠন করতে পারে, এবং আর্থিক অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
সোলেমান আলী

ডিজেল সংকটে সমাধান: ঠাকুরগাঁওয়ে সোলেমান আলীর ভ্রাম্যমাণ সৌর সেচযন্ত্রে কৃষকদের স্বস্তি

ভোলার সাবেক এসপি শরীফুল হক

ভোলার সাবেক এসপি শরীফুল হকের বিরুদ্ধে কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

পুলিশের গুলিতে সন্তান হারা পুলিশ বাবার জবানবন্দি

পুলিশের গুলিতে সন্তান হারা পুলিশ বাবার জবানবন্দি

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0