ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :
গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি অনুসরণের নামে অনিয়ম, গ্রেডিং শিট ম্যানিপুলেশন, পূর্বনির্ধারিত পদায়ন এবং প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে।
কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সততা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) বিবেচনার পরিবর্তে প্রভাব ও পছন্দের ভিত্তিতে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওআমী লীগের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অর্থায়নের বিনিময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পদায়ন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব কিছুর পেছনে পতিত সরকারের আমলের কর্মকর্তারা ভূমিকা পালন করছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন ও কেপিআই স্থাপনাগুলোকে টার্গেটে পরিণত করছে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর অত্মীয় ও বুয়েট ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ পদায়ন করা হয়েছে।
এর অধীনে রয়েছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কিং ডিভিশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জাদুঘর।
এ বিষয়ে নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এসব কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবন নাশের কারিগর হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদফতরে নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে লটারি পদ্ধতি অনুসরণের নামে অনিয়ম, গ্রেডিং শিট ম্যানিপুলেশন, পূর্বনির্ধারিত পদায়ন এবং প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে।
কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, সততা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) বিবেচনার পরিবর্তে প্রভাব ও পছন্দের ভিত্তিতে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওআমী লীগের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ও অর্থায়নের বিনিময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে পদায়ন চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এসব কিছুর পেছনে পতিত সরকারের আমলের কর্মকর্তারা ভূমিকা পালন করছেন। তারা প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রী এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি কর্মকর্তাদের বাসভবন ও কেপিআই স্থাপনাগুলোকে টার্গেটে পরিণত করছে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর অত্মীয় ও বুয়েট ছাত্রলীগের এক সাবেক নেতাকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ পদায়ন করা হয়েছে। এর অধীনে রয়েছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্কিং ডিভিশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জাদুঘর। এ বিষয়ে নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এসব কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবন নাশের কারিগর হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন।
জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীদের ‘এ’ প্লাস, এ, বি, সি ও ডি- এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হলেও এর লিখিত মানদণ্ড, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অনুমোদনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ করা হয়নি। একাধিক বাক্সে আলাদাভাবে কর্মকর্তাদের নাম রেখে লটারিকে অতি সূক্ষ্ম প্রক্রিয়ায় প্রভাবিত করা হয়েছে। ঢাকার চার-পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগের জন্য আগে থেকেই কর্মকর্তাদের নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে নির্বাহী প্রকৌশলী আ ন ম মাজহারুল ইসলাম, মো: জিয়াউর রহমান, আহসান হাবীব, রেজা তাইমুর মালিক, মাসুম বিল্লাহ ও রাশেদ আহসানসহ কয়েকজনের পদায়ন এবং ক্যাটাগরি নির্ধারণের প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, লটারির আগেই গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এনে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম ও মো: জিয়াউর রহমানের মতো কর্মকর্তাদের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পদায়নের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সংস্থাপন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের একটি অংশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত সচিব সারোয়ার আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সারোয়ার জাহান, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব এবং সংস্থাপন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজহার ও নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়ার ভূমিকা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে আ ন ম মাজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাবেক গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠতার সুযোগে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩, রেলওয়ে ডিভিশন ও প্রকল্প বিভাগ-৫-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তিনি ২০০০-২০০৫ শিক্ষাবর্ষে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে পড়ার সময় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এসব রাজনৈতিক যোগাযোগ তার পদায়নে প্রভাব ফেলেছিল কি না, তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।
মো: জিয়াউর রহমান সংস্থাপন-২-এ দায়িত্ব পালনের পর শেরে বাংলা নগর গণপূর্ত বিভাগ-১-এ পদায়ন পেয়েছেন। সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেলসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার দায়িত্বে তার পদায়নের যোগ্যতা, অনুমোদন ও প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর অত্মীয় ও সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ নেতা প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহকে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ এ সংযুক্ত করা হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়ে সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর অত্মীয় পরিচয়ে তিনি প্রথম পোস্টিং বাগিয়ে নেন নগর গণপূর্ত বিভাগে। ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ওয়ার্কিং ডিভিশন হিসাবে রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ।
ডিসেম্বর পরিকল্পনা ও নিরাপত্তার প্রশ্ন
মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গণপূর্ত অধিদফতরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রোমেকানিক্যাল), ২০০ জন সহকারী প্রকৌশলী, ২১৯ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী ও ১২০ জন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীকে একযোগে বদলি করা হয়েছে। এ সময় সংসদ ভবন, এমপি হোস্টেল, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, এনএসআই ও দুদকের সদরদফতর এবং ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে পতিত রাজনৈতিক দলের নেত্রীর সম্ভাব্য আগমন, রাজনৈতিক অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টদের পদায়নের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
গণপূর্ত অধিদফতরের বদলি-পদায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নির্ধারণে ক্যাটাগরি নির্ধারণের নীতিমালা, গ্রেডিং শিট, লটারিতে ব্যবহৃত বাক্স ও নামের তালিকা, মূল্যায়ন কমিটির কার্যবিবরণী, চূড়ান্ত পদায়ন আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি পরীক্ষা করার দাবি উঠেছে। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনরা।
ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২ এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ফ্যাসিবাদের অন্যতম দোসর টিপু মুন্সির ভায়রা আবু নাসের চৌধুরী কমিশন ও টেন্ডারবাণিজ্য করে এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। সম্প্রতি তাকে গণপূর্ত-১ এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে; অর্থাৎ দুটো বিভাগ দেখছেন তিনি।
অনুসন্ধানে অভিযোগ পাওয়া যায়, গণপূর্ত অধিদফতরের মাফিয়াখ্যাত ও ফ্যাসিস্ট হাসিনার অন্যতম দোসর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো: হাফিজুর রহমান মুন্সী ওরফে টিপু মুন্সি ভায়রা আবু নাসের চৌধুরী ঢাকা গণপূর্তে সার্কেল-২-এ পোস্টিং বাগিয়ে নিয়েছেন ১০ কোটি টাকা দিয়ে।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, আবু নাসের চৌধুরী ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দীর্ঘ দিন গণপূর্ত সম্পদ বিভাগে থেকে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং টেন্ডারবাণিজ্যের মহোৎসব করছেন।
২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর দায়িত্ব নেয়ার পর প্রাক্কলন অনুমোদন, টেন্ডারের টেক অনুমোদন ও ভেরিয়েশন অনুমোদনসহ সব কাজে মো: আবু নাসের চৌধুরীকে মোটা কমিশন দিতে হয়; অন্যথায় তিনি ফাইল পাস করেন না। এমনকি ইজিপি টেন্ডারে ৫ শতাংশ কমিশন না দিলে টেক অনুমোদন করেন না, যা ঢাকা গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর ইজিপি আইডি দেখলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। যেসব ঠিকাদার কমিশন দেননি তাদের টেক তিনি অনুমোদন করেননি। যেমন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৩ এর অনেক টেক অনুমোদনবিহীন আবু নাসের চৌধুরীর ইজিপি আইডিতে ঝুলে আছে।
আবু নাসের চৌধুরী একইভাবে বগুড়া গণপূর্ত সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে এপিপির কাজ এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের অনুমতি দিয়ে কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বগুড়া গণপূর্ত বিভাগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আবু নাসের চৌধুরী ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান অনুমতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দের কাজ ও এপিপির কাজ দিয়ে ১০ শতাংশ কমিশন হাতিয়ে নিয়েছেন।
ওই ওটিএম দরপত্র আহ্বানের আইডিগুলো হলো Id.no.1111781 Id.no.1119316 Id.no.1113079 Id.no.1111563 Id.no.1111558 Id.no.1111559 Id.no.1111560 Id.no.1111570 Id.no.1111567 Id.no.1111569 Id.no.1111561 Id.no.1111564 Id.no.1111565 Id.no.1111566 Id.no1081546 Id.no.1100790 Id.no.1102028 Id.no.1091973 Id.no.1091974 Id.no.1091975 Id.no.1091976 Id.no.1091977 Id.no.1091978 Id.no.1091979 Id.no.1082159 Id.no.1080235 Id.no.1080236 Id.no.1069131 Id.no.1070874 Id.no.1070875 Id.no.1070876 Id.no.1071265 Id.no.1043248 Id.no.1029596 Id.no.1018159|
রাজিবুল ইসলাম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-১ থেকে মহাখালীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের পর আবার একই বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। তার পদায়নের ধারাবাহিকতা ও বদলি নীতিমালা অনুসরণের বিষয়টি যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।
রেজা তাইমুর মালিক ঢাকা মেইনটেইন্যান্স বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য লটারিতে নির্বাচিত হয়েছেন। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, এর আগে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালনের পর তাকে এনএসআই সদরদফতর, দুদক সদরদফতর ও প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা যাচাই ও প্রশাসনিক বিধি অনুসরণ করা হয়েছে কি না। তার বাবা মো: রেজাউল হক মালিক (মুকুল) চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন বলে জানা গেছে।
রাশেদ আহসান সাবেক মন্ত্রী শরিফ আহমেদের ঘনিষ্ঠ। ময়মনসিংহে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর মিরপুরে এবং বর্তমানে আজিমপুর সংশ্লিষ্ট পদায়নের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
পূর্তভবন সংশ্লিষ্ট পদে শামসুন্নাহার ঝুমার নাম লটারিতে উঠলেও একই পর্যায়ের অন্য কর্মকর্তাদের নাম কেন বাদ পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। লিবনী জামানকে হবিগঞ্জে পদায়ন করা হলেও একই পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার নাম লটারিতে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। একই পদমর্যাদার অর্ধশত কর্মকর্তা বহাল থাকা সত্ত্বেও কারা লটারির আওতায় এসেছেন এবং কারা বাদ পড়েছেন, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
লটারি ও পদায়নকে কেন্দ্র করে মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সংস্থাপন), তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) ও নির্বাহী প্রকৌশলীদের একটি অংশের কথিত সিন্ডিকেট প্রায় ১২০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অর্থের পরিমাণ ও লেনদেনের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য মূল লেখায় নেই।
অভিযোগকারীরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আয়কর নথি, ব্যাংক হিসাব, সম্পদ বিবরণী, সম্পদ কেনার উৎস এবং তাদের নিকটাত্মীয়দের নামে অর্জিত সম্পদ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
গণপূর্তের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোতে ফ্যাসিস্টদের সাথে সম্পর্ক আছে এমন কর্মকর্তাদের পোস্টিং দেয়া খুবই বিপজ্জনক মন্তব্য করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির বাসভবন, ডিজিএফআই প্রধানের বাসভবনসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যদি কেনো আওয়ামী পন্থী আমলার হাতে থাকে তা সরকারের জন্য মোটেও মঙ্গলজনক না; বরং এই প্রক্রিয়া ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। এখনই সরকারকে এ বিষয়ে গভীর মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি এসব কর্মকর্তাকে যারাই পোস্টিং দিচ্ছে তাদের বিষয় অধিকতর খোঁজখবর নিয়ে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আওয়ামী লীগ যদি দেশে সন্ত্রাসী কার্যক্রমের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে সক্ষম হয় তখন এসব কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের জীবন নাশের কারিগর হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন। তাই সরকারকে এসব স্থানে রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত ও বিশ্বস্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দিতে হবে।
রাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্য ছাড়া কারো জীবনের হুমকি আছে বলে আমি মনে করি না। একমাত্র তারেক রহমান ছাড়া কারো কিছু হবে না। কারণ এসব কর্মকর্তাকে যারা পোস্টিং দিয়েছেন, তারা তো জেনে শুনেই দিয়েছেন। তারা তো তাদের বন্ধু। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী যারা পোস্টিং দিয়েছেন, তারা তো পাঁচ বছরের শিশু না। তারা যখন পোস্টিং দিয়েছেন, তখন আপনাকে মনে করতে হবে তাদের সাথে আওয়ামী লীগের সখ্যতা আছে, বন্ধুত্ব আছে। আর বন্ধু তো বন্ধুর জীবন কখনো কেড়ে নিবে না। তাই আমি মনে করি তারেক রহমান ছাড়া কারো জীবনের হুমকি নেই এবং এসব পদায়ন ও কর্মকাণ্ড পরিকল্পিত।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
গণপূর্তের মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ, তদন্ত মন্ত্রণালয়ে- ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, দিনমজুরের মজুরি কম দেওয়া, রমনা পার্কের ফল বিক্রির অর্থের হিসাব না রাখা এবং পার্কে অবৈধ কার্যক্রম চলতে দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরবরিকালচার গণপূর্ত উপবিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং দাপ্তরিক নির্দেশনা অমান্য করার বিষয়ও। দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, এসব অভিযোগে একাধিকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ ও সতর্কবার্তা পেয়েছেন মোয়াজ্জেম। একটি তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনায় পদায়ন না করার সুপারিশও করা হয়েছিল। তবে এত কিছুর পরও তার বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের। এবার তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব গণপূর্ত অধিদপ্তরের পরিবর্তে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মাদ সারওয়ার জাহান এ তথ্য জানিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা, প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে বিলম্ব এবং রমনা পার্কের ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন—সব মিলিয়ে গণপূর্তের এই শাখার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পদ নিয়ে বিরোধ, গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধান আরবরিকালচারিস্টের একটি পদকে কেন্দ্র করে মোয়াজ্জেম হোসেন ও শেখ মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদার বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। দুজনের দ্বন্দ্ব আদালত পর্যন্ত গড়ায়। শেখ মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদাকে পদ থেকে সরিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের রিজার্ভে রাখা হয়। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদকে প্রধান বৃক্ষপালনবিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দাপ্তরিক নথিতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-১-এর একটি মামলায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, সরকারি কর্ম কমিশনের সচিব এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান আরবরিকালচারিস্টকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। মামলাটির আবেদনকারী ছিলেন মোয়াজ্জেম হোসেন। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ১৬ মে দেওয়া একটি আদেশের বিরুদ্ধে শেখ মোহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে সিভিল পিটিশন ফর লিভ টু আপিল (১২৫/২০২৫) করেন। আদেশটির কার্যকারিতা স্থগিত চেয়ে করা আবেদনের শুনানির জন্য ২০২৫ সালের ১৯ মে দিন নির্ধারণ করেন বিচারপতি মো. রেজাউল হক। তিন মাসে ৬ হাজার ৯৫৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ দাপ্তরিক নথি অনুযায়ী, গণপূর্ত অধিদপ্তরের আরবরিকালচার বিভাগে বছরে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকে। এ বিপুল বরাদ্দের ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো। আরবরিকালচার গণপূর্ত উপবিভাগ-২-এ দায়িত্ব পালনকালে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে তিন মাসে ৬ হাজার ৯৫৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-১-এর তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল কাদের চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ওই অর্থ চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোয়াজ্জেম অর্থ জমা দেননি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক ব্যাখ্যাও দিতে পারেননি তিনি। এর পরিপ্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।অর্থের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও অভিযোগটি সরকারি অর্থের হিসাব, ভাউচারের যথার্থতা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। স্পর্শকাতর স্থাপনায় পদায়ন না করার সুপারিশ তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল কাদের চৌধুরীর তদন্ত প্রতিবেদনে মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, বঙ্গভবন, গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবন ও বাংলাদেশ সচিবালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সরকারি স্থাপনায় তাকে পদায়ন না করার সুপারিশ করা হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সুপারিশপত্র এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বিশ্বনাথ সরকার বিটু ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিমের লিখিত সুপারিশ কাজে লাগিয়ে মোয়াজ্জেম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে বদলি, সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন মোয়াজ্জেম হোসেন ২০০৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জাতীয় স্মৃতিসৌধ, বঙ্গভবন ও রমনা পার্কের সবুজায়নের কাজে যুক্ত হন। পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনের পর ২০০৯ সালে তাকে চট্টগ্রামে এবং ২০১১ সালে রাজশাহীতে বদলি করা হয়। ২০১২ সালে ঢাকার গণপূর্ত ভবনে ফিরে এলে তাকে রিজার্ভে রাখা হয়। বর্তমানে তিনি রমনা উপবিভাগ-২-এ দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনা পানির পাম্পের কাছে পাঁচ কাঠার একটি প্লট কেনার অভিযোগও রয়েছে। তবে জমি কেনার অর্থের উৎস বা এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। যমুনার দায়িত্ব থেকে সরানোর পর অসদাচরণের অভিযোগ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর মোয়াজ্জেম হোসেন একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে গালাগাল এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেন প্রধান বৃক্ষপালনবিদ আবুল কালাম আজাদ। এ ছাড়া প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন-সংলগ্ন আরবরিকালচারের কাজে নিয়োজিত দিনমজুর মনির অভিযোগ করেন, তাকে নির্ধারিত হারের চেয়ে কম মজুরি দেওয়া হয়েছে। দাপ্তরিক নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮০ জন দৈনিকভিত্তিক শ্রমিককে সমান হারে মজুরি দেওয়ার কথা ছিল। এ নির্দেশনা অমান্য করার অভিযোগে মোয়াজ্জেমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। সরকারি অর্থে পরিচালিত কাজে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ ও পরিশোধের ক্ষেত্রে এমন অভিযোগ শ্রমিক অধিকার এবং সরকারি ব্যয়ের স্বচ্ছতা—দুই ক্ষেত্রেই প্রশ্ন তৈরি করে। রমনা পার্কের ফল বিক্রির অর্থ কোথায় যায়? রাজধানীর রমনা পার্কের ফল বিক্রির অর্থের হিসাব নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পার্কে প্রায় ২৪৫টি নারিকেল ও ১৪৫টির মতো কাঁঠালগাছ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব গাছের ফল নিলামের মাধ্যমে বিক্রির বিধান থাকলেও অনেক সময় সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে বিক্রির অর্থ ভাগবাটোয়ারা করা হয়। ফলে সরকারি হিসাবে পুরো অর্থ জমা পড়ে না বলে অভিযোগকারীদের দাবি। এ অভিযোগের ক্ষেত্রে ফল বিক্রির নিলামসংক্রান্ত নথি, বিক্রির পরিমাণ, সরকারি কোষাগারে জমার হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা জরুরি। তবে এসব নথির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যায়নি। পার্কে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের দৌরাত্ম্য, জোর করে ছবি তুলে টাকা দাবি এবং ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানালে অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগও রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে দর্শনার্থীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিরাপত্তাকর্মী ও তদারককারীদের টাকা দিয়ে এসব অবৈধ কার্যক্রম চালানো হয়। সময়মতো অফিসে উপস্থিতি ও দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিয়েও অভিযোগ মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা অমান্য, নিয়মবহির্ভূত চিঠি পাঠানো এবং অসদাচরণের অভিযোগেও একাধিকবার কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। তাকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছিল বলে দাপ্তরিক সূত্রে জানা গেছে। এ ছাড়া ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেডের শেরাটন হোটেল শাখার করা অর্থঋণ মামলা নম্বর ১০/২০১০-এর সমনে তার বিরুদ্ধে ২ লাখ ৬ হাজার ৫৩১ টাকা অনাদায়ের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। ব্যাংকের ওই অর্থঋণ মামলা এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা দাপ্তরিক অনিয়মের অভিযোগ পৃথক বিষয়। তবে নথিগুলো তার প্রশাসনিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরও অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তদন্তের দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ে, জবাব মেলেনি অভিযুক্ত কর্মকর্তার গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সংস্থাপন) মুহাম্মাদ সারওয়ার জাহান বলেন, মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে একাধিকবার অনিয়ম ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। এবার অভিযোগ তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে রমনা পার্কে উপবিভাগীয় কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে মোয়াজ্জেম হোসেনকে পাওয়া যায়নি। পার্কের সুপারভাইজার ফজলুল হক বলেন, ঢাকা ক্লাবের পাশে থাকা কার্যালয়টি ভেঙে দেওয়ায় সেখানে কর্মকর্তার বসার ব্যবস্থা নেই। এ কারণে মোয়াজ্জেম বেশিরভাগ সময় গণপূর্ত অধিদপ্তরে অবস্থান করেন। ফলে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, শ্রমিকদের মজুরি, ফল বিক্রির হিসাব এবং পার্কে অবৈধ কার্যক্রম চলার অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই, আর্থিক হিসাব পরীক্ষা এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একাধিক নোটিশ, সতর্কবার্তা ও তদন্ত প্রতিবেদনের পরও কেন অভিযোগগুলোর নিষ্পত্তি হয়নি? রমনা পার্কের ফল বিক্রির অর্থ সরকারি কোষাগারে যথাযথভাবে জমা পড়ছে কি না? আর শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার দায় কার?
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতে একটি আলোচিত গণপিটুনি মামলায় ১৪ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তাবাসসুম খান অনলাইন হুমকি ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। ঘটনার পর তাঁর বিদ্যমান পুলিশি নিরাপত্তা অব্যাহত রাখতে নির্দেশ দিয়েছে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি চলমান মামলার শুনানিতে আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি আমলে নেয়। বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল এবং বিচারপতি অবনীন্দ্র কুমার সিং-এর ডিভিশন বেঞ্চ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তলব করে। রায়, প্রতিক্রিয়া এবং উত্তেজনা গত ১২ জুন দেওয়া এক রায়ে বিচারক তাবাসসুম খান ২০২২ সালের একটি সহিংস গণপিটুনি মামলায় ১৪ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে গবাদি পশু পরিবহনের সময় ট্রাক চালক শেখ লালা নাজির আহমেদকে হত্যা করা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি বেআইনি জমায়েত গড়ে তুলে হামলা চালায়। রায় ঘোষণার পরপরই নিজেদের ‘গো-রক্ষক’ দাবি করা একাধিক গোষ্ঠী প্রকাশ্যে বিক্ষোভে নামে। আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, বিচারকের কুশপুতুল দাহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে লক্ষ্য করে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। অনলাইন হুমকি ও ভাইরাল ভিডিও ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়, যেখানে এক ব্যক্তি বিচারকের বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করেন এবং দণ্ডপ্রাপ্তদের মুক্তি না দিলে রাজ্যজুড়ে সহিংসতার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ে। আদালতের কঠোর অবস্থান হাইকোর্ট এই ঘটনাকে “গুরুতর উদ্বেগজনক” আখ্যা দিয়ে জানায়, এ ধরনের আচরণ বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, বিচারিক সিদ্ধান্ত কেবল আইনি প্রক্রিয়া—আপিল বা রিভিশনের মাধ্যমেই চ্যালেঞ্জ করা যেতে পারে। বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানায়, কোনো সামাজিক গোষ্ঠীর অসন্তোষের কারণে বিচারকের বিরুদ্ধে হুমকি বা সহিংসতা গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতে, এটি বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও নির্ভীক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রশাসনিক নির্দেশ অন্তর্বর্তী নির্দেশে হাইকোর্ট জানায়, নর্মদাপুরমের পুলিশ সুপারের (এসপি) অধীনে বিচারক তাবাসসুম খানের বিদ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। এছাড়া, হুমকির পেছনে জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা বিস্তারিতভাবে হলফনামা আকারে দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। রাজ্য পুলিশের মহাপরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিবকেও বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নীতিমালা সম্পর্কে ব্যক্তিগত হলফনামা জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতি শুনানিতে ডেপুটি অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতকে জানান, ঘটনায় ইতিমধ্যে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে ভারতের বিচার বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং অনলাইন বিদ্বেষের প্রভাব। বিশেষ করে সংবেদনশীল ফৌজদারি মামলার রায়ের পর বিচারকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কতটা জরুরি—তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শরীয়তপুর-চাঁদপুর আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নকশায় না থাকা কিংবা ভিডিও জরিপে শনাক্ত না হওয়া তথাকথিত স্থাপনার বিপরীতে মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও ৩৫ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে কাজ শেষ হয়েছে মাত্র ৬ কিলোমিটার অংশে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা, আপত্তি নিষ্পত্তিতে অনিয়ম এবং ক্ষতিপূরণ বাণিজ্যের কারণে প্রকল্পটি এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে। ছয় বছরে অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যোগাযোগ সহজ করতে ২০০১ সালে চালু হয় চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়ক। সড়কটি সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। শরীয়তপুর শহরের মনোহর বাজার থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহিমপুর পর্যন্ত ৩৫ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণে ৮৬০ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা জমি অধিগ্রহণে ব্যয়ের পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরে দুই দফা সময় বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু এখনো অধিকাংশ এলাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। সওজ সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রায় ৪৭ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ বাকি রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পের সামগ্রিক অগ্রগতি আটকে আছে মাত্র ১৫ শতাংশে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় অতিরিক্ত ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)। সওজের শরীয়তপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেন বলেন, “প্রকল্পের ডিপিপিতে জমি অধিগ্রহণ ব্যয় কম ধরা হয়েছিল। ফলে জমি অধিগ্রহণ শেষ হওয়ার আগেই বরাদ্দ শেষ হয়ে যায়।” ‘ভূতুড়ে’ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণের অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার ভিডিও জরিপের আগে ও পরে স্থানীয় একটি চক্র ফাঁকা জমিতে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে। পরে সেসব স্থাপনাকে বৈধ দেখিয়ে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভিডিও জরিপে না থাকা কিংবা প্রকল্প নকশার বাইরে থাকা স্থাপনাগুলোর বিপরীতেও বিল প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি ছোট গাছকে বড় গাছ হিসেবে দেখিয়ে অস্বাভাবিক অঙ্কের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের অভিযোগও রয়েছে। ক্ষতিপূরণ পাওয়ার পর অনেক স্থাপনা আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে একতলা, বিলে দুইতলা ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরতারবুনিয়া মৌজায় শফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির জমিতে ভিডিও জরিপে একতলা ভবন দেখা গেলেও ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় সেখানে দ্বিতীয় তলায় আধাপাকা টিনশেড ঘর দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে অতিরিক্ত প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় সূত্রের। যদিও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি শফিকুল ইসলাম। গাছের আকার বাড়িয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণ পাপরাইল এলাকার জয়নাল খাঁর জমিতে গাছের সংখ্যা ও আকার বাড়িয়ে দেখিয়ে প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে জয়নাল খাঁ দাবি করেছেন, তাঁর ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ম মেনেই হয়েছে। আইন যা বলছে ২০১৭ সালের স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন অনুযায়ী, অসৎ উদ্দেশ্যে নির্মিত স্থাপনা ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত করার সুযোগ নেই। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেই আইন উপেক্ষা করেই বিভিন্ন অবৈধ স্থাপনার বিপরীতে ক্ষতিপূরণ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সদর উপজেলার চরকাশাভোগ এলাকায় শাহিদা বেগম নামের এক নারী অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশায় নিজ জমিতে দুটি টিনশেড ঘর নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা গেছে। প্রথমে এলএ শাখা স্থাপনাগুলোকে “জনস্বার্থবিরোধী” উল্লেখ করে তালিকা থেকে বাদ দিলেও পরে আপত্তি নিষ্পত্তির মাধ্যমে তাঁকে প্রায় ৪৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক প্রকল্পের অন্তত ১৯টি এলএ কেসে প্রায় ১২০টি আপত্তি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়াই নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণের চেকে ‘পারসেন্টেজ’ নেওয়ার অভিযোগ ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগও উঠেছে। দক্ষিণ মধ্যপাড়া এলাকার আবদুল মালেক ফকির অভিযোগ করেন, ১৬ লাখ টাকার ক্ষতিপূরণের চেক তুলতে তাঁকে আড়াই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন নান্নু সরদার। তাঁর দাবি, “ভ্যাটের কথা বলে” ক্ষতিপূরণের টাকার ৬ শতাংশ কেটে নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের বক্তব্য অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাসুদুল আলম বলেন, তাঁর কাছে এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, “কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যেন পারসেন্টেজ না নেন, সে বিষয়ে শুরু থেকেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ নাবিল হোসেনও বলেছেন, ক্ষতিপূরণ প্রদানে অনিয়মের বিষয়ে তাঁর কাছে এখনো কোনো তথ্য আসেনি। তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হবে। প্রশ্নের মুখে জবাবদিহি অবকাঠামো উন্নয়নের নামে হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্ন নতুন নয়। তবে শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়ক প্রকল্পে ওঠা অভিযোগগুলো এখন শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার নয়, বরং সরকারি অর্থ অপচয় ও সংঘবদ্ধ দুর্নীতির আশঙ্কাও সামনে আনছে। যেখানে ছয় বছরেও প্রকল্পের অর্ধেক জমি অধিগ্রহণ শেষ হয়নি, সেখানে অতিরিক্ত শত শত কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব নতুন করে নজরদারি ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জোরালো করছে।