Brand logo light
বাংলাদেশ

বরিশালে নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মৃত্যু: নিখোঁজ জীবন, নীরব প্রত্যাবর্তন ও রহস্যের ঘনঘটা

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
নজরুল ইসলাম বাচ্চু
নজরুল ইসলাম বাচ্চু

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: একজন পরিচিত, বিনয়ী এবং সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানুষ—নজরুল ইসলাম বাচ্চু । তবে তার জীবনের শেষ কয়েক বছর এবং মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন, যার উত্তর আজও অজানা।

স্থানীয়দের কাছে ‘ভালো মানুষ’ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন তিনি। দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর, মৃত্যু সংবাদ হয়ে ফিরে আসেন তিনি—একেবারে নীরবে।

 বরিশালে একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন নজরুল ইসলাম বাচ্চু ।এতটাই ভালো ছিলেন তাই তাকে বাংলাবাজার মোড়স্থ মসজিদের কোষাধ্যক্ষ বানিয়েছিলেন মুসুল্লীরা। ২০১৯ এর পর তাকে বরিশালের অনেকেই দেখতে পায়নি।মৃত্যু হয়ে লাশ হয়ে ফিরলেন বরিশালে।তবে দু' দিনের জন্য এসেছিলেন। ঘুরেছেন রিকসায়।এটাই ছিল তার শেষ দেখা বরিশালের। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম বসুন্ধরা ট্রেডার্স।এক সময়ে পুলিশ লাইন রোডে ছিল। পরে পলিটেকনিক রোডে। বাসা ব্যাপটিস্ট মিশন রোডে।সাড়ে চার তলা ভবন সৈয়দ ভিলা।

নজরুল ইসলাম বাচ্চু  চলে গেলেন নিরবে নিস্তব্ধে তবু রেখে গেছেন হাজারো প্রশ্ন। হয়তো এসব প্রশ্নের উত্তর কখনোই জানবেনা কেউ। বাচ্চুর পরিবার ও শশুর বাড়ির লোকজন আড়ালে রেখেছিল মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।এমনকি মাত্র তিন থেকে চার মিনিট বাবুর মৃত্যু দেহ দেখার সুযোগ করে দিয়েছিল এলাকার লোকজনের দাবীর মুখে।

বাচ্চুর মৃত্যু একটা রহস্যজনক!

নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মৃত্যুর পর তার বন্ধু আকরাম আলী শোক সংবাদ নামে একটি পোষ্ট করেন। সেখানে বাচ্চুকে নিয়ে স্মৃতিচারন করেন। পোস্টের কমেন্টে - সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নামে একজন কমেন্ট করেন। তিনি কমেন্টে উল্লেখ করেন "ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন।অনেক ব্ছর পর্যন্ত নিখোঁজ ছিল। রহস্যজনক। "।  একই পোষ্টে নিপু সরদার নামে একজন "  ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বাচ্চুর মৃত্যু একটা রহস্য। বন্ধু তো ছিলই তাছারা আমি ছিলাম ওর দোকানের রেগুলার কাস্টমার কিন্তু ৪/৫ বছর অনেক চেষ্টা করেও ওর সাথে দেখা করতে পারি নাই। " কমেন্ট করেন। তানজিল নামে একজন কমেন্টে উল্লেখ করেন" আপনি অনেক গুরত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্ন এবং আচরণ তুলে ধরেছেন। তার ঐ ব্যাবসার মালিকানা এখন কার হয় দেখার বিষয়।" এভাবে অনেকেই কমেন্ট করেছেন।

একটি মৃত্যু অনেক প্রশ্ন


একটি মৃত্যু নিয়ে অনেক প্রশ্ন।সেই যে এয়ারএ্যাম্বুলেন্সে গেলেন মাঝে দু'দিন ছাড়া আর বরিশালে ফিরে নাই।নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মা ও বাবা পক্ষের কেউ নেই।বন্ধু ও সহপাঠিদের থেকে আড়াল করে রাখা হয়েছিল তাকে।কোথায় ছিলেন ঢাকায়। সেই ঠিকানাও কাউকে দেয়া হয়নি পরিবারের পক্ষ থেকে।এমন অভিযোগ বাচ্চুর বন্ধুদের। ব্যাপটিস্ট মিশন রোডের সৈয়দ ভিলা এখন নিরব।নিস্তব্ধ।নেই কোলাহল।

মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে সহায় সম্পত্তির কারনে?

বাচ্চুর মুত্যু রহস্যের জট না খুললেও তার বন্ধুদের ধারনা তাকে তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে সহায় সম্পত্তির কারনে।তাদের একটাই বড় প্রশ্ন বাচ্চুর সহায় সম্পদই কাল হয়েছে। আজ ৩০ এপ্রিল বাদ আসর বাচ্চুর রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে বাংলাবাজার জামে মসজিদে।
বাচ্চু  ছিলেন একজন ভালো বাস্কেট খেলোয়ার। জিলা স্কুল থেকে বিএম কলেজ। সবখানেই তার সুনাম ছিল।তার সহপাঠীদের মধ্যে বর্তমান তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এমপি,ভোলার  নাজিম উদ্দিন আলম,কুয়াকাটার আলম, বোর্ড ক্লাবের নাসিরসহ অসংখ্য সহপাঠি ছিলেন।
সকল সহপাঠিদের একটাই মন্তব্য বাচ্চু  ভালো ছিলেন তাই বাচ্চু কে " ভালো " নামে ডাকা হত। আপাদমস্তক একজন ভদ্র ও নম্র স্বভাবের মানুষ।বরিশালের সু-পরিচিতদের একজন। 

শেষ দেখা, শেষ স্মৃতি

স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর আগে মাত্র দু’দিনের জন্য তিনি বরিশালে এসেছিলেন। রিকশায় করে ঘোরাফেরা করেছেন—যা অনেকের কাছেই ছিল তার শেষ দেখা।

তারপর আবার নিভৃতে চলে যাওয়া।

 

অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার গল্প

পরিবার ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। এরপর থেকে কার্যত তিনি বন্ধু-বান্ধব, সহপাঠী—সবাইয়ের কাছ থেকেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।

তার ঘনিষ্ঠদের অভিযোগ, এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়েছে বারবার। এমনকি তার অবস্থান সম্পর্কেও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

মৃত্যুর পরও গোপনীয়তা

নজরুল ইসলাম বাচ্চুর মৃত্যুর পরও রহস্য কাটেনি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার মরদেহ দেখার সুযোগও সীমিত রাখা হয়। মাত্র কয়েক মিনিটের জন্য স্থানীয়দের দেখার সুযোগ দেওয়া হয়, তাও চাপের মুখে।

বন্ধুদের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে পরিবার এবং শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আড়ালে রাখা হয়েছিল।

 

সম্ভাব্য কারণ নিয়ে জল্পনা

বন্ধুদের একটি অংশের ধারণা, সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ বা পারিবারিক জটিলতা তাকে ধীরে ধীরে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, তাকে “তিল তিল করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।”

 

বন্ধুদের প্রশ্ন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তার বন্ধু আকরাম আলী লিখেছেন,

“বাচ্চু কোথায় ছিল, কেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেনি—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর হয়তো আর কোনোদিন জানা যাবে না।”

অন্যান্য বন্ধু ও পরিচিতজনদের মন্তব্যেও উঠে এসেছে একই ধরনের সংশয় ও বিস্ময়। কেউ কেউ এটিকে “রহস্যজনক মৃত্যু” বলেও উল্লেখ করেছেন।

 

শোক সংবাদ নামে আকরাম আলীর পোষ্ট

২৭ এপ্রিল প্রবাসী আকরাম আলী (Akram Ali) নজরুল ইসলাম বাবুর  শোক সংবাদ নামে যে পোষ্ট ফেসবুকে করেছিল তা হুবহু প্রকাশ করা হল-

এইমাত্র আমাদের বন্ধু বরিশাল ব্যাপ্টিস্ট মিশন রোডের নজরুল ইসলাম বাচ্চু`র মৃত্যু সংবাদ পেলাম। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজিউন। মহান আল্লাহ্‌ বাচ্চুকে ক্ষমা করে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নিন। আমিন। 
বাচ্চু ছিল তার বাবা মায়ের একমাত্র সন্তান। আমরা বন্ধুরা ছিলাম তাই ওর ভাই-বোনের মতো। শুনেছি, বাচ্চুর মা ছোঁয়াচে রোগ সহ অনেকটা এবনরমাল ছিলেন। আমরা বন্ধুরা কেউ কখনো ওর মাকে দেখিনি। বাচ্চুর মায়ের এই অসুস্থ্যতার কারনে বাচ্চুকে তার মায়ের কাছে যেতে দেননি তার বাবা সৈয়দ সাহেব। মানে বাচ্চু তার মায়ের সঙ্গও পায়নি। বাচ্চুর বাবা সৈয়দ সাহেব পানি উন্নয়নে ক্লারিকাল জব করতেন। তো বাচ্চুর কাছে আমরাই ছিলাম ভাইয়ের মতো।  আমরাও সেভাবেই দেখতাম।  

জীবন জীবিকার প্রয়োজনে দেশের বাহিরে চলে আসার পরে শুনেছিলাম বাচ্চু এবং কয়েকজন বন্ধু মিলে ঠিকাদারি শুরু করেছিল। এই ঠিকাদারি করতে করতে বাচ্চু পানি উন্নয়নের এসডিই ফজলুর রহমান সাহেবের মেয়েকে বিয়ে করে বরিশাল পুলিশ হাসপাতালের সামনে তৎকালীন পৌরসভার স্টল নিয়ে বসুন্ধরা ট্রেডারস নাম দিয়ে রড, সিমেন্টের দোকান দিয়ে বসে। তো সে দোকান বাচ্চুর হলেও বাচ্চুর শালা বাপ্পীই বসতো।
এভাবেই চলছিল। দেশে গেলে খুব কমই তাকে দোকানে পেয়েছি। যখনই ওর দোকানের সামনে দিয়ে গিয়েছি, উঁচু গলায় ডাক দিতো~ মামা, চা খেয়ে যাও। তবে বেশীর ভাগ সময়ই  তার শালা দোকানে থাকতো। বাচ্চুকে দোকানে পেতাম না। বাচ্চুর কথা তার শালাকে জিজ্ঞেস করলে ঠান্ডা নিঃস্পৃহ ভাব দেখাতো। বলতো~ ভাই একটু ব্যাস্ত আছেন।   জানামতে, আমাদের কোন বন্ধু কোন সময় বাচ্চুর বাসায়ও যায়নি এবং বাচ্চুও কখনো কাউকে বলেনি বা আগ্রহ দেখায়নি। বাচ্চু সবকিছু কেমন যেন আড়ালে রাখার চেস্টা করতো।   

২০১৯ সালে বাচ্চু হৃদরোগে আক্রান্ত হলে এয়ার এম্বুলেন্সে বরিশাল থেকে ঢাকা নেয়া হয়। এই যাওয়াই যেন তার পুরাপুরি আড়াল হয়ে যাওয়া। এরপরে আমরা বন্ধুরা কেউ তার চেহারা দেখিনি, এমনকি যোগাযোগ করতেও পারিনি। মোবাইলে কল দিলে ধরতো না। কল ব্যাকও করতো না। বরিশালে তার দোকানে তার শালা বাপ্পীকে আমাদের বন্ধুরা কেউ জিজ্ঞেস করলে  ঢাকা আছেন, ভালো আছেন` এই উত্তর পাওয়া যেতো। এর মধ্যে একবার ঢাকাতে এক বন্ধুর সাথে বাচ্চুর ছেলে মাহাবুবুল ইসলাম শাইকের দেখা হলে সেও তার বাবার প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায়। 
সেই বাচ্চু আজ মহান আল্লাহ্‌র ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেছে। যেখানে সে রেখে গেছে অনেক প্রশ্ন? কি হয়েছিল তার? কেন সে পুরানো বন্ধুদের কারো সাথে যোগাযোগ রাখেনি বা রাখতে পারেনি কিংবা রাখতে চাইতো না? চাইলে এ যুগে কারো সাথে যোগাযোগ করা কি খুব কঠিন কাজ? তাহলে কেন কিসের জন্যে, কার ভয়ে সে কারো সাথে যোগাযোগ করেনি। জানা মতে তার তেমন কোন দেনা ও ছিলনা। 

বাচ্চুকে  মহান আল্লাহ্‌ তাকে ক্ষমা করে জান্নাত নসীব করুন। আমিন।   

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
বরগুনা এলজিইডি
বরগুনা এলজিইডির ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার: অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির অভিযোগে বদলি নির্বাহী প্রকৌশলী

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মেহেদী হাসান খাঁনকে বদলি করা হয়েছে। গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ ওঠার কয়েক দিনের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত আসে। স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা অভিযোগের পর এই বদলি প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বদলির আদেশ ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া গত বৃহস্পতিবার এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মোঃ মেহেদী হাসান খাঁনকে বরগুনা থেকে সদর দপ্তর ঢাকায় একই পদে বদলি করা হয়। রোববার বদলির খবর বরগুনায় পৌঁছালে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, সাম্প্রতিক টেন্ডার বিতর্ক এবং উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের কারণে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল। বদলির খবরে অনেকেই স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। যে অভিযোগে আলোচনায় এল টেন্ডার প্রক্রিয়া অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র। গত মার্চে আহ্বান করা ওই টেন্ডারে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ এপ্রিল অনিয়ম ও অনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়। বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক এপিএস এবং তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে। তার অভিযোগের ভিত্তিতে এলজিইডির প্রধান কার্যালয় বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়।  আত্মীয়স্বজন ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ অনুসন্ধানে অভিযোগ ওঠে, কাজ পাওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের মালিক স্থানীয় প্রকৌশলীদের আত্মীয় অথবা আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি। অভিযোগে বলা হয়— নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান “এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স” গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের প্রতিষ্ঠান “এমএস নুর কনস্ট্রাকশন” সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান “এসএম লেলিন ট্রেডার্স (লেলিন-দীপ জেভি)” সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইনের নিকটাত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান “নিশিত বসু ট্রেডার্স” এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ বণ্টনে প্রভাব খাটানো হয়েছে বলে অভিযোগকারীর দাবি। ‘খাল খনন থেকে মসজিদ সংস্কার—সবখানেই অনিয়ম’ শুধু টেন্ডার নয়, জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় খাল খনন কাজেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিম্নমানের কাজ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অসঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের অর্থ ছাড় করা হয়। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কার প্রকল্পেও বরাদ্দের পুরো অর্থ কাজে ব্যবহার হয়নি। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, একটি মসজিদ সংস্কারের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও প্রকৃত কাজ হয়েছে প্রায় অর্ধেক টাকার। খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেন, “ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। অভিযোগ জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।” কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, “ঢালাই দেওয়ার কিছুদিন পরই সড়কের পিচ উঠে যায়। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” অভিযোগ অস্বীকার কর্মকর্তাদের মোঃ মেহেদী হাসান খাঁন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম করিনি। কেন অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, তা অভিযোগকারীই বলতে পারবেন।” তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প তদারকি ব্যবস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও তদারকির দুর্বলতা নিয়ে অতীতেও প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থানীয় উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দরপত্র প্রক্রিয়া, কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা প্রয়োজন। বরগুনার ঘটনাটি সেই পুরোনো প্রশ্নগুলোকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে—সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কারা সুবিধা পাচ্ছেন, আর জনস্বার্থ কতটা রক্ষা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
এনএসআই কার্যালয়

বরিশালে নির্মিত হচ্ছে এনএসআই’র আধুনিক কার্যালয়

মোরেলগঞ্জ থানা

মোরেলগঞ্জে বিএনপি কর্মী মিন্টু শেখকে কুপিয়ে হত্যা, হাত কেটে নেওয়ার অভিযোগ

সুদের টাকা না পেয়ে কোলের বাচ্চাকে নিয়ে গেলো ‘সুদ কারবারি’

শরীয়তপুরে সুদের টাকা আদায়ে ছয় মাসের শিশুকে অপহরণ, র‍্যাব-পুলিশের অভিযানে উদ্ধার

ফরিদপুরে সোনালী ব্যাংক কোর্ট  শাখার ম্যানেজার ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারীতা, ক্ষমতার অপব্যবহার
সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সোনালী ব্যাংক  পিএলসি এর ফরিদপুর কোর্ট বিল্ডিং শাখার ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়, ঢাকা এবং ফরিদপুর জেনারেল ম্যানেজার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্দেশনার পরও একটি সমবায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনায় দীর্ঘ সময় ধরে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পূর্ববর্তী কমিটির দায়িত্বকালীন হিসাব পরিচালনা বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও শাখা কর্তৃপক্ষ নানা অজুহাতে কার্যক্রমে অসহযোগিতা করে আসছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, ব্যাংকের আইন বিভাগের পরামর্শকের নির্দেশনা অনুসরণ না করে শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি মামলার বিবাদীপক্ষের সঙ্গে যোগসাজশে পক্ষপাতমূলক আচরণ করেছেন। এর ফলে প্রায় ছয় মাস ধরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত ব্যাংকিং সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। ভুক্তভোগী পক্ষের একজন প্রতিনিধি বলেন, “কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব পরিচালনা বন্ধ করতে হলে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশনা প্রয়োজন। কোনো কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সুপারিশের ভিত্তিতে হিসাব বন্ধ বা স্থগিত করা যায় না। কিন্তু শাখা ব্যবস্থাপক ফিরোজার রহমান একটি পক্ষের প্রভাবে আমাদের হয়রানি করেছেন এবং আদালতের নির্দেশনা কার্যকর করেননি।” তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে ফিরোজার রহমান বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে জেনেছি। ইতোমধ্যে আমি দুই পাতার লিখিত জবাব দাখিল করেছি। তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।” ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, অভিযোগের বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৮, ২০২৬ 0
বরিশালে ৪০ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

বরিশালে ভুল সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষতিগ্রস্ত অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী

ডিসি হতে ৮ কোটির ‘ডিল’, চসিক কর্মকর্তাকে শোকজ

কুমিল্লার ডিসি পদে ৮ কোটি টাকার চুক্তি! চসিক কর্মকর্তা সরওয়ার কামালকে শোকজ

সেলিনা বেগম

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম সাময়িক বরখাস্ত

সিআইডি
অনলাইন জুয়ার ১১৬ ওয়েবসাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করে সেগুলো বন্ধের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কাছে তালিকা পাঠিয়েছে সংস্থাটি। রোববার (১৭ মে) সিআইডি সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “গত ১ মে থেকে ১৭ মে পর্যন্ত পরিচালিত সাইবার পেট্রোলিং কার্যক্রমে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১১৬টি ওয়েবসাইট শনাক্ত করা হয়েছে। সেগুলো ডাউন বা বন্ধ করার জন্য বিটিআরসিতে প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠানো হয়েছে।” এসময় অনলাইন জুয়ার সাইট পরিচালনার মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে একটি চক্রের আট সদস্যকে গ্রেফতারের তথ্যও তুলে ধরা হয়। সিআইডি জানায়, অনলাইন জুয়া ও সংশ্লিষ্ট অবৈধ আর্থিক কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত সাইবার মনিটরিং চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে অপরাধচক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত, আর্থিক লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে পরিচালিত জুয়ার নেটওয়ার্ক ও অর্থ পাচারের প্রবণতা মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের টাকায় ‘জিএমের রাজকীয় অন্দরমহল’: অগ্রণী ব্যাংকে নীতিমালা ভেঙে বিলাসবহুল আবাসনের অভিযোগ

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি

অগ্রণী ব্যাংক ভোলা জোনে দুর্নীতির অভিযোগ: অনিয়ম ধরায় বদলি, পদোন্নতি পেলেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা

ইভা গ্রেফতার

বরিশালে ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল চক্র : আইনজীবীর মামলায় ইভা গ্রেফতার

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0