পশ্চিম আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়া-এর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় জামফারা রাজ্য-এর বুক্কুয়ুম এলাকার তুঙ্গান দুতসে গ্রামে রাতভর চালানো সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে করে এসে বাড়িঘরে আগুন দেয় এবং বহু নারী ও শিশুকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
আইনপ্রণেতা হামিসু এ. ফারু রয়টার্সকে দেওয়া ফোন সাক্ষাৎকারে জানান, হামলা শুরু হয় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এবং শুক্রবার সকাল পর্যন্ত চলে। তিনি বলেন, “বুক্কুয়ুম এলাকায় হামলাকারীরা এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে।”
ফারু জানান, অপহৃতদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন নিখোঁজদের তালিকা প্রস্তুত করছে। ধারণা করা হচ্ছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
গ্রামবাসীদের অভিযোগ, হামলার আগে সতর্কতার স্পষ্ট লক্ষণ ছিল। ৪১ বছর বয়সী বাসিন্দা আব্দুল্লাহি সানি জানান, হামলার আগের দিনই ১৫০টিরও বেশি মোটরসাইকেলে করে সশস্ত্র লোকজনকে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। বিষয়টি নিরাপত্তা বাহিনীকে জানানো হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, “কেউ ঘুমায়নি; আমরা সবাই যন্ত্রণায় আছি।” এই হামলায় তার পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন।
নাইজেরিয়া-এর উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র অপরাধী গোষ্ঠী, ডাকাত ও বিদ্রোহীদের তৎপরতা চলছে। এসব গোষ্ঠী প্রায়শই গ্রামাঞ্চলে হামলা চালিয়ে গণহত্যা, অগ্নিসংযোগ ও অপহরণের ঘটনা ঘটায়।
গত সপ্তাহেই নাইজার রাজ্য-এর বোর্গু এলাকায় পৃথক অভিযানে অন্তত ৪৬ জন নিহত হন। সবচেয়ে ভয়াবহ হামলাটি ঘটে কঙ্কোসো গ্রামে, যেখানে অন্তত ৩৮ জনকে গুলি করে বা গলা কেটে হত্যা করা হয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নারী ও শিশুদের অপহরণ করে পরবর্তীতে মুক্তিপণ আদায় করা এসব গোষ্ঠীর অন্যতম কৌশল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জামফারা রাজ্যে এ ধরনের হামলা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
এখনো পর্যন্ত হামলাকারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় অভিযান শুরু করেছে বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, আগাম সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দ্রুত বদলে যাচ্ছে শক্তির ভারসাম্য। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কৌশলগত মিত্র সৌদি আরব স্পষ্ট করে দিয়েছে—স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে না রিয়াদ। ফিলিস্তিন প্রশ্নে সৌদি আরব তাদের পুরোনো অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসেনি। বরং চলমান আঞ্চলিক অস্থিরতা, ইরান ইস্যু এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমে যাওয়ার বাস্তবতায় রিয়াদ এখন আরও সতর্ক ও কৌশলী অবস্থান নিয়েছে। ট্রাম্পের আহ্বান, সৌদির ‘না’ সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা প্রশমিত হয়ে একটি বৃহৎ সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হলে মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি মুসলিম দেশ আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দিতে পারে। তবে সেই বক্তব্যের পরপরই সৌদি আরবের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় আসে। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘদিনের অন্যতম কূটনৈতিক লক্ষ্য ছিল সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে আনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বরে এক বৈঠকে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। জবাবে সৌদি যুবরাজ স্পষ্ট ভাষায় জানান, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি ছাড়া রিয়াদ কোনো চুক্তিতে যাবে না। সৌদি যুবরাজ ওই আলোচনাকে “গঠনমূলক” বলে উল্লেখ করলেও তিনি পরিষ্কার করেন, দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের রূপরেখা ছাড়া ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নই আসে না। পাকিস্তানের কড়া অবস্থান সৌদি আরবের পাশাপাশি পাকিস্তানও ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ সামা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, মুসলিম-প্রধান দেশগুলোকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যুক্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টা পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি বলেন, ১৯৬৭ সালের পূর্ববর্তী সীমান্ত অনুযায়ী পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত ইসলামাবাদ কখনোই ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে না। পাকিস্তান স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। এমনকি পাকিস্তানি পাসপোর্ট ব্যবহার করে ইসরায়েল ভ্রমণও আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে হিসাব আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাত ও তার অর্থনৈতিক-নিরাপত্তাগত প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নতুন বাস্তবতায় ঠেলে দিয়েছে। যুদ্ধের ধাক্কায় উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলো বুঝতে পেরেছে, যুক্তরাষ্ট্র সবসময় তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে প্রস্তুত নয়। বরং সংকটকালে ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার ইসরায়েলকেই রক্ষা করা। লন্ডনের কিংস কলেজের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিয়েগ বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল বিনিয়োগ করলেও ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় ওয়াশিংটনের আচরণ তাদের হতবাক করেছে। তার ভাষায়, “আমরা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের শেষ সময় দেখছি। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।” নতুন শান্তি উদ্যোগে মুসলিম বিশ্বের ঐক্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও নতুন সমঝোতার রূপরেখা তৈরিতে পাকিস্তান ও কাতার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তান, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতারা ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো—মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো প্রথমবারের মতো সমন্বিতভাবে ইসরায়েলের কঠোর অবস্থানের বাইরে গিয়ে একটি আঞ্চলিক শান্তি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছে। টাইমস অব ইসরায়েল–এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়, “ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হিসেবে ইরান যুদ্ধ শুরু করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সাইডলাইনে বসে যুদ্ধের সমাপ্তি দেখছে।” আব্রাহাম অ্যাকর্ডস এখন চাপের মুখে ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যস্থতায় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইনসহ কয়েকটি আরব দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে। এই উদ্যোগই ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ নামে পরিচিত। তবে বর্তমান বাস্তবতায় নতুন কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে পড়ছে। সূত্র বলছে, সম্প্রতি ট্রাম্প যখন আরও দেশকে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান, তখন অংশগ্রহণকারী নেতাদের অনেকেই নীরব থাকেন। বিশ্লেষকদের মতে, গাজা সংকট, ইরান যুদ্ধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা অনিশ্চয়তার কারণে এখন আরব বিশ্বে ফিলিস্তিন প্রশ্নকে পাশ কাটিয়ে কোনো কূটনৈতিক সমীকরণ দাঁড় করানো কঠিন হয়ে পড়েছে। ‘মুসলিম ন্যাটো’ বনাম নতুন জোট রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আঞ্চলিক জোট গঠনের আলোচনা ইতোমধ্যে কূটনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। সৌদি আরব ও পাকিস্তানকে কেন্দ্র করে একটি নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরির আলোচনা চলছে, যেখানে তুরস্ক, কাতার ও মিসরকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ একে “মুসলিম ন্যাটো” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ভারত, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে গড়ে উঠছে আরেকটি কৌশলগত জোট, যা ‘I2U2’ নামে পরিচিত। লন্ডনের রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ার মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এখন বুঝতে পারছে—তেহরানে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা পুরো অঞ্চলকে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তার মতে, “উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এমন এক বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে সবচেয়ে প্রয়োজনের সময় যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তাদের পাশে নাও থাকতে পারে।” বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি শুধু ইসরায়েল-ফিলিস্তিন প্রশ্ন নয়; বরং এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমছে, অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে। তবে একটি বিষয় এখনো অপরিবর্তিত—ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে সৌদি আরব ও পাকিস্তানের অবস্থান। আর এই অবস্থানই আগামী দিনের মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোতে বিশেষ সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করছে বলে একাধিক আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতে দেখা যায়, তেল ডিপো ও জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর লোহার খাঁচা সদৃশ ধাতব কাঠামো বসানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য ড্রোন হামলা মোকাবিলার লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যদিও আমিরাত সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এসব কাঠামোর উদ্দেশ্য নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত স্বল্প উচ্চতায় পরিচালিত ছোট আকারের ড্রোন হামলা প্রতিহত করার প্রতিরক্ষামূলক কৌশল হতে পারে। তেল স্থাপনায় বাড়তি সতর্কতা কেন? গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর অঞ্চলজুড়ে জ্বালানি স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি ও কৌশলগত অবকাঠামোকে ঘিরে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা বাড়তে থাকে। এর জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো বিশেষ করে তেল রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির রাষ্ট্রগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়ন শুরু করে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইর মোট জিডিপির একটি বড় অংশ তেল ও গ্যাস খাতনির্ভর। ফলে তেল ডিপো, রিফাইনারি ও রপ্তানি টার্মিনালের ওপর যেকোনো হামলা দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা তৈরি করতে পারে। সাম্প্রতিক ভাইরাল ছবিগুলো সেই উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধের আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা এদিকে চলমান মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরোক্ষ সংলাপে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ প্রশ্নে এখনো গভীর মতবিরোধ রয়ে গেছে। এই সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় সামনে এসেছে পাকিস্তান। ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২২ মে) তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi-এর সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Syed Mohsin Naqvi। সেখানে যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাব্য রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ বার্তা ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান মূলত দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথ তৈরির চেষ্টা করছে। হরমুজ প্রণালি: সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু মার্কিন প্রশাসনের ভাষ্যমতে, আলোচনায় কিছু “আশাব্যঞ্জক সংকেত” মিললেও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, ইরান যদি এই আন্তর্জাতিক নৌপথে নিজস্ব শুল্ক বা টোল ব্যবস্থা চাপিয়ে দিতে চায়, তাহলে স্থায়ী সমাধান অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়। এর ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ চেইনে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, উভয় পক্ষের অবস্থানের দূরত্ব আগের তুলনায় কমেছে। তবে ইউরেনিয়াম মজুত ও সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম এবং হরমুজে অবাধ নৌচলাচলের প্রশ্ন এখনো সবচেয়ে স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বাড়ছে চাপ বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই নৌপথে অস্থিতিশীলতা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দ্রুত বাড়ছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র হতে পারে। ইতোমধ্যে বিনিয়োগকারীদের অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে মার্কিন ডলারের মূল্য গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্য প্রবাহ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত বহন করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ঈদুল আজহার আগে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কেনাবেচা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। বিজেপি সরকারের নতুন পশু জবাই নির্দেশিকাকে কেন্দ্র করে মুসলিম ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা, আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে হিন্দু খামারি ও গরু ব্যবসায়ীদের ওপর। একই সময়ে ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণাও রাজ্যের রাজনৈতিক আবহকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন পশুর হাটে সাধারণত যে বেচাকেনার চাপ দেখা যায়, এবার তার উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, নতুন আইনি বিধিনিষেধ এবং প্রশাসনিক নজরদারির কারণে মুসলিম ক্রেতারা গরু কিনতে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে কোটি টাকার বাজারে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জারি করা ‘পশু জবাই সংক্রান্ত নির্দেশিকা’ অনুযায়ী, সরকারি অনুমতি ও সরকারি পশু চিকিৎসকের ফিটনেস সনদ ছাড়া গরু, ষাঁড়, বলদ, বাছুর কিংবা স্ত্রী-পুরুষ মহিষ জবাই করা যাবে না। নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, কোনো পশুকে জবাইয়ের উপযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে হলে তার বয়স অন্তত ১৪ বছর হতে হবে এবং সেটি প্রজনন বা শ্রমের কাজে অক্ষম হতে হবে। গুরুতর আঘাত, স্থায়ী বিকলাঙ্গতা বা অনিরাময়যোগ্য রোগে আক্রান্ত পশুর ক্ষেত্রেও বিশেষ অনুমতির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া শুধুমাত্র অনুমোদিত কসাইখানা বা প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে পশু জবাইয়ের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। প্রকাশ্যে বা জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় পশু জবাই করলে তা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ঈদের বাজারে অনিশ্চয়তা মুর্শিদাবাদ, মালদহ, নদীয়া এবং উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিপুল অঙ্কের গরু ব্যবসা হয়। স্থানীয় হিন্দু খামারিদের বড় একটি অংশ এই মৌসুমি বিক্রির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এবার ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সী গবাদিপশু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হওয়ায় ক্রেতারা হাটে আসলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধায় পড়ছেন। পুলিশের হয়রানি বা আইনি জটিলতার আশঙ্কাও অনেকের মধ্যে কাজ করছে। ফলে অনেকে গরুর বদলে ছাগল বা ভেড়ার দিকে ঝুঁকছেন। এতে বড় আকারের গরু খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একাধিক খামারি জানিয়েছেন, বছরজুড়ে গরু লালন-পালনের পর ঈদের বাজার থেকেই তারা মূল বিনিয়োগ ফেরত পান। কিন্তু এবার বিক্রি না হলে ঋণের চাপ সামলানো কঠিন হয়ে পড়বে। সরকারের অবস্থান কী? সোমবার নবান্নে মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুরো বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছেন এবং খুব দ্রুত একটি “সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা” ঘোষণা করা হতে পারে। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের মুখ্যমন্ত্রী বিষয়টা নিজে দেখছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় খুব তাড়াতাড়ি কোনও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।” যদিও সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো শিথিলতার ঘোষণা দেয়নি, তবে রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে—ঈদ, আদালতের গাইডলাইন এবং জনমতের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে মধ্যপন্থী সমাধানের চেষ্টা করা হতে পারে। ধর্মীয় স্বাধীনতা বনাম প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নতুন বিধিনিষেধকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, কোরবানির মতো ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হলে তা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়াবে। একই সঙ্গে ক্ষুদ্র খামারি ও পশু ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ক্ষতিও গভীর হবে। অন্যদিকে বিজেপির বক্তব্য, এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ পশু জবাই ও প্রকাশ্যে কসাই কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে আনতেই নেওয়া হয়েছে। দলটি দীর্ঘদিন ধরে গবাদিপশু সংরক্ষণ ও “আইনসম্মত জবাই ব্যবস্থার” পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধের ঘোষণা পশু জবাই নির্দেশিকার বিতর্কের মধ্যেই রাজ্য সরকার ধর্মভিত্তিক বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তামূলক প্রকল্প বন্ধের ঘোষণাও দিয়েছে। মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী ১ জুন থেকে ইমাম, মুয়াজ্জিন ও পুরোহিতদের জন্য চালু থাকা ভাতা প্রকল্পগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রকল্পগুলো পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে একইসঙ্গে সরকার “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার” প্রকল্পকে পুনর্গঠন করে “অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার” নামে চালুর ঘোষণা দিয়েছে। আগের সুবিধাভোগীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত হবেন বলেও জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি প্রশাসনিক সংস্কার? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই বিজেপির এই ধারাবাহিক সিদ্ধান্তগুলো মূলত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। ধর্মভিত্তিক ভাতা বন্ধ, পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক নজরদারি জোরদারের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে নতুন সরকার তাদের ভোটারদের কাছে একটি শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইছে। তবে এর বাস্তব অর্থনৈতিক প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের ওপর—বিশেষ করে ঈদুল আজহার বাজার পরিস্থিতি এবং সরকারের সম্ভাব্য নতুন ঘোষণার ওপর।