ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাউকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে পরীক্ষার সময় সংঘটিত এক সহিংস হামলার ঘটনায় উঠে এসেছে চাঁদাবাজি, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন। নারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে লাঞ্ছনা ও মারধরের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি জাতীয়ভাবে আলোচনায় আসে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল), স্নাতক (ডিগ্রি) পরীক্ষার সময় কলেজে ১৪৪ ধারা জারি থাকলেও দুপুরে ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষকরা বলছেন, তারা নিজেদের স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচয় দেন এবং অধ্যক্ষের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি করেন।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা অশালীন ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং এক পর্যায়ে শারীরিকভাবে আক্রমণ চালায়।
ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত অংশটি হলো শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরার ওপর হামলা। তিনি জানান, অধ্যক্ষকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হলে তিনি প্রতিবাদ করেন। এর জেরে এক হামলাকারী তাকে উদ্দেশ্য করে অশোভন মন্তব্য করলে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অত্যন্ত সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি স্যান্ডেল খুলে শিক্ষককে মারধর করেন। পরে তাকে চুল ধরে টেনে কক্ষের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় এবং আরও দুটি দাঁত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
অধ্যক্ষকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এ ঘটনা আকস্মিক নয়—বরং দীর্ঘদিনের চাঁদাবাজির চাপের ফল।
অধ্যক্ষের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন পক্ষ তার কাছে নিয়মিত অর্থ দাবি করে আসছিল। তিনি তা প্রত্যাখ্যান করায় বিরোধের সূত্রপাত হয়। শিক্ষক আলেয়া খাতুনের ভাষ্য অনুযায়ী, “হিসাব চাওয়ার নামে মূলত চাঁদাই দাবি করা হতো।”
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, অবসরপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা—যিনি এলাকায় ‘সামাদ দারোগা’ নামে পরিচিত—এই প্রভাববলয়ের কেন্দ্রে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ রয়েছে।
হামলায় জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তি ঘটনার আংশিক দায় স্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে কলেজে গিয়েছিলেন এবং তর্কের এক পর্যায়ে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে’ মারধর করেন।
তবে এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক। তার দাবি, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল এবং উদ্দেশ্য ছিল ভয় দেখিয়ে ভবিষ্যতে অর্থ আদায় নিশ্চিত করা।
ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল এক নেতাকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়। তবে মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, স্থানীয় কিছু নেতা সংবাদ সম্মেলন করে দাবি করেছেন, ঘটনাটি “ভুলভাবে উপস্থাপন” করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কলেজে স্বাভাবিকভাবেই প্রবেশ করেছিলেন এবং পরিস্থিতির অবনতি ঘটে শিক্ষিকার আচরণের কারণে।
তারা অধ্যক্ষ ও শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটামও দিয়েছেন।
ঘটনার সময় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং পুলিশ উপস্থিত ছিল বলে জানা গেছে। তবুও কীভাবে হামলাকারীরা ক্যাম্পাসে ঢুকে দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালাতে পারল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষকরা।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন।
এই ঘটনা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার উদাহরণ নয়—এটি স্থানীয় ক্ষমতার কাঠামো, রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তাহীনতার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও এ ধরনের প্রকাশ্য সহিংসতা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়।
এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। তবে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এই তিনটি বিষয়ই এখন মূল চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে এসেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
বরিশালে ভুল সিলেবাসে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ, ক্ষোভে শিক্ষার্থী-অভিভাবক ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের রূপাতলী সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের বহুনির্বাচনি পরীক্ষায় ভুল সিলেবাসের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত পরীক্ষাকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে আসে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য সরকার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস নির্ধারণ করেছিল। কারণ, তারা শুধুমাত্র দশম শ্রেণিতে এক বছর অধ্যয়ন করেই পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালের শিক্ষার্থীরা পূর্ণ দুই বছর সময় পেয়ে সম্পূর্ণ বই থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। অভিযোগ উঠেছে, ওই কেন্দ্রে ২০২৬ সালের পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২৫ সালের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস অনুসারে ব্যবসায় উদ্যোগ বিষয়ের বহুনির্বাচনি প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয়। ফলে পরীক্ষার্থীদের এমনসব অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে, যা তাদের নির্ধারিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। “পরীক্ষার হলে জানিয়েও সমাধান মেলেনি” একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে, পরীক্ষা শুরুর পরই তারা প্রশ্নপত্রে অসামঞ্জস্য দেখতে পেয়ে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাদের। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তার সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে বলেন, “২০২৫ ও ২০২৬ সালের সিলেবাস একই, শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যা হবে না।” তবে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বাস্তবে দুই বছরের পূর্ণাঙ্গ সিলেবাস এবং এক বছরের সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এক নয়। ফলে পরীক্ষার্থীরা প্রস্তুতির বাইরে থাকা প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। একজন অভিভাবক বলেন, “আমার সন্তান বাড়ি ফিরে কান্না করেছে। যে অধ্যায়গুলো তাদের পড়ানো হয়নি, সেখান থেকেই প্রশ্ন এসেছে।” আরেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলে, “আমরা পরীক্ষা শুরুর পরই বিষয়টি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের কথা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।” “ফলাফলে বিশেষ বিবেচনা” দাবি ঘটনার পর ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের ফলাফল মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ বিবেচনা চেয়েছেন তারা। তাদের অভিযোগ, ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ পরীক্ষা শুরুর আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশ্নপত্র যাচাই করার কথা ছিল। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এটি শুধু প্রশাসনিক অবহেলাই নয়, বরং পরীক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও বড় প্রশ্ন তৈরি করবে। কেন্দ্র সচিবকে ঘিরে পুরোনো বিতর্কও সামনে এ ঘটনার পর কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তারকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে পুরোনো কয়েকটি বিতর্কও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিষয়ে একক সিদ্ধান্ত নিয়ে আসছেন। তার প্রভাবের পেছনে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা শাহজাহান ওমরের আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। আরও অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে ফেলা হলেও বিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে শেখ মুজিবের ছবি ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত টাঙিয়ে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সংশ্লিষ্ট কয়েকজন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের সমর্থনে এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছিল। পরে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর ছবিগুলো সরিয়ে ফেলা হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব মর্জিনা আক্তারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দাবি বাড়ছে ঘটনাটি নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকদের প্রশ্ন, যদি সত্যিই ভুল সিলেবাসে প্রশ্নপত্র সরবরাহ হয়ে থাকে, তাহলে দায় কার — কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, প্রশ্ন প্রণয়ন কমিটি, নাকি শিক্ষা বোর্ড? এদিকে শিক্ষার্থীদের একাংশ আশঙ্কা করছে, ভুল প্রশ্নপত্রের কারণে তাদের ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। শিক্ষাবিদদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় শিক্ষা বোর্ডকে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
বরিশাল নগরীর জেলখানার মোড়ে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র নিজস্ব ভবনের পঞ্চম তলায় তৈরি করা হয়েছে একটি বিলাসবহুল ব্যক্তিগত আবাসন। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকের অর্থ ব্যয় করে এবং বিদ্যমান নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই এই আবাসন গড়ে তুলেছেন বরিশাল সার্কেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) স্বপন কুমার ধর। ব্যাংক সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, ভবনের একটি বড় অংশজুড়ে নির্মিত এই আবাসনটি কার্যত একটি ব্যক্তিগত ‘ফ্ল্যাট’-এর আদলে সাজানো হয়েছে। সেখানে রয়েছে আধুনিক আসবাব, অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং ব্যক্তিগত বসবাস উপযোগী নানা সুবিধা—যার পুরো ব্যয় বহন করা হয়েছে ব্যাংকের তহবিল থেকে। ঘটনাটি সামনে আসার পর ব্যাংকিং খাতের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন একটি ব্যাংকের দাপ্তরিক অবকাঠামো কীভাবে একজন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রূপান্তর করা হলো? নীতিমালার বাইরে নির্মাণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে কর্মকর্তাদের আবাসন সুবিধা নির্ধারণে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। সাধারণত কর্মকর্তাদের পদের ভিত্তিতে বাড়িভাতা প্রদান করা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনুমোদিত আবাসিক কোয়ার্টার থাকলেও, সেগুলো পূর্বনির্ধারিত নকশা ও প্রশাসনিক অনুমোদনের আওতায় পরিচালিত হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালের এই ভবনের পঞ্চম তলার আবাসনটি মূল নকশার অংশ ছিল না। অভিযোগ রয়েছে, যথাযথ প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই অফিস ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত জায়গা ব্যক্তিগত আবাসনে রূপান্তর করা হয়েছে। ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এ ধরনের কাজের জন্য পরিচালনা পর্ষদ বা প্রধান কার্যালয়ের স্পষ্ট অনুমোদন প্রয়োজন। কিন্তু এখানে পুরো প্রক্রিয়াটি অস্বচ্ছভাবে সম্পন্ন হয়েছে।” রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যবহারের প্রশ্ন ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনগণের আমানতের অর্থ দিয়ে পরিচালিত একটি রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে এ ধরনের ব্যয় শুধু আর্থিক অনিয়ম নয়, বরং নৈতিকতার প্রশ্নও তৈরি করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ভবনের সংস্কার, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আবাসন উপযোগী অবকাঠামো তৈরিতে ব্যাংকের তহবিল ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যয়ের পরিমাণ প্রকাশ করা হয়নি। একজন সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, “রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের অর্থ ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার করা হলে সেটি ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ও জবাবদিহি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” ‘অডিট এড়িয়ে’ কাজ সম্পন্নের অভিযোগ তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, সংস্কার কাজটি এমনভাবে সম্পন্ন করা হয় যাতে নিয়মিত অডিট বা তদারকিতে বিষয়টি সহজে ধরা না পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে বা প্রশাসনিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে পুরো কাজটি সম্পন্ন করা হয়েছে। এদিকে, গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও চাপা অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন—যেখানে খেলাপি ঋণ, ব্যাংক খাতের অনিয়ম এবং আমানতকারীদের আস্থার সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা কীভাবে এমন বিতর্কিত সুবিধা ভোগ করতে পারেন? তদন্তের দাবি ব্যাংকিং বিশ্লেষকরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি, যদি অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন পর্যায়ের নজরে এসেছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে সভাপতি ও সম্পাদকসহ ১৪টির মধ্যে ১৩টি পদে জয় পেয়েছে বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী প্যানেল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে নির্বাচনের ফল ঘোষণা করেন নির্বাচন সাব-কমিটির আহ্বায়ক বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, সভাপতি পদে বিএনপি সমর্থিত নীল প্যানেলের প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ২ হাজার ৯৮৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৭৭৮ ভোট। সম্পাদক পদে একই প্যানেলের মোহাম্মদ আলী ২ হাজার ৫৮২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী সবুজ প্যানেলের এ কে এম রেজাউল করিম খন্দকার পেয়েছেন ৭৮৬ ভোট। দুই দিনব্যাপী এ নির্বাচনে মোট ৪ হাজার ৪৮টি ভোট পড়েছে। ১৩ ও ১৪ মে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির অডিটোরিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি ছিল। নির্বাচনে দুটি সহসভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন মো. মাগফুর রহমান শেখ ও মো. শাহজাহান। কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সহসম্পাদক পদে জয় পেয়েছেন মাকসুদ উল্লাহ ও মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম মুকুল। সদস্য পদে বিজয়ী হয়েছেন এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী, এ কে এম আজাদ হোসেন, মো. কবির হোসেন, মো. টিপু সুলতান, মো. জিয়া উদ্দিন মিয়া ও ওয়াহিদ আফরোজ চৌধুরী। অন্যদিকে, সাতটি সদস্য পদের মধ্যে একটিতে জয় পেয়েছে জামায়াত সমর্থিত প্যানেল। ওই পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। এ নির্বাচনের ফলাফলকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী অঙ্গনে বিএনপি সমর্থিত আইনজীবীদের শক্ত অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।