Brand logo light
বাংলাদেশ

রিফাত হত্যা মামলার সাত বছর: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির কারাজীবন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরগুনার বহুল আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার সাত বছর পূর্ণ হয়েছে। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্যে সংঘটিত হামলায় গুরুতর আহত হন রিফাত শরীফ। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দেশজুড়ে তীব্র আলোচনার জন্ম দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পায়।

মামলার বিচারিক রায় ঘোষিত হলেও ঘটনাটি ঘিরে বিতর্ক পুরোপুরি থামেনি। বিশেষ করে রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির ভূমিকা, তদন্তের নিরপেক্ষতা এবং মামলার আলামত নিয়ে এখনও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও ভিন্নমত রয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির বর্তমান অবস্থা

২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের মামলায় আদালত আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। বর্তমানে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কনডেম সেলে রয়েছেন।

কারা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি হিসেবে মিন্নি কারাগারের নিয়ম মেনে শান্ত ও নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন করছেন। অধিকাংশ সময় তিনি একাকী থাকেন এবং ধর্মীয় অনুশীলনে সময় কাটান। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সাক্ষাৎ করতে এলে কেবল তখনই তাদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বলেন।

কারা সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথমে তাকে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হলেও পরবর্তীতে বিচারিক কার্যক্রম এবং স্বজনদের সাক্ষাতের সুবিধা বিবেচনায় নিয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।

যেভাবে এগিয়েছিল তদন্ত

মামলার নথি অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পরদিন রিফাতের বাবা আব্দুল হালিম দুলাল শরীফ বরগুনা সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথম এজাহারে ১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ দাবি করে, হত্যার পরিকল্পনায় মিন্নির সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে মোট ২৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের বিচার পৃথকভাবে সম্পন্ন হয়। একই বছরের ২৭ অক্টোবর শিশু আদালত অপ্রাপ্তবয়স্ক কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা ঘোষণা করেন।

পরিবারের পাল্টা দাবি

মামলার শুরু থেকেই মিন্নির পরিবার তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তার মেয়ে স্বামীকে রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন। তার অভিযোগ, তদন্তে প্রকৃত ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন ঘটেনি এবং প্রভাবশালী একটি মহলের স্বার্থ রক্ষার জন্য মিন্নিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

পরিবারের আরও দাবি, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত এবং সিসিটিভি ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি। তাদের মতে, তদন্তে একাধিক অসঙ্গতি ছিল, যা বিচার প্রক্রিয়াকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য বা আদালতের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

সাত বছর পরও কেন আলোচনায়?

রিফাত শরীফ হত্যা মামলা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর একটি। প্রকাশ্য দিবালোকে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ভিডিও, পরবর্তী তদন্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার, বিচার এবং রায়—সব মিলিয়ে মামলাটি দীর্ঘ সময় জনমনে আলোচনায় ছিল।

যদিও আদালতের রায় ঘোষিত হয়েছে, তবুও তদন্তের নিরপেক্ষতা, আলামত সংরক্ষণ এবং মিন্নির সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের ভিন্নমত এখনও পুরোপুরি থামেনি।

ফলে সাত বছর পরও বরগুনার এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি বিচারিক মামলা নয়; বরং বাংলাদেশের আলোচিত অপরাধ তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে জনপরিসরের অন্যতম বিতর্কিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবেই রয়ে গেছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত সেমিনারে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নাকি পরিবর্তনের ধারা নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিশ্বায়ন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের যুগে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয় কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে? বিদেশি সংস্কৃতির প্রভাব কি কেবল বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে, নাকি ধীরে ধীরে দুর্বল করে দিচ্ছে দেশের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ? এমন প্রশ্নকে সামনে রেখেই "সুস্থ সংস্কৃতি, বিনোদন চর্চা ও জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ" শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং বিএফইউজের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শাহজাহান সাজু। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির। সংস্কৃতি শুধু বিনোদন নয়, জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়-  সংস্কৃতি একটি জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। ভাষা, সাহিত্য, শিল্প, সংগীত, লোকজ ঐতিহ্য, ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধ, আচার-অনুষ্ঠান এবং জীবনযাপন পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি জাতির সংস্কৃতি গড়ে ওঠে। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে তথ্যপ্রযুক্তির অভূতপূর্ব বিস্তার মানুষের জ্ঞান ও চিন্তার পরিধি যেমন বৃদ্ধি করেছে, তেমনি সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও মূল্যবোধের সংকটও সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশের মতো ঐতিহ্যবাহী সমাজে সুস্থ সংস্কৃতি চর্চা, বিনোদনের ইতিবাচক পরিবেশ এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি। সাংস্কৃতিক আগ্রাসন: পরিবর্তন নাকি পরিচয়ের সংকট? ১. সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের প্রভাব বিশ্লেষণ, জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও বিকাশ, তরুণ প্রজন্মের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ সৃষ্টি: সাংস্কৃতিক আগ্রাসন বলতে এমন এক প্রক্রিয়াকে বোঝায় যার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি অন্য সংস্কৃতির উপর প্রভাব বিস্তার করে এবং ধীরে ধীরে স্থানীয় সংস্কৃতিকে দুর্বল করে দেয়। বর্তমানে স্যাটেলাইট টেলিভিশন, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বৈশ্বিক বিনোদন শিল্পের মাধ্যমে এই প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিদেশি সংস্কৃতির বিভিন্ন উপাদান দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এতে ইতিবাচক কিছু দিক থাকলেও অন্ধ অনুকরণ অনেক ক্ষেত্রে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দুর্বল করছে। বাংলা ভাষার ব্যবহার কমে যাওয়া, লোকজ সংস্কৃতির প্রতি অনাগ্রহ, পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং ভোগবাদী মানসিকতার বিস্তার এর অন্যতম প্রভাব। জাতীয় সংস্কৃতি সংরক্ষণের জন্য আমাদের লোকসংগীত, বাউলগান, ভাটিয়ালি, জারি-সারি, পালাগান, লোকনাটা, পহেলা বৈশাখ, নবান্ন উৎসবসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমকে একযোগে কাজ করতে হবে। তরুণদের জন্য ইতিবাচক সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে সাহিত্যচর্চা, নাট্যচর্চা, সংগীত শিক্ষা, বিতর্ক, বইপাঠ এবং সৃজনশীল কর্মকান্ডের সুযোগ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। কারণ সংস্কৃতি শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এটি ব্যক্তিত্ব গঠন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেরও অন্যতম হাতিয়ার। তরুণ প্রজন্মের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ? ২. সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও জাতীয় পরিচয়: ক. বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক প্রবাহ: বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবী আজ একটি বৈশ্বিক গ্রামে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ভাষা ও জীবনধারা সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। এটি জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করলেও স্থানীয় সংস্কৃতির জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। খ. স্থানীয় সংস্কৃতির চ্যালেঞ্জ: বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতি, গ্রামীণ ঐতিহ্য এবং নিজস্ব জীবনবোধ ক্রমশ নগরায়ণ ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির চাপে সংকুচিত হচ্ছে। অনেক তরুণ নিজের সংস্কৃতির চেয়ে বিদেশি সংস্কৃতিকে বেশি আকর্ষণীয় মনে করছে। ফলে জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম: সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও গ. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব: ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মানুষের চিন্তা, রুচি ও আচরণে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। ইতিবাচক তথ্য ও শিক্ষামূলক কনটেন্টের পাশাপাশি অশালীনতা, সহিংসতা, অসত্য তথ্য ও অসুস্থ বিনোদনের বিস্তারও ঘটছে। তাই ডিজিটাল সাক্ষরতা ও দায়িত্বশীল ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা ভাষা ও মূল্যবোধের প্রশ্ন ঘ. ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ: বাংলা ভাষা আমাদের জাতীয় পরিচয়ের প্রধান ভিত্তি। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে অর্জিত এই ঐতিহ্য রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। একইসঙ্গে পারিবারিক বন্ধন, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি শ্রদ্ধা, সামাজিক সহমর্মিতা, সততা ও মানবিকতা-এসব মূল্যবোধও জাতীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এগুলো সংরক্ষণ না করতে পারলে জাতীয় পরিচয়ও দুর্বল হয়ে পড়বে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের দায়িত্ব ৩. সুস্থ সংস্কৃতি ও বিনোদন চর্চার পরিবেশ: পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকা: একটি শিশুর সাংস্কৃতিক বিকাশের প্রথম প্রতিষ্ঠান পরিবার। পরিবারে বই পড়ার অভ্যাস, গান, কবিতা, গল্প এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চা থাকলে শিশু সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও সহশিক্ষা কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, নাটক, সংগীত ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ বাড়াতে হবে। গণমাধ্যম ও বিনোদন শিল্প: গণমাধ্যম সমাজের রুচি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই টেলিভিশন, রেডিও, চলচ্চিত্র, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও সংবাদমাধ্যমকে শিক্ষামূলক, নৈতিক ও দেশীয় সংস্কৃতিনির্ভর কনটেন্ট প্রচারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক বিকাশ: শিশু-কিশোরদের সৃজনশীলতা বিকাশে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড অপরিহার্য। তাদের জন্য মানসম্মত শিশুতোষ অনুষ্ঠান, নাটক, কার্টুন, সাহিত্য এবং সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণের সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। ইতিবাচক কনটেন্ট নির্মাণ: ডিজিটাল যুগে ইতিবাচক ও মূল্যবোধভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি। তরুণদের কাছে দেশপ্রেম, মানবিকতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ তুলে ধরতে হবে। জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ৪. জাতীয় ভাবধারা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বিকাশ: মুক্তিযুদ্ধের চেতনা: বাংলাদেশের জাতীয় ভাবধারার মূল ভিত্তি মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা, মানবমর্যাদা, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অসাম্প্রদায়িকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ: বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম ভিত্তি অসাম্প্রদায়িকতা। ধর্ম, বর্ণ ও মতের ভিন্নতা সত্ত্বেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ মানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা। সংস্কৃতি ও সামাজিক সম্প্রীতি: সংস্কৃতি মানুষকে একত্রিত করে। উৎসব, নাটক, সংগীত, সাহিত্য ও শিল্পচর্চা সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে এবং বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেয়।   রাষ্ট্রের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ? রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা: সাংস্কৃতিক বিকাশে রাষ্ট্রের ভূমিকা অত্যন্ত পুরুত্বপূর্ণ। সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ, শিল্পী-সাহিত্যিকদের সহায়তা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা এবং লোকজ ঐতিহ্য সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। উপসংহার: সুস্থ সংস্কৃতি, ইতিবাচক বিনোদন এবং জাতীয় ভাবধারাভিত্তিক গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক বিকাশ একটি উন্নত, মানবিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের পূর্বশর্ত। সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করে আমাদের নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধারণ করতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং রাষ্ট্রের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি সৃজনশীল, প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0

বরিশালে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন : ২২০ কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ

রিফাত হত্যা মামলার সাত বছর: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির কারাজীবন

মাদক ও সাইবার আইন সংশোধনে দুই বিল সংসদে

মাদক মামলায় বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, সাইবার আইন থেকে বাদ জুয়া

ফুলগাজীতে সিএনজি-পিকআপ সংঘর্ষ: মুহূর্তেই ঝরে গেল তিন প্রাণ, শোকের ছায়া পরিবারে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ফেনীর ফুলগাজী উপজেলায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাতে ফেনী-বিলোনিয়া আঞ্চলিক সড়কের ফুলগাজী উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং নিহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফেনী শহর থেকে যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ফুলগাজীর দিকে যাচ্ছিল। পথে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে চালকসহ পাঁচজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাঁদের ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মোহাম্মদ কাউছার (৩২) ও ওয়াহিদা আক্তার (২০)-কে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজনকে সংকটাপন্ন অবস্থায় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে পথেই মারা যান ওয়াহিদা আক্তারের মা জাকিয়া আক্তার (৪০)। নিহতরা কারা? নিহত মোহাম্মদ কাউছার ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার সদর ইউনিয়নের উত্তর দৌলতপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। নিহত ওয়াহিদা আক্তার ছাগলনাইয়া উপজেলার পশ্চিম পাঠাননগরের কাজীবাড়ি এলাকার ইতালি প্রবাসী কাজী হায়াতের স্ত্রী। অপর নিহত জাকিয়া আক্তার ফুলগাজী উপজেলার বাসিন্দা এবং সোহেল মজুমদারের স্ত্রী। 'অসুস্থ আত্মীয়কে দেখে ফেরার পথেই মৃত্যু' জাকিয়া আক্তারের ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান জানান, সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে অসুস্থ এক আত্মীয়কে দেখতে পাশের দৌলতপুর গ্রামে গিয়েছিলেন জাকিয়া আক্তার। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ঘটনাস্থলেই কার্যত পরিবারের সবকিছু বদলে যায়। তিনি বলেন, "একসঙ্গে মা ও মেয়ের মৃত্যু আমাদের পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।" হাসপাতালের বক্তব্য ফুলগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম কিবরিয়া বলেন, দুর্ঘটনার পর পাঁচজন আহতকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মারা যান। বাকি তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে নেওয়ার পথেই আরও একজনের মৃত্যু হয়। পুলিশের অবস্থান ফুলগাজী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মিজানুর রহমান বলেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশা ও পিকআপ জব্দ করা হয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো সামনে আসছে এই দুর্ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— পিকআপ ও অটোরিকশার মধ্যে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ কী? কোনো যানবাহন অতিরিক্ত গতিতে চলছিল কি না। সংশ্লিষ্ট সড়কে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না। চালকদের লাইসেন্স, ফিটনেস ও যানবাহনের কারিগরি অবস্থা তদন্তে উঠে আসে কি না। তদন্ত শেষে এসব প্রশ্নের উত্তর মিললে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0

বিএমইউতে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর আজীবন প্রফেসর ইমেরিটাস নিয়োগ বাতিল: বিধিবহির্ভূত নিয়োগ, আর্থিক সুবিধা ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ

জামালপুর-১ আসনের সাবেক এমপি নূর মোহাম্মদ গুলশান থেকে গ্রেফতার

পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ১৬ কোটি টাকা

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদের ১৩ সিন্দুকে রেকর্ড ১৫ কোটি ৯০ লাখ টাকা, মিলেছে স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাও

নির্মাণ শেষের ৬ মাস পরও হস্তান্তর হয়নি ভবন, কক্ষ সংকটে দুর্ভোগে রাজাপুরের ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু নির্মাণে একাধিক ত্রুটির অভিযোগে এখনো ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন ভবন তালাবদ্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাঠ নিচ্ছে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনের মাত্র তিনটি কক্ষে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র তিনটি কক্ষ। এর মধ্যে একটি কক্ষ অফিস হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও কক্ষ সংকটের কারণে সেখানে নিয়মিত ক্লাস নিতে হচ্ছে। বাকি দুই কক্ষে একসঙ্গে দুটি করে শ্রেণির পাঠদান চলছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। একজন শিক্ষক ক্লাস নেওয়ার সময় অন্য শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশন। পরে কাজটি হাতবদল হয়ে মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণ শেষ হলেও ভবনটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের কারণে কয়েকটি দরজা বেঁকে গেছে এবং দরজা খোলা-বন্ধেও সমস্যা হচ্ছে। এসব ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ভবন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ভবনে অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন ভবন নির্মিত হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো গাদাগাদি করে পুরোনো ভবনে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বাপ্পি কুণ্ডু। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে না নেওয়ায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকার কারণেই প্রধান শিক্ষক ভবন গ্রহণ করছেন না বলে তিনি জেনেছেন। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ভবন হস্তান্তরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন রয়ে গেছে একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবন শেষ হওয়ার ছয় মাস পরও কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না? নির্মাণে যদি ত্রুটি থেকেই থাকে, তবে কাজ চলাকালীন তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? আর যদি কাজ চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকার দায় কার? এদিকে প্রশাসনিক জটিলতার ভার বইতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, যাদের জন্য নির্মিত নতুন ভবন এখনো কেবল তালাবদ্ধ একটি অবকাঠামো।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0

বরিশালে কলেজছাত্রীর ওপর কিশোরী গ্যাংয়ের হামলা, টাকা ও মোবাইল লুটের অভিযোগ : কিশোরী গ্যাং নিয়ে নতুন প্রশ্ন

বেনাপোল কাস্টমসের দুই সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ও তিন সিপাই বরখাস্ত

বেনাপোল কাস্টমসে ত্রাণ ভাণ্ডারের নামে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন: ৫ কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত, কোটি টাকার মালামাল জব্দ

উদ্বোধনের আগেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবনির্মিত ১০তলা বিশিষ্ট ‘বিজয় ৭১’ হলের ভবনের বেশ কয়েকটি স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে

উদ্বোধনের আগেই ফাটল: রাবির ‘বিজয় ৭১’ হলে নিরাপত্তা শঙ্কা, আলোচনায় পুরোনো অনিয়ম

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0