Brand logo light
বাংলাদেশ

২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর কাঠামো পরিবর্তন: আয় না বাড়লেও কেন বেশি কর দিতে হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৪, ২০২৬ 0
২০২৬-২৭ অর্থবছর
২০২৬-২৭ অর্থবছর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে না বাড়িয়ে কর কাঠামোয় পরিবর্তন আনছে সরকার। নতুন স্ল্যাব ও করহার কার্যকর হলে আয় অপরিবর্তিত থাকলেও অধিকাংশ করদাতার করের পরিমাণ বাড়বে বলে বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর বেশি আয়ের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে কর প্রযোজ্য হবে—পরবর্তী ৩ লাখ টাকায় ১০ শতাংশ, এরপর ৪ লাখ টাকায় ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকায় ২০ শতাংশ, এরপর ২০ লাখ টাকায় ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের ওপর ৩০ শতাংশ কর ধার্য হবে।

আগের কাঠামোর তুলনায় কর স্ল্যাবের সংখ্যা সাত থেকে কমিয়ে ছয় করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্তরে করহার ৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ফলে নিম্ন-মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ পড়বে।

উদাহরণে বোঝা যায় পরিবর্তন

ধরা যাক, একজন ব্যক্তির বার্ষিক আয় ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা। নিয়ম অনুযায়ী, তার আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা ৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেটি করমুক্ত। এখানে এক-তৃতীয়াংশ আয় ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা হওয়ায় এই অংশ করমুক্ত ধরা হবে।

অর্থাৎ, তার করযোগ্য আয় দাঁড়ায় ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা। বিদ্যমান কাঠামোয় এই আয়ের ওপর কর দাঁড়ায় মোট ৮ হাজার টাকা (প্রথম সাড়ে ৪ লাখ টাকায় ৫%, পরবর্তী অংশে ১০%)।

কিন্তু নতুন কাঠামোতে করমুক্ত সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা হওয়ায় করযোগ্য আয় হবে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। এই অংশের ওপর ১০ শতাংশ কর প্রযোজ্য হওয়ায় মোট কর দাঁড়াবে ১০ হাজার ৫০০ টাকা—যা আগের তুলনায় আড়াই হাজার টাকা বেশি।

নতুন করদাতাদের জন্য কিছু ছাড়

নতুন করদাতাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রথমবার রিটার্ন জমা দিলে আয়ভেদে সর্বনিম্ন ১ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে কর পরিশোধের সুযোগ থাকবে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য করভীতি কমানো এবং করদাতা সংখ্যা বাড়ানো।

কেন করমুক্ত সীমা বাড়ানো হচ্ছে না

নীতিনির্ধারকদের মতে, করমুক্ত আয়সীমা বেশি বাড়ালে বিপুলসংখ্যক মানুষ করজালের বাইরে চলে যেতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে করসংস্কৃতি গঠনে বাধা সৃষ্টি করবে। এ কারণে বিদ্যমান সীমা বহাল রাখার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক পর্যায়েই নেওয়া হবে।

‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা

সারচার্জের পরিবর্তে ‘সম্পদ কর’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। দলিলমূল্যের বদলে জমির বাজারমূল্য বা মৌজা দরের ভিত্তিতে এই কর নির্ধারণ করা হবে। রাজধানীর অভিজাত এলাকা ও বিভাগীয় শহরের উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের আওতায় এনে রাজস্ব বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

নীতিনির্ধারকদের ধারণা, এতে কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা বাড়বে এবং সম্পদ বৈষম্য কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞ মত

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন স্ল্যাব ও করহার নির্ধারণের ফলে আয় না বাড়লেও হিসাবগত কারণে করের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। তবে সরকার চাইলে ভবিষ্যতে এই কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে পারে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
বরিশালের মুলাদীতে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই: পুলিশের ওপর হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামিকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং গ্রেফতার করা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল বাজার এলাকায়। পুলিশ জানায়, সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মোটরসাইকেলে থানায় নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামারপোল বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। এ সময় কামরুজ্জামান বাবু ও সুমন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল গ্রেফতারি কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ওই আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। ঘটনার পর একই রাতেই মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা আসামি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। পরে রাত ১টার দিকে আসামির স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ ফেরত দেয় বলে পুলিশ জানায়। তবে রাশেদুল ইসলাম সেতুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, “হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।” পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া স্থানীয়ভাবে নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি গত ২৩ জুন রাতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার ৫ নম্বর আসামি। ঘটনাটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পুলিশ বলছে, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0

নান্দাইল কলেজে পিয়নের প্রতারণার অভিযোগে দুই শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষা অনিশ্চিত, গেটে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ভুক্তভোগীরা

হানি ট্র্যাপ চক্রের সদস্য সাব্বির ও তার স্ত্রী মুমু

সোনারগাঁয়ে কলেজছাত্রীকে খালি বাসায় ডেকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ, চাঁদা দাবি ৫০ হাজার টাকা

এইচএসসি প্রথম দিনে ২৪,৭৮৪ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত, বহিষ্কার ৭ জন: পরীক্ষার কঠোর নজরদারির চিত্র

গ্রেফতার বাকী বিল্লাহ
শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণী ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মাদ্রাসা সুপার বাকী বিল্লাহ গ্রেফতার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বগুড়ার নন্দীগ্রামে শারীরিক প্রতিবন্ধী এক তরুণীকে (২৬) ধর্ষণের অভিযোগে তার ভগ্নিপতি ও স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট বাকী বিল্লাহ (৫২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আদালতের নির্দেশে মামলার রেকর্ডের পর দ্রুত তদন্তে আসে এবং অভিযুক্তকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। মামলার নথি ও স্থানীয় পুলিশ সূত্র অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণী অভিযুক্তের চাচাতো শ্যালিকা। একই এলাকায় বসবাসের কারণে পারিবারিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি যাতায়াত করতেন ভুক্তভোগীর বাড়িতে। অভিযোগে বলা হয়েছে, সেই সুযোগে শারীরিক প্রতিবন্ধী তরুণীর ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তিনি প্রায় ১৪ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানাজানি হলে গত ২৫ জুন আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতের নির্দেশে ১ জুলাই নন্দীগ্রাম থানা মামলা রেকর্ড করে এবং একই দিন রাতে ভাটগ্রাম ইউনিয়নের নিজ বাড়ি থেকে বাকী বিল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, গ্রেফতারের পর অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগী তরুণীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করতে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে একজন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ওঠায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
এইচআরএসএস

জুনে রাজনৈতিক সহিংসতায় ৯ নিহত, আহত ৩৪৬; মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ:এইচআরএসএস

নিহত মোতালেব

ফতুল্লায় বিকাশ ব্যবসায়ী হত্যা: পাঁচ লাখ টাকার বিরোধ, তোশকে মোড়ানো মরদেহ ও পলাতক অংশীদার

সরকারি বরাদ্দের ১০ মসজিদের আটটি গেছে জামায়াত এমপি ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলায়

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে ১০ মসজিদের বরাদ্দের ৮টি গোমস্তাপুরে: বৈষম্যের অভিযোগ, ভুলের ইঙ্গিত জামায়াত নেতাদের

স্বাস্থ্য অধিদফতর
বেসরকারি হাসপাতাল নজরদারিতে নতুন নির্দেশনা: চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ৫ দফা পদক্ষেপ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং চিকিৎসাসেবার মান উন্নয়নে নতুন করে পাঁচ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের সব সিভিল সার্জনকে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়েছে, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে। শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী চিকিৎসক নিয়োগ বাধ্যতামূলক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে শয্যাসংখ্যা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক, নার্স এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োজিত রাখতে হবে। বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে কমপক্ষে পাঁচজন মেডিক্যাল অফিসার উপস্থিত থাকতে হবে। অর্থাৎ প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে অন্তত একজন মেডিক্যাল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সিভিল সার্জনদের জন্য ৫ দফা নির্দেশনা স্বাস্থ্য অধিদফতরের চিঠিতে জেলা পর্যায়ের সিভিল সার্জনদের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১. জেলার সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে প্রতি মাসে চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ করতে হবে। ২. প্রতিটি হাসপাতাল ও ক্লিনিক থেকে চিকিৎসকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর এবং মোবাইল নম্বরসহ হালনাগাদ তালিকা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে জমা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. জমা দেওয়া ডিউটি রোস্টার ও চিকিৎসকদের তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত যাচাই-বাছাই এবং আকস্মিক পরিদর্শন পরিচালনা করতে হবে। ৪. প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক উপস্থিত না থাকলে অথবা ভুল কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরকে অবহিত করতে হবে। ৫. মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠাতে হবে। কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ বাংলাদেশে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, ঘোষিত চিকিৎসকের পরিবর্তে অন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে সেবা প্রদান, এবং প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের অভিযোগ রয়েছে। নতুন নির্দেশনায় প্রথমবারের মতো নিয়মিত ডিউটি রোস্টার, চিকিৎসকদের নিবন্ধন তথ্য এবং আকস্মিক পরিদর্শনের মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও নিবিড়ভাবে তদারকির ব্যবস্থা করা হলো। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীদের নিরাপদ, মানসম্মত এবং নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। এ কারণে নির্দেশনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বাস্তবায়নের জন্য দেশের সব সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ২, ২০২৬ 0

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে রাখাইনে ফের বিস্ফোরণ, সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক; সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

নরসিংদী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র

এইচএসসি ২০২৬: নরসিংদীর কেন্দ্রে ভুলে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্র বিতরণ, দুই শিক্ষক প্রত্যাহার, তদন্তে জেলা প্রশাসন

কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিক্ষোভে গ্রাহকরা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0