Brand logo light

অগ্নিনিরাপত্তা

অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন: আলোক হাসপাতাল ঘিরে নানা অভিযোগ

রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় আলোক হাসপাতালের তিন শাখায় ভবন ও অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন—রোগীদের কাছ থেকে উচ্চমূল্য নেওয়ার অভিযোগ ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় পাশাপাশি একাধিক ভবন জোড়া দিয়ে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানটির আলোক হেলথকেয়ার শাখায় একটি ভবনের সঙ্গে আরেকটি ভবন যুক্ত করে রোগী ও স্বজনদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একই এলাকার প্রতিষ্ঠানটির অন্য দুটি শাখা—আলোক হাসপাতাল লিমিটেড এবং আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার—নিয়েও ভবন নির্মাণ বিধিমালা ও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিন পরিদর্শনে অন্তত দুটি হাসপাতালে জরুরি বহির্গমনের পৃথক ব্যবস্থা চোখে পড়েনি। কয়েকটি স্থানে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রও দেখা যায়নি। ফলে কোনো ভবনে আগুন বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে রোগী ও স্বজনদের নিরাপদে বের করে আনা কতটা সম্ভব—তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এর পাশাপাশি সিজারিয়ান, আল্ট্রাসনোগ্রাফি, কেবিনসহ বিভিন্ন চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তুলনামূলক বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, হাসপাতালে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভবনগুলোর সংযুক্তি অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, অভিযোগগুলো সরেজমিন যাচাই করে কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিন হাসপাতাল, প্রশ্ন ভবনের কাঠামো নিয়ে গত ৪ ও ৬ অক্টোবর মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেলের পূর্ব ও পশ্চিম পাশে অবস্থিত আলোক হাসপাতালের তিনটি শাখা সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো— আলোক হাসপাতাল লিমিটেড আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার আলোক হেলথকেয়ার এর মধ্যে দুটি হাসপাতালে জরুরি বহির্গমনের পৃথক ব্যবস্থা দেখা যায়নি। আলোক হেলথকেয়ারে দুটি ভবন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত অবস্থায় রয়েছে। এক ভবন থেকে অন্য ভবনে যাওয়ার জন্য নিচতলা ও চতুর্থ তলায় সিঁড়ির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি ভবন সাততলা এবং অন্যটি পাঁচতলা। অন্যদিকে আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের ভবনটি নয়তলা এবং আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালটি ১০ তলা ভবনে অবস্থিত। ভবনের এই কাঠামো বিশেষ করে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালকর্মীদের নিরাপদে বের হওয়ার পথ কতটা কার্যকর—সেটিই এখন অন্যতম প্রশ্ন। অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা কোথায়? ৪ অক্টোবর আলোক হাসপাতাল লিমিটেড ও আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতাল ঘুরে বিভিন্ন বিষয় চোখে পড়ে। আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের ছাদের এক পাশে একটি ক্যান্টিন রয়েছে। সেখান থেকে রোগী ও স্বজনদের খাবার সরবরাহ করা হয়। হাসপাতালের সপ্তম তলায় কেবিন রয়েছে। এর পরের অংশে আইসিইউ, চিকিৎসকদের চেম্বার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। রোগী ওঠানামার জন্য পৃথক র‍্যাম্প দেখা যায়নি। দুইটি লিফটই রোগী ও স্বজনদের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। সরেজমিনে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র চোখে পড়েনি। আগুন লাগলে নিচে নামার ক্ষেত্রে খাড়া সিঁড়িই প্রধান ভরসা বলে দেখা গেছে। পৃথক জরুরি বহির্গমন পথও চোখে পড়েনি। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অগ্নিকাণ্ড হলে বিশেষ করে আইসিইউ, কেবিন কিংবা শয্যাশায়ী রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া কতটা সম্ভব—সেই প্রশ্নই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। ১০ তলা ভবনে কেবিন বেশি, শয্যা ১৭ আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালটি ১০ তলা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। দশম তলায় নামাজের কক্ষ ও হিসাব বিভাগ রয়েছে। ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা ১৭টি। অন্য ফ্লোরগুলোতে রয়েছে বিভিন্ন কেবিন। রোগীর স্বজনদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, কেবিনে রোগী রাখলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরি হয়। তবে কেবিনের সংখ্যা ও শয্যার অনুপাতের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ‘নকশায় আছে বলেই ভবন জোড়া লাগানো’ অভিযোগের বিষয়ে আলোক হাসপাতাল লিমিটেডের উপপরিচালক মনির খান বলেন, হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা রয়েছে। হয়তো আপনার চোখে তা পড়েনি। আপনি একসময় আসেন। আপনাকে আমি নিজে ঘুরিয়ে দেখাব।’ ভবন দুটি জোড়া লাগানোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘নকশায় আছে বলেই ভবনগুলো একটির সঙ্গে অপরটির জোড়া লাগানো অবস্থায় রয়েছে।’ হাসপাতালের সেবার মূল্য নিয়ে অভিযোগের প্রসঙ্গে তিনি প্রতিষ্ঠানটির মানের বিষয়টি তুলে ধরেন। মনির খান বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালটি করপোরেট প্রতিষ্ঠান। আমাদের প্রতিষ্ঠানও স্কয়ার, আজগর আলীর মানের। এরপরও তুলনায় অন্যদের চেয়ে খরচ আমাদের এখানে কম।’ সিজারিয়ানে ৯০ হাজার টাকা, কেবিনে আরও বাড়তি আলোক মাদার অ্যান্ড চাইল্ড কেয়ার হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের খরচ জানতে কাস্টমার কেয়ার কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলা হয়। ওই কর্মকর্তা জানান, হাসপাতালের যেকোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে সিজারিয়ান করালে ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া সাধারণ শয্যায় খরচ হবে ৯০ হাজার টাকা। কেবিনে থাকলে অতিরিক্ত ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা লাগবে। আর রোগী নিজের পছন্দের বিশেষ কোনো চিকিৎসকের মাধ্যমে অপারেশন করাতে চাইলে আরও ৫ হাজার টাকা দিতে হবে। ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয় এর বাইরে। অন্যদিকে রাতে একজন সহকর্মী একই হাসপাতালে ফোন করে স্বাভাবিক প্রসব ও সিজারিয়ানের খরচ জানতে চাইলে হাসপাতাল থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়। তখন জানানো হয়, স্বাভাবিক প্রসবের খরচ ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে একদিন হাসপাতালে থাকতে হবে এবং ওষুধপত্রের খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। সিজারিয়ানের জন্য ওষুধ ছাড়া ৭০ হাজার টাকা এবং হাসপাতালে দুই থেকে তিন দিন থাকার কথা জানানো হয়। অর্থাৎ একই হাসপাতাল থেকে সিজারিয়ানের খরচ সম্পর্কে দুই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে—একবার ৯০ হাজার টাকা এবং অন্যবার ৭০ হাজার টাকা। আল্ট্রাসনোগ্রাফিতেও দামের পার্থক্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রঙিন আল্ট্রাসনোগ্রাফির খরচ ১ হাজার ২০০ টাকা। একই পরীক্ষার জন্য আলোক ডায়াগনস্টিক ও জেনারেল হাসপাতালে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আদ্-দ্বীন হাসপাতালে এসি কেবিনের দৈনিক ভাড়া ১ হাজার ৭০০ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আলোক হাসপাতালে একই ধরনের কেবিনের ভাড়া ৫ হাজার টাকা। এ বিষয়ে মনির খান বলেন, ‘আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আর আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো করপোরেট। আমাদের মানের সঙ্গে আদ্-দ্বীনের তুলনা করলে হবে না।’ সাতটি পরীক্ষায় ৬ হাজার ৬০০ টাকা রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে রাকিবুল হাসান (৩১) ডেঙ্গু সন্দেহে আলোক হাসপাতালে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে আসেন। চিকিৎসক হারুন-উর-রশিদের পরামর্শে তাঁকে সাতটি পরীক্ষা দেওয়া হয়। পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ছিল ইউরোফ্লুমেট্রি, র‍্যানডম গ্লুকোজ, ক্রনিক আনপ্রেডিকটেবল স্ট্রেস র‍্যান্ডম, সিরাম ক্রিয়েটিনিন, ইউরিন আর/ই, এক্স-রে কিউইউবি ডিজিটাল ও আল্ট্রাসনোগ্রাফি। এসব পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ তাঁর কাছ থেকে ৬ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়া হয়। পরে কমিশন হিসেবে ৮৭০ টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা ইমরান হোসেন তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমকে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করাতে আলোক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ইমরান হোসেনের দাবি, তাঁকে প্রথমে আল্ট্রাসনোগ্রাফির ফি ৩ হাজার টাকা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ টাকা রাখা হয়। ‘র‍্যাম্প আছে’, দেখানো হলো লিফটের পাশের পথ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ম্যানেজার সোহেল দাবি করেন, হাসপাতালে র‍্যাম্প রয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে অবশ্যই র‍্যাম্প আছে।’ এরপর তিনি লিফটের পূর্ব পাশে একটি র‍্যাম্প দেখান। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, সেটি মূলত লিফট পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র কেন দেখা যাচ্ছে না—এ প্রশ্নের জবাবে সোহেল বলেন, ‘আমাদের সবই আছে। কিন্তু অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র চুরি হওয়ার কারণে লাগানো হয় না।’ হাসপাতালের বিভিন্ন তথ্য জানতে তিনি তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করার পরামর্শ দেন এবং এ বিষয়ে উপপরিচালক মনির খানের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের প্রশ্ন হাসপাতালের বিভিন্ন সেবায় অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ নিয়ে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বে-নজীর আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ফি ১০০ টাকার পরিবর্তে ৪০০ টাকা আদায় করছে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া ডেলিভারি বা সিজারিয়ানে কোনোভাবেই ৯০ হাজার টাকা বিল হতে পারে না।’ তাঁর মতে, রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, একটি স্বাভাবিক প্রসবে ১২ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার সুযোগ নেই। তবে এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয়ের মধ্যে চিকিৎসক ফি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ, কেবিন, হাসপাতালের অবস্থান, অবকাঠামো ও অন্যান্য সেবার পার্থক্য থাকতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর: অভিযোগ যাচাই করে ব্যবস্থা আলোক হাসপাতালের এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে আগে আরও একজন সাংবাদিকের কাছ থেকেও অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আলোক হাসপাতাল নিয়ে আরও একজন সাংবাদিক আমাকে ফোন করেছিলেন। সেখানে যেসব অসঙ্গতি রয়েছে, তা আমি সরেজমিন পরিদর্শন করব। এরপর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ অর্থাৎ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের পাশাপাশি এখন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শনেই অভিযোগগুলোর বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা। ফায়ার সেফটি নিয়ে আইনি জটিলতার কথাও বলছে ফায়ার সার্ভিস আলোক হাসপাতালে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার বলেন, রাজধানীর বিপুলসংখ্যক ভবনেই অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় অসঙ্গতি রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, রাজধানীর প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোনো না কোনো অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড এবং ফায়ার আইনের মধ্যে কিছু অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ফায়ার আইনে সাত তলার ওপরে ভবন হলে ফায়ার সেফটি বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে বিল্ডিং কোডে ১০ তলার ওপরে হলে সেফটি অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। রোগীর নিরাপত্তা কার কাছে? একাধিক ভবন জোড়া দিয়ে হাসপাতাল পরিচালনা, জরুরি বহির্গমন পথের অনুপস্থিতি, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র সরেজমিনে না দেখা যাওয়া, র‍্যাম্প নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা এবং চিকিৎসা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ নিয়ে অস্পষ্টতা—সব মিলিয়ে আলোক হাসপাতালের তিনটি শাখার অবকাঠামো ও সেবা ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে এবং ভবনগুলো অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মিত ও সংযুক্ত। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিযোগগুলো সরেজমিনে যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তাই মূল প্রশ্ন এখন একটাই—কাগজে-কলমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার দাবি আর বাস্তবে রোগী ও স্বজনদের জন্য নিরাপদ অবকাঠামো—দুটির মধ্যে মিল কতটা? বিশেষ করে হাসপাতালের মতো স্থাপনায়, যেখানে অনেক রোগী নিজেরা দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারেন না, সেখানে অগ্নিকাণ্ড বা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বিকল্প বহির্গমন, কার্যকর অগ্নিনিরাপত্তা এবং নিরাপদ সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত—তার উত্তরই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইয়ের পরই এসব অভিযোগের প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৮, ২০২৬ 0
কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক
কলকাতার নিউমার্কেটে ভয়াবহ আগুনের পর অভিযান, দুই দিনে বন্ধ ২২১ হোটেল : বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার একের পর এক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নয়জনের মৃত্যুর পর অগ্নিনিরাপত্তা বিধি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে অভিযান শুরু করে কলকাতা পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ। মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে কলকাতার ‘মিনি বাংলাদেশ’ খ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দুই শতাধিক হোটেল। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি পর্যটক।   এক নজরে ‘শিখা ইন’ হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু, নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি। অগ্নিনিরাপত্তা যাচাইয়ে ৪৮ ঘণ্টায় নিউমার্কেট এলাকায় ২২১টি হোটেল ও ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ। নিরাপত্তা বিধি না মানায় কিছু প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন। কলকাতায় অবস্থানরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটকের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ছিলেন নিউমার্কেট এলাকায়। হঠাৎ হোটেল ছাড়ার নির্দেশ, নতুন আবাসন সংকট এবং বাড়তি ভাড়ায় বিপাকে পর্যটকেরা। প্রশাসনের অবস্থান—পর্যটকদের নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস নয়। কলকাতার নিউমার্কেট এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশি পর্যটকদের অন্যতম প্রধান গন্তব্য। চিকিৎসা, কেনাকাটা কিংবা ভ্রমণ—বিভিন্ন প্রয়োজনে কলকাতায় আসা বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ সাধারণত মির্জা গালিব স্ট্রিট, মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট ও সদর স্ট্রিটের হোটেলগুলোতে অবস্থান করেন। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি অনেকের কাছে ‘মিনি বাংলাদেশ’ নামেও পরিচিত। কিন্তু একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর শুরু হওয়া নিরাপত্তা অভিযানে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে দুই শতাধিক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই এলাকাতেই দেখা দিয়েছে আবাসন সংকট। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সেখানে অবস্থানরত হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। মঙ্গলবার গভীর রাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ১৫জি নম্বরে অবস্থিত ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক। এই ঘটনার পর নিউমার্কেট এলাকায় হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ও অন্যান্য নিরাপত্তাবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা যাচাইয়ে মাঠে নামে পুলিশ, পৌরসভা, দমকল ও বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর থেকেই একের পর এক হোটেল বন্ধের নির্দেশ আসতে শুরু করে। আগুনের পর ৪৮ ঘণ্টার অভিযান অগ্নিকাণ্ডের পর ওই দিন সন্ধ্যা থেকেই নিউমার্কেট থানার পুলিশ এলাকায় অভিযান শুরু করে। পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোর অবস্থানের কথা আগেই জানিয়েছিল প্রশাসন। অভিযানে অংশ নেন উপমুখ্যমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও। বিভিন্ন হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পৌরসভা, দমকল বিভাগ এবং সিইএসসির সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির দায়িত্ব কলকাতার সাড়ে তিন হাজারের বেশি হোটেলের নিরাপত্তাবিধি পর্যালোচনা করা। তবে বৃহত্তর কলকাতার তুলনায় নিউমার্কেট এলাকায় অভিযান ছিল বিশেষভাবে কঠোর। গত শনিবার থেকে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ২২১টি হোটেল এবং ৯টি রেস্তোরাঁ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। নিরাপত্তাবিধি না মানার অভিযোগে একাধিক হোটেলের বিদ্যুৎ-সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের ফলে হঠাৎ করেই আবাসন সংকটে পড়েন বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় একটি অংশ। হোটেল ছাড়ার নির্দেশ, কোথায় যাবেন পর্যটকেরা? কলকাতায় এই মুহূর্তে প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজারই ছিলেন নিউমার্কেট এলাকায়। হোটেল বন্ধের নির্দেশের পর অনেককে দ্রুত আবাসন খুঁজতে হচ্ছে। কেউ আশপাশের এলাকায় নতুন হোটেল খুঁজছেন, কেউ দালালের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন। আবার কেউ নির্ধারিত সময়ের আগেই দেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে নতুন হোটেল পাওয়া গেলেও সেখানে ভাড়া বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পর্যটকদের অভিযোগ, কিছু হোটেলে আগের তুলনায় দেড় থেকে দ্বিগুণ ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাড়া দ্বিগুণ থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত শ্যামল ঘোষ বলেন, সীমান্ত থেকে যাত্রীবোঝাই বাস নিয়মিত কলকাতায় আসছে, কিন্তু তাদের থাকার মতো পর্যাপ্ত হোটেল এখন পাওয়া যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, অনেক পর্যটক বাধ্য হয়ে আশপাশের এলাকায় হোটেল খুঁজছেন। তবে সেখানে ভাড়া অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানকে তারা সমর্থন করেন। তবে হোটেল মালিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংশোধনের জন্য কিছুটা সময় দেওয়া হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। ‘গতকাল উঠেছি, আজই বের হয়ে যেতে হলো’ সোমবার সকাল থেকেই নিউমার্কেট এলাকায় অনেক পর্যটককে ব্যাগপত্র নিয়ে হোটেল থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়। তাদের একজন ঢাকার বাসিন্দা নাসিব পাপ্পু। চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় এসেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ থেকে কলকাতায় এসে বিকেলে একটি হোটেলে ওঠেন। হোটেলে ওঠার সময় তাকে সম্ভাব্য বন্ধের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। পরে বাইরে থেকে ফিরে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, থানা থেকে হোটেল খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টার মধ্যে তাকে হোটেল ছাড়তে বলা হয়। পরদিন সকালেই তাকে হোটেল ছেড়ে বের হতে হয়। নাসিব পাপ্পুর ভাষায়, চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে হোটেল নিয়ে এমন সমস্যায় পড়তে হবে, তা তিনি ভাবেননি। তার মতে, দীর্ঘদিন পর পর্যটন ভিসা চালু হওয়ার পর বাংলাদেশি পর্যটকদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছিল। কিন্তু এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে ভবিষ্যতে অনেকেই কলকাতায় আসার বিষয়ে নতুন করে ভাবতে পারেন। ‘প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি পর্যটক ছিলেন’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিউমার্কেট এলাকার এক হোটেল মালিক জানান, তার হোটেলে প্রায় ৫০ জন বাংলাদেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। সোমবার তাদের সবাইকে হোটেল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। হঠাৎ করে এতসংখ্যক পর্যটকের বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করা সহজ ছিল না বলে জানান তিনি। এদিকে, নিউমার্কেটের একটি হোটেলের কর্মচারী সেলিমের অভিযোগ, একটি এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর আশপাশের বহু হোটেলের বিরুদ্ধে একযোগে ব্যবস্থা নেওয়ায় কর্মসংস্থানের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, ব্যবসার অবস্থা এমনিতেই খারাপ ছিল। নতুন করে হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক কর্মচারীর জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বাংলাদেশি পর্যটকনির্ভর অর্থনীতিতে নতুন ধাক্কা নিউমার্কেট এলাকার অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশি পর্যটকদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এই পর্যটকদের ঘিরে গড়ে উঠেছে অসংখ্য হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহনসেবা, কেনাকাটার ব্যবসা এবং বিভিন্ন ধরনের পর্যটনসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। সাম্প্রতিক কয়েক বছরে নানা কারণে এই ব্যবসায় ধাক্কা লেগেছিল। পর্যটন ভিসা চালুর পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পর্যটক বাড়তে শুরু করার সময় নতুন করে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা পুরো এলাকার ব্যবসায় নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত রিকশাচালক, ছোট ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন পেশার মানুষও এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, দীর্ঘ সময় ধরে হোটেলগুলো বন্ধ থাকলে এর প্রভাব শুধু মালিকদের ওপর নয়, পুরো এলাকার ক্ষুদ্র অর্থনীতিতেও পড়বে। নিরাপত্তা বনাম পর্যটন সংকট তবে প্রশাসনের যুক্তি ভিন্ন। ‘শিখা ইন’-এর অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর পর নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—পর্যটকদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। অগ্নিনিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা মানদণ্ড না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। ফলে নিউমার্কেট এলাকায় এখন দুটি বাস্তবতা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে গেছে। একদিকে, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অন্যদিকে, হঠাৎ বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আবাসন সংকটে পড়া হাজারো পর্যটক—যাদের বড় একটি অংশ বাংলাদেশি। যে আগুন বদলে দিল নিউমার্কেটের পরিস্থিতি মঙ্গলবার গভীর রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ১৫জি, মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৭ জন বাংলাদেশি নাগরিক এবং ২ জন ভারতীয় নাগরিক। নিহত বাংলাদেশিরা হলেন—আকরাম আলী (৭৪), দেবাশীষ দত্ত (৩৯), আফসানা শিরমিন (২৭), সর্নাশীষ দত্ত (২), বাবু আহমেদ (৩৭), রেবতী সরকার এবং এস এম আলিমুজ্জামান। দুই ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান (১৯) এবং শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগারওয়াল (৬৮) রয়েছেন। এই অগ্নিকাণ্ডের পরই নিউমার্কেট এলাকার হোটেল নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন সামনে আসে। তারই ধারাবাহিকতায় শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দুই শতাধিক হোটেল বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   নিউমার্কেট এলাকায় চলমান অভিযানের মূল লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—এ বিষয়ে প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। তবে হঠাৎ করে বিপুলসংখ্যক হোটেল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, সেখানে অবস্থানরত হাজারো পর্যটকের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা কতটা প্রস্তুত ছিল? বাংলাদেশি পর্যটকদের বড় অংশ চিকিৎসা, ব্যবসা বা পারিবারিক প্রয়োজনে কলকাতায় যান। তাদের অনেকেই আগাম বুকিং এবং নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী সফর পরিকল্পনা করেন। সেই অবস্থায় হঠাৎ হোটেল ছাড়ার নির্দেশ তাদের জন্য শুধু আবাসন সংকট নয়, চিকিৎসা, যাতায়াত ও অতিরিক্ত ব্যয়ের নতুন সমস্যাও তৈরি করছে। অন্যদিকে, অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে—নিরাপত্তাবিধি উপেক্ষার মূল্য কতটা ভয়াবহ হতে পারে। তাই এখন নিউমার্কেটের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—কীভাবে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা তৈরি করা যায়। কারণ, নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি পর্যটকদের হঠাৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়াও এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না। একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় বন্ধ ২২১টি হোটেল। হঠাৎ আবাসন সংকট, বাড়তি ভাড়া আর হোটেল ছাড়ার নির্দেশে বিপাকে হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এই অভিযানের মাঝেই উঠছে প্রশ্ন—পর্যটকদের বিকল্প ব্যবস্থা কোথায়?

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0