Brand logo light

আন্তর্জাতিক তেল বাজার

ইরানের বিরুদ্ধে ‘সবচেয়ে বড় আর্থিক অভিযান’: ওয়াশিংটনের চাপ, পাল্টা হরমুজ হুঁশিয়ারি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ইরানের বিরুদ্ধে এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক অভিযান চালানোর ঘোষণা ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে লক্ষ্য শুধু নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ নয়—বরং ইরানের অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ও বাণিজ্যিক পথ বিচ্ছিন্ন করে দেশটিকে আন্তর্জাতিক অর্থব্যবস্থা থেকে কার্যত একঘরে করে ফেলা। ওয়াশিংটনের এই অবস্থানের বিপরীতে ইরানও কঠোর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঘোষণা ও পাল্টা ঘোষণার এই পরিস্থিতি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের দ্বিপক্ষীয় সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সম্ভাব্য প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, বৈশ্বিক বাণিজ্য, নৌপরিবহন এবং ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখা বিভিন্ন দেশের ওপর। ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’র বার্তা স্কট বেসেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সব ধরনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পথে এগোচ্ছে। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বেসেন্টের বক্তব্যের মূল বার্তা—ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামো টিকিয়ে রাখতে যেসব অর্থনৈতিক উৎস, বাণিজ্যিক রুট, আর্থিক লেনদেন ও তেল বিক্রির রাজস্ব কাজ করছে, সেগুলো বিচ্ছিন্ন করা। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক মতামত নিবন্ধে তিনি লিখেছেন, ওয়াশিংটনের লক্ষ্য হলো ইরানের শাসনব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখা প্রতিটি অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ বন্ধ করে দেওয়া, যতক্ষণ না তেহরান আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তবে নতুন পদক্ষেপের সব খুঁটিনাটি প্রথম দিকে প্রকাশ করা হয়নি। পরে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণার কথা জানানো হয়। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’: লক্ষ্য কী? প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে যে নতুন অর্থনৈতিক চাপের কথা বলছে, সেটিকে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অভিযানের উদ্দেশ্য হিসেবে বলা হয়েছে— ইরানের তেল বিক্রির আয়ের পথ বন্ধ করা; আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন সীমিত বা বিচ্ছিন্ন করা; নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পরিচালিত কথিত গোপন বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা; তৃতীয় দেশ ও প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইরানি তেল ও অন্যান্য পণ্য বাণিজ্যের পথ বন্ধ করা; ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক, সাইবার ও জ্বালানি খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়ানো। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের তেল পাচার ও নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন নেটওয়ার্কের একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তৈরি করা হয়েছে। এসব তৎপরতা বন্ধে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর সময়সীমাভিত্তিক চাপ প্রয়োগের কথাও বলা হয়েছে। শুধু ইরান নয়, চাপে পড়তে পারে অন্য দেশও এই নতুন নীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—ওয়াশিংটনের চাপ শুধু ইরানকেন্দ্রিক নাও থাকতে পারে। স্কট বেসেন্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন কিংবা বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তারাও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ কার্যত সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা বা পরোক্ষ অর্থনৈতিক চাপের কাঠামোকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। অর্থাৎ কোনো দেশ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় না থাকলেও ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করার কারণে মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থা বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে জটিলতার মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বেসেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সঙ্গে থাকবে তারা সহযোগিতার সুফল পাবে; আর যারা ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদেরও এই বিচ্ছিন্নতার প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে। নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজ ঘোষণার অংশ হিসেবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র, পারমাণবিক, সাইবার এবং তেল বিপণন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সমুদ্রগামী জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত, হংকং, চীন, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে থাকা ইরান-সংশ্লিষ্ট কথিত ‘ছায়া নৌবহর’ ও বাণিজ্যিক নেটওয়ার্কগুলোকে বিশেষভাবে নজরদারির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া সম্ভাব্য সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসতে পারে— ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ডিজিটাল লেনদেন; প্রযুক্তি খাত; সোনা ও মূল্যবান ধাতুর বাণিজ্য; বিমান চলাচল; নৌপরিবহন ও সামুদ্রিক লজিস্টিকস। ইরানে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রেও অতীতে দেওয়া কিছু সাধারণ লাইসেন্স ও সুবিধা স্থগিত করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাল্টা অবস্থানে ইরান: বন্ধ হতে পারে তেল রপ্তানি ওয়াশিংটনের কঠোর অর্থনৈতিক হুঁশিয়ারির পর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে অঞ্চল থেকে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। এই হুমকির গুরুত্ব বোঝার জন্য হরমুজ প্রণালির কৌশলগত অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের দক্ষিণে অবস্থিত এই জলপথ দিয়ে সাধারণত বিশ্বের তেল ও গ্যাস বাণিজ্যের একটি বড় অংশ পরিবহন হয়। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হরমুজে নতুন সতর্কতা তেল রপ্তানি বন্ধের হুঁশিয়ারির পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রেও নতুন সতর্কতা জারি করেছে ইরান। রয়টার্স জানিয়েছে, দেশটির অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। যদি এই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। কারণ হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগপথ। ফলে এই নৌপথে দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন দেখা দিলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ, পরিবহন ব্যয়, জাহাজের বীমা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্যের ওপর চাপ বাড়তে পারে। অর্থনৈতিক যুদ্ধের নতুন অধ্যায়? ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আগের নিষেধাজ্ঞাগুলো মূলত তেল রপ্তানি, ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং সামরিক খাতকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল। নতুন এই ঘোষণায় সেই কাঠামো আরও বিস্তৃত করার ইঙ্গিত মিলছে। এবারের লক্ষ্য শুধু ইরানের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং তেহরানের সঙ্গে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা, অর্থনৈতিক মধ্যস্থতাকারী, জাহাজ, প্রযুক্তি নেটওয়ার্ক এবং বিকল্প লেনদেন ব্যবস্থাকেও চাপের মধ্যে আনা। প্রশ্ন হলো, বিশ্বের বড় অর্থনীতি ও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলো এই চাপের মুখে কতটা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুসরণ করবে। কারণ ইরানকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা যতটা অর্থনৈতিক, ততটাই কূটনৈতিক। এখন নজর কোথায়? ওয়াশিংটনের নতুন পদক্ষেপের বাস্তব ফল নির্ভর করবে কয়েকটি বিষয়ের ওপর— প্রথমত, ইরানের তেল ক্রেতা ও বাণিজ্যিক অংশীদাররা যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে কি না। দ্বিতীয়ত, নতুন সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা কতটা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কোন দিকে যায়। সবশেষে, অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক উত্তেজনা—এই দুইয়ের সমান্তরাল সংঘাত শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে পৌঁছায়, নাকি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটকে আরও গভীর করে—সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। ইরানকে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার ওয়াশিংটনের ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এটি শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঘটনা হবে না; বরং বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের নতুন এক পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0