Brand logo light

আন্তর্জাতিক সংবাদ

পাকিস্তানে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে জিও নিউজের লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : পাকিস্তানের অন্যতম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল জিও নিউজের সম্প্রচার লাইসেন্স ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা। অভিযোগ, মহররম উপলক্ষে সম্প্রচারিত একটি অনুষ্ঠানে এমন কিছু ধর্মীয় দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জনশৃঙ্খলার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। রোববার (২৮ জুন) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ জুন সম্প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত কিছু দৃশ্য পাকিস্তানের ধর্মীয় ও সামাজিক বাস্তবতায় অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাদের দাবি, সম্প্রচারের আগে সম্পাদকীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও সতর্কতা অনুসরণ করা হয়নি। ক্ষমা চাইল জিও নিউজ ঘটনার পর জিও নিউজ এক বিবৃতিতে জানায়, বিতর্কিত বিষয়বস্তু অনিচ্ছাকৃতভাবে সম্প্রচারিত হয়েছে এবং এটি চ্যানেলটির সম্পাদকীয় নীতি বা অবস্থানের প্রতিফলন নয়। চ্যানেলটি আরও জানায়, সংশ্লিষ্ট ভিডিও ইতোমধ্যে তাদের সব ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এ ঘটনার জন্য তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। জিও নিউজের দাবি, সম্প্রচারিত ফুটেজে মূলত ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি অঞ্চলের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক দিক তুলে ধরা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য কোনো নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতাদর্শের প্রচার বা সমর্থন নয়; বরং স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি উপস্থাপন করা। অভ্যন্তরীণ তদন্তের নির্দেশ পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সম্পাদকীয় ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখতে জিও নিউজকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি সংস্থাটির কাউন্সিল অব কমপ্লেইন্টসের কাছেও পাঠানো হয়েছে, যাতে প্রয়োজনীয় পর্যালোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কেন এত সংবেদনশীল এই বিষয়? পাকিস্তানে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলামের অন্যান্য সম্মানিত ব্যক্তিত্বকে ঘিরে যেকোনো দৃশ্য, প্রতিকৃতি বা উপস্থাপনাকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে দেখা হয়। অতীতে এ ধরনের ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশটিতে বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার নজির রয়েছে। এ কারণেই মহররমসহ ধর্মীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোতে সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর বাড়তি নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে পুরোনো বিতর্ক এই ঘটনা আবারও পাকিস্তানে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে সামনে এনেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যম পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার মতে, দেশটিতে বিভিন্ন সময়ে টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার স্থগিত, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের চাপের অভিযোগ উঠে এসেছে। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (RSF)-এর ২০২৬ সালের বিশ্ব সংবাদমাধ্যম স্বাধীনতা সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে পাকিস্তানের অবস্থান ১৫৩তম, যা দেশটির গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মেয়েকে আগলে রাখলেন মা
ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্প: নিজের জীবন দিয়ে মেয়েকে বাঁচালেন এক মা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে আসছে একের পর এক হৃদয়বিদারক গল্প। এরই মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হলো—নিজের ছোট্ট মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আন্দ্রেয়া নামের এক নারী। তিনি ভেনেজুয়েলার ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী। স্বজন ও ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার সময় শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত নিজের মেয়েকে আগলে রেখেছিলেন আন্দ্রেয়া। পরে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। তবে একই ভবনে থাকা তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়, যা অনেকেই অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন।   'একদিন আমি আমাদের মেয়েকে সব বলব' স্ত্রীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেন ফুটবলার হেক্টর বেলো। তিনি লেখেন, "একদিন আমি আমাদের মেয়েকে বলব, কীভাবে তুমি তাকে বাঁচিয়েছিলে। বলব, নিজের জীবন দিয়ে তুমি তাকে রক্ষা করেছ। তুমি ছিলে এক সাহসী মা, যে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের সন্তানকে ছেড়ে যায়নি।" হেক্টর জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি রাজধানী কারাকাসে ছুটে যান। বর্তমানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পরবর্তী এক পোস্টে তিনি লেখেন, "আমার মেয়ে ও তার খালা ভালো আছে। তবে আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়া হচ্ছে না। এই অসহনীয় কষ্টের সময় পাশে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।" ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে আরও একটি আবেগঘন বার্তায় তিনি বলেন, "আমি কীভাবে আমার মেয়েকে বোঝাব, তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মা নিজের জীবন দিয়েছে? আমি তখন সেখানে ছিলাম না, কিছুই করতে পারিনি। আমাকে শক্তি দাও।"   মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত ক্রীড়া সংগঠন ভেনেজুয়েলার ক্রীড়া সংগঠন কুমানা দে কাম্পেওনেস জানিয়েছে, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে আন্দ্রেয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়েছে, তার ছোট মেয়ে জীবিত উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও আন্দ্রেয়ার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।   ভূমিকম্পে প্রাণ হারালেন আরও দুই ফুটবলার এই দুর্যোগে শুধু সাধারণ মানুষ নন, ক্রীড়াঙ্গনও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভেনেজুয়েলা ফুটবল ফেডারেশন (এফভিএফ) এবং সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত দুই তরুণ ফুটবলার নিহত হয়েছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে, ক্লাব স্পোর্ট সান আগুস্তিন নিশ্চিত করেছে, তাদের একাডেমির খেলোয়াড় ভিক্টর পালাসিওসও ভূমিকম্পে নিহত হয়েছেন। ক্লাবটি এক শোকবার্তায় জানায়, "তার মৃত্যুতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।"   সাবেক মিস ভেনেজুয়েলার পরিবারেও শোক ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছে ভেনেজুয়েলার পরিচিত ব্যক্তিদের পরিবারেও। সাবেক মিস ভেনেজুয়েলা গিসেল রেয়েস জানিয়েছেন, লা গুয়াইরায় তার মায়ের বসবাস করা ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। ওই ঘটনার ধাক্কায় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তার মা মারা যান। তিনি জানান, তার মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একজন নার্স জীবিত উদ্ধার হন এবং তিনিই পরিবারের সদস্যদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছে দেন।   উদ্ধার অভিযান অব্যাহত বুধবার (২৪ জুন) রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানা শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারী দল এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে সময় যত গড়াচ্ছে, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
ভেনেজুয়েলায় প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্প: ৫০ হাজারের বেশি নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে নবজাতক উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। রাজধানী কারাকাস থেকে উপকূলীয় লা গুয়াইরা—হাসপাতাল, মর্গ এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন একটাই দৃশ্য—স্বজনের খোঁজে উদ্বিগ্ন মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ১৭২ জন জীবিত আটকে থাকতে পারেন। তবে বিপুলসংখ্যক নিখোঁজ মানুষের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অলৌকিক উদ্ধার: ৩২ ঘণ্টা পর জীবিত নবজাতক বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা শহরে উদ্ধারকাজের মধ্যেই এক বিরল মানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর মাত্র ১৮ দিনের এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এএফপির বরাত দিয়ে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনছেন। উপস্থিত উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে তখন আনন্দের আবহ তৈরি হয়। শিশুটিকে কাপড়ে মুড়ে একজন উদ্ধারকর্মীর হাত থেকে আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তার শরীর আলতো করে পরিষ্কার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আন্দ্রেয়িনা কুইন্তেরোর প্রকাশিত ভিডিও এবং চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযানের প্রায় এক ঘণ্টা পর একই ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, ভূমিকম্পের সময় মা নিজের শরীর দিয়ে সন্তানকে আড়াল করে রেখেছিলেন। সেই আত্মত্যাগই শিশুটির জীবন রক্ষা করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কার্লোস, হাল ছাড়েনি পরিবার ভূমিকম্পের দুই দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবনের ইঙ্গিত মিলছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদোয়ার্দো ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন। শনিবার তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার গোঙানির শব্দ শুনেছেন। কার্লোসের এক চাচাত ভাই বলেন, "প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে আমরা তার গোঙানির শব্দ শুনেছি। এরপর আর কোনো সাড়া পাইনি।" পরিবারের খবর পেয়ে একটি স্প্যানিশ উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায়। তবে তারা জীবনের নিশ্চিত কোনো আলামত শনাক্ত করতে পারেনি। তবুও পরিবার হাল ছাড়েনি। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে তারা নিজেরাই হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট, ক্ষোভ বাড়ছে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে উদ্ধার তৎপরতার ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ক্রেন, এক্সকাভেটর ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জামের অভাবে বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। হুগো শ্যাভেজ হাউজিং কমপ্লেক্সের বাসিন্দা জেনিফার পালাসিও জানান, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, যার মধ্যে ছয় বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা। তার ভাষায়, "জীবিত মানুষদের বাঁচাতে এখনই ভারী যন্ত্রপাতি দরকার।" অন্যদিকে কারাবালেদার ৭৩ বছর বয়সী আইনজীবী রিকার্ডো ত্রিয়াস অভিযোগ করেন, তার ধর্মপুত্র আরমান্দো লোপেজের মরদেহ উদ্ধার হলেও তা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। তিনি দ্রুত ফরেনসিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। আফটারশকে নতুন আতঙ্ক, লুটপাটের ঘটনাও শুক্রবার বিকেলে ৪.৯ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হলে রাজধানী কারাকাস ও মারাকাই শহরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই লা গুয়াইরার কাতিয়া লা মার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ছে মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে উদ্ধার অভিযানে জাহাজ, হেলিকপ্টার ও বিমান পাঠানো হয়েছে। এল সালভাদরের ৫০ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ড্রোন, তাপীয় স্ক্যানার এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চালাচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কয়েকটি ভবনের ভেতর থেকে এখনও মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি বহুতলের নবম তলায় আটকে থাকা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার পোষা প্রাণীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অর্থনৈতিক ক্ষতি ও রাজনৈতিক চাপ জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই দুর্যোগ দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে। এমনটি হলে এটি লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে গত শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার আশঙ্কা, এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কোথাও শিশুর কান্না, কোথাও ক্ষীণ গোঙানি, কোথাও আবার নিস্তব্ধতা। প্রতিটি ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমছে, কিন্তু স্বজনদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। উদ্ধারকারীদের কাছে এখন প্রতিটি ইট সরানো মানেই হয় নতুন একটি মৃত্যু, নয়তো আরেকটি অলৌকিক জীবনের সন্ধান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত
ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ২৩৫, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ বহু মানুষ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি। রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পরপর দুই ভূমিকম্প, ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২, যার মাত্র কয়েক সেকেন্ড বা প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পই ছিল অগভীর। প্রথমটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ২০.৩ কিলোমিটার নিচে এবং দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হয় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, এ পর্যন্ত ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরা অঞ্চলে। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, লা গুয়াইরায় একটি ১০ তলা হোটেল সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে স্বজনদের খোঁজে বহু মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাজধানী কারাকাসেও বহু আবাসিক ভবন, সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কিত মানুষকে ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। "মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী কাঁপছে" কারাকাসের এক বাসিন্দা বলেন, "মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী দীর্ঘ সময় ধরে কেঁপে উঠছে।" অন্যদিকে লিয়েন্ডার নামে আরেক বাসিন্দা জানান, বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুরো রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন। মেডিকেল শিক্ষার্থী হুয়ান ওর্তিজ বিবিসিকে বলেন, তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় তার পরিচিত অন্তত ২০ জন এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, "আমি হতবাক এবং অসহায় বোধ করছি। সাহায্য করতে না পারার হতাশা কাজ করছে।" আফটারশকে বাড়ছে উদ্বেগ ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১৩৮টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও পরবর্তী এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তত ৩০টি উল্লেখযোগ্য আফটারশকের কথা জানান। ক্রমাগত আফটারশকের কারণে দুর্বল ভবনগুলো আরও ধসে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহায়তা অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধাও চালু করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, স্পেন, কাতার এবং জাতিসংঘের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, পরিবহন বিমান এবং ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ দেলসি রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসের কাছে মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুরুতর ক্ষতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে ছাদ থেকে ধুলো ও ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে। আরও প্রাণহানির আশঙ্কা USGS সতর্ক করেছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। সংস্থাটির প্রাথমিক ঝুঁকি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে— ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ। এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এগুলো কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়; অতীতের অনুরূপ ভূমিকম্প, জনঘনত্ব, কম্পনের মাত্রা ও গভীরতা বিবেচনায় জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার জন্য তৈরি করা ঝুঁকি মূল্যায়ন। জাতীয় সংকট জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে একটি বড় জাতীয় সংকটের মুখোমুখি। তার ভাষায়, "এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আগামী কয়েক দিনে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
ব্যবসায় এগিয়ে যাচ্ছেন আফগান নারীরা
তালেবান শাসনে শিক্ষা-চাকরির পথ সংকুচিত, ব্যবসাই আফগান নারীদের শেষ আশ্রয়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষা, চাকরি ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মুখে আফগানিস্তানের বহু নারী এখন ব্যবসাকেই টিকে থাকার প্রধান উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তালেবান সরকারের আরোপিত নানা সীমাবদ্ধতায় নারীদের জন্য পেশাগত সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হলেও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকায় নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—যেখানে উদ্যোক্তা হওয়াই অনেক নারীর শেষ ভরসা। উপলব্ধ তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে আফগানিস্তানে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি নারী ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী রয়েছেন। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নারী লাইসেন্স ছাড়াই বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ও কুটিরভিত্তিক ব্যবসাই বর্তমানে আফগান নারীদের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। স্বপ্ন বদলে বেঁচে থাকার লড়াই যেসব নারী একসময় আইনজীবী, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের অনেকেই এখন কার্পেট বুনন, সাবান উৎপাদন, প্রসাধনী তৈরি কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক নারী বাধ্য হয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফের ১৯ বছর বয়সী নাসিরা আজিজি সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রতীকী উদাহরণ। শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার পর তিনি কার্পেট উৎপাদন ব্যবসায় যুক্ত হন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৫০ জন কর্মী কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। নাসিরার গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি এমন এক প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি, যাদের শিক্ষা বন্ধ হলেও জীবনের সংগ্রাম থেমে থাকেনি। প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন থেকে সাবান কারখানা ২১ বছর বয়সী রোকিয়া রেজায়ির স্বপ্ন ছিল খনি প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ‘ম্যাগনোলিয়া’ নামে একটি সাবান উৎপাদন উদ্যোগ গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই ব্যবসার আয়েই তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। রোকিয়ার মতো অনেক নারীর জন্য উদ্যোক্তা হওয়া কোনো পছন্দের সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং সীমিত সুযোগের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় কৌশল। ব্যবসা আছে, স্বাধীনতা নেই নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়লেও তাদের পথ মোটেও সহজ নয়। হেরাতের মৌচাষি ঘোঞ্চা কারিমি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বি কুইন’ নামে পরিচিত, প্রায় ৫০টি মৌচাক পরিচালনা করেন। তবে তার মতে, চলাচলে বিধিনিষেধ, পুরুষ ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বাধা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসার সম্প্রসারণকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, বাজার ব্যবস্থাপনা বা সরকারি কাজকর্ম সম্পন্ন করতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণকে সীমিত করে এবং তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দেয়। কর্মসংস্থানের সংকটের কঠিন চিত্র জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নারীদের মাত্র ৭ শতাংশ কোনো না কোনো কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেশটির নারী শ্রমবাজারের সংকটকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসা এখন কেবল আয়ের উৎস নয়; এটি নারীদের জন্য সামাজিক সংযোগ, আত্মমর্যাদা এবং ব্যক্তিগত পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সরকারি দাবি বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন আফগান প্রশাসন দাবি করছে, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ চালু রয়েছে। তবে নারী অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব উদ্যোগের পরিধি সীমিত এবং বাস্তব প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। তাদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকলেও বাজারে প্রবেশ, আর্থিক সহায়তা, স্বাধীন চলাচল এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। শেষ আশ্রয় হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়া হেরাত প্রদেশের নারী উদ্যোক্তা প্রতিনিধি বেহনাজ সালজুঘির ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগান নারীদের জন্য ব্যবসাই ‘একমাত্র আশার জায়গা’। এই মন্তব্যের মধ্যে ফুটে ওঠে আফগান নারীদের বর্তমান বাস্তবতা—যেখানে শিক্ষা ও চাকরির বহু দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু জীবন থেমে নেই। প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশ, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও হাজারো নারী নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের কাছে ব্যবসা শুধু জীবিকা নয়; এটি আত্মনির্ভরতা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ধরে রাখার এক নীরব সংগ্রাম।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর
টাইর ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক: নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের জরুরিভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (৯ জুন) জারি করা এই নির্দেশনার আওতায় শহরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল এবং আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, টাইর শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ করা যেকোনো স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ টাইর? ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী টাইর শুধু দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রধান শহরই নয়, এটি দেশটির অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। শহরটিতে মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, টাইরের মতো জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সাধারণত বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যখন নির্দেশনাটি শহরের বিস্তৃত আবাসিক অঞ্চল ও শরণার্থী শিবির পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তখন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। গোলাবর্ষণের খবর, নীরব আইডিএফ লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে টাইর জেলার মানসুরি ও মাজদাল জুন এলাকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তুচ্যুত হওয়া সবসময় সহজ নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য স্থানান্তর একটি বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। টাইরের বাসিন্দাদের অনেকেই ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কত সংখ্যক মানুষ এই নির্দেশনার আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কোন দিকে যাচ্ছে? ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন অভিযান এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নতুন মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। টাইর শহরের জন্য জারি করা সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজার বিদেশি আটক
মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজার বিদেশি আটক, কঠোর হচ্ছে ইমিগ্রেশন অভিযান

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চালাচ্ছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে আটক হয়েছেন ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিক, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামার বরাত দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেছে মালায় মেইল। তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া বিদেশিদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জনের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তারা যে উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন, বাস্তবে তার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভিসা এক, কাজ আরেক—কেন উদ্বিগ্ন কর্তৃপক্ষ? ইমিগ্রেশন বিভাগের তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটক, শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য সীমিত অনুমতির ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করলেও পরে অনুমোদনহীন ব্যবসা, শ্রমবাজার বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু অভিবাসন নীতিকেই চ্যালেঞ্জ করছে না, বরং বৈধ শ্রমবাজার, কর ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে। জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জনশৃঙ্খলা এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো এখন বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ অভিযান ইউনিট গঠন অভিযান আরও কার্যকর করতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ নতুন কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিশেষ ‘এনফোর্সমেন্ট ইন্সপেক্টরেট’ গঠন; ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক চিরুনি অভিযান; ভিসা ও কর্মসংস্থান আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি; অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু বিদেশি নাগরিক নয়, তাদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌথ অভিযানে নতুন কৌশল ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা অপব্যবহার প্রতিরোধকে বিভাগের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের (KPI) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে করে অভিযান পরিচালনা, আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযান বিদেশি শ্রমিকনির্ভর খাতগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসী ভিসার শর্ত অনুযায়ী কাজ করছেন না কিংবা অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানে যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয় পক্ষের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
আবেইতে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : আফ্রিকার সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল আবেইতে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাদের এই সম্মাননা প্রদান করবেন। শুধু একটি পদক প্রদান অনুষ্ঠান নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দীর্ঘদিনের অবদান এবং সেই দায়িত্ব পালনের চরম মূল্যকে সামনে নিয়ে এসেছে এই স্বীকৃতি। কারা পাচ্ছেন এই পদক? জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম মো. সবুজ মিয়া মো. মাসুদ রানা মো. মোমিনুল ইসলাম শামীম রেজা সান্ত মণ্ডল তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় নিহত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শান্তিরক্ষা মিশনে প্রযুক্তিনির্ভর হামলার ঝুঁকি যে বেড়েছে, এই ঘটনা তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক কী? ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের স্মরণে প্রদান করা হয়। জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব ড্যাগ হ্যামারশোল্ডের নামে প্রবর্তিত এই পদক শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এ বছর গত বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই পদক দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা কাজ করছেন— আবেই মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র সাইপ্রাস গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র লেবানন লিবিয়া দক্ষিণ সুদান পশ্চিম সাহারা এই উপস্থিতি শুধু বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়ায় না, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করে। ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। কিন্তু এসব মিশনের পরিবেশ দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শান্তিরক্ষীদের জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আবেইতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মৃত্যু সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন। ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ কেন আলোচনায়? এবারের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত বৃদ্ধি এবং আর্থিক সম্পদের সংকোচনের সময়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার বার্তায় বলেন, শান্তিরক্ষা স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি পরীক্ষিত এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন এবং নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন। একইসঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পরিবেশেও শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন, সহিংসতা প্রতিরোধ করছেন এবং শান্তির সম্ভাবনা ধরে রাখছেন। আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ২৯ মে-কে ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন প্রতিষ্ঠার স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। নিউইয়র্কের এবারের অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সেই স্মরণানুষ্ঠানে বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীর নামও যুক্ত হবে বিশ্ব শান্তিরক্ষার ইতিহাসে আত্মত্যাগের এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে। তাদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক শুধু ব্যক্তিগত সাহসিকতার স্বীকৃতি নয়; এটি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি, পেশাদারিত্ব এবং আত্মত্যাগেরও বৈশ্বিক স্বীকৃতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
স্পেনে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন শাকিরা, ফেরত পাচ্ছেন ৭৬৫ কোটি টাকা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দীর্ঘ আট বছরের আইনি লড়াই শেষে বড় স্বস্তি পেয়েছেন বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়ান পপ তারকা শাকিরা। স্পেনের উচ্চ আদালত তাকে কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে আদায় করা প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ইউরো, বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ৭৬৫ কোটি টাকা সুদসহ ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের কর কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, ২০১১ সালে শাকিরা দেশটিতে ১৮৩ দিনের বেশি সময় অবস্থান করেছিলেন। স্পেনের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি এক বছরে ১৮৩ দিন বা তার বেশি সময় সেখানে অবস্থান করলে তাকে দেশটির কর আইনের আওতায় আসতে হয়। তবে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, কর কর্মকর্তারা তাদের দাবির পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। আদালতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ওই বছর শাকিরা স্পেনে মোট ১৬৩ দিন অবস্থান করেছিলেন, যা কর দেওয়ার নির্ধারিত সীমার চেয়ে ২০ দিন কম। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আনা কর ফাঁকির অভিযোগ এবং আরোপিত জরিমানাকে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফেরতযোগ্য অর্থের মধ্যে রয়েছে প্রায় ২৪ মিলিয়ন ইউরো আয়কর এবং প্রায় ২৫ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা। রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় শাকিরা বলেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত সত্যকে প্রতিষ্ঠা করেছে। তার অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া তার ব্যক্তিগত জীবন, স্বাস্থ্য এবং পরিবারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তার দাবি, তিনি কখনো কর ফাঁকি দেননি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও তা প্রমাণ করতে পারেনি। বিশ্বজুড়ে আলোচিত এই মামলার রায়ে শেষ পর্যন্ত স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন জনপ্রিয় এই সংগীত তারকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৯, ২০২৬ 0
যুদ্ধবিরতি উপেক্ষা করে লেবাননজুড়ে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল।
দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি বিমান হামলা: ২৪ ঘণ্টায় নিহত ৪১, চলতি বছরে ২,৬৫৯

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ লেবানন-এ ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন, যা গত ২৪ ঘণ্টায় মোট নিহতের সংখ্যা ৪১-এ পৌঁছেছে। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২ মে) চালানো সর্বশেষ হামলাগুলোর ফলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। একই সময়ে, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৫৯ জনে এবং আহত হয়েছেন ৮ হাজার ১৮৩ জন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ)-এর বরাতে জানানো হয়, নাবাতিয়েহ জেলার শৌকিন শহরে ইসরাইলি হামলায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া, কফর দাজ্জাল গ্রামে একটি গাড়িতে হামলায় দু’জন নিহত হন। লোয়াইজেহ গ্রামে একটি বাড়িতে হামলায় প্রাণ হারান আরও তিনজন। শৌকিন গ্রামেও পৃথক আরেকটি হামলায় নিহত হয়েছেন দুইজন। ইসরাইলি বাহিনী নাবাতিয়েহ শহরের আল-কুদস মোড়ের কাছে একটি বিমান হামলা চালায়। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান টাইর জেলার সিদ্দিকিন এলাকাতেও হামলা চালানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইল-এর মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে এরপরও একাধিকবার এই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর সদস্যরা। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের অধিকাংশই বেসামরিক নাগরিক।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৩, ২০২৬ 0
বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ১২
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ১২ নিহত, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও হামলা অব্যাহত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের ধারাবাহিক বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। চলমান যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও এসব হামলা অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার (১ মে) নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর একাধিক হামলায় অন্তত ৮ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন শিশু ও একজন নারী রয়েছেন। স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়ে হতাহতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ব্যাপক বিমান হামলায় পুরো একটি আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে এবং বহু ভবন মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। এদিন টায়ার ও নাবাতিয়েহর আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকায় পৃথক হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে বাড়িঘর, একটি কনভেন্ট এবং একটি স্কুল ধ্বংস করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, হামলার আগে হাব্বুশ এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে এর আগের দিন একই এলাকায় কোনো সতর্কতা ছাড়াই হামলা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২, ২০২৬ 0
বিশ্বের প্রভাবশালীদের তালিকায় যেসব তারকারা
জোয়ি সালডানা থেকে রণবীর কাপুর—কারা আছেন প্রভাবশালীদের তালিকায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী পত্রিকা টাইম। নিউইয়র্কভিত্তিক এই ম্যাগাজিনটি প্রতি বছর বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের তালিকা তৈরি করে। এ বছর ১০০ জনের সেই তালিকায় উঠে এসেছে শোবিজের বেশ কয়েকজন তারকার নাম। এই তালিকায় স্থান পাওয়া নামের তালিকায় রয়েছে- অভিনেত্রী জোয়ি সালডানা, সঞ্চালক ও কমেডিয়ান নিকি গ্লেজার, গায়ক ও অভিনেতা জনাথন গ্রফ, অভিনেতা ইথান হক, অভিনেত্রী ডাকোটা জনসন, কেট হাডসান, অভিনেতা রণবীর কাপুর, ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহি, কে-পপ গায়িকা জেনিসহ অনেকে। এই বছরের চারটি আলাদা আন্তর্জাতিক কভারে জায়গা পেয়েছেন অভিনয়শিল্পী জোয়ি সালডানা, নিকি গ্লেজার, ওয়াগনার মোরা ও সংগীতশিল্পী লুক কম্বস। এবারের তালিকায় থাকা তারকারা শুধু সিনেমা বা শোতে সীমাবদ্ধ নন। তারা ফ্যাশন, সামাজিক আন্দোলন, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং বৈশ্বিক আলোচনাতেও প্রভাব রাখছেন। এই কারণেই টাইম ম্যাগাজিনের তালিকাকে শুধু জনপ্রিয়তার তালিকা নয়, বরং ‘গ্লোবাল ইনফ্লুয়েন্স ম্যাপ’ হিসেবেও দেখা হয়। বিশেষ করে ইথান হক বা জোয়ি সালডানার মতো শিল্পীরা এমন চরিত্র বেছে নিচ্ছেন, যা সামাজিক বার্তা বহন করে। অন্যদিকে নিকি গ্লেজারের মতো কমেডিয়ানরা ব্যঙ্গ ও হাস্যরসের মাধ্যমে সমসাময়িক বাস্তবতাকে তুলে ধরছেন। টাইম ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয় মতে, প্রভাব নির্ধারণের কোনো একক মানদণ্ড নেই। বরং যেসব ব্যক্তি তাদের কাজের মাধ্যমে বিশ্বকে পরিবর্তন করছেন বা সংস্কৃতিকে নতুনভাবে ব্যাখ্যা করছেন, তারাই এই তালিকায় স্থান পান। তাদের ভাষায়, কেউ কেউ বিশ্বজুড়ে পরিচিত, আবার কেউ কেউ কেবল নিজের ক্ষেত্রেই গভীর প্রভাব ফেলছেন। আগামী ২৩ এপ্রিল নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হবে ‘টাইম ১০০ গালা’, সেখানে উপস্থিত থাকবেন তালিকাভুক্ত তারকারা। সেখানে তাদের বিশেষ পারফরম্যান্সও থাকবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত
দক্ষিণ লেবাননে গোলাবর্ষণ ও সামরিক তৎপরতার অভিযোগ ইসরাইলের বিরুদ্ধে

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে লেবাননে। দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম ও দিব্বিন এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওইসব এলাকায় শুধু গোলাবর্ষণই নয়, মেশিনগান থেকেও গুলিবর্ষণ চলছে এবং সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া পশ্চিম বেকা উপত্যকায় ইসরায়েলি নজরদারি বিমান সক্রিয় রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাশায়া অঞ্চল ও জাবাল আল-শাইখের পশ্চিমাংশে এসব ড্রোন ও নজরদারি বিমানের উড়াউড়ি লক্ষ্য করা গেছে। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পরপরই এ ধরনের ঘটনা পরিস্থিতিকে আবারও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
বিবিসি
বিবিসিতে বড় আকারে ছাঁটাই: চাকরি হারাতে পারেন প্রায় ২০০০ কর্মী

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদ সংস্থা বিবিসি বড় আকারে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, শিগগিরই প্রায় ২০০০ জন কর্মী চাকরি হারাতে পারেন, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমানে বিবিসির মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ২১ হাজার ৫০০। পরিকল্পিত এই ছাঁটাইয়ের ফলে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী প্রভাবিত হবেন। বুধবার এক বৈঠকে কর্মীদের এ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সংস্থাটির এই সিদ্ধান্ত বৃহৎ কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ। আগামী মাসে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন ম্যাট ব্রিটিন। তার দায়িত্ব গ্রহণের আগেই এই পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। খরচ কমানোর লক্ষ্যে বিবিসি ৬০০ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি সাশ্রয় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এর আওতায় কর্মী সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি কিছু অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে। সাবেক মহাপরিচালক টিম ডেভি আগেই জানিয়েছিলেন, আগামী তিন বছরে সংস্থার মোট ব্যয়ের প্রায় ১০ শতাংশ কমাতে হবে। উল্লেখ্য, টিম ডেভি গত ২ এপ্রিল পদত্যাগ করেন। এর আগে তিনি নভেম্বর মাসেই পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার সময়কালজুড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প, গাজা পরিস্থিতি এবং ট্রান্স অধিকার ইস্যু নিয়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এদিকে, বিবিসি বর্তমানে সরকারের সঙ্গে তাদের রয়্যাল চার্টার নবায়ন নিয়ে আলোচনা করছে, যার মেয়াদ আগামী বছরের শেষে শেষ হবে। একইসঙ্গে লাইসেন্স ফি মডেল নিয়েও আলোচনা চলছে। গত ১ এপ্রিল লাইসেন্স ফি ১৭৪.৫০ পাউন্ড থেকে বাড়িয়ে ১৮০ পাউন্ড করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ পরিবারের কাছ থেকে বিবিসি ৩.৮ বিলিয়ন পাউন্ড আয় করেছে। এছাড়া বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে আরও প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড এসেছে। তবে লাইসেন্স ফি প্রদানকারী পরিবারের সংখ্যা কমে যাচ্ছে—এক বছরে প্রায় ৩ লাখ পরিবার কমেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দর্শকদের মধ্যে নেটফ্লিক্স ও ডিজনির মতো ডিজিটাল স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের প্রতি ঝোঁক বাড়ায় বিবিসি চাপে পড়ছে। গত বছর নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকম সতর্ক করে বলেছিল, পাবলিক সার্ভিস টেলিভিশন ‘বিপন্ন প্রজাতি’ হয়ে যেতে পারে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিবিসি তাদের আইপ্লেয়ার সেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউটিউবের সঙ্গে কনটেন্ট চুক্তিও করেছে সংস্থাটি। বিবিসি জানিয়েছে, গত তিন বছরে তারা ৫০০ মিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে, যার বড় অংশ কনটেন্ট তৈরিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
টাইমের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় তারেক রহমান | বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অবস্থান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বখ্যাত সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন প্রকাশিত বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের তালিকায় স্থান পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) টাইমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তাকে ‘লিডার’ ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘদিন নির্বাসনে থাকার পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার প্রত্যাবর্তন এবং সাম্প্রতিক সক্রিয়তা তাকে এই তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘ সময় যুক্তরাজ্যের লন্ডন-এ অবস্থান করলেও দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আবারও প্রভাবশালী ভূমিকায় ফিরে আসেন। টাইমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর ক্ষমতাচ্যুতির পর দেশের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান বিরোধীদলীয় রাজনীতির কর্মী থেকে সম্ভাব্য জাতীয় নেতা হিসেবে উঠে আসেন। প্রায় ১৭ বছর দেশের বাইরে থাকার পর তিনি আরও সংগঠিতভাবে রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন এবং একটি বড় নির্বাচনী সাফল্যের মাধ্যমে নিজের অবস্থান দৃঢ় করেন। প্রতিবেদনে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার নিয়েও আলোচনা করা হয়। সেখানে বলা হয়, তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর পথ অনুসরণ করছেন। খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া তার ব্যক্তিগত  ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়ও তুলে ধরা হয়েছে। জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্বের চাপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত-র সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টিও উঠে আসে। তবে প্রতিবেদনে তার অতীতের কিছু আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও সেগুলো আদালতে খারিজ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সবশেষে টাইম উল্লেখ করে, দীর্ঘ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও নির্বাসনের পর তারেক রহমান এখন দ্রুত রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। ম্যাগাজিনকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের হামলা
হরমুজে অবরোধ: অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায়,ইরানকে দুটি নতুন শর্ত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে টানা কয়েক সপ্তাহের উত্তেজনার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎই ঘোষণা দিলেন—ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ “প্রায় শেষ”। ফক্স নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে: সত্যিই কি যুদ্ধ শেষের পথে, নাকি এটি কৌশলগত বার্তা?  যুদ্ধের সূচনা: লক্ষ্য ছিল কী? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও Iইসরায়েল–এর সমন্বিত অভিযানে ইরানের সামরিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয় ব্যাপকভাবে। ওয়াশিংটনের দাবি—এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা থামানো। ট্রাম্প সরাসরি বলেছেন, > “যদি আমরা পদক্ষেপ না নিতাম, ইরানের হাতে এখন পারমাণবিক অস্ত্র থাকত।” এই বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা কঠিন, কারণ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও তাৎক্ষণিক অস্ত্র প্রস্তুতির প্রমাণ স্পষ্ট ছিল না।  কৌশল নাকি বাস্তবতা? ট্রাম্পের “যুদ্ধ প্রায় শেষ” মন্তব্যকে বিশ্লেষকরা তিনভাবে দেখছেন:  মনস্তাত্ত্বিক চাপ:    ইরানকে দ্রুত আলোচনায় বসাতে চাপ তৈরি করা।  রাজনৈতিক বার্তা:    দেশীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী নেতৃত্বের ইমেজ তৈরি। বাস্তব সামরিক অগ্রগতি:    যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তাদের ৬ সপ্তাহের পরিকল্পনার চেয়েও দ্রুত ক্ষতি করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে—যদি যুদ্ধ শেষের পথে হয়, তাহলে কেন এখনো নৌ অবরোধ চলছে?  হরমুজে অবরোধ: অর্থনৈতিক চাপের নতুন অধ্যায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালিতে নৌ–অবরোধ জারি করেছে। প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজ এই অবরোধ ভাঙতে পারেনি বলে দাবি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের তাৎপর্য বিশাল: * বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ এই পথ দিয়ে যায় * ভারতসহ বহু দেশের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে * ইরানের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার আরও কঠিন হয়ে পড়বে  ভেঙে যাওয়া আলোচনা, আবার নতুন উদ্যোগ পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টার বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরও আলোচনার দরজা বন্ধ হয়নি। নতুন করে বৈঠকের উদ্যোগ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স । তবে সমস্যা একটাই—অবিশ্বাস। ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি “পূর্ণ অনাস্থা” প্রকাশ করে আসছে। আর ভ্যান্স নিজেও স্বীকার করেছেন: > “এই অবিশ্বাস এক রাতে দূর করা সম্ভব নয়।”  যুদ্ধবিরতি: ভঙ্গুর শান্তি বর্তমানে দুই সপ্তাহের একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলছে, যার মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। এই সময়ের মধ্যে: * নতুন বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা * শান্তি চুক্তির চেষ্টা * অথবা আবার সংঘাতের পুনরারম্ভ সবকিছুই অনিশ্চিত। মানবিক ও আঞ্চলিক প্রভাব সংঘাতের প্রভাব শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নয়: * লেবানন–এ হামলায় বহু হতাহত * ব্যাপক বাস্তুচ্যুতি * মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নিরাপত্তা সংকট ট্রাম্প নিজেই বলেছেন, ইরান পুনর্গঠনে “২০ বছর” সময় লাগতে পারে—যা যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি মানবিক মূল্যকে সামনে আনে। আসল প্রশ্ন: যুদ্ধ শেষ, নাকি নতুন খেলা? ট্রাম্পের দাবি—“যেকোনো সময় চাইলে যুদ্ধ শেষ করা সম্ভব।” কিন্তু বাস্তবতা বলছে: * সামরিক অভিযান পুরোপুরি থামেনি * অর্থনৈতিক অবরোধ চলছে * কূটনৈতিক অচলাবস্থা এখনো কাটেনি তাই বিশ্লেষকদের মতে, এটি যুদ্ধের শেষ নয়—বরং নতুন এক পর্যায়ে প্রবেশ।   এই সংঘাত এখন এক জটিল মোড়ে দাঁড়িয়ে— যেখানে যুদ্ধ, কূটনীতি এবং ভূরাজনীতি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ট্রাম্পের “যুদ্ধ প্রায় শেষ” মন্তব্য হয়তো আশার ইঙ্গিত, কিন্তু মাটির বাস্তবতা বলছে— **শেষের আগে এখনো অনেক অধ্যায় বাকি।**    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার
যুদ্ধে ইরানের ক্ষয়ক্ষতি ২৭০ বিলিয়ন ডলার

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : চলমান যুদ্ধে ইরানের প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বলে জানিয়েছে দেশটি। তবে সরকারের একজন মুখপাত্র সতর্ক করে বলেছেন, এটি কেবল প্রাথমিক হিসাব এবং চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বেশি হতে পারে। ইরানি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আরআইএ নভোস্তি এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতেমে মোহাজেরানি এই হিসাব তুলে ধরেন। মোহাজেরানি বলেন, ‘আমাদের আলোচনাকারী দল যেসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে এবং ইসলামাবাদ বৈঠকেও যা গুরুত্ব পেয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ। সাধারণত ক্ষয়ক্ষতি বেশ কয়েকটি স্তরে পরীক্ষা করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের বর্তমান ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৭০ বিলিয়ন ডলার ধরা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
হামলার হুমকি ইরানের
সব বন্দরে হামলার হুমকি ইরানের

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে দেশটির সব বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ-অবরোধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সোমবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বৃদ্ধি এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই ঘোষণার পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তারা পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সব বন্দর অনিরাপদ করে তোলার হুমকি দিয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এ খবর জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সোমবার জানিয়েছে, পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের নিরাপত্তা হয় সবার জন্য থাকবে, নয়তো কারো জন্য নয়। এই অঞ্চলের কোনও বন্দরই নিরাপদ থাকবে না। দেশটির সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকেও একই ধরনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার ইডিটি সময় সকাল ১০টা (ইরান সময় বিকাল সাড়ে পাঁচটা) থেকে এই অবরোধ শুরু হবে। ইরানি বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া সব দেশের জাহাজের ওপর সমানভাবে এই অবরোধ কার্যকর করা হবে। তবে আগের ঘোষণা থেকে কিছুটা সরে এসে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানি ছাড়া অন্য দেশের বন্দরগুলোর মধ্যে চলাচলকারী জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের সুযোগ পাবে। লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্সের মতে, অবরোধের ঘোষণার পর থেকে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। যুদ্ধবিরতির পর এ পর্যন্ত মাত্র ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করেছে, যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩৫টি জাহাজ যাতায়াত করত।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ
ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি,ইসরায়েলের ব্যয় ১১.৫ বিলিয়ন ডলার

 ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বড় ধরনের ড্রোন ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নজরদারি ও আক্রমণাত্মক ড্রোন ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রকাশিত তথ্যে বলা হয়, সংঘর্ষ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী মোট **২৪টি এমকিউ-৯ রিপার  ড্রোন** হারিয়েছে। এর মধ্যে মাসের শুরুতে ক্ষতির সংখ্যা ছিল ১টি, অর্থাৎ ১ থেকে ৯ এপ্রিলের মধ্যেই অতিরিক্ত আরও **৮টি ড্রোন ভূপাতিত হয়েছে** বলে উল্লেখ করা হয়। এসব ড্রোন ধ্বংসে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ **৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরও বেশি** হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, এসব হামলার কেন্দ্রবিন্দু ছিল মূলত ইরানের শিরাজ এবং কিশ দ্বীপের আশপাশের অঞ্চল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News-এর বরাতে এই তথ্য সামনে আসে বলে দাবি করা হয়েছে।   উচ্চমূল্যের নজরদারি ড্রোন হারানোর অভিযোগ একই সময়ে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত সম্পদ হারানোর আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ব্যবহৃত **MQ-4C Triton** নামের একটি উচ্চমূল্যের নজরদারি ড্রোন নিখোঁজ বা ধ্বংস হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় **২৫০ মিলিয়ন ডলার**। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি ইরানি বাহিনী ভূপাতিত করেছে বলে সন্দেহ করা হলেও বিষয়টি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ নিশ্চিত নয়।    উদ্ধার অভিযানেও ক্ষতির দাবি আরও দাবি করা হয়েছে যে, ভূপাতিত একটি **F-15E Strike Eagle** যুদ্ধবিমানের দুই পাইলটকে উদ্ধারের সময় অতিরিক্ত দুইটি MQ-9 ড্রোনও হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনাও সংঘাতের ঝুঁকি ও অপারেশনাল জটিলতা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের মন্তব্যে উঠে আসে।  আঞ্চলিক ড্রোন সংঘর্ষে অন্যান্য পক্ষ একই সংঘাতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, মিত্র দেশগুলোর ড্রোনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ড্রোন—যার মধ্যে ইসরায়েলের হারমিস সিরিজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উইন লং ড্রোন—ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।    ক্ষেপণাস্ত্র সংকট ও কৌশলগত চাপের ইঙ্গিত বিশেষজ্ঞদের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এই উচ্চ হারে ড্রোন ক্ষতির পেছনে একটি কৌশলগত কারণ থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় তারা তুলনামূলকভাবে কম খরচের ও স্বল্পপাল্লার অস্ত্র ব্যবহারে বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এর ফলে ব্যয়বহুল ড্রোনগুলোকে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ মিশনে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ক্ষতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।   ইসরায়েলের যুদ্ধ ব্যয়: বিলিয়ন ডলারের চাপ অন্যদিকে, একই সময়পর্বে **ইসরায়েল রাষ্ট্রের** যুদ্ধ-সংক্রান্ত ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে ইসরায়েলের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় **১১.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার**। এই ব্যয় দেশের অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ প্রভাব এখনও পুরোপুরি নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি।   প্রতিরক্ষা খাতে সবচেয়ে বড় ব্যয় সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মোট ব্যয়ের বড় অংশ গেছে প্রতিরক্ষা খাতে। প্রায় **২২ বিলিয়ন শেকেল** ব্যয় হয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা ও অন্যান্য নিরাপত্তা খাতে। এই ব্যয় ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের বাজেট কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   ক্ষতিপূরণ ও সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ, ব্যবসায়িক ক্ষতি এবং কর্মীদের বেতনহীন ছুটির জন্য প্রায় **১২ বিলিয়ন শেকেল** বরাদ্দ ধরা হয়েছে। এছাড়া হাসপাতাল পরিচালনা, জরুরি সেবা এবং সামাজিক খাতে অতিরিক্ত প্রায় **১ বিলিয়ন শেকেল** ব্যয় হচ্ছে।  অর্থনৈতিক অবস্থান নিয়ে সরকারের বক্তব্য ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণে দেশটির অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে আরও বাড়তে পারে—এমন ইঙ্গিতও বিশ্লেষণগুলোতে উঠে এসেছে।  সামগ্রিক চিত্র সব মিলিয়ে, ড্রোন যুদ্ধ, আঞ্চলিক সামরিক সংঘাত এবং বিপুল প্রতিরক্ষা ব্যয় মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। একদিকে প্রযুক্তিনির্ভর যুদ্ধক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের ড্রোন ক্ষয়ক্ষতি, অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় বাজেটে ক্রমবর্ধমান সামরিক ব্যয়—দুই দিক থেকেই সংঘাতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রভাব গভীর হচ্ছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালীতে নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক ড্রোন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন  হরমুজ প্রণালীর আকাশে নজরদারি মিশন শেষে ফেরার পথে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের এই ড্রোনটি উড্ডয়নের মাঝপথে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। খবর এনডিটিভি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন সম্পন্ন করে ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা ঘাঁটিতে ফেরার পথে ছিল। উড্ডয়নের সময় হঠাৎ এটি ইরানের দিকে কিছুটা মোড় নেয় এবং ‘৭৭০০’ কোড (সাধারণ জরুরি পরিস্থিতির সংকেত) পাঠায়। এরপর দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই রাডার থেকে হারিয়ে যায়।ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি ভূপাতিত করা হয়েছে—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দিন আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক ড্রোনগুলোর একটি, যার মূল্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।প্রচলিত বিমান থেকে ভিন্ন, এই ড্রোন দীর্ঘ সময় ধরে কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম। সমুদ্রপথের গুরুত্বপূর্ণ সংকীর্ণ অঞ্চল বা ‘চোকপয়েন্ট’-এ টানা নজরদারির জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি। এটি প্রায়ই পি-৮এ টহল বিমানের জন্য উচ্চ আকাশ থেকে তথ্য সরবরাহ করে থাকে।যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন উপসাগরীয় অঞ্চলে নজরদারির জন্য এসব ড্রোন মোতায়েন করা হয়ে থাকে। ড্রোনটির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ইত্তেহাদ  নিউজ
ইত্তেহাদ নিউজ: নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশনে নতুন দিগন্ত

ইত্তেহাদ  নিউজ:    ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad.News) একটি জনপ্রিয় অনলাইন সংবাদমাধ্যম। ডিজিটাল যুগে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পৌঁছে দিতে “ইত্তেহাদ নিউজ” ইতোমধ্যেই পাঠকদের আস্থার জায়গা করে নিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ সংবাদকর্মীদের সমন্বয়ে এই প্ল্যাটফর্মটি তাৎক্ষণিক খবর সংগ্রহ করে প্রচার করছে। ইত্তেহাদ নিউজের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ের খবর তারা গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে, কারণ তারা সহজ ভাষায় এবং দ্রুত সময়ে আপডেট পেয়ে থাকে। যাত্রার শুরু: ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে একঝাঁক স্বপ্নবাজ সংবাদকর্মীর হাত ধরে ইত্তেহাদ নিউজের পথচলা শুরু হয়। মূলত প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং সমস্যাগুলোকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরাই ছিল এই সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক লক্ষ্য।   মূল লক্ষ্য ও আদর্শ: ইত্তেহাদ নিউজ শুরু থেকেই 'সততা ও সাহসিকতা' এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে। প্রবাসীদের খবরের পাশাপাশি ডিজিটাল ও স্মার্ট সাংবাদিকতার ধারায় নতুন মাত্রা যোগ করতে তারা সদা সচেষ্ট। বিশেষ করে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে তারা পাঠকদের আস্থা অর্জন করেছে।   ডিজিটাল বিবর্তন: আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে ইত্তেহাদ নিউজ তাদের প্ল্যাটফর্মকে সাজিয়েছে। তাদের প্রকাশিত সংবাদগুলো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে পাঠকদের কাছে পৌঁছে যায়, যা তাদের একটি শক্তিশালী অনলাইন উপস্থিতিতে পরিণত করেছে।   জনপ্রিয়তার কারণ: সংবাদ: বিদেশের মাটিতে থাকা বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে এবং তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে তাদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা: ইত্তেহাদ নিউজ দুর্নীতি, অনিয়ম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশে সোচ্চার । নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন: দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে সঠিক সংবাদটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তারা প্রশংসিত। প্রান্তিক মানুষের কথা: সমাজের কৃষক, শ্রমজীবী ও সাধারণ জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টি করাকে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব মনে করে। সহজবোধ্য উপস্থাপনা: আধুনিক ও স্মার্ট ডিজাইনের মাধ্যমে সংবাদগুলো সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য করা হয়েছে। সাংবাদিকতার নীতিমালা: সততা,নিরপেক্ষতা এবং নির্ভরযোগ্যতাকে তাদের মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে । কোনো সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই বা Fact-check করার ওপর গুরুত্বারোপ করে ।   অনুসন্ধানী সংবাদ ইত্তেহাদ নিউজ (Etihad.news) তাদের সাহসী এবং অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জন্য পরিচিত। বিশেষ করে সরকারি প্রকল্পের অনিয়ম এবং প্রশাসনের অব্যবস্থাপনা নিয়ে তাদের সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদন বেশ সাড়া ফেলেছে। ইত্তেহাদ নিউজের অনুসন্ধানী সংবাদের বৈশিষ্ট্য: তথ্যভিত্তিক প্রমাণ: তারা কেবল অভিযোগ নয়, বরং নথিপত্র ও তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ পরিবেশন করে। জনস্বার্থ: সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা কোথায় অপচয় হচ্ছে বা প্রবাসীরা কোথায় প্রতারিত হচ্ছে—এগুলোই তাদের মূল ফোকাস। নিরপেক্ষতা: রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে সরাসরি অনিয়মের মূল হোতাদের নাম প্রকাশে তারা পিছপা হয় না।   কাজের ক্ষেত্র: বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সমসাময়িক ঘটনাবলি এবং রাজনৈতিক সংবাদ পরিবেশন । প্রবাসী কমিউনিটির সুখ-দুঃখ এবং বিশেষ সংবাদের ওপর বিশেষ গুরুত্ব প্রদান । সমাজের প্রান্তিক ও নিপীড়িত মানুষ, যেমন—শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো তুলে ধরা ।   বর্তমান সময়ে ইত্তেহাদ নিউজ কেবল একটি সংবাদ মাধ্যম নয়, বরং পাঠকদের আস্থার একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি ইত্তেহাদ নিউজ তাদের অনলাইন প্ল্যাটফর্মে লাইভ আপডেট সেবা চালু করেছে, যা পাঠকদের কাছে ঘটনাস্থলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরছে। পাশাপাশি ভুয়া খবর প্রতিরোধে তারা কঠোর নীতিমালা অনুসরণ করছে। এমন উদ্যোগ গণমাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন আনছে। ভবিষ্যতে ইত্তেহাদ নিউজ আরও আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।    

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0