Brand logo light
সংবাদ

টাইর ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক: নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের জরুরিভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (৯ জুন) জারি করা এই নির্দেশনার আওতায় শহরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল এবং আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, টাইর শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ করা যেকোনো স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ টাইর?

ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী টাইর শুধু দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রধান শহরই নয়, এটি দেশটির অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। শহরটিতে মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, টাইরের মতো জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সাধারণত বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যখন নির্দেশনাটি শহরের বিস্তৃত আবাসিক অঞ্চল ও শরণার্থী শিবির পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তখন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।

গোলাবর্ষণের খবর, নীরব আইডিএফ

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে টাইর জেলার মানসুরি ও মাজদাল জুন এলাকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।

তবে এসব হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ।

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তুচ্যুত হওয়া সবসময় সহজ নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য স্থানান্তর একটি বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

টাইরের বাসিন্দাদের অনেকেই ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কত সংখ্যক মানুষ এই নির্দেশনার আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

আঞ্চলিক উত্তেজনা কোন দিকে যাচ্ছে?

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন অভিযান এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বেড়েছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নতুন মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। টাইর শহরের জন্য জারি করা সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ

View more
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর
টাইর ছাড়ার নির্দেশ, বাড়ছে আতঙ্ক: নতুন সংঘাতের আশঙ্কায় দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক শহর

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দক্ষিণ লেবাননের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় শহর টাইরের বাসিন্দাদের জরুরিভাবে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। মঙ্গলবার (৯ জুন) জারি করা এই নির্দেশনার আওতায় শহরের খ্রিস্টান অধ্যুষিত অঞ্চল এবং আশপাশের শরণার্থী শিবিরগুলোও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আইডিএফের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিখাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন, টাইর শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত স্থাপনার কাছাকাছি অবস্থান করা বেসামরিক মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সন্দেহ করা যেকোনো স্থাপনা সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে। কেন গুরুত্বপূর্ণ টাইর? ভূমধ্যসাগর তীরবর্তী টাইর শুধু দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রধান শহরই নয়, এটি দেশটির অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিত। শহরটিতে মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের বসবাস রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, টাইরের মতো জনবহুল এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সাধারণত বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে যখন নির্দেশনাটি শহরের বিস্তৃত আবাসিক অঞ্চল ও শরণার্থী শিবির পর্যন্ত বিস্তৃত হয়, তখন সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। গোলাবর্ষণের খবর, নীরব আইডিএফ লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে টাইর জেলার মানসুরি ও মাজদাল জুন এলাকার উপকণ্ঠে গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি আইডিএফ। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক তৎপরতা ও নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে নতুন করে সংঘাত বিস্তারের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বেসামরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ মানবাধিকার পর্যবেক্ষকদের মতে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও দ্রুত বাস্তুচ্যুত হওয়া সবসময় সহজ নয়। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু, অসুস্থ ব্যক্তি এবং শরণার্থী পরিবারগুলোর জন্য স্থানান্তর একটি বড় মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। টাইরের বাসিন্দাদের অনেকেই ইতোমধ্যে শহর ছেড়ে নিরাপদ অঞ্চলের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। তবে কত সংখ্যক মানুষ এই নির্দেশনার আওতায় পড়েছেন, সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আঞ্চলিক উত্তেজনা কোন দিকে যাচ্ছে? ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতা গত কয়েক মাসে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় পাল্টাপাল্টি হামলা, ড্রোন অভিযান এবং গোলাবর্ষণের ঘটনা ক্রমেই বেড়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই উত্তেজনা আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তাহলে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নতুন মানবিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। টাইর শহরের জন্য জারি করা সর্বশেষ সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৯, ২০২৬ 0
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

জাল স্বাক্ষর অভিযোগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবন ও দলীয় কার্যালয়ে সিআইডি অভিযান

মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজার বিদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় ৫ মাসে ৩০ হাজার বিদেশি আটক, কঠোর হচ্ছে ইমিগ্রেশন অভিযান

ট্রাম্প-মোজতবা খামেনি

মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান ট্রাম্প, নতুন ইরানি নেতাকে ঘিরে বাড়ছে রহস্য

ইরাকের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান
ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আইআরজিসির বিমান ও স্থল অভিযান শুরু

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরাকের উত্তরাঞ্চলে সক্রিয় সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করেছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিমান ও স্থল—দুই ধরনের সমন্বিত হামলা নিয়ে পরিচালিত এই অভিযানকে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (৩১ মে) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির স্থল বাহিনী অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু, হামলার স্থান কিংবা কোন কোন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে—সেসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত অভিযান থেকে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, সে সম্পর্কেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ফলে অভিযানের প্রকৃত ব্যাপ্তি এবং মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের পার্বত্য সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ইরান-বিরোধী সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি রয়েছে। তেহরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠী সীমান্তবর্তী এলাকাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের ভেতরে নিরাপত্তা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমান্তে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা দেশটির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সীমান্তঘেঁষা এলাকায় সংঘর্ষ, অনুপ্রবেশ এবং সশস্ত্র তৎপরতা বৃদ্ধির অভিযোগ বারবার সামনে এসেছে। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই অভিযান? আইআরজিসির সর্বশেষ এই পদক্ষেপ এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে, প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পরিচালিত সশস্ত্র কার্যক্রম তার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা, এই অভিযান শুধু সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করার প্রচেষ্টা নয়; একই সঙ্গে এটি একটি রাজনৈতিক বার্তাও বহন করে। এর মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে যে, সীমান্তবর্তী অঞ্চলে যেকোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির বিরুদ্ধে তারা প্রয়োজন হলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। আঞ্চলিক প্রভাবের প্রশ্ন অভিযানটি ইরান-ইরাক সীমান্ত অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। যদিও অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত, তবু এটি স্পষ্ট যে সীমান্তবর্তী কুর্দি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা ও সশস্ত্র তৎপরতা নিয়ে তেহরানের উদ্বেগ আগের মতোই বহাল রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিযানের পরবর্তী ধাপ, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া এবং ইরাকের অবস্থান—এসব বিষয় আগামী দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলছে ইসরাইলি বাহিনী

নাবাতিয়েহ ঘিরে ফেলছে ইসরাইল? দক্ষিণ লেবাননে নতুন সামরিক অগ্রযাত্রায় সংঘাতের আশঙ্কা

দিল্লির মেহরৌলিতে পাঁচতলা ভবন ধস: নিহত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকার আশঙ্কা

গাজায় ইসরাইলি হামলায় চার শিশুসহ অন্তত ১০ জন নিহত

গাজায় যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরাইলি হামলা, নিহত ১০: ৩ হাজারের বেশি লঙ্ঘনের অভিযোগ

ঈদুল আজহায় সারাদিন ‘গো-সেবা’ করলেন শুভেন্দু
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম ঈদ: রেড রোডে নামাজ বন্ধ, কোরবানিতে কড়াকড়ি, মুসলিম সমাজে উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকারের প্রথম ঈদ: বদলে গেল রেড রোডের ঐতিহ্য, কোরবানিতে কড়াকড়ি ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবারের ঈদুল আজহা পালিত হয়েছে এক ভিন্ন বাস্তবতায়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক রীতিনীতিতে পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে ঈদের প্রধান জামাত থেকে শুরু করে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়ও। নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় একটি অংশের মধ্যে উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা ও চাপা অসন্তোষের চিত্র সামনে এসেছে। সম্প্রতি বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীপশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজ্যে প্রশাসনিক নীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সরকার জনসমাগম ও ধর্মীয় কার্যক্রম নিয়ে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। রেড রোডে ঈদের জামাত বন্ধ দশকের পর দশক ধরে কলকাতার ঐতিহাসিক রেড রোডে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এটি ছিল একটি প্রতীকী আয়োজন, যেখানে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন। তবে এবার সেই চিত্র বদলে গেছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রশাসন রেড রোডে ধর্মীয় সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে ঈদের প্রধান জামাত সরিয়ে নেয় কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে। সরকারের যুক্তি ছিল—জনসড়কে ধর্মীয় জমায়েত সীমিত করা। ঈদের দিন শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন, নজরদারি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। যদিও প্রশাসন দাবি করেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোরবানিতে কড়াকড়ি, গরুর হাটে ভাটা এবারের ঈদে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে কোরবানির ব্যবস্থাপনায়। পশ্চিমবঙ্গে পশু জবাই সংক্রান্ত পুরোনো আইন কঠোরভাবে কার্যকর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। প্রশাসনের পূর্বানুমোদন ছাড়া প্রকাশ্যে পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয় এবং নির্দিষ্ট স্থান বা ব্যক্তিগত পরিসরে কোরবানি সম্পন্ন করার নির্দেশনা জারি করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। ফলে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকার গরুর হাটে বেচাকেনা কমে যায় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। অনেক বিক্রেতার অভিযোগ, প্রশাসনিক নজরদারি ও অনিশ্চয়তার কারণে ক্রেতারা আগের মতো আগ্রহ দেখাননি। তবে সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল বলছে, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ এবং আইনশৃঙ্খলার বিষয় বিবেচনায় এনে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বার্তা নাকি ব্যক্তিগত বিশ্বাস? ঈদ উপলক্ষে রাজনৈতিক সৌজন্যের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন ছিল স্পষ্ট। পূর্ববর্তী বছরগুলোতে রাজ্য সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে ঈদের শুভেচ্ছা ও প্রকাশ্য অংশগ্রহণ দেখা গেলেও এবার সেই চিত্র অনেকটাই অনুপস্থিত ছিল বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। ঈদের দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মায়াপুরের ইসকন মন্দির পরিদর্শন এবং ‘গো-সেবা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সমর্থকদের দাবি, এটি ছিল তার ব্যক্তিগত ধর্মীয় অনুশীলন। অন্যদিকে সমালোচকদের একাংশ এটিকে রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন। সামাজিক মাধ্যমে হতাশা ও আবেগ ঈদের পর পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন মুসলিম নাগরিকের ফেসবুক পোস্ট ও অনলাইন প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ও বঞ্চনার অনুভূতি উঠে এসেছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, বহু পরিবার অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে কোরবানি দিতে পারেনি। আবার অনেকে লিখেছেন, এবারের ঈদ ছিল “নিঃশব্দ ও সংযত”। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েকটি পোস্টে “সংখ্যাগুরুর রাজনীতি”, “সাংস্কৃতিক সংকোচন” এবং “ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রশ্ন” নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এসব মন্তব্যের স্বাধীন যাচাই সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে, এবারের ঈদুল আজহা ছিল তার প্রথম বড় পরীক্ষাগুলোর একটি। পরিবর্তনের সূচনা নাকি সাময়িক পরিস্থিতি? নতুন সরকারের সমর্থকরা বলছেন, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিপরীতে বিরোধী মহল ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একটি অংশের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপ সামাজিক সহাবস্থান ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এই পরিবর্তন ভবিষ্যতে কতটা গভীর প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তবে এবারের ঈদুল আজহা রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক, রাজনৈতিক বার্তা এবং প্রশাসনিক নীতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছে—এ নিয়ে খুব কমই দ্বিমত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৯, ২০২৬ 0
৪০ কিলোমিটার ঘুরেও মেলেনি এক কেজি মাংস, ভাইরাল বাংলাদেশির পোস্ট

৪০ কিলোমিটার ঘুরেও মেলেনি এক কেজি মাংস, ভাইরাল বাংলাদেশির পোস্ট

ফ্লোটিলার কর্মীদের আটকে ধর্ষণের অভিযোগ ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে

গাজা ফ্লোটিলা কর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ: যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি

তুলসি গ্যাবার্ড

ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়লেন তুলসি গ্যাবার্ড, স্বামীর ক্যান্সার চিকিৎসার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0