বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’? নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে তদন্ত বিল আটকে ঘুষ দাবি! বরিশাল এলজিইডির কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ বদলি আদেশও মানেননি? বরিশাল এলজিইডিতে তদন্ত শুরু ঠিকাদারদের ক্ষোভ, এলজিইডি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত কমিটি বরিশাল এলজিইডিতে ঘুষ-কাণ্ড: নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানকে ঘিরে বিতর্ক মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিভিন্ন অনিয়ম গনমাধ্য্যমে প্রকাশিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের ২৫৯০ নং স্মারকে প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোঃ বেলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত কমিটির আহবায়ক হলেন, এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের মানব সম্পদ, পরিবেশ ও জেন্ডার বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ ছয়ফুদ্দিন, অপর দুজন সদস্য হলেন,স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী নূর-উস-শামস্। ৩ সদস্য বিশিষ্টি এ কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত পুর্বক মতামতসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রেরনের আদেশ প্রদান করেন প্রধান প্রকৌশলী। তদন্তের দিকে নজর এলজিইডির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আরও পড়ুন: বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের বিরুদ্ধে ঘুস-কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ বরিশাল এলজিইডিতে ‘কমিশন সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: বিল আটকে ঘুস দাবি, বদলি আদেশ অমান্য ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগে বিতর্কে নির্বাহী প্রকৌশলী। চলমান ও সম্পন্ন হওয়া বিভিন্ন রাস্তা ও ব্রিজের বিল ঘুস না পেলে আটকে রাখা,ঠিকাদারদের জরিমানা মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টকা ঘুস দাবী,ঘুস আদায়কারী অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বদলী আদেশ আটকে রাখা,এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ না মানা,ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশ দেয়ার সাথে শতকরা ১ ভাগ কমিশন আদায় করা,রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রে শতকরা ২ থেকে ৩ ভাগ কমিশন আদায়সহ অসংখ্য অভিযোগ। দুর্নীতি ও ঘুসসহ বিভিন্ন অভিযোগে সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে এলজিইডি। ঢাকা থেকে ঐ তদন্তকারী কর্মকর্তা বরিশালে এসে তদন্ত শুরু করলে তাকে ঘুস দিয়ে তার পক্ষে রিপোর্ট প্রদানের জন্য ব্যাপক তদবির করেন।তার দুর্নীতি, অনিয়ম, ঘুসকান্ডসহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য নেতিবাচক রিপোর্ট প্রদান করেছেন।যার বিরুদ্ধে এত অভিযোগ তিনি হলেন,বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। তবে সকল অভিযোগ অস্বিকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন, আমি আমার কার্যালয়কে পরিস্কার করতেছি।তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ প্রসঙ্গে বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলে কাজ করছি। অভিযোগের কেন্দ্রে ‘কমিশন বাণিজ্য’ : রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার বরিশাল এলজিইডিতে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেন।যোগদানের পরেই বিতর্ক যেন তার পিছু না ছাড়ে। যোগদানের পরেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিপরীতে প্রদেয় পিসি - কমিশন বাণিজ্যের কারনে প্রথমেই সমালোচিত হোন। নিজের দাপট দেখাতে তিনি লক্ষ্মীপুর -৩ আসনের এমপি ও পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির আত্মীয় পরিচয় দেয়া শুরু করেন।খোজ নিয়ে জানা গেছে মোহাম্মদ আল ইমরান পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির কোন আত্মীয় নন এমন কি কোন সম্পর্কও নেই।তিনি মোহাম্মদ আল ইমরানকে চিনেনও না। তবে মোহাম্মদ আল ইমরান কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামীলীগের সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের একজন অনুসারী।তার বাড়ি কিশোরগঞ্জে। ‘ঘুষ সংগ্রাহক’ হিসেবে এনামুল হক ! বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান যোগদান করেই অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হককে অনৈতিক পথে ঘুস গ্রহন ও ঘুস সংগ্রহ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগ করেন।বিল ও কার্যদেশের ব্যাপারেও এনামুল হকের সাথে আগেভাগেই ঠিকাদারদের যোগাযোগ করতে হয়।এনামুলের গ্রীন সিগনাল ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান কোন ফাইলে স্বাক্ষর করেন না। চলতি বছরের মার্চ মাসে সকল ঠিকাদার ক্ষুব্ধ হন এনামুলকে দিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘুস আদায়ের বিরুদ্ধে।এমনকি ঠিকাদাররা নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করার উদ্যোগ গ্রহন করেন।পরে ঠিকাদারদের সাথে সমঝোতা করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান। এনামুলকে বদলী,তিনদিন পর জানলেন নির্বাহী প্রকৌশলী: বদলি আদেশ নিয়েও বিতর্ক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে নির্বাহী প্রকৌশলীর অনৈতিক সুবিধা আদায়কারী প্রমানিত হওয়ার পরেই গত ১৪ মে এলজিইডির বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শরীফ মোঃ জামাল উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এনামুল হককে পিরোজপুর জেলার কাউখালী উপজেলা এলজিইডিতে এবং অপর এক অফিস আদেশে বরিশাল সদর উপজেলা এলজিইডি থেকে বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে রেহেনা আখতারকে বদলী করা হয়।আদেশগুলোতে উল্লেখ করা হয়,১৯ মে তারিখ হতে ষ্ট্যান্ড রিলিজ হিসেবে গণ্য হবে। নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস ও বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস একই দেয়ালে ঘেরা।দুরত্ব একশত হাতেরও কম।তবুও ১৪ মে তারিখের আদেশ নির্বাহী প্রকৌশলী পেলেন ১৭ মে। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অফিস আদেশ পেয়েও এনামুল হককে ছাড়তে নারাজ নির্বাহী প্রকৌশলী। এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান বলেন,আমি ঢাকায় কথা বলেছি।আমার অফিসের ব্যাপার বাইরে কেন।তবে তিনি বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য'র সুরে বলেন,আমার অফিসের ব্যাপারে আমি সিদ্ধান্ত নিব।আমি ঢাকায় কথা বলেছি।ঢাকা যে সিদ্ধান্ত দিবে তা পালন করবো। কারন হিসেবে জানা গেছে,মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। এছাড়া তিনি সাবেক বিতর্কিত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিমের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় বরিশাল অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশ পালনে ইচ্ছুক নন। তিনি বলেন রেহেনা আখতার এখানে আসতে চান না। রেহেনা আখতার জানালেন কে বলেছে আমি যেতে চাইনা। আমিতো নির্বাহী প্রকৌশলী স্যারকে বলিনি যে আমি নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তরে যোগদান করবোনা। এ ব্যাপারে এলজিইডির বরিশাল সদর উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ মাইনুল মাহমুদ বলেন, রেহেনা আখতারকে আলাদা ছাড়পত্র দেয়ার কিছু নাই।তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর আদেশই যথেষ্ট। জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা এ দিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের থেকে জরিমানার অর্থ মওকুফের নামে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। প্রতি বিল থেকে শতকরা ২ থেকে ৩ পারসেন্ট ঘুসের ব্যাপারে ঠিকাদররা ক্ষুব্ধ। কমিশন আদায়ের অভিজ্ঞ নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরান এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে সারাদেশে খাল-পুকুর প্রকল্পের উপ- প্রকল্প পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।তিনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের রাষ্ট্রপতির জেলা কিশোরগঞ্জের বাসিন্দা।এ কারণে প্রধান কার্যালয়ের উক্ত প্রকল্পে তার প্রভাব ছিল অপ্রতিরোধ্য।তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের স্কিম গ্রহণ,অনুমোদন এবং রিভাইজ ও অর্থছারের কমিশন বাণিজ্যে ছিল সিদ্ধহস্ত ।পরবর্তীতে সাবেক অভিযুক্ত প্রধান প্রকৌশলী জাবেদ করিম দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপদেষ্টাকে ম্যানেজ করে বরিশাল জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর পথটি ভাগিয়ে নেন। অভিযোগ জানা গেছে, জেলা পর্যায়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা না থাকলেও স্থানীয় ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ে যথেষ্ট অভিজ্ঞ। রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশন এছাড়া রিভাইজ স্কিম অনুমোদনে চাহিদা অনুযায়ী কমিশন নেয়া ও বিল প্রদানের ক্ষেত্রেও ২ থেকে ৩ পারসেন্ট কমিশনের দাবি পূরণের বিষয়টি ঠিকাদারদের কাছে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা বিব্রত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাহী প্রকৌশলীদের ফিল্ড পর্যায়ে কাজ পরিদর্শনের রীতি থাকলেও তিনি দপ্তরে বসেই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। ঠিকাদারদের কাছ থেকে অধীনস্থ প্রকৌশলীর মাধ্যমে কমিশন আদায় চাপ প্রয়োগ করার কারণে নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, কর্মচারীরা চরম ক্ষুব্ধ। নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, বিগত সময় কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এভাবে ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন আদায়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতেন না। এছাড়া কমিশনের টাকা এককভাবে নেওয়ার অভিযোগ ও রয়েছে। বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল নাম প্রকাশে অনচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, একটি রিভাইজ স্কিম অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে প্রেরণের ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থ দাবি করেছেন।যা বিগত সময়ের কোন নির্বাহী প্রকৌশলী এ অর্থ দাবি করেনি।অন্য একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক বলেন, হঠাৎ করে নির্বাহী প্রকৌশলী তার সাইট পরিদর্শনের কথা বলে সরে জমিনে পরিদর্শন পূর্বক ত্রুটির বিচ্যুতির কথা উল্লেখ করে বিভিন্ন বাহানায় অর্থ প্রাপ্তির কৌশল অবলম্বন করেন। এক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো তার অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করার স্থির করেন। নির্বাহী প্রকৌশলী আল ইমরানের অনৈতিক পথে অর্থ সংগ্রহের বিষয়টি তদারকি করেন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক মোঃ এনামুল হক। নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী অভিজ্ঞজনদের মতে, জনস্বার্থে সরকারের আর্থিক সদ্ব্যবহার ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে অর্থলোভী ও কমিশন বাণিজ্যের হোতা বরিশাল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আল ইমরানকে বদলী ও শাস্তিমুলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।নচেৎ এলজিইডি বরিশালের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়সহ বিভগের সকল জেলা ও উপজেলা এলজিইডি অফিসে চেইন্ড অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে। তাকে বদলী করা না হলে বরিশাল জেলায় জনদুর্ভোগ ও জনরোষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতের নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ঘিরে বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। মেডিকেল টেকনিশিয়ান ও টেকনোলজিস্ট নিয়োগে অন্তত ৪০ কোটি টাকার ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে জড়িত থাকার আশঙ্কায় রয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. শামিউল ইসলাম সাদীসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চলমান অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে এমন তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নথি তলবেও অনীহা অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট নথি চেয়ে নোটিশ দিলেও প্রথমে সাড়া দেয়নি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়ে শেষ নোটিশ পাঠানো হলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করা হয়। দুদকের আইনের ১৯(৩) ধারায় বলা হয়েছে, কমিশনের নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ড হতে পারে। দুদকের অবস্থান দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম জানিয়েছেন, “অনুসন্ধান এখনো চলমান। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করা হবে। এরপর অনুমোদনের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।” নিয়োগ প্রক্রিয়া ও অভিযোগের সূত্র করোনাভাইরাস মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে ৮৮৯ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ১৮০০ জন টেকনিশিয়ান নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন সরকার। এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ঘুষের বিনিময়ে অন্তত ১৬১ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ভিত্তিতেই ২০২৪ সালে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের পরিধি দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম নিম্নোক্ত নথিপত্র যাচাই করছে: আবেদনপত্র প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার হাজিরা শিট মূল্যায়িত উত্তরপত্র ভাইভা পরীক্ষার নম্বর চূড়ান্ত ফলাফল নিয়োগপত্র সম্ভাব্য বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন এসব নথি বিশ্লেষণে নিয়োগ বাণিজ্যের প্রমাণ মিলেছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বিদ্যুৎ লাইসেন্স প্রদানকে কেন্দ্র করে ঘুষের অভিযোগে করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট দফতর নড়েচড়ে বসেছে। তবে এখন পর্যন্ত গৃহীত পদক্ষেপ সীমাবদ্ধ রয়েছে দুই নিম্নপদস্থ কর্মচারীর বদলিতে—যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি শুধুই ‘লোক দেখানো ব্যবস্থা’। শনিবার (২৫ এপ্রিল) উপপ্রধান বিদ্যুৎ পরিদর্শক ও কল্যাণ বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী আতাউর রহমান মোল্লা জানান, অফিস সহায়ক সাখাওয়াত হোসেন বাবু এবং অফিস সহকারী উইলিয়াম হোসেনকে শিগগিরই বদলি করা হবে। এ বিষয়ে আদেশ এক-দু’দিনের মধ্যেই জারি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে দুর্নীতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভাগীয় তদন্ত, সাময়িক বরখাস্ত কিংবা ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো অবস্থান জানাননি। এতে করে জবাবদিহি নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। দফতরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের পর চাপের মুখে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে তাদের দাবি, প্রকৃত দায়ীদের আড়াল করতেই এই পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এমন একটি ঘুষ-বাণিজ্যে কেবল দুই নিম্নপদস্থ কর্মচারীর সম্পৃক্ততা বিশ্বাসযোগ্য নয়। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, লাইসেন্স বাণিজ্যের আড়ালে গড়ে ওঠা একটি সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল, যার নেতৃত্বে রয়েছেন প্রকৌশলী আতাউর রহমান মোল্লা। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষের অর্থের একটি অংশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছেও পৌঁছাতো। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে এখনো দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদিকে, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “এই খাতে দুর্নীতি দীর্ঘদিনের। শুধুমাত্র বদলি দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের সরাসরি হস্তক্ষেপ।” তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্টদের সম্পদের হিসাব যাচাই জরুরি। “যদি নিম্নপদস্থ কর্মচারীর এত সম্পদ থাকে, তাহলে উচ্চপদস্থদের আয় কত—সে প্রশ্নও ওঠে,” যোগ করেন তিনি। ৬৬৪ কোটি টাকার ঘুষের অভিযোগ সামনে আসার পর ঘটনাটি এখন বড় ধরনের জনআলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই অভিযোগ কি শুধুই প্রশাসনিক বদলির মাধ্যমে চাপা পড়ে যাবে, নাকি প্রকৃত অর্থেই জবাবদিহির প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সাভারে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনকে ঘিরে ঘুষ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ব্যক্তিগত আচরণ সংক্রান্ত একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। চাকরি জীবন ও পদায়নের পটভূমি টাঙ্গাইল জেলার মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেওয়া জাকির হোসেন ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট জামালপুরের বকশিগঞ্জ উপজেলায় সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে লক্ষীপুরের কমলনগর, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় নয় বছরের কর্মজীবনের মধ্যেই তিনি সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পদায়ন পান। বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ আইন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, সাভারে বদলি পেতে তিনি তৎকালীন এক প্রভাবশালী ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে প্রায় তিন কোটি টাকা দেন। অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের প্রশ্ন জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি হলো তার সম্পদ নিয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, তুলনামূলক স্বল্প বেতনের চাকরিজীবী হওয়া সত্ত্বেও গত এক বছরে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ২০ কোটি টাকার বেশি সম্পদ গড়ে তুলেছেন। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে: * তার ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। * ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট ও বাড়ি এবং নিজ এলাকায় জমি কেনার অভিযোগ রয়েছে। * এসব সম্পদের একটি অংশ আত্মীয়স্বজনের নামেও রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অফিসে আচরণ নিয়ে অভিযোগ সাভার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অভিযোগ, জাকির হোসেন নিয়মিত অফিস কক্ষে মাদক সেবন করেন এবং পরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও মামলা তার বিরুদ্ধে অতীতে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা এবং একটি আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার আসামি থাকার অভিযোগ রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে প্রশ্ন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে জানা গেলেও, সেই তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিছু সূত্রের দাবি, তদন্ত কার্যক্রম থমকে আছে। তবে এ বিষয়ে দুদকের কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য জানার চেষ্টা এই অভিযোগগুলো সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। কী বলছেন স্থানীয়রা সাভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী একজন কর্মকর্তাকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো গুরুতর হলেও, এখনো সেগুলোর অধিকাংশই অভিযোগ পর্যায়েই রয়েছে। ফলে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর—তারা কীভাবে এই অভিযোগগুলো যাচাই করে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :বাংলাদেশের সরকারি প্রকৌশল ও নির্মাণ খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান এর লাইসেন্স শাখাকে কেন্দ্র করে ঘুষ, অনিয়ম এবং প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গঠনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বলে একাধিক সূত্র দাবি করেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ । বিশেষ করে ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি সুসংগঠিত প্রভাবশালী চক্র কাজ করছে—এমন অভিযোগও রয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তর লাইসেন্স শাখা যেন ঘুষ বাণিজ্যের নতুন সাম্রাজ্য। নির্বাহী প্রকৌশলী সাকিলা ইসলাম (ওএন্ডএম) সহ বিশাল এক সিন্ডিকেট তৈরি হয়েছে লাইসেন্স শাখায়। অধিদপ্তরের বিধি-বিধান কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাকার বিনিময়ে চলছে নতুন ঠিকাদার লাইসেন্স প্রদান। লাইসেন্স শাখাকে ঘিরে অভিযোগ অনুসন্ধানে পাওয়া দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্স শাখায় নতুন ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রদান থেকে শুরু করে নবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। সূত্রগুলো বলছে, লাইসেন্সভেদে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত “অবৈধ অর্থ” দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। একাধিক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এই অর্থ একটি নির্দিষ্ট চক্রের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়। কথিত চক্র ও দায়িত্ব বণ্টন অভিযোগ অনুযায়ী, লাইসেন্স শাখার ভেতরে একটি অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক কাজ করছে, যেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হচ্ছে। সূত্রের দাবি অনুযায়ী যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন— নির্বাহী প্রকৌশলী (ওএন্ডএম) সাকিলা ইসলাম শিপন মিয়া (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. আল-আমিন (অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক) মো. অহিদুল ইসলাম (উচ্চমান সহকারী) মো. আমিনুল ইসলাম (সুপার) এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত হলেও একজন সাবেক অফিস সহায়ক মো. হান্নান দীর্ঘদিন ধরে “আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থাপনায়” যুক্ত ছিলেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। নিয়োগ ও লাইসেন্স প্রদানে বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অনুসন্ধানী সূত্রগুলোর দাবি, নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অনুমোদনের মাধ্যমে লাইসেন্স প্রদান হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। অভিযোগ রয়েছে — নির্ধারিত সময়ের পরও আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে কিছু ক্ষেত্রে মানি রিসিট টেম্পারিংয়ের অভিযোগ উঠেছে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্যাডে স্বাক্ষর ছাড়াই লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে মাঠ পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের সুপারিশ ছাড়াই অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ঈদ-পূর্ব সময়ে লাইসেন্স প্রদান নিয়ে প্রশ্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ঈদের ছুটির আগের সময়েই (১৫৬১ ও ১৫৬২ স্মারকের অধীনে) একাধিক ঠিকাদারি লাইসেন্স দ্রুততার সাথে প্রদান করা হয়, যা নিয়ে অভ্যন্তরীণ মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে হয়নি। অর্থ বণ্টন ও “সিন্ডিকেট” অভিযোগ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, লাইসেন্স প্রদান থেকে সংগৃহীত অর্থের একটি অংশ শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছায় এবং বাকি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টিত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আরও অভিযোগ রয়েছে — পোস্টিং বাণিজ্য হয়ে থাকে ঘুষের বিনিময়ে পদায়ন পাওয়া যায় একাধিক কর্মচারী অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। গুরুতর অভিযোগ ও ব্যক্তিগত চরিত্র কিছু সূত্রে আরও দাবি করা হয়েছে যে, একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক ও প্রশাসনিক অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক নীরবতা ও প্রশ্ন একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ফলে পুরো লাইসেন্স শাখার কার্যক্রম নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের লাইসেন্স শাখা নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগ একটি বড় ধরনের প্রশাসনিক ও নীতিগত সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তবে একইসাথে এটি জরুরি — নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করা নথি যাচাই ও অডিট করা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ করা
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।