Brand logo light

চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর
উদ্বোধনের আগেই ৫০ কোটি টাকার বিপিসি সদর দপ্তরে ফাটল, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নতুন সদর দপ্তর ভবন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হয়নি। কিন্তু এরই মধ্যে ভবনের একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দেওয়ায় নির্মাণমান ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চট্টগ্রাম নগরের সার্সন রোডের জয় পাহাড় এলাকায় নির্মিত পাঁচতলা ভবনটিতে সম্প্রতি কয়েকটি দেয়ালে ফাটল শনাক্ত করা হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, ফাটলগুলো দেখা দেওয়ার পর দ্রুততার সঙ্গে পুটিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে সেগুলো ঢেকে ফেলার কাজ চলছে। নির্মাণশ্রমিকদের তড়িঘড়ি মেরামত কার্যক্রম ভবনটির গুণগত মান নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। উদ্বোধনের আগেই কেন মেরামত? ভবনটির উদ্বোধনের প্রস্তুতি যখন শেষ পর্যায়ে, ঠিক তখনই ফাটল মেরামতের কাজ শুরু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণত নতুন কোনো সরকারি অবকাঠামো প্রকল্প উদ্বোধনের আগেই এমন সংস্কার কাজের প্রয়োজন দেখা দিলে নির্মাণপ্রক্রিয়া, উপকরণের মান এবং তদারকির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, ফাটলগুলো কেবল নান্দনিক সমস্যা নাকি কাঠামোগত দুর্বলতার ইঙ্গিত—তা যাচাই করা প্রয়োজন। কারণ ভবনটি দীর্ঘমেয়াদে শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রকল্প পরিচালকের ব্যাখ্যা তবে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে বড় কোনো সমস্যা হিসেবে দেখছে না। বিপিসির নতুন সদর দপ্তর নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক এবং সংস্থাটির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. আপেল মামুন দাবি করেন, ভবনে যে ফাটলগুলো দেখা গেছে সেগুলো বড় ধরনের নয়। তার ভাষ্য, নির্মাণকাজের বিভিন্ন পর্যায়ে ছোটখাটো ফাটল তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয় এবং সেগুলো পুটিং ও প্লাস্টারের মাধ্যমে মেরামত করা হচ্ছে। ভবনের সার্বিক মান নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিন দশক পর নিজস্ব ভবন বিপিসি সূত্রে জানা যায়, ১৯৯০ সাল থেকে সংস্থাটির সদর দপ্তর চট্টগ্রামে ভাড়া ভবনে পরিচালিত হয়ে আসছে। প্রথমে আগ্রাবাদের হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন ভবনে এবং পরে ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভবনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় পর নিজস্ব সদর দপ্তর নির্মাণের উদ্যোগ নেয় বিপিসি। জয় পাহাড় এলাকায় নির্মিত স্টিল স্ট্রাকচারের পাঁচতলা ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় গত বছর। প্রকল্পটির নির্মাণ দায়িত্ব পায় ইউনাইটেড করপোরেশন। ১৮০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর কর্মস্থল নতুন ভবনটি চালু হলে বিপিসির প্রায় ১৮০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী সেখানে কাজ করবেন। দেশের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিপিসি বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে। এসব তেল বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে পদ্মা অয়েল, যমুনা অয়েল ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম। নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্নের উত্তর কে দেবে? বিশেষজ্ঞদের মতে, উদ্বোধনের আগেই সরকারি অর্থায়নে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে ফাটল দেখা দেওয়া স্বাভাবিকভাবে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করে। ফাটলের প্রকৃতি, কারণ এবং ভবনের কাঠামোগত নিরাপত্তা সম্পর্কে স্বাধীন কারিগরি মূল্যায়ন হলে প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে। কারণ সরকারি অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যয়, মান নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহিতা—তিনটি বিষয়ই জনস্বার্থের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৪, ২০২৬ 0
আজ পবিত্র ঈদুল আযহা
ঈদুল আযহার জামাত ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে কঠোর নিরাপত্তা ও বিশেষ প্রস্তুতি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের বড় বড় শহর ও ঐতিহাসিক ঈদগাহগুলোতে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। সম্ভাব্য ঝড়-বৃষ্টি ও বিপুল মুসল্লির সমাগম বিবেচনায় নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, বিকল্প জামাত এবং নজরদারিতে রাখা হয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এবারের আয়োজনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও জোরদার করা হয়েছে। জাতীয় ঈদগাহে প্রধান জামাত রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বিকল্প প্রধান জামাত। ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মোকাররমে মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে—সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও ১০টা ৪৫ মিনিটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দুই দফায় জামাতের আয়োজন রাখা হয়েছে সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৮টা ৩০ মিনিটে। এছাড়া বিভিন্ন হল মসজিদ ও মাঠেও পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। গুলশান এলাকার মসজিদগুলোতেও একাধিক জামাতের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে ভোর ৫টা ৪৫ মিনিট, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট ও ৯টা ৩০ মিনিটে। প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা মহানগরীতে শতাধিক ঈদগাহ এবং দেড় হাজারের বেশি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। আবহাওয়া মোকাবিলায় বিশেষ ব্যবস্থা ঈদের দিন ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিকল্প আয়োজন রাখা হয়েছে। কোথাও ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে ঈদগাহ, কোথাও রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পলিথিন, আবার কোথাও নির্ধারণ করা হয়েছে বিকল্প মসজিদ। চট্টগ্রামের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভাব্য বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে পুরো ঈদগাহ ঢেকে দেওয়া হয়েছে ত্রিপল দিয়ে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির অংশগ্রহণের প্রস্তুতি রাখা হয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলে বিকল্প হিসেবে জমিয়াতুল ফালাহ মসজিদ প্রস্তুত রয়েছে। রাজশাহীতেও একই ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টি হলে শাহ মখদুম দরগা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় আয়োজন করা হবে। দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ বড় ময়দানেও বৃষ্টির কথা বিবেচনায় নিচু স্থানে বালু ভরাট এবং পলিথিনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। শোলাকিয়ায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা দেশের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে সবচেয়ে বিস্তৃত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। কিশোরগঞ্জের এই ঐতিহ্যবাহী মাঠে এবার অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদ জামাত। সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিতব্য জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। নিরাপত্তার অংশ হিসেবে মুসল্লিদের জায়নামাজ ছাড়া অন্য কোনো বস্তু—যেমন ছাতা, ব্যাগ বা লাঠি—নিয়ে মাঠে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। মাঠ ও আশপাশের এলাকায় চার স্তরের নিরাপত্তা বলয় গঠন করা হয়েছে। দায়িত্ব পালন করবেন প্রায় ৬০০ পুলিশ সদস্য, দুই প্লাটুন বিজিবি ও ৫৫ জন র‍্যাব সদস্য। এছাড়া বসানো হয়েছে ৬৪টি সিসিটিভি ক্যামেরা, ৭টি আর্চওয়ে গেট, ৫০টি মেটাল ডিটেক্টর এবং ৩২টি চেকপোস্ট। পুরো এলাকাকে ভাগ করা হয়েছে আটটি নিরাপত্তা সেক্টরে। দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ ট্রেন ‘শোলাকিয়া এক্সপ্রেস’। সিলেট, খুলনা ও বরিশালে প্রস্তুতি সিলেটের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। বিকল্প হিসেবে দরগাহ জামে মসজিদে দ্বিতীয় জামাতের প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে। খুলনায় সার্কিট হাউজ ময়দানে সকাল ৭টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে টাউন জামে মসজিদে আয়োজন করা হবে বিকল্প জামাত। বরিশালে প্রায় ৩৫০টি মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। নগরীর কেন্দ্রীয় জামে কসাই মসজিদ, জামে এবাদুল্লাহ মসজিদ ও সদর রোডের বায়তুল মোকাররম মসজিদে একাধিক জামাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। চরমোনাই, গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ এবং ছারছীনা দরবার শরীফেও বড় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। স্বাস্থ্যসেবা ও নজরদারিতে গুরুত্ব বিভিন্ন ঈদগাহে অস্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র, পানির ব্যবস্থা, অজুখানা ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হয়েছে। বরিশালে র‍্যাব-৮ জানিয়েছে, প্রবেশপথগুলোতে স্ক্রিনিং গেট থাকবে এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি পরিচালনা করা হবে। শোলাকিয়ায় চিকিৎসক, ওষুধ ও অ্যাম্বুলেন্সসহ মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মুসল্লিদের সুবিধার্থে অস্থায়ী অজুখানা, টয়লেট ও পানির ভ্যান স্থাপন করা হচ্ছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের চেষ্টা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, আবহাওয়া ও নিরাপত্তা—দুই চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই এবারের ঈদ জামাত আয়োজন করা হচ্ছে। দেশজুড়ে লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ধর্মীয় আয়োজন নির্বিঘ্ন রাখতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুর-চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে বুধবার ঈদুল আজহা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে সরকারি ঘোষণার আগেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করতে যাচ্ছে চাঁদপুর ও চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামের মুসল্লিরা। এই আয়োজনকে ঘিরে কয়েকটি দরবার শরীফ ও তাদের অনুসারীদের মধ্যে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি শুধু ধর্মীয় অনুশীলন নয়; বরং প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলে আসা একটি ধারাবাহিক বিশ্বাস ও অনুসৃত ঐতিহ্য। চাঁদপুরের প্রায় ৪০ গ্রামে ঈদের প্রস্তুতি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরীফসহ জেলার প্রায় ৪০টি গ্রামে বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দরবার শরীফের ঈদ জামাত কমিটির সদস্য আহমেদ রেজা চৌধুরী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদ জামাত আয়োজনের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন দরবারের পীর জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি। পরে সকাল ৯টায় সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে ইমামতি করবেন পীর মাওলানা আরিফ চৌধুরী। চাঁদপুরের পার্শ্ববর্তী ফরিদগঞ্জ উপজেলাতেও কয়েকটি গ্রামে আগাম ঈদ উদযাপন হবে। সুবিদপুর ইউনিয়নের টোরামুন্সীরহাট বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ইমামতি করবেন মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুর রহমান। একই এলাকায় টোরা ঈদগাহ ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় আরেকটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে ইমামতি করবেন মাওলানা মো. বরকত উল্যাহ। এদিকে মতলব উত্তর উপজেলার দেওয়ানকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৯টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব মাওলানা আরিফুল ইসলাম। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই উপজেলায় মোট ছয়টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ‘১৯২৮ সাল থেকে চলে আসছে প্রথা’ সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা ড. বাকীবিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও দরবার মাঠে ঈদুল আজহার জামাতের আয়োজন করা হয়েছে এবং কোরবানির পশু কেনাসহ আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয়ভাবে জানা যায়, ১৯২৮ সালে সাদ্রা দরবার শরীফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা পালনের রীতি চালু করেন। এরপর থেকে তার অনুসারীরা দেশের বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে ঈদ উদযাপন করে আসছেন। চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামেও আগাম ঈদ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার মির্জাখীল দরবার শরীফ এবং চন্দনাইশের জাঁহাগীরি শাহ সুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফের অনুসারীরাও বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন। মির্জাখীল দরবার শরীফের খানকাহ মাঠে সকাল সাড়ে ৯টায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান। দরবারের দায়িত্বশীল মোহাম্মদ মছউদুর রহমান বলেন, তাদের অনুসারীরা দীর্ঘ দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে হজ দিবসের পরদিন ঈদুল আজহা পালন করে আসছেন। তার দাবি, চাঁদের অবস্থান, আরাফাত দিবস এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেই তারা ঈদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি আরও বলেন, আরাফাতের ময়দান থেকে প্রচারিত খুতবা ও হজ কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করার পর দেশ-বিদেশে সিলসিলায়ে আলীয়া জাঁহাগীরিয়া ও মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা বুধবার ঈদের নামাজ আদায় করবেন এবং পরে কোরবানি সম্পন্ন করবেন। যেসব এলাকায় উদযাপিত হবে আগাম ঈদ মির্জাখীল দরবার শরীফের তথ্যমতে, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, দোহাজারী, কাঞ্চননগর, হারলা, বাইনজুরি, জলদী, গুনাগরি, কালিপুর, বারখাইন, চরণদ্বীপ, চুনতি, পুটিবিলা, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, পুরানগড়সহ চট্টগ্রামের শতাধিক গ্রামে তাদের অনুসারীরা বুধবার ঈদ উদযাপন করবেন। এ ছাড়া বান্দরবানের লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ি এবং কক্সবাজারের চকরিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার কয়েকটি গ্রামেও একই দিনে ঈদ পালিত হবে। রাষ্ট্রীয় ঘোষণার বাইরে আলাদা ধর্মীয় চর্চা বাংলাদেশে সাধারণত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উদযাপিত হয়। তবে কয়েকটি দরবার শরীফ ও ধর্মীয় অনুসারী গোষ্ঠী বহু বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে পৃথকভাবে রোজা ও ঈদ পালন করে আসছে। ধর্মীয় বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চর্চা দেশের মূলধারার বাইরে হলেও দীর্ঘদিন ধরে নির্দিষ্ট অনুসারীদের মধ্যে সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে অবৈধ বসতি
জঙ্গল সলিমপুরে আবার সশস্ত্র হামলা: নিয়ন্ত্রণ ও সন্ত্রাসীদের আধিপত্য

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর বহু বছর ধরেই স্থানীয়দের কাছে পরিচিত এক ভিন্ন বাস্তবতার জনপদ হিসেবে। প্রশাসনের ভাষায় এটি “ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা”, আর স্থানীয়দের কাছে—“দেশের ভেতর আরেক দেশ”। রাষ্ট্রের আইন, প্রশাসন কিংবা সরকারি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে এখানে দীর্ঘদিন বেশি কার্যকর ছিল সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নিজস্ব শাসনব্যবস্থা। পাহাড় কেটে অবৈধ বসতি, প্লট বাণিজ্য, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রনির্ভর আধিপত্যের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠে এক জটিল অপরাধ অর্থনীতি। গত জানুয়ারিতে র‌্যাব কর্মকর্তার নিহত হওয়ার ঘটনার পর বড় ধরনের অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তখন দাবি করা হয়েছিল, জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ “রাষ্ট্রের হাতে ফিরে এসেছে”। কিন্তু রবিবার মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে সশস্ত্র হামলা সেই দাবিকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। মধ্যরাতের হামলা: দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি রাত প্রায় ১টা। সীতাকুণ্ডের আলীনগর স্কুলে স্থাপিত যৌথ বাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করছিল র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও আরআরএফ সদস্যরা। হঠাৎ পাশের পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি টিনের ঘর থেকে শুরু হয় গুলিবর্ষণ। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, টিনের দেয়াল ও চালে আগে থেকেই ছোট ছোট ছিদ্র তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে ফায়ারিং পজিশন তৈরি করা হয়েছিল। আকস্মিক এই হামলার পর পাল্টা অবস্থান নেয় যৌথ বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলিতে পুরো এলাকা আতঙ্কে কেঁপে ওঠে। একই সময় সন্ত্রাসীদের আরেকটি দল পাশেই নির্মাণাধীন যৌথ বাহিনীর নতুন ক্যাম্পে হামলা চালায়। সেখানে থাকা একটি এক্সকাভেটর ব্যবহার করে ভবনের বিভিন্ন অংশ গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ক্যাম্পটির প্রায় ৯০ শতাংশ নির্মাণকাজ শেষ হয়েছিল। আগামী ৩১ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সেটি উদ্বোধনের পরিকল্পনা ছিল। হামলার পুনরাবৃত্তি কেন? জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। গত ১৯ জানুয়ারি অভিযানে গিয়ে সশস্ত্র হামলার মুখে পড়ে র‌্যাবের একটি দল। ওই ঘটনায় নিহত হন র‌্যাব কর্মকর্তা আবদুল মোতালেব। আহত হন আরও তিন সদস্য। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে বড়ইতলা এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শেষে ফেরার পথে হামলার শিকার হন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। আহত হন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উমর ফারুক, সীতাকুণ্ড থানার তৎকালীন ওসি তোফায়েল আহমেদসহ অন্তত ২০ জন। স্থানীয়দের মতে, প্রতিবারই প্রশাসন অভিযান চালালেও কিছুদিন পর পরিস্থিতি আগের অবস্থায় ফিরে যায়। পাহাড় কেটে গড়ে ওঠা ‘অপরাধ অর্থনীতি’ জঙ্গল সলিমপুরের বর্তমান বাস্তবতা মূলত পাহাড় দখল ও জমি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ‘চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদ’ নামের একটি সংগঠন ৩৪টি পাহাড় কেটে প্রায় ৫৮৬ একর সরকারি জমিতে প্রায় ১৪ হাজার প্লট তৈরি করেছে। অন্যদিকে ‘আলীনগর সমবায় সমিতি’ আরও তিনটি পাহাড় কেটে ২৩৬ একর জমিতে আড়াই হাজারের বেশি প্লট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্লট ৫ থেকে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এলাকাজুড়ে চালু রয়েছে কথিত “টোকেন সিস্টেম”। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিয়ে টোকেন সংগ্রহের মাধ্যমে পাহাড় কাটার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর সেই জমি বিক্রি করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। ভূমি অফিসের জরিপে অন্তত ৩৭টি পাহাড় কাটার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কীভাবে গড়ে উঠল ‘অন্য এক শাসনব্যবস্থা’? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্গম পাহাড়ি অবস্থানের কারণে বহু বছর ধরেই জঙ্গল সলিমপুর অপরাধীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। নব্বইয়ের দশকে ভূমিদস্যু আলী আক্কাসের হাত ধরে শুরু হয় পাহাড় দখল ও অবৈধ নিয়ন্ত্রণের বিস্তার। ২০১০ সালে র‌্যাবের অভিযানে আলী আক্কাস নিহত হওয়ার পর তার অনুসারীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করে। বর্তমানে রোকন মেম্বার, মশিউর, ইয়াছিন, ফারুক, গাজী সাদেক, গফুর মেম্বার, রিপন ও আল আমিন সাগরসহ একাধিক সশস্ত্র গ্রুপের নাম স্থানীয়দের মুখে শোনা যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের মতে, এসব গ্রুপের মধ্যে আধিপত্যের দ্বন্দ্ব এবং অর্থনৈতিক স্বার্থই সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইয়াছিন: শ্রমিক থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রবিবারের হামলার পেছনে ছিল ইয়াছিন গ্রুপ। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ২০০৩ সালে নোয়াখালী থেকে চট্টগ্রামে আসেন মোহাম্মদ ইয়াছিন। শুরুতে একটি জুট মিলে চাকরি করলেও পরে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। ধীরে ধীরে তিনি অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের ভয় আছে—এমন অপরাধীদের আশ্রয় দেওয়া থেকে শুরু করে পাহাড় কেটে প্লট বাণিজ্য—সবকিছুর মধ্য দিয়ে তিনি গড়ে তোলেন নিজস্ব সশস্ত্র নেটওয়ার্ক। পরবর্তীতে সেটিই রূপ নেয় একটি শক্তিশালী গোষ্ঠীতে।  নিয়ন্ত্রণ” কতটা বাস্তব? র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, হামলায় ২০০ থেকে ৩০০ সশস্ত্র ব্যক্তি অংশ নেয়। তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্রের পাশাপাশি আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রও ছিল। অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেছেন, “যেই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।” তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, শুধুমাত্র অভিযান দিয়ে জঙ্গল সলিমপুরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। কারণ এখানে অপরাধ শুধু অস্ত্রের নয়—ভূমি, অবৈধ বসতি, রাজনৈতিক প্রভাব, দখল অর্থনীতি এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক দুর্বলতার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রশ্ন রয়ে যাচ্ছে যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা এবং নির্মাণাধীন স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা নতুন করে দেখিয়ে দিয়েছে—জঙ্গল সলিমপুরে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। রাষ্ট্র সেখানে উপস্থিত হলেও, নিয়ন্ত্রণের লড়াই এখনও চলছে ছায়ার আড়ালে। আর সেই লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পাহাড়, জমি এবং কোটি কোটি টাকার অবৈধ অর্থনীতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৭, ২০২৬ 0
বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে ঘিরে রাতভর রণক্ষেত্র, প্রশ্নে জনরোষ ও আইনশৃঙ্খলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পুরো এলাকা পরিণত হয় সংঘর্ষ, আগুন ও আতঙ্কের নগরীতে। একদিকে শিশুটির প্রতি নির্মম নির্যাতনের অভিযোগে ক্ষুব্ধ জনতা, অন্যদিকে অভিযুক্তকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে পুলিশের মরিয়া প্রচেষ্টা—এই দুইয়ের সংঘাতে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, যানবাহন ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ। ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন পুলিশ সদস্য, পাঁচজন সাংবাদিক এবং আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। রাতভর অচল হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের একটি অংশ। অভিযোগ যেভাবে বিস্ফোরণে রূপ নেয় স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেলে শিশুটির মা পোশাক কারখানায় এবং বাবা রিকশা চালাতে বাইরে ছিলেন। সেই সুযোগে একই এলাকার ডেকোরেশন কর্মচারী মনির হোসেন শিশুটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা অভিযুক্তকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে একটি ভবনে তার অবস্থানের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ সেখানে জড়ো হয়। ভবনের গেটে তালা ঝুলিয়ে দিলে বিক্ষুব্ধ জনতা কয়েক দফা গেট ভাঙার চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু ততক্ষণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে শুরু করে। পুলিশের গাড়ি ঘিরে ছয় ঘণ্টার অবরোধ অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আটক করে থানায় নেওয়ার সময় পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলে জনতা। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষোভকারীদের মূল দাবি ছিল অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড এবং ফাঁকা গুলি ছুড়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। রাত ১০টার দিকে এলাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে পুলিশ কৌশল নেয়। অভিযুক্তকে পুলিশের পোশাক পরিয়ে গোপনে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে বিষয়টি টের পেয়ে ক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুরও করা হয়। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে মহাসড়কে অভিযুক্তকে থানায় নেওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি। পুলিশের পিছু নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাকলিয়া এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১০টার পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা মহাসড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে আগুন দেয় এবং যানবাহনে হামলা চালায়। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে এপিবিএন ও র‌্যাব সদস্যরা যোগ দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। রাত ১টার পর ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ বলছে ‘দুষ্কৃতকারীদের’ বিরুদ্ধে মামলা হবে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানিয়েছেন, সংঘর্ষে ১০ থেকে ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে, সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর হয়েছে। এসব ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোলাইমান জানান, ধর্ষণের অভিযোগে শুক্রবার শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেনকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অভিযুক্ত মনির হোসেন কে? পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, মনির হোসেনের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঘারঘাটা এলাকায়। তিনি নগরীর বাকলিয়ার মিয়াখান নগরে ভাড়া থাকতেন এবং পেশায় ডেকোরেশন কর্মচারী। হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে রাজনৈতিক নেতারা শুক্রবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে গিয়ে শিশুটির খোঁজ নেন নগর জামায়াত নেতারা। চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, শিশুটি এখনো ভয় ও মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছে। তিনি এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই দাবিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা চমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে বলেন, শুধু প্রতিবাদ করলেই হবে না, অপরাধ ঘটার আগেই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রশাসন এখন শুধু একটি ধর্ষণ মামলাই নয়, বরং জনরোষ, বিচারহীনতার আশঙ্কা এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা—সবকিছুর সম্মিলিত চাপের মুখে রয়েছে। এই ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—শিশু নির্যাতনের ঘটনায় জনতার ক্ষোভ কেন এত দ্রুত বিস্ফোরিত হচ্ছে? আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনাস্থা কতটা গভীর হলে অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য হাজারো মানুষ রাস্তায় নামে? বাকলিয়ার রাতভর সহিংসতা শুধু একটি অপরাধের প্রতিক্রিয়া নয়; এটি বিচারপ্রক্রিয়া, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জনআস্থার সংকটেরও এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
ওমানে গাড়ির ভেতরে চার ভাইয়ের মৃত্যু: বিয়ের প্রস্তুতি থেকে কফিনবন্দি প্রত্যাবর্তন ,রাঙ্গুনিয়ায় একসঙ্গে জানাজা ও দাফনে শোকের মাতম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার লালানগর গ্রামে ১৫ মে ছিল উৎসবের অপেক্ষা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ওমান থেকে দেশে ফেরার কথা ছিল চার ভাইয়ের। পরিবারের সদস্যরা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দুই ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন ঘিরে। কিন্তু সেই প্রতীক্ষা শেষ হলো চারটি কফিনে। ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ বুধবার (২০ মে) নিজ গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। সকাল থেকে হাজারো মানুষের কান্না, আহাজারি ও শোকের মাতমে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মারা যাওয়া চার ভাই হলেন শাহিদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম, শহিদুল ইসলাম ও রাশেদুল ইসলাম। তারা সবাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের বাবা মৃত জামাল উদ্দিন। চার ভাইয়ের মধ্যে রাশেদুল ও শাহিদুল বিবাহিত ছিলেন। অন্য দুই ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা বুধবার সকাল ১১টায় হোছনাবাদ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চার ভাইয়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। কয়েক হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। জানাজায় ইমামতি করেন নিহতদের একমাত্র জীবিত ছোট ভাই হাফেজ মুহাম্মদ এনামুল হক। ভাইদের জন্য দোয়া চাইতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভাঙা কণ্ঠে উপস্থিত মানুষের উদ্দেশে বলেন, “আমার ভাইদের আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন। আমাদের জন্য দোয়া করবেন।” জানাজা শেষে চার ভাইকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাঙ্গুনিয়ার ইতিহাসে একসঙ্গে চার ভাইয়ের জানাজা ও দাফনের মতো ঘটনা আগে কেউ দেখেনি। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী বলেন, “একসঙ্গে চার ভাইয়ের মৃত্যু কতটা মর্মান্তিক, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।” মায়ের কাছ থেকে এক সপ্তাহ গোপন রাখা হয় মৃত্যুর খবর পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহতদের মা খাদিজা বেগমের কাছ থেকে প্রায় এক সপ্তাহ মৃত্যুর খবর গোপন রাখা হয়েছিল। বুধবার ভোরে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর তাকে বিষয়টি জানানো হয়। কফিনবন্দি ছেলেদের মরদেহ দেখে তিনি বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ঘরের ভেতরে আহাজারি করছিলেন নিহত রাশেদুলের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার ও শাহিদুলের স্ত্রী শান্তা আক্তারও। স্থানীয় চিকিৎসক কাজী মনসুর আহমেদ জানান, সকাল থেকে শোক ও মানসিক আঘাতে খাদিজা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। প্রবাস জীবনের সাফল্য, হঠাৎ মৃত্যুর ট্র্যাজেডি স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১১ বছর আগে পরিবারের মেজো ভাই প্রথমে ওমানে যান। পরে একে একে অন্য ভাইদেরও সেখানে নিয়ে যান। তারা মিলে গাড়ি ওয়াশিংয়ের দুটি ব্যবসা গড়ে তুলেছিলেন এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে ওঠেন। স্থানীয় বাসিন্দা এম এ মতিন বলেন, “অনেক কষ্ট করে তারা দাঁড়িয়েছিল। পরিবারের অবস্থাও বদলে দিয়েছিল। কিন্তু একসঙ্গে চার ভাইয়ের এভাবে চলে যাওয়া কেউ মেনে নিতে পারছে না।” পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ১৫ মে দুই অবিবাহিত ভাইয়ের বিয়ের কেনাকাটা ও দেশে ফেরার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে তারা একসঙ্গে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। এরপরই ঘটে বিপর্যয়। কীভাবে মৃত্যু হলো? গত ১৩ মে রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করে রয়্যাল ওমান পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এসির এক্সহস্ট সিস্টেম থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় সেই বিষাক্ত গ্যাস শ্বাস নেওয়ার ফলে তাদের মৃত্যু হতে পারে। কার্বন মনোক্সাইড একটি বর্ণহীন ও গন্ধহীন বিষাক্ত গ্যাস, যা বন্ধ পরিবেশে দ্রুত প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাড়ির বায়ু চলাচল ব্যবস্থা বা এক্সহস্ট লাইনে ত্রুটি থাকলে এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিমানবন্দর থেকে গ্রামের পথে মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত ৮টা ১৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে চার ভাইয়ের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিশেষ ফ্রিজার ভ্যানে করে মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে আসা হয়। বুধবার ভোরে মরদেহ গ্রামে পৌঁছানোর পর থেকেই মানুষের ঢল নামে। শুধু রাঙ্গুনিয়া নয়, আশপাশের রাউজান, ফটিকছড়ি, বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও সীতাকুণ্ড থেকেও মানুষ ছুটে আসেন শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন সুমন বলেন, “চার ভাইকে একই সারিতে কবর দেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকা শোকে স্তব্ধ।” রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, মরদেহ ভোরে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২১, ২০২৬ 0
জামায়াত নেতা
চট্টগ্রামে ১৭৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথসহ দুইজন গ্রেপ্তার, ‘জামায়াত সম্পৃক্ততা’ নিয়ে ভিন্ন দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রামে ক্রিস্টাল মেথ বা ‘আইস’ বিক্রির সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ১৭ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। এর আগে সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় নগরীর ২ নম্বর গেইট সংলগ্ন ফিনলে স্কয়ারের একটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—২৭ বছর বয়সী মো. সাজ্জাদুর রহমান সাকিব এবং ২৬ বছর বয়সী মো. আবু ফয়সাল। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, সাকিব ফটিকছড়ি থানার জামায়াত ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের অফিস সম্পাদক হিসেবে পরিচিত। তবে এ দাবি অস্বীকার করেছেন ফটিকছড়ি থানা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দিন। তিনি বলেন, “সাকিবের সঙ্গে দলের কোনো বর্তমান সম্পৃক্ততা নেই। কলেজ জীবনে তিনি শিবিরের রাজনীতি করলেও বর্তমানে তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন এবং তার কোনো পদও নেই।” পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির উত্তর বিভাগের একটি দল ফিনলে স্কয়ারের সপ্তম তলায় অভিযান চালায়। এ সময় দুই ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ১৭৫ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ উদ্ধার করা হয়, যা একটি বায়ুরোধক পলিপ্যাকে সংরক্ষিত ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানিয়েছে, তারা ওমানে অবস্থানরত এক মাদককারবারি চক্রের মাধ্যমে এসব মাদক সংগ্রহ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিল। ঘটনাটি ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আরও তদন্ত চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণের অভিযোগ তুলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। গত ২৬ এপ্রিল ২০২৬ (রবিবার) দাখিল করা ওই অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে যোগদানের পর থেকে তিনি বিভিন্ন সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে নীতিমালা উপেক্ষা করে আর্থিক অনিয়ম করেছেন। সরকারি ক্রয়ে অনিয়ম ও অতিরিক্ত ব্যয়ের অভিযোগ অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আসবাবপত্র, কম্পিউটার, প্রশিক্ষণ সামগ্রীসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনাকাটায় বাজারদরের তুলনায় বেশি মূল্য দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, বাজারে যেখানে কম্পিউটার টেবিলের দাম ২,৫০০ থেকে ২,৮০০ টাকা এবং চেয়ারের দাম ৪,০০০ থেকে ৪,৫০০ টাকা, সেখানে যথাক্রমে ৬,৫০০ ও ৮,৫০০ টাকা দরে ক্রয় দেখানো হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, কম্পিউটার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ঘোষিত কনফিগারেশনের তুলনায় নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ নেওয়া হয়েছে। কোটেশন ও ঠিকাদার নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত কোটেশন প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে ঘনিষ্ঠ বা নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিষ্ঠানকে কোটেশনে দেখিয়ে ভিন্ন উৎস থেকে মালামাল সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। ভবন পরিদর্শন কমিটি গঠন নিয়ে বিতর্ক ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বরের একটি স্মারকের ভিত্তিতে ১৬ তলা ভবনের অগ্নি নিরাপত্তা ছাড়পত্র সংক্রান্ত পরিদর্শন কমিটি গঠনের সময় নিয়ম ভেঙে সদস্য সচিবকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দমতো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে। নিম্নমানের খাদ্যসামগ্রী গ্রহণে চাপের অভিযোগ অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অফিসের জন্য বরাদ্দকৃত উন্নতমানের মসুর ডাল সরবরাহ না হলেও তা গ্রহণে চাপ দেওয়া হয়। গ্রহণ কমিটির সদস্য সচিব আপত্তি জানালেও তাকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পারিবারিক অনুষ্ঠানে অর্থ সংগ্রহের অভিযোগ ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তার মেয়ের বিয়েতে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে অর্থ ও উপহার সংগ্রহের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকজন কর্মকর্তার কাছ থেকে নগদ অর্থ এবং প্রায় ২ ভরি সোনার গহনা উপহার হিসেবে নেওয়া হয়। সরকারি গাড়ি ব্যবহারে অনিয়ম অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৮৭৮ কিলোমিটার সরকারি গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয় এবং প্রায় ১৯৫ লিটার জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের ২ থেকে ৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৩৬ ঘণ্টা অননুমোদিতভাবে গাড়ি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সম্পদ অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ২০২১ সালে একটি মাইক্রোবাস ক্রয় এবং সাভার ও ডেমরা এলাকায় জমি কিনে বসতবাড়ি নির্মাণের তথ্য উল্লেখ করে অভিযোগে অর্থের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রশাসনিক পদ শূন্যতা ও অতিরিক্ত দায়িত্ব অভিযোগে বলা হয়, চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সে উপ-পরিচালক পদ দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়। এ সুযোগে সহকারী পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি নিজেকে “ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক” হিসেবে উপস্থাপন করে প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, গালিগালাজ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও আনা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড সরকারি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া অভিযোগের বিষয়ে মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। মাঠ পর্যায়ে এসে দেখেন। আমি অভিযোগকারীকে চিনি না। আমার কাজকে বাধাগ্রস্ত করতে এসব করা হচ্ছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0
লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে বাংলাদেশে তীব্র লোডশেডিং, জেলা শহরগুলোতে বিদ্যুৎ সংকট ভয়াবহ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে আবারও তীব্র লোডশেডিং ফিরে এসেছে—এবার তা শুধু মৌসুমি সমস্যা নয়, বরং একটি গভীরতর জ্বালানি ও সরবরাহ সংকটের প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য বলছে, কোথাও কোথাও দিনে ৮ থেকে ১০ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। শহরের তুলনায় গ্রামীণ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এই সংকটের পেছনে কী কারণ, এবং কেন তা এত দ্রুত তীব্র হয়ে উঠলো—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে উঠে এসেছে জ্বালানি সরবরাহ, উৎপাদন সীমাবদ্ধতা এবং চাহিদা বৃদ্ধির জটিল এক সমীকরণ।  চট্টগ্রাম: পরিকল্পনা বনাম বাস্তবতা চট্টগ্রামে লোডশেডিংয়ের চিত্র সরকারি পরিকল্পনার সঙ্গে বাস্তবতার বড় ফারাক তুলে ধরছে। এলাকাভিত্তিক এক ঘণ্টার লোডশেডিংয়ের কথা থাকলেও বাস্তবে তা গড়ে দুই ঘণ্টা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল পিক-আওয়ারে চাহিদা ছিল প্রায় ১,৪৩২ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ ঘাটতির কারণে ১৭০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হয়েছে। বাসিন্দারা বলছেন, দিনে ১০-১২ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে—যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অস্থিরতার ইঙ্গিত দেয়।  বরিশাল: অর্ধেক সরবরাহ, দ্বিগুণ ভোগান্তি বরিশালে সংকটটি আরও স্পষ্ট। চাহিদা ৯০-৯৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে—৪২ মেগাওয়াটে। এই ঘাটতি পূরণে প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বারবার বিদ্যুৎ না থাকায় বাস্তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি।  ময়মনসিংহ: উৎপাদন কেন্দ্রেই সংকট ময়মনসিংহ অঞ্চলের পরিস্থিতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। এখানে দৈনিক চাহিদা ১,০৭৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মাত্র ৭৫০ মেগাওয়াট। কিন্তু সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—স্থানীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো তাদের সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম উৎপাদন করছে। একটি কেন্দ্র ২১০ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন করছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট অন্য দুটি কেন্দ্র ৩১৫ মেগাওয়াটের বিপরীতে উৎপাদন করছে ৬৭ মেগাওয়াট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস ও ফার্নেস তেলের সংকট এর প্রধান কারণ।  সিলেট: পরিসংখ্যান বনাম বাস্তব অভিজ্ঞতা সিলেটে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, লোডশেডিং ২০-২৫ শতাংশ। তবে বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা ভিন্ন—তাদের মতে, দিনে ৯-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এই পার্থক্য দেখাচ্ছে যে, সরকারি হিসাব ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান থাকতে পারে।  রংপুর ও গ্রামীণ বাংলাদেশ: সংকটের গভীরতম স্তর রংপুর অঞ্চলে লোডশেডিং প্রায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে তা দিনে ১০-১২ ঘণ্টায় পৌঁছাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় থাকা এলাকাগুলোতে সরবরাহ আরও সীমিত, ফলে গ্রাহকরা তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।  খুলনা: উৎপাদন থাকলেও সরবরাহ সংকট খুলনায় রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন করলেও, জাতীয় গ্রিডে ঘাটতির কারণে স্থানীয়ভাবে লোডশেডিং কমছে না। এটি দেখায়, শুধু উৎপাদন বাড়ালেই সংকট সমাধান হয় না—বিতরণ ও সরবরাহ ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।  মূল কারণ বিশ্লেষণ তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা যায়— ১. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ২. উৎপাদন সক্ষমতার অপূর্ণ ব্যবহার গ্যাস ও তেলের সংকটে অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। ৩. চাহিদার ঊর্ধ্বগতি তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে, যা বিদ্যমান সরবরাহকে চাপের মুখে ফেলেছে। ৪. শহর-গ্রাম বৈষম্য গ্রামীণ এলাকায় সরবরাহ কম থাকায় সেখানে লোডশেডিং বেশি হচ্ছে। কী বলছে এই সংকট? এই পরিস্থিতি শুধু সাময়িক বিদ্যুৎ ঘাটতির ইঙ্গিত নয়, বরং বাংলাদেশের জ্বালানি নির্ভরতা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার কাঠামোগত দুর্বলতাকেও সামনে নিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হয়, তবে সামনে আরও বড় ধরনের বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিতে পারে—বিশেষ করে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা আরও বাড়লে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো সীমিত সরবরাহের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে সংকট নিরসনে জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনা—সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
সাদেকুর রহমান
বন বিভাগে দেড় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ: সিন্ডিকেট ও অনিয়ম

বন অধিদপ্তরের ‘সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা)’ প্রকল্পে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা বাগান সৃজন না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগে তৈরি হয়েছে তীব্র অস্থিরতা। অভিযোগ উঠেছে বন বিভাগের এক সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি তহবিল আত্মসাত ও ঘুষ প্রদান করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করার — অথচ এক বছরেও কোনো কার্যকর তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরকারি হিসাব ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের কুমিরা রেঞ্জে ৭০ ও ১০ হেক্টর জমিতে বাগান সৃজনের কথা থাকলেও বাস্তবে তা হয়নি। নির্ধারিত মান পূরণে ব্যর্থতার বিষয়টি বন বিভাগীয় পর্যায়ে “ওপেন সিক্রেট” হলেও এখন পর্যন্ত সংঘবদ্ধ অভিযোগের কোনো প্রভাবশালী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।গত এক বছর ধরে এই অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি বন বিভাগে ‘ওপেন সিক্রেট’ হলেও এখনো কোনো কার্যকর তদন্ত হয়নি। বরং অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সাদেকুর রহমানকে শাস্তির পরিবর্তে ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি দিয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা বন বিভাগের ‘লোভনীয় পোস্টিং’ হিসেবে পরিচিত। অভিযোগের মূল পয়েন্ট • পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটে ঘুষ দিয়ে প্রকল্পের সত্যতা লুকানোর চেষ্টা করা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে। • অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এক কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার পদে পদোন্নতি পেয়ে কক্সবাজারের ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জে বদলি হয়েছেন — বন বিভাগের মধ্যে এটিকে “লোভনীয় পোস্টিং” হিসেবেও দেখা হচ্ছে। • সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির মাধ্যমে এই ঘটনার অনুসন্ধান সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ। প্রকল্প বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম গত ২৬ নভেম্বর, উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবা চট্টগ্রাম বিভাগের বন কর্মকর্তার কাছে চিঠি দেন, যাতে ৭ দিনের মধ্যে কুমিরা রেঞ্জে ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্টদের তালিকা জমা দিতে বলা হয়। তবে সময়সীমা অতিক্রম করা সত্ত্বেও সেই তালিকা দপ্তরে পাঠানো হয়নি। এর আগের ২২ এপ্রিল পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ ছিল, • ১৭০ হেক্টর বাগানে জীবিত চারার হার ছিল মাত্র ৬০.২০%, • অন্য ১০ হেক্টরের বাগানে ছিল মাত্র ৫০.৪০%, যেখানে ন্যূনতম ৮০% জীবিত চারার হার থাকার কথা ছিল। অভিযুক্তরা এবং তাদের অবস্থান সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন সংরক্ষক ড. মোল্যা রেজাউল করিমের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত তিন কর্মকর্তা এই অর্থ আত্মসাতে জড়িত — সাদেকুর রহমান — কক্সবাজার ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা এস.এম. কায়চার — উপবন সংরক্ষক (বর্তমানে চট্টগ্রাম বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্ক পরিচালক) জয়নাল আবেদীন — সহকারী বন সংরক্ষক (বর্তমানে হবিগঞ্জে কর্মরত) জিজ্ঞাসা করলে, সাদেকুর রহমান বলেন, “আমি এখানে নতুন দায়িত্বে আছি; এ বিষয়ে ডিএফও’র সঙ্গে কথা বলুন।” এস.এম. কায়চার ফোন রিসিভ করেননি। জয়নাল আবেদীন বলেন, “আমি অভিযুক্ত, তাই কিছু বলতে পারব না।” ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ ওঠা কর্মকর্তার মন্তব্য পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ইউনিটের উপবন সংরক্ষক উম্মে হাবিবার বিরুদ্ধেও ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে, যদিও তিনি সেটা গণমাধ্যমে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। বন বিভাগে হতাশা ও দ্রুত তদন্তের দাবি এই দেড় কোটি টাকা আত্মসাত ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে বন বিভাগে ব্যাপক অস্থিরতা বিরাজ করছে। সরকারি হিসাব ও বন কর্মীদের অনেকে দাবি করেছেন — • দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক • দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক বাংলাদেশের সরকারি প্রকল্পে এমন ধরণের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে জনমত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জোরদার হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন
চট্টগ্রামে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ১৮ লাখ টাকা !

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেড-এর বার্ষিক পৌরকর সংক্রান্ত একটি ভয়াবহ অনিয়মের সত্যতা তদন্ত কমিটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, হোটেলের পৌরকর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে মাত্র ১৮ লাখ টাকায় নেমেছে, যা চসিকের জন্য ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন-এর কাছে বুধবার (৪ মার্চ) সন্ধ্যায় এই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি হোটেলের পৌরকর কমানোর পিছনে রাজস্ব বিভাগের দুই কর্মকর্তার যোগসাজশের প্রমাণ পায়। তদন্ত কমিটির গঠন ও দায়িত্ব চসিক ২৪ নভেম্বর একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান সংস্থাটির আইন কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুরাদ, আর সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা আশুতোষ দে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাব্বির রহমান সানি এবং শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা বিনতে আমিন। কমিটির মূল কাজ ছিল হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের ‘পৌরকর কমানোর’ অভিযোগ যাচাই করা। তদন্তে উঠে আসে যে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে হোটেলের বার্ষিক পৌরকর প্রথমে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে দুই দফা কমিয়ে তা ১৮ লাখ টাকায় আনা হয়। পৌরকর কমানোর প্রক্রিয়ার বিশদ ২০১৭ সালে হোটেল কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পৌরকরের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিলের পর ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার পৌরকর কমিয়ে ২২ লাখ টাকায় নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুনরায় আপিল শুনানি শেষে চূড়ান্তভাবে ১৮ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বার্ষিক মূল্যায়ন সংক্রান্ত আপিল once সিদ্ধান্ত হওয়ার পর তা আর পরিবর্তন করার বা পুনরায় আপিল দায়ের করার সুযোগ নেই। তবে তৎকালীন কর কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বেআইনিভাবে আপিল কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। চসিকের আর্থিক ক্ষতি এই অনিয়মের কারণে চসিক ৩ কোটি ১২ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, পৌরকরের সঠিক পুনর্মূল্যায়ন ও প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে যে কর কমানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বেআইনি। চসিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অনিয়মের বিষয়টি প্রথম প্রকাশিত হয় সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে। এরপরই চসিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। অনিয়মের দায় এবং সম্ভাব্য পদক্ষেপ কমিটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। এছাড়া ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম রোধ করতে চসিককে আরও স্বচ্ছ ও নিয়মিত মূল্যায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে। চট্টগ্রামে কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন বারবার দাবি করেছে যে, স্থানীয় সরকার ও কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মূল্যায়ন এবং স্বতন্ত্র তদন্ত প্রক্রিয়া চালু করা হবে। হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডের মতো বড় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোর কর নির্ধারণ ও পরিশোধ প্রক্রিয়ার তদারকি চসিকের অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকবে।   চট্টগ্রামে হোটেল সেন্টমার্টিন লিমিটেডে পৌরকর কমানোর এই ঘটনা স্থানীয় কর প্রশাসনের জন্য এক সতর্কবার্তা। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, রাজস্ব কর্মকর্তাদের বেআইনি ক্রিয়াকলাপ চসিকের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে। চট্টগ্রামবাসী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এই প্রতিবেদন অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এমন ধরনের অনিয়ম আর ঘটবে না।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ  বিমান
চট্টগ্রাম থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ২০টি ফ্লাইট বাতিল

চট্টগ্রাম: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও আমেরিকা ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য সংঘর্ষের প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) বিকেলে দুইটি ফ্লাইট মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে সফলভাবে উড্ডয়ন করেছে। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ফ্লাইট BG135 চট্টগ্রাম থেকে জেদ্দার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। এছাড়া, সালাম এয়ারের ফ্লাইট OV-403 মাস্কাট থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে আগমন করেছে। তবে, মধ্যপ্রাচ্যগামী এবং আসা ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কিছু বাতিল করা হয়েছে। এয়ার আরাবিয়ার ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। একইভাবে, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্যগামী ১টি ডিপার্চার ফ্লাইট এবং ১টি অ্যারাইভাল ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিরাপত্তার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সকল যাত্রীকে সময়মতো তথ্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান আলম ও মোবারক হোসেন ইমন।
চট্টগ্রামে স্মার্ট গ্রুপ চেয়ারম্যানের বাসায় গুলি: শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান-ইমনকে ঘিরে নতুন আতঙ্ক

চট্টগ্রাম নগরীতে আবারও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশি পাহারায় থাকা শীর্ষ ব্যবসায়ী স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান-এর বাসা লক্ষ্য করে মুখোশধারী দুর্বৃত্তরা গুলি চালিয়েছে। এ ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী মোহাম্মদ রায়হান আলম ও মোবারক হোসেন ইমনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ভোরের নীরবতা ভাঙে গুলির শব্দ শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বাসার সামনে ও পেছনে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। এতে কেউ হতাহত না হলেও পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ভুক্তভোগী জানান, ভোরে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে বাসার সামনে ও পেছনে গুলির চিহ্ন দেখা যায়। তার অভিযোগ, বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর অনুসারীরা চাঁদা না পেয়ে এ হামলা চালিয়েছে। প্রথমে ১০ কোটি, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় একাধিকবার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলেও জানান তিনি। সিসিটিভিতে মুখোশধারী চারজন সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, চারজন মুখোশধারী অস্ত্রধারী একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে কিছু দূরে গাড়ি রেখে হেঁটে বাসার সামনে যায়। তাদের একজনের হাতে দুটি পিস্তল, অন্যদের হাতে সাবমেশিনগান (এসএমজি), চায়নিজ রাইফেল ও শটগান ছিল। কয়েক মিনিটের মধ্যে গুলি চালিয়ে দ্রুত সরে পড়ে তারা। ‘সাজ্জাদ বাহিনী’র পুরোনো কৌশল পুলিশের ভাষ্য, চাঁদা আদায়ে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য গুলি চালানো সাজ্জাদ বাহিনীর পুরোনো কৌশল। নগরের চান্দগাঁও, বায়েজিদ ও পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন এলাকায় নতুন নির্মাণকাজ, ব্যবসা বা জমি লেনদেন শুরু হলেই চাঁদার দাবি আসে তাদের কাছ থেকে। বাহিনীতে অন্তত অর্ধশত শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসা এই বাহিনীর সক্রিয় কিলিং স্কোয়াডের নেতৃত্বে রয়েছেন রায়হান ও ইমন। ছোট সাজ্জাদ কারাগারে যাওয়ার পর গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন তাদের হাতেই আসে বলে দাবি পুলিশের। রায়হানের বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা মামলা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চট্টগ্রাম নগরী ও জেলায় অন্তত আটটি হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন ঘটনায় রায়হানের বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা হয়েছে। রাউজানে যুবদল কর্মী মুহাম্মদ আলমগীর আলম হত্যা, পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে ‘ঢাকাইয়া আকবর’ খুন, গাজীপাড়ায় যুবদলকর্মী ইব্রাহিম হত্যা এবং বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুনের ঘটনায় তার নাম উঠে এসেছে। এছাড়া চান্দগাঁওয়ে ব্যবসায়ী তাহসীন হত্যা ও অক্সিজেন-হাটহাজারী এলাকায় দুইজনকে গুলি করে হত্যার মামলাতেও তিনি আসামি। পুলিশের দাবি, রায়হান একজন দুর্ধর্ষ শুটার। টার্গেট কিলিং করে দ্রুত পাহাড়ি এলাকায় আত্মগোপনে যাওয়াই তার কৌশল। রাউজান, ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়ার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তার একাধিক গোপন আস্তানা রয়েছে বলে জানা গেছে। ইমনের বিরুদ্ধেও চাঁদাবাজির অভিযোগ অন্যদিকে, মোবারক হোসেন প্রকাশ ইমন একই চক্রের সক্রিয় সদস্য। নগরজুড়ে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সশস্ত্র হামলার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রায়হানের সঙ্গে যৌথভাবে বাহিনীর বিভিন্ন অপারেশন পরিচালনা করেন তিনি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পুলিশের বক্তব্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ-এর উপ কমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, হামলাকারীরা একটি প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলে এসে গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে বাসার সামনে গিয়ে গুলি চালায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। মুখোশধারী হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হলেও সাজ্জাদ আলীর সহযোগী রায়হান ও বোরহানের সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। সিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (সদর), অতিরিক্ত দায়িত্বে সহকারী পুলিশ কমিশনার (জনসংযোগ) আমিনুর রশিদ জানান, গুলির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার এবং ব্যবহৃত গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতক রায়হান ও ইমনকে ধরতে একাধিক টিম অভিযান চালাচ্ছে। নগরবাসীর উদ্বেগ পুলিশি পাহারার মধ্যেই শীর্ষ ব্যবসায়ীর বাসায় গুলির ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে নতুন করে নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, পলাতক সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে সব ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং শিগগিরই অগ্রগতি জানানো হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0