ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) ভাইস চ্যান্সেলর ড. কাজী রফিক ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে মাত্র দেড় বছরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় এমন অস্থিতিশীলতা ও অনিয়মের পথ তৈরি করেছেন, যা ইতিহাসে বিরল।বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম রিজেন্ট বোর্ডে শিল্পপতি কোটায় ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারিতে মাত্র ৩৫ বছর বয়স্ক ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোঃ শরফুদ্দিনকে মনোনয়ন দেন সমন্বয়ক পরিচয়ে। জামায়াতের রোকন প্রফেসর আব্দুল লতিফ কে বানিয়েছেন ট্রেজারার। ওই বছরের ২৭শে জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পক্ষে মানববন্ধনকারী সগিরুল ইসলাম মজুমদার, শিবিরের সাবেক দুই সভাপতি আবু তাহের উজ্জ্বল, পটুয়াখালী জেলা সভাপতি মাহমুদ হোসাইনসহ নয়জনকে খন্ডকালীন শিক্ষক কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেন। কথিত আছে ভিসি হওয়ার সময় কোটি টাকার যে লেনদেন হয়েছিল মাসুদ- -নাহিয়ান- শরফুদ্দিন - সগির গংয়ের মাধ্যমে সেই টাকা এ নিয়োগের মাধ্যমে উঠানো হয়েছিল। এরমধ্যে জুন মাসে সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি সহ ১৬ জন শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয় মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে যার নেতৃত্ব দিয়েছেন দুই শিক্ষক সগিরুল ইসলাম মজুমদার ও ইকবাল হোসেন। নিয়োগ ও টেন্ডার বাণিজ্যের অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে ভিসির ক্যাশিয়ারে পরিণত হন এই ইকবাল। পুরষ্কারস্বরূপ অধিষ্ঠিত করা হয় ভিসির পিএস হিসেবে। টেন্ডার বাণিজ্যের মূল হোতা পিএস ইকবাল পিএস হয়েই ধরাকে সরা জ্ঞান করতে শুরু করেন ইকবাল। হয়ে পড়েন টেন্ডার বাণিজ্যের মূল হোতা। ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে টাকার বিনিময়ে নেগোসিয়েশন শুরু করেন ভিসির পক্ষ থেকে। ঠিকাদার মাহফুজ খান ও আমির এর উপহারের টাকায় ক্রয় করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ফ্যাসিস্ট কাউসার আমিন হাওলাদার (মালটা কাউসার )এর বিলাসবহুল গাড়ী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একসাথে ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ফ্যাসিস্ট পিডি ওবায়দুল ইসলাম ও ডিপিডি ফাইয়াজ এর মাধ্যমে ২ পার্সেন্ট কমিশন হিসেবে দুই কোটি টাকা উৎকোচের বিনিময়ে আলোচিত নাহিয়ান, মাহফুজ খান, আমির সহ অন্যান্য ঠিকাদারদের মধ্যে কাজ বন্টন করেন যা ক্যাম্পাসে এখন ওপেন সিক্রেট। সেই টেন্ডার বাণিজ্যের হোতা আল নাহিয়ান এখন পটুয়াখালী পৌরসভার জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী।ফলশ্রুতিতে ঠিকাদাররা এখন যেনতেন ভাবে কাজ করে বিল আদায় করছেন ফ্যাসিস্ট প্রকৌশলী, পিডি ডিপিডির মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।শুধু তাই নয় কাজী রফিকের এই অপকর্মের ভাগীদার বানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ, জামায়াত সমর্থিত গ্রিন ফোরাম এবং সুবিধাবাদী বিএনপি নামধারী কতিপয় অসাধু শিক্ষক- কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ভ্রমন বিল ও অন্যান্য সরকারি কেনাকাটার মাধ্যমে। দেড় বছরে লক্ষাধিক টাকার ভ্রমণ বিল এই দেড় বছরে লক্ষাধিক টাকার ভ্রমণ বিল উত্তোলন করেছেন পরিকল্পনা বিভাগ এর অসাধু কর্মকর্তা এবং কতিপয় ভিসি পন্থী শিক্ষক। কাজী রফিকের আস্থাভাজন বিশ্ববিদ্যালয়ের জামাতপন্থী কর্মকর্তা মোঃ মহসিন এ দেড় বছরে ভুয়া বিল ভাউচারে২৭ টি চেক এর মাধ্যমে ৫ লক্ষ ১৫ হাজার ২৭০ টাকা উত্তোলন করেন যার প্রমাণ এই প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে। হিসাব শাখা ও পরিকল্পনা শাখার অনেক কর্মকর্তাদের উৎকোচ ও ভ্রমণ বিল এত পরিমান উত্তোলিত করেছেন যে বেতনের টাকায় আর হাত দেওয়া লাগে নাই। ফ্যাসিস্টদের পদোন্নতির মহোৎসব অন্যান্য সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচার হলেও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতি ভাইস চ্যান্সেলর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বিচারের বদলে মেতেছেন ফ্যাসিস্টদের পদোন্নতির মহোৎসবে। ১৯ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কে সহযোগী অধ্যাপক পদে এবং ১৫ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কে অধ্যাপক পদে পর্যায়োন্নয়ন দিয়েছেন। কিন্তু ফ্যাসিস্ট আমলে নির্যাতিত ও ১০ বছর যাবৎ চাকুরীচ্যুত ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন (ইউট্যাবের) কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলামকে প্রতিহিংসা ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অধ্যাপক পদে পর্যায়ন্নোয়ন দেননি। বাছাই বোর্ড ড. সাইফুল ইসলামকে অধ্যাপক পদে পর্যায়োন্নয়নের সুপারিশ করলেও জামায়াতের সহযোগিতায় চক্রান্ত মুলকভাবে সকল যোগ্যতা থাকার পরেও রিজেন্ট বোর্ডের নিজের অনুসারী সদস্যদের মাধ্যমে অনুমোদন দেননি। কাজী রফিকের মূল উদ্দেশ্যই হলো পবিপ্রবিতে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নির্মূল করা। ভিসি কাজী রফিকের অনিয়ম ও জুলুমের এখানেই শেষ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের এ্যাক্টে বলা আছে, রিজেন্ট বোর্ড বাছাই বোর্ডের সুপারিশ অনুমোদন না করলে বিষয়টি চ্যান্সেলর তথা রাষ্ট্রপতির নিকট পাঠাতে হবে এবং তাহার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত গণ্য হবে। কিন্তু জামায়াতি ভিসি হীনউদ্দেশ্যে প্রতিহিংসামূলকভাবে রিজেন্ট বোর্ডের তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরেও ড. সাইফুলের পর্যায়োন্নয়নের চিঠি চ্যান্সেলরের নিকট প্রেরণ করেননি। ইউট্যাবের শিক্ষকদের প্রতি এহেনও প্রতিহিংসামূলক আচরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক গণ ক্ষুদ্ধ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ফ্যাসিস্ট কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দিলেও জিয়া পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক কে এম শাহাদাত হোসেনকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পদোন্নতি দেননি। এতে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিট জামায়াতি ভিসি কাজী রফিকের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া: রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়া ড. কাজী রফিকের নিয়োগ ঘটে সরাসরি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ও সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সুপারিশে, তৎকালীন শিক্ষা সচিব আব্দুর রশিদ কর্তৃক ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। নিয়োগের পরপরই দেখা যায় যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদে ছাত্র-শিবির ও জামায়াত সমর্থিত ব্যক্তিদের নিয়োগ, টেন্ডার বাণিজ্য এবং অর্থ লেনদেন চালু হয়। উদাহরণস্বরূপ: ২০২৫ সালের ৬ জানুয়ারি রিজেন্ট বোর্ডে শিল্পপতি কোটায় মাত্র ৩৫ বছরের ঢাবি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোঃ শরফুদ্দিনকে মনোনয়ন। ট্রেজারার পদে নিযুক্ত করা হয় জামায়াত সমর্থক অধ্যাপক আব্দুল লতিফকে। ২৭ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নয়জন খন্ডকালীন শিক্ষক-অফিসার নিয়োগ, যেখানে শিবির ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত নাম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, এই নিয়োগ ও অর্থ লেনদেন পূর্বনির্ধারিত ও ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষণে পরিচালিত হয়েছে।সূত্র বলছে, এই নিয়োগের মাধ্যমে কোটি টাকার লেনদেন পরিচালনা করা হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতার জন্য বড় হুমকি। টেন্ডার বাণিজ্য ও অর্থের ব্যবস্থাপনা ড. কাজী রফিকের ভিসি পদাধিকার গ্রহণের পর, বিশ্ববিদ্যালয়ে টেন্ডার বাণিজ্য অতীতের তুলনায় বৃহৎ পরিসরে পরিচালিত হয়েছে। প্রধান হাইলাইটস: ইকবাল হোসেন – ভিসির পিএস হিসেবে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর টেন্ডার বাণিজ্যের মূল হোতা হয়ে ওঠেন। এক বছরের মধ্যে ১০০ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন, যেখানে ঠিকাদারদের মধ্যে ২% কমিশন বিতরণ। এই অর্থের মাধ্যমে বিলাসবহুল গাড়ি ও ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে টাকা উত্তোলন। উল্লেখযোগ্য, কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও ভিসিপন্থী শিক্ষক ভ্রমণ বিল ও ভুয়া চেকের মাধ্যমে লক্ষাধিক টাকা উত্তোলন করেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার জন্য বড় হুমকি।বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে লেনদেন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য অর্থ উত্তোলন ঘটেছে। প্রতিহিংসা ও অযোগ্য ব্যক্তিদের পদোন্নতি ভিসি ড. কাজী রফিক পাবলিক এবং জাতীয়তাবাদী শক্তিকে পদোন্নতি ও নিয়োগে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী কাজ করেছেন। ১৯ জন আওয়ামী ফ্যাসিস্টকে সহযোগী অধ্যাপক এবং ১৫ জনকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি। ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম, দীর্ঘ ১০ বছর চাকুরীচ্যুত এবং যোগ্য, অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাননি। জিয়া পরিষদের কে এম শাহাদাত হোসেনও উদ্দেশ্যমূলকভাবে বাদ পড়েছেন। এতে দেখা যায়, ভিসির মূল উদ্দেশ্য জাতীয়তাবাদী শিক্ষকমন্ডলীর শক্তিকে কমানো এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল। বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার প্রতি প্রভাব ড. কাজী রফিকের এই নীতিমালা: শিক্ষকদের মধ্যে অবিশ্বাস ও ক্রোধের পরিবেশ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশাসনিক দুর্নীতির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে। অর্থনৈতিক অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মান হ্রাস করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষক, কর্মকর্তা, ও শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং দাবি জানাচ্ছেন একজন যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ অধ্যাপককে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য। প্রমাণভিত্তিক হাইলাইটস ভিসির আস্থাভাজন কর্মকর্তা মোহসিন ২৭টি ভুয়া চেকের মাধ্যমে ৫,১৫,২৭০ টাকা উত্তোলন। টেন্ডার বাণিজ্যে ঠিকাদারদের মধ্যে কমিশন বণ্টন ও বিলাসবহুল সম্পদ অর্জন। জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পদোন্নতি বা স্বীকৃতি অস্বীকৃত। রাজনৈতিক ও পার্টি সমর্থিত নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রচলিত ন্যায়নীতি ভেঙে চালানো হয়েছে। পবিপ্রবিতে ড. কাজী রফিকের দেড় বছরের পদাধিকার প্রশাসন ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বিশাল অনিয়ম, প্রতিহিংসা, এবং রাজনৈতিক প্রভাবের পরিচয় দিয়েছে। দেখা যায়- রাজনৈতিক প্রভাব ও পার্টি সমর্থিত নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় সর্বমুখী দুর্নীতির শিকার। টেন্ডার ও অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ অর্জন। জাতীয়তাবাদী ও যোগ্য শিক্ষকদের দমন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্য। পবিপ্রবিতে ড. কাজী রফিকের প্রশাসন দুর্নীতিপূর্ণ, প্রতিহিংসামূলক এবং রাজনৈতিক স্বার্থে পরিচালিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও নৈতিকতা ক্ষতিগ্রস্ত। টেন্ডার বাণিজ্য ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় লক্ষাধিক টাকার লেনদেন। জাতীয়তাবাদী ও যোগ্য শিক্ষকদের অবমূল্যায়ন। শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীরা একজন যোগ্য, ন্যায়পরায়ণ ভাইস চ্যান্সেলরের তৎক্ষণাৎ নিয়োগ দাবী করছেন, যেন বিশ্ববিদ্যালয় পুনরায় শিক্ষার মূল লক্ষ্য ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে পারে। সার্বিকভাবে, পবিপ্রবিতে শিক্ষার মান, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, এবং নৈতিকতার অবনতি ঘটছে। শিক্ষকমন্ডলী ও শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে দাবি করছেন দ্রুত ও ন্যায়পরায়ণ পরিবর্তন। উল্লেখ্য,পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর (উপাচার্য) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। তিনি ২০২৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে এই পদে ৪ বছরের জন্য নিয়োগ পান ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।