Brand logo light

ডাবল বিলিং

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম
পিরোজপুর এলজিইডিতে ১,৬৪৭ কোটি টাকার দুর্নীতিও ‘লুটতরাজ’, নেপথ্যে হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল সিন্ডিকেট

মামুনুর রশীদ নোমানী :  স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) পিরোজপুর জেলা কার্যালয়কে ঘিরে গড়ে ওঠা এক বিশাল দুর্নীতি সিন্ডিকেটের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিগত পাঁচ বছরে জেলার ১৭টি উন্নয়ন প্রকল্পে অন্তত ১,৬৪৭ কোটি টাকার অনিয়ম ও লুটপাট হয়েছে। এই মহোৎসবের অন্যতম প্রধান কুশীলব হিসেবে নাম এসেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের । কাগজেই শেষ ১,০০০ প্রকল্পের কাজ অনুসন্ধানে জানা যায়, পিরোজপুর জেলায় হাতে নেওয়া ১,৮১০টি প্যাকেজের (রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট) মধ্যে ১,০০০টিরও বেশি প্রকল্পের কাজ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যেগুলোর সময়সীমা অনেক আগেই পার হয়ে গেছে [১.৫.৬]। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সংসদ সদস্য শ ম রেজাউল করিম ও মহিউদ্দিন মহারাজের রাজনৈতিক প্রভাবে এবং এলজিইডি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে কাজ না করেই শত শত কোটি টাকার বিল উত্তোলন করা হয়েছে। আরও পড়ুন: এলজিইডির শতকোটি টাকার হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম  এখনও বহাল তবিয়তে   আনোয়ারুল ইসলামের ‘আলাদিনের চেরাগ’ দুদকের প্রাথমিক তদন্ত ও বিভিন্ন সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম পিরোজপুর প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতেন। তার বিরুদ্ধে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তিনি কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তার ওপর দেশত্যাগে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তদন্তে উঠে আসা ভয়াবহ চিত্র:     বিনা কাজে বিল পরিশোধ: ৩৭০টি স্কিমের নথি গায়েব করে দেওয়া হয়েছে এবং কাজ শেষ না করেই ঠিকাদারদের বিল দেওয়া হয়েছে ।     ডাবল পেমেন্ট: একই প্রকল্পের নাম ভাঙিয়ে দুই থেকে চারবার পর্যন্ত বিল তুলে নেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি ।     গ্রেপ্তার ও বরখাস্ত: এই দুর্নীতির দায়ে ইতিমধ্যে জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন এবং এলজিইডির হিসাব কর্মকর্তা এ কে এম মোজাম্মেল হক খানসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ৩ জন প্রকৌশলীসহ মোট ৫ কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে । বর্তমান অবস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে এই দুর্নীতির ঘটনায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৮টি পৃথক মামলা দায়ের করেছে । পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাত্তারের ওপরও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে । স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ জানিয়েছেন, এই লুণ্ঠনের সাথে জড়িত রাজনৈতিক নেতা এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে । পিরোজপুরের সাধারণ মানুষ এখন এই বিশাল অর্থ আত্মসাতের সুষ্ঠু বিচার এবং অসমাপ্ত প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার দাবি জানাচ্ছেন। পিরোজপুর এলজিইডির বহুল আলোচিত এই দুর্নীতির ঘটনা কেবল একজন ব্যক্তির নয়, বরং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কর্মকাণ্ড। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় আরও কিছু সুনির্দিষ্ট এবং গভীর তথ্য নিচে দেওয়া হলো: ১. দুর্নীতির ধরন ও কৌশলের বিস্তারিত অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রটি মূলত তিনটি স্তরে কাজ করত :      ভূতুড়ে বিলিং: কোনো কাজ শুরু হওয়ার আগেই ১০০% বিল পরিশোধ করা হয়েছে। পিরোজপুরের নাজিপুর-বৈঠাকাঠা এবং নাজিপুর-চর রঘুনাথপুর সড়কে কোনো কাজ না করেই বিল তুলে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে ।     নথি গায়েব ও জালিয়াতি: তদন্তে দেখা গেছে, ৩৭০টি স্কিমের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব বা সঠিক ফাইল নেই । হিসাবরক্ষক এবং প্রকৌশলীরা যোগসাজশ করে একই কাজের বিপরীতে বারবার (ডাবল পেমেন্ট) বিল ইস্যু করেছেন ।     রাজনৈতিক ছত্রছায়া: সাবেক এমপি মহিউদ্দিন মহারাজের পরিবারের মালিকানাধীন আটটি ঠিকাদারি লাইসেন্স ব্যবহার করে প্রায় ১,০৭৯ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেওয়া হয় ।  ২. অভিযুক্তদের তালিকা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতিমধ্যে ২৩ থেকে ২৭ জন সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা করেছে ।     গ্রেপ্তারকৃতরা (১৫ এপ্রিল ২০২৫): জেলা হিসাব ও অর্থ কর্মকর্তা  মোহাম্মদ মহসিন, সাবেক কর্মকর্তা  আলমগীর হাসান,এসএএস সুপার  মাসুম হাওলাদার ও নজরুল ইসলাম এবং এলজিইডির হিসাব কর্মকর্তা এ কে এম মোজাম্মেল হক খান ।     চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা (১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫): দুর্নীতির দায়ে ৫ জন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন সদর, নাজিরপুর ও ভাণ্ডারিয়ার সাবেক প্রকৌশলী  মোর্শেদ সরকার,জাকির হোসেন মিয়া এবং বদরুল আলম ।     দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা: সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী  মোহাম্মদ সাত্তার এবং পিরোজপুর প্রজেক্টের হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামসহ ১৩ জনের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে ।  ৩. অর্থের অংক ও প্রকল্পের পরিমাণ     মোট অনিয়ম: প্রাথমিক তদন্তে ১,১০০ কোটি টাকার বেশি দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও ১৭টি বড় প্রকল্পে সব মিলিয়ে অনিয়মের পরিমাণ প্রায় ১,৬৪৭ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে ।     অসমাপ্ত কাজ: পিরোজপুর এলজিইডির অধীনে ১,৮১০টি প্যাকেজের মধ্যে ১,০০০টিরও বেশি কাজ বন্ধ হয়ে আছে, যার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ ।  ৪. আনোয়ারুল ইসলামের ব্যক্তিগত  সম্পদ অর্জনের অভিযোগ হিসাবরক্ষক আনোয়ারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে যে, তিনি পিরোজপুর প্রকল্পের ফান্ডের রক্ষক হয়েও ভক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরায় বহুতল ভবন, সাভারে জমি এবং বিভিন্ন ব্যাংকে বেনামে বড় অংকের এফডিআর (FDR) থাকার তথ্য পাওয়া গেছে, যার আর্থিক মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।    আনোয়ারুল ইসলামের সম্পদের  তালিকা দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধান এবং গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন সাধারণ হিসাবরক্ষক হওয়া সত্ত্বেও তিনি ও তার পরিবারের নামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে । তার অর্জিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে:     স্থাবর সম্পত্তি:         রাজধানীর উত্তরা ও সাভারে একাধিক বহুতল ভবন এবং ফ্ল্যাট।         নিজ এলাকায় এবং ঢাকার আশেপাশে বিপুল পরিমাণ বাণিজ্যিক ও কৃষিজমি।     অস্থাবর সম্পত্তি:         বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকে নিজের এবং স্বজনদের নামে বড় অংকের এফডিআর (FDR) ও সঞ্চয়পত্র।         বিলাসবহুল ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ।     অর্থ পাচার: অনুসন্ধানে তার অর্জিত অর্থের একটি বড় অংশ দেশের বাইরে পাচারের বিষয়েও তথ্য যাচাই করছে দুদক [১.২.৩]।  দায়েরকৃত মামলার আইনি ধারা ও অভিযোগসমূহ দুদক ইতিমধ্যে পিরোজপুর এলজিইডি দুর্নীতিতে ২৩ থেকে ২৭ জনকে আসামি করে ৮টি পৃথক মামলা করেছে । আনোয়ারুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাধারণত নিচের ধারাগুলোতে মামলা সাজানো হয়েছে: ১. দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা:     ২৬(২) ধারা: সম্পদের তথ্য গোপন করা বা মিথ্যা তথ্য প্রদান করা।     ২৭(১) ধারা: জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং তা ভোগদখলে রাখা ।  ২. দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা:     ৪০৯ ধারা: সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ (বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ)।     ৪২০ ধারা: প্রতারণা ও জালিয়াতি।     ৪৬৭ ও ৪৭১ ধারা: ভুয়া বিল-ভাউচার এবং জাল নথি তৈরি করে তা আসল হিসেবে ব্যবহার করা । ৩. দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা:     সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের বা অন্য কারো জন্য অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ।  ৪. মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২:     অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ স্থানান্তর বা রূপান্তরের মাধ্যমে বৈধ করার চেষ্টা করা । বর্তমান অবস্থা: পিরোজপুর এলজিইডির অপর হিসাবরক্ষক এ কে এম মোজাম্মেল হক খান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালীন মারা গেলেও আনোয়ারুল ইসলাম এবং তার সহযোগী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ব্যাপক অনুসন্ধান চালাচ্ছে।  বর্তমানে তার ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ আছে যেন তিনি বিচারিক প্রক্রিয়া থেকে পালাতে না পারেন ।   

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বরিশাল সিটিতে বিএনপির মেয়র মনোনয়ন ঘিরে হিসাব–নিকাশ

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও  বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও  বি এম কলেজ এর  সাবেক জি এস  এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা।  নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।  

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।   খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।

Top week

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি
ইত্তেহাদ এক্সক্লুসিভ

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত: ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বলছে বেঁচে আছেন

ইত্তেহাদ নিউজ : মার্চ ১, ২০২৬ 0