ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলের পর প্রশাসনিক তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। উত্তর প্রদেশে বহুল আলোচিত ‘বুলডোজার মডেল’-এর সঙ্গে তুলনা টেনে এবার পশ্চিমবঙ্গেও অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ উত্তর ২৪ পরগনার ব্যারাকপুরে সরকারি জমি দখলের অভিযোগে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক দলীয় কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার (২৪ জুন) ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০, ১৪, ২ এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কয়েকটি দলীয় কার্যালয়ে বুলডোজার চালানো হয়। প্রশাসনের দাবি, এসব স্থাপনা সরকারি জমি জবরদখল করে নির্মাণ করা হয়েছিল এবং দীর্ঘদিন ধরে সেগুলো অবৈধভাবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ঘটনাস্থলে প্রস্তুত রাখা হয়েছিল দমকল বাহিনীকেও।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ দখলমুক্ত করার অংশ হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে অভিযানের সময় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
অন্যদিকে উচ্ছেদ অভিযানের বৈধতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা।
ব্যারাকপুর পৌরসভার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তৃণমূল নেতা রমেশ সাউ দাবি করেন, যে স্থাপনা ভাঙা হয়েছে সেটি সরকারি বা গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) জমির ওপর নির্মিত ছিল না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমিটি আগে সুধীর সাহা নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ছিল। সেখানে একটি সাইকেল মেরামতের দোকান পরিচালিত হতো। পরবর্তীতে জমির মালিকের ছেলে সেটি বিক্রি করতে চাইলে তিনি জমিটি কিনে নেন।
রমেশ সাউ অভিযোগ করেন, উচ্ছেদের বিষয়ে তাকে আগে থেকে অবহিত করা হয়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, বুলডোজার দিয়ে পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় দলবদলের প্রভাব এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তার দাবি, জমিটি ব্যক্তিমালিকানাধীন হলেও প্রশাসন তা ভেঙে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন।
ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে জমিটির প্রকৃত মালিকানা। প্রশাসন যেখানে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ তুলছে, সেখানে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ব্যক্তিমালিকানার দাবি করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জমির রেকর্ড, দখল ও মালিকানা সংক্রান্ত সরকারি নথি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং নির্মাণ ভাঙার ঘটনা বেড়েছে। ব্যারাকপুরের এই অভিযান শুধু একটি স্থানীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নাকি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তার অংশ—তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
তবে প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট—অবৈধ দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের দাবি, এসব পদক্ষেপের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রীষ্মের তীব্রতা আরও বাড়তে যাচ্ছে। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র (এনসিএম) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে দেশের কিছু অঞ্চলে তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, প্রচণ্ড গরমের পাশাপাশি বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে জনজীবনে অস্বস্তি বাড়তে পারে। একই সময়ে দেশের পূর্বাঞ্চলীয় ও পার্বত্য এলাকাগুলোতে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত এবং বজ্রঝড়ের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এনসিএমের তথ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস ধরে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। যদিও তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠতে পারে, তবে তা দীর্ঘ সময় স্থায়ী হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের পশ্চিমাঞ্চলগুলোতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। গরমের মধ্যেই বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যেও চলতি সপ্তাহে কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত হতে পারে। স্থানীয়ভাবে ‘রাওয়ায়েহ’ নামে পরিচিত গ্রীষ্মকালীন আবহাওয়ার প্রভাবে পরিচলন মেঘ তৈরি হয়ে বজ্রঝড় ও বৃষ্টির সৃষ্টি হয়। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ তাপমাত্রা, অতিরিক্ত আর্দ্রতা এবং পার্বত্য অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে এসব মেঘের উৎপত্তি ঘটে। এবারের সম্ভাব্য বৃষ্টিপাত মূলত পূর্বাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকাকেই বেশি প্রভাবিত করতে পারে। বড় শহরগুলোতে পরিস্থিতি কেমন? রাজধানী আবুধাবি, বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই এবং শারজাহসহ বড় শহরগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং কিছু এলাকায় হালকা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি দেখা যেতে পারে। আবহাওয়া বিশ্লেষকদের মতে, সপ্তাহের শেষ দিকে মেঘলা আবহাওয়া ও বিচ্ছিন্ন বৃষ্টিপাতের কারণে তাপমাত্রা সামান্য কমে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আমিরাতজুড়ে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : শিক্ষা, চাকরি ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মুখে আফগানিস্তানের বহু নারী এখন ব্যবসাকেই টিকে থাকার প্রধান উপায় হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। তালেবান সরকারের আরোপিত নানা সীমাবদ্ধতায় নারীদের জন্য পেশাগত সুযোগ ক্রমেই সংকুচিত হলেও নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকায় নতুন এক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে—যেখানে উদ্যোক্তা হওয়াই অনেক নারীর শেষ ভরসা। উপলব্ধ তথ্য বলছে, গত কয়েক বছরে আফগানিস্তানে নারী উদ্যোক্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আফগানিস্তান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশটিতে ১০ হাজারের বেশি নারী ব্যবসায়িক লাইসেন্সধারী রয়েছেন। পাঁচ বছর আগের তুলনায় এ সংখ্যা প্রায় দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নারী লাইসেন্স ছাড়াই বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বিশ্বব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ক্ষুদ্র ও কুটিরভিত্তিক ব্যবসাই বর্তমানে আফগান নারীদের সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। স্বপ্ন বদলে বেঁচে থাকার লড়াই যেসব নারী একসময় আইনজীবী, প্রকৌশলী বা শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন, তাদের অনেকেই এখন কার্পেট বুনন, সাবান উৎপাদন, প্রসাধনী তৈরি কিংবা কারিগরি প্রশিক্ষণনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করছেন। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর মেয়েদের উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিভিন্ন ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে। ফলে অনেক নারী বাধ্য হয়ে বিকল্প আয়ের পথ খুঁজতে শুরু করেন। উত্তরাঞ্চলীয় শহর মাজার-ই-শরিফের ১৯ বছর বয়সী নাসিরা আজিজি সেই পরিবর্তনেরই একটি প্রতীকী উদাহরণ। শিক্ষাজীবন থেমে যাওয়ার পর তিনি কার্পেট উৎপাদন ব্যবসায় যুক্ত হন। বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৪৫০ জন কর্মী কাজ করছেন, যাদের অধিকাংশই নারী। নাসিরার গল্প শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের নয়; এটি এমন এক প্রজন্মের প্রতিচ্ছবি, যাদের শিক্ষা বন্ধ হলেও জীবনের সংগ্রাম থেমে থাকেনি। প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন থেকে সাবান কারখানা ২১ বছর বয়সী রোকিয়া রেজায়ির স্বপ্ন ছিল খনি প্রকৌশলী হওয়ার। কিন্তু পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন পূরণের সুযোগ হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে তিনি ‘ম্যাগনোলিয়া’ নামে একটি সাবান উৎপাদন উদ্যোগ গড়ে তোলেন। বর্তমানে এই ব্যবসার আয়েই তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে। রোকিয়ার মতো অনেক নারীর জন্য উদ্যোক্তা হওয়া কোনো পছন্দের সিদ্ধান্ত ছিল না; বরং সীমিত সুযোগের মধ্যে বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় কৌশল। ব্যবসা আছে, স্বাধীনতা নেই নারী উদ্যোক্তাদের সংখ্যা বাড়লেও তাদের পথ মোটেও সহজ নয়। হেরাতের মৌচাষি ঘোঞ্চা কারিমি, যিনি স্থানীয়ভাবে ‘বি কুইন’ নামে পরিচিত, প্রায় ৫০টি মৌচাক পরিচালনা করেন। তবে তার মতে, চলাচলে বিধিনিষেধ, পুরুষ ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগে বাধা এবং প্রশাসনিক জটিলতা ব্যবসার সম্প্রসারণকে কঠিন করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রেই নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক লেনদেন, বাজার ব্যবস্থাপনা বা সরকারি কাজকর্ম সম্পন্ন করতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদের সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এটি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণকে সীমিত করে এবং তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কমিয়ে দেয়। কর্মসংস্থানের সংকটের কঠিন চিত্র জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আফগান নারীদের মাত্র ৭ শতাংশ কোনো না কোনো কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই পরিসংখ্যান দেশটির নারী শ্রমবাজারের সংকটকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষা ও চাকরির সুযোগ সীমিত হয়ে যাওয়ার কারণে ব্যবসা এখন কেবল আয়ের উৎস নয়; এটি নারীদের জন্য সামাজিক সংযোগ, আত্মমর্যাদা এবং ব্যক্তিগত পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সরকারি দাবি বনাম বাস্তবতার প্রশ্ন আফগান প্রশাসন দাবি করছে, নারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন উদ্যোগ চালু রয়েছে। তবে নারী অধিকারকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব উদ্যোগের পরিধি সীমিত এবং বাস্তব প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম। তাদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম থাকলেও বাজারে প্রবেশ, আর্থিক সহায়তা, স্বাধীন চলাচল এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে নারীরা এখনও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হচ্ছেন। শেষ আশ্রয় হিসেবে উদ্যোক্তা হওয়া হেরাত প্রদেশের নারী উদ্যোক্তা প্রতিনিধি বেহনাজ সালজুঘির ভাষায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে আফগান নারীদের জন্য ব্যবসাই ‘একমাত্র আশার জায়গা’। এই মন্তব্যের মধ্যে ফুটে ওঠে আফগান নারীদের বর্তমান বাস্তবতা—যেখানে শিক্ষা ও চাকরির বহু দরজা বন্ধ হয়ে গেছে, কিন্তু জীবন থেমে নেই। প্রতিকূল সামাজিক পরিবেশ, প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও হাজারো নারী নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছেন। তাদের কাছে ব্যবসা শুধু জীবিকা নয়; এটি আত্মনির্ভরতা, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতি আস্থা ধরে রাখার এক নীরব সংগ্রাম।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মালয়েশিয়ায় অবৈধভাবে অবস্থান, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অভিযান চালাচ্ছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসেই দেশজুড়ে পরিচালিত অভিযানে আটক হয়েছেন ৩০ হাজার ৮০১ জন বিদেশি নাগরিক, যা দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বার্নামার বরাত দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ করেছে মালায় মেইল। তথ্য অনুযায়ী, আটক হওয়া বিদেশিদের মধ্যে ২ হাজার ৩২৪ জনের বিরুদ্ধে ভিসার শর্ত ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। তারা যে উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন, বাস্তবে তার বাইরে গিয়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভিসা এক, কাজ আরেক—কেন উদ্বিগ্ন কর্তৃপক্ষ? ইমিগ্রেশন বিভাগের তদন্তে দেখা গেছে, অনেক বিদেশি নাগরিক পর্যটক, শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য সীমিত অনুমতির ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করলেও পরে অনুমোদনহীন ব্যবসা, শ্রমবাজার বা বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রবণতা শুধু অভিবাসন নীতিকেই চ্যালেঞ্জ করছে না, বরং বৈধ শ্রমবাজার, কর ব্যবস্থাপনা এবং জাতীয় নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলছে। জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ার অভিবাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, জনশৃঙ্খলা এবং ন্যায্য অর্থনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ইমিগ্রেশন সুবিধার অপব্যবহার ঠেকানো এখন বিভাগের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ অভিযান ইউনিট গঠন অভিযান আরও কার্যকর করতে মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগ নতুন কিছু কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বিশেষ ‘এনফোর্সমেন্ট ইন্সপেক্টরেট’ গঠন; ঝুঁকিপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক চিরুনি অভিযান; ভিসা ও কর্মসংস্থান আইন লঙ্ঘনকারীদের শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি; অবৈধ কর্মী নিয়োগকারী নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। কর্তৃপক্ষের দাবি, শুধু বিদেশি নাগরিক নয়, তাদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যৌথ অভিযানে নতুন কৌশল ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধ অভিবাসন ও ভিসা অপব্যবহার প্রতিরোধকে বিভাগের বার্ষিক কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের (KPI) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে করে অভিযান পরিচালনা, আইন প্রয়োগ এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও জবাবদিহিমূলক হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা। প্রবাসীদের জন্য সতর্কবার্তা পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই অভিযান বিদেশি শ্রমিকনির্ভর খাতগুলোতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যেসব প্রবাসী ভিসার শর্ত অনুযায়ী কাজ করছেন না কিংবা অনুমতিবিহীন কর্মসংস্থানে যুক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য এটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা। মালয়েশিয়া সরকার ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে, অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে বিদেশি কর্মী ও নিয়োগকর্তা—উভয় পক্ষের ওপর নজরদারি আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।