Brand logo light

বরিশাল

চাঁদার অভিযোগ, ব্যানার পোড়ানো ও হামলার দাবি: বানারীপাড়ায় সাময়িক স্থগিত ফুটবল টুর্নামেন্ট

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  খেলাধুলার মাধ্যমে স্থানীয় তরুণদের মাঠমুখী করা এবং মাদক থেকে দূরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজন করা হয়েছিল একটি ফুটবল টুর্নামেন্ট। কিন্তু সেই আয়োজনকে ঘিরেই এবার চাঁদা দাবি, টুর্নামেন্টের ব্যানার-পোস্টার ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া, আয়োজকের ওপর হামলা এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার আউয়ার হাইস্কুল মাঠ এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পর We Are Helpful ফুটবল টুর্নামেন্টের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। সংগঠনটির সভাপতি মোঃ সজিব হোসাইনের অভিযোগ, তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। তিনি সেই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর টুর্নামেন্টের আয়োজন বাধাগ্রস্ত করা হয়। পরে খেলা শেষে তার ওপর হামলা চালিয়ে পকেটে থাকা ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬, সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ We Are Helpful-এর সভাপতি মোঃ সজিব হোসাইন বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলা এবং মাঠমুখী করার লক্ষ্য থেকেই স্থানীয় পর্যায়ে এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় পর্যায়ে তরুণদের খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে উৎসাহ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের খেলাধুলাবান্ধব আহ্বান থেকেও স্থানীয় যুবসমাজকে মাঠে ফিরিয়ে আনার অনুপ্রেরণা পেয়েছেন আয়োজকরা। We Are Helpful একটি অলাভজনক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা। সংগঠনের সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় গত ৩১ জুলাই আউয়ার হাইস্কুল মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হয়। প্রথমে টুর্নামেন্টটির নাম ছিল “We Are Helpful ফুটবল টুর্নামেন্ট”। পরে এর নাম পরিবর্তন করে “আরাফাত রহমান ফুটবল টুর্নামেন্ট” রাখা হয়। আয়োজকদের দাবি, এই টুর্নামেন্টের মূল উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করা এবং তাদের মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা। ‘৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি’ সজিব হোসাইনের অভিযোগ, টুর্নামেন্ট পরিচালনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মাইনুল, জিয়া, কবির, সোহাগ, হৃদয়সহ আরও কয়েকজন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। তবে তিনি সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী টুর্নামেন্ট পরিচালনা অব্যাহত রাখেন বলে জানান। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ আগস্ট বিকেলে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু হওয়ার আগে মাইনুলের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি মাঠে আসেন এবং পূর্বে দাবিকৃত ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। সজিব হোসাইনের ভাষ্য, তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে টুর্নামেন্টের ব্যানার ও পোস্টার ছিঁড়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে উপস্থিত লোকজনের সামনে আয়োজক কমিটির সদস্যদের গালিগালাজ করা এবং খেলা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। খেলা শেষে হামলার অভিযোগ ঘটনার পর ওই দিনের খেলা শেষ হলে খেলার বিভিন্ন খরচের বিল পরিশোধের জন্য সজিব হোসাইন মাঠের পাশে মনিরের দোকানে যান বলে জানান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানে অবস্থান করার সময় একটি ফোন কলের মাধ্যমে তার অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। তিনি স্বাভাবিকভাবেই নিজের অবস্থানের কথা জানান। এর প্রায় পাঁচ মিনিট পর সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে একদল লোক দোকানের সামনে এসে তাকে মারধর শুরু করে বলে অভিযোগ করেন সজিব হোসাইন। তার অভিযোগ, হামলাকারীরা গালিগালাজ করতে করতে তাকে টেনে-হিঁচড়ে আউয়ার হাইস্কুল মাঠের দিকে নিয়ে যায়। একপর্যায়ে তার গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। সজিব হোসাইনের ভাষ্য, জীবন বাঁচাতে তিনি চিৎকার শুরু করলে এবং একসময় মাটিতে পড়ে গেলে তার পকেটে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেওয়া হয়। তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে তিনি জানান। ‘থানায় গেলে প্রাণনাশের হুমকি’ হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সজিব হোসাইন। তার ভাষ্য, ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে কিংবা থানায় অভিযোগ করলে তাকে এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তার দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না এবং নিজ এলাকায় অবস্থান করাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবি We Are Helpful-এর সভাপতি মোঃ সজিব হোসাইন বলেন, “আমি যুবসমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের সম্পৃক্ত করতে টুর্নামেন্টের আয়োজন করেছি। আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। চাঁদা না দেওয়ায় আমার ওপর হামলা ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই এবং আমার ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাই।” তবে এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আয়োজক ও স্থানীয়রা। এরই মধ্যে পরিস্থিতি ও নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে ফুটবল টুর্নামেন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
শেবাচিম কেন্দ্রীয় মসজিদ
বরিশালে সরকারি পদ আছে, নিয়োগ নেই, বছরের পর বছর অনিশ্চয়তায় ইমাম-মুয়াজ্জিন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগের জন্য পৃথক সরকারি পদ ও বরাদ্দ থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সেই পদগুলো দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে আছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদ ২০১৯ সাল থেকে এবং হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ থাকা পদ ২০২৩ সাল থেকে কার্যত শূন্য। নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় বর্তমানে মসজিদের দায়িত্ব পালনকারীরা সীমিত পারিশ্রমিকে কাজ করছেন। এতে তারা আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু বলছেন, সরকারি ছাড়পত্র পাওয়ার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে। তবে প্রশ্ন উঠছে—পদ শূন্য থাকার এত বছর পরও কেন নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়নি? আর সরকারি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারীদের জীবনযাত্রা ও প্রাপ্য আর্থিক সহায়তার দায়ই বা কার? প্রতিষ্ঠার চার দশক পরও নিয়োগ সংকট মুসল্লিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৮১ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকায় মুসলমানদের নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির সুবিধার্থে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় এই চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী এবং তাদের স্বজনসহ বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত মসজিদটিতে নামাজ আদায় করেন। এত বড় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক মসজিদে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালনের জন্য পৃথকভাবে পদ বরাদ্দ থাকার কথা জানালেও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত নিয়োগ না হওয়ায় স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ এবং শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য পৃথকভাবে একজন করে ইমাম ও একজন করে মুয়াজ্জিনের পদ বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু পদ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর তা শূন্য থাকছে। ২০১৯ ও ২০২৩: দুই সময়সীমা, এক প্রশ্ন মুসল্লিদের অভিযোগ অনুযায়ী, কলেজের জন্য বরাদ্দ থাকা ইমাম-মুয়াজ্জিনের পদ ২০১৯ সাল থেকে এবং হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ থাকা পদ ২০২৩ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া কেন শেষ করা সম্ভব হয়নি—সেটিই এখন প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। মসজিদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি থাকলেও ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ ও তাদের বেতন-ভাতার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয় বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নিয়মিত মুসল্লি। পদাধিকারবলে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ মসজিদ কমিটির সভাপতি হওয়ায় নিয়োগসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতায় সমস্যাটি আরও জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। তবে অভিযোগের জবাবে অধ্যক্ষ ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু বলেন, “ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগের সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সেটি সম্পন্ন হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে।” সাড়ে ৬ হাজার টাকায় সংসার সরকারি নিয়োগ ও নিয়মিত বেতন-ভাতার বাইরে থেকে দীর্ঘদিন ধরে মসজিদের খেদমত করে আসা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের আর্থিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুসল্লিরা। তাদের অভিযোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে সীমিত পারিশ্রমিকে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। মুসল্লিদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ফায়জুল বাশারের সময়ে কলেজ অফিস থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য মাসিক সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হতো। এর পাশাপাশি মসজিদে মুসল্লিদের দেওয়া দানের অর্থ থেকেও তাদের সহযোগিতা করা হতো বলে তারা দাবি করেন। বর্তমানে কলেজের পক্ষ থেকে সাড়ে ৬ হাজার টাকা করে দেওয়া হলেও মসজিদের দানের অর্থ ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ অবশ্য সরাসরি অস্বীকার করেছেন মসজিদ কমিটির সভাপতি ডা. আনোয়ার হোসেন বাবলু। তিনি বলেন, “কলেজের ফান্ডে সমস্যা থাকায় ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতন দিতে সমস্যা হচ্ছে। আর মুসল্লিদের দানের টাকা আমরা নিয়ে যাই—এমন তথ্য সঠিক নয়।” দানের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়? মুসল্লিদের একটি অংশের অভিযোগ, মসজিদের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন। তাদের মতে, মসজিদে নিয়মিত দান সংগ্রহ হলেও সেই অর্থের আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য সাধারণ মুসল্লিদের সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা হয় কি না, সে প্রশ্ন রয়েছে। যদিও মসজিদ কমিটির সভাপতি দানের অর্থ আত্মসাৎ বা অন্যত্র নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে নিয়মিত মুসল্লিদের দাবি, ভুল বোঝাবুঝি ও বিতর্ক এড়াতে মসজিদের দানের অর্থের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়মিতভাবে প্রকাশ করা উচিত। নিয়োগের অপেক্ষায় আর কতদিন? দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য থাকা এবং সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া চলমান থাকার বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে এখন মূল প্রশ্ন হলো—নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা আছে কি না। মুসল্লিরা বলছেন, বছরের পর বছর একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের অনিশ্চয়তার মধ্যে রাখা সমাধান হতে পারে না। তাদের দাবি, দ্রুত সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ইমাম ও মুয়াজ্জিন নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা ব্যক্তিদের প্রাপ্য ও ন্যায্য বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে বরিশাল-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিনের হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন এলাকাবাসী ও মুসল্লিরা। প্রশ্নগুলো এখনো রয়ে গেছে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মতো বৃহৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় মসজিদে পদ থাকা সত্ত্বেও বছরের পর বছর কেন ইমাম-মুয়াজ্জিন নিয়োগ হয়নি? সরকারি ছাড়পত্রের প্রক্রিয়া কবে শুরু হয়েছে এবং কবে শেষ হবে? মসজিদের দানের অর্থ কীভাবে পরিচালিত ও ব্যয় হচ্ছে? আর সরকারি নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করে আসা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ন্যায্য আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে? মসজিদ কমিটির সভাপতি অবশ্য জানিয়েছেন, সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই নিয়োগ দেওয়া হবে। এখন মুসল্লিদের অপেক্ষা—সেই প্রক্রিয়ার বাস্তব সমাপ্তি কবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ২৫, ২০২৬ 0
বরিশালে সরকারি পুকুর ভরাট করে প্লট বিক্রি
বরিশালে সরকারি খাসজমির ১০ কোটি টাকার পুকুর ভরাটের অভিযোগ, প্লট করে বিক্রির প্রস্তুতি

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীতে সরকারি খাসজমির ওপর থাকা প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি পুকুর বালু ফেলে ভরাট করে প্লট আকারে বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬৯ শতাংশ আয়তনের জলাশয়টির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যে ভরাট করা হয়েছে। তবে যাঁরা ভরাটের কাজ করছেন, তাঁদের দাবি—ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির মালিকানা পাওয়া গেছে এবং বৈধ পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তিতেই উন্নয়নকাজ চলছে। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভূমি প্রশাসনের দাবি, এটি সরকারি খাসজমি। হাসপাতালের পাশের জলাশয় নগরীর মুন্সীবাড়ি এলাকায় বীণাপাণি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে উত্তরমুখী সড়কের পাশে অবস্থিত পুকুরটি বরিশাল বক্ষব্যাধি হাসপাতাল এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতালের ঠিক পাশেই অবস্থিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, পুকুরসহ আশপাশের জমি সরকারের মালিকানাধীন। পুকুরটি দখল ও ভরাট বন্ধে কাউনিয়া থানা, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কারা করছেন ভরাট? স্থানীয় সূত্রের দাবি, শহরের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলাম লিয়ন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব বাবুল তালুকদার, স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলমগীর ও রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, এ কাজে স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতারও পরোক্ষ প্রভাব রয়েছে। তবে মহানগর বিএনপি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রাকিবুল ইসলাম লিয়ন বলেন, "ওয়ারিশ সূত্রে ওই জমির মালিক হেলাল আকন ও তাঁর বোন। আমরা চারজন পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে জায়গাটি ভরাট করছি। পরে প্লট আকারে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।" তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরকারি মালিকানার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন। পুকুর ভরাটের ঠিকাদার মো. জুয়েল জানান, সাত লাখ টাকার চুক্তিতে তিনি বালু ফেলে ভরাটের কাজ করছেন।   স্থানীয়দের ভাষ্য: "এটি সবসময় হাসপাতালের পুকুর হিসেবেই পরিচিত" এলাকার প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, বহু দশক ধরেই জলাশয়টি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান বলেন, "৫০ বছরের বেশি সময় ধরে আমরা জানি, এটি বক্ষব্যাধি হাসপাতালের পুকুর। কয়েক দিন আগে শুনলাম কেউ নাকি এটি কিনে ফেলেছে।"   হাসপাতালের নথিতে কী আছে? হাসপাতালের অফিস সহকারীর দায়িত্বে থাকা ফার্মাসিস্ট আনোয়ারা বেগম বলেন, হাসপাতালের মোট সাত একর ৪১ শতাংশ জমির পর্চা রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী— দাগ নম্বর ১০৬৯ ভিটা, ১০৭০ ও ১০৭১ পুকুর হিসেবে রেকর্ডভুক্ত। এসব জমির মালিক হিসেবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কালেক্টরের নাম উল্লেখ রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, "কাউনিয়া থানা ও এসিল্যান্ড অফিসে বহুবার গিয়েছি। কিন্তু জমি রক্ষায় কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।"   "রাতের আঁধারে চলছে ভরাট" হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মাসুমা আক্তার বলেন, হাসপাতালের পুরোনো কর্মচারীরা সবাই জানেন এটি সরকারি সম্পত্তি। তাঁর দাবি, ১৯ জুলাই কাউনিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও এসিল্যান্ডকেও জানানো হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেড়া দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে দখলকারীরাই সেখানে বেড়া দিয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলেও ভরাট বন্ধ হয়নি।   বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা স্থানীয়দের হিসাবে, হাসপাতালসংলগ্ন ৬৯ শতাংশ আয়তনের এই পুকুরটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল ভবনের পেছনে অবস্থান করায় মূল সড়ক থেকে জলাশয়টির বড় অংশ দেখা যায় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই অবস্থানকেই কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধাপে ধাপে ভরাট চলছে।   বিএনপির প্রতিক্রিয়া মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, "এ ঘটনায় বিএনপির কোনো নেতা জড়িত নন। কাগজপত্রে জালিয়াতি হয়েছে কিনা, সেটি ভূমি অফিস তদন্ত করবে।"   ভূমি প্রশাসন কী বলছে? সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজহারুল ইসলাম বলেন, পুকুরটি খাস খতিয়ানের জমি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ বছর আগে জরিপে বিএস রেকর্ডে এটি ব্যক্তি মালিকানার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। তিনি বলেন, "আমার ধারণা, এখানে বড় ধরনের অনিয়ম বা লেনদেন হয়েছে। একটি চক্র পুকুরটি দখল করেছে। কীভাবে খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় গেল, সেটি চ্যালেঞ্জ করে ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হবে।"   সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসনের বক্তব্য বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন বলেন, "প্রশাসনের উদাসীনতা রয়েছে। মামলা করে জমি উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। তবে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আমার যা করণীয়, তা করব।" জেলা প্রশাসক মো. মামুন খন্দকার বলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।   এখন যে প্রশ্নগুলো সামনে ঘটনাটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে এসেছে— সরকারি খাসজমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড হলো কীভাবে? ওয়ারিশ ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির ভিত্তি কতটা বৈধ? প্রশাসনের কাছে অভিযোগ যাওয়ার পরও ভরাট কেন বন্ধ হয়নি? ভূমি রেকর্ডে কোনো জালিয়াতি বা অনিয়ম ঘটেছে কি না? সরকারি সম্পত্তি দখলের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ভূমি প্রশাসনের তদন্ত এবং সম্ভাব্য ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালের মামলার মাধ্যমে। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই পুকুর ভরাট বন্ধ করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৮, ২০২৬ 0
বরিশালের প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় উপ-পরিচালক ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ঘুষের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ, বদলি বাণিজ্য এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের পরও তিনি বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতীতের বদলির আদেশও শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের অভিযোগ, বিষয়গুলো নিয়ে বিভিন্ন সময়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা হয়নি। ফলে বিভাগীয় কার্যালয়ে ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে তারা দাবি করছেন। ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের আমলের উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা দেখিয়ে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা এবং ক্ষমতার অপব্যাবহার করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশালের বিভাগীয় উপ-পরিচালক। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে থাকা উপজেলা চেয়ারম্যান স্বামীর ক্ষমতা আর পাঁচ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর এক অদৃশ্য শক্তির দাপটে  একইভাবে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্চাচারিতা করে যাচ্ছেন তিনি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কিংবা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও কর্ণপাত করেন না এই কর্মকর্তা। মহা ক্ষমতাধর এই কর্মকর্তা হলেন প্রাথমিক শিক্ষার বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিন। জানা গেছে, স্বৈরাচার হাসিনার আমলে ২০১৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা আবু আব্দুল্লাহেল কাফীর স্ত্রী নিলুফার ইয়সামিন। উপজেলা চেয়ারম্যান ও আ’লীগ নেতা স্বামীর প্রভাবে দুর্নীতি-অপকর্ম ও অনিয়ম করা যেন নিয়মে পরিণত করেছিলেন তিনি। স্বামীর প্রভাব কাজে লাগিয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট বরিশাল বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক পদে পদায়ন বাগিয়ে নেন। বদলির আদেশ জারি হলেও কার্যকর হয়নি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকার দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেলে শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ পরে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ২ অক্টোবর ২০২৪ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় নিলুফার ইয়াসমিনকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে বদলি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এই প্রজ্ঞাপন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হলেও মন্ত্রণালয়ের এই আদেশ কর্ণপাত না করে প্রাথমিকের বরিশাল বিভাগীয় অফিসেই কর্মরত থাকেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের আদেশ অমান্য করে কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত না হওয়ায় গত ৯ অক্টোবর ২০২৪  তাকে বরিশাল বিভাগীয় অফিস থেকে কর্মবিমুক্ত (রিলিজ) করে অফিস আদেশ জারি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।  জানা গেছে, মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের আদেশ অমান্য করে এক অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে বর্তমান কর্মস্থল থেকেই তিনি মন্ত্রণালয়ের ২ অক্টোবর ২০২৪  তার বদলির আদেশ বাতিল করিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করান। শত অভিযোগ থাকা এই কর্মকর্তার বদলিতে বরিশাল বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসলেও বদলি বাতিল হওয়ায় হতাশ হন তারা।     যত অপকর্ম :সরকারি গেস্ট হাউজে পারিবারিক বসবাসের অভিযোগ নিলুফার ইয়াসমিন তিনি অফিস ভবনের ৩য় তলায় অবস্থিত গেস্ট হাউজে পরিবার নিয়ে ১ বছরের অধিক সময় ধরে বসবাস করে আসছেন। সেখানে মিটিং রুম থেকে ২টি এসি খুলে সেট করেছেন। এরজন্য প্রতি মাসে প্রচুর বিদ্যুত বিল সরকারিভাবে পরিশোধ করা হচ্ছে। তিনি গেস্ট হাউস ব্যবহারের ফলে ঢাকা থেকে আসা অতিথি এবং বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে প্রশিক্ষণে বা সভায় অংশগ্রহণের জন্য আসা কর্মকর্তাগণ নিজস্ব গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে না পেরে বাধ্য হয়ে বাইরের হোটেলে বা অন্য কোন দপ্তরের গেস্ট হাউজে অবস্থান করতে বাধ্য হন। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট অনুজ কুমার, সহকারি পরিচালক কবির উদ্দিন, এনামুল হক, ইঞ্জিনিয়ার সাইদুর রহমান সম্প্রতি ধান গবেষণার রেস্ট হাউজে এবং নিরঞ্জন রায় পাবলিক হেলথ এর রেস্ট হাউজে অধিদপ্তরের কাজে গিয়ে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি পুরো পরিবার নিয়ে কোয়ার্টারের মতো বসবাস করলেও অদ্যাবধি কোন ভাড়া পরিশোধ করেননি।    সরকারি অফিস সময় না মানার অভিযোগ:  পবিত্র রমজান মাস বাদে সরকারি অফিস টাইম সকাল ৯ টা থেকে বিকেল ৫ টা হলেও নিলুফার ইয়সামিন রেস্ট হাউজ থেকে অফিস কক্ষে নামেন দুপুর ১২ টায় এবং আবার রেস্ট হাউজে ফিরে যান দুপুর ১ টায়। এরপর বিকেল চার টায় অফিসে এসে রাত ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত অফিস করেন তিনি।  অফিসে আসা কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান, ‘আমি বিভাগীয় অফিসে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকতে হয়। তিনি যখন রেস্ট হাউজ থেকে অফিসে আসেন তখন স্বাক্ষাৎ পাওয়া যায় না নামলে সাক্ষাৎ না করেই ফিরে যেতে হয়।’ এদিকে একজন মহিলা কর্মকর্তার সঙ্গে রাত ৮ টা পর্যন্ত অফিস সময়ের পরে অফিস কক্ষে অবস্থান করা সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর জন্য বিব্রতকর ও বিরক্তিকর হলেও তার ভয়ে কেউ কিছু বলতে পারেন না। অনেকেই কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হন। তিনি সময় মতো অফিসে থাকেন না বিধায় উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারিদেরকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।   আর্থিক যত অনিয়ম: ২০২২-২৩  অর্থ বছরের অফিস আনুষাঙ্গিক ও অন্যান্য বরাদ্দ বাবদ অফিসের কোন মালামাল ক্রয় করা না হলেও ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন তিনি। একই অর্থ বছরে অফিসের রুটিন মেইনটেনেন্সের জন্য বরাদ্দকৃত ৫০ হাজার টাকার কোন কাজ না করে ভুয়া বিল ভাউচার করে সব টাকা উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।  ২০২২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যোগদানের পর থেকে যত প্রশিক্ষণ হয়েছে তাতে যে ভেন্যু ভাড়া বাবদ বরাদ্দ ছিল তা তিনি পরিশোধ না করে সমুদয় টাকা আত্মসাৎ করেছেন । ২০২২ সাল থেকে সকল প্রশিক্ষণ পিটিআইতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে কোন ভাড়া পরিশোধ করা হয়নি। । এডুকেশন ইন ইমার্জেন্সি প্রোগ্রামে স্বয়ং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। প্রোগ্রামটি পিটিআইয়ের একটি সাধারণ কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত প্রোগ্রামটির ৩০ হাজার টাকা ভেন্যু ভাড়া ছিল। এর পুরোটাই তিনি খরচ না করে আত্মসাৎ করছেন। প্রোগ্রামটিতে প্রশাসনিক ব্যয় ৩৫০০ টাকা বরাদ্দ থাকলেও তিনি ৮০০০ টাকা ব্যয় দেখিয়ে এসওই দাখিল করেছেন । এখানে ৫০০০ টাকা আত্মসাৎ করেছেন। প্রোগ্রামটিতে  ডিপিইও কে সভাপতি এবং ডিডি অফিসের শিক্ষা অফিসারকে কোর্স সমন্বয়ক করার নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা না করে নিজে সভাপতি এবং ডিপিইওকে কোর্স সমন্বয়ক করে সম্মানী বিতরণ করেছেন। তিনি শিক্ষা অফিসারকে কোন সম্মানী প্রদান করেননি।   ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না—এমন অভিযোগ  ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালানোর পরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের কোন অনুষ্ঠান করা না হলেও  বরাদ্দের সব টাকা আত্মসাত করেছেন।  শিক্ষা পদক সংক্রান্ত বিভাগীয় বাছাই সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সনদ ও পুরস্কার বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তিনি তা না করে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাত করেছেন। ২০২২ ও ২০২৩ সালে কম্পিউটার থেকে সনদপত্র প্রিন্ট করে প্রদান করেছেন। কোন অনুষ্ঠান করেননি। প্রথম স্থান অধিকারীদের কেউ কেউ অফিসে এসে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা বা উপজেলা অফিস থেকে সনদ সংগ্রহ করেছেন।  অনুষ্ঠান না করেও বিল করে করেছেন অর্থ আত্মসাৎ।  ২০২২ ও ২০২৩ সালে জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় ঢাকায় উপস্থিত না থেকেও ঢাকা ভ্রমণের জন্য টিএ বিল উত্তোলন করেন। ২০২২ সালে ১৫ দিন শ্রান্তি বিনোদন ছুটির সাথে অবৈধভাবে আরো প্রায় ১৫ দিন অফিস করেননি। এক মাস অফিসের গাড়ীটি না চললেও ঐ মাসে জ্বালানী বাবদ সমুদয় অর্থ উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।    সরকারি অফিসকে পারিবারিক সম্পত্তিরুপে ব্যবহার :  অফিসের গাড়িটি তিনি তার ছেলে-মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়ার কাজে ব্যবহার করেন। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬ থেকে ৮ বার তার ছেলে-মেয়েকে স্কুলে ও কোচিং এ আনা নেওয়া করা হয় এবং সরকারি অফিসের এই গাড়ির চালককে এসব কাজে বাধ্য করেন তিনি। কোন জেলা বা উপজেলায় পরিদর্শনে গেলে পিটিআই বা ডিপিইও অফিসের গাড়ি ব্যবহার করেন। অথচ জ্বালানী তেল পুরাটাই উত্তোলন করে খরচ দেখান। গত  ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেছারাবাদ উপজেলা পরিদর্শণের জন্য ঐ শিক্ষা অফিসারকে দিয়ে গাড়ি ভাড়া করিয়েছেন। তিনি অফিসের ২ জন অফিস সহায়ক, নৈশ প্রহরী, পরিচ্ছন্ন কর্মী, চালক এবং অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমকে তার ছেলে মেয়েদের স্কুল ও কোচিং এ আনা নেয়া এবং ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখেন বিধায় অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় । তিনি তার ব্যক্তিগত হীনস্বার্থ হাসিলের জন্য দরিদ্র পরিচ্ছন্ন কর্মী আকলিমা বেগম এর বেতন আটকিয়ে রেখে তাকে মোবাইল ফোন কিনতে বাধ্য করেছেন যাতে তিনি ডাকা মাত্র তার ডাকে সাড়া দিতে পারেন। আকলিমাকে দিয়ে ব্যক্তিগত যাবতীয় গৃহস্থলির কাজ করান। সকাল ৮/৯ টা থেকে রাত ৯/১০ টা পর্যন্ত তাকে দিয়ে ব্যক্তিগত কাজ করান বিধায় আকলিমা বেগম অফিসের নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন কাজ করার সময় পায় না।  বরিশাল সদরের কিশোর মজলিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো: আল মামুনকে স্কুল চলাকালীন সময়ে অফিসের গেস্ট হাউজে এসে তার ছেলেকে প্রাইভেট পড়াতে বাধ্য করেন তিনি। ঐ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জায়েদা সহ অন্যদের প্রবল আপত্তির জন্য বর্তমানে স্কুল সময়ে আসা বন্ধ হয়েছে। আপত্তির কারণে জায়েদা চরম রোষানলে পড়েছেন এবং তাকে দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করা হয়েছে।  টাকা ছাড়া মেলেনা সেবা : প্রাথমিক শিক্ষক-কর্মচারীদের পাসপোর্ট তৈরি ও নবায়নে এনওসি প্রদান, শিক্ষা ছুটি মঞ্জুর, উচ্চতর স্কেল প্রদানসহ যে সকল কাজ বিভাগীয় অফিস থেকে করতে হয় তার প্রত্যেকটি কাজে অর্থ না দিলে কোনো ফাইল তিনি ছাড়েন না। টাকা ছাড়া ফাইল স্বাক্ষর হয়না বিভাগীয় এই অফিসে। এ বিষয়ে  সম্প্রতি অর্ধগড় বেতনে এবং বিনা বিতনে ছুটি পাওয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পারিবারিক প্রয়োজনে এক মাসের ছুটির আবেদন করি। তবে ছুটি না পাওয়ায় প্রথমে উপজেলা শিক্ষা অফিসে যোগাযোগ করলে কর্মকর্তা আমাকে বিভাগীয় অফিসে কথা বলতে বলেন। অফিসে কথা বলে বুঝতে পারি টাকা ছাড়া এখানে কিছু করা সম্ভব নয়। পরে বাধ্য হয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে আমি ছুটি মঞ্জুর করি।    অনিয়মের বিরুদ্ধে কথা বললেই চলে শোকজ, বিভাগীয় মামলার ভয় এবং এসিআর খারাপ করে দেওয়ার হুমকি:    নিলুফার ইয়াসমিন অতি সাধারণ বিষয়েও কর্মকর্তা/কর্মচারীদের শোকজ করার এবং বিভাগীয় মামলার ভয় দেখিয়ে ধমক দেন। ভবিষ্যতে এসিআর খারাপ দেয়ার ভয় দেখান।  শোকজ এবং বিভাগীয় মামলা ও এসিআর খারাপের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস করেনা।  অফিসের যাবতীয় নথি শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে উপাস্থাপন করার বিধান থাকলেও তিনি তা মানেন না। তিনি খেয়াল খুশি মতো নথি ছাড়াই অনেক প্রশাসনিক ও আর্থিক কাজ করে থাকেন। কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষা অফিসার বাইরে আছেন লিখিয়ে নথি উপাস্থাপন করতে বলেন। অফিস সহকারি শাহ আলমকে শিক্ষা অফিসারকে বাদ দিয়ে সরাসরি ফাইল উপাস্থাপন করতে বলেন। শাহ আলম তাই করে থাকে।   বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় : নিলুফা ইয়সামিন তার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর শাহ আলমের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে উৎকোচ ও উপঢৌকন গ্রহণ করেন। শাহ আলম জেলা ও উপজেলা অফিসে ফোন করে জানান যে, তাকে ছাড়া ম্যাডাম অন্য কাউকে বিশ্বাস করেন না। তাই সকলকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কর্মচারীদের কর্মকাল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করে তা শাহ আলমের নিকট দিয়েছেন। শাহ আলম ঐ তালিকা দেখে দেখে বেশিদিন কর্মকাল হয়েছে এমন কর্মচারীদের ফোন করে বদলীর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেন। শাহ আলমের কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে অবহিত করলে তিনি কোন কর্ণপাত করেননা। ২০২২-২৩ অর্থ বছরে অন্য কর্মকর্তা কর্মচারিদের বঞ্চিত করে শাহ আলমকে ১৪ হাজার ৫০৬ টাকার টিএ বিল দিয়েছেন। তার প্রশ্রয়ের কারণে শাহ আলম সবাইকে হুমকী দিয়ে কথা বলেন। কর্মচারী বদলির ক্ষেত্রে কোন নিয়ম নীতির তোয়ক্কা করেন না। প্রশাসনিক কারণে আবুল কালামকে দশমিনা থেকে রাজাপুর বদলী করে আবার ৪ মাস পর শাহ আলমের মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা নিয়ে তাকে বাউফল উপজেলায় বদলী করা হয়। সম্প্রতি ৪ জন টেকনিক্যাল ক্যাটাগরি সহ ৬ জনকে জনস্বার্থে বদলি করা হয়। এর মধ্যে একই দপ্তরের ২ জনকে একত্রে অন্যত্র বদলি করা হয়, যদিও তাদের বিরুদ্ধে কোন লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ ছিলনা। এতে ঐ দপ্তরে কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হয়েছে। সমন্বিত বদলি নির্দেশিকা ২০২৩ এ মহাপরিচালকের অনুমোদন গ্রহণের বিধান থাকলেও তা করা হয়নি। এমনকি কোন ফাইল নোট ও দেয়া হয়নি। সাটলিপিকার মো: আরিফ হোসেন বিগত ৪/৫ মাস পূর্বে অবসর গ্রহণ করলেও তার কাজ অফিসের অন্য কাউকে বুঝিয়ে দেয়া হয়নি। তিনি বিভাগীয় মামলা সহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি এখনও তার দখলে রেখেছেন। তার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা আদায় সহজ হয় বলে এখনো তাকে দিয়ে অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করানো হয়। শাহ আলমের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা আদায় নিশ্চিত হলে তাকে ফোন করে অফিসে আনা হয়। সে নথি তৈরি করে দিলে শাহ আলমের মাধ্যমে উপ¯’াপন করে তা নিষ্পন্ন করা হয়। একাধিক কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং শিক্ষকদের সাথে কথা বললে তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আমরা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগীয় অফিসে জিম্মি। যখন নিলুফা ইয়াসমিনের বদলির আদেশ হলো তখন আমরা ভেবেছিলাম এই জিম্মি  দশা থেকে মুক্তি পেলাম। পরবর্তী দেখলাম সেই আদেশ বাতিল হয়েছে। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকারের পতন হলে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম। এই কালো টাকার সিস্টেম বদলাবে। কিন্তু তা না আমাদের ভাগ্যের আর বদল হলো না। বিভাগীয় অফিসেই আমরা জিম্মি হয়ে থাকতে হচ্ছে।    প্রাথমিক শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যে উৎসাহিত করা:  সম্প্রীতি বিভিন্ন অনলাইল নিউজ পোর্টাল ও স্থানীয় দৈনিকে বরিশাল সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের কোচিং বানিজ্যের সংবাদ প্রকাশ হলে, তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নামে একটি চিঠি যাহার স্মারক নং-৩৮.০১.১০০০.০০০.২৭.০১.২০২৬.৩৮৯ প্রত্যেক স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের লিখিত ভাবে জানান, কোচিং করানো যাবে তবে স্কুল সময়ের পরে। অথচ  শিক্ষামন্ত্রী বলছে স্কুল শিক্ষকদের বাহিরে বানিজ্যিক কোচিং চলবে না। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশনা কর্ণপাত না করে তিনি অর্থ আদায়ের মাধ্যমে নিজস্ব ক্ষমতা বলে চালিয়ে যাচ্ছেন এ সকল অপকর্ম।      ডেপুটেশন বানিজ্য:  মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো: মোস্তফা কামাল শিক্ষকদের সুবিধা মতো ডেপুটেশনের মাধ্যমে বদলী করা হয়। গত ২৪/০৬/২০২৬ ইং তারিখে ৮ জন শিক্ষকের ডেপুটেশন বদলীর চিঠি যাহার স্মারক নং-জেপ্রাশিঅ/বরি/১০৭০ প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের এসব কাজে সহায়তা করেন উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার জাবের ও শিক্ষক নেতা ভাটিখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তারিকুল ইসলাম পলিন্স, ১৯১ নং কিশোর মজলিস সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইলিয়াস আলী খান, মো: আনোয়ার হোসেন।   এ ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবকে  একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।  এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় অফিসের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়সামিনকে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৪, ২০২৬ 0
বিস্ফোরণের খবর পেয়ে র‍্যাব, পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্য ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা
বরিশালের বাকেরগঞ্জে বালুর বস্তায় রহস্যময় বিস্ফোরণ: দগ্ধ মা-মেয়েসহ ৩, তদন্তে বোমা নাকি পরিত্যক্ত বিস্ফোরক?

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি বাড়ির পাশে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুভর্তি বস্তায় হঠাৎ বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হওয়ার পর স্থানীয়দের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনেও বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—বালুর বস্তার ভেতরে বিস্ফোরকটি এলো কীভাবে? সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে ঘটে এ ঘটনা। এতে দগ্ধ হন শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম (৫০), মেয়ে ইতি আক্তার (২০) এবং নাতি ফাহিম হাওলাদার (১৪)। প্রথমে তাদের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এখনও নিশ্চিত নন, এটি ককটেল, হাতবোমা নাকি অন্য কোনো বিস্ফোরক ছিল। ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং ঢাকার বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে তদন্তে যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কী ঘটেছিল? স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টার দিকে হনুফা বেগম নাতি ফাহিমকে স্থানীয় বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে ইতি আক্তারও। ঠিক সেই সময় ঘরের পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তা থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে তিনজনের শরীরে। প্রাণ বাঁচাতে তারা বাড়ির পাশের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং আশপাশের লোকজনের বক্তব্য সংগ্রহ শুরু করে। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বালুর বস্তায় বিস্ফোরক এলো কোথা থেকে? ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, বিস্ফোরকটি কীভাবে নির্মাণকাজের জন্য রাখা বালুর বস্তার ভেতরে গেল। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিস্ফোরকটি আগে থেকেই বালুর সঙ্গে ছিল অথবা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল। তদন্তকারীরা কয়েকটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন— নির্মাণকাজে আনা বালুর সঙ্গে পরিত্যক্ত বিস্ফোরক চলে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে কেউ বালুর মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে রেখেছিল। ব্যক্তিগত শত্রুতা বা নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ বস্তার মধ্যে বিস্ফোরক রেখে যেতে পারে। এটি দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে, যা নড়াচড়ার সময় বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এসবই এখন পর্যন্ত প্রাথমিক অনুমান। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সম্ভাবনাকেই নিশ্চিত বলে বিবেচনা করছে না পুলিশ। পরিবারের দাবি শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে জামাল হোসেন বলেন, পরিবারের কেউ জানেন না বালুর বস্তার ভেতরে কীভাবে বিস্ফোরক গেল। তার ভাষায়, সকালে বিস্ফোরণের পর মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। পরিবারের সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তিনি বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক—এটাই তাদের প্রত্যাশা। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, আহতদের শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে হাত, পা ও মুখ মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। দুই নারীকে মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকেই ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। তদন্তে যেসব সংস্থা ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে যায়— জেলা পুলিশ গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) র‍্যাব পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আশপাশে থাকা অন্যান্য বালুর বস্তাও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য বাকেরগঞ্জ থানার ওসি আদিল হোসেন বলেছেন, বিস্ফোরকটির ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। থানার এসআই হাবিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পরিত্যক্ত ককটেল বা হাতবোমা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এ জেড এম মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি এটি কী ধরনের বিস্ফোরক ছিল। বোম ডিসপোজাল ইউনিট ঘটনাস্থল পরীক্ষা করার পর বিষয়টি পরিষ্কার হবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনাটির পেছনে নাশকতা, ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্তে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি বিস্ফোরকটি আসলে কী ধরনের ছিল? এটি বালুর সঙ্গে এসেছিল, নাকি পরে সেখানে রাখা হয়েছিল? বিস্ফোরকটি কতদিন ধরে সেখানে ছিল? এটি দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা? অন্য বালুর বস্তাগুলোতেও কোনো বিস্ফোরক রয়েছে কি? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে বোম ডিসপোজাল ইউনিটের পরীক্ষা, ফরেনসিক বিশ্লেষণ এবং পুলিশের তদন্ত শেষে।   একটি সাধারণ নির্মাণসামগ্রীর বস্তা থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। ফলে বিস্ফোরকটির উৎস, উদ্দেশ্য এবং দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

নিজস্ব প্রতিবেদক আগস্ট ৩, ২০২৬ 0
নুসরাত জাহান নিপা।
তৃতীয়বার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে বরিশালের নিপা, কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরিতে নতুন বিশ্বরেকর্ড

বরিশাল অফিস :    একের পর এক ভিন্নধর্মী দক্ষতায় বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম তুলে ধরছেন বরিশালের তরুণী নুসরাত জাহান নিপা। এবার কাগজ দিয়ে সবচেয়ে কম সময়ে স্নো-ফ্লেক (তুষারকণা) তৈরি করে তৃতীয়বারের মতো গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী হিসেবে তিনবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখানোর বিরল কৃতিত্ব অর্জন করলেন নিপা। বরিশাল নগরীর কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নুসরাত জাহান নিপা সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি কলেজে শিক্ষকতা করছেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি নিয়মিত অনুশীলন ও আত্মপ্রচেষ্টার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছেন। সবশেষ রেকর্ডটি তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গড়েন। যদিও সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি ও সনদ হাতে পেয়েছেন। এই বিভাগে এর আগে চীনের প্রতিযোগীর দখলে থাকা ২৩ দশমিক ১৬ সেকেন্ডের রেকর্ড ভেঙে নিপা মাত্র ২১ দশমিক ৮৪ সেকেন্ডে কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরি করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। নিপা জানান, কাগজ নির্দিষ্ট কৌশলে ভাঁজ ও কেটে তুষারকণার আকৃতি তৈরি করার এই চ্যালেঞ্জিং কাজটি সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তার ভাষায়, কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য ও নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে কঠিন লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব। তিনি বলেন, খেলাধুলা ও বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার প্রতি ছোটবেলা থেকেই তার আগ্রহ ছিল। তবে বরিশালে মেয়েদের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা না থাকায় ঘরে বসেই অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। দেশের পাশাপাশি নিজের শহর বরিশালকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করানোর লক্ষ্য থেকেই এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বলে জানান তিনি। নিপার বিশ্বরেকর্ড যাত্রা শুরু হয় ২০২১ সালে। করোনা মহামারির সময় তিনি এক হাতে মাত্র এক মিনিটে ৭১টি কয়েন দিয়ে টাওয়ার তৈরি করে ইতালির সিলভিও সাব্বার গড়া আগের রেকর্ড ভেঙে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম লেখান। এরপর ২০২৪ সালে চপস্টিক ব্যবহার করে এক মিনিটে ২৭টি ভাতের দানা মুখে তুলে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বরেকর্ড গড়েন। আর এবার কাগজের স্নো-ফ্লেক তৈরিতে নতুন রেকর্ড গড়ে তিনি তৃতীয়বারের মতো এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করলেন। নিপার এই অর্জন ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও ধারাবাহিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস এবং অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করা সম্ভব—নিপার সাফল্য সেই বার্তাই নতুন করে সামনে আনছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
বরিশালে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও, পরিচালকের কক্ষে তালা: বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের পদায়ন বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীনকে পদায়নের আদেশ বাতিলের দাবিতে স্বাস্থ্য ভবন ঘেরাও, বিক্ষোভ এবং পরিচালকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন জুলাই আন্দোলনের পক্ষের চিকিৎসক, শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্য বিভাগের একাংশের কর্মচারীরা।বিক্ষোভকারীরা ঘোষণা দেন, বিতর্কিত বলে দাবি করা এই পদায়নের আদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। পদায়ন ঘিরে কী অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালের উপপরিচালক থাকাকালে তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। তাদের আরও দাবি, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনার পর ২ আগস্ট স্বাচিপের ব্যানারে আয়োজিত তথাকথিত ‘শান্তি সমাবেশ’-এর অন্যতম আয়োজক ছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাচিপের ব্যানারে অনুষ্ঠিত একাধিক কর্মসূচিতেও অংশ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন আন্দোলনকারীরা।   আন্দোলনকারীদের দাবি বিক্ষোভকারীদের ভাষ্য, জুলাই আন্দোলনের সময়কার ভূমিকার কারণে শেবাচিম হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকেও দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হয়েছিল। তাদের দাবি, সেই ব্যক্তিকেই পুনরায় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়নের সিদ্ধান্তে জুলাই আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সংগঠন, বিএনপি এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে যা ঘটেছে ৭ আগস্ট ২০২৬ বরিশাল স্বাস্থ্য ভবনের সামনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও ছাত্রনেতা প্রিন্স। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডা. ফয়সাল আহমেদ, ডা. ঈস্তিয়াক রিফাত, ডা. রাকিবুল ইসলাম মনি এবং জুলাইযোদ্ধা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা স্বাস্থ্য ভবনে প্রবেশ করে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কক্ষ অবরুদ্ধ করেন এবং কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন।পরে তারা ঘোষণা দেন, পদায়নের আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলবে। কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহীন কিংবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৮, ২০২৬ 0
বরিশালের অগ্রণী হাউজিং বিতর্ক : লিটুর স্ত্রীর দাবি বিনিয়োগের পাওনা আদায়ের চেষ্টা

বরিশাল অফিস :    বরিশালের অগ্রণী হাউজিং লিমিটেডকে ঘিরে আলোচিত ঘটনাটি এখন কেবল একটি ফৌজদারি মামলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও, ব্যবসায়িক অংশীদারদের পারস্পরিক অভিযোগ, আদালতে মামলা এবং বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতির দাবি—সব মিলিয়ে ঘটনাটি নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আব্দুল আজিজ হাওলাদার অভিযোগ করছেন, তাকে মারধর করে জোরপূর্বক চেক ও সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুর পরিবারের দাবি, এটি কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা নয়; বরং বছরের পর বছর আটকে থাকা বিনিয়োগের অর্থ ফেরত পাওয়ার ব্যর্থ প্রচেষ্টার বহিঃপ্রকাশ। লিটুর স্ত্রীর দাবি: রাজনৈতিক নয়, ব্যবসায়িক বিরোধ রোববার সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিটুর স্ত্রী মৌসুমি আক্তার লুবনা বলেন, তার স্বামী কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। তার দাবি, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বা চাঁদাবাজির রূপ দিয়ে প্রকৃত বিরোধকে আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, লিটু দীর্ঘদিন অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক ছিলেন এবং প্রতিষ্ঠানটিতে ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র ১২ লাখ টাকা ফেরত পেলেও বাকি প্রায় ১৭ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং লভ্যাংশের হিসাব দীর্ঘদিনেও পাননি।তার ভাষ্য, বহুবার অর্থ ফেরতের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আরও বিনিয়োগকারীর অভিযোগ একই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গ্রেপ্তার আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী এবং অগ্রণী হাউজিংয়ের পরিচালক মাহাবুবুর রহমান। তিনি দাবি করেন, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ২৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেও এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মূলধন কিংবা লভ্যাংশের কোনো অর্থ ফেরত পাননি। মাহাবুবুর রহমানের অভিযোগ, শুধু তিনি নন, আরও অনেক বিনিয়োগকারী একইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমনকি প্রতিষ্ঠানের এমডির বড় ভাইও প্রতারণার অভিযোগ এনে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের অনুসন্ধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের পাওনা অর্থ উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চান। যে ভিডিও দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয় ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ জুন সন্ধ্যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি অগ্রণী হাউজিংয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। ভিডিওতে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে আব্দুল আজিজের সঙ্গে শারীরিকভাবে সংঘর্ষে জড়াতে দেখা যায়। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, তাকে মারধর করা হয় এবং জোর করে দুটি চেক, একটি সাদা চেক ও কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শারীরিক নির্যাতনের অংশ হিসেবে তার অণ্ডকোষ চেপে ধরা হয়েছিল। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। পুলিশ ও মামলার অগ্রগতি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর আদালতে মামলা করেন আব্দুল আজিজ হাওলাদার। আদালতের নির্দেশে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়। এরপর রোববার দুপুরে নগরীর সদর রোড এলাকা থেকে মোস্তাফিজুর রহমান লিটুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি আল মামুন উল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এমডির অভিযোগ কী? আব্দুল আজিজ হাওলাদারের দাবি, মোস্তাফিজুর রহমান লিটু একসময় প্রতিষ্ঠানের অংশীদার ছিলেন। পরে বিনিয়োগের বিপরীতে জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে উভয় পক্ষের আর্থিক হিসাব চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করা হয় এবং এ-সংক্রান্ত লিখিত অঙ্গীকারনামাও দেওয়া হয়েছিল। তার অভিযোগ, এরপরও লিটু দীর্ঘদিন ধরে এক কোটি টাকা দাবি করে আসছিলেন। তিনি বলেন, ২৭ জুন সন্ধ্যায় লিটুসহ কয়েকজন তার কার্যালয়ে প্রবেশ করে মারধর করেন এবং প্রায় ৭০ লাখ টাকার একটি চেক, একটি সাদা চেক ও দুটি সাদা স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেন। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে বিষয়টি জানালে ওই চেক থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। লিটুর অবস্থান কী ছিল? গ্রেপ্তারের আগে মোস্তাফিজুর রহমান লিটু অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।তার দাবি ছিল, ঘটনার সময় উপস্থিত সবাই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ছিলেন এবং তারা প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের ব্যাখ্যা চাইতেই সেখানে গিয়েছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠানের এমডি পরিচালকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং সেই পাওনা অর্থ আদায়ের উদ্দেশ্যেই তারা চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। যেসব প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়— লিটুর দাবি অনুযায়ী, বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ সত্যিই বকেয়া ছিল কি না। এমডির দাবি অনুযায়ী, জমি হস্তান্তরের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না। ভাইরাল ভিডিওতে যা দেখা গেছে, তার সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট কী। অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বাস্তবতা কতটা। জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে আর্থিক বিরোধের সম্পর্ক কী। তদন্তেই নির্ভর করছে পরবর্তী দিক এ মুহূর্তে দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলছে। একদিকে রয়েছে জোরপূর্বক চেক ও স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগ, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের অর্থ ও লভ্যাংশ আত্মসাতের দাবি। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৬, ২০২৬ 0
বরিশাল সরকারি মহিলা পলিটেকনিক : ৬ তলা ভবন নির্মাণে গুণগত মান নিশ্চিতে কড়া নজরদারি ও সময়সীমা নির্ধারণ

বরিশাল অফিস :  বরিশালে শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের চলমান বৃহৎ প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সরকারি মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন ৬ তলা প্রশাসনিক ভবন। আসন্ন শিক্ষাবর্ষে ভর্তি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ভবনটির কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে সম্প্রতি ভবনটির চলমান নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রকৌশলী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।   গুণগত মান বনাম সময়সীমার চাপ পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন—প্রতিটি নির্মাণকাজ অবশ্যই অনুমোদিত নকশা ও স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে। ভবনের অসম্পূর্ণ কাজ, ফিনিশিং, বৈদ্যুতিক সংযোগ, স্যানিটারি ব্যবস্থা, রং, দরজা-জানালা স্থাপন এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ দ্রুত শেষ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে অনুসরণ এবং কাজের গুণগত মান বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। কর্মকর্তাদের মতে, সময়মতো কাজ শেষ করা যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভবনের টেকসই ও মানসম্মত নির্মাণ নিশ্চিত করা।     কঠোর মনিটরিংয়ের বার্তা পরিদর্শন শেষে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না। কাজের মান খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। তিনি বলেন, প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করার জন্য একাধিক স্তরে তদারকি জোরদার করা হয়েছে।   বরিশালে ৭০০ কোটি টাকার উন্নয়ন কার্যক্রম শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল জেলায় বর্তমানে প্রায় ৭০০ কোটি টাকার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প চলমান রয়েছে। গত অর্থবছরে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া ১১টি বড় প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণ এবং উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ চলছে। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রকল্প ইতোমধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।   জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক প্রকল্প বরিশালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রের জন্য নির্মিত ১০ তলা ভবনের কাজও এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে দুটি ফ্লোরে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট প্রকল্পের আওতায় সাতটি ভবনের মধ্যে তিনটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি চারটির কাজ প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।   শিক্ষাক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রত্যাশা স্থানীয় শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের মতে, এসব অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বরিশালের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। জরাজীর্ণ ভবনের জায়গায় আধুনিক বহুতল ভবন তৈরি হওয়ায় শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   বড় চিত্র: উন্নয়ন নাকি বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ? যদিও প্রকল্পের পরিমাণ ও অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক, তবে মাঠপর্যায়ে গুণগত মান বজায় রাখা এবং নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। একাধিক স্তরের মনিটরিং ও কঠোর নির্দেশনার মধ্যেও বাস্তবায়ন তদারকি জোরদার করা হয়েছে। বরিশালের শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নে চলমান এই বিশাল কর্মযজ্ঞ'র  মান এবং স্বচ্ছতা রয়েছে।। 

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
বরিশালের মুলাদীতে হাতকড়াসহ আসামি ছিনতাই: পুলিশের ওপর হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশালের মুলাদী উপজেলায় পুলিশের হেফাজতে থাকা এক আসামিকে হ্যান্ডকাফসহ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মুলাদী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান এবং গ্রেফতার করা আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বুধবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রামারপোল বাজার এলাকায়। পুলিশ জানায়, সুনির্দিষ্ট মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা থাকায় রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়। তাকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে মোটরসাইকেলে থানায় নেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, রামারপোল বাজার এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাদের পথরোধ করেন। এ সময় কামরুজ্জামান বাবু ও সুমন ভুঁইয়ার নেতৃত্বে ১৮ থেকে ২০ জনের একটি দল গ্রেফতারি কার্যক্রমে বাধা দেয় এবং আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ওই আসামিকে পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে জানায় পুলিশ। ঘটনার পর একই রাতেই মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা এবং পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তারা আসামি ও হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের চেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। পরে রাত ১টার দিকে আসামির স্বজনরা পুলিশের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ ফেরত দেয় বলে পুলিশ জানায়। তবে রাশেদুল ইসলাম সেতুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, “হ্যান্ডকাফসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিসহ অন্যান্য অভিযুক্তরা পলাতক। তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।” পুলিশ জানায়, রাশেদুল ইসলাম সেতু ভুঁইয়া স্থানীয়ভাবে নাজিরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি গত ২৩ জুন রাতে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান আয়োজনের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলার ৫ নম্বর আসামি। ঘটনাটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে। পুলিশ বলছে, দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ৩, ২০২৬ 0
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে মাদকের সিন্ডিকেটের অভিযোগ: তদন্তের মুখে দুই ডেপুটি জেলার

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভেদ করে কীভাবে একের পর এক ইয়াবার চালান ভেতরে প্রবেশ করছে—এই প্রশ্ন এখন শুধু কারা প্রশাসনের নয়, আইনশৃঙ্খলা সংশ্লিষ্ট মহলেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনার পর কারাগারের অভ্যন্তরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে। এর কয়েকদিন আগেই আরেক বন্দির কাছ থেকেও ইয়াবা উদ্ধার হয়েছিল। এসব ঘটনায় কারাগারের দুই ডেপুটি জেলারসহ কয়েকজন কারারক্ষীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দেননি এবং প্রশাসন বলছে, বিষয়টি তদন্তাধীন। এক ঘটনার পর আরেক ঘটনা কারা সূত্র বলছে, ১০ জুন নারী বন্দি সুবর্ণার কাছ থেকে ২১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এর আগে ৬ জুন কীর্তনখোলা-২ ভবনে বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে আরও ১০টি ইয়াবা জব্দ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় ঘটনাটিসহ একাধিক মাদক উদ্ধারের ঘটনা অর্থের বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। কারাগারের ভেতরে কীভাবে পৌঁছায় মাদক? বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুস্তরবিশিষ্ট। ফলে প্রশ্ন উঠছে—একাধিক তল্লাশি ও নিরাপত্তা বলয় অতিক্রম করে কীভাবে ইয়াবার মতো নিষিদ্ধ মাদক বন্দিদের হাতে পৌঁছায়? কারাগার থেকে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ায় শুধু নিচু স্তরের কারারক্ষীরা নন, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কিছু কর্মকর্তাও জড়িত থাকতে পারেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, দুই ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ও আনন্দ শীল ছাড়াও কয়েকজন কারারক্ষী ও নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা সদস্য এই চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত।  '২০ হাজার টাকায় আপস'—অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক কারাগারের এক দায়িত্বশীল সূত্র দাবি করেছে, ৬ জুন বন্দি সুমন খানের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত না করে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে আপস করা হয়। সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল দুই ডেপুটি জেলার নির্দেশনায় এবং এতে কারাগারের গোয়েন্দা দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কারারক্ষী ভূমিকা রাখেন।   অভিযোগের মুখে কর্মকর্তারা ডেপুটি জেলার আনন্দ শীলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। অপরদিকে ডেপুটি জেলার সুমাইয়া ফোনে বলেন, তিনি ব্যস্ত আছেন এবং পরে কথা বলবেন। পরে আর যোগাযোগ করেননি। কারাগারের সর্বপ্রধান রক্ষী গাজী রশিদের সঙ্গেও একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। জেল সুপার যা বললেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বন্দিদের কাছ থেকে মাদক উদ্ধারের ঘটনা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, নারী বন্দি সুবর্ণার বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কারারক্ষী মৌ ও শারমিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কারাগারের ভেতরে মাদক প্রবেশ এবং কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "বিষয়টি তদন্তাধীন। কারাগারকে মাদকমুক্ত করতে এবং অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।" ডিআইজি প্রিজনের নীরবতা কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) অসীম কান্ত পালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে ফোন রিসিভ করলেও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের মাদককাণ্ড সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুরোনো অভিযোগ, নতুন প্রশ্ন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এর আগেও একাধিকবার ইয়াবা ও স্মার্টফোন উদ্ধারের ঘটনা সামনে এসেছে। কারা প্রশাসনের ভেতরে দুর্নীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অতীতেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক ধারাবাহিক ঘটনাগুলো আবারও প্রশ্ন তুলেছে—কঠোর নিরাপত্তার আওতায় থাকা একটি কারাগারে বারবার মাদক প্রবেশের নেপথ্যে কেবল বিচ্ছিন্ন অনিয়ম, নাকি সংঘবদ্ধ কোনো চক্র কাজ করছে? এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ফলাফলের ওপর। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে বিবেচিত হওয়ার সুযোগ নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ৩০, ২০২৬ 0
বরিশালে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন : ২২০ কেন্দ্রে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ

বরিশাল অফিস :    শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বরিশালে শুরু হয়েছে জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬।  রোববার (২৮ জুন) সকাল ১১টায় নগরীর পলাশপুর এলাকার আলহাজ্ব দলিল উদ্দিন বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম এবং বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মঞ্জুর-এ-এলাহী। সভাপতিত্ব করেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী। ২২০ কেন্দ্র, লক্ষ্য সব শিশুর কাছে পৌঁছানো বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নগরবাসীর সুবিধার্থে এবার মোট ২২০টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এসব কেন্দ্রে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। শুধু ক্যাম্পেইন ও নজরদারি  সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে ক্যাম্পেইন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের সন্তানদের নিকটস্থ কেন্দ্রে এনে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানানো হয়। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রতিটি ওয়ার্ডে বিশেষ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কোনো শিশুই এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে। বিশেষ করে নগরীর বস্তি এলাকা, ঘনবসতিপূর্ণ অঞ্চল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের আওতায় আনতে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ কারণে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্যাম্পেইন শেষে বাস্তবভিত্তিক তথ্য-পর্যালোচনা এবং বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করাই হবে কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৯, ২০২৬ 0
বরিশালে কলেজছাত্রীর ওপর কিশোরী গ্যাংয়ের হামলা, টাকা ও মোবাইল লুটের অভিযোগ : কিশোরী গ্যাং নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ‘কিশোর গ্যাং’ নিয়ে আলোচনা চললেও এবার বরিশালে সামনে এসেছে ভিন্ন এক অভিযোগ। এক কলেজছাত্রী দাবি করেছেন, পূর্ববিরোধের জেরে একদল কিশোরী গ্যাং  তার ওপর হামলা চালিয়েছে, পরে তার বাসায় গিয়ে তাকে ও তার মাকে মারধর করেছে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। ঘটনাটি তদন্ত করছে পুলিশ। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রাবেয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ২২ জুন দুপুর দেড়টার দিকে বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে প্রথম দফায় রাবেয়ার ওপর হামলার চেষ্টা করা হয়। কলেজের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে চলে যায়। রাবেয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, একই দিন পরে ফকিরবাড়ি রোডে তার ভাড়া বাসায় গিয়ে দ্বিতীয় দফায় হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে ও তার মাকে মারধর করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।     কি ঘটেছিল সেই দিন : থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তদের একজন একই কলেজের শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে আগে থেকেই ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী। রাবেয়ার অভিযোগ, হামলার সময় ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করা হয় এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও দাবি করেন। তিনি জানিয়েছেন, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রযোজ্য আইনের আওতায় পৃথক আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। লিখিত অভিযোগে জানা গেছে,ঝালকাঠির বহুল আলোচিত জেসলি জান্নাত,অন্তি ও কলির নেতৃত্বে একদল কিশোরী গ্যাং ২২ জুন দুপুর দেড় টায় প্রথম দফায় বরিশাল সিটি কলেজ মাঠে সিটি কলেজের ছাত্রী রাবেয়ার ওপর পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে।কলেজের শিক্ষার্থীদের বাঁধায় পালিয়ে যায় এই কিশোরী গ্যাংয় গ্রুপটি। পরে দ্বিতীয় দফায় কলেজ ছাত্রী রাবেয়ার ফকিরবাড়ি রোডস্থ ভাড়া বাসায় হামলা করে। এ সময় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে।লুটপাট করে মালামাল। কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অন্তির সাথে রাবেয়া একই কলেজের শিক্ষার্থী।টুকটাক ঝামেলা চলে আসছিলো দু জনের মাঝে।সেই ঝামেলার সুত্রধরে বাসায় রাবেয়া ও তার মাকে মারধর করে মোবাইল ফোন ও নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা নিয়ে যায়।এ ছাড়া রাবেয়াকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে তারা। আরও গুরুতর অভিযোগ লিখিত অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, তারা ভয়ভীতি প্রদর্শন, ব্ল্যাকমেইল এবং তথাকথিত "হানিট্র্যাপ" কৌশলের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত।এ ছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, অতীতে ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত একটি ঘটনায় এক যুবক থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন।   কিশোরী গ্যাং তারা তাদের গ্যাংয়ে মেয়েদের হায়ার করার জন্য হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্লাকমেইলিং করে গ্রুপ বড় করছে। এই গ্রুপ সরকারি চাকুরীজীবি, বিত্তশালী ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে হানিট্রাপের টোপ ফেলে ব্লাকমেইলিং করে অর্থ হাতিয়ে নেয়।এছাড়া আবাসিক হোটেল ডেটের জন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটন এলাকার বিলাসবহুল হোটেল আমোদফুর্তির অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি এক যুবককে ব্লাকমেইলিংয়ের কারনে সেই যুবক থানায় সাধারন ডায়েরী করার পরে মুচলেকা দিয়ে রেহাই পেয়ে যায় হানিট্রাপ গ্রুপের সেই বহুল আলোচিত কিশোরী গ্যাং প্রধান। ভুক্তভোগীর বক্তব্য এ ব্যাপারে হামলার শিকার শিক্ষার্থী রাবেয়া জানান,আমাকে ও আমার মায়ের ওপর হামলা করেছে। পরিকল্পিত ভাবে হামলা করে তারা তাদের মোবাইলে ভিডিও করে তারা তাদের ফেসবুক আইডিতে এবং তাদের লোকজনদের মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। রাবেয়া আরো জানান,আমাদের ওপর হামলা, মারধর, মোবাইল ও টাকা নেয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছি। ফেসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার জন্য সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা দিবো। তিনি বিতর্কিত কিশোরী গ্যাং গ্রুপের হাত থেকে বাচাঁর জন্য আইনশৃংখলা বাহিনীসহ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।   পুলিশের অবস্থান বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
বরিশালে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস :    জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সংগীতচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদ, বরিশাল জেলা শাখার ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যকরী কমিটি অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, ১৬ জুন ২০২৬ তারিখে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী সুজিত মোস্তফা এবং সাধারণ সম্পাদক শহীদ কবির পলাশের স্বাক্ষরে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। নবগঠিত কমিটিতে বরিশালের বিশিষ্ট নজরুল সংগীত শিল্পী সহিদুজ্জামান মামুনকে সভাপতি এবং মো. জহুরুল হাসান সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কারা রয়েছেন কমিটিতে সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন কমিটিতে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিষ্ঠিত ও প্রতিশ্রুতিশীল নজরুল সংগীত শিল্পী, নজরুলপ্রেমী, সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং সংস্কৃতিকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৬ জুন ২০২৯ পর্যন্ত। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কমিটি বরিশালে নজরুল সংগীতের চর্চা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অভিনন্দন ও প্রত্যাশা নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন বরিশাল জাসাস মহানগরের আহ্বায়ক মীর আদনান তুহিন, সদস্য সচিব কামরুল আহসান রুমী, সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। এছাড়া বরিশালের বিভিন্ন সংগীত একাডেমি, নাট্য সংগঠন ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের শিল্পী, কুশলী এবং সংগঠকরাও নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নবগঠিত নেতৃত্বের মাধ্যমে বরিশালে নজরুল চর্চা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত স্থায়ী নজরুল স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগও নতুন গতি পাবে। সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সংশ্লিষ্টদের মতে, বরিশাল দীর্ঘদিন ধরেই সংগীত ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। সেই প্রেক্ষাপটে নজরুল সংগীত শিল্পী পরিষদের নতুন কমিটি শুধু সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনাই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য, সংগীত ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
এ্যাংকর সিমেন্টের চেয়ারম্যান-এমডি ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন'র অভিযোগ, তদন্তে দুদক

বরিশাল অফিস :    অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচার, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং করপোরেট তহবিল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগ তদন্তের দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সিরাজী আমিন সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। অভিযোগের প্রাথমিক পর্যালোচনার পর দুদক বিষয়টি তদন্তের আওতায় নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একাধিক সূত্রের দাবি, তদন্তের অংশ হিসেবে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে ইতোমধ্যে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি দুদক। অভিযোগের কেন্দ্রে যারা দুদকে জমা দেওয়া আবেদনে অলিম্পিক সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পরিবারটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে। আবেদনে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণ তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাতের হাতে চলে যায়। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থ বিদেশে পাচার, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম এবং বিভিন্ন দেশে সম্পদ গঠনের মাধ্যমে একটি সংঘবদ্ধ আর্থিক অপরাধচক্র সক্রিয় হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে।  অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সহাযতাকারী হলেন অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের  পিএস জুয়েল ইসলাম, পিএস নীলুফা। বিদেশে সম্পদ ও নাগরিকত্বের অভিযোগ লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল পরিমাণ অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। অভিযোগকারী দাবি করেছেন, এসব অর্থ ব্যবহার করে বিদেশে আবাসিক সম্পত্তি, ব্যবসা ও অন্যান্য বিনিয়োগ গড়ে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে জুলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, বিদেশে সম্পদ গঠন ও নাগরিকত্ব গ্রহণের পেছনে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ ব্যবহার করা হয়েছে।   ব্যাংক ঋণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আবেদনে আরও বলা হয়েছে, অলিম্পিক সিমেন্ট দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করলেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে গেছে। ইসলামী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক ও ন্যাশনাল ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য, কোম্পানির তহবিল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ফলে কাঁচামাল আমদানি, এলসি খোলা এবং নিয়মিত উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। নতুন ঋণ পেতে জাল দলিল তৈরির অভিযোগ দুদকে দেওয়া আবেদনে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, নতুন ঋণ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে কিছু জমির কাগজপত্র জাল বা বিতর্কিতভাবে প্রস্তুত করা হচ্ছে। অভিযোগকারী দাবি করেন, নতুন ঋণ অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্টরা দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন।   শেয়ার দখল ও মামলা ব্যবহারের অভিযোগ আবেদনে প্রবাসী ব্যবসায়ী এনায়েত হোসেনের শেয়ার মালিকানা দখলের চেষ্টার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ঘিরে একাধিক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যেগুলোকে অভিযোগকারী ‘ভুয়া ও হয়রানিমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানা বন্ধের ঘোষণা অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পাশাপাশি অলিম্পিক সিমেন্টের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি কারখানাটি বিক্রি বা হস্তান্তরের গুঞ্জনের মধ্যে বরিশালের রূপাতলীতে অবস্থিত কারখানার সামনে শ্রমিক-কর্মচারীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। শ্রমিক নেতাদের দাবি, দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসকের কাছে একটি স্মারকলিপিও জমা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ যা বলছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের লোকসান, কাঁচামাল সংকট, ডলার সংকট এবং এলসি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উৎপাদন অলাভজনক হয়ে পড়েছে। ১০ জুন জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান, বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ২৬ ও ২৮ ধারার আওতায় শ্রমিক ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আইন অনুযায়ী সকল পাওনা ও ক্ষতিপূরণ পরিশোধের আশ্বাসও দেওয়া হয়। এছাড়া ১১ জুন থেকে উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। দুদকের তদন্ত কোথায় দাঁড়িয়েছে? দুদকের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো প্রাথমিকভাবে যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা বিদেশে সম্পদ অর্জন, ব্যাংক ঋণের ব্যবহার, করপোরেট আর্থিক লেনদেন এবং সম্ভাব্য অর্থপাচারের তথ্য সংগ্রহ করছেন বলে জানা গেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৭, ২০২৬ 0
কেএমসি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা: রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা পায়নি ড্যাব, গ্রেপ্তার দাবি

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা এবং এক নবীন চিকিৎসককে গুরুতর আহত করার ঘটনার পর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বরিশাল জেলা শাখার একটি প্রতিনিধি দল। পরিদর্শন শেষে সংগঠনটির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ডা. কবিরুজ্জামান বলেছেন, সংশ্লিষ্ট রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি ও চিকিৎসা প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে তারা কোনো ধরনের অবহেলার প্রমাণ পাননি। তার দাবি, হাসপাতালের সক্ষমতার মধ্যে রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ড্যাব সূত্রে জানা যায়, হামলার শিকার চিকিৎসকের সহকর্মীরা ঘটনার পরদিন হাসপাতালে গিয়ে রোগীর চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণ করেন। তাদের মূল্যায়নে, অচেতন রোগী হাসপাতালে আনার পর যেসব জরুরি চিকিৎসা পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তার সবগুলোই অনুসরণ করা হয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, অচেতন রোগীর ক্ষেত্রে নাকের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস বা খাদ্য সরবরাহের নল, প্রস্রাবের পথের ক্যাথেটার এবং স্যালাইন সংযুক্ত করা প্রাথমিক চিকিৎসার অংশ। সংশ্লিষ্ট রোগীর ক্ষেত্রেও এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া রোগীর স্বজনদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাউন্সেলিংয়েও কোনো ঘাটতি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ড্যাব সভাপতি বলেন, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী কোনো ব্যক্তির ওপর হামলা শুধু একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয়, পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আঘাত। দ্রুত বিচার চায় চিকিৎসকরা ঘটনার পর রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে উল্লেখ করে ডা. কবিরুজ্জামান বলেন, এখন তদন্ত ও আইন প্রয়োগের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর। তার ভাষ্য, “এ ধরনের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার এবং চার্জশিট দাখিলে এক সপ্তাহের বেশি সময় নেওয়া কাম্য নয়। আমরা দেখতে চাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো তাদের দায়িত্ব পালনে কোনো শৈথিল্য দেখায় কি না।” চিকিৎসাসেবা বন্ধের সতর্কবার্তা ড্যাব নেতারা বলেছেন, তাদের আইন প্রয়োগের ক্ষমতা না থাকলেও চিকিৎসাসেবা দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। ডা. কবিরুজ্জামান প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, হামলার বিচার নিশ্চিত না হলে চিকিৎসক সমাজ কঠোর অবস্থানে যেতে বাধ্য হতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনির্দিষ্টকালের জন্য চিকিৎসাসেবা সীমিত বা বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তারা চান না; তবে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। কেন গুরুত্বপূর্ণ এই ঘটনা? স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা প্রশ্নে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বারবার উদ্বেগ দেখা গেছে। রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসা জটিলতাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ও চিকিৎসকদের ওপর হামলার একাধিক ঘটনা চিকিৎসক সংগঠনগুলোকে নিরাপত্তা ইস্যুতে সোচ্চার করেছে। কেএমসি হাসপাতালের ঘটনাও সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। একদিকে রোগীর স্বজনদের ক্ষোভ, অন্যদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা—এই দুই বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে, সেটিই এখন স্বাস্থ্যখাত ও প্রশাসনের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা: পরিদর্শনে ড্যাব, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

 বরিশাল অফিস :   বরিশালের বেসরকারি কেএমসি হাসপাতালে এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলার ঘটনাকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ‘গুরুতর হুমকি’ হিসেবে দেখছে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)। সংগঠনটির নেতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর আড়াইটার দিকে ড্যাবের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) শাখা ও বরিশাল জেলা শাখার নেতারা কেএমসি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা হামলায় আহত দায়িত্বরত  চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানান। কী ঘটেছিল? ড্যাব নেতাদের দাবি, হাসপাতালের এক মুমূর্ষু রোগীর মৃত্যুর পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত হাসপাতালের ভেতরে হামলা চালায় এবং কর্তব্যরত এক চিকিৎসকের ওপর প্রাণনাশের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ড্যাবের দাবি ? পরিদর্শন শেষে ড্যাব নেতারা বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রোগী ও স্বজনদের সেবাদানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। তারা অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি ডা. কবিরুজ্জামান, শেবাচিম শাখার সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ডা. ইমতিয়াজউদ্দিন সাজিদ, দপ্তর সম্পাদক ডা. ইস্তিয়াক আহমেদ রিফাত, ডা. আবদুল মালেক, ডা. সাইদুল ইসলাম আবীর, ডা. মাজহারুল রেজওয়ান রেজাসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবি ড্যাব নেতারা মনে করেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার পুনরাবৃত্তি রোধে হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর নীতি গ্রহণ প্রয়োজন। তারা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। ড্যাবের বিবৃতিতে গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা এদিকে  এক বিবৃতিতে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (শেবাচিম), ড্যাব ও বরিশাল জেলা, ড্যাব গভীর ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানা। ড্যাব নেতৃবৃন্দ কেএমসি হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. শুভেন্দু হালদার (শিবু)-এর ওপর রোগীর স্বজন কর্তৃক সংঘটিত ন্যাক্কারজনক হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে উল্লেখ করেন। চিকিৎসকের নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর এ ধরনের বর্বর আক্রমণ সমগ্র চিকিৎসক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ। নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হামলাকারীদের সনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি হাসপাতালসমূহে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে, যার দায়ভার সম্পূর্ণরূপে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে। চিকিৎসকদের ওপর হামলার সংস্কৃতি বন্ধে এখনই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
লঞ্চঘাট প্রকল্প উদ্বোধনের ৪ মাসের মাথায় সড়ক ও জেটিতে ধস
উদ্বোধনের চার মাসেই ধস: হিজলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটে অনিয়মের অভিযোগ, ঝুঁকিতে যাত্রী চলাচল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মাথায় বরিশালের হিজলা উপজেলার মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের সড়কে বড় ধরনের ধস এবং জেটির একটি অংশ দেবে যাওয়ার ঘটনায় নির্মাণকাজের মান, তদারকি এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ পাইলিং ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই নতুন করে সংস্কার করা ঘাটটি অল্প সময়ের মধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) দাবি করছে, নদীর তলদেশ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এই ধসের ঘটনা ঘটেছে। দ্বিতীয় দফার সংস্কারেও একই পরিণতি বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে একবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মৌলভীরহাট লঞ্চঘাট ও সংযোগ সড়ক সংস্কারের জন্য দ্বিতীয় দফায় ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পটির ঠিকাদারি কাজ করেন নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী। সংস্কার শেষে চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘাটটির উদ্বোধন করেন। কিন্তু উদ্বোধনের তিন মাসের মধ্যেই গত এপ্রিল মাসে জেটির একটি অংশ দেবে যেতে শুরু করে। এরপর কয়েকদিন আগে সংযোগ সড়কের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো ঘাটই নদীগর্ভে হারিয়ে যেতে পারে। ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী চলাচল সরেজমিনে দেখা গেছে, লঞ্চঘাটের সংযোগ সড়কের একটি অংশ ধসে পড়েছে। পন্টুনে ওঠার জেটির একপাশও দেবে গেছে। তবুও প্রতিদিন শত শত যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেই জেটি ব্যবহার করে লঞ্চে উঠছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে ছোট নৌকার সাহায্য নিচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ঘাটটি এলাকার মানুষের নদীপথে যাতায়াতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। ফলে অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হলেও বাধ্য হয়েই যাত্রীদের এটি ব্যবহার করতে হচ্ছে। ‘প্রথমবারের ভুলের পুনরাবৃত্তি’ মৌলভীরহাট এলাকার ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রকল্পটির নির্মাণকাজ পান তৎকালীন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত বেলায়েত হোসেন ঢালীর ছেলে রাজু ঢালী। তার ভাষায়, প্রথম দফার কাজেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও নানা অনিয়ম হয়েছিল। কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকারের প্রায় কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। স্থানীয় আরেক বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রথমবার ধসের পর জনগণের দুর্ভোগ বিবেচনায় নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেও একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ হওয়ায় আগের সমস্যাগুলো থেকেই গেছে। ফলে উদ্বোধনের মাত্র চার মাসের মধ্যেই আবারও সড়ক ও জেটি ভেঙে পড়েছে। দায় কার—নির্মাণ ত্রুটি নাকি নদীর চরিত্র? ঘটনার বিষয়ে ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালী সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় সরকারি শিডিউল অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে।” অন্যদিকে বরিশাল বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আমজাদ হোসেন ধসের কারণ হিসেবে নদীর তলদেশের মাটি সরে যাওয়াকে দায়ী করেছেন। তার দাবি, “নিচ থেকে মাটি সরে যাওয়ায় মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের জেটি ও সড়ক ধসে পড়েছে। শিগগিরই ঘাটটি পরিদর্শন করে নতুনভাবে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” একই ঠিকাদার কেন? স্থানীয়দের একটি বড় প্রশ্ন—প্রথম দফার কাজ নিয়ে অভিযোগ থাকার পরও দ্বিতীয়বার একই ঠিকাদার কীভাবে কাজ পেলেন? এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, সরকারি ক্রয়বিধি অনুযায়ী অনলাইন দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। সেখানে ব্যক্তিগতভাবে কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। তার ভাষায়, “এক টাকার কাজের ক্ষেত্রেও অনলাইনে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যেকেউ যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পেতে পারেন। ঠিকাদার নজরুল ইসলাম রাজু ঢালীর সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই।” তদন্তে যে প্রশ্নগুলোর উত্তর প্রয়োজন মৌলভীরহাট লঞ্চঘাটের ঘটনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— প্রকল্পে অনুমোদিত নকশা ও প্রযুক্তিগত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি? নদীতীরবর্তী অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় পাইলিং ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হয়েছিল কি? নির্মাণকাজের সময় তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? প্রথমবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পরও একই ঠিকাদারকে পুনরায় কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া কী ছিল? ধসের পেছনে প্রকৃত কারণ নির্মাণ ত্রুটি, নাকি নদীর ভূপ্রকৃতিগত পরিবর্তন? সরকারি অর্থে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক অবকাঠামো উদ্বোধনের কয়েক মাসের মধ্যেই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
এ্যাংকর সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার
এ্যাংকর সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠান স্থায়ী ভাবে বন্ধ ঘোষনা,পরিশোধ করা হয়নি শ্রমিকদের দেনা পাওনা

বরিশাল অফিস :  ক্রমাগত ব্যবসায়িক লোকসান, কাঁচামাল ও এলসি সংকটের কারণে বরিশালের অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমানের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়। নোটিশে বলা হয়, উৎপাদন বন্ধের কারণে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত সব শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব শ্রমিক তাদের প্রাপ্য পাওনা যথাযথ সময় পেয়ে যাবেন। আরো উল্লেখ করা হয়,১১ জুন থেকে বন্ধ ঘোষনা করা হচ্ছে। এদিকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধান অনুসরনপুর্বক অলিম্পিক সিমেন্ট ও অলিম্পিক ফাইবার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সকল স্তরের শ্রমিক এবং কর্মকর্তা -কর্মচারীদের চাকরি থেকে ছাটাই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। নোটিশে আরো উল্লেখ করা হয় কোম্পানি কর্তৃপক্ষ আইন মোতাবেক সকল শ্রমিক,কর্মকর্তা -কর্মচারীদের বিধি মোতাবেক প্রাপ্য পাওনাদি ও ক্ষতিপুরন সম্পুর্ন পরিশোধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।     আরও পড়ুন:   অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ        কি আছে শ্রম আইন ২০০৬ এর ধারা এবং ২৮ এর বিধানে :  বাংলাদেশ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮ ও ২৮(ক)-তে শ্রমিকদের অবসর গ্রহণ এবং প্রাকৃতিক বা নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে চাকরিচ্যুতির ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের আইনি বিধান রয়েছে。 শ্রম আইন কী বলছে? কোম্পানি কর্তৃপক্ষ শ্রম আইন, ২০০৬-এর ধারা ২৮-এর উল্লেখ করলেও আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারা ২৮ মূলত শ্রমিকের অবসর গ্রহণের বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যদিকে, শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে শ্রমিকদের পাওনা, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়বদ্ধতা শ্রম আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। ফলে ছাঁটাই কার্যক্রম আইনসঙ্গত হয়েছে কি না, তা নির্ভর করবে শ্রমিকদের পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়েছে কি না এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না তার ওপর। পাওনাদি পরিশোধ: প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব চাকরির বিধি বা শ্রম আইনের অন্যান্য ধারা অনুযায়ী অবসর গ্রহণকারী শ্রমিকের সব পাওনাদি (যেমন: প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি ইত্যাদি) পরিশোধ করতে হবে। ধারা ২৮(ক): নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত বিপর্যয়ের কারণে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক ২০১৩ সালের সংশোধনীতে যুক্ত হওয়া এই ধারার বিধানাবলি হলো: জরুরি পরিস্থিতি: আকস্মিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়, মহামারি বা মানুষের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কোনো জরুরি কারণে যদি কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করতে হয় বা উৎপাদন কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যায়, তবে মালিক ও শ্রমিকের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ কী হবে তা সরকার বিধি দ্বারা নির্ধারণ করবে। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে শ্রমিকের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং মালিকের দায়িত্ব শ্রম বিধিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। শ্রম আইনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট ও ধারাগুলো দেখতে বাংলাদেশ লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ-এর ওয়েবসাইটটি দেখতে পারেন। যে কারনে বন্ধ হল এ্যাংকর সিমেন্ট ও এ্যাংকর সিমেন্ট এর ব্যাগ ফ্যাক্টরী: অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত যোগসাজসে দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে টাকা পাচারের কারনে লোকসানের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী। কোম্পানীর মালিক কর্তৃপক্ষ বিদেশে টাকা পাচারের তথ্য  পিএস নিলুফা,পিএস জুয়েল,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট অফিসার মোস্তফা, সিওও শাহিদ উদ্তিন জেনে যাওয়ায় তারা কোম্পানী থেকে একেকজন শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। ফলে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এ্যাংকর সিমেন্ট। ২০২৩ সাল থেকে ঋনের কিস্তি দিতে না পেরে এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ মার্কেট থেকে ডিলার,রিটেইলার ও ক্রেতাদের অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার লোভ দেখিয়ে অর্থ নিয়ে লোকাল মার্কেট থেকে ক্লিংকার,স্লাগ,জিপসাম,লাইমস্টোন ও ফ্লাই এ্যাশ সংগ্রহ করে সিমেন্ট উৎপাদন করে বাজারে সরবরাহ করতো।ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে এ্যাংকর সিমেন্ট কোম্পানী। ফলে একদিকে ব্যাংকের ঋন শোধ না করায় খেলাপীর লাইনে দাড়ায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড। তেমনি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধে ব্যর্থ হয়।কোন ব্যাংক এলপি না খোলায় বিপাকে পরে তারা।কারন কোন ব্যাংকের ঋনের কিস্তি পরিশোধ করতে পারেনি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড।ইসলামী ব্যাংক পিএলসিসহ অন্যান্য ব্যাংকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের হাজার কোটি টাকা ঋন রয়েছে। কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের ঋন পরিশোধ না করে মনোযোগী হয় বিদেশে কোম্পানী খোলা ও অর্থ পাচারে। অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড দুবাইতে স্বর্নের দোকান,ভিটা বাড়ি ক্রয়,ফুড় ডেলিভারির কোম্পানীসহ একাধিক কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে। এসব প্রতিষ্ঠান দুবাইতে  অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ লাভের মুখ দেখেনি।তবে তাদের জমি ও মার্কেট রয়েছে।   যেভাবে টাকা পাচার করে দুবাইতে : অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত দুবাইতে  একই নামে কোম্পানী প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে পিআই দিত দুবাই থেকে।এদিকে বাংলাদেশে অবস্থিত অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এলসি ওপেন করতো।অতিরিক্ত টাকা এলসির মাধ্যমে পাচার করতো।এছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও তারা শত শত কোটি টাকা পাচার করেছে।অন্য সিমেন্ট কোম্পানীর মালামাল ও অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর মালামাল এ্যাসেসমেন্ট করলেই বেড়িয়ে আসবে প্রতিটি এলসিতে কত ডলার পাচার করেছে।এসব বিষয়ে দুদক অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে একটি বিশস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে।   ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ,তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা:   ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকি ও অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ায় কাগজপত্রসহ অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর কর্তৃপক্ষকে তলব করেছে কাস্টমস,ও ভ্যাট বিভাগ। ইতিমধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নিয়ে এ্যাংকর সিমেন্টের  শুল্ক ফাঁকি, ভ্যাট জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের বিষয়ে নজরধারী ও তদন্ত শুরু করেছে।  বিদেশে নাগরিত্ব গ্রহন, বাংলাদেশের অর্থ বিদেশে পাচার এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভুত অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলাসহ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে দুর্নীতি দমন কমিশন অনুসন্ধান শুরু করেছে।সম্প্রতি অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডকে দুদক নোটিশ প্রদান করেছে।   বিদেশে সম্পদ গড়ার অভিযোগ, পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা:   অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর অর্থ বিদেশে পাচার এবং বিদেশে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা,দুদকের অনুসন্ধান,ভ্যাট ফাঁকি ও সরকার থেকে অতিরিক্ত রেয়াত সুবিধা নেয়ার ফলে ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়ায়,ব্যাংক ঋন বকেয়া, বিদ্যুৎ বিল বকেয়া,কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ভাতা বকেয়া, ডিলার, রিটেইলারদের থেকে অতিরিক্ত কমিশন দেয়ার নামে অগ্রীম টাকা নিয়ে সিমেন্ট না দেয়া,পাওনাদারদের পাওনা টাকা না দেয়ার চাপ বাড়তে থাকায় অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান ,ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান ও পরিচালক রিফাত বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এর একটি বিশ্বস্ত সুত্র নিশ্চিত করেছে। দুবাই,আমেরিকা ও লন্ডনে তাদের বাড়ি ও গাড়ি রয়েছে।তারা এই তিন দেশের কোন এক দেশে যাবেন বলে সুত্র জানায়।   পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ :   সম্প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে এক প্রবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মরহুম মজিবুর রহমান খানের মৃত্যুর পর প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নেন তার স্ত্রী জুলিয়া রহমান, মেয়ে আনিকা রহমান এবং জামাতা রিফাত। এরপর থেকেই কোম্পানির অর্থ বিদেশে পাচার এবং অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলার কার্যক্রম শুরু  করেন। অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, জুলিয়া রহমান হুন্ডির মাধ্যমে ও আন্ডার ইন ভয়েসের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যে একাধিক ডুপ্লেক্স বাড়ি ও ফ্ল্যাট ক্রয় করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অর্থ এসেছে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের তহবিল ও ব্যাংক ঋণ থেকে। একইসঙ্গে জুলিয়া রহমান অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। তার বিদেশি ঠিকানা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—৫১ চার্চ স্ট্রিট, সেন্ট জন’স, অ্যান্টিগুয়া। কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ: অন্যদিকে আনিকা রহমান ও তার স্বামী রিফাতের বিরুদ্ধে দুবাই, শারজাহ এবং নিউইয়র্কে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তরে সহায়তা করেছেন প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী, যাদের মধ্যে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,সিওও শাহেদ উদ্দিন,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ আরো অনেকে। সহায়তা করার জন্য এসব কর্মকর্তারা হয়েছেন ক্রোড়পতি।গড়েছেন নামে বেনামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সহায় সম্পদ।   ব্যাংক ঋণ  সংকটে ও উৎপাদন বন্ধ:   জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার সময় বিভিন্ন ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নেয়। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি এবং ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঋণের অর্থ উৎপাদনে ব্যবহার না করে বিদেশে সরিয়ে নেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিটি মারাত্মক ঋণ সংকটে পড়েছে। বর্তমানে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। কাঁচামালের সংকট, এলসি খুলতে অক্ষমতা এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে।   বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা,আটকের দাবি:   সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের চেয়ারম্যান জুলিয়া রহমান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিকা রহমান এবং পরিচালক রিফাত এর বিদেশ গমনের পথ বন্ধ করে  তাদের আটক করে এবং অভিযোগগুলো সঠিকভাবে দুদক ও ভ্যাট অডিট, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর তদন্ত করলে বড় ধরনের অর্থপাচার ও ব্যাংক জালিয়াতির তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। অভিযুক্তদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা ।   শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা :   বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের বরিশালের সমন্বয়ক ড. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, ‘মূলত প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা পরিবর্তন হচ্ছে। এ কারণে উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের কর্মচারীদের আন্দোলনের এই নেতা আরো বলেন, ‘এই প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩০০ শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। তাই আমাদের দাবি, মালিকানা পরিবর্তন হলে পরবর্তী মালিককে ওই সব শ্রমিককে কাজে নিযুক্ত করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের পাওনা কতদিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে সে বিষয়েও নিশ্চয়তাও দিতে হবে। এদিকে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের এ্যাংকর সিমেন্টে কর্মরত এক কর্মকর্তা জানান,কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিয়ে শ্রমিকদের সাথে প্রতারনা করছে।শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন না করলে কর্তৃপক্ষ দেনা পাওনা পরিশোধ করবেনা। উল্লেখ্য,এ্যাংকর সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,করপোরেট,  ঢাকা অফিস ও মার্কেটিং বিভাগে প্রায় ৬০০ কর্মকর্তা,কর্মচারী ও শ্রমিক কর্মরত রয়েছে।করোনার সময়ে অসংখ্য শ্রমিক ছাটাই করে অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। এছাড়া ধাপে ধাপে আরো শত শত শ্রমিক ছাটাই করে দেনা পাওনা পরিশোধ না করেই।   সামনে যেসব প্রশ্ন: অলিম্পিক সিমেন্ট  বন্ধ শুধু একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের বন্ধ নয়; এটি দেশের শিল্পখাত, ব্যাংকিং খাত এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। মূল প্রশ্নগুলো হলো— অলিম্পিক সিমেন্ট বন্ধের প্রকৃত কারণ কি শুধুই ব্যবসায়িক লোকসান? ব্যাংক ঋণের অর্থ কোথায় ব্যয় হয়েছে? এলসি লেনদেনে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি? ভ্যাট ও শুল্ক সংক্রান্ত অভিযোগ? শ্রমিকদের পাওনা ও ক্ষতিপূরণ আদৌ সময়মতো পরিশোধ করা হবে কি? অর্থ পাচারের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সংস্থাগুলো কী তথ্য পেয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে তদন্তের অগ্রগতি এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর চূড়ান্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে।   তদন্তের দাবি:    অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত দাবি করেছেন।  অনুসন্ধান সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শিল্প ও ব্যাংক খাতকে রক্ষা করতে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অনুসন্ধান সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি বলছেন, অভিযোগগুলো সত্য প্রমাণিত হলে এটি দেশের শিল্পখাত ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। এ্যাংকর সিমেন্টের বর্তমান পরিস্থিতি শুধু একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট নয়; বরং এটি করপোরেট সুশাসন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং রাষ্ট্রীয় নজরদারির কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্নও সামনে আনছে। এক কথায় এই অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেডের গল্প শুধুমাত্র একটি ব্যবসার পতনের নয়, বরং নৈতিকতার, প্রজ্ঞার, এবং দেশপ্রেমের চূড়ান্ত পরীক্ষা।   এ্যাংকর সিমেন্টে ভয়াবহ কেলেঙ্কারি! বিদেশে সম্পদের পাহাড়, তদন্তে দুদক বরিশালের সিমেন্ট সাম্রাজ্যে ধস: ব্যাংক ঋণ থেকে বিদেশে বিলাসবহুল বাড়ি! ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি? এ্যাংকর সিমেন্ট নিয়ে তোলপাড় বেতন নেই, উৎপাদন বন্ধ, বিদেশে সম্পদ—সংকটে এ্যাংকর সিমেন্ট হুন্ডিতে অর্থপাচারের অভিযোগ, বিদেশে পালানোর শঙ্কা কোম্পানি কর্তাদের সিমেন্ট কোম্পানি নাকি অর্থপাচারের নেটওয়ার্ক? তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য দুবাই-লন্ডন-নিউইয়র্কে সম্পদ, দেশে বন্ধ কারখানা! প্রশ্নের মুখে এ্যাংকর সিমেন্ট ডিলারদের কোটি টাকা আটকে, তদন্তে ভ্যাট গোয়েন্দা ও দুদক     আগামী পর্বে থাকছে ------ ▪️অযোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ নেপথ্যে করপোরেটে নিলা ও ফ্যক্টরীতে শাহেদ উদ্দিন।  ▪️ধ্বংস অলিম্পিক সিমেন্ট, অলিম্পিক ফাইবার,অলিম্পিক শিপিং লাইনস লিমিটেড।  ▪️সহায় -সম্পত্তি জামানতের চেয়ে ব্যাংক ঋন পরিমান কত?।  ▪️কোম্পানী ধ্বংসের কারিগর  এমডি,ডিরেক্টর,এমডির পিস,ডিরেক্টরের পিএস,সিওও,সিএমও,ভ্যাট কর্মকর্তাসহ একাধিক কর্মকর্তা। ▪️অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড থেকে অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনসহ টাকার পাহাড় গড়েছেন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পিএস নিলুফা ,পরিচালকের পিএস জুয়েল ইসলাম,মার্কেটিং প্রধান ইমাম ফারুকী,সেলস মার্কেটিং ম্যানেজার মেহেদী হাসান,ভ্যাট ব্যবস্থাপক মোস্তফা ও রিয়াজসহ একাধিক কর্মকর্তারা। এসব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে  ব্যবস্থাপনা পরিচালককে অর্থ আত্মসাতে সহায়তাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১২, ২০২৬ 0
মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?
বরিশালের কেএমসি হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুর: চিকিৎসক আহত, মৃত্যুকে ঘিরে উত্তেজনার আড়ালে কারা ছিল হামলাকারী?

বরিশাল অফিস :   বরিশাল নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্ট্রোকে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর পর সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা দ্রুত রূপ নেয় সহিংসতায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নিয়ে একদল বহিরাগত হামলাকারী চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং হাসপাতালের বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ভাঙচুর করে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (১০ জুন) দুপুরে নগরীর বাজার রোড এলাকার কেএমসি হাসপাতালে। হামলায় একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এছাড়া কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীও আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   যে মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত মৃত ব্যক্তি মনির খান (৩৮)। তিনি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল হকের ছেলে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ধরনের দ্বিতীয় স্ট্রোকের পর তাকে প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেএমসি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। ৯ জুন তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। মনির খানের স্বজনরা বলছেন, রোগীর শারীরিক অবস্থা শুরু থেকেই সংকটাপন্ন ছিল। মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ও বাকবিতণ্ডা তৈরি হলেও হামলায় জড়িত ব্যক্তিরা তাদের পরিবারের সদস্য নন। রোগীর চাচাতো ভাই ফয়সাল রিয়াজ মিরন বলেন, “মনির খানের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু হাসপাতালের ওপর হামলা বা ভাঙচুরে পরিবারের কেউ অংশ নেয়নি।” হাসপাতালের অভিযোগ: ‘পরিকল্পিত হামলা’ কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেনের দাবি, রোগীর মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে একদল সন্ত্রাসী হাসপাতালে প্রবেশ করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কেউ মুখে মাস্ক পরা ছিল, আবার কেউ প্রকাশ্যেই হাসপাতালে প্রবেশ করে। তারা চিকিৎসক ও কর্মচারীদের ওপর হামলা চালায় এবং বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হামলাকারীরা আবাসিক চিকিৎসক ডা. শুভেন্দ্র হালদার শিপুর কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে এবং কক্ষের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম নষ্ট করে। কাওসার হোসেন বলেন, “সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। এতে একজন চিকিৎসক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।”   হামলাকারী কারা? ঘটনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—হামলাকারীরা কারা? রোগীর পরিবারের সদস্যরা হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও বলছে, হামলাকারীরা রোগীর স্বজন নয়। এই দুই পক্ষের বক্তব্য যদি সঠিক হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠছে—হাসপাতালে প্রবেশ করে হামলা চালানো ব্যক্তিরা কারা ছিলেন এবং তারা কীভাবে এত দ্রুত সংগঠিত হলো? ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকদের ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তারা কোতোয়ালি মডেল থানায় যোগাযোগ করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। কোতোয়ালি মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফর রহমান বলেন, “রোগীর মৃত্যু নিয়ে একটি অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করে।” তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ফলে মামলা বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়নি।     যা বললেন কর্তব্যরত ডাক্তার শুভেন্দু এ ব্যাপারে কেএমসি হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা.শুভেন্দু হালদার বলেন,মনির খান একজন স্ট্রোকের রোগী ছিলেন,আমরা যত্ন সহকারে সর্বোচ্চটা দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিয়েছি।এখানে চিকিৎসায় কোন অবহেলা হয়নি।যারা বলছে তারা অপপ্রচার করছে।এছাড়া তিনি বলেন,হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন অবহেলা বা অসহযোগীতা করেনি।যারা হামলা করেছে তারা রোগীর স্বজন নয়।   রয়ে গেছে নিরাপত্তা প্রশ্ন পুলিশের উপস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনরা পরস্পরের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করলে তাৎক্ষণিক বিরোধের অবসান হয়। তবে এই ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে বেসরকারি হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধের প্রশ্ন। স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসা সংক্রান্ত বিরোধ বা অভিযোগ থাকলে তার নিষ্পত্তির জন্য আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে হামলা, চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণ এবং চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত করা স্বাস্থ্যসেবার জন্য গুরুতর হুমকি।   আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি কেএমসি হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার হোসেন জানিয়েছেন, হাসপাতালের সম্পদের ক্ষতি এবং চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, “হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ীদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা রোগীদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” ঘটনার প্রকৃত দায়ী কারা, হামলার পেছনে কোনো সংগঠিত গোষ্ঠী ছিল কি না এবং হাসপাতালের সিসিটিভি ও ভিডিও ফুটেজে কী তথ্য পাওয়া যায়—এসব প্রশ্নের  ওপরই নির্ভর করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির গুঞ্জন: চাকরি হারানোর শঙ্কায় শ্রমিকদের আন্দোলন

বরিশাল অফিস :    অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড কারখানা বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে শ্রমিকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে। চাকরির নিরাপত্তা এবং দীর্ঘদিনের বকেয়া পাওনা পরিশোধের দাবিতে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় কারখানার প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন শ্রমিকরা। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, গণমাধ্যমে কারখানা বিক্রির খবর প্রকাশিত হওয়ার পর তারা বিষয়টি নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মৌখিকভাবে বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তবে কারখানা হস্তান্তরের ক্ষেত্রে বর্তমান শ্রমিকদের চাকরি বহাল থাকবে কি না কিংবা দুই মাসের বকেয়া বেতন, ওভারটাইমসহ অন্যান্য পাওনা কীভাবে পরিশোধ করা হবে—সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। এ পরিস্থিতিতে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন শত শত শ্রমিক ও কর্মচারী। শ্রমিকদের মূল দাবি কী? সমাবেশে বক্তারা বলেন, কারখানা বিক্রি হলে শ্রমিকদের চাকরি অক্ষুণ্ণ রেখে নতুন মালিকের কাছে প্রতিষ্ঠান হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে বকেয়া বেতন, ওভারটাইম এবং অন্যান্য আর্থিক পাওনা দ্রুত পরিশোধের নিশ্চয়তা দিতে হবে।   আরও পড়ুন:   এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ এ্যাংকর সিমেন্টে ৪০ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকির অভিযোগ : বন্ধ হতে যাচ্ছে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বরিশালে এ্যাংকর সিমেন্ট ফ্যাক্টরী বন্ধ হতে যাচ্ছে : বাড়ছে পাওনাদারদের ভিড়,গা ঢাকা দিয়েছে  এ্যাংকর সিমেন্টের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, আর্থিক সংকট,উৎপাদন বন্ধ      তাদের দাবি, মালিকপক্ষের নীরবতা শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত শ্রমিকদের জীবিকা ও পরিবার নির্ভর করছে এই চাকরির ওপর। ফলে চাকরি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হলে তা সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট ডেকে আনতে পারে। সমাবেশে কারা ছিলেন? অলিম্পিক সিমেন্ট অ্যান্ড ফাইবার্স লিমিটেড শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের (রেজি নং বরিশাল-৫৪) সভাপতি সেলিম সর্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী, বাসদ নেতা শহিদুল শেখ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের জেলা দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদারসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা। এছাড়া ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পাভেল হাওলাদার, সহ-সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক লিটন, হান্নান হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহানুর রহমান শাহীন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাকিল হাওলাদার বক্তব্য রাখেন। সামনে আরও কর্মসূচির ঘোষণা শ্রমিক নেতারা জানান, দাবি আদায়ে প্রয়োজন হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যাওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৯ জুন বরিশালের অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সমাবেশ থেকে বরিশালের শ্রমিক, পেশাজীবী ও সাধারণ জনগণকে ওই কর্মসূচিতে সংহতি জানানোর আহ্বান জানানো হয়। প্রশ্নের মুখে শ্রমিক অধিকার শ্রম বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় গেলে শ্রমিকদের চাকরি, বকেয়া মজুরি এবং আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। শ্রমিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, যদি মালিকপক্ষ এ বিষয়ে স্বচ্ছ অবস্থান না নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অলিম্পিক সিমেন্ট কারখানা বিক্রির সম্ভাবনা ঘিরে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ কী হবে, আর তাদের পাওনা ও চাকরির নিশ্চয়তা কে দেবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১১, ২০২৬ 0
Popular post
সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0