Brand logo light

বরিশাল দুর্নীতি

মুলাদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিন টেন্ডারে জাল নথির অভিযোগ, কার্যাদেশ বাতিলের নির্দেশ

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: স্বাস্থ্য খাতে সরকারি কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ আবারও সামনে এসেছে। এবার বরিশালের মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওষুধ, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও মেডিকেল ফার্নিচার কেনার তিনটি দরপত্র ঘিরে কোটি টাকার জালিয়াতি ও যোগসাজশের অভিযোগ উঠেছে। দরপত্রে দাখিল করা ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট (ডিভিসি), ট্যাক্স সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট/বিআইএন, কাজের অভিজ্ঞতার সনদ, ব্যাংক সলভেন্সি ও এফিডেভিটসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ, কিছু নথি জাল বা ভুয়া, আবার কিছু অন্য প্রতিষ্ঠানের। এসব নথি যাচাই না করেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির (বিপিপিএ) রিভিউতে ধরা পড়েছে। রিভিউ প্যানেল-৫ গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের এক আদেশে সংশ্লিষ্ট নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ), কার্যাদেশ ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে দরপত্রগুলো যথাযথভাবে পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছে। তবে অভিযোগের গুরুত্বের তুলনায় এখন পর্যন্ত জালিয়াতির উৎস শনাক্ত, মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা নির্ধারণ কিংবা দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং স্বাস্থ্য খাতে জনগণের অর্থ ব্যয়ের যথার্থতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তিন টেন্ডারে কী ঘটেছিল ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জন্য নন-ইডিসিএল ওষুধ, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট এবং মেডিকেল ফার্নিচার কেনার উদ্দেশ্যে তিনটি দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্রগুলোর আইডি যথাক্রমে ১৩১৯০৯৮, ১৩১৯১০২ ও ১৩১৯১০৪। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, তিনটি দরপত্রে মোট নয়টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। এর মধ্যে ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে ‘নন-রেসপনসিভ’ বা শর্ত পূরণে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। বিপরীতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে ‘রেসপনসিভ’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের অনুকূলে এনওএ ও কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কিন্তু দরপত্র মূল্যায়নের এই সিদ্ধান্ত নিয়েই আপত্তি তুলেছেন সংশ্লিষ্ট অভিযোগকারীরা। তাঁদের দাবি, যুক্তিসংগত সর্বনিম্ন দরদাতাদের বাদ দিয়ে প্রাক্কলিত মূল্যের প্রায় ৯৮ থেকে ৯৯ শতাংশের কাছাকাছি দর দেওয়া প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য বিবেচনা করা হয়েছে। সরকারি কেনাকাটায় সর্বনিম্ন দরদাতা হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ পাওয়ার অধিকার তৈরি হয় না; দরপত্রের শর্ত, কারিগরি যোগ্যতা, নথিপত্রের সত্যতা এবং প্রযোজ্য বিধি অনুসারে মূল্যায়ন করতে হয়। কিন্তু যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যদি অসত্য নথি গ্রহণ করা হয় এবং অন্য দরদাতাদের অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপচয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, মুলাদীর তিনটি দরপত্রে ঠিক এমন পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০২৫-এর বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। ৪১টি শর্ত পূরণের দাবি, কিন্তু যাচাই কোথায়? দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুতর প্রশ্নটি উঠেছে নথি যাচাইয়ের পদ্ধতি নিয়ে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দরপত্রে অংশ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন কমিটি ৪১টি শর্তের সব কটিই পূরণ হয়েছে বলে উল্লেখ করে। অথচ অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজনীয় অনলাইন যাচাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। বিপিপিএর রিভিউ শুনানিতে ক্রয়কারী কর্তৃপক্ষের উপস্থাপিত নথি নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ রিভিউ প্যানেলের কাছে প্রয়োজনীয় ই-জিপি রেকর্ড ও যথাযথ নথিপত্র উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির দায়িত্ব শুধু কাগজপত্র জমা নেওয়া নয়; বরং দরদাতার যোগ্যতা ও দাখিল করা নথির সত্যতা যাচাই করে বিধি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া। বিশেষ করে যেসব নথির সত্যতা অনলাইনে যাচাই করা সম্ভব, সেগুলোর ক্ষেত্রে যথাযথ যাচাই না হলে পুরো মূল্যায়নপ্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়। মুলাদীর ঘটনায় অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ৪১টি শর্ত পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রতিটি শর্তের পক্ষে থাকা নথি কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল? যাচাই করা হয়ে থাকলে সেই প্রমাণ রিভিউ প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করা গেল না কেন? এসব প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ উত্তর পেতে মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, যাচাইয়ের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ই-জিপি নথির স্বাধীন পর্যালোচনা প্রয়োজন। ডিভিসি থেকে ব্যাংক সলভেন্সি—নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রিভিউ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, একটি প্রতিষ্ঠানের দাখিল করা অডিট রিপোর্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথির সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি। একই সঙ্গে ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট বা ডিভিসি নম্বর অনলাইনে যাচাই করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, দরপত্রে দাখিল করা কিছু নথি প্রকৃতপক্ষে অন্য প্রতিষ্ঠানের। একটি নথিতে কেডিএফ করপোরেশনের ডিভিসি নম্বর ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই ডিভিসি অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ডিভিসি কোনো প্রতিষ্ঠানের নথির সত্যতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বা নথির সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের ডিভিসি ব্যবহার করা হয়ে থাকলে তার কারণ, উৎস ও দায় নির্ধারণ করা জরুরি। শুধু ডিভিসি নয়, ট্যাক্স সার্টিফিকেট, ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট/বিআইএন, কাজের অভিজ্ঞতার সনদ, ব্যাংক সলভেন্সি ও এফিডেভিটসহ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগে যেসব নথিকে জাল বা ভুয়া বলা হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই এবং প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া দরকার। রিভিউ প্যানেলের পর্যবেক্ষণ, অভিযোগকারীদের বক্তব্য এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত জালিয়াতি—এই তিনটি বিষয়কে আলাদা করে দেখা জরুরি। নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনাল: অল্প সময়ের ব্যবসায়িক ইতিহাস, অভিজ্ঞতার দাবি কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনালের নথি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথিতে প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্সের তারিখ ২ জুলাই ২০২৬, টিআইএন নিবন্ধনের তারিখ ২৪ মার্চ ২০২৬ এবং বিআইএন নিবন্ধনের তারিখ ১৭ মে ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। অর্থাৎ নথিতে উল্লিখিত তারিখ অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে। এর আগে টিআইএন ও বিআইএন নিবন্ধনের তথ্য থাকলেও দরপত্রে অংশগ্রহণের সময় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক কার্যক্রমের মেয়াদ, বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং প্রয়োজনীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ রয়েছে। এখানেই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রের অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার শর্ত পূরণের পক্ষে কী ধরনের নথি দাখিল করেছিল? ওই অভিজ্ঞতার সনদ কোন প্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষ ইস্যু করেছে? সেগুলোর সত্যতা কি সংশ্লিষ্ট উৎস থেকে যাচাই করা হয়েছিল? কোনো প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নতুন হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অযোগ্য হয়ে যায় না। তবে দরপত্রে নির্দিষ্ট মেয়াদের অভিজ্ঞতা বা পূর্ববর্তী কাজ সম্পাদনের শর্ত থাকলে সেই যোগ্যতা গ্রহণযোগ্য ও যাচাইযোগ্য নথির মাধ্যমে প্রমাণ করতে হয়। অতএব, নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনালের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন প্রতিষ্ঠানের বয়স নয়; বরং দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী তার যোগ্যতা প্রমাণিত হয়েছিল কি না এবং মূল্যায়ন কমিটি কীসের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটিকে রেসপনসিভ ঘোষণা করেছিল। আপিল চলাকালে কার্যাদেশ, পরে বাতিলের নির্দেশ প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রতিকার না পেয়ে অভিযোগকারী পক্ষ বিপিপিএর রিভিউ প্যানেলে আপিল করে। অভিযোগকারীদের দাবি, আপিলের শুনানি চলার সময়ই ক্রয়প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা ও জনস্বার্থের বিষয়টি সামনে রেখে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে এনওএ ও কার্যাদেশ দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট ও মেডিকেল ফার্নিচার কেনা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু জনস্বার্থের যুক্তি দেখিয়ে কোনো ক্রয়প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উপেক্ষা করা যায় কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। কারণ স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজনীয়তা যেমন বাস্তব, তেমনি সরকারি অর্থে কেনা পণ্যের মান, মূল্য, সরবরাহকারীর যোগ্যতা এবং ক্রয়প্রক্রিয়ার বৈধতাও জনস্বার্থের অংশ। অভিযোগের পর নথি পর্যালোচনা করে বিপিপিএর রিভিউ প্যানেল-৫ গত ৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট এনওএ, কার্যাদেশ ও সম্পাদিত চুক্তি বাতিল করে দরপত্রগুলো পুনরায় যথাযথভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দেয়। এ আদেশ ক্রয়প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নের গুরুত্ব তুলে ধরে। তবে কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেওয়ার অর্থই সব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। নথি জালিয়াতি হয়েছে কি না, কে বা কারা এতে জড়িত এবং মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা কী ছিল—সেগুলো পৃথক তদন্তে নির্ধারণ করতে হবে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বক্তব্য: ‘কেনাকাটা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে’ এ বিষয়ে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ ফজলে রাব্বী বলেন, “দরপত্র যাচাই প্রক্রিয়া যথাসম্ভব স্বচ্ছভাবে করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারপরেও ভুল থাকতে পারে।” বিপিপিএর রিভিউ প্যানেল-৫ কার্যাদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছে—এ বিষয়ে তাঁর করণীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কেনাকাটা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এখন চাইলেও সেটি বাদ দেওয়া যাবে না। আমরা বিপিপিএ রিভিউ প্যানেলে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানাব।” তাঁর বক্তব্যে ক্রয়প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। তবে রিভিউ প্যানেলের নির্দেশের পর ইতোমধ্যে শুরু হওয়া কেনাকাটার ক্ষেত্রে কী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সরবরাহ করা পণ্য গ্রহণ বা মূল্য পরিশোধের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত হবে এবং চুক্তি বাতিলের নির্দেশ কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন। কার্যাদেশ বাতিলের নির্দেশের পরও ক্রয়প্রক্রিয়া চলমান থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত হবে আদেশের পরিধি ও বাস্তবায়ন সম্পর্কে লিখিতভাবে অবস্থান পরিষ্কার করা। ‘অবহেলা, নাকি কাউকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা?’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রকিউরমেন্ট বিশেষজ্ঞ বলেন, রিভিউ প্যানেলের কার্যাদেশ বাতিলের নির্দেশ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে ভুয়া ডিভিসি, অন্য প্রতিষ্ঠানের নথি, জাল অডিট রিপোর্ট কিংবা অসত্য অভিজ্ঞতার সনদ ব্যবহার করা হয়ে থাকলে শুধু দরপত্র বাতিল করেই দায়িত্ব শেষ করা যায় না। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট নথির উৎস শনাক্ত করতে হবে। পাশাপাশি দরপত্র যাচাই ও মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে হবে। পুরো বিষয়টি নিছক অবহেলা, নাকি কোনো পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা—তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। দায় প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এই বক্তব্যে সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার একটি মৌলিক দিক উঠে এসেছে। কোনো অনিয়মের অভিযোগে কার্যাদেশ বাতিল করা হলে তা তাৎক্ষণিক প্রতিকার হতে পারে; কিন্তু নথি জালিয়াতির অভিযোগের উৎস ও দায়ীদের শনাক্ত না করা গেলে একই ধরনের অনিয়ম অন্য ক্রয়প্রক্রিয়ায়ও পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি থেকে যায়। একাধিক প্রতিষ্ঠানের নাম, সিন্ডিকেটের অভিযোগ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্রের বরাতে আরু করপোরেশন, জাজ করপোরেশন ও কেডিএফ করপোরেশনসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছে। একই সূত্রে জাজ এন্টারপ্রাইজ, এনএস ট্রেডিং করপোরেশন, আর এস ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, আরএম ট্রেডার্স, পিকেএস ট্রেডার্স, নেক্সট জেন ইন্টারন্যাশনাল, এনএস ট্রেডিং, কেডিএফ ইন্টারন্যাশনাল ও আয়মান করপোরেশনের নামও উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্রটির দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে বিভিন্ন সময়ে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এবং অতীতে একটি প্রভাবশালী টেন্ডার চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি কাজ নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের নাম কোনো সূত্রের বক্তব্যে উঠে আসা বা তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা মানেই মুলাদীর তিনটি দরপত্রে প্রত্যেকটির সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়া নয়। কোন প্রতিষ্ঠান কোন দরপত্রে অংশ নিয়েছে, কোন নথি দাখিল করেছে, তাদের মধ্যে মালিকানা বা প্রতিনিধিত্বের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না এবং অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ আছে—এসব পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।   যে প্রশ্নগুলোর উত্তর জরুরি মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি দরপত্রের ঘটনায় কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া এখন জরুরি: ১. যেসব নথির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলো ইস্যুকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হয়েছিল কি না? ২. ৪১টি শর্ত পূরণের সিদ্ধান্ত কী কী নথি ও যাচাইপ্রক্রিয়ার ভিত্তিতে নেওয়া হয়েছিল? ৩. অভিযোগ অনুযায়ী, অন্য প্রতিষ্ঠানের ডিভিসি বা নথি ব্যবহার করা হয়ে থাকলে সেগুলো দরপত্রে কারা সংযুক্ত করেছে এবং কে বা কারা যাচাই করেছে? ৪. রিভিউ প্যানেলের আদেশের পর এনওএ, কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিলের নির্দেশ বাস্তবায়নে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? ৫. মূল্যায়ন কমিটির সদস্যদের ভূমিকা তদন্ত করা হবে কি না এবং সরকারি অর্থের সম্ভাব্য ক্ষতি নিরূপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না? ৬. অভিযোগে উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কোনো যোগসাজশ বা সমন্বিতভাবে দরপত্রে অংশ নেওয়ার প্রমাণ রয়েছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর নথিভিত্তিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। শুধু কার্যাদেশ বাতিল নয়, জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তিনটি দরপত্র ঘিরে ওঠা অভিযোগ সরকারি কেনাকাটার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নকে সামনে এনেছে। বিপিপিএর রিভিউ প্যানেলের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট এনওএ, কার্যাদেশ ও চুক্তি বাতিল এবং পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তির জন্য নথির সত্যতা যাচাই, মূল্যায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা এবং দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা নির্ধারণ অপরিহার্য। এখানে মূল বিষয় কেবল কে কাজ পেয়েছে, তা নয়। বরং যোগ্যতার শর্ত কীভাবে যাচাই করা হয়েছে, সরকারি অর্থে কেনাকাটার প্রতিযোগিতা কতটা নিশ্চিত হয়েছে এবং অভিযোগ ওঠার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে—এসব প্রশ্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য বরাদ্দ অর্থ জনগণের অর্থ। সেই অর্থে কেনাকাটার ক্ষেত্রে কোনো অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা স্বচ্ছভাবে তদন্ত করা এবং প্রমাণিত অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। একই সঙ্গে অভিযোগের কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানকে আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে প্রত্যেকের বক্তব্য ও নথি যাচাইয়ের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি। মুলাদীর এই ঘটনায় এখন দেখার বিষয়—রিভিউ প্যানেলের নির্দেশ কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়, অভিযোগে উল্লিখিত নথিগুলোর সত্যতা যাচাই করে কী পাওয়া যায় এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ায় দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেয়।    

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২১, ২০২৬ 0
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তনে রাজস্ব ফাঁকির দাবি

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল নিবন্ধন, সরকারি রাজস্ব ফাঁকি এবং ঘুষের বিনিময়ে দলিল সম্পাদনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অসাধু দলিল লেখকদের একটি চক্রের যোগসাজশে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করে জমির দলিল নিবন্ধন করা হচ্ছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে জমি কেনাবেচা করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছে জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন করে নিবন্ধনমূল্য কম দেখানোর মাধ্যমে সরকারি ফি ও রাজস্ব কম দেওয়ার বিষয়টি। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালাজমিকে পতিত জমি দেখিয়ে একটি দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দলিলে জমির নিবন্ধনমূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র চার লাখ টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, এভাবে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নিবন্ধনের ফলে সরকার নির্ধারিত রাজস্বের একটি অংশ ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী চক্রের কারণে অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।  নালাজমি দেখানো হয়েছে পতিত, রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে নিবন্ধনমূল্য কম দেখানোর অভিযোগ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর উপজেলার চানপুর ইউনিয়নের সাবেক হালে মৌজায় ৫৮ শতাংশ নালাজমি পতিত জমি হিসেবে দেখিয়ে দলিল নিবন্ধন করা হয়। দলিলে জমিটির নিবন্ধনমূল্য দেখানো হয় মাত্র চার লাখ টাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, জমির প্রকৃত মূল্য ছিল ২৬ কোটি ৪৬ হাজার টাকা। জমির প্রকৃত শ্রেণি ও মূল্য যথাযথভাবে নির্ধারণ করা হলে সরকার নির্ধারিত হারে বেশি রাজস্ব পাওয়ার সুযোগ ছিল বলে অভিযোগকারীদের দাবি। কিন্তু জমিটিকে পতিত দেখিয়ে আট শতাংশ রেজিস্ট্রেশন স্ট্যাম্প ফি ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকারের কয়েক হাজার টাকার রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—জমিটির প্রকৃত শ্রেণি কী ছিল, দলিল নিবন্ধনের সময় কোন মূল্যায়ন পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছিল এবং প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কত টাকা রাজস্ব দেওয়ার কথা ছিল? এসব প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পেতে সংশ্লিষ্ট দলিল, ভূমির শ্রেণিসংক্রান্ত রেকর্ড, মৌজা মূল্যতালিকা, নিবন্ধন ফি ও স্ট্যাম্প শুল্কের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ অনুযায়ী, সাব-রেজিস্ট্রারের আশীর্বাদপুষ্ট একটি অসাধু দলিল লেখকচক্র এ কাজে জড়িত। সাব-রেজিস্ট্রারের একান্ত সহকারী হিসেবে পরিচিত তাপস নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও সহযোগিতার অভিযোগ রয়েছে।  ঘুষ ছাড়া দলিল নিবন্ধন হয় না—ভুক্তভোগীদের অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন করতে গিয়ে ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাঁদের দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন জটিলতা তৈরি করা হয়। এতে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সাব-রেজিস্ট্রারসংকট এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে কর্মকর্তাদের দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে সেবা পেতে সমস্যা হচ্ছে। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের দাবি, বরিশালের প্রতিটি উপজেলায় একজন করে স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকা প্রয়োজন। উপজেলার চরএকরিয়া এলাকার জসিম বলেন, জমি বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি। এ জন্য বায়নাও করেছেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরসংক্রান্ত জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না বলে তাঁর অভিযোগ। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন উলানিয়া এলাকার আকবার। তিনি বলেন, নিজের একটি নালাজমি বিক্রি করে মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাড় করতে এবং নিজের চিকিৎসা করাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সাব-রেজিস্ট্রারের দপ্তরসংক্রান্ত জটিলতায় জমি বিক্রি করতে পারছেন না। দুজনের বক্তব্যেই উঠে এসেছে একটি সাধারণ সমস্যা—জমি বিক্রি করে জরুরি পারিবারিক প্রয়োজন মেটাতে চাইলেও নিবন্ধনপ্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে যাচ্ছেন তাঁরা।   অতিরিক্ত সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে কার্যক্রম, ভোগান্তিতে সেবাপ্রার্থীরা স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সাব-রেজিস্ট্রার দিয়ে দলিল নিবন্ধনের কার্যক্রম চলছে। স্থায়ী কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে বারবার দপ্তরে যেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। দলিল লেখক সমিতির সদস্যদের মতে, প্রতিটি উপজেলায় নিয়মিত দায়িত্ব পালনের জন্য স্থায়ী সাব-রেজিস্ট্রার থাকা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, নিয়মিত কর্মকর্তা না থাকলে দলিল নিবন্ধনের কাজের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয় এবং সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বাড়ে।   স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসকে ঘিরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশীর্বাদপুষ্ট একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন। তাঁদের দাবি, এই চক্রের প্রভাবের কারণে অফিসে বদলি হয়ে আসা কর্মকর্তারা বেশিদিন দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। চাপের মুখে কিছু কর্মকর্তা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, স্থানীয় প্রভাবশালীদের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং দলিল লেখকদের সঙ্গে অফিসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ছড়ানোর পর তৎপরতা গত ৫ ফেব্রুয়ারি মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর অফিসের কার্যক্রম এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অনিয়মের অভিযোগ আড়াল করতে সাব-রেজিস্ট্রার বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ ও তৎপরতা চালাচ্ছেন। তবে ভিডিওটির সত্যতা, এতে দৃশ্যমান ব্যক্তিদের পরিচয়, ঘটনার সময় এবং লেনদেনের প্রকৃতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ভিডিওটিকে ঘুষ লেনদেনের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করার আগে এর উৎস ও প্রেক্ষাপট যাচাই করা প্রয়োজন। এর আগেও মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এসব প্রতিবেদন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে। তাঁদের অভিযোগ, সংবাদ প্রকাশের পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট চক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। জবাবদিহি কোথায়? সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জমির শ্রেণি, দলিলে ঘোষিত মূল্য, প্রযোজ্য স্ট্যাম্প শুল্ক ও নিবন্ধন ফি—প্রতিটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। এসব তথ্যের মধ্যে অসংগতি থাকলে তা যাচাই করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অভিযোগ সত্য হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, সরকারি রাজস্ব সুরক্ষা ও জনস্বার্থের সঙ্গেও সম্পর্কিত। এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে অন্তত চারটি বিষয় খতিয়ে দেখা প্রয়োজন: ১. ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর নিবন্ধিত ৫৮ শতাংশ জমির দলিল, জমির শ্রেণি এবং ঘোষিত মূল্য। ২. জমিটির প্রকৃত শ্রেণি ও প্রযোজ্য মৌজা মূল্যতালিকা অনুযায়ী সরকার কত টাকা রাজস্ব পাওয়ার কথা ছিল। ৩. দলিল নিবন্ধনের সময় সাব-রেজিস্ট্রার, সংশ্লিষ্ট সহকারী ও দলিল লেখকদের দায়িত্ব এবং ভূমিকা কী ছিল। ৪. গত ৫ ফেব্রুয়ারি ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর উৎস, সত্যতা এবং এতে কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের প্রমাণ রয়েছে কি না। এসব বিষয়ে নথিভিত্তিক তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণের পাশাপাশি সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতি, দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতাও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে। সাব-রেজিস্ট্রারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা সম্ভব হলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যেতে পারে। মেহেন্দীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ঘিরে ওঠা ঘুষ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন এবং রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া এবং জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত নিবন্ধনসেবা নিশ্চিত করা জরুরি।   

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ২০, ২০২৬ 0
বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল যখন ঠিকাদার: ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ

বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশলে দুর্নীতির অভিযোগ: নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের বিরুদ্ধে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ, কমিশন বাণিজ্য ও ভুয়া বিলের প্রশ্ন:২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ, মানববন্ধন ও টেন্ডার কারসাজির দাবি; প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্পে কমিশন লেনদেনের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) জেলার শিক্ষা অবকাঠামো উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান। জেলার স্কুল,কলেজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, সংস্কার, শ্রেণিকক্ষ সম্প্রসারণ, টয়লেট ও অন্যান্য অবকাঠামোগত কাজের দায়িত্ব এই দপ্তরের ওপর ন্যস্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই দপ্তর ঘিরে যে চিত্র উঠে আসছে, তা সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করছে। অনুসন্ধানে পাওয়া গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরের ভেতরে ঘুষ, অনিয়ম, দরপত্র কারসাজি ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ জমতে জমতে এখন পাহাড় হয়ে প্রকাশ্যে আসছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।   কে এই শহিদুল,আটকের দাবি শহিদুল ইসলাম ছাত্র জিবন থেকেই ছাত্রলীগের কর্মকান্ডের সাথে জড়িত।বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোড়লগঞ্জ উপজেলার ঢেপুয়ারপাড় জামুয়া গ্রামে।তার পিতার নাম শেখ রুস্তুম আলী।পিমস আইডি নং ০০০৫৪৩।এন আই ডি নং- এনআইডি নং- ২৬৯০৪১৭১৫৪+++। ডুয়েটে থাকাকালীন সময়ে আবেদ আলী পিএসসি সনদ বানিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। বহুল আলোচিত কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী এবং পিএসসির বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ একটি শক্তিশালী প্রশ্নফাঁস চক্রের সাথে প্রকৌশলী শহিদুল জড়িয়ে পড়েন। শহিদুলের নিয়োগেও রয়েছে বড় অনিয়ম।তিনি ও তার বন্ধুদের নিয়োগ নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম ফাঁস হয়েছিল।বড় অংকের ঘুসের বিনিময়ে সেই অনিয়ম ধামাচাপা দেয়া হয়।শহিদুলকে আটক করে রিমান্ডে নেয়া হয়ে আবেদআলী পিএসসি প্রশ্নফাঁসে বহু তথ্য বেড়িয়ে আসবে।   শহিদুলের গডফাদাররা কারাগারে থাকলেও তিনি এখনো বহাল তবিয়তে: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তিনি সরকারি দ্বায়িত্বে নিয়োজিতই নন।তিনি এখনো বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সদস্যও। ডুয়েটে ছাত্র জিবনে কার্য্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের একজন সক্রিয় নেতা ছিলেন।২০০৯ ব্যাচের এই প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের চতুরতায় বরিশাল,ঝালকাঠি ও পটুয়াখালীর অসংখ্য ঠিকাদারগন পথে বসেছে। শহিদুলের গডফাদার ঝালকাঠিতে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ছিলেন আমির হোসেন আমু,বরিশালে তার গডফাদার ছিলেন জাহিদ ফারুক শামিম। আমু ও জাহিদ ফারুক শামিম কারাগারে অথচ প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা বরিশাল ও বরগুনার দ্বায়িত্বে বহাল তবিয়তে ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।শহিদুল ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সাধারন ঠিকাদারগন। ঠিকাদার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং দপ্তরের ভেতরের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রকল্পের ফাইল কার্যত এগোয় না-এমনটাই দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগ রয়েছে, তিনি দপ্তরের ভেতরে এমন একটি প্রভাববলয় তৈরি করেছেন, যেখানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে শুরু করে অর্থ ছাড় পর্যন্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ধাপ তাঁর নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে কেউ তাঁর বিরাগভাজন হলে কিংবা তাঁর কথিত নির্দেশনা অনুসরণ না করলে ফাইল আটকে যাওয়াটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম যখন ঠিকাদার : বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম তিনি নিজ দপ্তরে বসেই চারটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করেন।এই চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নিয়ে সাব কন্ট্যাক্টে কাজ দেন বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে।ফলে প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের নিকট জিম্মি থাকে সাব কন্টাক্টে কাজ নেয়া প্রতিষ্ঠানের লোকজন।শহিদুল ইসলাম যে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রন করেন সেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বরিশালের মেসার্স মোমিন সিকদার,দিনাজপুরের মেসার্স মা এন্টার প্রাইজ,চট্রগ্রামের ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স,খুলনার মেসার্স রাফিদ ট্রেডার্স। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রতিষ্ঠানের নামে কাজ নেওয়ার পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্য ঠিকাদারদের কাছে সাবকন্ট্রাক্টে কাজ দেওয়া হয়। এতে মূল কাজের বরাদ্দ, বাস্তবায়ন এবং আর্থিক লেনদেনের ওপর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রভাব বজায় থাকে বলে তাঁদের অভিযোগ। তাঁদের আরও দাবি, সাবকন্ট্রাক্টে কাজ নেওয়া ঠিকাদারদের বিল, জামানত ও ভবিষ্যৎ কাজের সুযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে অনিয়মের প্রতিবাদ করা বা অভিযোগ প্রকাশ্যে আনা তাঁদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।  উল্লিখিত চারটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিকানা, নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে তাদের আর্থিক বা ব্যবসায়িক সম্পর্ক এবং সংশ্লিষ্ট কাজের বরাদ্দ ও সাবকন্ট্রাক্টের বৈধতা যাচাই করতে দরপত্রের নথি, চুক্তিপত্র, মালিকানা-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য অনুসন্ধান চলছে।   নিরাপত্তা জামানত নিয়েও প্রশ্ন: ঠিকাদারদের অভিযোগ, চারটি প্রতিষ্ঠানের নামে সম্পাদিত কাজের বিপরীতে নিরাপত্তা জামানত হিসেবে ৫ শতাংশ অর্থ কর্তন করা হয়েছে, যেখানে তাঁদের দাবি অনুযায়ী প্রযোজ্য বিধিতে ১০ শতাংশ কর্তনের কথা রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, এভাবে জামানত কর্তনের ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ না করা হলে সরকারের আর্থিক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অনুসন্ধানের শুরুটা হয় ঠিকাদারদের অসন্তোষ থেকে। বরিশাল জেলার বিভিন্ন স্থানে বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করেও একাধিক ঠিকাদার বিল না পাওয়ার অভিযোগ তুলতে থাকেন। কেউ কেউ জানান, কাজ শেষ হওয়ার পর মাসের পর মাস অফিসে ঘুরেও তারা বিল পাচ্ছেন না। আবার কোনো ক্ষেত্রে বিল আংশিক ছাড় করা হলেও বাকি অর্থ আটকে রাখা হচ্ছে। এসব অভিযোগ খতিয়ে দেখে দেখা যায়, অধিকাংশ ফাইলের শেষ ধাপ গিয়ে থেমে থাকে নির্বাহী প্রকৌশলীর টেবিলে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ঠিকাদার জানান, এখানে কাজ করতে হলে শুধু নিয়ম মেনে কাজ করলেই হয় না, বাড়তি কিছু 'ম্যানেজ' করতে হয়। এক ঠিকাদারের ভাষায়, “এখানে কাজ করতে হলে দুইটা জিনিস লাগে-ধৈর্য আর টাকা। টাকা না দিলে ধৈর্য পরীক্ষা নেওয়া হয়।” তাঁর দাবি, অফিসে কেউ সরাসরি ঘুষের কথা বলে না, কিন্তু কথাবার্তার ইঙ্গিত থেকেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। প্রথমে বলা হয় ফাইলে একটু সমস্যা আছে, পরে নতুন কাগজ চাই, এরপর বলা হয় 'উপরে কথা বলতে হবে'।   শহিদুলের যত সম্পদ:  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল শেয়ারি বরিশাল ও ঢাকায় জমি ক্রয় করে ফ্ল্যাট ব্যবসা,উত্তরায় নিজস্ব ফ্ল্যাট,গাড়িসহ নামে বেনামে শত শত কোটি টাকাসহ সহায় সম্পদ গড়েছেন। ঘুষ,ঠিকাদারি,ঠিকাদারদের থেকে প্রতি বিলে ঘুষ,কমিশন,ঠিকাদারী কাজ বিক্রি, পার্টনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে কাজের রিভাইজের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিল করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ,প্রতি লাইসেন্স থেকে দশ হাজার করে ঘুষ আদায়সহ অনৈতিক ভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।দুদক তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে তার সম্পদের পাহাড়ের সকল তথ্য। নারী কেলেঙ্কারির যত অভিযোগ:  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল নারীদের প্রতি খুবই দুর্বল।তাকে নারী সাপ্লাই দিত সাবেক এক হিসাব রক্ষক।বর্তমানে এক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অভ্যান্তরে কানাঘুষা চলছে।এছাড়া তার নিজস্ব নিয়োগ দেয়া ব্যক্তিও তাকে সুন্দরী নারী সাপ্লাই দিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।একটি নির্জন বাংলোতে নারীদের নিয়ে সময় কাটানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ বা সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার পর বিল ছাড় করাতে নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ দিতে হয়-এমন অভিযোগ বহু ঠিকাদারের। প্রকল্পের আকার ও বাজেট অনুযায়ী এই অর্থের পরিমাণ ভিন্ন হয়ে থাকে বলে তারা জানান। কাজ যত বড়, কথিত লেনদেনের অঙ্কও তত বেশি-এমনটাই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। পুরো প্রক্রিয়াটি সাধারণত ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয় বলে তারা দাবি করেন। প্রথমে মৌখিক ইঙ্গিত দেওয়া হয়, পরে কোনো মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়, সবশেষে সরাসরি 'খরচের কথা' বলা হয়।   ঠিকাদারদের অভিযোগ, ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে ঘুরতেই থাকে। কখনো নতুন করে মাপজোপের কথা বলা হয়, কখনো আগের কাগজে ত্রুটি বের করা হয়। ফলে কাজ শেষ করেও তারা আর্থিক সংকটে পড়েন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে ঋণ নিয়ে কাজ করেছেন, কিন্তু বিল আটকে থাকায় সেই ঋণ শোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   বিল ছাড়ের পাশাপাশি দরপত্র প্রক্রিয়ায়ও ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যমতে, অনেক ক্ষেত্রে দরপত্রের শর্ত এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যাতে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারই সুবিধা পায়। প্রকৃত প্রতিযোগী ঠিকাদারদের দরপত্রে কৃত্রিম কারিগরি ত্রুটি দেখিয়ে বাতিল করা হয়-এমন অভিযোগও রয়েছে। দরপত্র মূল্যায়ন কমিটিতে প্রভাব বিস্তার করে তার চারটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুলের বিরুদ্ধে।এক ঠিকাদার বলেন, "আগেই ঠিক করে দেওয়া থাকে কে কাজ পাবে। দরপত্র শুধু আনুষ্ঠানিকতা। আমরা কাগজ জমা দিলেও পরে বলা হয় টেকনিক্যাল সমস্যা আছে।” তাঁর দাবি, এসব সমস্যার কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকে না, বরং পছন্দের ঠিকাদারকে জায়গা করে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।এই অনিয়মের ফলে সরকারি ক্রয়বিধি লঙ্ঘনের পাশাপাশি সরকারের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। প্রতিযোগিতা না থাকায় কাজের মান কমে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অনুসন্ধানে জেলার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও অর্ধসমাপ্ত ভবন পড়ে আছে, কোথাও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কোথাও কাগজে কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে ভবনের বিভিন্ন অংশ অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ছাদ থেকে পানি পড়ে, দেয়ালে ফাটল। কিন্তু কাগজে নাকি সব ঠিক। আমাদের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করছে।” অভিভাবকদের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলায় শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে পড়ছে। তারা বলছেন, শিক্ষা খাতে অনিয়ম মানে সরাসরি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, দপ্তরের ভেতরে ও বাইরে একটি মধ্যস্থতাকারী নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সরাসরি লেনদেন এড়িয়ে যোগাযোগ রক্ষা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। দপ্তরের কিছু কর্মচারী এবং বাইরের কয়েকজন ব্যক্তি এই যোগাযোগের কাজ করে থাকেন বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। এর ফলে মূল অভিযুক্ত সবসময় সরাসরি সামনে না এসে আড়ালে থাকার সুযোগ পাচ্ছেন।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম।   সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, সংস্কার ও অবকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্বে থাকা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) বরিশাল কার্যালয় ঘিরে ঘুষ, দরপত্রে অনিয়ম, কমিশন বাণিজ্য, বিল আটকে রাখা এবং ঠিকাদারদের হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম। তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়ে  সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ২৪ জন ঠিকাদার। অভিযোগের প্রতিবাদে তাঁর অপসারণ ও তদন্তের দাবিতে মানববন্ধনও করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঠিকাদারদের অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ পাওয়া থেকে শুরু করে বিল উত্তোলন, জামানত ফেরত এবং দরপত্রের মূল্যায়ন—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপেই একটি প্রভাবশালী বলয়ের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ নেওয়া, পরে অন্য ঠিকাদারের কাছে কাজ হস্তান্তর, নির্ধারিত হারে কমিশন আদায়, কাজের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ নথি তৈরি এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা। প্রায় ৩২ কোটি টাকার কারিগরি স্কুল ও কলেজ  স্থাপন প্রকল্প ঘিরে কমিশন লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। এ ছাড়া বরিশাল নগরীর কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণের দরপত্র, নিরাপত্তা জামানত কর্তন এবং ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগগুলো সত্য হলে, তা শুধু একটি সরকারি দপ্তরের প্রশাসনিক অনিয়মের প্রশ্ন নয়; বরং শিক্ষা অবকাঠামোর গুণগত মান, সরকারি অর্থের সুরক্ষা এবং সরকারি ক্রয়প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।    বিল ছাড়ে কমিশনের অভিযোগ: কাজ শেষ, তবু অপেক্ষা অনুসন্ধানের উপাদানে উঠে আসা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হলো কাজ সম্পন্ন করার পরও ঠিকাদারদের বিল আটকে রাখা এবং বিল ছাড়ের জন্য কমিশন দাবি করার অভিযোগ। ঠিকাদারদের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ, সংস্কার কিংবা সম্প্রসারণের কাজ শেষ করার পরও মাসের পর মাস তাঁদের দপ্তরে ঘুরতে হয়। কখনো বিলের একটি অংশ ছাড় করা হয়, আবার কখনো নতুন করে কাগজপত্র চাওয়া বা কাজের পরিমাপ নিয়ে আপত্তি তোলার কারণে ফাইল আটকে থাকে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ঠিকাদারের অভিযোগ, “এখানে কাজ করতে হলে দুইটা জিনিস লাগে—ধৈর্য আর টাকা। টাকা না দিলে ধৈর্যের পরীক্ষা নেওয়া হয়।” ঠিকাদারদের দাবি, বিলের পরিমাণ ও প্রকল্পের আকার অনুযায়ী কথিত কমিশনের অঙ্ক নির্ধারিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে ফাইলে সমস্যা থাকার কথা বলা হয়, পরে অতিরিক্ত কাগজপত্র চাওয়া হয় এবং শেষ পর্যন্ত মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অর্থের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। আরেকটি অভিযোগ হলো, নিরাপত্তা জামানত ফেরত পেতেও অতিরিক্ত অর্থ দিতে হয়। তবে এসব লেনদেনের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, অর্থ গ্রহণকারী ব্যক্তি এবং সংশ্লিষ্ট নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। ঠিকাদারদের বক্তব্য, বিল আটকে থাকায় তাঁদের ব্যাংকঋণের সুদ, শ্রমিকের মজুরি ও নির্মাণসামগ্রীর বকেয়া পরিশোধে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের সক্ষমতার ওপরও।   দরপত্রে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয় ঘিরে আরেকটি বড় অভিযোগ হলো দরপত্রের প্রতিযোগিতা প্রভাবিত করা। ঠিকাদারদের দাবি, নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিতে দরপত্রের শর্ত ও মূল্যায়নপ্রক্রিয়া প্রভাবিত করা হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী ঠিকাদারদের কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে বাদ দেওয়া এবং পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এক ঠিকাদারের ভাষায়, “আগেই ঠিক করে দেওয়া থাকে কে কাজ পাবে। দরপত্র শুধু আনুষ্ঠানিকতা। আমরা কাগজ জমা দিলেও পরে বলা হয়, টেকনিক্যাল সমস্যা আছে।” অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সিদ্ধান্তের ফলে প্রকৃত প্রতিযোগিতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারও ব্যাহত হতে পারে।    কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ২৯ লাখ টাকার প্রকল্প বরিশাল নগরীর ২০ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে দরপত্র নিয়ে বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ১৯ জুন প্রকল্পটির জন্য প্রথম দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। সে সময় কোহিনূর এন্টারপ্রাইজ কাজটি পায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি, মহানগর যুবলীগ নেতা ও ২০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল হক বিপ্লব এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জাহিদ কাজটি শুরু করেন। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটি পুনঃদরপত্রে যায় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। পরবর্তী দরপত্রে বিভিন্ন স্থান থেকে চারটি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয় এবং প্রত্যেকেই ১০ শতাংশ ছাড় দিয়ে দরপত্র জমা দেয় বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম পুনঃদরপত্রে অংশ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন, যেটি জিয়াউল হক বিপ্লবের ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করা হয়েছে। ঠিকাদারদের আরও অভিযোগ, দরপত্র প্রক্রিয়া ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা থাকলেও  এ ক্ষেত্রে নিয়ম মানা হয়নি। অভিযোগকারীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রভাবের মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের দাবি, দরপত্রের শর্ত, মূল্যায়নের ফলাফল এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিলম্বের কারণ প্রকাশ করা হলে প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।   প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্প: কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাবুগঞ্জ ও আগৈলঝাড়ায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ (টিএসসি) স্থাপন প্রকল্প ঘিরেও গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন ঠিকাদারদের একাংশ। তাঁদের দাবি, প্রায় ৩২ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ বসুন্ধরা হাউজিং (প্রা.) লিমিটেডের লাইসেন্স ব্যবহার করে নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম নিজেই নিয়ন্ত্রণ করেছেন। পরে প্রকল্পের কাজ ৭ শতাংশ কমিশনের বিনিময়ে অন্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রকল্পের কার্যাদেশ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকানা ও প্রতিনিধিত্ব, চুক্তির শর্ত, কাজের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান এবং অর্থ পরিশোধের নথি পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সরকারি কাজের চুক্তি অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়ে থাকলে সেটি অনুমোদিত সাবকন্ট্রাক্ট কি না, তা-ও যাচাই করতে হবে। ৩৫ লাখ টাকা ও কম্পিউটার অপারেটর রাশেদকে ঘিরে অভিযোগ টিএসসি প্রকল্পের কমিশন লেনদেন নিয়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান কার্যালয়ের প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বরিশালে আসার পর সার্কিট হাউসে ঠিকাদার প্রতিনিধিরা প্রকল্পের অগ্রিম কমিশন হিসেবে ৩৫ লাখ টাকা তাঁর দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের কাছে জমা দেন। ঠিকাদারদের অভিযোগ, টাকা গ্রহণের পর রাশেদকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে তাঁকে খুঁজতে নির্বাহী প্রকৌশলীর সরকারি গাড়িতে করে তাঁর স্ত্রী, সন্তান ও ভাইকে বরিশালে আনা হয় এবং গভীর রাত পর্যন্ত তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে রাশেদের স্ত্রীর আপত্তির মুখে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।অভিযোগটি সত্য হলে তা সরকারি প্রকল্পের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা ও দপ্তরের জবাবদিহি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলবে। এ কারণে ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি। ছয় থেকে আট ঠিকাদারের সিন্ডিকেটের অভিযোগ ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, নির্বাহী প্রকৌশলীর আশপাশে ছয় থেকে আটজন ঠিকাদারকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী বলয় তৈরি হয়েছে। প্রকল্পের বরাদ্দ, কার্যাদেশ, বিল ছাড় এবং জামানত ফেরতের মতো বিষয়ে এই বলয় বাড়তি সুবিধা পায় বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে কয়েকজন কর্মকর্তার নামও এসেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে বড় প্রকল্পের কাজ বণ্টন ও কমিশনভিত্তিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা। এ ছাড়া ঢাকায় দায়িত্ব পালন করা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সাবেক এক প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে শহিদুল ইসলামের ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁকে নিয়মিত বরিশালের ইলিশ পাঠানোর অভিযোগও ঠিকাদারি মহলে আলোচিত বলে দাবি করা হয়েছে।   ২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ: কী প্রতিকার চাওয়া হয়েছে? সচিবের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে ২৪ জন ঠিকাদার নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ, দুর্নীতি, ভুয়া বিল উত্তোলন, দরপত্রে অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগের প্রধান বিষয়গুলো হলো— কমিশন দাবি: নির্ধারিত হারে কমিশন না দিলে সম্পন্ন কাজের বিল অনুমোদন না করার অভিযোগ। জামানত ফেরতে হয়রানি: নিরাপত্তা জামানত ফেরত পেতে অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগ। ভুয়া অগ্রগতির নথি: মাঠপর্যায়ে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলেও কাগজে অগ্রগতি দেখিয়ে বিল ছাড়ের অভিযোগ। দরপত্রে প্রভাব বিস্তার: নির্দিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ। হুমকি ও অশালীন আচরণ: ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ। কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি: কর্মদিবসে দপ্তরের একাধিক প্রকৌশলীর অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ। সরকারি বিশ্রামাগারের ব্যবহার: দপ্তরের রেস্ট হাউস ব্যক্তিগত ও অনৈতিক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।  ঠিকাদারকে ফোনে হুমকির অভিযোগ, থানায় সাধারণ ডায়েরি নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ফারুক হোসেনকে ফোনে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর এ ঘটনা ঘটে। পরদিন ৩০ নভেম্বর বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়, যার নম্বর ২০৭৬ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ঠিকাদারদের আরও দাবি, প্রকাশ্যে অভিযোগ জানালে তাঁদের চলমান প্রকল্পের বিল আটকে দেওয়া হতে পারে কিংবা কাজের সাইটে নতুন করে ত্রুটি খোঁজা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় অনেকে পরিচয় গোপন রাখতে চান। ‘রাসেল’ ছদ্মনামে পরিচিত এক ঠিকাদারের দাবি, নির্ধারিত কমিশন না দিলে ফাইল স্বাক্ষর হয় না। ‘অয়ন’ ছদ্মনামে আরেক ঠিকাদার বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজের নিরপেক্ষ পরিদর্শন ও নথি যাচাই করা হলে ভুয়া বিলের অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। নির্মাণকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন দরপত্র ও বিলসংক্রান্ত অভিযোগের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনের উপাদানে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অর্ধসমাপ্ত ভবন, নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে অসন্তোষ এবং কাগজে কাজ শেষ দেখানো হলেও বাস্তবে কিছু অংশ অসম্পূর্ণ থাকার অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক অভিযোগ করেন, ভবনের ছাদ থেকে পানি পড়ে এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। অথচ নথিতে কাজ ঠিকঠাক সম্পন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। অভিভাবকদের উদ্বেগ, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তবে কোন বিদ্যালয়ের ভবনে কী ধরনের ত্রুটি পাওয়া গেছে, কাজের চুক্তিমূল্য কত, নির্মাণকাজের দায়িত্বে কোন প্রতিষ্ঠান ছিল এবং প্রকৌশলগত পরীক্ষায় কী ফল এসেছে—এসব তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। শিক্ষা অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করতে নির্মাণকাজের পরিমাপ, উপকরণের পরীক্ষার ফল, প্রকৌশলগত পরিদর্শন এবং ত্রুটি সংশোধনের নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত দায়িত্ব নিয়েও বিতর্ক শহিদুল ইসলামকে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শাখার সদস্য ছিলেন এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) শিক্ষাজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাড়ি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার ঢেপুয়ারপাড় জামুয়া গ্রামে এবং তাঁর পিতার নাম শেখ রুস্তুম আলী  ।  অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ঝালকাঠিতে দায়িত্ব পালনের সময় আমির হোসেন আমু এবং বরিশালে দায়িত্ব পালনকালে জাহিদ ফারুক শামীমের রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বর্তমানে কারাগারে থাকলেও শহিদুল ইসলাম বরিশাল ও বরগুনার দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। পিএসসির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার দাবি  শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রশ্নফাঁসসংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ডুয়েটে শিক্ষাজীবনের সময় তিনি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদকে ঘিরে আলোচিত প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তাঁর নিয়োগ এবং একই সময় নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন বন্ধুর নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ঘুষের বিনিময়ে এসব অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল।   পটুয়াখালীতেও অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে দাবি ঠিকাদারদের একাংশের দাবি, পটুয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালেও শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল।  মানববন্ধনে অপসারণ ও শাস্তির দাবি শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে অধিদপ্তরের ভবনের সামনে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা বলে প্রতিবেদনের উপাদানে উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, সীমাহীন দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। তাঁদের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের প্রতিবাদ দুর্বল করার চেষ্টা হয়েছে।  ভুক্তভোগীদের দাবি, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্বে বহাল রাখা তদন্তের স্বচ্ছতায় প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেটিও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। প্রধান প্রকৌশলীর আশ্বাস, তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন বরিশাল কার্যালয় ঘিরে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর বক্তব্য হিসেবে বলা হয়েছে, “দুর্নীতি-অনিয়ম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে অভিযোগকারীদের দাবি, আশ্বাসের পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের তথ্য তাঁরা পাননি। এ কারণে অভিযোগ তদন্তের অগ্রগতি, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে কি না এবং কোনো অডিট বা বিভাগীয় অনুসন্ধান চলছে কি না—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে। এ প্রতিবেদনের জন্য নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলামের বক্তব্য সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তাতে তিনি অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।  প্রকৌশলী শহীদুলের অনিয়মই নিয়মে পরিণত হয়েছে বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। দুর্নীতি-অনিয়ম কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বরিশাল শিক্ষা প্রোকৌশলী অধিদপ্তর। বিভিন্ন উপায়ে অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন, দরপত্র প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, প্রকৌশলীদের অনৈতিক সুবিধা আদায়সহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।অনুসন্ধানে জানা যায়, একাধিক ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে এই দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম কাজ পাইয়ে দেওয়া, বিল ও জামানতের চেক পরিশোধের ক্ষেত্রে গুনে গুনে বুঝে নেন কমিশন।  ২৬ কোটি টাকার কাজ দুইটি ৭% কমিশনে অন্য ঠিকাদারের কাছে বিক্রী করে দেন। অবশ্য তিনি বরিশালে যোগদানের পর থেকেই অতিরিক্ত ব্যয় প্রাক্কলন এবং বাছাই করা উন্নয়ন কাজগুলো নিজেই বিভিন্ন কৌশলে ভাগিয়ে নিয়ে ঠিকাদারদের কাছে বিক্রী করে আসছেন।     এখন প্রয়োজন নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ তদন্ত বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলোর গুরুত্ব বিবেচনায় কয়েকটি বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ঠিকাদার ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ। প্রথমত, নির্বাহী প্রকৌশলী ও অভিযোগে উল্লিখিত চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রায় ৩২ কোটি টাকার টিএসসি প্রকল্প এবং কলেজিয়েট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪ কোটি ২৯ লাখ ৩৪ হাজার টাকার প্রকল্পের দরপত্র, কার্যাদেশ ও বিলের নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, ২৪ ঠিকাদারের লিখিত অভিযোগ, নিরাপত্তা জামানত কর্তনের হার, বিল আটকে রাখার কারণ এবং কথিত কমিশন লেনদেনের বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্ত করা দরকার। চতুর্থত, ৩৫ লাখ টাকা হস্তান্তরের অভিযোগ, কম্পিউটার অপারেটর রাশেদের ভূমিকা এবং ঠিকাদার ফারুক হোসেনের জিডির তথ্য যাচাই করতে হবে। পঞ্চমত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোর নির্মাণমান পরীক্ষা করে ত্রুটি পাওয়া গেলে দায়ী ঠিকাদার ও তদারক কর্মকর্তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া  প্রয়োজন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণে বরাদ্দ দেওয়া সরকারি অর্থের প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বিলম্ব, নথি গোপন রাখা কিংবা তদন্তের ফল প্রকাশ না করা হলে দপ্তরের ওপর আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে। মূল প্রশ্ন এখন একটাই: বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে কি, নাকি ২৪ ঠিকাদারের অভিযোগ, দরপত্র বিতর্ক ও কমিশন বাণিজ্যের দাবিগুলোও প্রশাসনিক ফাইলের ভেতরেই আটকে থাকবে? অনুসন্ধান প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে  বরিশাল শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অনিয়ম,দুর্নীতি, এবং নতুন অভিযোগ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ১৫, ২০২৬ 0
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি বরিশাল বিভাগ বরিশাল
বরিশাল এলজিইডির নিয়ন্ত্রক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা রহমত-ই-খুদা!

বরিশাল অফিস :   স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বরিশাল বিভাগ, অঞ্চল এবং জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদার নাম। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি বদলি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি করেছেন।   দুই দশকের বেশি সময় বরিশালে অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, যশোর জেলার বাসিন্দা মোঃ রহমত-ই-খুদা বর্তমানে এলজিইডি বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল জেলায় প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে বরিশাল অঞ্চলের এলজিইডি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় একই অঞ্চলে কর্মরত থাকার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ঠিকাদার মহলের সঙ্গে তার বিস্তৃত যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তীতে তার প্রভাব বিস্তারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বরিশালের প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রহমত-ই-খুদা। বিশেষ করে তৎকালীন বরিশাল অঞ্চলের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বলয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল । অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বরিশালের মাহফুজ খান, কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ, ভোলার পিটার এবং পটুয়াখালীর মহিউদ্দিনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে অংশীদারিত্বের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।   বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নিজেকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর  সংগঠনটির ১০১ সদস্যের কমিটিতে তার সদস্য নম্বর ৫৭ বলে জানা গেছে। কমিটির অনুমোদনপত্রে সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামানের স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সাংগঠনিক পরিচয়ের পর থেকেই তিনি বরিশাল অঞ্চলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। বদলি ও পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ। একাধিক সূত্রের দাবি, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি, পদায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো বদলির আদেশ জারি হলে তা পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য তিনি প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করতেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও এমন অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসন শাখার কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সিনিয়রদের উপেক্ষা করে দায়িত্ব? আরও একটি অভিযোগ ঘুরে ফিরে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বরিশাল অঞ্চলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ শূন্য হলে একাধিকবার রহমত-ই-খুদা ওই দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একই কার্যালয়ে তার চেয়ে সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি ওই দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক প্রভাবের কারণেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রশ্ন সরকারি চাকরি ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট সময় পর কর্মকর্তাদের বদলির বিধান থাকলেও বরিশাল অঞ্চলে অনেক কর্মকর্তা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের কারণে বদলির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বদলিসংক্রান্ত কোনো আদেশ জারি হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর আদেশ পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বিতর্ক স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের দাবি, রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ভেতরে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা মোঃ রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।   সুশাসনের প্রশ্ন? প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি, পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে রহমত-ই-খুদার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে শুধু একজন কর্মকর্তার ভূমিকা নয়, বরিশাল অঞ্চলের এলজিইডির প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতাও মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0