Brand logo light
অনুসন্ধানী সংবাদ

এলজিইডি বরিশালে প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ: আলোচনার কেন্দ্রে রহমত-ই-খুদা

বরিশাল এলজিইডির নিয়ন্ত্রক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা রহমত-ই-খুদা!

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি বরিশাল বিভাগ বরিশাল
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি বরিশাল বিভাগ বরিশাল

বরিশাল অফিস :   স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বরিশাল বিভাগ, অঞ্চল এবং জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদার নাম। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি বদলি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি করেছেন।

 

দুই দশকের বেশি সময় বরিশালে

অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, যশোর জেলার বাসিন্দা মোঃ রহমত-ই-খুদা বর্তমানে এলজিইডি বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল জেলায় প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে বরিশাল অঞ্চলের এলজিইডি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় একই অঞ্চলে কর্মরত থাকার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ঠিকাদার মহলের সঙ্গে তার বিস্তৃত যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তীতে তার প্রভাব বিস্তারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বরিশালের প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রহমত-ই-খুদা।

বিশেষ করে তৎকালীন বরিশাল অঞ্চলের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বলয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল ।

অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বরিশালের মাহফুজ খান, কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ, ভোলার পিটার এবং পটুয়াখালীর মহিউদ্দিনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে অংশীদারিত্বের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।

 

বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার?

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নিজেকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

২০২৩ সালের ২ নভেম্বর  সংগঠনটির ১০১ সদস্যের কমিটিতে তার সদস্য নম্বর ৫৭ বলে জানা গেছে। কমিটির অনুমোদনপত্রে সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামানের স্বাক্ষর রয়েছে।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সাংগঠনিক পরিচয়ের পর থেকেই তিনি বরিশাল অঞ্চলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন।

বদলি ও পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ।

একাধিক সূত্রের দাবি, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি, পদায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, কোনো বদলির আদেশ জারি হলে তা পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য তিনি প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করতেন।

এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও এমন অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসন শাখার কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিনিয়রদের উপেক্ষা করে দায়িত্ব?

আরও একটি অভিযোগ ঘুরে ফিরে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বরিশাল অঞ্চলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ শূন্য হলে একাধিকবার রহমত-ই-খুদা ওই দায়িত্ব পালন করেন।

অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একই কার্যালয়ে তার চেয়ে সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি ওই দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

তাদের মতে, প্রশাসনিক প্রভাবের কারণেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রশ্ন

সরকারি চাকরি ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট সময় পর কর্মকর্তাদের বদলির বিধান থাকলেও বরিশাল অঞ্চলে অনেক কর্মকর্তা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের কারণে বদলির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বদলিসংক্রান্ত কোনো আদেশ জারি হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর আদেশ পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বিতর্ক

স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন।

তাদের দাবি, রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ভেতরে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে।

স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা মোঃ রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।

 

সুশাসনের প্রশ্ন?

প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি, পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

এ কারণে রহমত-ই-খুদার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে শুধু একজন কর্মকর্তার ভূমিকা নয়, বরিশাল অঞ্চলের এলজিইডির প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতাও মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

অনুসন্ধানী সংবাদ

View more
অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় এলজিইডি বরিশাল বিভাগ বরিশাল
বরিশাল এলজিইডির নিয়ন্ত্রক বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা রহমত-ই-খুদা!

বরিশাল অফিস :   স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর বরিশাল বিভাগ, অঞ্চল এবং জেলা কার্যালয়ের বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদার নাম। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন একই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন এবং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে কাজে লাগিয়ে তিনি বদলি, পদায়ন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব খাটানোর সুযোগ তৈরি করেছেন।   দুই দশকের বেশি সময় বরিশালে অভিযোগপত্র ও সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, যশোর জেলার বাসিন্দা মোঃ রহমত-ই-খুদা বর্তমানে এলজিইডি বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি বরিশাল জেলায় প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে বরিশাল অঞ্চলের এলজিইডি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, দীর্ঘ সময় একই অঞ্চলে কর্মরত থাকার ফলে স্থানীয় রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও ঠিকাদার মহলের সঙ্গে তার বিস্তৃত যোগাযোগ তৈরি হয়েছে, যা পরবর্তীতে তার প্রভাব বিস্তারের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বরিশালের প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন রহমত-ই-খুদা। বিশেষ করে তৎকালীন বরিশাল অঞ্চলের আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর নেতৃত্বাধীন বলয়ের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা ছিল । অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগপন্থী কয়েকজন ঠিকাদারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বরিশালের মাহফুজ খান, কোহিনুর এন্টারপ্রাইজ, ভোলার পিটার এবং পটুয়াখালীর মহিউদ্দিনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রকল্পে অংশীদারিত্বের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।   বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার? সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নিজেকে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে তিনি বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর  সংগঠনটির ১০১ সদস্যের কমিটিতে তার সদস্য নম্বর ৫৭ বলে জানা গেছে। কমিটির অনুমোদনপত্রে সংগঠনের সভাপতি প্রফেসর ড. প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ নুরুজ্জামানের স্বাক্ষর রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, এই সাংগঠনিক পরিচয়ের পর থেকেই তিনি বরিশাল অঞ্চলের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। বদলি ও পদায়নে প্রভাবের অভিযোগ সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ। একাধিক সূত্রের দাবি, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের নির্বাহী প্রকৌশলীদের বদলি, পদায়ন এবং দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতেন। অভিযোগ রয়েছে, কোনো বদলির আদেশ জারি হলে তা পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য তিনি প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করতেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও এমন অভিযোগের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসন শাখার কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। সিনিয়রদের উপেক্ষা করে দায়িত্ব? আরও একটি অভিযোগ ঘুরে ফিরে এসেছে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, বরিশাল অঞ্চলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ শূন্য হলে একাধিকবার রহমত-ই-খুদা ওই দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একই কার্যালয়ে তার চেয়ে সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তিনি ওই দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাদের মতে, প্রশাসনিক প্রভাবের কারণেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রশ্ন সরকারি চাকরি ব্যবস্থাপনায় নির্দিষ্ট সময় পর কর্মকর্তাদের বদলির বিধান থাকলেও বরিশাল অঞ্চলে অনেক কর্মকর্তা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনিক প্রভাব ও অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের কারণে বদলির স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বদলিসংক্রান্ত কোনো আদেশ জারি হলে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রহমত-ই-খুদা প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর আদেশ পরিবর্তন বা বাতিলের জন্য বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করেন। এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের প্রশাসন শাখার একটি সূত্রও বিষয়টির ইঙ্গিত দিয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নতুন বিতর্ক স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন পর্যবেক্ষকের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও পূর্ববর্তী রাজনৈতিক বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের দাবি, রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো কেবল একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের ভেতরে গড়ে ওঠা প্রভাবশালী নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু ব্যক্তি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে সক্রিয় রয়েছেন। তাদের মতে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা মোঃ রহমত-ই-খুদাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো সেই বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে।   সুশাসনের প্রশ্ন? প্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে বদলি, পদায়ন ও দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা না গেলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে রহমত-ই-খুদার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো যদি আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে শুধু একজন কর্মকর্তার ভূমিকা নয়, বরিশাল অঞ্চলের এলজিইডির প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতাও মূল্যায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. সরোয়ার হোসেন

এনবিআর কর্মকর্তা সরোয়ার হোসেনকে ঘিরে অবৈধ সম্পদ, ঘুষ ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ

বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (রহ.)–এর মাজার সংলগ্ন দিঘিতে থাকা একমাত্র কুমির

খানজাহান আলীর মাজারের শেষ কুমির সরানো হলো কেন? শিশুমৃত্যু, অব্যবস্থাপনা ও হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যের অনুসন্ধান

এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলাম

৫৩ ফ্ল্যাট থেকে শতকোটি টাকার জমি: এনবিআরের কর্মকর্তা সহিদুল ইসলামের সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন

খুরশীদ আলম
ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ খুরশীদ আলম: পুরনো অভিযোগ, নতুন দায়িত্ব

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে এম খুরশীদ আলমের নিয়োগ ব্যাংকিং খাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জোবায়দুর রহমান-এর পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। নিয়োগের পরপরই ব্যাংকটির একাংশ গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ দেখা দেয়। ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের উদ্যোগে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘিরে রাজধানীর মতিঝিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, অতীতে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকা একজন কর্মকর্তাকে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকের নেতৃত্বে বসানো হয়েছে। যে অভিযোগগুলো ঘুরে ফিরে আসছে ব্যাংকিং খাতের একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০১৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্রয় ও সংস্কার কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদন এবং বাণিজ্যিক অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় অভিযোগ ওঠে যে, বিভিন্ন উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্পকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে দরপত্র প্রক্রিয়া এড়িয়ে ব্যয় দেখানো হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট তদন্তে অন্তত ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়। তদন্তে আরও উঠে আসে, প্রায় ১ কোটি ২৯ লাখ টাকার বিভিন্ন কাজের মধ্যে নির্মাণ ও আসবাবপত্র ক্রয়ে বড় ধরনের আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, প্রকৃত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। তদন্তের পরও পদোন্নতি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ দুটি পৃথক তদন্তে অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর খুরশীদ আলমকে একসময় বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। তবে পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তিনি পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে আসীন হন। সমালোচকদের অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতাকেন্দ্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণেই তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ডেপুটি গভর্নর হিসেবে বিতর্ক ২০২৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে খুরশীদ আলমকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সময় দেশের ব্যাংকিং খাত নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা, খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর ঋণসংক্রান্ত বিতর্ক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সমালোচকদের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে তিনি এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন। বিশেষ করে S Alam Group-কে ঘিরে আলোচিত ঋণ কেলেঙ্কারি ও ব্যাংকিং অনিয়মের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে।   ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতি ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরে শুরু হওয়া আন্দোলনের মুখে কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন। আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের একাংশ তাদের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী শাসনের সহযোগী এবং দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তুলেছিলেন। খুরশীদ আলমও সেই পদত্যাগকারী কর্মকর্তাদের অন্যতম ছিলেন। বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির কিছু গ্রাহক ও সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা প্রকাশ করছে যে, অতীতের অভিযোগগুলো ব্যাংকের ভাবমূর্তি ও গ্রাহক আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিক্রিয়া মেলেনি প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এম খুরশীদ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান-এর সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশ্ন রয়ে গেছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত দীর্ঘদিন ধরে সুশাসন, জবাবদিহিতা ও আস্থার সংকটে ভুগছে। এমন বাস্তবতায় অতীতে অনিয়মের অভিযোগে আলোচিত কোনো কর্মকর্তাকে দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের নেতৃত্বে বসানো কতটা যৌক্তিক—সে প্রশ্ন এখন ব্যাংকপাড়া ছাড়িয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয়ে থাকে, তাহলে সেগুলোর স্বচ্ছ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে জনমনে তৈরি হওয়া সংশয় দূর করাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব বলে মনে করছেন ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকরা।   খুরশীদ আলম ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় সরকার। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর তিনিসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন চার কর্মকর্তা পদত্যাগে বাধ্য হন।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
বরিশাল এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ নুরুল ইসলাম

সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ বরিশাল এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে

ডিএসসিসিতে ২২ বছর ‘অবৈধ’ দায়িত্বে সিরাজুল ইসলাম

ডিএসসিসিতে ২২ বছর ‘অবৈধ’ দায়িত্বে সিরাজুল ইসলাম, তদন্তে মিলল নিয়োগ জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সচিব মো. শাহ্‌রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী

ইআরডি সচিব শাহ্‌রিয়ার কাদেরের বিরুদ্ধে পদোন্নতি কারসাজির অভিযোগ: ২০১৭ সালের সেই ‘কচুকাট’ বিতর্ক ফের আলোচনায়

বিপিসির সাবেক পিএস আহম্মদুল্লাহর শত কোটি টাকার সম্পদ, বদলি-বাণিজ্য ও নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা মো. আহম্মদুল্লাহকে চলতি মাসের ১৩ তারিখে বদলি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসে কর্মরত। তবে তার বদলিকে ঘিরে নতুন করে সামনে এসেছে বিপিসিজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার এবং দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, মাত্র সাত বছরের চাকরি জীবনে মো. আহম্মদুল্লাহ এবং তার পরিবারের সদস্যরা শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিপিসি বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন করেনি। কেবল বদলির আদেশ দিয়েই বিষয়টি থামিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বিতর্কিত নিয়োগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও ক্ষমতার উত্থান ২০১৯ সালে বিপিসিতে উপ-ব্যবস্থাপক পদে যোগ দেন মো. আহম্মদুল্লাহ। তবে তার নিয়োগ নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বিপিসির তৎকালীন চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমানের ব্যক্তিগত আশীর্বাদেই তিনি চাকরি পান। আহম্মদুল্লাহ একসময় সামছুর রহমানের মেয়ের গৃহশিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক যোগাযোগও তাকে এগিয়ে দেয়। ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলার দিবাকরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও তিনি চাকরিতে যোগ দেন ঢাকা জেলার কোটা ব্যবহার করে। অভিযোগ রয়েছে, এ জন্য তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় পরিচয়পত্রও ব্যবহার করেন। একটি প্রত্যয়নপত্রে তাকে ঝালকাঠির নথুল্লাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়। সেখানে তার পরিবারের সদস্যদেরও আওয়ামী লীগের আদর্শে বিশ্বাসী বলা হয়। অভিযোগকারীরা বলছেন, রাজনৈতিক পরিচয় এবং ক্ষমতাসীন মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়েই বিপিসিতে দ্রুত প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন আহম্মদুল্লাহ। নিয়ম ভেঙে পিএস পদে বহাল বিপিসির চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব পদটি সহকারী ব্যবস্থাপক (৯ম গ্রেড) সমমানের হলেও, উপ-ব্যবস্থাপক (৬ষ্ঠ গ্রেড) পদে থেকেও দীর্ঘদিন ওই দায়িত্ব পালন করেছেন আহম্মদুল্লাহ। এমনকি বদলির আগের দিন পর্যন্তও তিনি একই পদে বহাল ছিলেন। ২০২১ সালের ৩ অক্টোবর তাকে চেয়ারম্যানের পিএস পদ থেকে সরিয়ে চট্টগ্রাম কার্যালয়ের হিসাব বিভাগে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, মাত্র একদিনের ব্যবধানে সেই আদেশ বাতিল করিয়ে তিনি পুনরায় আগের পদে ফিরে আসেন। বিপিসির নীতিমালা অনুযায়ী তিন বছর পরপর বদলির বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি সাত বছরের বেশি সময় একই পদে দায়িত্ব পালন করেন। সম্পদের পাহাড় ও কেরানীগঞ্জের ‘রহস্যময়’ প্লট মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ অবৈধ সম্পদ অর্জন। তার স্ত্রী নুসরাত জেবিন সিনথীর নামে ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বসুন্ধরা রিভারভিউ প্রকল্পে সাড়ে তিন কাঠার একটি প্লট কেনার তথ্য মিলেছে। ২০২১ সালের ১১ নভেম্বর সম্পাদিত একটি সাফ কবলা দলিল অনুযায়ী, প্লটটি বিক্রি করেন চট্টগ্রামভিত্তিক বাশার গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক আবুল বশর আবু। দলিলে জমির মূল্য দেখানো হয় ৩০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই প্লটে ইতোমধ্যে আটতলা ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ভবনে ঝুলানো সাইনবোর্ডে এখনো লেখা রয়েছে—“বাশার গ্রুপ অব কোম্পানি, আলহাজ আবুল বশর (আবু)”। এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—সরকারি নথিতে মালিকানা নুসরাত জেবিন সিনথীর হলেও বাস্তবে ভবনটির নিয়ন্ত্রণ কার হাতে? স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ওই এলাকায় প্রতি কাঠা জমির বাজারমূল্য ৪২ থেকে ৪৭ লাখ টাকা। সে হিসেবে শুধু জমির বর্তমান মূল্যই দেড় কোটি টাকার বেশি। টেন্ডার, বদলি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ বিপিসির বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আহম্মদুল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে বিপিসির টেন্ডার, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে তিনি বিভিন্ন কোম্পানি ও ডিপো থেকে অর্থ আদায় করতেন। বিপিসির ঢাকা রেস্ট হাউসে ভুয়া বিল তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীকে বিটুমিন, ক্রুড অয়েল ও ডিজেল আমদানির অনুমোদন পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এছাড়া বিপিসির অধীন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তাদের কাছ থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, বদলির ভয় দেখিয়ে ডিপো ইনচার্জদের কাছ থেকেও অর্থ আদায় করা হতো। ব্যাংক হিসাব ও এফডিআর ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, বিপিসির এফডিআর ও এসএনডি হিসাব পরিচালনায়ও প্রভাব খাটিয়েছেন আহম্মদুল্লাহ। তার পছন্দের ব্যাংকগুলোতে বিপিসির বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা রাখা হতো বলে অভিযোগ। এমনকি এস আলম গ্রুপ সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোতেও বিপিসির হাজার হাজার কোটি টাকা জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, এসব হিসাবের মধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা এখনো উদ্ধার করা যায়নি। ব্যাংকিং সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আত্মীয়-স্বজনদের চাকরি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ‘নিজস্ব বলয়’ গঠনের অভিযোগ বিপিসির বিভিন্ন সূত্র দাবি করেছে, আহম্মদুল্লাহ নিজের জেলা বরিশালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন করতেন। চেয়ারম্যান, পরিচালক ও রেস্ট হাউস সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে তার ঘনিষ্ঠদের বসানোর অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের বিপিসির বিভিন্ন ডিপো ও অফিসে চাকরি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তার ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত উপ-ব্যবস্থাপক (ডিএলও) মো. আশিক শাহরিয়ারকেও নিয়োগ ও পদোন্নতিতে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, আশিক শাহরিয়ারকে ব্যবহার করে বিভিন্ন ডিপো ও পার্টির কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হতো। দুদকের অনুসন্ধান ও সম্পদ বিবরণী অভিযোগ রয়েছে, মো. আহম্মদুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একাধিক অভিযোগ জমা পড়ে। যদিও সেই অনুসন্ধানের অগ্রগতি প্রকাশ্যে আসেনি। তবে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি তিনি দুদকে সম্পদের হিসাব বিবরণী জমা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে মো. আহম্মদুল্লাহর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে বিপিসির একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব, ভয়ভীতি এবং রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে তার বিরুদ্ধে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি। এখন প্রশ্ন উঠেছে—শুধু বদলি করেই কি শেষ হবে অভিযোগের পর্ব, নাকি রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তে নামবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0
আওয়ামী দোসর খ্যাত শিপলু কর্মকার

ঝালকাঠি এলজিইডির শতকোটি টাকার টেন্ডার বিতর্কে আওয়ামী দোসর খ্যাত শিপলু কর্মকার : কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

জুলিয়া রহমান-আনিকা রহমান - রিফাত

এ্যাংকর সিমেন্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ : তদন্তে দুদক ও ভ্যাট গোয়েন্দা

দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ির রেণুপোনা পাচার: টুলু সিন্ডিকেট

দক্ষিণাঞ্চলে চিংড়ির রেণুপোনা পাচার: টুলু সিন্ডিকেট, কোটি টাকার এই অবৈধ বাণিজ্যের নেপথ্যে যারা

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0