Brand logo light

যুক্তরাষ্ট্র

উদ্ধার মার্কিন কর্নেল
ইরানের দুর্গম পাহাড়ে দুই দিন লুকিয়ে থাকার পর নাটকীয় অভিযানে উদ্ধার মার্কিন কর্নেল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে টানা দুই দিন লুকিয়ে থাকার পর অবশেষে এক মার্কিন কর্নেলকে উদ্ধার করা হয়েছে—যা আধুনিক সামরিক অভিযানের এক নাটকীয় উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুক্রবার ইরানের আকাশে টহলরত একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ভূমি থেকে ছোড়া প্রজেক্টাইলের আঘাতে ভূপাতিত হয়। জরুরি পরিস্থিতিতে দুই পাইলট ইজেকশন সিট ব্যবহার করে বেরিয়ে আসেন। তাঁদের একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা গেলেও অপরজন, কর্নেল পদমর্যাদার পাইলট, নিখোঁজ হয়ে যান। সামরিক সূত্রের ধারণা, ইজেকশনের সময় বা অবতরণের সময় তিনি আহত হন। তিনি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের শুষ্ক ও পাথুরে পাহাড়ি এলাকায় অবতরণ করেন, যেখানে টিকে থাকাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মার্কিন সামরিক প্রশিক্ষণ অনুযায়ী, শত্রু এলাকায় অবতরণের পর গোপনে অবস্থান নেওয়াই প্রধান কৌশল। কর্নেলও তাই করেন। দিনের বেলায় স্থির থেকে তাপচিত্র ও নজরদারি ড্রোন এড়িয়ে যান এবং পাথর, ঝোপঝাড় ও প্রাকৃতিক খাদ ব্যবহার করে নিজেকে আড়ালে রাখেন। তার সঙ্গে ছিল কেবল একটি পিস্তল ও একটি ফ্লেয়ার। সরাসরি সংঘর্ষ এড়িয়ে তিনি অবস্থান গোপন রাখেন এবং সীমিতভাবে স্থান পরিবর্তন করেন, যাতে সহজে শনাক্ত না হন। এদিকে, ইরান সরকার স্থানীয়দের সহায়তায় ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে। পুরস্কার ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষও অনুসন্ধানে অংশ নেয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। উদ্ধার অভিযানে পরে নাটকীয় মোড় আসে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা কর্নেলের অবস্থান শনাক্ত করে এবং বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে প্রতিপক্ষের মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে দেয়। সেই সুযোগে বিশেষ বাহিনী উদ্ধার অভিযানে নামে। প্রায় সাত হাজার ফুট উচ্চতার একটি রিজলাইনে গিয়ে কর্নেল উদ্ধারকারী দলের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। তখন চারপাশে গোলাগুলি ও বিমান হামলার শব্দে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। অভিযানে অংশ নেয় শতাধিক বিশেষ বাহিনীর সদস্য। সহায়তায় ছিল পরিবহন বিমান, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান। উদ্ধার শেষে ব্যবহৃত দুটি পরিবহন বিমান শত্রুর হাতে পড়ার আশঙ্কায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত কর্নেলকে নিরাপদে কুয়েতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই পুরো ঘটনাকে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে বেঁচে থাকার কৌশল, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং সমন্বিত সামরিক অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলি জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলা
হরমুজ থেকে হোয়াইট হাউস—এক বিস্তৃত সংঘাতের অদৃশ্য রেখাচিত্র

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ—হরমুজ প্রণালি—এ ইসরায়েল-সংযুক্ত একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার দাবি করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। এই ঘটনার পরই আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত বহুগুণে বেড়ে গেছে, যার প্রভাব এখন শুধু সমুদ্রেই সীমাবদ্ধ নেই—পৌঁছে গেছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার কেন্দ্রেও। হরমুজে হামলা: কৌশলগত বার্তা না সরাসরি যুদ্ধঘোষণা? ইরানের দাবি অনুযায়ী, “জায়নবাদী শাসনের সঙ্গে যুক্ত” একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক শিপিং ডাটাবেজ অনুযায়ী, “MSC Ishika” নামের জাহাজটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী হলেও এর মালিকানা ইসরায়েলি স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। এই হামলার গুরুত্ব তিনটি কারণে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: অবস্থানগত ঝুঁকি: হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে প্রতিদিন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল পরিবাহিত হয়। এখানে যেকোনো সামরিক ঘটনা বৈশ্বিক বাজারে ধাক্কা দিতে পারে। টার্গেট নির্বাচন: সরাসরি ইসরায়েলি মালিকানাধীন সম্পদকে আঘাত করা মানে প্রক্সি যুদ্ধ থেকে সরাসরি সংঘাতে যাওয়ার ইঙ্গিত। ড্রোন প্রযুক্তি: কম খরচে উচ্চ কার্যকারিতা—ইরানের ড্রোন কৌশল এখন একটি বড় সামরিক সমীকরণ। আকাশে সংঘর্ষ: তথ্যযুদ্ধ নাকি বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি? ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা মার্কিন একাধিক যুদ্ধযানে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে F-15 Eagle, A-10 Thunderbolt II, এবং UH-60 Black Hawk। তবে এই দাবিগুলোর স্বতন্ত্র যাচাই এখনো হয়নি। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন: এটি মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ হতে পারে অথবা আংশিক সত্যকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করা হচ্ছে একইসঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বিমান দুর্ঘটনার ঘটনাও এই বর্ণনার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে ওয়াশিংটনে অস্থিরতা: সামরিক বনাম বেসামরিক ক্ষমতা এই সংঘাতের সবচেয়ে নাটকীয় দিকটি ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বৃহৎ স্থল অভিযানের নির্দেশ দিলেও, একাধিক জ্যেষ্ঠ জেনারেল তা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এর পরিণতিতে: জয়েন্ট চিফস অব স্টাফসহ ১২ জন শীর্ষ কর্মকর্তা বরখাস্ত হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের মধ্যে প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব মার্কিন ইতিহাসে বিরল সাংবিধানিক সংকট  মূল প্রশ্ন: এই অস্বীকৃতি কি— আইন রক্ষার চেষ্টা? (অবৈধ আদেশ মানতে অস্বীকৃতি) নাকি বেসামরিক নিয়ন্ত্রণের প্রতি অবাধ্যতা?  সামরিক ক্ষয়ক্ষতি: বাস্তবতা বনাম বর্ণনা বিভিন্ন ঘটনায় মার্কিন সামরিক ক্ষয়ক্ষতির যে চিত্র উঠে এসেছে: একাধিক যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত (যেমন KC-135 Stratotanker) কুয়েত ও সৌদি আরবের ঘাঁটিতে হামলা E-3 Sentry ধ্বংসের দাবি F-35 Lightning II ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা তবে এগুলোর অনেকগুলোরই স্বাধীন যাচাই সীমিত—যা তথ্যযুদ্ধের জটিলতা বাড়াচ্ছে। বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: বিশ্ব কি নতুন যুদ্ধে প্রবেশ করছে? এই সংকটের প্রভাব বহুমাত্রিক: ১. জ্বালানি বাজার হরমুজে অস্থিরতা মানেই তেলের দাম অস্থির হওয়া ২. আঞ্চলিক জোট ইরান বনাম যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ব্লক আরও দৃঢ় হচ্ছে ৩. সামরিক নীতির পরিবর্তন ড্রোন, সাইবার ও অসম যুদ্ধ কৌশল প্রধান হয়ে উঠছে ৪. যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি সামরিক নেতৃত্বে রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা সংঘাতের দিক কোনদিকে? বর্তমান পরিস্থিতি তিনটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: নিয়ন্ত্রিত উত্তেজনা – সীমিত হামলা ও পাল্টা হামলা পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ – বহু দেশ জড়িয়ে পড়বে কূটনৈতিক হস্তক্ষেপ – আন্তর্জাতিক চাপের ফলে উত্তেজনা হ্রাস তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই সংকট এখন আর শুধু ইরান-ইসরায়েল বা ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ধীরে ধীরে একটি গ্লোবাল নিরাপত্তা সংকটে রূপ নিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের উপ-প্রতিনিধিকে বহিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের
গোপনে ইরানের উপ-প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, নিরাপত্তা উদ্বেগের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    যুক্তরাষ্ট্র গোপনে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের এক উপ-প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে গত ডিসেম্বরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওজের বরাতে তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনি শাফাক শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বহিষ্কৃত ওই কূটনীতিক সাদাত আগাজানি, যিনি জাতিসংঘে ইরানের ডেপুটি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ডিসেম্বরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘সেকশন ১৩’ নামে একটি বিশেষ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। সাধারণত কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে বহিষ্কার করা হলেও, এই পদ্ধতিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগাজানির সন্তানদেরও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় আরও অন্তত দুইজন ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কূটনীতিকদের চলাচল ম্যানহাটনের কেন্দ্র থেকে ২৫ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে অন্তত একজন এই নিয়ম লঙ্ঘন করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে কর্মরত কিছু ইরানি কর্মকর্তার বিষয়ে একটি ‘নোট ভার্বাল’ জারি করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ওই ঘটনাগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ট্রাম্প
ট্রাম্প তোয়াক্কা করছেন না আন্তর্জাতিক কোনো নিয়ম-নীতি

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা ও কৌশল নিয়ে। বিশ্লেষকদের একাংশ এই যুদ্ধকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্বেচ্ছায় চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত’ হিসেবে দেখছেন, যার আইনি ভিত্তি নিয়ে রয়েছে গুরুতর প্রশ্ন। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের ওপর আসন্ন হামলার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে এই সামরিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে কতটা বৈধ—তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বিবিসির আন্তর্জাতিক সম্পাদক জেরেমি বোয়েন তার বিশ্লেষণে ট্রাম্পের অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য—বিশেষ করে ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে দেওয়ার হুমকি—আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও যুদ্ধনীতির দৃষ্টিতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক, এমনকি তা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং হুমকির মাত্রা অনুযায়ী শক্তি প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ট্রাম্পের বক্তব্য ও পদক্ষেপে এই নীতিগুলোর প্রতিফলন খুব কমই দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিশ্লেষকরা। তেহরান ও কারাজ সংযোগকারী একটি সেতুতে মার্কিন হামলার ঘটনাটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সামগ্রিকভাবে ট্রাম্পের নীতিতে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম-নীতির প্রতি অনীহা স্পষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের মতে, তার কৌশল ‘জোর যার মুল্লুক তার’—এই দর্শনের প্রতিফলন। সম্প্রতি দেওয়া ট্রাম্পের ১৯ মিনিটের ভাষণেও তার অবস্থানের দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। বোয়েনের ভাষায়, এটি ‘কৌশলগত অনিশ্চয়তা’র একটি উদাহরণ—যেখানে একদিকে তিনি পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন, অন্যদিকে কার্যকর কোনো সমঝোতার দিকেও এগোতে পারছেন না। বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, যদি যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী মোতায়েন করে, তবে তা উল্টো ইরানের জন্য কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে। কারণ, ইরান দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতে প্রতিপক্ষকে জড়িয়ে ফেলতে আগ্রহী—যেখানে সময়ই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান শক্তি। রাজনৈতিক ও সামরিক বাস্তবতায় দেখা গেছে, তুলনামূলক দুর্বল দেশও ‘অসম যুদ্ধে’ শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে দীর্ঘ সময় ধরে চাপে রাখতে সক্ষম। এ ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালী ইরানের হাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আকস্মিক ইরানে বিমান হামলা শুরু করে এবং তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ অনেক শীর্ষ নেতাকে হত্যা করে। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত আগ্রাসনবাদী বাহিনী এক হাজার ৪০০ জনের মতো ইরানিকে হত্যা করেছে। ওই উসকানিমূলক হামলার জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে ইরান। একইসঙ্গে তারা বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ ‍রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এই হরমুজ প্রণালী ইরানের কব্জায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে বেকায়দায় পড়েছে। তাদের ওপর আরব ও ইউরোপীয় অঞ্চলের মিত্রদের চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র বলপ্রয়োগের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালী উদ্ধার করতে ইউরোপীয়দের যুদ্ধে ডাকলেও সাড়া পাচ্ছে না। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশগুলোর নেতারা বলছেন, এই যুদ্ধ তাদের নয়। এমনকি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ মার্কিন প্রেসিডেন্টকে কম কথা বলারও পরামর্শ দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে শুক্রবার ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আরও কিছুটা সময় পেলে আমরা খুব সহজেই হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করতে পারি। (সেখানকার) তেল দখল করে আমরা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারি। এটি কি বিশ্বের জন্য একটি তেলের খনি হবে না?’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ইরানের ‘হিট লিস্টে’ ৮ সেতু!
ইরানের কারাজে গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে হামলা, নিহত ৮: প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি তেহরানের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের কারাজ শহরে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বহুল আলোচিত সেতু ধ্বংস হয়েছে। এতে কমপক্ষে আটজন নিহত ও ৯৫ জন আহত হয়েছে। হামলার পরপরই কঠোর প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। পাশাপাশি উপসাগরীয় দেশ ও জর্ডানের আটটি প্রধান সেতুর একটি হিট লিস্ট প্রকাশ করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দেশটির সর্বোচ্চ বি১ সেতুতে দুই দফায় এই হামলা চালানো হয়। ১৩৬ মিটার উঁচু নির্মাণাধীন এ সেতুটি তেহরানকে পশ্চিমের শহর কারাজের সঙ্গে সংযুক্ত করছে। হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও পোস্ট করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানের সবচেয়ে বড় সেতুটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বেশি দেরি হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে রাজি হওয়া উচিত তেহরানের। প্রকাশিত হিট লিস্টে উল্লেখিত সেতুগুলো হলো-কুয়েতের শেখ জাবের আল-আহমাদ আল-সাবাহ সমুদ্র সেতু, সংযুক্ত আরব আমিরাতের শেখ জায়েদ সেতু, আল মাকতা সেতু ও শেখ খলিফা সেতু, সৌদি আরব-বাহরাইন সংযোগকারী কিং ফাহদ কজওয়ে সেতু, জর্ডানের কিং হুসেন ব্রিজ, দামিয়া ব্রিজ ও আবদুন ব্রিজ। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, নির্মাণাধীন বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলা ইরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে পারবে না। বরং এটি শত্রুর নৈতিক পতন ও চরম পরাজয়ের বার্তা বহন করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি অবরোধ: ঝুঁকিতে বিশ্ব অর্থনীতি, কূটনীতির নতুন অগ্নিপরীক্ষা

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিরা—হরমুজ প্রণালি—এখন কার্যত অবরুদ্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান–ইসরায়েল সংঘাত এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা এই সংকটকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে। জাতিসংঘের বাণিজ্য সংস্থা ইউএনসিটিএডি-এর সাম্প্রতিক মূল্যায়ন বলছে—এটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট নয়, বরং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য একটি “সিস্টেমিক শক”। জাহাজ চলাচল: এক মাসে ৯৫% পতন ফেব্রুয়ারিতে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১৩০টি জাহাজ এই প্রণালি অতিক্রম করত, মার্চে তা নেমে এসেছে মাত্র ৬টিতে। এটি শুধু পরিসংখ্যান নয়—এটি বিশ্ব সরবরাহ ব্যবস্থার ভেঙে পড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। তেল ও গ্যাস সরবরাহে সরাসরি ধাক্কা বিকল্প রুটে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি বন্দর, বিমান কার্গো ও লজিস্টিকসে চেইন-রিঅ্যাকশন  কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ? পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই সরু জলপথ দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। অর্থাৎ, এখানে বাধা মানে— ইউরোপে জ্বালানি সংকট দক্ষিণ এশিয়ায় আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি  সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু: সামরিক ঝুঁকি বনাম কূটনৈতিক অচলাবস্থা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ড্রোন, মাইন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করছে। ফলে: কোনো দেশ সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে এগোতে চাইছে না বীমা প্রিমিয়াম ও ঝুঁকি ব্যয় আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক শিপিং কোম্পানিগুলো রুট এড়িয়ে যাচ্ছে কূটনৈতিক উদ্যোগ: লন্ডনের বৈঠক কিয়ার স্টারমার-এর উদ্যোগে যুক্তরাজ্য একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে, যেখানে প্রায় ৩৫টি দেশ অংশ নিচ্ছে। সভাপতিত্ব করবেন ইভেট কুপার। আলোচনার মূল বিষয়: নৌ চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার আটকে পড়া জাহাজ ও নাবিকদের নিরাপত্তা জরুরি পণ্য সরবরাহ পুনরায় চালু যুক্তরাষ্ট্রের অনুপস্থিতি: নতুন ভূ-রাজনৈতিক বার্তা সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়—এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট বলেছেন: “এই পথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমেরিকার কাজ নয়।” এই অবস্থান: ন্যাটোর ভেতরে বিভাজন বাড়াচ্ছে ইউরোপকে স্বনির্ভর নিরাপত্তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বৈশ্বিক নেতৃত্বে শূন্যতা তৈরি করছে  ইউরোপের প্রতিক্রিয়া: বলপ্রয়োগ নয়, সমন্বয় ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সরাসরি ট্রাম্পের সমালোচনা করে বলেছেন: বলপ্রয়োগে সমাধান “বাস্তবসম্মত নয়” নৌবাহিনী সরাসরি হামলার ঝুঁকিতে পড়বে যুদ্ধবিরতির পর ইরানের সঙ্গে সমঝোতাই একমাত্র পথ অর্থনৈতিক অভিঘাত: সামনে কী আসছে? ইউএনসিটিএডি সতর্ক করেছে: সম্ভাব্য ঝুঁকি দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি স্থায়ী বৈশ্বিক মুদ্রাস্ফীতি উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি → পণ্যের দাম বাড়বে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ সবচেয়ে ঝুঁকিতে দক্ষিণ এশিয়া ইউরোপ ভবিষ্যৎ চিত্র: তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্য ১. দ্রুত কূটনৈতিক সমাধান জাহাজ চলাচল ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার বাজারে স্বস্তি ২. দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তেলের দাম দীর্ঘ সময় উচ্চ থাকবে বৈশ্বিক মন্দার ঝুঁকি ৩. সামরিক সংঘাত বিস্তার সরাসরি যুদ্ধ → বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার ধস হরমুজ প্রণালীর এই সংকট এখন কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়—এটি বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হানা এক বহুমাত্রিক সংকট। কূটনীতি, সামরিক কৌশল এবং বৈশ্বিক সহযোগিতা—এই তিনের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের ওপর নির্ভর করছে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ। এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: বিশ্ব কি সংঘাতের পথে এগোবে, নাকি সমন্বিত কূটনীতির মাধ্যমে এই শিরা আবার সচল হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসন
বাগদাদে মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে অপহরণ, ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়ার জড়িত থাকার আশঙ্কা

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :  মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে বাগদাদে অপহরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধারণা করা হচ্ছে, ইরান-সমর্থিত একটি ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি অবনতির মধ্যে এ ঘটনা ঘটল।   কিটলসন দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক হিসেবে কাজ করছেন। তিনি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চল ও ইরাক-সিরিয়ার গোত্রভিত্তিক বাস্তবতা নিয়ে গভীর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য পরিচিত।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তাকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্ত করার জন্য তারা কাজ করছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের গ্লোবাল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি ডিলান জনসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়েব হিজবুল্লাহর সঙ্গে জড়িত একজনকে এই অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইরাকি কর্তৃপক্ষ আটক করেছে।   যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ ইরাকেও ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে।যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বারবার এসব গোষ্ঠীর ওপর হামলা চালিয়েছে, আর মিলিশিয়ারা ইরাকে মার্কিন দূতাবাস ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে আক্রমণ করেছে।   ইরাক জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা পালানোর সময় একটি গাড়ি উল্টে গেলে সেটি আটক করা হয়। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘নিরাপত্তা বাহিনী একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করতে এবং অপরাধে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।’   মন্ত্রণালয় আরও জানায়, ‘জড়িত অন্যান্যদের খুঁজে বের করা এবং অপহৃত সাংবাদিককে মুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।এক ইরাকি নিরাপত্তা সূত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, অপহরণের ঘটনা বাগদাদেই ঘটেছে। তবে ইরাকি কর্তৃপক্ষ অপহরণকারী বা ভুক্তভোগীর পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।   সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এক বিবৃতিতে কিটলসনের অপহরণে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তার নিরাপদ ও দ্রুত মুক্তি দাবি করেছে। তারা বলেছে, ‘আমরা তার গুরুত্বপূর্ণ সাংবাদিকতার পাশে আছি এবং তাকে দ্রুত ফিরে এসে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।’   ইরাকের পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, বেসামরিক পোশাক পরা চারজন ব্যক্তি তাকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, বাগদাদের রাস্তায় কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।তারা আরও জানান, অপহরণকারীদের গাড়ি রাজধানীর পূর্বাঞ্চলের দিকে যাওয়ায় সেখানেই তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।   একসময় অপহরণ ও অপহরণের চেষ্টার জন্য কুখ্যাত ছিল বাগদাদ। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব ঘটনা কমে আসে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং মিলিশিয়াদের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্তির ফলে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর শক্তিও কিছুটা কমেছে।   তবে ইরান যুদ্ধ নতুন করে এসব মিলিশিয়া ও ইরাকি রাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০২৩ সালে বাগদাদে ইসরায়েলি-রুশ গবেষক এলিজাবেথ সুরকভ অপহৃত হন। তাকে দুই বছর আটকে রাখা হয় এবং গত বছর মুক্তি দেওয়া হয়। আটক অবস্থায় তিনি গুরুতর নির্যাতনের শিকার হন, যার ফলে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়।   যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ইরাকে অবস্থানরত নাগরিকদের জন্য সতর্কতা জারি করেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলার পর ইরাকে ঝুঁকি বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর ইরানের প্রভাব রয়েছে।   ডিলান জনসন বলেন, সাংবাদিককে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করার মাধ্যমে পররাষ্ট্র দপ্তর তাদের দায়িত্ব পালন করেছে এবং তিনি আবারও মার্কিন নাগরিকদের ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র দপ্তর সাংবাদিকসহ সব মার্কিন নাগরিককে সব ভ্রমণ সতর্কতা মেনে চলার জন্য জোরালোভাবে পরামর্শ দিচ্ছে।’

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
মধ্যপ্রাচ্য-ইউক্রেন সংঘাত: জ্বালানি, বাণিজ্য ও ভূরাজনীতির লড়াইয়ে কে লাভবান—যুক্তরাষ্ট্র নাকি অন্য কেউ?

মাসুদ করিম: ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকে বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে—যুদ্ধ এখন আর শুধু ভূখণ্ড দখল বা সরকার পরিবর্তনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি অর্থনীতি, জ্বালানি এবং বাণিজ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক জটিল প্রতিযোগিতা। মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা—বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত—এই বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে এনেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পরও ইরানে সরকার পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং পাল্টা হামলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।  জ্বালানি: যুদ্ধের আসল কেন্দ্রবিন্দু? বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাতগুলোর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জ্বালানি ও বাণিজ্য পথ। বিশেষ করে: হরমুজ প্রণালি কৃষ্ণসাগর অঞ্চল বৈশ্বিক তেল সরবরাহ চেইন বিশ্বের প্রায় ২০% তেল এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এই অঞ্চলে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।  এলএনজি বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের উত্থান রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে আক্রমণ করার পর  ইউরোপ রাশিয়ার গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমাতে বাধ্য হয়। এর ফলে: যুক্তরাষ্ট্র হয়ে ওঠে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানিকারক ইউরোপ স্পট মার্কেটে বেশি দামে গ্যাস কিনতে শুরু করে মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলোর মুনাফা বৃদ্ধি পায় তবে এই লাভের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ ব্যয়ও করতে হয়েছে।  লাভ বনাম ঝুঁকি: জটিল সমীকরণ যদিও যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি রপ্তানিকারকরা লাভবান, তবুও বড় কিছু ঝুঁকি রয়ে গেছে: দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ অর্থনীতিকে দুর্বল করতে পারে জোট রাজনীতিতে চাপ বাড়ে সামরিক ব্যয় বাড়তে থাকে এছাড়া, কাতারের মতো দেশ যদি হরমুজ প্রণালির ঝুঁকির কারণে রপ্তানি কমায়, তাহলে বিশ্ববাজারে এলএনজি দাম আরও বাড়তে পারে—যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য স্বল্পমেয়াদে সুবিধা আনলেও দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চয়তা তৈরি করে।  বাণিজ্য পথের নিয়ন্ত্রণ: নতুন ভূরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংঘাতগুলো আসলে তিনটি বিষয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণের লড়াই: জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) সমুদ্রপথ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এই নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব বিস্তার সহজ হয়।  বাংলাদেশ: চাপের মুখে  অর্থনীতি বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন: জ্বালানির দাম বাড়লে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ে ফলে বৈশ্বিক সংঘাতের সরাসরি অংশীদার না হয়েও বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ে।  নিরাপত্তা বনাম নির্ভরতা দশকের পর দশক ধরে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার ওপর নির্ভর করেছে। কিন্তু যদি সেই নির্ভরতার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে তা শুধু সামরিক নয়—একটি বড় কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। শেষ কথা: যুদ্ধের শেষ কোথায়? বর্তমান বাস্তবতায় একটি বিষয় পরিষ্কার— এই যুদ্ধের কোনো সহজ সমাপ্তি নেই। এটি: আঞ্চলিক সংঘাতের বাইরে গিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে জ্বালানি বাজারকে পুনর্গঠন করছে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে অতএব, প্রশ্নটি এখন আর শুধু “কে জিতবে?” নয়— বরং “এই যুদ্ধ থেকে কে কতটা লাভবান হবে, আর তার মূল্য কে দেবে?”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন হামলায় ইরানের ত্রাণ সংগ্রহকারী বেসামরিক বিমান বিধ্বস্ত
মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসামরিক বিমানে হামলা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায়ী করল ইরান

ইত্তেহাদ অনলাইন নিউজ ডেস্ক :ইরানের মাশহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ একটি বেসামরিক বিমানে হামলার ঘটনা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির বেসরকারি বিমান সংস্থা মাহান এয়ার-এর একটি বিমান নয়াদিল্লিতে মানবিক ত্রাণ সংগ্রহে যাওয়ার আগে হামলার শিকার হয়। তেহরান এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বাহিনীকে দায়ী করে বলেছে, এটি একটি পরিকল্পিত মানবিক মিশন ব্যাহত করার প্রচেষ্টা। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-এর সরকার জানিয়েছে, বিমানটি ভারতের দিল্লি থেকে প্রায় ১১ টন মানবিক সহায়তা—যার মধ্যে ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও খাদ্য ছিল—আনার কথা ছিল। এই ঘটনার পর পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংঘাত শুরুর পর ইরানের মেহরাবাদ বিমানবন্দরে হামলায় একাধিক যাত্রী ও পণ্যবাহী বিমান ধ্বংস হয়। সে সময় ইসরায়েল দাবি করেছিল, ওই উড়োজাহাজগুলো ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর এবং তাদের বিশেষ ইউনিট কুদস ফোর্স গোপনে ব্যবহার করত। তবে পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে সেগুলো সাধারণ বেসামরিক বিমান বলেই দাবি করা হয়। সাম্প্রতিক ঘটনায় ইসরায়েল আরও অভিযোগ করেছে, ইরান বাণিজ্যিক ফ্লাইট—বিশেষ করে মাহান এয়ারের মতো সংস্থা—ব্যবহার করে রাশিয়ার কাছে অস্ত্র সরবরাহ করছে, যা ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পর্কিত। এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৮ মার্চ ভারত প্রথমবারের মতো ইরানে মানবিক সহায়তা পাঠায়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-এর সরকার এটিকে দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইসরাইলের শতাধিক শহরে হামলা
ইরান ও হিজবুল্লাহর যৌথ হামলা:ইসরাইলের শতাধিক শহরে পরিস্থিতি জটিল-কেঁপে উঠছে শহর:সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে। ইরান ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ একযোগে হামলা জোরদার করায় ইসরাইল জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলসহ দেশটির ১০০টিরও বেশি শহরে সতর্ক সংকেত বা সাইরেন বাজানো হয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে একই সময়ে হিজবুল্লাহর রকেট হামলা শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। হাইফায় ক্ষয়ক্ষতি ইসরাইলের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী হাইফা-তে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে বস্তুগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ইসরাইলি রেডিও জানিয়েছে, হাইফা উপসাগরীয় এলাকায় বেশ কিছু অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সৌদিতে মার্কিন বিমান লক্ষ্য করে হামলা এদিকে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক গোয়েন্দা বিমান ধ্বংসের দাবি করেছে। শুক্রবার সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হামলায় এই ঘটনা ঘটে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, হামলায় একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি বিমান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। একই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১২ সেনা আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি রিফুয়েলিং বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের এই বিমানটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি উন্নত রাডারের মাধ্যমে কয়েকশ কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করতে পারে এবং তাৎক্ষণিক যুদ্ধ পরিস্থিতির তথ্য সরবরাহ করে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ধরনের মাত্র ১৬টি বিমান রয়েছে। প্রতিস্থাপন করতে হলে ব্যবহার করতে হবে ই-৭ ওয়েজটেইল, যার প্রতিটির মূল্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। এতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বড় শক্তিগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততার আশঙ্কাও বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি:মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন তাড়িয়ে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি করিডোর হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ইরান দাবি করেছে, তাদের সামরিক চাপের মুখে মার্কিন যুদ্ধবিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন অঞ্চলটি থেকে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির এক নৌ-কমান্ডার বলেছেন—মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করার জন্য ইরান প্রস্তুত এবং তারা উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সুযোগ পেলে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে। সম্প্রতি মার্কিন-ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ ওঠে। নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায় জ্বালানি ট্যাঙ্কারগুলো এই পথ ব্যবহার বন্ধ করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-এর নৌবাহিনীর উপস্থিতি, বিশেষ করে আরব সাগরে মোতায়েন থাকা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে মনে করা হচ্ছিল। এ অবস্থায় ইরান দাবি করছে, তাদের সামরিক তৎপরতার মুখে মার্কিন রণতরীটি শত শত মাইল দূরে সরে গেছে। এর ফলে এখন থেকে হরমুজ প্রণালি তারা “বাধাহীনভাবে” নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। তবে এ দাবির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল পরিবহন হয়। ফলে এ অঞ্চলে সামান্য উত্তেজনাও আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ইরানি শাহেদ ড্রোন।
রাশিয়ার উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন পাঠানো হচ্ছে ইরানে

রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত প্রযুক্তির আরও উন্নত সংস্করণ সংবলিত ড্রোন ইরানে পাঠাচ্ছে—এমন দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের একাধিক কর্মকর্তা। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য জানিয়েছে। কর্মকর্তাদের মতে, ইরান গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েল, উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। যদিও তেহরানের নিজস্ব শাহেদ ড্রোন রয়েছে, তবে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসব ড্রোনকে আরও উন্নত করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নেভিগেশন ব্যবস্থা, জ্যামার প্রতিরোধী প্রযুক্তি এবং লক্ষ্যভেদ ক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি আনা হয়েছে বলে দাবি ইউরোপীয় গোয়েন্দা সূত্রগুলোর। একজন ইউরোপীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চলতি মাসেই রাশিয়া থেকে ইরানে ড্রোন সরবরাহ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সক্রিয় আলোচনা হয়েছে। চালান কত বড়, স্পষ্ট নয় মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের এক কর্মকর্তা বলেছেন, এটি এককালীন চালান নাকি ধারাবাহিক সরবরাহের অংশ—তা এখনও পরিষ্কার নয়। ড্রোনের সংখ্যা বা এর সামরিক প্রভাব সম্পর্কেও নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে এক ইউরোপীয় কর্মকর্তা মনে করেন, সীমিত সংখ্যক ড্রোন যুদ্ধের গতিপথে বড় পরিবর্তন আনবে না। বরং এটি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের প্রতীকী পদক্ষেপও হতে পারে। পরিবহনের পথ নিয়ে জল্পনা ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের দাবি, রাশিয়ার একটি ড্রোন চালান ইতোমধ্যে পথে রয়েছে। যদিও কীভাবে তা পরিবহন করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সম্প্রতি আজারবাইজান হয়ে ট্রাকে করে রাশিয়ার মানবিক সহায়তার কনভয় ইরানে প্রবেশ করেছে। এতে ড্রোন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ট্রাকে খাদ্য ও ওষুধ ছিল। প্রযুক্তিগত উন্নয়ন কী কী? বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া শাহেদ ড্রোনে উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এনেছে। এর মধ্যে রয়েছে— কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) উন্নত ক্যামেরা জ্যামার প্রতিরোধী ব্যবস্থা জেট ইঞ্জিন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ (স্টারলিংক প্রযুক্তি) এই পরিবর্তনের ফলে ড্রোনগুলো আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, অন্য দেশ ইরানকে কী সরবরাহ করছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বড় প্রভাব ফেলছে না। তার দাবি, মার্কিন বাহিনী ইতোমধ্যে ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে এবং ১৪০টিরও বেশি ইরানি নৌযান ধ্বংস করেছে। এতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তায় নতুন চ্যালেঞ্জ বিশেষজ্ঞদের মতে, জেট ইঞ্জিনচালিত দ্রুতগতির ড্রোনগুলো মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ধরনের ড্রোন প্রতিহত করতে উন্নত ও ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন হতে পারে, যার মজুদ সীমিত। রাশিয়া-ইরান সম্পর্কের পটভূমি ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের ড্রোন চুক্তি হয়। পরবর্তীতে রাশিয়ার ভেতরেই ড্রোন উৎপাদন শুরু হয়। তবে দুই দেশের সম্পর্ক সবসময় মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে রাশিয়ার নিষ্ক্রিয়তায় তেহরান অসন্তুষ্ট হয়েছিল। এদিকে, ড্রোন সরবরাহের বিষয়ে রুশ ক্রেমলিনের মুখপাত্র এই দাবিকে “ভুয়া খবর” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ভারতের প্রখ্যাত লেখক অরুন্ধতী রায়
অরুন্ধতী রায়ের বিস্ফোরক বক্তব্য: ইরান যুদ্ধ, গাজা ও ভারতের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা, ইরানের পাশে আছি

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি-এর কামানি মিলনায়তনে এক সাহিত্য অনুষ্ঠানে বই আলোচনা ছাপিয়ে উঠে এল বৈশ্বিক রাজনীতি ও যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র বক্তব্য। প্রখ্যাত ভারতীয় লেখক অরুন্ধতী রায় তাঁর নতুন বই ‘মাদার মেরি কামস টু মি’ নিয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। অনুষ্ঠানে তাঁর সঙ্গে আলোচনায় ছিলেন লেখক নীলাঞ্জনা রায়। যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য প্রসঙ্গ বক্তব্যের শুরুতেই অরুন্ধতী রায় বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি উপেক্ষা করে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করা সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন তেহরান, ইসফাহান এবং বৈরুত-এর মতো শহরগুলোর পরিস্থিতি। তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানে হামলার অভিযোগ তুলে বলেন, এটি “বিনা উসকানিতে এবং অবৈধভাবে” হয়েছে এবং তা গাজা-তে চলমান সহিংসতার ধারাবাহিকতা। তার ভাষায়, “একই কৌশল—নারী ও শিশু হত্যা, হাসপাতাল বোমা হামলা, শহর ধ্বংস—তারপর নিজেদের ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন।” বৈশ্বিক বিপদের আশঙ্কা অরুন্ধতী রায় সতর্ক করেন, ইরানকে ঘিরে এই সংঘাত বিশ্বব্যাপী বড় সংকটে রূপ নিতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ব কেবল সামরিক নয়, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের দিকেও এগোচ্ছে। তিনি ইতিহাস টেনে বলেন, হিরোশিমা ও নাগাসাকি পারমাণবিক বোমা হামলা-এর মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। ইরানের প্রতি সমর্থন ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দায়িত্ব সেই দেশের জনগণেরই। বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপকে তিনি “সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন” হিসেবে আখ্যা দেন। ভারতের সরকারের সমালোচনা ভারতের বর্তমান সরকারের ভূমিকা নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, দেশটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে স্বাধীন অবস্থান হারাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ভারতকে আন্তর্জাতিকভাবে অপমান করা হলেও সরকার নীরব। শ্রমিক ও নীতির প্রশ্ন গাজায় সংঘাত চলাকালে ইসরাইলে ভারতীয় শ্রমিক পাঠানোর বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি। বই ও ব্যক্তিগত জীবন অনুষ্ঠানের মূল বিষয় ছিল তাঁর নতুন বই। অরুন্ধতী রায় জানান, এটি সরাসরি আত্মজীবনী নয়, বরং “একজন ঔপন্যাসিকের স্মৃতিকথা”। বইটিতে তাঁর মা মেরি রায়-এর সঙ্গে জটিল সম্পর্ক উঠে এসেছে—যিনি একদিকে কঠোর মা, অন্যদিকে নারীর অধিকার আন্দোলনের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। এআই ও সমাজ নিয়ে উদ্বেগ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এআই ধীরে ধীরে মানুষের মৌলিক চিন্তাশক্তিকে ক্ষয় করছে। ভারতের শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশটি এখন শুধু “ফ্যাসিবাদী সরকার” নয়, বরং “ফ্যাসিবাদী সমাজ”-এর মুখোমুখি। অনুষ্ঠানের শেষভাগে তাঁর বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকরা দাঁড়িয়ে সমর্থন জানান। জবাবে অরুন্ধতী রায় ‘বিজয়’ চিহ্ন দেখিয়ে বলেন, “দিল্লিতে আমরা সব সময় প্রতিরোধ করি।”  

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন
ইরান যুদ্ধ: টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় পেন্টাগন, এক মাসে বাড়ছে প্রাণহানি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে ব্যাপক হারে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মজুত নিয়ে উদ্বেগে পড়েছেন পেন্টাগনের কর্মকর্তারা। যুদ্ধ শুরুর মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে ৮৫০টির বেশি টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সামরিক সূত্র বলছে, টমাহক মূলত নৌযান ও সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, যা এক হাজার মাইলেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। তবে এর উৎপাদন সীমিত—বর্তমানে বছরে মাত্র কয়েকশ ইউনিট তৈরি হয়। ফলে দ্রুত ব্যবহারের কারণে সরবরাহ সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে টমাহকের বর্তমান মজুত “চিন্তার বিষয়” হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামরিক পরিভাষায় তারা “উইনচেস্টার”-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন—অর্থাৎ গোলাবারুদ প্রায় শেষের দিকে। ২০০৪ সাল থেকে ব্যবহৃত আধুনিক টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র জিপিএস ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে এবং এর একক মূল্য সর্বোচ্চ ৩.৬ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে ইতোমধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছে পেন্টাগন। এক মাসে যুদ্ধের বিস্তার ও ক্ষয়ক্ষতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই যুদ্ধে আজ এক মাস পূর্ণ হলো। সংঘাতটি শুধু ইরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৯০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু এলাকা, হাজারো মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। জাতিসংঘে এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানি রেড ক্রিসেন্টের প্রতিনিধি মারিয়া মার্টিনেজ জানান, ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারের সময় অনেক উদ্ধারকর্মী নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মরদেহ দেখতে পান—যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাই তুলে ধরে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রভাব ইরানের পাশাপাশি লেবাননেও হামলার প্রভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সেখানে ২ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১,১৪২ জন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২২ জন শিশু। আহত হয়েছেন আরও ৩,৩১৫ জন। ইরাকে অন্তত ৯৬ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির কুর্দিস্তান অঞ্চলে নিহত হয়েছেন অন্তত ১৩ জন। অন্যদিকে, পশ্চিম তীরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ক্ষয়ক্ষতি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। ইসরাইল জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটিতে অন্তত ১৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া দক্ষিণ লেবাননে চারজন ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় চাপ মার্কিন কংগ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাড-এর মোট মজুতের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু রাডার সিস্টেম পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে, যা পুনঃস্থাপন করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। এর ফলে পারস্য উপসাগর অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান ইতোমধ্যে ইসরাইলের কিছু বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে দিতে সক্ষম হয়েছে। এখন তাদের লক্ষ্য প্রতিরক্ষা অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র এবং রাডার উৎপাদনকারী কারখানাগুলো ধ্বংস করা।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালী
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা : যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল হামলার পর জ্বালানি বাণিজ্যে বৈশ্বিক সংকট

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। প্রায় চার সপ্তাহ ধরে চলমান এই অচলাবস্থার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজে সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম ও সরবরাহ—উভয় ক্ষেত্রেই অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বর্তমানে প্রণালির উভয় পাশে প্রায় দুই হাজার জাহাজ আটকে রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। ইরানের অবরোধ, হুমকি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন এবং তেলবাহী জাহাজগুলোকে মার্কিন নৌবাহিনীর নিরাপত্তায় পারাপারের পরিকল্পনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণে এখনো কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে ইরান। এর পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে—ভৌগোলিক অবস্থান, অপ্রচলিত সামরিক কৌশল এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ। ভৌগোলিক সুবিধা পারস্য উপসাগরের এই প্রণালির সবচেয়ে সংকীর্ণ অংশ মাত্র ২৪ মাইল প্রশস্ত। ফলে জাহাজ চলাচলের জন্য নির্দিষ্ট সংকীর্ণ পথ ব্যবহার করতে হয়। এই ‘চোকপয়েন্ট’ পরিস্থিতি ইরানকে সহজে নজরদারি ও লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে বাড়তি সুবিধা দেয়। ইরানের দীর্ঘ উপকূলরেখা ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতিও প্রতিরক্ষা এবং আক্রমণ—উভয় ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অপ্রচলিত যুদ্ধকৌশল বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম বড় শক্তি তার অপ্রচলিত সামরিক কৌশল। ড্রোন, দ্রুতগামী ছোট নৌযান, বিস্ফোরকবোঝাই মানববিহীন নৌযান এবং সমুদ্র মাইন ব্যবহার করে তারা বড় নৌবাহিনীর জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এছাড়া সাধারণ জাহাজ থেকেও মাইন পেতে রাখার সক্ষমতা ইরানের রয়েছে, যা শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায়, এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা ইরানের জন্য অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু জাহাজকে নিরাপদে পারাপারের জন্য অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বৈশ্বিক উদ্বেগ হরমুজ প্রণালির এই অচলাবস্থা দ্রুত সমাধানের কোনো স্পষ্ট লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়ছে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বিশ্ব অর্থনীতি আরও বড় ধরনের চাপের মুখে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলার স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ
স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ : ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলা

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।   জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় তুর্ক বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে, যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। যদিও, ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব বর্তায়।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তুর্ক বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব এ তদন্ত শেষ হোক এবং এর ফলাফল প্রকাশ করা হোক। যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার হতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এ সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ ঘাঁটি গুড়িয়ে দিল ইরান
ইরানের দাবি: পশ্চিম এশিয়ায় ১৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস, উত্তেজনা নতুন মাত্রায়

পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরান। দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি এ তথ্য জানিয়েছেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম মেহের নিউজের এক প্রতিবেদনে এ দাবি তুলে ধরা হয়। শেখারচির ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম এশিয়াজুড়ে ১৭টি সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করেছিল, যেগুলো ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ইতোমধ্যে ধ্বংস করেছে। তিনি দাবি করেন, এসব ঘাঁটি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন বাহিনী। তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন শুরু হওয়া ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের পর ইরান তার প্রতিরক্ষামূলক নীতিতে পরিবর্তন এনে আরও আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করেছে। ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, গত ৪৭ বছরে ইরান কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে দেশের ওপর কোনো হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে এবং শত্রুকে সম্পূর্ণভাবে পরাজিত করা হবে। তিনি বলেন, শত্রুর হুমকি সম্পূর্ণরূপে দূর না হওয়া পর্যন্ত ইরানের প্রতিরক্ষা কৌশল অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শেখারচি বলেন, গত ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে ও নিরাপত্তার নামে আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপর প্রভাব বিস্তার করছে ওয়াশিংটন। গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ শেষ হলেও ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে। এছাড়া, আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে আশ্রয় না দেয়। কোনো দেশ যদি তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তাহলে তাকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শেখারচি আরও উল্লেখ করেন, ইরান ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইরাকের কুর্দি যোদ্ধা।
ইরানে হামলা পরিকল্পনায় ধাক্কা: কুর্দিদের ‘না’, চাপে ট্রাম্প প্রশাসন

ইরানে আগ্রাসন শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যাশা ছিল দ্রুত ফলাফল—প্রথম দিনেই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ও শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের হত্যা করা গেলে সাধারণ জনগণ রাস্তায় নেমে আসবে এবং সরকার পতনের পথ সুগম হবে। কিন্তু বাস্তবে সেই হিসাব মেলেনি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে অব্যাহত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরও ইরানের শাসন ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে টিকে আছে। বরং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। প্রাথমিক পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় একপর্যায়ে স্থল হামলার চিন্তা করা হলেও, মার্কিন সেনাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়—এমন উপলব্ধি থেকে নতুন কৌশল হিসেবে ইরানের সীমান্তবর্তী ইরাকের কুর্দি যোদ্ধাদের প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump এবং তার প্রশাসনের কর্মকর্তারা বারবার দাবি করতে থাকেন যে, কুর্দিরা ইরানে আক্রমণ চালিয়ে শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে পারে। কিন্তু সেই পরিকল্পনাও বাস্তবায়নের মুখ দেখছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র—যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যেই এই ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক সমর্থনেও ভাটা পড়েছে। এর মধ্যেই ইরাকের কুর্দি বাহিনী পেশমারগার শীর্ষ কর্মকর্তা সিরওয়ান বারজানি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেবেন না। তিনি বলেন, হামলা শুরুর পর থেকে ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চল প্রায় ৪৩০টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। উত্তর ইরাকে আইএসবিরোধী ফ্রন্টলাইনের দায়িত্বে থাকা বারজানি প্রশ্ন তোলেন, “আমরা তো তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করিনি। আমরা প্রতিবেশী। আমাদের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে—তাহলে কেন প্রতিদিন আমাদের ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে?” একই দিনে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পেশমারগা বাহিনীর ৬ সদস্য নিহত এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। এই ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসবাদী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দেন বারজানি। বিশ্লেষকরা বলছেন, কুর্দিদের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় ধরনের ধাক্কা। এতে করে ইরানের বিরুদ্ধে বহুমুখী চাপ সৃষ্টির যে পরিকল্পনা ছিল, তা এখন অনেকটাই ভেঙে পড়ার মুখে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও যুক্তরাষ্ট্র ক্রমশ একঘরে হয়ে পড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু - ডোনাল্ড ট্রাম্প
খামেনিকে টার্গেট করে গোপন ফোনালাপ! ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর বিস্ফোরক পরিকল্পনা ফাঁস

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার মাত্র ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে গুরুত্বপূর্ণ এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে অভিযানের যৌক্তিকতা বোঝান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গোপন এই আলোচনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-কে লক্ষ্য করে সম্ভাব্য ‘ডিক্যাপিটেশন স্ট্রাইক’ বা নেতৃত্ব ধ্বংসের পরিকল্পনা গুরুত্ব পায়।  গোয়েন্দা তথ্য ও হামলার সুযোগ সূত্র অনুযায়ী, উভয় নেতা আগেই গোয়েন্দা ব্রিফিংয়ে জানতে পারেন—খামেনি ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা তেহরানে একটি কমপ্লেক্সে বৈঠকে বসবেন। এতে তারা একসঙ্গে অবস্থান করায় হামলার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েন। তবে পরবর্তীতে নতুন গোয়েন্দা তথ্য জানায়, বৈঠকের সময় এগিয়ে আনা হয়, যা হামলার সময় নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। নেতানিয়াহুর কৌশলগত যুক্তি দীর্ঘদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে বোঝান—খামেনিকে হত্যার এমন সুযোগ আবার নাও আসতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে পূর্বে ইরানের কথিত হত্যাচেষ্টার প্রতিশোধ নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত আইআরজিসি কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি-এর ঘটনাও আলোচনায় উঠে আসে।  ট্রাম্পের অবস্থান সূত্র বলছে, ট্রাম্প সামরিক অভিযানের ধারণায় সম্মতি দিলেও কখন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুক্ত হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তখনও নেননি। তবে অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছিল, যা সম্ভাব্য অভিযানের ইঙ্গিত দেয়। অবশেষে ২৭ ফেব্রুয়ারি ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন ট্রাম্প।  হামলা ও খামেনির মৃত্যু ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে শুরু হয় প্রথম দফা বোমা হামলা। সেদিন সন্ধ্যায় ট্রাম্প ঘোষণা দেন, খামেনি নিহত হয়েছেন। হোয়াইট হাউস জানায়, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল— ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস নৌবাহিনী অকার্যকর করা প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ রোধ  যুদ্ধের বিস্তার ও প্রতিক্রিয়া এর আগে জুন মাসে ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে সংঘাতের সূচনা হয়, পরে যুক্তরাষ্ট্র এতে যোগ দেয়। ১২ দিনের সেই অভিযানে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করা হয়। তবে পরবর্তীতে নতুন করে বড় আকারের হামলার পরিকল্পনা করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল ইরানের সামরিক সক্ষমতা সম্পূর্ণ দুর্বল করা।  সিদ্ধান্তে প্রভাবক ঘটনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে— ভেনেজুয়েলায় সফল মার্কিন অভিযান ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এই সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টকম ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার হয়।  ঝুঁকি ও পরিণতি যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সেন্টকম সতর্ক করেছিল—খামেনিকে হত্যা করলে আরও কট্টর নেতৃত্ব ক্ষমতায় আসতে পারে। এই আশঙ্কা আংশিক সত্যি হয়েছে। বর্তমানে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের পাল্টা হামলায়— মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হাজারো বেসামরিক হতাহত বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি জ্বালানি সংকট  বর্তমান পরিস্থিতি যুদ্ধ এখন চতুর্থ সপ্তাহে। ইরানে রেভল্যুশনারি গার্ডের কড়া নিরাপত্তা জারি রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ অনেকটাই ঘরবন্দি। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা: ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধশতাধিক স্থাপনায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, তাদের প্রতিশোধমূলক সামরিক অভিযান ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের নিয়ন্ত্রিত ৫৫টিরও বেশি স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে আইআরজিসি এই হামলাকে “ক্রমিক ক্ষয়সাধন কৌশলের অংশ” হিসেবে উল্লেখ করে। এতে বলা হয়, হামলার ফলে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় ব্যাপক বিস্ফোরণ, আগুন এবং ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে। এই দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় আঞ্চলিক সামরিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করে।  লক্ষ্যবস্তু: কোথায় আঘাত হানা হয়েছে? আইআরজিসির বিবৃতি অনুযায়ী, হামলার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচটি সামরিক ঘাঁটি: সৌদি আরবের আল-খারজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা কুয়েতের আলী আল-সালেম ইরাকের ইরবিল (কুর্দিস্তান অঞ্চল) বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর এছাড়া ইসরাইলের বিভিন্ন কৌশলগত স্থানও হামলার আওতায় এসেছে বলে দাবি করা হয়। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে: হাইফা বন্দর তেল আবিবের কৌশলগত অঞ্চল হাদেরা কিরিয়াত ওনো সাভিয়ন বেন আমি বিশ্লেষকদের মতে, এই স্থানগুলো নির্বাচন করা হয়েছে সামরিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায়।  ব্যবহৃত অস্ত্র: উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তি আইআরজিসি জানিয়েছে, হামলায় বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য: ‘কিয়াম’ ক্ষেপণাস্ত্র ‘এমাদ’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘খোররামশাহ-৪’ ‘কদর’ মাল্টি-ওয়ারহেড সিস্টেম এই অস্ত্রগুলো দীর্ঘ পাল্লার এবং উচ্চ ধ্বংসক্ষমতাসম্পন্ন হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে মাল্টিপল ওয়ারহেড প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করা তুলনামূলক সহজ হয় বলে সামরিক বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। ড্রোন ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আধুনিক যুদ্ধের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে—কম খরচে নির্ভুল আঘাত হানার সক্ষমতা।  কৌশলগত বার্তা: “ক্রমিক ক্ষয়সাধন” আইআরজিসি তাদের এই অভিযানকে “ধাপে ধাপে ক্ষয় করার কৌশল” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই কৌশলের মূল উদ্দেশ্য হতে পারে: শত্রুপক্ষের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ক্লান্ত করে ফেলা অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ বাড়ানো দীর্ঘমেয়াদে কৌশলগত ভারসাম্য বদলে দেওয়া বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সরাসরি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের পরিবর্তে “নিয়ন্ত্রিত সংঘাত” বজায় রাখার একটি পদ্ধতি। সময় নির্বাচন: রমজান ও ঈদের প্রেক্ষাপট আইআরজিসির বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, এই হামলার সময় নির্বাচন করা হয়েছে রমজান মাসের শেষ সময়ে, ঈদুল ফিতরের প্রাক্কালে। তারা এটিকে “নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থার ভিন্ন এক ভোর” হিসেবে বর্ণনা করেছে। এটি একটি প্রতীকী বার্তা হতে পারে: মুসলিম বিশ্বে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা ধর্মীয় আবেগকে রাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার সংঘাতকে আদর্শিক রূপ দেওয়া আঞ্চলিক প্রভাব: উত্তেজনার বিস্তার এই হামলার দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হলো: ১. যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তাদের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার ক্ষেত্রে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায়। ফলে পাল্টা হামলার ঝুঁকি রয়েছে। ২. ইসরাইলের অবস্থান ইসরাইল বরাবরই ইরানের সামরিক কার্যক্রমকে হুমকি হিসেবে দেখে। ফলে এই ঘটনার পর তাদের সামরিক প্রস্তুতি বাড়তে পারে। ৩. উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগ সৌদি আরব, ইউএই এবং কুয়েতের মতো দেশগুলো সরাসরি হামলার আওতায় আসায় তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: নীরবতা নাকি প্রস্তুতি? এই ধরনের বড় হামলার দাবির পর সাধারণত আন্তর্জাতিক মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসে। সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হতে পারে: জাতিসংঘে জরুরি বৈঠক কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধি নতুন নিষেধাজ্ঞা তবে অনেক সময় সরাসরি নিশ্চিত তথ্য না থাকলে দেশগুলো অপেক্ষাকৃত সতর্ক অবস্থান নেয়। তথ্য যাচাই: দাবি বনাম বাস্তবতা এই প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—আইআরজিসির দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। বর্তমানে: যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি স্বাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছেও পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই স্যাটেলাইট বা ওপেন সোর্স বিশ্লেষণ প্রয়োজন ফলে এই ধরনের পরিস্থিতিতে “তথ্য যুদ্ধ” একটি বড় উপাদান হয়ে দাঁড়ায়।  সম্ভাব্য ঝুঁকি: পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ কি সামনে? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হামলা যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে তা বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ঝুঁকিগুলো হলো: সরাসরি ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পৃক্ততা জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব  বিশ্লেষণ: কৌশল না সংকেত? আইআরজিসির এই ঘোষণা কয়েকটি সম্ভাব্য উদ্দেশ্য নির্দেশ করতে পারে: মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বার্তা আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলানো ভবিষ্যৎ আলোচনায় প্রভাব বিস্তার   ইরানের আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’-এর ৭০তম ধাপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় নির্দেশ করছে। তবে এই ঘটনার বাস্তবতা, প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ভর করছে পরবর্তী আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া, তথ্য যাচাই এবং কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর। বর্তমান পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিচ্ছে—মধ্যপ্রাচ্য আবারও একটি অনিশ্চিত ও সংবেদনশীল পর্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে একটি ছোট ঘটনা বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী হামলায় যুক্তরাষ্ট্র দায়ী
ইরানের মিনাব স্কুলে টমাহক হামলা: যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী অ্যামনেস্টি, নিহত ১৭০ শিশু | তদন্তে নতুন তথ্য

  আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৭০ জন নিহত হয়েছেন—যাদের বেশিরভাগই শিশু। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নতুন তদন্তে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা যায়, সোমবার প্রকাশিত এই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে শক্ত প্রমাণ পাওয়া গেছে। কী ঘটেছিল মিনাবে? গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় হঠাৎই ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিধ্বস্ত হয়। স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, ঘটনাস্থলেই বহু শিশু নিহত হয় এবং অনেকে গুরুতর আহত হয়। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তদন্ত অনুযায়ী: স্কুলটি সরাসরি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় আশপাশের অন্তত এক ডজন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ৬–১২ বছর বয়সী শিশু এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে মর্মান্তিক বেসামরিক হত্যাকাণ্ডগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অ্যামনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলের স্যাটেলাইট চিত্র, ভিডিও ফুটেজ এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে—এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র। এই ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশিষ্ট্য: অত্যন্ত নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ব্যবহার করে প্রতিবেদনে বলা হয়, “বর্তমান সংঘাতে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই রয়েছে,”—যা হামলার উৎস নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। স্কুল না সামরিক লক্ষ্যবস্তু? তদন্তে উঠে এসেছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে যে স্থানটি চিহ্নিত করা হয়েছিল, সেটি আগে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি কমপ্লেক্সের অংশ ছিল। তবে: সাম্প্রতিক সময়ে সেটি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় শিশুদের নিয়মিত ক্লাস চলছিল কোনো সক্রিয় সামরিক উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি অ্যামনেস্টি বলছে, যদি যুক্তরাষ্ট্র পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হামলা চালিয়ে থাকে, তাহলে তা “গুরুতর অবহেলা” হিসেবে গণ্য হবে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এই হামলাকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে অ্যামনেস্টি। আইন অনুযায়ী: বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে হামলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু থাকলেও বেসামরিক ক্ষতি কমাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা নিতে হয় শিশুদের ওপর হামলা বিশেষভাবে গুরুতর অপরাধ অ্যামনেস্টির জ্যেষ্ঠ পরিচালক এরিকা গেভারা-রোসাস বলেন: “যদি লক্ষ্যবস্তুটিকে স্কুল হিসেবে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়, তবে এটি গোয়েন্দা ও পরিকল্পনার বড় ধরনের ব্যর্থতা।” তিনি আরও বলেন: “আর যদি জানা সত্ত্বেও হামলা চালানো হয়ে থাকে, তবে তা নির্বিচার হামলা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ।” যুদ্ধাপরাধের আশঙ্কা মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনাকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধাপরাধ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচ্য: লক্ষ্যবস্তু বেসামরিক ছিল কি না হামলার সময় সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল কি না সামরিক প্রয়োজনীয়তা বনাম বেসামরিক ক্ষতির অনুপাত এই তিনটি ক্ষেত্রেই মিনাব হামলা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপট এই হামলাটি এমন এক সময় ঘটেছে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে: এই যুদ্ধ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেই শুরু হয়েছে আঞ্চলিক শক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

অর্থনীতি

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বাংলাদেশে জ্বালানি আমদানিতে সীমাবদ্ধতা, বাজেটে সতর্কতার পরামর্শ দিলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0




অপরাধ

বিয়াম ফাউন্ডেশন

বিয়াম ভবনে বিস্ফোরণ ও হত্যাকাণ্ড:পরিকল্পিত নাশকতার অভিযোগ, এক বছরেও থমকে তদন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

উদ্ভাবিত নতুন জাতের ধান

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল চিকন ধান ‘জিএইউ ধান ৪’: স্বল্পমেয়াদী, উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ আউশ ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0