ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মাসিক সর্বমোট ৪৯ হাজার টাকা বেতন পাওয়া দশম গ্রেডের এই কর্মকর্তা নিজের ও স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। রাজধানীতে প্লট, কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন, ফ্ল্যাট, কৃষিজমি, ব্যাংকে বিপুল অর্থসহ নানা সম্পদের তথ্য পেয়েছে অনুসন্ধানকারীরা। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর নথি জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল কুষ্টিয়ায়। আয়কর নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিশাল অসংগতি রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য আয়কর নথিতে গোপন রাখা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে একরামুল হক দাবি করেন, অধিকাংশ সম্পদের মালিক তার ভাই। তবে কী কারণে সেই সম্পদ নিজের নামে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের ট্যাক্স ফাইলে পেশা হিসেবে “ব্যবসায়ী” উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি মূলত গৃহিণী। এত বিপুল সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে একরামুল বলেন, “আমি বাসায় গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করব।” বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট: একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। খতিয়ান নম্বর ১১৬৭৮-এর এই প্লটের বর্তমান বাজারমূল্য অন্তত ৩০ কোটি টাকা বলে জানা গেছে। গত জানুয়ারিতে শাম্মী আক্তার ওই প্লটের নামজারির আবেদন করেছেন। সেই আবেদনপত্রের কপিও অনুসন্ধানকারীদের হাতে এসেছে। তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। শাম্মী আক্তারের নামে নামজারির আবেদন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমাদের এমন কোনো সম্পত্তি নেই।” কুষ্টিয়ায় বহুতল ভবন ও জমির পর জমি: একরামুল দম্পতির সম্পদের বড় অংশ কুষ্টিয়া জেলায়। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদরে নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল হক। চৌড়াহাস-২২ মৌজার ৬০০৩ খতিয়ানে মুক্তির পুকুরপাড় এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবনটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া কুষ্টিয়া সদরের ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজার ৪০৮/১ খতিয়ানে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমির মালিকানা রয়েছে একরামুলের। এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একই এলাকায় নিজের নামে একটি ফ্ল্যাট ও ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিও কিনেছেন তিনি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামেও কোটি টাকার সম্পদ: স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামেও একাধিক সম্পত্তির তথ্য পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়া সদরের হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ জমি এবং হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার পাঁচটি খতিয়ানে ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি রয়েছে তার নামে। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, জমি দুটির বর্তমান বাজারমূল্য যথাক্রমে প্রায় ৬০ লাখ ও ৫০ লাখ টাকা। পান বরজ, বাগান ও তামাক ক্ষেত: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায়ও বিপুল জমির মালিক একরামুল হক। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজার ১৯০ নম্বর খতিয়ানে প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পান বরজ করেছেন তিনি। এর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। একই মৌজার ১১৬৭ খতিয়ানে প্রায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমি কিনে সেখানে বাগান গড়ে তুলেছেন। এই জমির মূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। এ ছাড়া পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজারে তার একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে। একই এলাকায় বিপুল কৃষিজমিও রয়েছে তার নামে। হাজরাহাটি-৫৩ মৌজার ৬৯৫ খতিয়ানে প্রায় ১২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনে সেখানে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই মৌজা ও খতিয়ানে আরও ২২৫ দশমিক ১৭ শতাংশ জমি কিনেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া একই মৌজার ২৫-৮৫০ খতিয়ানে ২৯৭ শতাংশ বা প্রায় ৯ বিঘা জমির মালিক একরামুল, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লাখ লাখ টাকা: স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকেও রয়েছে একরামুল দম্পতির বিপুল অর্থ। অনুসন্ধানে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকে একরামুলের একাধিক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। অন্যদিকে শাম্মী আক্তারের নামে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ও অগ্রণী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট। এসব হিসাবে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকে প্রায় ৩ লাখ টাকা, সোনালী ব্যাংকে প্রায় ২০ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকে প্রায় ৪৩ লাখ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে প্রায় ২১ লাখ টাকা এবং অগ্রণী ব্যাংকে প্রায় ৪ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলে জানা গেছে। দুদকের নজরদারিতে একরামুল দম্পতি: দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের অসামঞ্জস্য পাওয়ায় একরামুল দম্পতির বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। বিশেষ করে স্বল্প বেতনের একজন সরকারি কর্মচারীর নামে ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একরামুল হক বলেন, “আমার সামান্য কিছু সম্পত্তি আছে। বাকি যা আছে, তা আসলে আমার ভাইয়ের। ভুলক্রমে অনলাইন ডকুমেন্টে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের একজন প্রকল্প পরিচালকের সম্পদের বহর ও ব্যাংক হিসাবের লেনদেন দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কর্মকর্তারা। তার ৯৪টি ব্যাংক হিসাবে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১২৮ কোটি টাকা। তার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ৩৩ কোটি টাকার। আলোচিত ওই কর্মকর্তার নাম মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনি সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের কক্সবাজার জোন অফিসের মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফ্রেন্ড পাওয়ার প্রজেক্টের (আরএইচডি) প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও সওজ প্রধান কার্যালয়ে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রিজার্ভ) হিসেবে কর্মরত। দুদুক এরই মধ্যে তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এবং বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। শিগগির কমিশনে তার বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলার সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। আয় ও সম্পদের হিসাব প্রাপ্ত নথি থেকে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম তার আয়কর নথিতে দেখিয়েছেন ৪ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার ৭৪৩ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে দুদকের অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া গেছে ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। অনুসন্ধানকালে দুদক জাহাঙ্গীর আলমের ২৯ কোটি ২৫ লাখ ১৮৪ টাকার জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ থাকার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। ব্যাংক লেনদেনের বিস্তৃতি জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলমের বৈধ আয়ের খাত অনুযায়ী সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়, তার অতীত সঞ্চয় ৪১ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৪ টাকা। বেতন থেকে আয় ৮২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৭৯ টাকা। ব্যাংক সুদ থেকে আয় ১ কোটি ৩০ লাখ ২৯ হাজার ৩৩ টাকা। করমুক্ত আয় ৩৮ লাখ ৪০ হাজার ৪৭৫ টাকা। রেমিট্যান্স থেকে আয় ২ লাখ ৭১ হাজার ৫২১ টাকা। মূলধনি আয় ১২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬০ টাকা। দায়-দেনা ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা। তার বৈধ মোট সম্পদ ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৬৬ হাজার ১০৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন দুদক সূত্রে জানা গেছে, মো. জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে অনুসন্ধানকালে বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করা হয়েছে। পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাহাঙ্গীর আলম মোট ৪৯ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ এবং ৩১ লাখ ২ হাজার ৪৫৯ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৩১ কোটি ৪৯ লাখ ৬৬ হাজার ১০৯ টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন। এ সময় তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় পাওয়া যায় ৬৮ লাখ ৫৫ হাজার ৫৩৭ টাকা। এই ব্যয়সহ তার নিট সম্পদের পরিমাণ ৩২ কোটি ১৮ লাখ ২১ হাজার ৬৪৬ টাকা। অন্যদিকে, তার নামে প্রাপ্ত গ্রহণযোগ্য বৈধ উৎসের পরিমাণ ৩ কোটি ১১ লাখ ১০ হাজার ১৯২ টাকা। তিনি ২৯ কোটি ৭ লাখ ১১ হাজার ৪৫৪ টাকা তার আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ। এই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রেখে দুদক আইন ২০০৪ এর ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি হিসাবে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২২৬ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। যার পক্ষে বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি। তিনি এই অবৈধ অর্থ বারবার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রদান ও উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করে লেয়ারিং করেছেন। অর্থের উৎস গোপন করার মাধ্যমে বৈধ করার ছদ্মাবরণে এ অর্থের হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থের অবস্থান গোপনপূর্বক ছদ্মাবরণে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪ (২), (৩) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। সন্দেহজনক লেনদেন ও এফডিআর দুদক কর্মকর্তারা জানান, জাহাঙ্গীর আলম অসাধু উপায়ে ২৯ কোটি বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি হিসাবে মোট ৭৮ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার ৩০৩ টাকা জমা ও ৪৮ কোটি ৪৭ লাখ ৭৯ হাজার ৯২৩ টাকা তুলে নিয়েছেন। তার হিসাবে সর্বমোট ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ ১৩ হাজার ২২৬ টাকার সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। ২০১২ সালের ৪ জুলাই থেকে ২০২৪ সালের ১৪ মে পর্যন্ত সময়ে তিনি এসব লেনদেন করেছেন। ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ন্যাশনাল হাউজিং ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও আইডিএলসি ফাইন্যান্সে এসব হিসাব খোলা ও লেনদেন করা হয়েছে। এসব টাকা দফায় দফায় বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে প্রদান ও উত্তোলনের মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন করেছেন। অর্থ লেনদেনের লেয়ারিং ঘটিয়ে অর্থের উৎস গোপন করার মাধ্যমে বৈধ করার অপচেষ্টা করেন। এসব অর্থের হস্তান্তর, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে অর্থের অবস্থান গোপনপূর্বক ছদ্মাবরণে তা বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে তিনি দুদক আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। ৭৭টি এফডিআরসহ মোট ৮২ আমানত , লেনদেন হয়েছে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জাহাঙ্গীর আলমের বিষয়ে বিএফআইইউর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী তার ব্যাংক বিবরণীতে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে প্রকল্প পরিচালক হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তার নামে বেতন-ভাতা বাবদ জমা হয়েছে ৯৮ লাখ টাকা। অথচ তার নামে ৭৭টি এফডিআরসহ মোট ৮২ আমানত হিসাবে (৫টি সঞ্চয়ী ও ৭৭টি স্থায়ী আমানত) লেনদেন হয়েছে ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন জানা গেছে, ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর ব্র্যাক ব্যাংকের বসুন্ধরা শাখায় একটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন জাহাঙ্গীর আলম। বিভিন্ন সময় এ হিসাবে ২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা জমা হওয়ার পর সব টাকাই তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের করপোরেট শাখায় আরেকটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন ২০১৬ সালের ২৩ অক্টোবর। এই হিসাবে বিভিন্ন সময় ১২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা জমা করার পর তা তুলে নেন। ২০২১, ২০২৩, ২০২৪ সালে গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক পিএলসি গুলশান করপোরেট শাখায় ১৮টি এফডিআর এবং একটি সঞ্চয়ী হিসাব খুলে জমা করেন ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। সমপরিমাণ টাকা এসব হিসাবে জমা আছে। ২০১২ সালে জাহাঙ্গীর আলম আরেকটি সঞ্চয়ী হিসাব খোলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রগতি সরণি শাখায়। এই হিসাবে ৩৮ কোটি টাকা জমা করা হয়। তুলে নেওয়া হয়েছে ৩৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ১১টি এফডিআর এবং ডিপিএস হিসাব খুলে ৮ কোটি ৮ লাখ টাকা জমা করা হয়। সমপরিমাণ টাকা জমা আছে। ২০২৪ সালের জুন-জুলাইয়ে আইডিএলসি ফিন্যান্স পিএলসি উত্তরা শাখায় ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার ১৭টি এফডিআর করেন তিনি। এসব টাকার স্থিতি আছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ১৩ কোটি ৮ লাখ টাকার ৩১টি এফডিআর করেছেন ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স পিএলসি গুলশান শাখা এবং প্রিন্সিপাল শাখায়। এগুলো এখনো স্থিতি আছে। ২০১৫ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী, গোপালগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও এবং ঢাকার বারিধারা শাখায় খোলা হিসাবে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা জমা করে তা তুলে নেন জাহাঙ্গীর আলম। এসব হিসাবে তিনি মোট ১২৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন করেন। জমা থাকা ৩০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা জব্দ করেছে দুদক ও বিএফআইইউ। কে এই জাহাঙ্গীর: মো. জাহাঙ্গীর আলম, মাতারবাড়ী আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল ফ্রেন্ড পাওয়ার প্রজেক্টের (আরএইচডি) প্রকল্প পরিচালক। তার বাবার নাম ছিদ্দিক মিয়া। থাকেন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বি ব্লকের একটি বাসায়। তিনি ফেনী সদর উপজেলার ফতেহপুর জাহানপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। কর্মজীবনে তিনি ঠাকুরগাঁও, গোপালগঞ্জ ও রাজশাহী সড়ক বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের সড়ক উন্নয়ন অংশের পিডি। গত বছরের ২৪ অক্টোবর জাহাঙ্গীর আলম ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ ইব্রাহিম মিয়া ওই আদেশ দেন। দুদক বলছে, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংসহ নিজের ও নির্ভরশীলদের নামে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। তিনি এবং তার স্ত্রী দেশ ছেড়ে বিদেশে পালানোর এবং স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর করার চেষ্টায় আছেন বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। সে কারণে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। দুদকের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এটা তো অনেক পুরোনো অভিযোগ, আমি তো বিষয়টি ভুলেই গেছি। ব্যাংক হিসাবে ১০ টাকা কয়েকবার লেনদেন হলেও অনেক বড় অঙ্ক দেখায়। দুদক কীসের ভিত্তিতে প্রতিবেদন করেছে আমার জানা নেই।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের এক তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী থেকে দ্রুত সম্পদশালী হয়ে ওঠার অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র, সহকর্মী ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে তার সম্পদ অর্জনের উৎস নিয়ে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। সাধারণ পরিবার থেকে বিত্তশালী নওগাঁর মান্দা উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের হাজী গবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আজিজ। তার বাবা আব্দুল জলিল ছিলেন একজন কৃষক এবং সাবেক ইউপি সদস্য। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাদের মোট জমির পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ বিঘা, এবং দীর্ঘদিন আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যেই চলেছে পরিবারটি। একই পরিবারের একমাত্র সন্তান আজিজ কষ্ট করেই পড়াশোনা শেষ করেন। এসএসসি পাসের পর রাজশাহী সরকারি সার্ভে ইনস্টিটিউট থেকে ২০০৭-০৮ সালের দিকে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করেন। ২০০৯ সালের অক্টোবরে সড়ক ও জনপথ বিভাগে সার্ভেয়ার হিসেবে যোগ দেন তিনি। অল্প সময়ে সম্পদের বিস্তার চাকরিতে যোগদানের প্রায় ১৪ বছরের মধ্যে তার সম্পদের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে স্থানীয়দের দাবি। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিজ এলাকায় একটি এলপিজি ফিলিং স্টেশন স্থাপন করেছেন, যার আনুমানিক ব্যয় প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া রাজশাহী শহরে একাধিক বাড়ি, প্লট এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে তার। স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী: রাজশাহী শহরের হেতেমখাঁ এলাকায় পাঁচতলা একটি ভবন (প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্য) শহরে আরও একটি তিনতলা বাড়ি আরডিএ ভবনের পাশে উচ্চমূল্যের একটি প্লট গ্রামের বাড়িতে আলিশান নতুন নির্মাণ বিল উতরাইল মৌজায় বাবার নামে প্রায় ১০ বিঘা জমি বিভিন্ন স্থানে দোকানঘর ও জমি বিনিয়োগ এছাড়া তার পরিবারের কাছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ স্বর্ণ মজুদের কথাও জানা গেছে। অভিযোগের ধরন: লিজ বাণিজ্য ও প্রভাব খাটানো একাধিক সূত্র জানায়, সড়ক ও জনপথের জমি লিজ দেওয়ার নামে তিনি বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে—মহাসড়কের পাশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাড়ির মালিকদের কাছ থেকে লিজের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লাখ লাখ টাকা নিয়েছেন। মান্দা উপজেলার এক ব্যবসায়ী বলেন, “তার মাধ্যমে জমির লিজ নিয়েছি। কাগজপত্রও দিয়েছেন। কিন্তু পরে জানতে পারি বিষয়টি পুরোপুরি স্বচ্ছ নয়।” আরেকজন সওজ কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, “অনেক ক্ষেত্রে মৌখিক লিজ দিয়ে অর্থ নেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।” ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়েও অভিযোগ একটি বিতর্কিত অভিযোগও সামনে এসেছে—একটি বহুতল ভবন সওজের জমিতে পড়েছে দেখিয়ে ভেঙে ফেলার ভয় দেখিয়ে ওই ভবনের মালিকের মেয়েকে বিয়ে করেন আজিজ। পরে সেই সম্পর্ক বিচ্ছেদে গড়ায়, এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগও উঠে আসে। অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষাপট এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়েছিল বলে জানা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, তা কার্যকরভাবে এগোয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আব্দুল আজিজ বলেন, “গ্রামের বাড়ি ছাড়া শহরে আমার তেমন কিছু নেই। আরডিএ ভবনের পাশে একটি প্লট কিনেছি, সেটিও শেয়ার ভিত্তিতে।” প্রশ্ন রয়ে যায় একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর বেতন কাঠামো বিবেচনায় এনে স্থানীয় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছে—স্বল্প সময়ে এত বিপুল সম্পদ অর্জনের উৎস কী? এসব সম্পদ কি তার ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ? এই অভিযোগগুলো নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত ও জবাবদিহির দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর ইউনিয়নের বামনবাড়িয়া গ্রামে দুই সহোদর সরকারি কর্মকর্তা—রফিকুল ইসলাম শফি ও মো. শওকত আলীকে ঘিরে দীর্ঘদিনের জমি দখল, প্রভাব বিস্তার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এখন ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই দুই ভাই সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর এলাকায় প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেন। এরপর থেকেই জমি সংক্রান্ত বিরোধ, কৃষিজমি দখল এবং প্রশাসনিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম শফি বগুড়া পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে স্থানীয়রা জানান। অন্যদিকে তার ছোট ভাই মো. শওকত আলী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বোয়েসেল-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, চাকরিতে যোগদানের আগে পরিবারটির সম্পদ সীমিত থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। গ্রামে দৃষ্টিনন্দন ভবন, কৃষিজমি ক্রয়, ঢাকায় সম্পদ অর্জন—এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জমি দখলের অভিযোগ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও কৃষকের অভিযোগ, বিভিন্ন সময় কৃষিজমি দখল, বন্ধকি জমি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া এবং দরিদ্র কৃষকদের ওপর চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে জমি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, ১৯৮৭ সাল থেকে চাষাবাদ করা কিছু জমি ২০১০ সালের পর তাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাব ও প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে এসব ঘটনা ঘটেছে। আরেক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পারিবারিক এক একর জমিও প্রভাব খাটিয়ে দখল করা হয়েছে, যেখানে পরিবারের আরও সদস্যদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও রয়েছে। ভয়ভীতি ও প্রভাবের অভিযোগ স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সরকারি পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছিল যেখানে কেউ প্রকাশ্যে বিরোধিতা করতে সাহস পাননি। অভিযোগ রয়েছে, কেউ আপত্তি তুললে মামলা বা সামাজিক হয়রানির ভয় দেখানো হতো। জ্ঞাতবহির্ভূত সম্পদের প্রশ্ন গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দুই ভাইয়ের সম্পদের পরিমাণ তাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গ্রামের বাড়ি, কৃষিজমি, ঢাকার সম্পদ—সবকিছু নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে এবং পরবর্তীতে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয় বলে জানা গেছে। অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের সাক্ষ্য গ্রহণ এবং নথিপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি সূত্র বলছে, জমির দলিল, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন ও সম্পদের উৎস যাচাই করে তদন্ত এগোতে পারে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। অভিযুক্তদের অবস্থান অভিযুক্ত মো. শওকত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বৈধ আয় ও সঞ্চয়ের মাধ্যমে সম্পদ অর্জন করেছেন। রফিকুল ইসলাম শফির পক্ষ থেকেও অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলা হয়েছে।
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর এক দশম গ্রেডের কর্মকর্তা, মাসিক বেতন প্রায় ৪৯ হাজার টাকা। অথচ সেই সীমিত বেতনের মধ্যেই গড়ে উঠেছে অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের পাহাড়—এমন অভিযোগ উঠেছে এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী একরামুল হকের বিরুদ্ধে। একরামুল বর্তমানে কুমিল্লা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, তার ও তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের নামে মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০ কোটিরও বেশি। এর মধ্যে স্ত্রীর নামে রয়েছে প্রায় ৩০ কোটি টাকার সম্পদ এবং নিজের নামে অন্তত ২০ কোটি টাকার সম্পদ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ইতোমধ্যে এ বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে। আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের মধ্যে বড় ধরনের অসংগতি পেয়েছে সংস্থাটি। আয়কর নথিতে গরমিল অনুসন্ধানে জানা গেছে, একরামুল হকের বাড়ি কুষ্টিয়ায় হলেও তিনি আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন যশোরে। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর ফাইল রয়েছে কুষ্টিয়ায়। কিন্তু আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, জ্ঞাত আয়ের বাইরে অন্তত ৫০ কোটি টাকার সম্পদের তথ্য সেখানে উল্লেখ করা হয়নি। এ বিষয়ে একরামুল হকের দাবি, এসব সম্পত্তির মালিক তার ভাই। তবে কেন সেসব সম্পত্তি তার নামে রাখা হয়েছে—এ প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে তার স্ত্রী শাম্মী আক্তারের আয়কর নথিতে পেশা হিসেবে “ব্যবসায়ী” উল্লেখ করা হলেও স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি একজন গৃহিণী। বসুন্ধরায় ৩০ কোটি টাকার প্লট একরামুল দম্পতির সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ডুমনি মৌজায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ জমির একটি প্লট। ওই এলাকায় প্রতি শতাংশ জমির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা হিসেবে প্লটটির সম্ভাব্য মূল্য দাঁড়ায় অন্তত ৩০ কোটি টাকা। গত জানুয়ারি মাসে শাম্মী আক্তার এই জমির নামজারির আবেদন করেছেন বলে নথিতে দেখা গেছে। তবে একরামুল ও তার স্ত্রী দাবি করেছেন, বসুন্ধরায় তাদের কোনো সম্পত্তি নেই। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে একরামুল বলেন, “আমরা এমন কোনো সম্পত্তির মালিক নই। বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না।” কুষ্টিয়ায় জমি ও বহুতল ভবন নথি অনুযায়ী, কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় নিজের ও স্ত্রীর নামে মোট পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল। চৌড়াহাস-২২ মৌজায় প্রায় ৪ দশমিক ৯১ শতাংশ জমি কিনে সেখানে একটি ছয়তলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। জমি ও ভবন মিলিয়ে এর বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। ঢাকা ঝালুপাড়া-২৭ মৌজায় তার নামে রয়েছে প্রায় ৬৬ শতাংশ জমি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। এছাড়া একই এলাকায় ১ দশমিক ১২৩ শতাংশ জমিসহ একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে একাধিক জমি শাম্মী আক্তারের নামে কুষ্টিয়া সদরে দুটি জমির সন্ধান পাওয়া গেছে। হাটশ হরিপুর-১৮ মৌজায় ১৮ দশমিক ৯৭৫ শতাংশ জমি (মূল্য প্রায় ৬০ লাখ টাকা) হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় ৪৪ দশমিক ১৬ শতাংশ জমি (মূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা) স্থানীয় সূত্র বলছে, এসব জমির বর্তমান বাজারমূল্য আরও বেশি হতে পারে। কৃষিজমি, পান বরজ ও বাগান কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় নিজের নামে আরও পাঁচটি জমি কিনেছেন একরামুল। বারুইপাড়া ইউনিয়নের কেউপুর-৫২ মৌজায় প্রায় ৫৫ শতাংশ জমি কিনে সেখানে পানের বরজ তৈরি করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ লাখ টাকা। একই মৌজায় ৫৮ দশমিক ৫০ শতাংশ জমিতে গড়ে তুলেছেন বাগান, যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। তামাক ক্ষেত ও বড় কৃষিজমি পোড়াদহ হাজরাহাটি বাজার এলাকায় একরামুলের একটি দোতলা বাড়ি ও চারটি দোকান রয়েছে। এছাড়া হাজরাহাটি-৫৩ মৌজায় প্রায় চার বিঘা জমি কিনে সেখানে তামাক ক্ষেত করেছেন, যার বাজারমূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। একই এলাকায় আরও প্রায় সাত বিঘা জমির মূল্য প্রায় আড়াই কোটি টাকা। এছাড়া প্রায় ৯ বিঘা জমি রয়েছে যার বাজারমূল্য প্রায় ৪ কোটি টাকা। ব্যাংক হিসাবেও লাখ লাখ টাকা স্থাবর সম্পদের পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকেও অর্থ জমা রয়েছে একরামুল দম্পতির। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী— স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক: প্রায় ৩ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংক: প্রায় ২০ লাখ টাকা মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক: প্রায় ৪৩ লাখ টাকা ডাচ্-বাংলা ব্যাংক: প্রায় ২১ লাখ টাকা অগ্রণী ব্যাংক: প্রায় ৪ লাখ টাকা দুদকের তদন্ত একরামুল দম্পতির সম্পদের উৎস নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আয়কর নথিতে ঘোষিত আয়ের সঙ্গে বাস্তব সম্পদের বিশাল ব্যবধানের কারণে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের প্রমাণ মেলে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।