ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস রেজিস্ট্রেশনসংক্রান্ত বহুল আলোচিত সিভিল আপিল নং-৬০/২০১৭ মামলার রায়কে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ। সংগঠনটি বলছে, আদালতের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশের আগেই নানা ধরনের ব্যাখ্যা ও দাবি প্রচার করা হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। সংগঠনের দাবি, এ ধরনের তথ্য প্রচার থেকে বিরত থেকে আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায়ের জন্য অপেক্ষা করাই হবে দায়িত্বশীল ও আইনসম্মত আচরণ। মঙ্গলবার (২৪ জুন ২০২৬) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) দায়ের করা আপিল মঞ্জুর করেন। তবে শুনানি-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের বক্তব্য হলো, আদালত ঘোষিত আদেশে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস পরিচালনা বন্ধ, স্থগিত কিংবা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে কোনো পৃথক নির্দেশনা দেননি। অথচ বিভিন্ন মাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা আদালতের ঘোষিত আদেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে। বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের মহাসচিব লায়ন মুহাম্মদ কামাল হোসেন এক বিবৃতিতে বলেন, পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশের আগে অনুমাননির্ভর মন্তব্য, গুজব কিংবা অপপ্রচার আদালতের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে। তাই সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী এবং সাধারণ জনগণকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে তথ্য যাচাই করে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আদালতের পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায় প্রকাশিত হওয়ার পর রায়ের আইনগত ব্যাখ্যা, এর বাস্তবিক প্রভাব এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। কেন এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আপিল বিভাগের সংক্ষিপ্ত আদেশ (Short Order) এবং পূর্ণাঙ্গ লিখিত রায়ের (Full Judgment) মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণ থাকতে পারে। ফলে কেবল সংক্ষিপ্ত আদেশের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়ে চূড়ান্ত দাবি করা বিভ্রান্তির জন্ম দিতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদ বলছে, আদালতের লিখিত রায় প্রকাশের আগ পর্যন্ত যেকোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা সতর্কতার সঙ্গে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। সংগঠনটি একই সঙ্গে ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে, আদালতের চূড়ান্ত লিখিত নির্দেশনার আলোকেই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশে এক ব্যারিস্টারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য ও পাল্টা অভিযোগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এম সারোয়ার হোসেন-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে যে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করছেন। যদিও এসব অভিযোগ তিনি প্রকাশ্যে অস্বীকার করেছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। অন্যদিকে, দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ-এর চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান গত বছরের ২২ নভেম্বর ঢাকার একটি আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় কী বলা হয়েছে? মামলার অভিযোগে বলা হয়, বিবাদী দীর্ঘদিন ধরে বাদী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে “মিথ্যা, মানহানিকর ও অপপ্রচারমূলক” বক্তব্য দিয়ে আসছেন, যার ফলে তাদের সামাজিক ও ব্যবসায়িক সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। এছাড়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে বিতর্ক সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন দাবি করেন, বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে। তবে এ ধরনের দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। বিশ্লেষকরা বলছেন, উল্লিখিত জমির পরিমাণ দেশের রাজধানী ঢাকার আয়তনের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, যা তথ্যটির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। মিডিয়া কভারেজ নিয়ে প্রশ্ন ব্যারিস্টার সারোয়ার তার পোস্টে দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি। তবে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল বলে জানা যায়। অতীত বিতর্ক এর আগেও বিভিন্ন ঘটনায় ব্যারিস্টার সারোয়ার হোসেন আলোচনায় এসেছেন। এক পর্যায়ে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার আইনজীবী প্যানেলে যুক্ত হন। পরে স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ ওঠায় তিনি সেই প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ান। আইনি প্রশ্ন আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারাধীন বিষয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করা কতটা গ্রহণযোগ্য—সে প্রশ্নও এখানে উঠে আসছে। একই সঙ্গে মানহানিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা আইনের আওতায় আসতে পারে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লার লামাপাড়া এলাকা থেকে দিনের আলোতেই অপহরণ করা হয় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে। তিন দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে উদ্ধার হয় তাদের মরদেহ। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এই ঘটনাটি পরিণত হয় সাম্প্রতিক বাংলাদেশের সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ডগুলোর একটিতে। এক যুগ পেরিয়ে গেলেও মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে ২০১৯ সাল থেকে বিচারাধীন থাকা এই মামলার অগ্রগতি এখনো ধীর—যা নিয়ে ক্ষোভ, হতাশা ও অনিশ্চয়তায় ভুগছেন নিহতদের পরিবার। কারা ছিলেন নিহত? এই ঘটনায় নিহত সাতজন হলেন: নজরুল ইসলাম (প্যানেল মেয়র) মনিরুজ্জামান স্বপন তাজুল ইসলাম লিটন জাহাঙ্গীর আলম (চালক) আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ইব্রাহিম (চালক) ঘটনার পর পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয় ফতুল্লা থানায়—একটি নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং অন্যটি আইনজীবী চন্দনের জামাতা বিজয় কুমার পাল করেন। ঘটনাপ্রবাহ: অপহরণ থেকে রায় অপহরণের শিকার সাতজনের মধ্যে ছিলেন নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন, চালক জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার এবং তার গাড়িচালক ইব্রাহিম। ঘটনার পর দুটি পৃথক মামলা হয় ফতুল্লা থানায়। একটি করেন নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি, অন্যটি আইনজীবী চন্দনের জামাতা বিজয় কুমার পাল। বিচারিক আদালতের রায় (২০১৭) ৩৩ মাসের বিচার শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালত ২০১৭ সালের ১৬ জানুয়ারি রায়ে: * ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড * ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন হাইকোর্টের রায় (২০১৭) পরবর্তীতে হাইকোর্ট: * ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে * ১১ জনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন করে * বাকি ৯ জনের সাজা বহাল রাখে আপিলে স্থবিরতা: কোথায় আটকে মামলা? মামলাটি এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। কিন্তু অগ্রগতির মূল বাধা হিসেবে উঠে এসেছে “সারসংক্ষেপ জমা” প্রক্রিয়া। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, আপিলকারীরা সারসংক্ষেপ জমা দিলেই তারা দ্রুত শুনানির জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, তারা এখনো তাদের মক্কেলের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাননি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের জটিল ফৌজদারি মামলায় সারসংক্ষেপ দাখিল দেরি হলে পুরো বিচারপ্রক্রিয়াই স্থবির হয়ে পড়ে। অভিযোগ ও বিতর্ক: ক্ষমতার প্রভাব? ঘটনার পর থেকেই মামলাটি রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাবের অভিযোগে ঘেরা। নিহত নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বিপুল অর্থের বিনিময়ে র্যাবের কিছু সদস্যকে ব্যবহার করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তদন্তে র্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার প্রমাণও উঠে আসে। ঘটনার পর: * র্যাব-১১-এর তিন শীর্ষ কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হয় * তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এই দিকগুলো মামলাটিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ভুক্তভোগী পরিবার: “বিচার বিলম্ব মানেই বিচার না পাওয়া” নিহতদের পরিবার বলছে, দীর্ঘসূত্রতা তাদের মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। সেলিনা ইসলাম বিউটির ভাষায়, প্রভাবশালী আসামিদের কারণে বিচারপ্রক্রিয়া ধীর হচ্ছে—এমন আশঙ্কা তাদের মধ্যে কাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত রায় কার্যকর হলে তবেই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। মানবাধিকার কর্মী ও স্থানীয় নাগরিকদের একটি অংশও মনে করেন: * এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ * বিলম্ব বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা ক্ষুণ্ন করছে কাঠামোগত প্রশ্ন: কেন বিলম্ব? আইন বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলার ধীরগতির পেছনে কয়েকটি কাঠামোগত কারণ থাকতে পারে: ১. আপিল প্রক্রিয়ার জটিলতা** মৃত্যুদণ্ডের মামলায় আপিল, ডেথ রেফারেন্স এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশাল আকারের হয়। ২. পক্ষগুলোর প্রস্তুতির বিলম্ব** সারসংক্ষেপ জমা না দিলে শুনানি শুরু করা সম্ভব হয় না। ৩. আদালতের মামলার চাপ** উচ্চ আদালতে বিপুল সংখ্যক মামলার কারণে সময় নির্ধারণে বিলম্ব হয়। আইন অনুযায়ী: * আপিলকারীরা সারসংক্ষেপ জমা দিলে শুনানি শুরু হতে পারে * এরপর আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় দেবে তবে কবে এই প্রক্রিয়া শেষ হবে, তা অনিশ্চিত। নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলাটি শুধু একটি অপরাধের বিচার নয়—এটি বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার সক্ষমতা, জবাবদিহি এবং আইনের শাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এক যুগ পরও চূড়ান্ত রায় না আসা প্রশ্ন তোলে— বিচার কি কেবল রায় ঘোষণায়, নাকি সময়মতো তা কার্যকর হওয়াতেও? নিহতদের পরিবারের জন্য উত্তরটি স্পষ্ট: বিচার বিলম্বিত হলে, তা অনেক সময় বিচার অস্বীকারের সমান।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।