Brand logo light

আশিক চৌধুরী

আশিক চৌধুরী,  আঁখি বেগম
বরিশালের ‘বিউটি সিনেমা হল’ জমি ঘিরে কোটি টাকার বিরোধ:ভবনে অগ্নিসংযোগ, দখলচেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি

বায়না, পার্টনারশিপ ও হেবা দলিলের অভিযোগ- ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল নগরীর ঐতিহ্যবাহী ‘বিউটি সিনেমা হল’ ও সংলগ্ন প্রায় ৪০ শতাংশ জমি ঘিরে কয়েক বছর ধরে চলা বিরোধ এখন গড়িয়েছে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ, জমির মালিকানা, বায়না ও ডেভেলপমেন্ট চুক্তি, হেবা দলিল, ভবনে অগ্নিসংযোগ এবং নিরাপত্তার অভিযোগ পর্যন্ত। ব্যবসায়ী আবুল হাসান কুদ্দুস ও তার অংশীদারদের অভিযোগ, জমিটি কেনা এবং সেখানে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তারা ধাপে ধাপে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। তাদের দাবি, প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের ওই জমি নিয়ে প্রথমে রেজিস্ট্রি বায়না হয় এবং এর বিপরীতে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। পরে ডেভেলপমেন্ট ও পার্টনারশিপের মাধ্যমে প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও চুক্তির মেয়াদ ও অংশীদারিত্ব বহাল থাকা অবস্থায় সম্পত্তির একটি অংশ গোপনে হেবা দলিলের মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে সম্পত্তি অন্য ডেভেলপারদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ, ভবনের অংশবিশেষ ভাঙা, গভীর রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ আরও তীব্র হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে  আশিক চৌধুরী,  আঁখি বেগম এবং অভিযোগে উঠে আসা অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া না দেওয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য প্রতিবেদনে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। ৮ কোটি টাকার জমি, বায়না ও ২ কোটি ৭ লাখ টাকা আবুল হাসান কুদ্দুসের দাবি, বিউটি সিনেমা হলসহ প্রায় ৪০ শতাংশ জমির মূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করে জমির মালিক জুলফিকার আলী চৌধুরীর সঙ্গে রেজিস্ট্রি বায়না করা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বায়না রেজিস্ট্রির সময় নগদ ১ কোটি টাকা দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন ধাপে আরও ১ কোটি ৭ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে জুলফিকার আলী চৌধুরীকে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি কুদ্দুসের। কিন্তু অভিযোগকারীদের দাবি, ওই অর্থ নেওয়ার পর একই সম্পত্তি নিয়ে আক্তারুজ্জামান নামে আরেক ব্যক্তির সঙ্গে পুনরায় রেজিস্ট্রি বায়না করা হয়। এতে প্রথম বায়নাকারী হিসেবে তারা বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েন বলে দাবি করেন। বিষয়টি জানার পর বিনিয়োগ করা অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য জুলফিকার আলী চৌধুরীর কাছে তারা যোগাযোগ করেন বলেও জানান কুদ্দুস।   বায়না থেকে ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প পরিস্থিতির সমাধান করতে পরে তাদের একজন ডেভেলপার কাজী মফিজুল ইসলামের কাছে নেওয়া হয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। এরপর বিউটি সিনেমা হলের জমিতে একটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন ব্যবস্থায় আবুল হাসান কুদ্দুসসহ তিন অংশীদারকে প্রকল্পে মোট ৩০ শতাংশ অংশীদারিত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। প্রত্যেকের অংশ নির্ধারণ করা হয় ১০ শতাংশ করে। পাশাপাশি প্রকল্পের স্টল ও ফ্ল্যাট বিক্রি থেকে পাওয়া প্রথম লভ্যাংশের মাধ্যমে আগের বিনিয়োগের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা। এই পর্যায়ে আগের বায়না বাতিল করে কাজী মফিজুল ইসলামকে ডেভেলপার হিসেবে যুক্ত করে নতুন পার্টনারশিপ ডিড করা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। কুদ্দুসের দাবি, বিনিয়োগের অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা হিসেবে ২ কোটি টাকার পাঁচটি চেকও দেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পে বিনিয়োগ ১০ কোটি টাকার বেশি—দাবি ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন সমঝোতার পর প্রকল্পের কাজ এগিয়ে নিতে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়। আবুল হাসান কুদ্দুসের দাবি, ডেভেলপার কাজী মফিজুল ইসলাম প্রকল্পে প্রায় ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেন। একই সময়ে জমির মালিক জুলফিকার আলী চৌধুরীকেও আরও প্রায় ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা দেওয়া হয়। আগের বিনিয়োগের অর্থসহ সব মিলিয়ে প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিনিয়োগ হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। কিন্তু এত অর্থ বিনিয়োগের পরও প্রকল্পের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। পার্টনারশিপ চলার মধ্যেই হেবা দলিলের অভিযোগ বিরোধের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগগুলোর একটি হলো সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পার্টনারশিপ ও প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় জুলফিকার আলী চৌধুরী তার ছেলে আশিক চৌধুরীর নামে সম্পত্তির একটি অংশ হেবা দলিল করে দেন। তাদের দাবি, পরে ওই হেবা দলিলকে ভিত্তি করে আশিক চৌধুরী অন্য ডেভেলপারদের কাছে প্রকল্পটি হস্তান্তর বা বিক্রির চেষ্টা করেন। অভিযোগকারীদের কাছে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে এ কারণে যে, তাদের দাবি করা বিনিয়োগ, অংশীদারিত্ব ও প্রকল্প-সংক্রান্ত চুক্তির পাশাপাশি সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এখানেই প্রশ্ন উঠছে—কোন চুক্তি কখন হয়েছে, কোন অর্থ কার কাছে গেছে এবং পরবর্তী সময়ে সম্পত্তির ওপর কী ধরনের মালিকানা পরিবর্তন করা হয়েছে।  বুলডোজার দিয়ে ভবন ভাঙার অভিযোগ কুদ্দুসের অভিযোগ, পাওনা অর্থ ও চুক্তির অধিকার দাবি করার পর থেকেই তাদের ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। তার দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের প্রভাব কাজে লাগিয়ে প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধের চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বুলডোজার দিয়ে ভবনের একটি অংশ ভেঙে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তারা আবার নিজেদের কার্যালয়ে বসার চেষ্টা করলে নতুন করে চাপ ও হয়রানির ঘটনা ঘটে বলে দাবি তার। কুদ্দুসের আরও অভিযোগ, একপর্যায়ে তাদের সরিয়ে দিতে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বায়না, ডেভেলপমেন্ট চুক্তি, পার্টনারশিপ ডিডসহ বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করেন। পরে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টরা সরে যান বলে দাবি করেন তিনি।   গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, এরপর অগ্নিকাণ্ড বিউটি সিনেমা হলের ভবনকে ঘিরে বিরোধের আরেকটি গুরুতর অভিযোগ অগ্নিসংযোগ। কুদ্দুসের অভিযোগ, ভবনে আগুন দেওয়ার আগে গভীর রাতে ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ ঘটনায় নগরীর লিমন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, আশিক চৌধুরীর নির্দেশে লিমন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এরপরই ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন কুদ্দুস। তার ভাষ্য, ভবন খালি করা এবং জমি থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের বক্তব্য, আগুনের ঘটনায় কারা জড়িত এবং কী উদ্দেশ্যে অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। মামলা চলার মধ্যেই নতুন ডেভেলপারের সঙ্গে চুক্তির অভিযোগ কুদ্দুসের দাবি, জমি ও ভবন নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই লিমন নামের ওই ব্যক্তি আশিক চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে বরিশাল মহানগর বিএনপির এক সাবেক নেতার মাধ্যমে অন্য ডেভেলপারদের সঙ্গে নতুন করে চুক্তির উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এ সময় মোটা অঙ্কের চেক লেনদেনের মাধ্যমে একটি চুক্তিও করা হয়। কুদ্দুসের অভিযোগ, ওই চুক্তির পর থেকেই তাদের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, উচ্ছেদ এবং বিভিন্ন ধরনের হয়রানিমূলক মামলার ভয় দেখানো শুরু হয়। এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে মামলা ও তদন্ত যাতে সুষ্ঠুভাবে এগোতে না পারে, সে জন্য প্রভাবশালী মহলের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায় তদবির করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন কুদ্দুস। বিদেশ থেকে ফোনে হুমকির অভিযোগ ভুক্তভোগী আবুল হাসান কুদ্দুস আরও অভিযোগ করেন, আশিক চৌধুরীর বোন আঁখি বেগম বিদেশে অবস্থান করেও বিরোধের বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। তার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফোন করে আঁখি বেগম দেশের বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি দেখান। এমনকি প্রাণনাশ ও গুমের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন কুদ্দুস। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও রয়েছেন। জমি ও প্রকল্প নিয়ে আইনি লড়াই চললেও বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে তাদের পিছু হটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগ কুদ্দুসের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আশিক চৌধুরী বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে তাদের ভয়ভীতি দেখাতেন। তার দাবি, আশিক চৌধুরীর তৃতীয় স্ত্রী আমিনা বেগমের সিলেটে গ্রামের বাড়ি থাকার সূত্র ধরে সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সুমনের আত্মীয় পরিচয় ব্যবহার করেও তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল মহানগরের সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহর সহধর্মিণী লিপি আবদুল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে দাবি করেও তাদের ভয় দেখানো হতো বলে অভিযোগ করেন কুদ্দুস। তিনি আরও দাবি করেন, আশিক চৌধুরী বরিশাল মহানগরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্রলীগের সভাপতি পদে মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। এসব রাজনৈতিক পরিচয় ও যোগাযোগকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার।   আশিকের বিদেশে অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন   আবুল হাসান কুদ্দুস আশিক চৌধুরীর বিদেশে অবস্থান ও প্রবাসী পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, বিভিন্ন আদালত ও বিভিন্ন স্থানে আশিক নিজেকে বিদেশে বসবাসকারী প্রবাসী হিসেবে পরিচয় দেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি সেসব মামলায় পলাতক অবস্থায় রয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন কুদ্দুস।   ভবনে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নতুন করে ভুক্তভোগীরা যে অভিযোগ তুলছেন, তা হলো ভবনে বর্তমানে অবস্থানরত বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন। তাদের দাবি, ভবনে থাকা কয়েকজন বাসিন্দাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আশিক চৌধুরীর পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং যেকোনো সময় ‘দুর্ঘটনা’ ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের ভাষ্য, ভবনে অবস্থানরত মানুষজন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এবং দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তারা আশিক চৌধুরীর কাছ থেকে নিরাপত্তা ও হয়রানি থেকে মুক্তি চান বলেও জানিয়েছেন।   তাহলে ১০ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের কী হবে? বিউটি সিনেমা হলের জমি নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—বিভিন্ন পর্যায়ে বিনিয়োগ করা বিপুল অর্থের ভবিষ্যৎ কী? ভুক্তভোগীদের হিসাব অনুযায়ী, বায়না, ডেভেলপমেন্ট ও পার্টনারশিপের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রকল্পে ১০ কোটি টাকার বেশি অর্থ বিনিয়োগ করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই বিপুল বিনিয়োগের পরও চুক্তির শর্ত উপেক্ষা করে সম্পত্তির মালিকানা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নতুন ডেভেলপারদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ফলে একদিকে বিনিয়োগকারীদের অর্থ ঝুঁকিতে পড়েছে, অন্যদিকে জমির মালিকানা, বায়না, হেবা দলিল এবং ডেভেলপমেন্ট চুক্তির বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   দলিল, চেক ও লেনদেনের নথিই দিতে পারে উত্তর প্রথম বায়না দলিল, পরবর্তী পার্টনারশিপ ডিড, হেবা দলিল, ২ কোটি টাকার পাঁচটি চেক, অর্থ লেনদেনের রেকর্ড, জমির রেজিস্ট্রি নথি, আদালতে চলমান মামলার কাগজপত্র এবং নতুন ডেভেলপমেন্ট চুক্তি—সবগুলো নথি পাশাপাশি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। এর পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত প্রতিবেদন, মামলার এজাহার ও তদন্তের অগ্রগতি এবং ভবনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে কোনো নথি বা তদন্ত আছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগীরা জানতে চান—চুক্তি বহাল থাকার সময় সম্পত্তির মালিকানা কীভাবে পরিবর্তিত হলো, একই সম্পত্তি নিয়ে একাধিক বায়না কীভাবে করা হলো, প্রকল্পে বিনিয়োগ করা অর্থের হিসাব কোথায়, মামলা চলাকালীন নতুন ডেভেলপমেন্ট চুক্তি কীভাবে হলো এবং অগ্নিকাণ্ডের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না। বরিশালের বিউটি সিনেমা হলের ৪০ শতাংশ জমি নিয়ে কী ঘটছে? ৮ কোটি টাকার জমিতে ২ কোটি ৭ লাখ টাকা বায়না, পরে ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে ১০ কোটির বেশি বিনিয়োগের দাবি। পার্টনারশিপ চলার মধ্যেই হেবা দলিল, ভবন ভাঙার অভিযোগ, গভীর রাতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের পর অগ্নিকাণ্ড এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ—সব মিলিয়ে রহস্য ঘনীভূত হয়েছে। আসল মালিকানা কার, টাকা গেল কোথায় এবং অগ্নিকাণ্ডের নেপথ্যে কারা?   নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি ব্যবসায়ী আবুল হাসান কুদ্দুস ও তার অংশীদাররা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিচার বিভাগের কাছে পুরো বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বায়না দলিল, পার্টনারশিপ ডিড, চেক, অর্থ লেনদেনের নথি, হেবা দলিল, অগ্নিকাণ্ডের তদন্ত এবং পরবর্তী সময়ে সম্পাদিত চুক্তিগুলো একসঙ্গে পর্যালোচনা করা হলে বিরোধের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হতে পারে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে কারা জড়িত, জমি নিয়ে মামলা চলাকালে নতুন ডেভেলপমেন্ট চুক্তি কীভাবে হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগের অভিযোগের সত্যতা—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, তারা বৈধ কাগজপত্র ও বিনিয়োগের প্রমাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই করছেন। তাদের আশঙ্কা, প্রভাবশালী মহলের চাপ ও ভয়ভীতির কারণে তারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বরিশাল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তি বিউটি সিনেমা হল ও সংলগ্ন প্রায় ৪০ শতাংশ জমিকে ঘিরে যে বিরোধ তৈরি হয়েছে, তা এখন আর শুধু দুই পক্ষের ব্যবসায়িক বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিপুল অর্থ, জমির মালিকানা, একাধিক চুক্তি, হেবা দলিল, ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প, অগ্নিকাণ্ড এবং ভবনে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তার প্রশ্ন। এই অবস্থায় ভুক্তভোগীদের দাবি—প্রভাব বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, দলিলপত্র, অর্থের উৎস ও লেনদেন, চুক্তির ধারাবাহিকতা এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণের ভিত্তিতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

নিজস্ব প্রতিবেদক অক্টোবর ৬, ২০২৬ 0
Popular post
বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0