Brand logo light

গণপূর্ত বিভাগ

বরিশালে আদালত ভবনের ছাদ ধস, অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন বিচারপ্রার্থী ও বিচারক

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল : বরিশালের ঐতিহাসিক সিএমএম আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলায় বিচার চলাকালেই হঠাৎ ছাদের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, পুলিশ সদস্য এবং আদালতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। শনিবার (২৩ মে) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বরিশালের বহুল পরিচিত ‘লাল বিল্ডিং’ আদালত ভবনে। প্রায় ১৩০ বছরের পুরনো এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত হলেও সেখানে এখনো বিচারিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ঘটনার সময় দ্বিতীয় তলায় বাকেরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের এজলাসে বিচার কার্যক্রম চলছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ বিকট শব্দে ছাদের পলেস্তোরার বড় অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায়। মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে আদালত কক্ষে। বাকেরগঞ্জ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের কর্মরত  মোহাম্মদ রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ধসে পড়া অংশে আদালতের সিলিং ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে ‘সৌভাগ্যবশত’। ঘটনার পর আদালত ভবনটি পরিদর্শনে যান বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   বরিশালে আদালত কক্ষে বিচার চলাকালে ছাদ ধস, অল্পের জন্য রক্ষা ১৩০ বছরের পুরনো আদালত ভবন এখন ‘মৃত্যুফাঁদ’? বিচার চলছিল, হঠাৎ ধসে পড়ল আদালতের ছাদ বরিশাল আদালত ভবনে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেল অল্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে বিচার, আতঙ্কে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা   ‘ডেমেজ ভবনে’ ঝুঁকি নিয়ে বিচারকার্য ১৮৯৬ সালে নির্মিত বরিশালের এই আদালত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন দেয়াল, পিলার ও বিমে বড় ধরনের ফাটল দেখা গেছে। একাধিক স্থানে খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তোরা। স্থানীয় আইনজীবীরা বলছেন, বহু বছর ধরেই ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হলেও আদালতের এজলাস সংকটের কারণে ঝুঁকি নিয়েই বিচারিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮টি আদালতের এজলাস কক্ষ এবং আরও ৮টি পেশকার রুম এই ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগেও একাধিকবার ছাদের অংশ ও দেয়ালের পলেস্তোরা ভেঙে পড়ে বিচারপ্রার্থী ও সংশ্লিষ্টদের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। বরিশাল বারের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহে আলম বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বিচার কার্যক্রম চলছে। আজকের ঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। জরুরি ভিত্তিতে নতুন আদালত ভবন নির্মাণ প্রয়োজন।”   নিরাপত্তাহীনতায় বিচারপ্রার্থী থেকে বিচারক আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অভিযোগ, ভবনটির ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে বহুবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিচারপ্রার্থী, সাক্ষী, পুলিশ সদস্য, আদালত কর্মচারী ও আইনজীবীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। আদালতের অনেক কক্ষেই ছাদের পলেস্তোরা নিয়মিত খসে পড়ে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন কেন এখনো সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হয়নি?   নতুন ভবনের আশ্বাস বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম জানিয়েছেন, নতুন আদালত ভবন নির্মাণের বিষয়ে দ্রুত ডিজিটাল সার্ভে করা হবে। তিনি বলেন,  বিচারক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে জায়গা নির্ধারণ করা হলে নতুন ভবন নির্মাণের কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতের জন্য গণপূর্ত বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন বলেও জানান তিনি। তবে স্থানীয় আইনজীবী ও আদালত সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—শুধু মেরামত নয়, পুরো ভবনটিই এখন ‘মৃত্যুঝুঁকিতে’; এমন অবস্থায় স্থায়ী সমাধান কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
শওকত আকবর
রূপপুর গ্রিন সিটি দুর্নীতি: বালিশ কাণ্ড, ড্রেসিং টেবিলে কোটি টাকা ব্যয় ও শওকত আকবরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি—রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত এই মেগা প্রকল্পের আবাসন খাত ‘গ্রিন সিটি’ এখন দুর্নীতির অভিযোগে বারবার আলোচনায়। সরকারি নিরীক্ষা, গণমাধ্যমের অনুসন্ধান এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে অস্বাভাবিক ব্যয়, প্রশ্নবিদ্ধ ক্রয়প্রক্রিয়া এবং অতিরিক্ত বিলের বিস্ময়কর তথ্য। আর এসব অভিযোগের কেন্দ্রে ঘুরেফিরে এসেছে সাবেক প্রকল্প পরিচালক মো. শওকত আকবরের নাম। বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্পের প্রশাসনিক ও আর্থিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে থাকা একজন প্রকল্প পরিচালকের অগোচরে এমন ব্যয়ের অসঙ্গতি দীর্ঘ সময় ধরে চলা প্রায় অসম্ভব। ড্রেসিং টেবিলে ‘অস্বাভাবিক’ ব্যয় মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার ৫০০ টাকা এমন একটি ড্রেসিং টেবিল সরকারি নথিতে সর্বোচ্চ ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মোট ১ হাজার ৩৪২টি ড্রেসিং টেবিল কেনায় অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে একই ধরনের পণ্যের দামে বিশাল পার্থক্য নিয়ে। কোথাও একটি ড্রেসিং টেবিলের দাম দেখানো হয়েছে ৫৫ হাজার টাকা, কোথাও ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, আবার কোথাও সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এমন ব্যয়ের অনুমোদন প্রকল্প পরিচালকের দপ্তরের বাইরে সম্ভব নয়। কারণ ক্রয় অনুমোদন, বিল যাচাই এবং অর্থ ছাড়—সবই শেষ পর্যন্ত প্রকল্প পরিচালকের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়। ‘বালিশ কাণ্ড’ যেভাবে প্রতীকে পরিণত হয় রূপপুর প্রকল্প নিয়ে জনমনে সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে তথাকথিত ‘বালিশ কাণ্ড’। সিএজির অনুসন্ধানে দেখা যায়, একটি বালিশ কেনা ও বহনের জন্য সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার ৯০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয় এবং এটি সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির প্রতীকে পরিণত হয়। পরে একে একে সামনে আসে বিছানার চাদর, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনায় অস্বাভাবিক ব্যয়ের অভিযোগ। সমালোচকদের মতে, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; বরং একটি বৃহৎ আর্থিক অনিয়মের ধারাবাহিক অংশ। ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, গ্রিন সিটি প্রকল্পে আসবাবপত্র কেনাকাটার পুরো প্রক্রিয়াই ছিল অস্বচ্ছ। অভিযোগ রয়েছে, বাজার যাচাই ছাড়াই নির্দিষ্ট কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দিতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বণ্টন এবং পরে অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। সিএজির প্রতিবেদনে সাজিন কনস্ট্রাকশন লিমিটেড ও মজিদ সন্স কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের বিরুদ্ধে প্রায় ৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা অতিরিক্ত উত্তোলনের অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রশ্নের মুখে প্রকল্প পরিচালকের ভূমিকা রূপপুর প্রকল্পে একের পর এক অনিয়মের সময় প্রকল্প পরিচালক ছিলেন মো. শওকত আকবর। প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী, প্রকল্পের ব্যয় যৌক্তিক ও নিয়মসম্মত কি না তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ছিল তাঁর দপ্তরের। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে, তাঁর দায়িত্বকালেই বালিশ, ড্রেসিং টেবিলসহ বিভিন্ন খাতে অস্বাভাবিক ব্যয়ের তথ্য সামনে এসেছে। গণমাধ্যমে এসব অভিযোগ প্রকাশের পরও দীর্ঘ সময় দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে প্রশ্ন উঠেছে—উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক সুরক্ষা ছাড়া এত বড় আর্থিক অনিয়ম কীভাবে সম্ভব হয়েছিল? যদিও অভিযোগের বিষয়ে মো. শওকত আকবরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত প্রকাশ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি, তবে সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করেন, প্রকল্পের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায় এড়ানোর সুযোগ তাঁর নেই। দুদকের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ দুদক সূত্রে জানা গেছে, রূপপুর প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে একাধিক অনুসন্ধান চলছে। বালিশ-কাণ্ডসহ বিভিন্ন অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগের ২৯ জন প্রকৌশলীকে তলব করা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালকসহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের প্রশ্ন—এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও অনুসন্ধান সত্ত্বেও মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা কেন দেখা যাচ্ছে না? বিদেশ সফর ও বিলাসী ব্যয়ের অভিযোগ শুধু আসবাবপত্র নয়, বিদেশ সফর ও আবাসন ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য বাসা ভাড়া দেখানো হলেও তাঁরা অবস্থান করেছেন বিলাসবহুল হোটেলে। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব সময়েও প্রকল্পের প্রশাসনিক নেতৃত্বে ছিলেন মো. শওকত আকবর। বৃহত্তর প্রশ্ন: কতটা নিরাপদ মেগা প্রকল্পের অর্থ? সুশাসন বিশ্লেষকদের মতে, রূপপুর প্রকল্পের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্প ব্যবস্থাপনার গভীর দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। তাঁদের যুক্তি, যদি একটি প্রকল্পে বালিশ, ড্রেসিং টেবিল ও আসবাব কেনাতেই কোটি কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়, তাহলে মূল অবকাঠামোগত কাজগুলোতে কী পরিমাণ অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ হয়েছে—সেটি নিয়েও জনমনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তৈরি হবে। এদিকে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও আদালতে করা আবেদনে রূপপুর প্রকল্প থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এমনকি ৫০০ কোটি ডলার পর্যন্ত অর্থ লোপাটের অভিযোগ তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়েরের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। জবাবদিহির প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রূপপুর প্রকল্পে অনিয়মের ঘটনায় কয়েকজন নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও, বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা এখনো স্পষ্ট নয়। দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলোর মতে, রাষ্ট্রের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে পরিচালিত একটি প্রকল্পে যদি অনিয়মের অভিযোগের পরও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের মেগা প্রকল্পগুলোও একই ঝুঁকিতে পড়বে। বর্তমানে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ চলমান থাকলেও জনমনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে—এত অভিযোগ, এত নিরীক্ষা প্রতিবেদন এবং এত তথ্য প্রকাশের পরও কেন মূল দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান বিচার দেখা যাচ্ছে না? আর সেই প্রশ্নের কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত নাম—মো. শওকত আকবর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0
নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলম
নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়সাল আলমের সফলতায় বরিশাল গণপূর্ত বিভাগে পরিবর্তনের হাওয়া

বরিশাল অফিস :    বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে আলোচনায় ছিল। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ধীরগতি, কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, এবং কমিশন-ভিত্তিক সংস্কৃতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই চিত্রে পরিবর্তনের দাবি উঠেছে—আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে একটি নাম: নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ফয়সাল আলম। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি এসেছে, কাজের মান উন্নত হয়েছে এবং দুর্নীতি কমেছে—এমন দাবি করছেন সংশ্লিষ্টদের একটি অংশ। একই সঙ্গে, তার কার্যক্রম ঘিরে অপপ্রচার, স্বার্থসংঘাত এবং চাপের কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে। এই প্রতিবেদনটি মাঠপর্যায়ের তথ্য, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করেছে।  দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবর্তনের দাবি বরিশালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মোঃ ফয়সাল আলমের কর্মকাণ্ডে একটি দৃশ্যমান পরিবর্তনের কথা বলছেন স্থানীয় ঠিকাদার, প্রকৌশলী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি গতিশীলতা এসেছে। একজন জ্যেষ্ঠ ঠিকাদার বলেন, “আগে অনেক প্রকল্প বছরের পর বছর ঝুলে থাকত। এখন কাজের একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় এবং সেটি বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত চাপ থাকে।” এই পরিবর্তনের অন্যতম দিক হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে নিয়মিত তদারকি এবং কাজের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ। সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে প্রকল্পগুলোর ওপর সরাসরি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিলম্বের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে। একজন বিভাগীয় কর্মকর্তা বলেন, “প্রতিটি প্রকল্পের অগ্রগতি এখন নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। কাজের মান এবং সময়—দুটিকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”  গুণগত মান নিশ্চিতে কঠোরতা গণপূর্ত বিভাগের কাজের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে যে অভিযোগটি সবচেয়ে বেশি ছিল, তা হলো নিম্নমানের নির্মাণ। অনেক ক্ষেত্রে অল্প সময়ের মধ্যেই ভবন বা অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি দেখা যেত, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি জনস্বার্থের জন্যও ক্ষতিকর। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ভিন্ন বলে দাবি করছেন কয়েকজন প্রথম শ্রেণীর ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে এখন কঠোর অবস্থান নেওয়া হচ্ছে। একজন ঠিকাদার বলেন, “বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলীর অধীনে কাজের গুণগত মান তদারকি করা হয় নিয়মিত। কোনো ধরনের নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” আরেকজন যোগ করেন, “আগে অনেক সময় কাজ শেষ হলেই বিল পাওয়া যেত। এখন কাজের মান যাচাই না করে বিল ছাড় হয় না।” এই কঠোরতার ফলে কিছু ক্ষেত্রে কাজের খরচ ও সময় বাড়লেও দীর্ঘমেয়াদে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  বিল উত্তোলনে স্বচ্ছতা: নতুন বার্তা? গণপূর্ত বিভাগের কাজের সঙ্গে জড়িত একটি বড় অভিযোগ ছিল বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা। অনেক ঠিকাদারই অভিযোগ করতেন, নির্ধারিত বিল পেতে হলে “অফ দ্য রেকর্ড” অর্থ লেনদেন করতে হয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন অভিজ্ঞতার কথা বলছেন কয়েকজন ঠিকাদার। তাদের ভাষ্যমতে, “বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে কোনো অতিরিক্ত অর্থ বা কমিশনের প্রয়োজন হয় না। কাগজপত্র ঠিক থাকলে বিল সময়মতো পাওয়া যাচ্ছে।” এই পরিবর্তনকে তারা একটি বড় ইতিবাচক দিক হিসেবে দেখছেন। তবে কিছু ঠিকাদার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “সব ক্ষেত্রে একরকম নয়। তবে আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেক ভালো।”  অতীতের ছায়া: অনিয়ম ও কমিশন সংস্কৃতি বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের অতীত ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সময়ে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি প্রকল্পের বাজেট বৃদ্ধি, নিম্নমানের কাজ, এবং কাজের বিনিময়ে ঘুষ নেওয়ার মতো অভিযোগ নতুন নয়। একজন সাবেক কর্মকর্তা বলেন, “এই বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে একটি অনানুষ্ঠানিক সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, যেখানে কাজের প্রতিটি ধাপে কমিশনের বিষয়টি জড়িয়ে ছিল।” এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান পরিবর্তন হয়েছে।বর্তমানে সেই ঘুষ ও কমিশন সংস্কৃতি নেই। দুর্নীতি দমনের দাবি ও বাস্তবতা স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, মোঃ ফয়সাল আলম দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই অনিয়মের প্রবণতা কমেছে, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়েছে। একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “আগে শুনতাম কাজ পেতে হলে অনেক কিছু করতে হয়। এখন অন্তত সেই ধরনের কথা কম শোনা যায়।” সংশ্লিষ্ট মহলে তার সততা নিয়ে ইতিবাচক ধারণা থাকার কথাও উঠে এসেছে। অনেকেই মনে করছেন, তিনি প্রশাসনিকভাবে একটি বার্তা দিতে পেরেছেন—অনিয়মের ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা।তবে এই অবস্থান তাকে কিছু বিরোধিতার মুখেও ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তখনই একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। এটি নতুন কিছু নয়।” অপপ্রচার ও সমালোচনা ফয়সাল আলমকে ঘিরে একটি বিতর্কও তৈরি হয়েছে—তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ এবং সমালোচনা ছড়ানো হচ্ছে বিভিন্ন মহলে। তবে এই অভিযোগগুলোর অনেকটাই অস্পষ্ট বা প্রমাণবিহীন বলে দাবি করছেন ঠিকাদাররা। একজন ঠিকাদার বলেন, “যারা আগে সুবিধা পেত, তারা এখন অসুবিধায় পড়ছে। তাই তারা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে।” তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা বলছেন, যেকোনো প্রশাসনিক পরিবর্তনের সময়ই দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়—সমর্থন ও বিরোধিতা।  জবাবদিহির প্রশ্ন গণপূর্ত বিভাগের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে জবাবদিহি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকেও এ বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “কোনো কর্মকর্তা ভালো কাজ করলে যেমন স্বীকৃতি পাবেন, তেমনি অনিয়ম করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” বিশেষজ্ঞদের মতে, “ব্যক্তিনির্ভর পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হয় না। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারই টেকসই সমাধান।” প্রশাসনিক চাপ ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ একজন নির্বাহী প্রকৌশলীর জন্য কাজ করা শুধুমাত্র প্রকল্প বাস্তবায়ন নয়—এর সঙ্গে জড়িত থাকে রাজনৈতিক চাপ, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর প্রভাব। এই বাস্তবতা স্বীকার করে নিজেই কথা বলেছেন মোঃ ফয়সাল আলম। তিনি বলেন, “রাষ্ট্র আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করছি। কাজের ক্ষেত্রে বাধা আসে, বিশেষ করে যখন অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।” এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, তিনি নিজেও চাপ ও প্রতিরোধের বিষয়টি অস্বীকার করছেন না। নেতৃত্বের ধরন: কড়াকড়ি নাকি সংস্কার? ফয়সাল আলমের নেতৃত্বের ধরন নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ তাকে কঠোর এবং নীতিনিষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন তার কড়াকড়ি কিছু ক্ষেত্রে  জটিলতা তৈরি করছে। একজন কর্মকর্তা বলেন, “তিনি নিয়ম মেনে কাজ করতে বলেন, যা অনেকের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা।” অন্যদিকে একজন ঠিকাদার বলেন, “কখনো কখনো অতিরিক্ত কঠোরতার কারণে কাজের গতি কমে যায়।” এই দুই ধরনের মতামতই একটি পরিবর্তনশীল প্রশাসনিক বাস্তবতার প্রতিফলন।  জনমত: আশা ও সংশয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ফয়সাল আলমকে নিয়ে একটি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ তাকে পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এখনো অপেক্ষা করছেন দৃশ্যমান ফলাফলের জন্য। একজন শিক্ষার্থী বলেন, “যদি সত্যিই দুর্নীতি কমে থাকে, তাহলে এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।” একজন প্রবীণ নাগরিকের মন্তব্য, “অনেকেই ভালো শুরু করেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ধারাবাহিকতা থাকে না। দেখার বিষয় হলো, এটি কতদিন টিকে।”  ভবিষ্যতের পথ: টেকসই সংস্কারের প্রয়োজন বিশ্লেষকদের মতে, একজন কর্মকর্তার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তারা কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দিচ্ছেন: * স্বচ্ছ টেন্ডার প্রক্রিয়া * ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা * স্বাধীন অডিট * জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে গণপূর্ত বিভাগের কাজের মান আরও উন্নত হতে পারে।   বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের বর্তমান চিত্রে মোঃ ফয়সাল আলম একটি আলোচিত নাম। তার নেতৃত্বে উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি এসেছে—এমন দাবি যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে অপপ্রচার ও স্বার্থসংঘাতের অভিযোগ। বাস্তবতা সম্ভবত এই দুইয়ের মাঝামাঝি কোথাও অবস্থান করছে। একদিকে, কাজের গতি ও গুণগত মান নিয়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, এই পরিবর্তন কতটা গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা এখনো সময়ই বলে দেবে। শেষ পর্যন্ত, ফয়সাল আলমের নিজের কথাতেই বিষয়টি সবচেয়ে ভালোভাবে প্রতিফলিত হয়: “আমি কাজ করে যেতে চাই—মূল্যায়ন জনগণই করবে।” বরিশালের মানুষ এখন সেই মূল্যায়নের অপেক্ষায়।    

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
বরিশাল গণপূর্ত সার্কেল অফিস
বরিশাল গণপূর্ত অফিসে চুরির অভিযোগে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন

বরিশাল অফিস : বরিশাল গণপূর্ত সার্কেল অফিসে মালামাল চুরির অভিযোগ উঠেছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আব্দুল বারেকের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন। গনপুর্ত অফিস সুত্রে জানা গেছে,গনপুর্ত বরিশাল সার্কেল অফিসের নিরাপত্তা রক্ষী আব্দুল বারেক দীর্ঘদিন যাবৎ অফিসের বিভিন্ন মালামাল চুরি করে আসছে। সম্প্রতি চুরির মালামালসহ আই বি জোন এর কর্মচারী রিমনের সামনে পরে। রিমন চুরির বিষয়টি গনপুর্ত বরিশাল জোনের  অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালিদ হোসাইনের কাছে প্রকাশ করেন। গনপুর্ত বরিশাল জোনের  অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী খালিদ হোসাইন চুরির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিনজন প্রকৌশলীকে তদন্ত করার দ্বায়িত্ব প্রদান করেন। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন,সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন,উপ -সহকারী প্রকৌশলী মামুন বাড়ি ও  সহকারী প্রকৌশলী ফাহিম আহমেদ। এ ব্যাপারে সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব হোসেন বলেন চুরির বিষয়টি তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একটি পত্র দিয়েছে।শিঘ্রই তদন্ত করে রিপোর্ট প্রদান করবো। এ ব্যাপারে রিমনকে মোবাইলে কল করা হলে তিনি বলেন,আমি একটু পরে কল দিতেছি। যার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ সেই আব্দুল বারেকের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও রিসিভ করেন নি। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর:গোপনীয়তা ও তদারকিতে বিতর্ক

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদদের সম্মাননা এবং তৎকালীন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারের নিপীড়নের চিত্র তুলে ধরতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে ঘোষিত সময়েও জাদুঘর উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। এখনো চলছে নির্মাণকাজ—আর সেই কাজকে ঘিরেই বাড়ছে প্রশ্ন ও বিতর্ক। উদ্বোধন হয়নি, প্রবেশ নিষিদ্ধ গত বছরের ৫ আগস্ট উদ্বোধনের ঘোষণা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ১৭ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেয় প্রফেসর ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে সরকারের মেয়াদ শেষ হলেও জাদুঘর এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করছেন বিদায়ী সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। জাদুঘরে প্রবেশাধিকার এখনো সীমিত। সাংবাদিক পরিচয়েও ভেতরে ঢোকার অনুমতি মিলছে না। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, অনুমতি ছাড়া প্রবেশ সম্ভব নয়। অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সহকারী রসায়নবিদ মো. আনিছুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব জানিয়েছেন, “এখন কাউকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। আগামী মাসে উন্মুক্ত করা হবে।” উল্লেখ্য, জাদুঘরটি প্রশাসনিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর-এর সঙ্গে সংযুক্ত রাখা হয়েছে, যদিও আলাদা কোনো ওয়েবসাইট বা বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ১১১ কোটি টাকার প্রকল্প ও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি জাদুঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১১ কোটি ১৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। শুরুতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে দুটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ইএম (ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল) অংশের কাজ পায় ‘শুভ্রা ট্রেডার্স’ এবং পূর্ত অংশের কাজ পায় ‘দি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড’। পরে সমালোচনার মুখে গণপূর্ত বিভাগ পুনরায় দরপত্র আহ্বান করলেও শেষ পর্যন্ত একই প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ পায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এই প্রকল্প নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পের সুযোগে অনিয়মের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিদায়ী উপদেষ্টার কমিটি গঠন নিয়ে প্রশ্ন দায়িত্ব ছাড়ার দুইদিন আগে নির্মাণকাজ তদারকির জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি হন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিজেই। পদত্যাগের পরও কমিটিতে নাম রেখে নিয়মিত জাদুঘরে যাতায়াত করছেন তিনি। এ বিষয়ে যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) মু. বিল্লাল হোসেন খান জানান, “কমিটিতে নাম থাকায় তিনি সেখানে যেতে পারেন।” তবে পদত্যাগের পরও কমিটিতে দায়িত্ব পালন করার আইনগত ভিত্তি নিয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। ফারুকী দাবি করেন, “আমি শুধু কাজটি নির্বিঘ্নে শেষ করার সহায়তা করছি। পুরো কিউরেটোরিয়াল ডিজাইন আমার করা।” নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও বিতর্ক জাদুঘর পরিচালনায় ৯৬ জন লোকবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, লিখিত পরীক্ষা ছাড়াই দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিদায়ী উপদেষ্টার প্রভাবাধীন—এমন আলোচনা বিভিন্ন মহলে ছড়িয়েছে। যদিও ফারুকী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ৯৯ বছরের লিজ ও প্রশাসনিক কাঠামো গণভবনের সম্পূর্ণ জমি ও স্থাপনা ৯৯ বছরের জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। জমির আয়তন ১৭.৪৬৭৯ একর। বার্ষিক খাজনা নির্ধারণ করা হয়েছে তিন হাজার টাকা। লিজ দলিলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মফিদুর রহমান স্বাক্ষর করেন। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক গুরুত্ব ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকে নিয়ে জাদুঘর পরিদর্শন করেন। যদিও তাঁর পুরো মেয়াদেও জাদুঘর উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। প্রশ্ন উঠছে—গণভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কেন্দ্র করে নির্মাণাধীন এই জাদুঘরের কাজ কেন এত গোপনীয়তার মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে? পদত্যাগের পরও বিদায়ী উপদেষ্টার সক্রিয় ভূমিকার আইনগত ভিত্তি কী? সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি ও নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ? জাদুঘর কর্তৃপক্ষ বলছে, অধিকাংশ কাজ শেষ। কেবল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বাকি। দ্রুতই এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে ১১১ কোটি টাকার এই প্রকল্প ঘিরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান’-এর স্মৃতি সংরক্ষণের এই উদ্যোগই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামান
লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সাময়িক বরখাস্ত

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে তার চলতি দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. সাইফুজ্জামান লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে কাজ (W-1) প্যাকেজের সিভিল কাজ অনুমোদিত DPP, RDPP বা HOPE ছাড়াই বিধি-বহির্ভূতভাবে বাস্তবায়ন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে একটি প্যাকেজকে ৮টি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করেন এবং এতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। এছাড়া, ৮টি প্যাকেজের বিপরীতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিশোধিত বিলের বিপরীতে বাস্তবে কোনো কাজের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড ব্যতীত অন্য ৮টি প্রতিষ্ঠানের নামে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে কাজ না করেই বিল পরিশোধ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির শামিল। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী মো. সাইফুজ্জামানকে ৩ ফেব্রুয়ারি সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তবে সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0