Brand logo light

ছাত্র আন্দোলন

বরিশালে সেশন ফি কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ
বরিশাল বিএম কলেজে সেশন ফি নিয়ে বিক্ষোভ: ‘কার্যক্রম নেই, তবু ফি আদায়’

বরিশাল অফিস :    বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে সেশন ফি ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতসহ ১০ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্ট থেকে মিছিল বের করে কলেজ প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমাবেশ করেন। কেন ক্ষোভ? শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতি বছর বিভিন্ন খাতে “অযৌক্তিক” সেশন ফি চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যার বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সেবা পাচ্ছেন না। সম্প্রতি অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ১৯টি খাতে মোট ২ হাজার ৬২০ টাকা সেশন ফি নির্ধারণ করে নোটিশ জারি করা হয়। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। তাদের দাবি, এই ১৯টি খাতের মধ্যে অন্তত ১০টির কোনো কার্যক্রম নেই। অথচ এসব খাতেই প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। কোন খাতে আপত্তি? শিক্ষার্থীরা যেসব খাতকে অকার্যকর বা সীমিত সেবার বলে উল্লেখ করছেন, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— খেলাধুলা (বহিরাঙ্গন) অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া ও কমনরুম ম্যাগাজিন গ্রন্থাগার পরিবহন তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি) অত্যাবশ্যকীয় খরচ চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থাপনা ফি বিবিধ শিক্ষার্থীদের বক্তব্য অনুযায়ী, বহু বছর ধরে নিয়মিত খেলাধুলা বা ম্যাগাজিন প্রকাশ নেই গ্রন্থাগার সেবা সীমিত পরিবহন সুবিধা পান মাত্র প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী চিকিৎসা সেবা কার্যত অপ্রতুল একজন শিক্ষার্থী বলেন, “সেশন চার্জ নেওয়া হলেও প্রতিটি খাতে আমাদের পর্যাপ্ত সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।” আরেকজন ছাত্রী প্রশ্ন তোলেন, “আগেই সব ফি দেওয়ার পর আবার কেন অতিরিক্ত সেশন চার্জ দিতে হবে?” প্রশাসনের অবস্থান কলেজের অধ্যক্ষ ড. শেখ মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের কিছু দাবি স্বল্পমেয়াদি এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি। এসব বিষয়ে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেশন ফি নেওয়া হয়। তবে যেসব খাতে কার্যক্রম নেই, সেগুলোতে ২০২৫ সালের পর থেকে ফি না নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। পরিবহন সুবিধা সীমিত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে অধ্যক্ষ বলেন, “সব শিক্ষার্থী এই সুবিধা পান না, তবে অন্যান্য খাতে ব্যয় রয়েছে।” অত্যাবশ্যকীয় খাতে আদায় করা অর্থ দিয়ে কর্মচারীদের সম্মানী ও প্রতিষ্ঠান রক্ষণাবেক্ষণের খরচ মেটানো হয় বলেও জানান তিনি। আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে একই দাবিতে ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও কর্মসূচি পালন ও স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
বরিশালে বিদ্যুৎ সংকট ও এস এস সি পরীক্ষার মাঝে নিষিদ্ধ স্থানে বিতর্কিত বাণিজ্য মেলার আয়োজন!
বরিশালে বিদ্যুৎ সংকট ও এস এস সি পরীক্ষার মাঝে নিষিদ্ধ স্থানে বিতর্কিত বাণিজ্য মেলার আয়োজন!

মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল:  এসএসসি পরীক্ষা চলমান।বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারনে জ্বালানী ও বিদ্যুত সংকটের মাঝে বরিশালের জিলা স্কুলের পশ্চিম পাশ্বের মাঠে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা পরিপত্র উপেক্ষা করে অবৈধভাবে শুরু হতে যাচ্ছে এ  বানিজ্য মেলা। বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের রপ্তানী -৭ শাখা থেকে ২০২৪ সালের ২৩ জুন "মেলা পরিপত্র " জারি করে। মেলা পরিপত্রের ৫ নম্বরে মেলা আয়োজনের শর্তাবলীর অন্যতম হল - কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন করা যাবেনা। অথচ এস এস সি পরীক্ষার মাঝেই স্কুল মাঠে অবৈধ ভাবে বানিজ্য মন্ত্রনালয়ের মেলা পরিপত্র উপেক্ষা করে শুরু হতে যাচ্ছে বানিজ্য মেলা। সমাজ সচেতন ও ছাত্র -জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে অবৈধ মেলার আয়োজন দেখে। বরিশালে বানিজ্য মেলার আয়োজক কমিটির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলাকারী তাদের বিতর্কিত ও সহিংস ভূমিকা রাখা ও  জুলাই বিপ্লবের সময় মিরপুরে ছাত্র-জনতার ওপর বর্বরোচিত হামলা পরিচালনাকারী  সবুজ হোসেন।  মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সবুজ হোসেন ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ এলাকায় মাইনুল হোসেন নিখিলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সবুজের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই নয়, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিয়মিত অস্ত্র, খাবার ও অর্থের জোগানদাতা  হিসেবে সবুজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা  বরিশালে চলমান এসএসসি পরীক্ষার মধ্যে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের একাংশ অভিযোগ করছেন—সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে এই আয়োজন করা হচ্ছে, যা পরীক্ষার্থীদের জন্য বিরূপ পরিবেশ তৈরি করতে পারে। মাঠ নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক মেলার জন্য নির্ধারিত স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বরিশাল জিলা স্কুলের পশ্চিম পাশের মাঠ। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৩ জুন জারি করা ‘মেলা পরিপত্র’-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে—কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন করা যাবে না। স্থানীয়দের প্রশ্ন, এই নির্দেশনা কার্যকর থাকা সত্ত্বেও কীভাবে স্কুল প্রাঙ্গণে মেলার প্রস্তুতি শুরু হলো, বিশেষ করে যখন একই সময়ে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। একজন অভিভাবক বলেন, “পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীদের জন্য শান্ত পরিবেশ সবচেয়ে জরুরি। সেখানে মেলা হলে শব্দ, ভিড়—সবকিছুই তাদের ক্ষতির কারণ হতে পারে।” অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন পরিপত্র অনুযায়ী, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা ছাড়া দেশের অন্য কোনো স্থানে মেলা আয়োজন করতে হলে অন্তত দুই মাস আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হয়। জেলা পর্যায়ে আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের অনাপত্তিপত্রও বাধ্যতামূলক। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এই প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে অনুমোদনের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। আয়োজকদের পরিচয় ও অতীত নিয়ে অভিযোগ মেলার আয়োজক কমিটির পেছনে থাকা সবুজ হোসেন'র ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে মেলার আয়োজক কমিটির অন্যতম প্রভাবশালী সদস্য সবুজ হোসেন ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক বিতর্কিত এমপি এবং যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিলের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী। জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলনে মিরপুর-১০ এলাকায় মাইনুল হোসেন নিখিলের প্রত্যক্ষ নির্দেশে সবুজের নেতৃত্বেই ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, শুধু মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই নয়, আন্দোলনকারীদের ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের নিয়মিত অস্ত্র, খাবার ও অর্থের জোগানদাতা হিসেবে সবুজের সক্রিয় ভূমিকা ছিল। স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন—এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। চেম্বার অব কমার্সের নাম ব্যবহারের অভিযোগ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সবুজ হোসেন দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। বর্তমানে তিনি ভোল পাল্টে বরিশালে এসে ঘাঁটি গেড়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, বরিশাল চেম্বার অব কমার্স এর শীর্ষ কর্তাদের কাছে নিজের পরিচয় গোপন করে সবুজ কৌশল করে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের নাম ব্যবহার করে বানিজ্য মেলা আয়োজন করতে যাচ্ছে। বরিশালের জিলা স্কুলের মাঠে এই মেলার আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, একটি শিক্ষাবান্ধব এলাকায় ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনের এই চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।। সংশ্লিষ্ট সংগঠনটির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা না আসায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রতিবাদ মেলার প্রস্তুতি শুরু হওয়ার পর থেকেই এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিছু ছাত্র সংগঠন ও স্থানীয় নাগরিক মেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। একজন ছাত্র প্রতিনিধি বলেন, “যদি নিয়ম ভেঙে এই আয়োজন চালানো হয়, তাহলে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে এর প্রতিবাদ করব।” সরকারি নির্দেশনায় কী আছে ‘মেলা পরিপত্র ২০২৪’-এ আরও যেসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে মেলা আয়োজন নিষিদ্ধ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিল্পী অংশ নিতে পারবেন না অবৈধ বা আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি করা যাবে না অশালীন বা অসামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা নিষিদ্ধ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন কিছু প্রচার করা যাবে না এছাড়া মেলার ধরন ও সময় অনুযায়ী নির্ধারিত ফি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আগেই প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা। বিশেষ করে— অনুমোদন প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না স্থান নির্বাচন নিয়মসম্মত কি না আয়োজকদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এসব বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা। একদিকে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, অন্যদিকে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ—এই দুইয়ের মাঝে পড়ে বরিশালের পরিস্থিতি এখন স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন এখন একটাই: নিয়ম ভেঙে মেলা আয়োজনের অভিযোগ কতটা সত্য, আর প্রশাসন কীভাবে এ পরিস্থিতি সামাল দেয়—সেটিই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পরিস্থিতির গতিপথ। বাণিজ্য মেলা করা যাবে না শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে বাণিজ্য মেলা নিষিদ্ধ ১ জুলাই ২০২৪ থেকে কার্যকর 'মেলা পরিপত্র ২০২৪' অনুযায়ী, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে বাণিজ্য মেলা বা কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রদর্শনী আয়োজন করা যাবে না । শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, পড়াশোনা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে । তবে, স্থানীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতিভিত্তিক মেলা (যেমন: বইমেলা, বৈশাখী মেলা) এর আওতামুক্ত । মূল নির্দেশনাসমূহ:     নিষিদ্ধ স্থান: স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ ।     সাংস্কৃতিক অনুমতি: কোনো মেলায় বিদেশি শিল্পী বা মডেলের অংশগ্রহণ করতে হলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে ।     পণ্য ও পরিবেশ: মেলায় কোনো ধরনের অবৈধ, আমদানিনিষিদ্ধ পণ্য বিক্রি বা অসামাজিক, অশালীন কার্যক্রম চালানো যাবে না ।     মাশুল (ফি): স্থানীয় পর্যায়ে মেলা আয়োজনের মাশুল দিনভেদে ৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত ।       

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ভাঙন: নেতৃত্ব সংকট, আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ ও ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে পড়েছে। নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব, সাংগঠনিক অচলাবস্থা এবং কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর পরিবর্তে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের একটি অন্তর্বর্তীকালীন উপদেষ্টা পরিষদ—যা নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে নতুন বিতর্ক। নেতৃত্ব ছাড়ার পরেই সংকট তীব্র সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশীদ ও দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেনসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) যোগ দেওয়ার পরই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। সংগঠনের একাধিক সূত্র বলছে, গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের পদত্যাগ ও দলত্যাগের কারণে কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় গত ১৮ এপ্রিল এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কেন্দ্রীয় কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং গঠন করা হয় পাঁচ সদস্যের উপদেষ্টা পরিষদ। এতে রাখা হয় আবু সাঈদ লিওন, হামযা মাহবুব, তারিকুল ইসলাম (রেজা), মুঈনুল ইসলাম ও শাহাদাত হোসেনকে। বলা হয়, ৩০ দিনের মধ্যে তারা সাংগঠনিক পুনর্গঠন সম্পন্ন করবেন। তবে এই সিদ্ধান্ত সংগঠনের ভেতরেই সর্বসম্মত সমর্থন পায়নি। ‘অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত’—বিরোধীদের অভিযোগ সংগঠনের একটি অংশ এই পদক্ষেপকে ‘একতরফা’ ও ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার এখতিয়ার কারও নেই। সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে নিজেকে দাবি করা সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করেন, “রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকেই কয়েকজন নেতা সংগঠন ছেড়ে গেছেন। একই সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি সামনে আসার পরই তারা সরে দাঁড়ান।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন আর্থিক বিষয়ে জবাব চাই, তখন আমাদের বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি কেন্দ্রীয় ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে কমিটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।” উপদেষ্টা পরিষদের বিরোধিতা করায় আয়েশাকে সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কোটি টাকার লুটপাটের অভিযোগ সংগঠনের ভেতরে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আর্থিক অনিয়ম নিয়ে। আয়েশা দাবি করেন, “কোটির ওপর একটি বড় অঙ্কের টাকা লুটপাট হয়েছে।” তিনি জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রকাশ করা হবে। অন্যদিকে, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মুঈনুল ইসলাম এসব অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তার ভাষায়, “কমিটিতে কোনো আর্থিক লেনদেনই হয়নি। অন্তত আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।” ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছেন সাবেক নেতারা সংগঠন ছেড়ে এনসিপিতে যোগ দেওয়া সাবেক দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন পুরো ঘটনাকে স্বাভাবিক সাংগঠনিক দ্বন্দ্ব হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, “নতুন কমিটি বা কাঠামো গঠনের সময় এমন অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ দেখা যায়। উপদেষ্টা পরিষদ তাদের মনমতো হয়নি বলেই এসব অভিযোগ আসছে।” তার দাবি, নতুন উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে বৃহত্তর সমন্বয়ক কাঠামোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অরাজনৈতিক পরিচয়ের প্রশ্নে বিতর্ক শুরু থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নিজেদের একটি অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিয়ে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সংগঠনের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল বলে একাধিক নেতা দাবি করেছেন। বিশেষ করে এনসিপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি সামনে আসার পর সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। মাঠপর্যায়ে হতাশা, তবে ঐক্যের আশ্বাস সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশও এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, আন্দোলনের আদর্শকে পাশ কাটিয়ে ‘পকেট কমিটি’ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা কর্মীদের মধ্যে হতাশা তৈরি করছে। তবে তারা আন্দোলনের মূল চেতনাকে ধরে রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এবং শিগগিরই নতুন রূপরেখা ঘোষণার কথা জানিয়েছেন। ভবিষ্যৎ কোন দিকে? নেতৃত্ব শূন্যতা, সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—সব মিলিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এখন এক অনিশ্চিত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। উপদেষ্টা পরিষদ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে কী ধরনের পুনর্গঠন করতে পারে, এবং আর্থিক অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হয়—তার ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে সংগঠনটির ভবিষ্যৎ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছাত্রনেতা মাহদী
বিবিসি বাংলাকে আইনি নোটিশ দিলেন ছাত্র আন্দোলন নেতা মাহদী হাসান

হবিগঞ্জের আলোচিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মাহদী হাসান একটি প্রতিবেদনকে ভুয়া ও মানহানিকর দাবি করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম BBC-এর বাংলা বিভাগ BBC Bangla-কে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন। রবিবার পাঠানো ওই নোটিশে ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সরাতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে ১ কোটি টাকার মানহানি মামলা করা হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়েছে। মাহদী হাসানের পক্ষে নোটিশটি পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এসএম শাহরিয়ার কবির। নোটিশটি পাঠানো হয়েছে বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি  এবং বিবিসি বাংলার প্রধান সম্পাদক মীর সাব্বির -এর কাছে। প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, গত ২১ ফেব্রুয়ারি বিবিসি বাংলা “মাহদী হাসানের সঙ্গে দিল্লিতে ঠিক কী হয়েছিল?” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এতে ভারতের দুটি অপ্রকাশিত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে, যা মাহদীর আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী “ভ্রান্ত, অসম্পূর্ণ ও মানহানিকর।” নোটিশে দাবি করা হয়েছে, ওই প্রতিবেদনে বলা হয় মাহদী হাসান পর্তুগালের ভিসা নিতে দিল্লি গিয়েছিলেন এবং তিনি বিমানবন্দরের কাছাকাছি একটি হোটেলে রাত কাটিয়েছিলেন। এছাড়া তার কাছে ক্রিপ্টোকারেন্সি থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মাহদীর পক্ষের আইনজীবীর মতে, এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এছাড়া প্রতিবেদনে একটি পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে, যা নোটিশে “মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপট আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, মাহদী হাসান ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত ছাত্র আন্দোলনের একজন সম্মুখসারির কর্মী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা প্রতিনিধি ছিলেন। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, সে সময় সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে।  ২০২৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) ‘OHCHR Fact-Finding Report: Human Rights Violations and Abuses related to the Protests of July and August 2024 in Bangladesh’ প্রতিবেদন অনুযায়ীওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় বহু মানুষের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে।১৪ দলীয় জোট মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে এবং ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত ১৪০০ জনকে হত্যা ও কয়েক হাজার মানুষকে আহত করেছে। এ সময় জনগণের রোষ ও ক্ষোভের কারণে পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অনেক প্রতিরোধ সংঘটিত হয়েছে। গ্রেপ্তার ও জামিন প্রসঙ্গ আইনি নোটিশে বলা হয়, এক ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডার পর মাহদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে জামিন দেন। বর্তমানে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য ফিনল্যান্ডে ভিসা পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। মানহানির অভিযোগ মাহদীর আইনজীবীর দাবি, ওই প্রতিবেদনের কারণে তার মক্কেল সামাজিক অপমান, সাইবার আক্রমণ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলার ঝুঁকির মুখে পড়েছেন। নোটিশে বলা হয়েছে, এটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ধারা ৪৯৯ অনুযায়ী মানহানি এবং ধারা ৫০০ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া এতে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রতিবেদনের কারণে মাহদী হাসান আনুমানিক ১ কোটি টাকার আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ক্ষমা চাওয়ার দাবি আইনি নোটিশে বিবিসি বাংলাকে অনুরোধ করা হয়েছে— ২১ ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনটি সরিয়ে ফেলতে বিবিসি বাংলার সব প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে এবং প্রতিবেদনের উৎস অনিশ্চিত ছিল বলে স্বীকার করতে নোটিশে বলা হয়েছে, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব পদক্ষেপ না নিলে মানহানি মামলা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ মামলা এবং সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশে আরও বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য কেবল আইনি প্রতিকার নয়, বরং “সত্য প্রকাশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির মর্যাদা পুনরুদ্ধার।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬ 0
সালাহউদ্দিন
গুম থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন

২০১৫ সাল। বিরোধী দলীয় রাজনীতিতে চরম দমন-পীড়নের সময়। খালেদা জিয়া গৃহবন্দি, মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর গ্রেফতার, পরে কার্যালয় থেকে আটক হন রুহুল কবির রিজভী। দলীয় বহু সিনিয়র নেতা ছিলেন কারাগারে কিংবা আত্মগোপনে। সেই দুঃসময়ে দলের পক্ষে ধারাবাহিক ও কঠোর বিবৃতি দিয়ে আলোচনায় আসেন বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমদ। আত্মগোপন থেকে পাঠানো তার বিবৃতিগুলো সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনামূলক ছিল। রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তোলে এসব বক্তব্য। ১০ মার্চের রহস্য: নিখোঁজ থেকে শিলং ২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাজধানীর উত্তরা থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন সালাহউদ্দিন আহমদ। দীর্ঘ ৬২ দিন পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিলংয়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ। ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিলংয়ে উদভ্রান্তের মতো ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয়দের ফোন পেয়ে তাকে আটক করা হয়। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন বলেন, চোখ বেঁধে তাকে কোথাও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং তিনি ধারণা করেছিলেন তাকে ‘ক্রসফায়ারের’ জন্য নেওয়া হচ্ছে। পরে শিলংয়ে চোখ খোলার পর বুঝতে পারেন তিনি ভারতে আছেন। স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশের কাছে গেলে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন সন্দেহে হাসপাতালে পাঠানো হয় বলেও জানান তিনি। আইনি লড়াই: ফরেনার্স অ্যাক্ট মামলা ভারতে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া প্রবেশের অভিযোগে মেঘালয় পুলিশ তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা করে। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালতে খালাস পেলেও ভারত সরকার আপিল করলে তাকে সেখানেই অবস্থান করতে হয়। অবশেষে ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আপিলেও খালাস পান তিনি। আদালত তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে ভ্রমণ অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট দিল্লি থেকে ঢাকায় ফেরেন তিনি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পুনরুত্থান ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে যায়। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আবারও সক্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন সালাহউদ্দিন আহমদ। বিএনপির মনোনয়নে কক্সবাজার-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন—যা তার রাজনৈতিক জীবনের এক নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। শৈশব, শিক্ষা ও কর্মজীবন ১৯৬২ সালে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার পেকুয়া ইউনিয়নের সিকদার পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। মাধ্যমিক: পেকুয়া শিলখালী উচ্চ বিদ্যালয় (রেকর্ড নম্বরসহ উত্তীর্ণ) উচ্চমাধ্যমিক: চট্টগ্রাম কলেজ স্নাতক ও স্নাতকোত্তর: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ (এলএলবি ১৯৮৪, এলএলএম ১৯৮৬) ১৯৮৫ সালে ৭ম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান।   গুম, কারাবাসের আশঙ্কা, বিদেশে মামলা, দীর্ঘ আইনি লড়াই—সব পেরিয়ে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদে আসীন হওয়া সালাহউদ্দিন আহমদের রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এক নাটকীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। দমন-পীড়নের সময় আত্মগোপন থেকে বিবৃতি দেওয়া এক নেতা থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় নি

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0