ভোলা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন ওরফে রিজু ছাত্রজীবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিস্ববিদ্যালয়ে(কুয়েট) ছাত্র লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তিনি আবু সুফিয়ান মাহাবুব লিমন কমিটির ছাত্রলীগ ক্যাডার ছিলেন। যথারীতি ছাত্রলীগ পুনর্বাসনের বিশেষ বিসিএস ৩২ তম বিসিএস এ ২০০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার কর্মকর্তা বনে যান। বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের নেতা হিসেবে প্রথম পোস্টিং পান ঢাকা ডিভিশন ১ এ সহকারী প্রকৌশলী হিসাবে। শংকর মালোর স্টাফ অফিসার হিসাবে ক্যারিয়ার শুরু করে আওয়ামী চেতনা বিক্রি করে তর তর করে কেবল উপরে উঠেছেন। এরপর একে একে উপবিভাগীয় প্রকৌশলী হিসাবে মিরপুর গণপূর্ত উপবিভাগ ১ এ পাচ বছর এবং ঢাকা গণপূর্ত উপবিভাগ-৬ এ সাড়ে চার বছর দুহাতে অবৈধ অর্থ কামিয়েছেন। এরপরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসাবে চলতি দ্বায়িত্ব পাবার পরে প্রথম পোষ্টিং পান গাজীপুরে। এই গাজীপুরে যেয়ে তিনি সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীরের সাথে সখ্যতস গড়ে তোলেন। জাহাঙ্গীরের আস্থা ভাজন লোকদের সাথে মিলে নিজের আপন ভাই সহ টেন্ডার বানিজ্য করে লূটপাটের সর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেন। সেই টাকা দিয়ে গাজীপুরে ভূমি দস্যু সিন্ডিকেটের সাথে যোগসাজসে রিসোর্ট কিনেছেন মর্মে জানা যায়। তিনি জাহাঙ্গীরগং অন্যের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী দখল করে বেনামে চালাচ্ছেন । ২০২৪ এর জুলাই গণুভ্যুত্থানে জাহাঙ্গীরের পৈশাচিক ভূমিকা কারো অজানা নয়। ছাত্র জনতা হত্যায় এই রিজু শুধু অর্থ ও জনবল দিয়ে সাহায্য করেনি বরং নিজে মাথায় লাল ফিতা বেধে মোটর সাইকেলে চড়ে উত্তরা এলাকায় সরাসরি ছাত্র-জনতার উপর গুলি চালিয়েছেন। তিনি জাহাঙ্গীরের সাথে প্রায়ই নারী বান্ধবী সহ ইন্টার কন্টিনেন্টালে লাঞ্চ করতেন। জুলাই গনুঅভ্যুত্থানের সময় তিনি জাহাঙ্গীর সহ উত্তরা ক্লাবে রাতের বেলা মদের পার্টিতে একাধিক বার গোপন বৈঠক করেছেন । ৫ আগষ্ট সরকার পতনের পরও সব কিছু সামলে নিয়েছিলেন রিজু। কিন্তু বিধিবাম। ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো এই সাবেক ছাত্রলীগের গুন্ডাকে সরাতে আইইবির বিএনপি পন্থী নেতারা এবং ততকালীন সমন্বয়করা প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করলে ৩ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী ২৫.৩৬.০০০০.২১৫.১৯.১০৩.২৪-১৪১৩ স্মারকে ভোলায় বদলী করতে বাধ্য হন। কথিত আছে বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় বিএনপির জন সভা পন্ড করতে জাহাঙ্গীর বাহিনী যে রংকরা বাশ দিয়ে বেধড়ক পিটাতেন তা সাপ্লাই দিতেন আশ্রাফ উদ্দিন রিজু। আশরাফ গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগ থেকে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছর জুনে বিশ কোটি টাকা লোপাট করেছেন। সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীকে চার কোটি টাকা ঘুষ দিয়ে গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগে পোষ্টিং বাগিয়ে নিয়েছিলেন নেয়ার পর টাকার নেশায় দুর্নীতি ও অনিয়মের হোলি খেলায় নেমে ছিলেন। নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে প্রধান প্রকৌশলীর প্রজ্ঞাপন অমান্য করে এলটিএম পদ্ধতির পরিবর্তে ওটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দিয়ে ২০% কমিশন নিয়ে কোটি কোটি টাকা কামিয়েছেন। এখানেই আশরাফ অপকর্ম শেষ নয় তিনি তার আপন ভাই এর প্রতিষ্ঠান কে ছয় কোটি টাকার একটি কাজ পাইয়ে দেন যা পিপিআর ও পিপিএ পরিপন্থী কারন একজন TEC মেম্বার নিকট অত্মীয় টেন্ডার অংশ গ্রহন করার কোন সুযোগ নেই যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র ও ইজিপি পোর্টালে যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। এই আশরাফ সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর আস্থাভাজন হওয়ায় জুন মাসে তিন কোটি টাকার RFQ করে কাজ না করে কোটেশন আহবান করার পরদিন বিল পরিশোধ করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কে ১০% লাভ দিয়ে পুরো টাকা হাতিয়ে নেন। আশরাফ অপকর্ম এখানেই থেমে থাকিনি উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও উপ-বিভাগীয় প্রকোশলীর দপ্তরের সাইন ও সিল মোহর ছাড়া ঠিকাদরী প্রতিষ্ঠান কে তিন কোটি টাকার বিল পরিশোধ করে ৩০% টাকা কমিশন নেন যা গাজীপুর গণপূর্ত বিভাগের নথিপত্র যাচাই করলে প্রমান পাওয়া যাবে। আশরাফের বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগের বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে তিন সদস্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে মোঃ আশিক আহমেদ শিবলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা আরেক সদস্য হলেন মোঃ বদরুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, সাভার গণপূর্ত সার্কেল, ঢাকা ও সদস্য সচিব করা হয়েছে হাফসার মৌরি, নির্বাহী প্রকৌশলী, প্রকিউরমেন্ট সেল, গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঢাকা। প্রতিবেদক তদন্ত কমিটির আহবায়ক মোঃ আশিক শিবলী সাদিক কে মুঠোফোনে কল দিলে তিনি বলেন তদন্ত শেষ না হলে তদন্তের সার্থে কিছু বলা যাবে তবে এটুকু বলে যায় আশরাফ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় বেশ কিছু প্রমান পাওয়া গেছে খুব অল্প সময়ের মধ্যে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করবো প্রধন প্রকৌশলীর নিকট এটুকু বলতে পারি। এ বিষয় অভিযুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফ বলেন নতুন ভাবে যিনি গেছেন তিনিও (শারমিন আখতার) ফ্যাসিস্টের দোসর। কিছু সাংবাদিকদের বলেন তার বাড়ি গোপালগঞ্জ, আপনারা তার বিরুদ্ধে লিখছেন না কেন, তার অনেক বিতর্কিত কর্মকান্ড রয়েছে, সেগুলো লিখছেন না কেন? আশরাফ, গতবছর গ্রেফতার হওয়া টেন্ডার মাফিয়া নূসরাত হোসেনের ঘনিষ্ট। এই নূসরাতের বন্ধু প্রধান প্রকৌশলী শামীম আখতার তাই তদন্ত প্রতিবেদন ধামাচাপা দিবেন তাতে সন্দেহ নেই। গাজী হাফিজুর রহমান লিকুর আশীর্বাদপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা ১২ বছরের চাকুরি জীবনে কখনও ঢাকার বাহিরে একদিনের জন্যও চাকুরি করেন নি। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, এই নিয়ে খুব গর্বও করতেন তিনি সহকর্মীদের সাথে। ভোলায় বদলী হবার পর অঢেল টাকা ঢেলে নিজেকে বিএনপি পন্থী , কখনবা এনসিপি পন্থী প্রমান করতে চাচ্ছেন। বাড়ি পঞ্চগড় এই সুত্র ধরে বিএনপির একজন অত্যন্ত প্রভাব শালী নেতার পিএস কে ধরে ঢাকায় ঢোকার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন। তাতে কাজ না হলে আবার অন্য ডালে পা দেন। এনসিপির এক নেতাকে নির্বাচনে ডোনেশন দিয়ে তদবীর করান। কিন্তু উপদেষ্টার কার্যালয় ম্যানেজ না হওয়ায় তিনি সে যাত্রায় সফল হননি। এখন রিজু ফন্দি এটেছেন রাঙ্গামাটিতে ১১৫০ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়েছে , সেখানে গিয়ে টেণ্ডার বানিজ্য করবেন। খুনি হাসিনার কুকর্মের সহযোগী এই কর্মকর্তার যেখানে জেলে থাকার কথা সেখানে তাকে আরো দুহাতে টাকা কামানোর সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে তার আপা দিল্লী দাসি হাসিনাকে হুন্ডিকরে ভারতে টাকা পাঠানোর জন্য? আমরা অবিলম্বে তার গাজীপুর এ সঙ্গঘটিত দূর্নীতি অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন এর আলোকে কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা দেখতে চাই। আই ওয়াশ বদলী কোন শাস্তি নয়। চাকুরি বিধিমালা ও প্রজাতন্ত্রের প্রচলিত আইনে তিনি দূর্নীতি ও কৃত ফৌজদারী অপরধের শাস্তি পেয়েছেন কিনা তা আমরা দেখতে চাই। যদি দুষ্টের দমন না হয় তবে সৎ ও ভালো কর্মকর্তা গন হতাশ হয়ে পড়বে, সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে , তখন এই আওয়ামী দালালরাই ‘মব, মব’ বলে মুখে ফেনা তুলবে।
রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এ বিদেশি স্টেশনগুলোতে স্টেশন ম্যানেজার পদায়নকে কেন্দ্র করে গুরুতর অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনভিজ্ঞ ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা উপেক্ষা, অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশে পদায়ন প্রচলিত গ্রাউন্ড সার্ভিস ম্যানুয়াল (ICAO/IOSA) অনুযায়ী বিদেশে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার আগে দেশের অভ্যন্তরে ঢাকার বাইরে অন্তত একবার তিন বছরের জন্য স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সদ্য পদায়িত একাধিক কর্মকর্তারই ঢাকার বাইরে কোনো স্টেশনে কাজের অভিজ্ঞতা নেই। বিশেষ করে কুয়েত স্টেশনে নতুন স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে শামীমা পারভীনকে পদায়ন ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। তার আগে একই স্টেশনে দায়িত্বে ছিলেন তার স্বামী মো. শাহজাহান। স্বামীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একই কর্মস্থলে স্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়ার নজির অতীতে নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যোগ্যতার নির্ধারিত অভিজ্ঞতাও তার নেই। ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন অভিযোগ রয়েছে, সাবেক ছাত্রলীগ-সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা—ইব্রাহিম, মো. মিজানুর ও তন্ময় কান্তি বিশ্বাস—চাকরির বয়স মাত্র পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পরই বিদেশে পদায়ন পেয়েছেন। পূর্ববর্তী নীতিমালায় বিদেশে স্টেশন পরিচালনার জন্য ন্যূনতম ৮ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা প্রয়োজন ছিল। তবে ২০২৩ সালের প্রশাসনিক আদেশে তা কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, এই সংশোধনটি করা হয়েছিল বিশেষ গোষ্ঠীকে সুযোগ করে দিতে। যদিও সংস্থার সভায় আদেশটি পুনর্মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। সিনিয়রিটি লঙ্ঘনের অভিযোগ ডেপুটি ম্যানেজারদের মধ্যে সিনিয়র কর্মকর্তা মো. ফারুক তালুকদার এবং শাহীনা আক্তার দেশে ঢাকার বাইরে স্টেশন পরিচালনার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশে পদায়ন পাননি। একইভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজারদের মধ্যেও সিনিয়রিটি তালিকার শীর্ষে থাকা মোহাম্মদ সালেহউদ্দিনসহ অন্তত ১৩ জন পদায়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক আদেশ ৩৬/২০২৩ অনুযায়ী ভাইভা বোর্ডে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী ডাকার বিধান থাকলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। মানব পাচার মামলার আসামিকেও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব ম্যানচেস্টার স্টেশনে স্টেশন ম্যানেজার হিসেবে মনিরুল ইসলাম প্রধানের পদায়ন নিয়েও তীব্র সমালোচনা চলছে। প্রায় চার বছর আগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে কর্মরত অবস্থায় মানব পাচার মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তিনি আটক হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে দায়িত্ব দেওয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ বলছেন কর্মকর্তারা। গুয়াংজু ও দিল্লি স্টেশনেও বিতর্ক গুয়াংজু স্টেশনে আশরাফুল হকের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে অতিরিক্ত ব্যাগেজ সংক্রান্ত আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে তিনি সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন বলে সূত্র জানিয়েছে। অন্যদিকে দিল্লি স্টেশনে ইয়ারত হোসেনের পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অতীতে তিনি ভিভিআইপি সফরসঙ্গী হিসেবে ঘনিষ্ঠতার সুবিধা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিন্ডিকেট ও উচ্চপর্যায়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অভিযোগ উঠেছে, পুরো পদায়ন প্রক্রিয়ার নেপথ্যে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট কাজ করেছে। এতে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাফিকুর রহমান, সিএফও নওশাদ হোসেনসহ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা জড়িত বলে দাবি করা হচ্ছে। এছাড়া সাবেক উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের বিরুদ্ধেও সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। তিনি একসময় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও বিমানের চেয়ারম্যান—দুই পদেই দায়িত্বে ছিলেন। তার আমলে দুর্নীতির মাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। লোকদেখানো সাক্ষাৎকারের অভিযোগ গত ৩ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত স্টেশন ম্যানেজার পদায়নের মৌখিক পরীক্ষা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একাধিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, নির্বাচিত ব্যক্তিদের নাম আগেই চূড়ান্ত ছিল; সাক্ষাৎকার ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা। প্রশাসনিক আদেশ অনুযায়ী, কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থার আপত্তি থাকলে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে ভাইভায় ডাকা যাবে না। অথচ বিতর্কিত অতীত থাকা সত্ত্বেও কয়েকজন কর্মকর্তা ভাইভা দিয়ে পদায়ন পেয়েছেন। নীরব কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে বিমান মন্ত্রণালয় ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি। দেশের ভাবমূর্তি, প্রবাসী যাত্রীদের আস্থা ও বৈদেশিক রাজস্বের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থায় এ ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উদ্বেগজনক। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংস্থাটির ভেতরের বহু কর্মকর্তা-কর্মচারী।
মাত্র ছয় দিনের ব্যবধানে বরিশালে আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সাবেক দুই সংসদ সদস্য। শুধু এই দুজনই নন, গত এক সপ্তাহে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতিসহ অন্তত তিনজন প্রভাবশালী নেতা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আরও অন্তত ডজনখানেক নেতা জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউনুসের জামিনে আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সোমবার বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শরিয়তউল্লাহর আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এমপি তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তিনি আসামি ছিলেন। মামলাটিতে আরও আসামি রয়েছেন সাবেক সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. একেএম জাহাঙ্গীরসহ দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতা। সরকার পতন ও মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক ছিলেন ইউনুস। হঠাৎ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করায় আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। মহানগর ও জেলার দুই পাবলিক প্রসিকিউটর এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি-সম্পাদক আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিনের বিরোধিতা করেন। তাদের দাবি ছিল—মামলায় জামিন অযোগ্য ধারা রয়েছে এবং এটি ছিল আবেদনের প্রথম দিন। তবুও শুনানি শেষে আদালত তাকে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন। ইউনুসের আইনজীবী কাইয়ুম খান কায়সার দাবি করেন, ২০১৮ সালের একটি তথাকথিত ঘটনার ভিত্তিতে ২০২৪ সালে দায়ের করা মামলাটি মিথ্যা। বিচারক সব দিক বিবেচনা করেই জামিন দিয়েছেন। অন্যদিকে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. সাদিকুর রহমান লিংকন বলেন, ইউনুসের বিরুদ্ধে মোট তিনটি মামলা রয়েছে। একটি মামলায় জামিন পেলেও বাকি দুটি মামলার বিষয়ে পুলিশ আদালতকে তাৎক্ষণিক অবহিত করেনি বা গ্রেফতারের আবেদন করেনি। জেবুন্নেসা আফরোজসহ আরও তিনজনের জামিন ইউনুসের জামিনের মাত্র ছয় দিন আগে বরিশাল-৫ (সদর) আসনের সাবেক এমপি জেবুন্নেসা আফরোজ আদালত থেকে জামিন পান। একইদিনে জামিন পান যুবলীগ নেতা মাহমুদুল হক খান মামুন এবং মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তিন থেকে সাতটি পর্যন্ত মামলা রয়েছে। একের পর এক জামিন পাওয়ার পর ওইদিনই তারা কারাগার থেকে মুক্তি পান। পাবলিক প্রসিকিউটরদের আপত্তি বরিশালের মেট্রোপলিটন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. নাজিমউদ্দিন আহম্মেদ পান্না অভিযোগ করেন, মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে নামঞ্জুর হওয়া জামিনও নিম্ন আদালত মঞ্জুর করেছেন। তিনি উদাহরণ হিসেবে জেবুন্নেসা আফরোজ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-এর ভাতিজা মঈন আব্দুল্লাহর জামিনের প্রসঙ্গ তোলেন। তার মতে, উচ্চ আদালতের আদেশ অগ্রাহ্য করলে বিচার বিভাগের শৃঙ্খলা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাড. হাফিজ আহম্মেদ বাবলু বলেন, ৫ আগস্টের পর দায়ের হওয়া মামলার বেশিরভাগ আসামিই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। তাদের সহজে জামিন পাওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠছে। বিএনপির প্রতিক্রিয়া বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাড. আবুল কালাম শাহিন বলেন, বিএনপি সরকার গঠনের পরও সবক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি। তার অভিযোগ, একটি বিশেষ শ্রেণি সুযোগ নিয়ে জামিন অযোগ্য ধারার আসামিদের জামিন পাইয়ে দিচ্ছে। তিনি মনে করেন, এতে সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে এবং জরুরি ভিত্তিতে আইন মন্ত্রণালয়ের নজর দেওয়া উচিত। রাজনৈতিক বিশ্লেষণ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক জামিনের ধারাবাহিকতা বরিশালের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। একদিকে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়া মেনেই জামিন দেওয়া হচ্ছে; অন্যদিকে বিএনপি ও সরকারপক্ষের আইন কর্মকর্তারা প্রশ্ন তুলছেন বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সক্রিয়তা দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগর প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান বরিশাল সিটি করপোরেশন এর নির্বাচন স্থানীয় ও জাতীয় রাজনীতিতে সমানভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হবে।ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন এবং চট্রগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার পরেই বরিশাল নগরজুড়ে এখন এক ধরনের নীরব রাজনৈতিক উত্তাপ। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে নদী তীরের আড্ডা—সবখানেই আলোচনা একটাই: আসন্ন বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে কে হচ্ছেন বিএনপির প্রার্থী? দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই সিটি করপোরেশন শুধু একটি প্রশাসনিক ইউনিট নয়; এটি বরিশালের রাজনৈতিক স্পন্দনের কেন্দ্র। আর তাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা–কল্পনা, হিসাব–নিকাশ আর ভেতরের নীরব লবিং। দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রশ্নে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র অবস্থান ও কৌশল রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। দলটির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সাংগঠনিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। বিএনপির মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে আলোচনায় যারা : বিএনপির ভেতরে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক জনপ্রতিনিধির নাম আলোচনায় রয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র আলহাজ্ব কে এম শহিদুল্লাহ,বরিশাল মহানগর বিএনপি'র সাবেক সদস্য সচিব সাবেক ছাত্রনেতা অ্যাডঃ মীর জাহিদুল কবির জাহিদ,মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক,বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমাতুল্লাহ,বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরীন,বিএনপি নেতা এবায়েদুল হক চান ও বরিশাল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.নজরুল ইসলাম খান রাজন। এছাড়া বরিশাল মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ- সভাপতি ও বি এম কলেজ এর সাবেক জি এস এ্যাডভোকেট আকতারুজ্জামান শামীম আলোচনায় রয়েছেন। অভিজ্ঞতার পাল্লা ভারী: দলীয় সূত্র বলছে, এবার প্রার্থী বাছাইয়ে গুরুত্ব পাবে অভিজ্ঞতা ও গ্রহণযোগ্যতা। নির্দিষ্ট কেউকে ঘিরেই আলোচনা সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের আরও কয়েকজন নেতা নীরবে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, কেউ আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দলীয় সূত্রে জানা যায়, তৃণমূলের মতামত, সাংগঠনিক দক্ষতা, অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা এবং জনসম্পৃক্ততা এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। অন্যদিকে দলীয় একটি সূত্র জানায়, এবার বিএনপিকে এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি সর্বস্তরে গ্রহণযোগ্য। কারণ, মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ–এর সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমীকরণে বিবেচনায় রাখতে হবে। দলীয় কৌশল ও চ্যালেঞ্জ : বিএনপি সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, নির্বাচন অংশগ্রহণের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে প্রার্থী নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। সেক্ষেত্রে— *ফ্যাসিস্ট বিরোধী আন্দোলনে ভুমিকা, *জেল জুলম,মামলা হামলা নির্যাতন, *রাজনৈতিক অবস্থান। এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বরিশালে দলীয় ঐক্য ধরে রাখা এবং গ্রহণযোগ্য প্রার্থী বাছাই করা বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতের নির্বাচনে বিভক্তি বা বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেন। ভোটারদের প্রত্যাশা : বরিশাল নগরবাসীর প্রধান দাবি— * জলাবদ্ধতা নিরসন, * সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, * পরিচ্ছন্ন নগর ব্যবস্থাপনা, * কর্মসংস্থান ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ, মেয়র প্রার্থীদের জন্য এসব ইস্যু হবে নির্বাচনী প্রচারণার মূল প্রতিপাদ্য। বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা ক্রমেই বাড়ছে।চূড়ান্ত ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা ও দলীয় কৌশলই থাকবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রার্থী ঘোষণার পর নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। বরিশালের রাজনীতির বাতাসে ইতিমধ্যেই নির্বাচনী সুর। বিএনপি শক্ত প্রার্থী দিলে নগর রাজনীতিতে জমে উঠতে পারে লড়াই।এখন সবার দৃষ্টি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে। কে হবেন বিএনপির ‘নগর সেনাপতি’তার উত্তর মিললেই বরিশাল সিটির নির্বাচনী সমীকরণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উল্লেখ্য,বরিশাল সিটি করপোরেশ নির্বাচনে ২০১৩ সালে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছিলেন তৎকালীন মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মৎস্য বিষয়ক সম্পাদক আহসান হাবিব কামাল।২০১৮ সালে আলহাজ্ব মজিবর রহমান সরোয়ার দল থেকে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন।ভোট ডাকাতির মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হোন সাদিক আব্দুল্লাহ। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলি জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানান, তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর খামেনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ এবং টাইমস অব ইসরায়েলসহ একাধিক গণমাধ্যমও সরকারি সূত্রের বরাতে জানায়, খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। তবে, এই দাবি প্রকাশ পাওয়ার পর পরই ইরান সরকার কঠোর ভাষায় তার নেতার জীবিত থাকার দাবি করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আল-আলম জানিয়েছে, আয়াতুল্লাহ খামেনি এখনো বেঁচে আছেন এবং তিনি পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আরও বলা হয়, তিনি দেশের সেনাবাহিনী এবং সরকারের নেতা হিসেবে দৃঢ়তার সঙ্গে যুদ্ধের ময়দানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। খামেনি বেঁচে আছেন, দৃঢ়তার সঙ্গে নেতৃত্ব দিচ্ছেন:ইরানের গণমাধ্যমের দাবি এদিকে, এনবিসিতে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, “ইরানের প্রায় সব কর্মকর্তা জীবিত, সুস্থ ও নিরাপদ স্থানে আছেন।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান আবারও তাদের নেতার বেঁচে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন বা শূন্যতা তৈরি হতে পারে, তবে এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি। এর পাশাপাশি, ইরান সরকার তাদের সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান নিয়ে প্রাথমিকভাবে কোনো বিশেষ প্রতিক্রিয়া দেয়নি। এ ঘটনার পর বিশ্বের নজর তেহরানে, এবং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।