ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে তাকে সিলেট থেকে সরিয়ে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে সরকারি আদেশে প্রত্যাহারের কারণ উল্লেখ না থাকলেও স্থানীয় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কি তার বদলির প্রধান কারণ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে কয়েকটি ঘটনা, যা গত কয়েক মাসে সিলেটে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।সাম্প্রতিক সময়ে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারে দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী ‘ডেগ’ সিলগালা করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কেউ এটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও, অন্যরা একে ধর্মীয় ঐতিহ্যে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন। ‘ডিসি’ সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে মাজার ভক্তরা ‘ওলির সঙ্গে বেয়াদবির খেসারত’ বললেও অপর একটি পক্ষ বিষয়টিকে মাজারে ‘মদ গাঁজার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় একজন ভালো প্রশাসকের পরিণতি’ বলছেন। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মাজারের দানবাক্স ও ডেগ ঘটনার সূত্রপাত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের দান ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগ থেকে। গত ১৮ জুন প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাজারের বিদ্যমান দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একইসঙ্গে শতাব্দীপ্রাচীন তিনটি ঐতিহ্যবাহী ‘দানের ডেগ’ সিলগালা করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু সিদ্ধান্তটি মুহূর্তেই ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়। মাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অভিযোগ করেন, সাতশ বছরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের এ ধরনের হস্তক্ষেপ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। অন্যদিকে প্রশাসনপন্থী একটি অংশ এটিকে দীর্ঘদিনের অনিয়ম বন্ধের উদ্যোগ হিসেবে দেখেছে। তিন দিনের মাথায় প্রত্যাহার ডেগ ও দানবাক্স সিলগালার ঘটনার মাত্র তিন দিনের মাথায় আসে সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারের আদেশ। যদিও সরকারিভাবে দুই ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্কের কথা বলা হয়নি, তবে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পর্যায়ের অনেকেই মনে করছেন, মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট জনমতের চাপ সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে। সিলেটের বিভিন্ন মহলে এখনো আলোচনা চলছে—এটি কি কেবল একটি নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক পরিণতি? সারওয়ার আলমের অবস্থান: ‘ভালো কাজ শেষ করতে পারলাম না’ প্রত্যাহারের পর প্রতিক্রিয়ায় মো. সারওয়ার আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারি চাকরিতে বদলি স্বাভাবিক বিষয়। তবে তার বক্তব্যে আক্ষেপের সুরও ছিল। তিনি বলেন, “একটি ভালো কাজ শুরু করেছিলাম, শেষ করা গেল না। অনেকের পেটে হাত পড়ায় তারা এর বিরুদ্ধাচরণ করেছে।” তার এই মন্তব্য নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—তিনি কি মাজার ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছিলেন, নাকি প্রশাসনিক সীমারেখা অতিক্রম করেছিলেন? সিলেটে দায়িত্ব পালন: সাফল্য ও সমালোচনার মিশ্র চিত্র গত বছরের আগস্টে সাদাপাথর লুট ও চুরির ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগ দেন সারওয়ার আলম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বেশ কিছু আলোচিত উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এর মধ্যে ছিল— সাদাপাথর লুটের ঘটনায় প্রশাসনিক অভিযান; সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ দ্রুত সম্পন্নের ঘোষণা; ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা; ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ; বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা। তবে এসব উদ্যোগের বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত পূর্ণ বাস্তবায়নের মুখ দেখেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, তিনি অনেক ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল নিশ্চিত করতে পারেননি। ‘অতিরিক্ত সক্রিয়’ না ‘সংস্কারক’? সচেতন নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, সারওয়ার আলম প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগে অনেক সময় অতিরিক্ত আগ্রাসী ছিলেন। তাদের মতে, মাজারের মতো সংবেদনশীল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বৃহত্তর অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে তার সমর্থকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের অস্বচ্ছতা, অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই তিনি প্রতিরোধের মুখে পড়েছেন। ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিমের ভাষায়, সাদাপাথর রক্ষায় তার ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল। তবে মাজার ব্যবস্থাপনায় কিছু পদক্ষেপ জনমনে অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। মাজার ভক্তদের ক্ষোভ মাজার-সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসন দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে চাইলে আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে এগোতে পারত। মাজার ভক্ত সোহেল আলী মনে করেন, ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক পরিবেশকে অযথা বিতর্কিত করার কারণেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে ভক্ত আব্দুল হান্নান বলেন, মাজারকে ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির প্রশ্ন সারওয়ার আলমের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনার মধ্যে আবার সামনে এসেছে মঙ্গল দাসের ঘটনাও। বিদ্যুতের বিল বকেয়া থাকায় কারাগারে যাওয়া মঙ্গল দাসের মুক্তির বিষয়ে জেলা প্রশাসকের আশ্বাস থাকলেও শেষ পর্যন্ত তার সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাও প্রশাসনিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বহাল রাখার দাবিও আছে তবে বিতর্কের পাশাপাশি তার পক্ষে অবস্থানও দেখা গেছে। প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে সিলেটে যুবসমাজের ব্যানারে বিক্ষোভ ও সমাবেশ হয়েছে। বক্তারা দাবি করেছেন, সিলেটের স্বার্থে সারওয়ার আলমকে বহাল রাখা উচিত। এতে স্পষ্ট হয়, জেলা প্রশাসক হিসেবে তার কর্মকাণ্ড সিলেটে বিভক্ত জনমত তৈরি করেছে। মূল প্রশ্নের উত্তর এখনও অমীমাংসিত সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখনও অমীমাংসিত—এটি কি কেবল নিয়মিত প্রশাসনিক বদলি, নাকি মাজার ইস্যুতে সৃষ্ট বিতর্কের প্রত্যক্ষ ফল? সরকার এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে ঘটনাপ্রবাহ বলছে, মাজারের দানবাক্স ও ডেগ সিলগালা, জনমতের প্রতিক্রিয়া এবং তিন দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত—এই তিনটি ঘটনার সময়গত সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে। সিলেটের ধর্মীয় ঐতিহ্য, প্রশাসনিক কর্তৃত্ব এবং জনমতের সংঘাত—এই তিন বাস্তবতার মধ্যেই এখন খোঁজা হচ্ছে সারওয়ার আলম অধ্যায়ের প্রকৃত ব্যাখ্যা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের সরকারি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গন। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে নিয়মিত প্রশাসনিক পদায়ন হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও নাগরিক প্রতিনিধিরা এর পেছনে ভিন্ন কারণ দেখছেন। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যেও সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্টে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, জনপ্রিয় ও জনবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত সারওয়ার আলমকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পেছনে ‘স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব’ থাকতে পারে। কী বলছে সরকারি প্রজ্ঞাপন? জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, বদলিজনিত কারণে মো. সারওয়ার আলমকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কেন ক্ষুব্ধ সিলেটের একটি অংশ? মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বক্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব পালনের সময় সারওয়ার আলম নগরের ফুটপাত দখলমুক্তকরণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। বক্তারা বিশেষভাবে হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার সংশ্লিষ্ট আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, এসব পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ একটি সুবিধাভোগী মহল প্রশাসনিকভাবে তাকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে মানববন্ধনে কোনো প্রামাণ্য নথি বা সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়নি। মানববন্ধনে কী বলা হয়েছে? রেনেসাঁর আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং মাহফুজ বিন আবদুল হাফিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন— মাওলানা শামীম আহমদ মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ মুফতি জিয়াউর রহমান মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব সৈয়দ সালিম কাসিমী মুফতি মিনহাজুস সিরাজ আবদুল্লাহ আল মনসুর আহমাদুল হক উমামা আদিব আহমদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। বক্তারা বলেন, “সিলেটবাসীর প্রত্যাশা ও জনমতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে প্রত্যাহারের আদেশ বাতিল করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন, গণসমাবেশ এবং প্রয়োজন হলে হরতালের মতো কঠোর কর্মসূচিও বিবেচনায় আসতে পারে।” প্রশাসনিক বদলি নিয়ে কেন প্রশ্ন? বাংলাদেশের প্রশাসনে জেলা প্রশাসকদের বদলি নিয়মিত ঘটনা। তবে কোনো কর্মকর্তাকে ঘিরে জনসমর্থন, প্রতিবাদ বা রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হলে সেই বদলি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বাইরেও জনআলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে ঘিরে যে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তা শুধু একজন কর্মকর্তার বদলি নয়; বরং স্থানীয় প্রশাসন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। সামনে কী হতে পারে? সরকার এখন পর্যন্ত সারওয়ার আলমের পদায়নকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা প্রত্যাহার আদেশ বাতিলের দাবি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক বদলির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বৃহত্তর জনআন্দোলনের রূপ নেবে—সেটিই এখন সিলেটের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের অন্যতম আলোচ্য প্রশ্ন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ সিলগালার মাত্র তিন দিনের মাথায় সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই বদলির কারণ উল্লেখ না থাকলেও ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি নিয়মিত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, নাকি মাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠীর চাপের ফল? ডিসির প্রত্যাহারের পর সিলেটের কয়েকটি ইসলামি দল প্রকাশ্যে ক্ষোভ জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগ এবং মাজারকেন্দ্রিক অনিয়মে হস্তক্ষেপের কারণেই তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনও সরকারি বা স্বাধীন তদন্তের তথ্য প্রকাশ হয়নি। যে সিদ্ধান্ত থেকে বিতর্কের সূত্রপাত সম্প্রতি হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহে থাকা দানের তিনটি ডেগ প্রশাসনের উদ্যোগে সিলগালা করা হয়। প্রশাসনের দাবি ছিল, দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই পদক্ষেপের পরপরই মাজারকে কেন্দ্র করে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, মাজারের দান ও তহবিল ব্যবস্থাপনা দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার বিষয় হলেও এ ধরনের সরাসরি প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বিরল। ঠিক এর তিন দিনের মাথায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। ইসলামি দলগুলোর অভিযোগ কী? সিলেট জেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা নেহাল আহমদের দাবি, ডিসি সারওয়ার আলম সিলেটে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষায়, মাজারকেন্দ্রিক সুবিধাভোগী গোষ্ঠীগুলো এই পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট হয়ে ডিসির বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়েছে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির নুরুল ইসলাম বাবুল। তিনি বলেন, সারওয়ার আলম ইমাম-মুয়াজ্জিন কল্যাণ তহবিল গঠন, প্রবাসীদের স্বীকৃতি প্রদান, নগরীর ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছিলেন। তার মতে, ডেগ সিলগালার মাধ্যমে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। অন্যদিকে সিলেট মহানগর হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মাহমুদুল হাসান ঘটনাটির পেছনে “অপশক্তির প্রভাব” থাকার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি সরকারের কাছে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। ভিন্নমতও রয়েছে তবে সব ইসলামি সংগঠন একই অবস্থানে নেই। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল মালিক চৌধুরী মনে করেন, ডিসি কিছু ইতিবাচক উদ্যোগ নিলেও কয়েকটি সিদ্ধান্ত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার অভিযোগ, কালেক্টরেট মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ীকে উচ্ছেদ করার ঘটনায় অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। একই সঙ্গে মাজারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। এই বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে, ডিসির কর্মকাণ্ড নিয়ে সমর্থন ও সমালোচনা—দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই ছিল। সরকারি নীরবতা বাড়াচ্ছে প্রশ্ন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারের নীরবতা। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে শুধু বলা হয়েছে, “জনস্বার্থে” সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কিন্তু কেন তাকে সরানো হলো, কিংবা তার স্থলাভিষিক্ত কে হচ্ছেন—সে বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক রদবদলের ক্ষেত্রে এমন সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়। তবে একটি আলোচিত পদক্ষেপের পরপরই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রত্যাহার হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও বেড়েছে। মূল প্রশ্নগুলো কী? এই ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় প্রকৃত অবস্থা কী? ডেগ সিলগালার সিদ্ধান্তের পেছনে প্রশাসনের নির্দিষ্ট অনুসন্ধান বা অভিযোগ ছিল কি? ডিসি প্রত্যাহারের সঙ্গে ওই সিদ্ধান্তের কোনও সম্পর্ক রয়েছে কি? যদি সম্পর্ক না থাকে, তবে সরকার কারণ প্রকাশে অনাগ্রহী কেন? মাজারকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর কারা প্রভাব বিস্তার করে? সিলেটের জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলমের প্রত্যাহারকে কেন্দ্র করে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা কেবল একজন কর্মকর্তার বদলিকে ঘিরে নয়। বরং এটি মাজারের দান ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রভাবশালী স্বার্থগোষ্ঠী এবং সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বচ্ছতা—এসব বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুপস্থিত থাকায় ঘটনাটি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা ও অভিযোগ সামনে আসছে। তবে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার বাইরে গিয়ে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ অনুসন্ধান। ততদিন পর্যন্ত ডেগ সিলগালা এবং ডিসি প্রত্যাহারের এই সময়গত মিল জনমনে প্রশ্ন জাগিয়েই যাবে। সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, মো. সারওয়ার আলমকে বদলিজনিত কারণে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর আগে, ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের প্রশাসনে আবারও বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা ১১টি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার ১১ কর্মকর্তাকে নতুন দায়িত্বে পদায়ন ও বদলি করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাত—জ্বালানি, স্থানীয় সরকার, পানি সরবরাহ, পল্লী উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কার্যক্রম—একযোগে পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সরকার নীতি বাস্তবায়নে গতি আনতে চাইছে। জ্বালানি খাতে পরিবর্তন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের হাইড্রোকার্বন ইউনিটের মহাপরিচালক (যুগ্ম-সচিব) মো. সাবেত আলীকে একই বিভাগের যুগ্ম-সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হওয়ায় এই পদায়নকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে বিভাগে সংযুক্ত যুগ্ম-সচিব মো. অলিউর রহমানকে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজউক থেকে জনপ্রশাসনে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এস এম তুহিনুর আলমকে পরবর্তী পদায়নের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলে এ ধরনের পদক্ষেপকে ভবিষ্যৎ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদানের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে দেখা হয়। প্রশিক্ষণ ও মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন নিয়োগ প্রেষণ শেষে সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে যোগদানকারী যুগ্ম-সচিব মো. আবুল হোসেনকে জাতীয় উন্নয়ন প্রশাসন একাডেমির (নাডা) এমডিএস হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নাডা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে এই পদায়ন প্রশাসনিক মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নতুন অধিদপ্তরে প্রথম ডিজি সবচেয়ে আলোচিত পদায়নগুলোর একটি হলো নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের যুগ্ম-সচিব ডি এম আতিকুর রহমানকে নবগঠিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’-এর মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ। তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। নতুন এই অধিদপ্তরের কার্যক্রম ও প্রশাসনিক কাঠামো কীভাবে গড়ে তোলা হবে, সে বিষয়ে এখন আগ্রহ তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অঙ্গনে। আবাসন ও অবকাঠামো খাতে পরিবর্তন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক সৈয়দ ফরহাদ হোসেনকে ‘অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব মো. জহিরুল ইসলাম খানকে সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ওয়াসায় নতুন নেতৃত্ব রাজশাহী বিভাগের কৃষি বিপণন কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বেগম শাহানা আখতার জাহানকে রাজশাহী ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের পরিচালক এরশাদ হোসেন খানকে ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পানি সরবরাহ ও নগর সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে এই নিয়োগগুলোকে ভবিষ্যৎ সেবা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কী ইঙ্গিত দিচ্ছে এই রদবদল? প্রশাসনের বিভিন্ন খাতে একযোগে এই পুনর্বিন্যাস সরকারের কৌশলগত অগ্রাধিকারকে সামনে নিয়ে আসে। বিশেষ করে নবগঠিত অধিদপ্তরে নেতৃত্ব নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন কর্মকর্তা দায়িত্ব প্রদান এবং প্রশিক্ষণ ও স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনার প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এসব বদলিকে নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে, তবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একযোগে নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রশাসনিক পুনর্গঠনের ইঙ্গিত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম ও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে রুম্পা সিকদার নামে এক জ্যেষ্ঠ সিনিয়র সহকারী সচিবকে শাস্তি দিয়েছে জনপ্রশাসন প্রশাসন মন্ত্রণালয়। লঘুদণ্ড হিসেবে তাঁর বেতন বৃদ্ধি দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। রুম্পা সিকদার ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) থাকার সময় এই অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল। পরে তিনি বরিশাল সিটি করপোরেশনে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন। বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এই শাস্তির কথা জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুম্পা সিকদার ২০১৯ সালের ৮ জুলাই থেকে ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নলছিটির ইউএনও থাকার সময় আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ২০২১-২২ অর্থবছরের তৃতীয় পর্যায়ের ৩০২টি ঘরের মধ্যে মাটিভাঙ্গা (চর ষাটপাকিয়া) এলাকায় ১২৮টি ঘর নির্মাণের জন্য ১ কোটি ৪৫ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ পান। পরে দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউএনও মো. নজরুল ইসলামের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১২৮টি ঘরের মধ্যে ৫৫টি ঘর নির্মাণই করা হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বিজন কৃষ্ণ খরাতীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি অনির্মিত ঘরগুলো নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। সে অনুযায়ী ঘর প্রতি ৩ লাখ ৪ হাজার টাকা হারে ও পরিবহন ব্যয়সহ মোট ১ কোটি ৬৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার জন্য বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার তাঁকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী বিজন কৃষ্ণ খরাতী টাকা জমা দেন। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, রুম্পা সিকদার তাঁর দায়িত্বকালে অনির্মিত ৫৫টি ঘর নির্মাণে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে বিজন কৃষ্ণ খরাতীর প্রস্তাবে পুরো অর্থের চেকে স্বাক্ষর করেন। এ ছাড়া ‘গৃহ প্রদান নীতিমালা, ২০২০’ অনুযায়ী ঘর নির্মাণের কথা থাকলেও সভাপতি হিসেবে সে অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত না করে তিনি কাজে চরম অবহেলা দেখান। এটি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী অসদাচরণের মতো শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় বিভাগীয় মামলা করা হয়। এতে ওই কর্মকর্তার ব্যক্তিগত শুনানির বক্তব্য সন্তোষজনক হয়নি। এরপর বিভাগীয় মামলাটি তদন্ত করার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, রুম্পা সিকদার ও বিজন কৃষ্ণ খরাতীর যৌথ স্বাক্ষরে ঘর নির্মাণের টাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। কিন্তু ৫৫টি ঘর নির্মাণ না হলেও রুম্পা সিকদার নলছিটি থেকে বদলির সময় এই টাকা সম্পর্কে কোনো তথ্য বিবরণী কাগজে লিপিবদ্ধ করেননি। একজন ইউএনও হিসেবে কত টাকার চেকে তিনি স্বাক্ষর করেছেন এবং সেই টাকা কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার হয়েছে, তার প্রমাণ ও তা দাপ্তরিক নথিপত্রে লিপিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। এখানে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার অভাব ও কর্তব্যে অবহেলা প্রমাণিত হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অসদাচরণের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সব বিষয় বিবেচনায় রুম্পা সিকদারকে দুই বছরের বেতন স্থগিতের লঘুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন করে ১১ দফা নির্দেশনা জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। রোববার (২৯ মার্চ) মন্ত্রণালয় থেকে এর অধীন দপ্তর-সংস্থা, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত নিজ নিজ অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়েছিল। তবে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে ব্যত্যয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পূর্বের নির্দেশনাগুলো পুনরায় গুরুত্ব দিয়ে ১১টি নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রতিপালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কী আছে ১১ নির্দেশনায়? নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলক উপস্থিতি প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয় প্রয়োজন অনুযায়ী লাইট, ফ্যান ও এসি ব্যবহার এয়ার কন্ডিশনারের তাপমাত্রা কমপক্ষে ২৫ ডিগ্রি রাখা কক্ষ ত্যাগের সময় সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ রাখা করিডোর, সিঁড়ি ও ওয়াশরুমে অপ্রয়োজনীয় আলো বন্ধ রাখা অফিস শেষে সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ নিশ্চিত করা অনুমতি ছাড়া আলোকসজ্জা পরিহার জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়া অফিসের সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা নির্দেশনা বাস্তবায়নে ভিজিল্যান্স টিম গঠন কেন এই নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি পর্যায়ে এই ধরনের উদ্যোগ সামগ্রিক জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এক বছরের চুক্তিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পুনরায় নিয়োগ পেয়েছেন মো. আব্দুর রশীদ মিয়া। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে তিনি চলতি দায়িত্বে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে অবসরে যান। নতুন প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ধারা ৪৯ অনুযায়ী আব্দুর রশীদ মিয়াকে তার অবসর-উত্তর ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি স্থগিত রাখতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা বা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে এক বছরের জন্য তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলেও জানানো হয়েছে। পেশাগত জীবন আব্দুর রশীদ মিয়া এলজিইডির মানবসম্পদ উন্নয়ন, মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশ ইউনিটের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (গ্রেড-৩) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি চলতি দায়িত্বে প্রধান প্রকৌশলী হন এবং বছরের শেষ দিকে অবসরে যান। তিনি ১৯৮৭ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ ইনস্টিটিউশন অব টেকনোলজি (বর্তমানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) থেকে পুরকৌশলে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০১৪ সালে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে পরিবেশ বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি জাপানের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান মিতসুবিশিতে প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মাধ্যমে এলজিইবিতে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন। তিনি ২০০৬ সালে নির্বাহী প্রকৌশলী, ২০১৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং ২০২৩ সালে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। মিল্ক ভিটায় নতুন মহাব্যবস্থাপক অন্যদিকে, বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড (মিল্ক ভিটা)-এর মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. এনায়েত করিম চৌধুরী। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এতে বলা হয়েছে, গ্রেড-৫ বেতন স্কেলে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়, তাকে অন্য কোনো পেশা বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ত্যাগ করে এই দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
নোয়াখালী : নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউএনও মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে একটি আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হয়। প্রায় ২৯ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের ওই ভিডিওটি দ্রুতই ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের কর্মস্থল সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকা থেকে পরিকল্পিতভাবে এটি ছড়ানো হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাওয়ার পর সোমবার সকালেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ইউএনও কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি অবগত আছেন। তবে ভিডিওতে থাকা নারীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ একে ‘হানিট্র্যাপ’ হিসেবে দেখছেন, যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার মধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি পদোন্নতির পরিবর্তে ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এলজিইডি থেকে দুই দফায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রধান প্রকৌশলীর প্রস্তাব এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেন গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দাপ্তরিক পত্র পাঠান। চিঠিতে এলজিইডির সাংগঠনিক কাঠামোর ৫ম গ্রেডভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের পদ ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে পূরণের সুপারিশ করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়— রাজস্ব বাজেটভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ: ১৬৮টি শূন্য পদ: ১১৪টি বেতনক্রম (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেড): ৪৩,০০০–৬৯,৮৫০ টাকা উন্নয়ন বাজেটভুক্ত প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী/উপ-প্রকল্প পরিচালক/উপ-পরিচালকের পদ: ১১২টি প্রেষণে পূরণ: ১৬টি মোট শূন্য পদ: ২১০টি প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্বে ৩৩৩ জনকে যোগদানের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় নতুন পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদগুলো ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে পূরণ করার বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য। বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, কৌশলে প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীকে ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, এটি কার্যত পদোন্নতিরই সমতুল্য, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী। মন্ত্রণালয়ের অবস্থান এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাহমুদ জাহেদী বলেন, সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির বিষয়ে আলোচ্য আবেদন সম্পর্কে তিনি অবগত নন। প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতের নির্দেশনা গত ২৮ অক্টোবর ২০২৪ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘এলজিইডির নিয়োগবিধি তছনছ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে আইনজীবী ব্যারিস্টার আরিফ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার উম্মে আইমান জেনিব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ৯ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও রাশেদুজ্জামান রাজা-এর দ্বৈত বেঞ্চ প্রকল্প থেকে ২৫৭ জনকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও পদোন্নতির অনিয়মের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-কে। তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে উচ্চ আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়— ২৫৭ জনের চাকরি নিয়মিতকরণে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি জ্যেষ্ঠতা গণনা প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ৭ম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেড প্রদান ও ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি আইনসম্মত ছিল না ২০১১ সালের একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা প্রদান বৈধ হয়নি, তাই সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতিও আইনসম্মত নয়। প্রশাসনিক ও আইনি প্রশ্ন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের নির্দেশনার পরও যদি ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের মাধ্যমে একই ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করা হয়, তবে তা আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশকে পাশ কাটানোর শামিল হতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে— আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে? সরকার কি বিতর্কিত পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা করবে? নাকি ‘চলতি দায়িত্ব’-এর আড়ালে নতুন করে পদায়ন সম্পন্ন হবে? বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
দেশের প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের অংশ হিসেবে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের নয়জন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে আরও তিন সচিবকে তাদের নিজ নিজ পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা তিনটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। যাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল চুক্তি বাতিল হওয়া সচিবরা হলেন— পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মোখলেস উর রহমান এস এম আকমল হোসেন কাইয়ুম আরা বেগম বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক শরীফা খান স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মো. সাইদুর রহমান তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের শীষ হায়দার চৌধুরী জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক (সিনিয়র সচিব) সিদ্দিক জোবায়ের ভূমি আপিল বোর্ডের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইউসুফ মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মমতাজ আহমেদ প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে। তিন সচিবকে জনপ্রশাসনে সংযুক্ত এর আগে আরও তিন সচিবকে তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মো. সাইফুল্লাহ পান্না মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত থাকবেন। প্রশাসনে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনে চলমান সংস্কার ও কাঠামোগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনে ধারাবাহিক রদবদল ও দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের ঘটনা নজরে এসেছে। সর্বশেষ এ সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন সমন্বয় আনতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ (ছালেহ শিবলী)। বুধবার সচিব পদমর্যাদায় তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন আতিকুর রহমান রুমন। তিনি বর্তমানে দৈনিক দিনকাল পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ সাংবাদিক মহলে ছালেহ শিবলী নামে অধিক পরিচিত। তিনি অতীতে তারেক রহমান–এর প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যখন তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। চার দলীয় জোট সরকারের সময় ছালেহ শিবলী কলকাতা উপ-হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন শিবলী বার্তা সংস্থা United News of Bangladesh (ইউএনবি), দৈনিক মানবজমিন, বাংলা বাজার পত্রিকা এবং বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল Channel i–এ কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি–এর সাধারণ সম্পাদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারি সূত্র জানায়, নতুন দায়িত্বে প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম কার্যক্রম সমন্বয়, তথ্য সরবরাহ ও জনসংযোগ জোরদারে ভূমিকা রাখবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একান্ত সচিব-১, সহকারী একান্ত সচিব-১ এবং প্রোটোকল অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা মিঞা মুহাম্মদ আশরাফ রেজা ফরিদীকে তার একান্ত সচিব-১ পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ হিসেবে নিয়োগ করা হয়। প্রধানমন্ত্রী যতদিন প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করবেন অথবা মোহাম্মদ মামুন শিবলীকে তার সহকারী একান্ত সচিব পদে বহাল রাখার অভিপ্রায় পোষণ করবেন ততদিন এ নিয়োগ আদেশ কার্যকর থাকবে। অপর আদেশে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. উজ্জল হোসেনকে প্রধানমন্ত্রীর প্রোটোকল অফিসার-১ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মাঠ প্রশাসন থেকে পাওয়া অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কন্ট্রোল রুম খুলেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রত্যেক দিন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ও ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীরা কন্ট্রোল রুমে দায়িত্ব পালন করবেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রাপ্ত অভিযোগ বা তথ্যাদিন বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ করবেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।