Brand logo light
বাংলাদেশ

এলজিইডিতে ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীর গোপন পদোন্নতির পাঁয়তারা, হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার মধ্যেই প্রস্তাব

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে

উচ্চ আদালতের স্থিতাবস্থার মধ্যেই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) থেকে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীকে পদোন্নতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ঘিরে প্রশাসনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, সরাসরি পদোন্নতির পরিবর্তে ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের মাধ্যমে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে এলজিইডি থেকে দুই দফায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।


 

প্রধান প্রকৌশলীর প্রস্তাব

এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) বেলাল হোসেন গত ১০ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে দাপ্তরিক পত্র পাঠান। চিঠিতে এলজিইডির সাংগঠনিক কাঠামোর ৫ম গ্রেডভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলী বা সমমানের পদ ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে পূরণের সুপারিশ করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়—

  • রাজস্ব বাজেটভুক্ত নির্বাহী প্রকৌশলীর পদ: ১৬৮টি

  • শূন্য পদ: ১১৪টি

  • বেতনক্রম (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ৫ম গ্রেড): ৪৩,০০০–৬৯,৮৫০ টাকা

  • উন্নয়ন বাজেটভুক্ত প্রকল্পে নির্বাহী প্রকৌশলী/উপ-প্রকল্প পরিচালক/উপ-পরিচালকের পদ: ১১২টি

  • প্রেষণে পূরণ: ১৬টি

  • মোট শূন্য পদ: ২১০টি

প্রস্তাবে বলা হয়, পূর্বে ৩৩৩ জনকে যোগদানের ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যেষ্ঠতা নিয়ে মামলা চলমান থাকায় নতুন পদোন্নতি দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদগুলো ‘চলতি দায়িত্ব’ দিয়ে পূরণ করার বিষয়টি বিবেচনাযোগ্য।


 

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ

বঞ্চিত কর্মকর্তাদের দাবি, কৌশলে প্রকল্প থেকে রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্ত ২৫৭ সহকারী প্রকৌশলীকে ৫ম গ্রেডে দায়িত্ব দেওয়ার পথ তৈরি করা হচ্ছে। তারা বলছেন, এটি কার্যত পদোন্নতিরই সমতুল্য, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থী।


 

মন্ত্রণালয়ের অবস্থান

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. রেজাউল মাহমুদ জাহেদী বলেন, সহকারী প্রকৌশলীদের পদোন্নতির বিষয়ে আলোচ্য আবেদন সম্পর্কে তিনি অবগত নন। প্রধান প্রকৌশলী বেলাল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


 

আদালতের নির্দেশনা

গত ২৮ অক্টোবর ২০২৪ সালে একটি জাতীয় দৈনিকে ‘এলজিইডির নিয়োগবিধি তছনছ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে আইনজীবী ব্যারিস্টার আরিফ চৌধুরীব্যারিস্টার উম্মে আইমান জেনিব স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

৯ ডিসেম্বর বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরীরাশেদুজ্জামান রাজা-এর দ্বৈত বেঞ্চ প্রকল্প থেকে ২৫৭ জনকে রাজস্ব খাতে স্থানান্তর ও পদোন্নতির অনিয়মের বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-কে।


 

তদন্ত প্রতিবেদনে যা উঠে এসেছে

উচ্চ আদালতে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়—

  • ২৫৭ জনের চাকরি নিয়মিতকরণে বিধিমালা অনুসরণ করা হয়নি

  • জ্যেষ্ঠতা গণনা প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ

  • ৭ম গ্রেডে সিলেকশন গ্রেড প্রদান ও ৬ষ্ঠ গ্রেডে পদোন্নতি আইনসম্মত ছিল না

  • ২০১১ সালের একটি রায়ের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়মিতকরণ ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে

প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, যেহেতু নিয়মিতকরণ ও জ্যেষ্ঠতা প্রদান বৈধ হয়নি, তাই সংশ্লিষ্টদের পদোন্নতিও আইনসম্মত নয়।


 

প্রশাসনিক ও আইনি প্রশ্ন

বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের নির্দেশনার পরও যদি ‘চলতি দায়িত্ব’ প্রদানের মাধ্যমে একই ফলাফল অর্জনের চেষ্টা করা হয়, তবে তা আদালতের স্থিতাবস্থার আদেশকে পাশ কাটানোর শামিল হতে পারে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে—

  • আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ কী হবে?

  • সরকার কি বিতর্কিত পদোন্নতি পুনর্বিবেচনা করবে?

  • নাকি ‘চলতি দায়িত্ব’-এর আড়ালে নতুন করে পদায়ন সম্পন্ন হবে?

বিষয়টি এখন প্রশাসনিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবীর স্বীকৃতি পেলেন কাজী আফরিদা তাসনিম ও আবু জাফর সালেহ

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল : বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের দুই সাবেক শিক্ষার্থী। হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা-২০২৬-এ উত্তীর্ণ হওয়ার মাধ্যমে তারা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা পরিচালনার অনুমতি পেয়েছেন। সফল দুই আইনজীবী হলেন এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম এবং এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগে এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এবং এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আইন পেশায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। আইন পেশার প্রতিযোগিতাপূর্ণ এই পর্যায়ে উত্তীর্ণ হওয়াকে তারা দেখছেন দীর্ঘ প্রস্তুতি, পেশাগত নিষ্ঠা ও ব্যক্তিগত সংগ্রামের ফল হিসেবে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি জানাতে গিয়ে বরিশাল আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট কাজী আফরিদা তাসনিম বলেন, “আমি মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ। পরিবারের সদস্য, মেন্টর ও সহকর্মীদের সমর্থন ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব হতো না। আমি শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাই না, সততা, ন্যায়বোধ ও পেশাগত দায়িত্বশীলতা নিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চাই।” তিনি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর শাহ সাজেদা এবং দৈনিক শাহনামার সম্পাদক কাজী আবুল কালাম আজাদের একমাত্র কন্যা। অন্যদিকে, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ বলেন, “ঢাকায় প্র্যাকটিস জীবনের পর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে অ্যাডভোকেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পেরে আমি মহান আল্লাহর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গৌরবের।” তিনি জানান, একই সময়ে জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তার ভাষায়, “জুডিশিয়ারির প্রিলিমিনারি পরীক্ষার মাত্র সাত দিন আগে হাইকোর্ট পারমিশনের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছিল। একই সময়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ ছিল না। সিনিয়র আইনজীবীদের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা আমাকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।” এ্যাডভোকেট আবু জাফর সালেহ বরগুনা সদরের সেলিনা বেগম ও মরহুম মো. জাকির হোসাইনের একমাত্র পুত্র। আইনজীবী মহলের কয়েকজন সদস্য বলছেন, দেশের উচ্চ আদালতে নতুন প্রজন্মের আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্তি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে উঠে আসা শিক্ষার্থীদের সক্ষমতারও প্রতিফলন। বিশেষ করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক অগ্রগতি দেশের আইন অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৬, ২০২৬ 0
পদ্মায় ট্রলারডুবে ২৩ গরুসহ খামারি নিখোঁজ

পদ্মা সেতুর কাছে গরুবাহী ট্রলারডুবি: ২৩ গরুসহ নিখোঁজ ব্যবসায়ী, ঝড় ও নৌনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

দৈনিক জনকণ্ঠ

দৈনিক জনকণ্ঠে টার্মিনেশন ঘিরে উত্তেজনা, অবরুদ্ধ ৪০ কর্মচারীর অভিযোগ

কোরবানির ঈদে জমে উঠেছে কামারপাড়া: ছুরি-দা বিক্রিতে রাতভর ব্যস্ত কারিগররা

জাল সনদে চাকরি: আরও ১৪১ শিক্ষককে শোকজ, তদন্তে উঠে এলো ৭৩৩ জনের নাম

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে জাল ও ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে নতুন করে আরও ১৪১ শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এটি কেবল বিচ্ছিন্ন অনিয়ম নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতির চিত্র ধীরে ধীরে সামনে আসছে। রোববার পৃথকভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এসব নোটিশ জারি করে। নোটিশ পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে মাদ্রাসার ১১৪ জন, কলেজ পর্যায়ের ২৪ জন এবং কারিগরি পর্যায়ের ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। নোটিশে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, কেন তাঁদের এমপিও (মাসিক বেতন-ভাতার সরকারি অনুদান) বাতিল বা স্থগিত করা হবে না, কেন নিয়োগ বাতিলসহ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। এ বিষয়ে ১০ কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার প্রথম ধাপে ৬৩ জন শিক্ষককে একই ধরনের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তদন্তে যা উঠে এসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) দীর্ঘ তদন্ত শেষে এসব শিক্ষকের সনদ জাল বা ভুয়া বলে চিহ্নিত করে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তালিকাসহ সুপারিশ পাঠানো হয়। পরে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। ডিআইএর চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনে দুই ধাপে মোট ৭৩৩ জন শিক্ষককে জাল সনদধারী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ১৬ এপ্রিল মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠানো প্রতিবেদনে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের ৪৭১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। তালিকায় রয়েছেন— মাধ্যমিক পর্যায়ের ৪০২ জন শিক্ষক কলেজ পর্যায়ের ৬৪ জন শিক্ষক কারিগরি পর্যায়ের ৫ জন শিক্ষক অন্যদিকে, গত ২৭ এপ্রিল মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগে আরও ২৬২ জনের তথ্য পাঠানো হয়। এদের মধ্যে ২৫১ জনের শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে বিপিএড, বিএড অথবা গ্রন্থাগার বিজ্ঞানের সনদ জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এমপিও ব্যবস্থাকে ঘিরে প্রশ্ন তদন্তসংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় দুর্বল তদারকি, রাজনৈতিক প্রভাব এবং নথি যাচাই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে জাল সনদধারীরা চাকরিতে প্রবেশ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শোকজ বা সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়; নিয়োগ যাচাই ব্যবস্থাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সনদ অনলাইনে যাচাই বাধ্যতামূলক করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষা খাতে এমন জালিয়াতির ঘটনা সামনে আসায় শিক্ষাব্যবস্থার মান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষক বছরের পর বছর সরকারি অনুদান নিয়ে পাঠদান করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতাই নয়, রাষ্ট্রীয় অর্থ অপব্যবহারের ঘটনাও হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্তে অভিযুক্তদের জবাব যাচাই শেষে ধাপে ধাপে এমপিও বাতিল, নিয়োগ অবৈধ ঘোষণা এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৫, ২০২৬ 0

ঈদের আগে বেতন-বোনাস সংকটে ফরচুন গ্রুপের হাজারো শ্রমিক

বিআরটিসি বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিআরটিসি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষ, একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

বাগেরহাটে ৩৬ মণের ষাঁড় ‘কালু’ বিক্রি হবে ১৫ লাখে

বাগেরহাটে ৩৬ মণের ষাঁড় ‘কালু’ বিক্রি হবে ১৫ লাখে, দেখতে খামারে ভিড়

বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল
রাজনৈতিক দখলদারি ও অনিয়মে বিপর্যস্ত খুলনার ঐতিহ্যবাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : খুলনার শিরোমণি এলাকার ঐতিহ্যবাহী বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতাল এখন প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা, রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, টেন্ডারবিহীন নির্মাণকাজ এবং নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে। দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র রোগীদের চক্ষুসেবা দিয়ে আসা হাসপাতালটিতে বর্তমানে সেবা কার্যক্রমই হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রায় দেড় শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় দুই হাজার ছানি অপারেশন করা হয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, ট্রাস্টি বোর্ড নিয়ে বিরোধ এবং প্রশাসনিক অস্থিরতায় কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ-পরবর্তী ক্ষমতার পালাবদল অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত হাসপাতালটির ট্রাস্টি বোর্ড পরিচালিত হয় তৎকালীন সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের নেতৃত্বাধীন আওয়ামীপন্থি প্রভাববলয়ের অধীনে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। স্থানীয় জামায়াত নেতাকর্মী, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কয়েকজন সমন্বয়কারী এবং কিছু সাংবাদিক হাসপাতালের পুরোনো বোর্ড বাতিলের দাবিতে সক্রিয় হন। পরে জামায়াত নেতা মুন্সী মঈনুল হককে চেয়ারম্যান করে নতুন বোর্ড গঠন করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্ত ঘিরে সমালোচনা বাড়লে ২৪ অক্টোবর নতুন করে ১১ সদস্যের আরেকটি ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা হয়। এতে ড্যাব জেলা সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলুকে চেয়ারম্যান এবং মুন্সী মঈনুল হককে ভাইস চেয়ারম্যান করা হয়। বোর্ডে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাই মিয়া গোলাম কুদ্দুসকেও সদস্য করা হয়। টেন্ডার ছাড়াই নির্মাণকাজের অভিযোগ হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, ট্রাস্টি বোর্ডের প্রত্যক্ষ প্রভাবেই রান্নাঘরের ওপর দুই থেকে তিন তলা ভবন নির্মাণ এবং হাসপাতালের প্রবেশমুখে গ্যারেজ তৈরির কাজ কোনো ধরনের উন্মুক্ত টেন্ডার ছাড়াই পছন্দের ঠিকাদারদের দেওয়া হয়। এছাড়া ওষুধ ক্রয়, অপারেশন থিয়েটারের সরঞ্জাম ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক লেনদেনেও বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন কর্মচারী দাবি করেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা ছিল না এবং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বলয়ের বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। নিয়োগে আত্মীয়করণ ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে এহসানুল কবিরকে নিয়োগ দিতে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত বয়সসীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর উল্লেখ থাকলেও ট্রাস্টি বোর্ডের বিশেষ সিদ্ধান্তে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। হাসপাতালের সদ্য বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নজরুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, বয়সসীমা অতিক্রম করার বিষয়টি “সত্য” এবং বোর্ডের সিদ্ধান্তেই ওই নিয়োগ কার্যকর করা হয়েছিল। এছাড়া রাজনৈতিক প্রভাবে বিশেষ কিছু রোগীকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত চিকিৎসা ছাড় দেওয়া হলেও সাধারণ স্টাফরা পান মাত্র ৩০ শতাংশ সুবিধা—এমন অভিযোগও উঠেছে। কর্মচারীদের আরও অভিযোগ, এক জামায়াত নেতার আত্মীয়কে নিয়মবহির্ভূতভাবে সরকারি কোয়ার্টারে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারের স্টাফদের নাশতা সুবিধাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। চাকরিচ্যুতি নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ হাসপাতালজুড়ে রাজনৈতিক বিভাজন আরও প্রকট হয় কয়েকটি চাকরিচ্যুতির ঘটনায়। অভিযোগ রয়েছে, হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের একটি অনুষ্ঠানে অনুমতি ছাড়া অংশ নেওয়ায় চিকিৎসক ডা. আশিককে চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিএনপি ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত মাজহারুল ইসলামকেও ভিন্ন অজুহাতে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নজরুল ইসলাম বলেন, “ডা. আশিক ও মাজহারুল ইসলাম হাসপাতালের নিয়মনীতি ভঙ্গ করায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।” বিএনপি-জামায়াত দ্বন্দ্বে অচলাবস্থা গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের হাসপাতালে উপস্থিতি কমে যায়। এরপর নির্মাণকাজও বন্ধ হয়ে পড়ে। ১৩ এপ্রিল খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি হাসপাতাল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে চেয়ারম্যান ডা. বাবলুর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন যে চেয়ারম্যান মূলত জামায়াতের প্রভাবেই পরিচালিত হচ্ছেন এবং বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। ২৬ এপ্রিল হাসপাতালের বাইরে একটি গোপন বৈঠকের পর ট্রাস্টি বোর্ডের অধিকাংশ সদস্য আর হাসপাতালে আসেননি। বর্তমানে কেবল চেয়ারম্যান ডা. রফিকুল হক বাবলুকে মাঝেমধ্যে হাসপাতালে দেখা যায়। সমাজসেবা অধিদপ্তরের তাগাদা এদিকে হাসপাতালটির নিবন্ধন ও ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। খুলনার সমাজসেবা কর্মকর্তা (নিবন্ধন) মাসুদ রানা বলেন, হাসপাতালটি ১৯৮৬ সালে নিবন্ধন নিলেও পরবর্তীকালে কোনো নতুন বা পুরোনো কমিটির অনুমোদনের নথি সমাজসেবা অধিদপ্তরে জমা দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সশরীরে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সদ্য দায়িত্ব পাওয়া ভারপ্রাপ্ত পরিচালক শীতেশ ব্যানার্জি বলেন, “এ বিষয়ে কোনো সরকারি নোটিশ এসেছে কি না, তা এখনো আমার জানা নেই।” সেবার ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ স্থানীয়দের আশঙ্কা, রাজনৈতিক দখলদারি ও প্রশাসনিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে খুলনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে দরিদ্র রোগীদের জন্য স্বল্পমূল্যে ছানি অপারেশন ও চক্ষুচিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে স্বচ্ছ প্রশাসন এবং আইনানুগ ট্রাস্টি কাঠামোর আওতায় না আনলে সংকট আরও গভীর হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0

চাপের মুখে সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল, এনবিআরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ

ধান

উত্তরাঞ্চলে বোরোর বাম্পার ফলনেও কৃষকের লোকসান, বাজার নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেটের অভিযোগ

ধরার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে জনসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ত্রিশালে খাল পুনঃখনন উদ্বোধনে তারেক রহমান: ‘সরকারের পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র চলছে’

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম, কৃষি ব্যাংকে নূরুল আমিন: ব্যাংক খাতে নতুন সমীকরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0