নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আলোচিত রফিকুল ইসলাম রফিক ওরফে ‘আন্ডা রফিক’কে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের পক্ষ থেকে। একই সঙ্গে প্রকাশ্যে দেখা যাওয়ার পর হঠাৎ তার গা ঢাকা দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকদিন আগেও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের নাওড়া এলাকায় তাকে প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে দেখা গেছে। এতে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তার এমন প্রকাশ্য উপস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তবে গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর থেকেই তিনি হঠাৎ করেই নিখোঁজ হয়ে যান। এরপর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে জমি দখল, প্রতারণা, ভুয়া দলিল তৈরি, একই জমি একাধিকবার বিক্রি এবং নিরীহ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। এসব অভিযোগে একাধিক মামলা থাকলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ না থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। নাওড়া এলাকার স্থানীয়রা বলেন, সংবাদ প্রকাশের পর থেকেই সে এলাকায় নেই। আমরা শুনতেছি, সে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করছে। এখনই যদি তাকে আটক না করা হয়, তাহলে সে পালিয়ে যাবে এবং আমরা আর বিচার পাবো না। ভুক্তভোগী এক পরিবার জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু মামলার তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতির কারণে তারা হতাশ। অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশত্যাগ করলে বিচার পাওয়া আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী হওয়ায় এতদিন তিনি প্রশাসনের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এখন দেশ ছাড়ার চেষ্টা করলে পুরো বিষয়টি আরও জটিল হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন তারা। এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী বলেন, রফিক প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করছে এ বিষয়টি আমি খবর নিচ্ছি। সে যেহেতু আসামি অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রগণ করা হবে। আসামি কোনোভাবেই প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করতে পারবে না। আসামির জামিন নিতে হবে নয়তো বা গ্রেফতার হতে হবে। সে জামিনে আছে কি না আমার জানা নেই। যদি প্রকাশ্যে ঘুরে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে যাবো। ।
ইত্তেহাদ নিউজ,ঢাকা : রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত ‘বাবে রহমত’—বাহ্যিকভাবে এটি একটি আধ্যাত্মিক কেন্দ্র, যেখানে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও মানবসেবার বার্তা প্রচার করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র—যেখানে আধ্যাত্মিকতার আবরণে গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার এক জটিল, অস্বচ্ছ আর্থিক সাম্রাজ্য। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফের প্রতিষ্ঠাতা পীর সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীদের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বিপুল সম্পদ। অনুসন্ধান বলছে, দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকা এই সম্পদের পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি, যার বড় অংশই অপ্রকাশিত। অভিযোগ রয়েছে, ভক্তদের দানের অর্থই বিভিন্ন কৌশলে ব্যক্তিগত সম্পদে রূপান্তর করা হয়েছে। উত্তরাধিকার নাকি সম্পদের পুনর্বিন্যাস? প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পর তার সাত সন্তানের মধ্যে সম্পদ বণ্টন করা হয়। তবে নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ জমি, ভবন এবং ব্যাংক আমানত তাদের নামে হস্তান্তর হলেও এসব সম্পদের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো ব্যবসায়িক ব্যাখ্যা নেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি—দরবারকেন্দ্রিক অনুদানই ছিল প্রধান অর্থের উৎস। সন্দেহজনক লেনদেন ও অদৃশ্য কোম্পানির জাল ব্যাংক নথি পর্যালোচনায় উঠে এসেছে শতকোটি টাকার লেনদেনের তথ্য। তিন ছেলের অ্যাকাউন্টে প্রায় ৩৬৭ কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একাধিক লেনদেন হয়েছে এমন কোম্পানির মাধ্যমে, যেগুলোর বাস্তব অস্তিত্ব বা কার্যক্রম খুঁজে পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট ইতোমধ্যে এক ছেলের ২৪টি ব্যাংক হিসাব স্থগিত করেছে। এসব অ্যাকাউন্টে জমা ও উত্তোলনের ধরনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রাজধানীকেন্দ্রিক সাম্রাজ্য ঢাকার মতিঝিল, মগবাজার, পুরানা পল্টন, মিরপুর, জুরাইন, মেরাদিয়া, বেগুনবাড়ি, দক্ষিণখানসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে একাধিক ভবন ও জমি। ‘বাবে কুতুবুল আকতার’, ‘বাবে রহমত কমপ্লেক্স’, ‘বাবে রিয়াজুল জান্নাত’—এমন নামের ভবনগুলো শুধু ধর্মীয় কার্যক্রম নয়, বরং সম্পদ বিস্তারের চিহ্ন হিসেবেও উঠে এসেছে। মতিঝিলের কেন্দ্রীয় দরবার ঘিরে রয়েছে একাধিক বহুতল ভবন। অভিযোগ রয়েছে, এর কিছু অংশ রাজউকের জমির ওপর নির্মিত। যদিও বহুবার উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। সারা দেশে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক অনুসন্ধানে অন্তত ৩০ জেলায় দরবার, খানকা, জমি ও স্থাপনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, চাঁদপুর, রাজশাহী, রংপুর—প্রায় সব বিভাগেই রয়েছে এই নেটওয়ার্ক। এই বিস্তৃতি শুধু ধর্মীয় কার্যক্রমের সীমায় নয়—বরং একটি সংগঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনার ইঙ্গিত দেয়। বিদেশে অর্থের ছাপ যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নিবন্ধিত একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দরবার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেনও উল্লেখযোগ্য। সন্দেহ রয়েছে, দেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে। জমি দখল ও ভয়ভীতি অনুসন্ধানে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। মতিঝিলে এক ব্যক্তির জমিতে উটের খামার গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগীদের দাবি—জাল দলিল, প্রভাবশালী মহলের সহায়তা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখল করা হয়েছে। একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, প্রতিবাদ করলে হামলা, মামলা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। কেউ কেউ এলাকা ছাড়তেও বাধ্য হয়েছেন। ‘আধ্যাত্মিক’ কেন্দ্রের ভেতরের বাস্তবতা দরবার কমপ্লেক্সে সাধারণ ভক্তদের প্রবেশ সীমিত। মূল ভবনে প্রবেশের জন্য প্রয়োজন বিশেষ অনুমতি। ভেতরে রয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ব্যক্তিগত বাহিনী এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনের নানা উপকরণ—যা একটি সাধারণ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও অভিযোগ দেওয়ানবাগ সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, অভ্যন্তরীণ আর্থিক অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেই তাদের দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়। কেউ কেউ শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন। কর্তৃপক্ষের অবস্থান দেওয়ানবাগ কর্তৃপক্ষ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, সব সম্পদ পৈতৃক এবং বৈধ উৎস থেকেই অর্জিত। ব্যাংক হিসাব জব্দের বিষয়টিও আদালতে বিচারাধীন বলে জানানো হয়েছে। জমি দখলের অভিযোগ প্রসঙ্গে তারা বলেছে, এসব বিষয় আদালতে রয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যেই সমাধান হবে। প্রশাসনিক নীরবতা—সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এই বিস্তৃত সম্পদ, সন্দেহজনক লেনদেন এবং দখল অভিযোগের পরও দৃশ্যমান প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাব সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। বহুবার নোটিশ দেওয়া হলেও কার্যকর অভিযান হয়নি—যা প্রশাসনিক নীরবতার ইঙ্গিত দেয়। দেওয়ানবাগ দরবার শরিফ—একদিকে আধ্যাত্মিকতার বার্তা, অন্যদিকে অস্বচ্ছ সম্পদ, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন এবং দখলের অভিযোগ। এই দ্বৈত বাস্তবতা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশ্ন নয়—বরং রাষ্ট্রীয় নজরদারি, জবাবদিহিতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতার বৃহত্তর প্রশ্নও তুলে ধরে। অনুসন্ধানের শেষ নয়—বরং এখান থেকেই শুরু হতে পারে আরও গভীর তদন্ত। দেওয়ানবাগ দরবার শরীফ বাংলাদেশের একটি পরিচিত তাসাউফ-ভিত্তিক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এটি মূলত "মোহাম্মদী ইসলাম" প্রচারের জন্য পরিচিত, যা এর প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (যিনি দেওয়ানবাগী হুজুর নামেই বেশি পরিচিত) প্রবর্তন করেন। বাবে রহমত : বলতে সাধারণত ঢাকার মতিঝিলে অবস্থিত দেওয়ানবাগ শরীফ দরবারকে বোঝানো হয়। এটি এই দরবার শরীফের মূল কেন্দ্র বা সদর দপ্তর হিসেবে পরিচিত। মূল তথ্য: প্রতিষ্ঠা: ১৯৮৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলার দেওয়ানবাগ এলাকায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রধান কার্যালয়: ঢাকার মতিঝিলের আরামবাগে অবস্থিত 'বাবে রহমত' এই দরবার শরীফের প্রধান কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠাতা: সৈয়দ মাহবুব-ই-খোদা (১৯৪৯–২০২০)। তিনি নিজেকে "সুফি সম্রাট" হিসেবে পরিচয় দিতেন। মতাদর্শ: এই প্রতিষ্ঠানটি 'মোহাম্মদী ইসলাম' নামক নিজস্ব ধর্মীয় দর্শন প্রচার করে থাকে। উল্লেখযোগ্য কেন্দ্রসমূহ: দেওয়ানবাগ শরীফের অধীনে বেশ কিছু শাখা বা দরবার রয়েছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: বাবে রহমত: মতিঝিল, ঢাকা (প্রধান কার্যালয়)। বাবে মদিনা: নারায়ণগঞ্জ। বাবে জান্নাত: দেওয়ানবাগ, নারায়ণগঞ্জ। এই দরবার শরীফটি তার বিভিন্ন বিতর্কিত ধর্মীয় বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন সময়ে ইসলামি দলগুলোর সমালোচনা ও বিরোধিতার সম্মুখীন হয়েছে। ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দেওয়ানবাগীর মৃত্যুর পর বর্তমানে তাঁর উত্তরসূরিরা এই দরবারের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
রাজশাহী : জুলাই আন্দোলনের ‘যোদ্ধা’ পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তার, সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, টেন্ডার অনিয়ম, মামলাবাণিজ্য এবং নারী সাংবাদিকদের যৌন হয়রানিসহ নানা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহীর গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে—২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিজেকে “জুলাইযোদ্ধা” হিসেবে পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন তিনি। তবে অভিযোগ রয়েছে, এর আগ থেকেই সাংবাদিকতার প্রভাব খাটিয়ে নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন। অর্পিত সম্পত্তি দখলের অভিযোগ আয়কর নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালে রাজশাহীর তানোর উপজেলার দুটি মৌজায় প্রায় ৮.৩০ একর (২৪ বিঘার বেশি) জমি কেনেন গোলাম রাব্বানী, যার মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২.৭৪ কোটি টাকা। যদিও স্থানীয়দের দাবি, জমির প্রকৃত মূল্য প্রায় দ্বিগুণ। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই জমি ‘খ’ তফসিলভুক্ত—অর্থাৎ অর্পিত (শত্রু) সম্পত্তি। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারি লিজ নিয়ে সেখানে বসবাস করে আসছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে কৌশলে জমিটি দেবাশীষ রায়ের নামে দেখানো হয়, পরে তার কাছ থেকে কেনার মাধ্যমে নিজের নামে দলিল করেন রাব্বানী। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো বৈধ কাগজ না দেখিয়েই তাদের উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। জমি দখলের চেষ্টা একই কৌশলে আরও প্রায় ৩০ বিঘা অর্পিত সম্পত্তি নামজারির চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে একটি আবেদন করা হলেও তদন্তে সত্যতা না পাওয়ায় তা বাতিল করা হয়। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বদলির ঘটনাও সামনে এসেছে, যা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরে প্রশ্ন উঠেছে। ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ থেকে বাণিজ্যিক ভাড়া রাজশাহীতে ১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ভবন ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ করার কথা থাকলেও পরে তা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মাত্র একজন বৈধ দরদাতা থাকা সত্ত্বেও তাকে ভাড়া দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে—এই প্রক্রিয়ায় রাব্বানীর প্রভাব ছিল। যৌন হয়রানির অভিযোগ গোলাম রাব্বানীর বিরুদ্ধে অন্তত দুই নারী সাংবাদিক যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। একজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অফিসে ডেকে নিয়ে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। পরে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন এবং থানায় মামলা করেন। আরেকজন নারী সাংবাদিকও একই ধরনের অভিযোগ দিয়েছেন। বর্তমানে একটি মামলায় রাব্বানী জামিনে রয়েছেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। মামলাবাণিজ্য ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অভিযোগ রয়েছে, একটি মামলার এজাহার থেকে নাম প্রত্যাহারের কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছেন রাব্বানী। এছাড়া সিটি করপোরেশন থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে, যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। দুদকে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, মামলাবাণিজ্য এবং যৌন হয়রানির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। গোলাম রাব্বানী সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, “এসব মনগড়া ও ভিত্তিহীন অভিযোগ। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
* কোটি টাকার সমবায় ব্যাংকের জমি দখল! বরিশালে উপ-নিবন্ধক মোস্তফার বিরুদ্ধে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ * নেপথ্যে উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা মামুনুর রশীদ নোমানী,বরিশাল: সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার এলাকায় বাড়ি হওয়ার সুবাদে দীর্ঘ সময় বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরে কর্মরত রয়েছেন প্রভাবশালী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা।শেরে বাংলা আঞ্চলিক সমবায় ইনস্টিটিউটে দ্বায়িত্ব পালনের সময় ব্যাপক লুটপাট করেছেন।এছাড়া তার বিরুদ্ধে নারী কেলেংকারীসহ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে । বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি কোটি টাকা ঘুষের বিনিময়ে ব্যক্তি মালিকানায় দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার বিরুদ্ধে।বরিশালে সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে চলছে ব্যবসা-বাণিজ্য। পুরো বিষয়টি অনিয়মের মাধ্যমে হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। তদন্ত শেষে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে বলে জানান তিনি । ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপক্ষে তার একাধিক পোস্ট ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। সম্প্রতি ঐ কর্মকর্তার শাস্তির দাবীতে প্রধান উপদেষ্টা, সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সমবায় ব্যাংকের সাবেক সদস্যরা। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘ সময় বরিশালে কর্মরত আছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধীনস্থদের বদলির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। আরও পড়ুন: বরিশাল সমবায় ব্যাংক নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে যমুনা টেলিভিশন ও এখন টিভি অভিযোগে বলা হয়, বরিশাল শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি নাজেমস বিরিয়ানীর মালিক ফরিদুর রহমান রেজার কাছে প্রায় ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে জাল কাগজপত্র তৈরি করে হস্তান্তর করা হয়।বর্তমানে সেখানে তিনতলা রেস্টুরেন্ট গড়ে উঠেছে।এ বিষয়ে সমবায় ব্যাংকের সাবেক পরিচালক হোসেন জোমাদ্দার বলেন, ‘আমরা লিখিত অভিযোগ করেও কোনো ব্যবস্থা পাইনি। অভিযোগ প্রসঙ্গে উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তৎকালীন বরিশাল সিটি মেয়র সাদেক আব্দুল্লাহর চাপে ভবন নির্মাণের বাধ্য করেছিলেন। স্বৈরশাসক আওয়ামীলীগ এখন ক্ষমতা নেই তবে কেন সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি ফিরিয়ে আনছেন না? তখন তিনি ফোন কেটে দেন।এদিকে সমবায় ব্যাংকের সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছে, যা ফিরিয়ে আনার দাবি জোরদার করেছেন বরিশালের সর্বস্তরের মানুষ । দখলে সমবায় কর্মকর্তারা জড়িত: বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে নাজেমস রেষ্টুরেন্ট।জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের। ৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪৫ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। সমবায় অধিদপ্তরের নাকের ডগায় দখল হলেও তারা চিঠি চালাচালীতে ব্যস্ত।উদ্ধারে নেই কোন তৎপরতা ।একসময়, উদ্যোক্তা ও কৃষক পর্যায়ে ঋণ দেয়া ‘বরিশাল সমবায় ব্যাংক’ ২৩ বছর ধরে বন্ধ। ব্যাংকটির জমি ও ভবন দখলে বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপনিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফা,সমবায় অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় অফিসের সাবেক উপ-নিবন্ধক (বিচার) মোঃ রবিউল ইসলাম,বরিশাল জেলা সমবায় অফিসের সাবেক জেলা সমবায় অফিসার প্রশান্ত কুমার ব্যানার্জী,সমবায় কর্মকর্তা মাহফুজ ও মোঃ আমিনুল ইসলামের যোগসাজসে এ জমিতে ভবন নির্মান করা হয়।সুত্র জানায় দখলে সহযোগীতা করায় সমবায় কর্মকর্তারা পেয়েছেন প্রায় ঘুষ । তদন্ত প্রতিবেদন, দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর: সমবায় ব্যাংক বরিশালের অবস্থা সম্পর্কে বরিশাল সদর উপজেলা সমবায় অফিসার লতিফা আকতার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন।তদন্ত প্রতিবেদনটি শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিকট পাঠানো হয়।তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি সমবায় অধিদপ্তর। ,বরিশাল বিভাগীয় সমবায় অধিদপ্তরের উপ-নিবন্ধক মোহাম্মদ মোস্তফার অদৃশ্য ইশারায় বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংক বরিশালের বত্রিশ শতাংশ জমি ও ভবন উদ্ধারে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেয়নি সমবায় অধিদপ্তর,বরিশাল বিভাগীয় ,জেলা ও উপজেলা সমবায় অফিস।সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবন নির্মানে সমবায় অধিদপ্তরের কোন অনুমোদন নেই। এ ছাড়া সমবায় ব্যাংকের জমিতে নতুন ভবনে রেস্তোঁরা ভাড়ার বিষয় সমবায় অধিদপ্তর এর কোন অনুমোদন নেই। রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি : বরিশালে ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় সমবায় ব্যাংক। এই ব্যাংকটির নিজস্ব জমির পরিমাণ প্রায় ৩৬ শতাংশ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যদের কেউ এখন বেঁচে নেই। ২০০১ সাল থেকে সমবায় ব্যাংকের ঋণ দেয়াও বন্ধ। নেই কোনো কার্যক্রম। এতবড় একটি প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষক পদে একজন কর্মী ছাড়া আর কেউ নেই। অরক্ষিত এ সম্পদে অনেকেরই লোলুপদৃষ্টি। সমবায় ব্যাংকের হিসাবরক্ষক দেলোয়ার হোসেন বাবুল বলেন, ‘খুব বিপদের মধ্যে আছি। বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্তা করছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বগুড়া রোডে সমবায় ব্যাংকটির অবস্থান। এখানে ১১১ বছরের পুরাতন একটি দ্বিতল ভবন রয়েছে। কিন্তু এই সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে নেই কোন কমিটি ও যোগ্য কর্মকর্তা। এই সুযোগে ব্যাংকের জমিতে স্থায়ী ভবন নির্মাণ করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছে একটি পক্ষ। সবকিছু অনিয়মে করা হয়েছে বলে দাবি উপজেলা সমবায় কর্মকর্তার। বরিশাল সদরের উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা লতিফা আক্তার বলেন, ‘সমবায় ব্যাংকের জমিতে যে ভবন করা হয়েছে তা সঠিক নিয়মে করা হয়নি। সব কিছুই অত্র কার্যালয়ের অগোচরে করা হয়েছে। ভবন ও জমি সরকারের,আয় ভারতীয় নাগরিক টুটুলের : বরিশাল সমবায় ব্যাংকের জমি সমবায়ের জেলা ও বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভারতীয় নাগরিক নিরব হোসেন টুটুল দখলে নিয়ে ভবন নির্মান করে ভাড়া দিয়েছেন নাজেমস বিরিয়ানী নামক একটি প্রতিষ্ঠানের কাছে। জমি সমবায় অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রনাধীন বরিশাল সমবায় ব্যাংকের হলেও ভবনের ভাড়া থেকে বঞ্চিত সরকার।৩২ শতাংশ জমির আংশিক দখল করে তিন তলা ভবন নির্মান করে নাজেমস বিরিয়ানী নামক রেস্তোঁরার মালিকের কাছে প্রায় অর্ধকোটি টাকা জামানতে মাসিক ৪০ হাজার টাকায় ভাড়া দেয়া হয়েছে। ব্যাংকের পুরাতন ভবনকে নাজেমস প্রতিষ্ঠান রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করছেন।সমবায় অধিদপ্তরের জেলা ও বিভাগের শীর্ষ কর্তাদের যোগসাজসে দখল হওয়ায় চিঠি আর তদন্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে বেদখল হওয়া সমবায় ব্যাংকের জমি ও ভবন উদ্ধারের কাজ। সর্বশেষ গুরুত্বপূর্ণ সব সংবাদ, ছবি ,অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন। ভিজিট করুন : http://www.etihad.news * অনলাইন নিউজ পোর্টাল ইত্তেহাদ নিউজে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায় ।
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় গভীর রাতে একটি আবাসিক হোটেলের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হোটেল মালিক ও কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এমএ মোতালেব শরীফ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তার নিজ ভাগিনা কুয়াকাটা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সহকারী বাইতুলমাল সম্পাদক মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজির নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্রসহ তার মালিকানাধীন কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন জমিতে প্রবেশ করে। এ সময় হোটেলের পেছনের দিকের সীমানা প্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে ঘর নির্মাণের মাধ্যমে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়। বাধা দিলে হোটেল কর্তৃপক্ষকে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে ঘটনাস্থলে মহিপুর থানা পুলিশের একটি টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মহিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার কুয়াকাটা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমএ মোতালেব শরীফ লিখিত বক্তব্যে জানান, কুয়াকাটা গেস্ট হাউস সংলগ্ন ১২৬৪/১২৬২ ডি নং খতিয়ানের জমি তার পিতার মৃত্যুর পর ৫৬/১৪ বণ্টন মোকদ্দমার মাধ্যমে আদালতের রায়ে ভাই-বোনদের মধ্যে বণ্টন হয় এবং ২০১৮ সালে তিনি ডিগ্রি প্রাপ্ত হয়ে জমির দখল বুঝে নেন। পরবর্তীতে আত্মীয় ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে সাহেদা, জাহানারা ও শাহীনুর ৩৮৫/২৩ নং ডিক্রি রদের মামলা দায়ের করলে ২০২৪ সালে ওই মামলায় আদেশ হয়। তা সত্ত্বেও চলতি মাসের ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পক্ষগণ তার হোটেল সংলগ্ন জমিতে ঘর নির্মাণের হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে তিনি আগেই মহিপুর থানায় অভিযোগ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বাবার মৃত্যুর পর বোনদের প্রাপ্য জমির অধিকাংশ বিক্রি ও অর্থ পরিশোধ করা হলেও এখনো দলিল হস্তান্তর করা হয়নি। দলিল না দিয়েই জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মো. শাহাবুদ্দিন ফরাজি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি কোনো জমি দখল করতে যাইনি। এখানে আমার মা ও খালাদের ন্যায্য অংশ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমরা আমাদের জায়গা ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করছি। অন্যায় কিছু করা হয়নি।” এ প্রসঙ্গে মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহব্বত খান বলেন, “৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। বিষয়টি জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এটি আদালতের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি হবে। আপাতত উভয় পক্ষকে শান্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।