Brand logo light

জাতিসংঘ

লেবাননে ইসরাইলি আগ্রাসনে বাস্তুচ্যুত ১০ লাখ মানুষ
লেবাননে ইসরাইলি হামলায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত, ১৪ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন

বৈরুত: লেবাননে ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযানের কারণে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে বর্তমানে অন্তত ১৪ লাখ মানুষের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন বলেও সতর্ক করেছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার বৈরুতে আয়োজিত একটি সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরেন লেবাননে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সমন্বয়কারী ইমরান রিজা। তিনি বলেন, মানবিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হলেও শুধু ত্রাণ বিতরণ করে লেবাননের চলমান সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির সংকট এখন কেবল মানবিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত। ইমরান রিজা আরও বলেন, বাস্তুচ্যুতি, জীবিকা সংকট এবং কর্মসংস্থানের ওপর যুদ্ধের প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে শ্রমবাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে দেশটিতে ইসরাইলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার ২৭৮ জন নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি খাদ্য, চিকিৎসা, আশ্রয় এবং জীবিকা সংকটও ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। মানবিক সহায়তার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার ও অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ ছাড়া পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলেও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুলাই ১, ২০২৬ 0
ভেনেজুয়েলায় প্রলয়ংকরী জোড়া ভূমিকম্প: ৫০ হাজারের বেশি নিখোঁজ, ধ্বংসস্তূপে নবজাতক উদ্ধার, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের আঘাতে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। কিন্তু ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে। রাজধানী কারাকাস থেকে উপকূলীয় লা গুয়াইরা—হাসপাতাল, মর্গ এবং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন একটাই দৃশ্য—স্বজনের খোঁজে উদ্বিগ্ন মানুষের দীর্ঘ অপেক্ষা। জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, এখনও ৫০ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত অন্তত ৯২০ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৩৬০ জন আহত হয়েছেন। সরকারি হিসাবে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অন্তত ১৭২ জন জীবিত আটকে থাকতে পারেন। তবে বিপুলসংখ্যক নিখোঁজ মানুষের কারণে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অলৌকিক উদ্ধার: ৩২ ঘণ্টা পর জীবিত নবজাতক বিধ্বস্ত লা গুয়াইরা শহরে উদ্ধারকাজের মধ্যেই এক বিরল মানবিক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। ধসে পড়া একটি বহুতল ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে প্রায় ৩২ ঘণ্টা পর মাত্র ১৮ দিনের এক নবজাতককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এএফপির বরাত দিয়ে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গভীর রাতে ফ্লাডলাইটের আলোয় উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কংক্রিটের স্তূপ সরিয়ে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনছেন। উপস্থিত উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের মধ্যে তখন আনন্দের আবহ তৈরি হয়। শিশুটিকে কাপড়ে মুড়ে একজন উদ্ধারকর্মীর হাত থেকে আরেকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে তার শরীর আলতো করে পরিষ্কার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা আন্দ্রেয়িনা কুইন্তেরোর প্রকাশিত ভিডিও এবং চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে উল্লেখযোগ্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযানের প্রায় এক ঘণ্টা পর একই ধ্বংসস্তূপ থেকে তার মাকেও জীবিত উদ্ধার করা হয়। চিকিৎসকদের ধারণা, ভূমিকম্পের সময় মা নিজের শরীর দিয়ে সন্তানকে আড়াল করে রেখেছিলেন। সেই আত্মত্যাগই শিশুটির জীবন রক্ষা করেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কার্লোস, হাল ছাড়েনি পরিবার ভূমিকম্পের দুই দিন পরও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবনের ইঙ্গিত মিলছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদোয়ার্দো ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকা পড়েছেন। শনিবার তার পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে তার গোঙানির শব্দ শুনেছেন। কার্লোসের এক চাচাত ভাই বলেন, "প্রায় দেড় ঘণ্টা আগে আমরা তার গোঙানির শব্দ শুনেছি। এরপর আর কোনো সাড়া পাইনি।" পরিবারের খবর পেয়ে একটি স্প্যানিশ উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর নিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায়। তবে তারা জীবনের নিশ্চিত কোনো আলামত শনাক্ত করতে পারেনি। তবুও পরিবার হাল ছাড়েনি। ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে তারা নিজেরাই হাত দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে প্রিয়জনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভারী যন্ত্রপাতির সংকট, ক্ষোভ বাড়ছে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুয়াইরা রাজ্যে উদ্ধার তৎপরতার ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত ক্রেন, এক্সকাভেটর ও অন্যান্য ভারী সরঞ্জামের অভাবে বহু মানুষ এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন। হুগো শ্যাভেজ হাউজিং কমপ্লেক্সের বাসিন্দা জেনিফার পালাসিও জানান, তার পরিবারের পাঁচ সদস্য, যার মধ্যে ছয় বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে, এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা। তার ভাষায়, "জীবিত মানুষদের বাঁচাতে এখনই ভারী যন্ত্রপাতি দরকার।" অন্যদিকে কারাবালেদার ৭৩ বছর বয়সী আইনজীবী রিকার্ডো ত্রিয়াস অভিযোগ করেন, তার ধর্মপুত্র আরমান্দো লোপেজের মরদেহ উদ্ধার হলেও তা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলেই পড়ে ছিল। তিনি দ্রুত ফরেনসিক কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। আফটারশকে নতুন আতঙ্ক, লুটপাটের ঘটনাও শুক্রবার বিকেলে ৪.৯ মাত্রার একটি আফটারশক অনুভূত হলে রাজধানী কারাকাস ও মারাকাই শহরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যেই লা গুয়াইরার কাতিয়া লা মার এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আন্তর্জাতিক সহায়তা বাড়ছে মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা দ্রুত বাড়ানো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ১৫ কোটি ডলারের জরুরি সহায়তা ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে উদ্ধার অভিযানে জাহাজ, হেলিকপ্টার ও বিমান পাঠানো হয়েছে। এল সালভাদরের ৫০ সদস্যের একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ড্রোন, তাপীয় স্ক্যানার এবং প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপে জীবিত মানুষের সন্ধান চালাচ্ছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, কয়েকটি ভবনের ভেতর থেকে এখনও মানুষের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি বহুতলের নবম তলায় আটকে থাকা ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী ও তার পোষা প্রাণীকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। অর্থনৈতিক ক্ষতি ও রাজনৈতিক চাপ জাতিসংঘের প্রাথমিক হিসাবে, এই ভূমিকম্পে প্রায় ৬৭০ কোটি মার্কিন ডলারের সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার সমান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ে ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প। এই দুর্যোগ দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের জন্য বড় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন। মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়াতে পারে ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) সতর্ক করে বলেছে, শেষ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি হতে পারে। এমনটি হলে এটি লাতিন আমেরিকার ইতিহাসে গত শতাব্দীর অন্যতম ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার আশঙ্কা, এই দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কোথাও শিশুর কান্না, কোথাও ক্ষীণ গোঙানি, কোথাও আবার নিস্তব্ধতা। প্রতিটি ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা কমছে, কিন্তু স্বজনদের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে না। উদ্ধারকারীদের কাছে এখন প্রতিটি ইট সরানো মানেই হয় নতুন একটি মৃত্যু, নয়তো আরেকটি অলৌকিক জীবনের সন্ধান।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৮, ২০২৬ 0
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত
ভেনেজুয়েলায় ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্পে নিহত ২৩৫, ধ্বংসস্তূপে নিখোঁজ বহু মানুষ

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ২৩৫ জনে পৌঁছেছে। আহত হয়েছেন ১,৫০০ জনেরও বেশি। রাজধানী কারাকাস এবং উপকূলীয় লা গুয়াইরাসহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় এখনও মানুষের আর্তনাদ শোনা যাচ্ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। পরপর দুই ভূমিকম্প, ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭.২, যার মাত্র কয়েক সেকেন্ড বা প্রায় এক মিনিটের মধ্যেই ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে। দুটি ভূমিকম্পই ছিল অগভীর। প্রথমটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ২০.৩ কিলোমিটার নিচে এবং দ্বিতীয়টির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। অগভীর হওয়ায় কম্পনের তীব্রতা আরও বেশি অনুভূত হয় এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, ১৯০০ সালের পর ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা এটি সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর একটি। শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে জাতিসংঘ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে শতাধিক ভবন ধসে পড়েছে। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, এ পর্যন্ত ২৫০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত অথবা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে, যার বেশিরভাগই লা গুয়াইরা অঞ্চলে। বিবিসি নিশ্চিত করেছে, লা গুয়াইরায় একটি ১০ তলা হোটেল সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানে স্বজনদের খোঁজে বহু মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। রাজধানী কারাকাসেও বহু আবাসিক ভবন, সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আতঙ্কিত মানুষকে ভবন ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। "মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী কাঁপছে" কারাকাসের এক বাসিন্দা বলেন, "মনে হচ্ছিল পুরো পৃথিবী দীর্ঘ সময় ধরে কেঁপে উঠছে।" অন্যদিকে লিয়েন্ডার নামে আরেক বাসিন্দা জানান, বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পুরো রাত খোলা আকাশের নিচে কাটিয়েছেন। মেডিকেল শিক্ষার্থী হুয়ান ওর্তিজ বিবিসিকে বলেন, তার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, আরেকজন এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় তার পরিচিত অন্তত ২০ জন এখনও নিখোঁজ। তিনি বলেন, "আমি হতবাক এবং অসহায় বোধ করছি। সাহায্য করতে না পারার হতাশা কাজ করছে।" আফটারশকে বাড়ছে উদ্বেগ ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১৩৮টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও পরবর্তী এক পর্যায়ে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ অন্তত ৩০টি উল্লেখযোগ্য আফটারশকের কথা জানান। ক্রমাগত আফটারশকের কারণে দুর্বল ভবনগুলো আরও ধসে পড়ার আশঙ্কায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। জরুরি অবস্থা, আন্তর্জাতিক সহায়তা অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ২০ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপ সরাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধাও চালু করা হচ্ছে। উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নিতে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, স্পেন, কাতার এবং জাতিসংঘের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, পরিবহন বিমান এবং ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। বিমানবন্দর বন্ধ দেলসি রদ্রিগেজ জানান, রাজধানী কারাকাসের কাছে মাইকুয়েতিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গুরুতর ক্ষতির কারণে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরের টার্মিনালের ভেতর থেকে ধারণ করা ভিডিওতে ছাদ থেকে ধুলো ও ধ্বংসাবশেষ পড়তে দেখা গেছে। আরও প্রাণহানির আশঙ্কা USGS সতর্ক করেছে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। সংস্থাটির প্রাথমিক ঝুঁকি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে— ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৪২ শতাংশ। এক লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা ৩৩ শতাংশ। তবে সংস্থাটি স্পষ্ট করেছে, এগুলো কোনো নির্দিষ্ট পূর্বাভাস নয়; অতীতের অনুরূপ ভূমিকম্প, জনঘনত্ব, কম্পনের মাত্রা ও গভীরতা বিবেচনায় জরুরি প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার জন্য তৈরি করা ঝুঁকি মূল্যায়ন। জাতীয় সংকট জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, ভেনেজুয়েলা বর্তমানে একটি বড় জাতীয় সংকটের মুখোমুখি। তার ভাষায়, "এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।" উদ্ধারকারীরা এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে আগামী কয়েক দিনে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
মরণোত্তর জাতিসংঘ পদক পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী
আবেইতে নিহত ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে জাতিসংঘের ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : আফ্রিকার সংঘাতপ্রবণ অঞ্চল আবেইতে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তাদের এই সম্মাননা প্রদান করবেন। শুধু একটি পদক প্রদান অনুষ্ঠান নয়, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের দীর্ঘদিনের অবদান এবং সেই দায়িত্ব পালনের চরম মূল্যকে সামনে নিয়ে এসেছে এই স্বীকৃতি। কারা পাচ্ছেন এই পদক? জাতিসংঘের ঘোষণায় বলা হয়েছে, পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ছয় শান্তিরক্ষী হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম মো. সবুজ মিয়া মো. মাসুদ রানা মো. মোমিনুল ইসলাম শামীম রেজা সান্ত মণ্ডল তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে এক ড্রোন হামলায় নিহত হন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শান্তিরক্ষা মিশনে প্রযুক্তিনির্ভর হামলার ঝুঁকি যে বেড়েছে, এই ঘটনা তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক কী? ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকালে নিহত সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যদের স্মরণে প্রদান করা হয়। জাতিসংঘের দ্বিতীয় মহাসচিব ড্যাগ হ্যামারশোল্ডের নামে প্রবর্তিত এই পদক শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত। এ বছর গত বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর এই পদক দেওয়া হবে। বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ? বর্তমানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সদস্য প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ ৪ হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। তারা কাজ করছেন— আবেই মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র সাইপ্রাস গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র লেবানন লিবিয়া দক্ষিণ সুদান পশ্চিম সাহারা এই উপস্থিতি শুধু বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়ায় না, বরং বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় দেশটির কূটনৈতিক অবস্থানকেও শক্তিশালী করে। ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির মুখে শান্তিরক্ষীরা জাতিসংঘের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি বেসামরিক, সামরিক ও পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। কিন্তু এসব মিশনের পরিবেশ দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে। ড্রোন প্রযুক্তির বিস্তার, অ-রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সক্রিয়তা, অভ্যন্তরীণ সংঘাত এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শান্তিরক্ষীদের জন্য নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। আবেইতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের মৃত্যু সেই পরিবর্তিত বাস্তবতারই একটি প্রতিফলন। ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ কেন আলোচনায়? এবারের জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’। জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বজুড়ে সংঘাত বৃদ্ধি এবং আর্থিক সম্পদের সংকোচনের সময়ে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম টিকিয়ে রাখতে রাজনৈতিক ও আর্থিক সহায়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন। মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস তার বার্তায় বলেন, শান্তিরক্ষা স্থিতিশীলতা ও আশার পুনঃপ্রতিষ্ঠার একটি পরীক্ষিত এবং ব্যয়-সাশ্রয়ী উপায়। তবে এর জন্য প্রয়োজন ধারাবাহিক রাজনৈতিক সমর্থন এবং নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন। একইসঙ্গে শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যঁ-পিয়েরে লাক্রোয়া বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পরিবেশেও শান্তিরক্ষীরা বেসামরিক মানুষকে সুরক্ষা দিচ্ছেন, সহিংসতা প্রতিরোধ করছেন এবং শান্তির সম্ভাবনা ধরে রাখছেন। আত্মত্যাগের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ২৯ মে-কে ‘জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন প্রতিষ্ঠার স্মরণে দিনটি পালন করা হয়। নিউইয়র্কের এবারের অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। সেই স্মরণানুষ্ঠানে বাংলাদেশের ছয় শান্তিরক্ষীর নামও যুক্ত হবে বিশ্ব শান্তিরক্ষার ইতিহাসে আত্মত্যাগের এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে। তাদের মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক শুধু ব্যক্তিগত সাহসিকতার স্বীকৃতি নয়; এটি আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দীর্ঘ প্রতিশ্রুতি, পেশাদারিত্ব এবং আত্মত্যাগেরও বৈশ্বিক স্বীকৃতি।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১, ২০২৬ 0
হরমুজ
হরমুজে গোপন সমঝোতার ইঙ্গিত, যুদ্ধের কিনারায় নতুন কূটনৈতিক হিসাব

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত ভূরাজনীতিতে নতুন মোড়ের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে একটি অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া কাঠামো হাতে এসেছে বলে দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন। খসড়াটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম কৌশলগত পথ হরমুজ প্রণালিতে আবারও যুদ্ধ-পূর্ব স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা। বুধবার (২৭ মে) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্ভাব্য এই সমঝোতার আওতায় এক মাসের মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করবে তেহরান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আশপাশে সামরিক উপস্থিতি কমাবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পথে এগোবে। তবে খসড়া কাঠামোয় সামরিক জাহাজ চলাচল অন্তর্ভুক্ত নয়। এতে ওমানের সহযোগিতায় হরমুজ প্রণালির নৌ চলাচল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরান পালন করবে বলেও উল্লেখ রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কার্যকর হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। ‘চূড়ান্ত যাচাই ছাড়া কোনো পদক্ষেপ নয়’ ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বাস্তব যাচাই ও পূর্ণাঙ্গ সমঝোতা ছাড়া তারা কোনো ধরনের চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেবে না। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হলে সেটিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাব হিসেবে অনুমোদনের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পরিস্থিতিতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে উপসাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে; অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সরবরাহ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। আইআরজিসির কড়া হুঁশিয়ারি কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই কঠোর অবস্থানের বার্তা দিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির নৌবাহিনীর উপরাজনৈতিক প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ ইরানের দক্ষিণ উপকূলকে “আগ্রাসনকারীদের কবরস্থান” বানানোর হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “শত্রুর দুর্বলতার কারণে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত।” ইরানের দীর্ঘ দক্ষিণ উপকূলের দুই প্রান্তের স্থান—চাবাহার থেকে মাহশাহর পর্যন্ত—উল্লেখ করে আকবরজাদেহ বলেন, “এই পুরো অঞ্চল আগ্রাসনকারীদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে।” বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে কূটনৈতিক সমঝোতার বার্তা, অন্যদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি—এই দ্বৈত কৌশলের মাধ্যমে ইরান আলোচনায় নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে চাইছে। যুদ্ধবিরতিতে চীনের সক্রিয় কূটনীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষায় সক্রিয় অবস্থান নিয়েছে চীনও। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক উন্মুক্ত বিতর্কে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াকে দেওয়া বক্তব্যে ওয়াং ই বলেন, “আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে এবং পারস্পরিক সমঝোতায় পৌঁছাবে, যাতে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসে।” চীনের দাবি, তারা সংঘাত নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রধান পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রেখেছে। এর আগে মার্কিন বাহিনী দক্ষিণ ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন পাতার চেষ্টা করা নৌকাগুলোর ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ইরান এটিকে যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। তেহরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে পাল্টা প্রতিশোধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। হরমুজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বের মোট জ্বালানি পরিবহনের বড় একটি অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এই পথের যেকোনো অস্থিতিশীলতা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অনানুষ্ঠানিক সমঝোতা বাস্তব রূপ পায়, তাহলে তা শুধু উপসাগরীয় নিরাপত্তা নয়, বরং বৈশ্বিক তেলবাজার ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। তবে এখনো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিক নয়। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই ভঙ্গুর শান্তি কতটা স্থায়ী হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৮, ২০২৬ 0
ইসরাইল
গাজা যুদ্ধের পর বিশ্বে সবচেয়ে নেতিবাচক ভাবমূর্তির দেশ ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্রও নেমেছে ‘হুমকি রাষ্ট্র’ তালিকায়

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : বিশ্বের মানুষের কাছে বর্তমানে সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা দেশ ইসরাইল। এর পরেই রয়েছে উত্তর কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরান। বিপরীতে সবচেয়ে ইতিবাচক ভাবমূর্তির দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে সুইজারল্যান্ড, কানাডা, জাপান, সুইডেন ও ইতালির নাম। গণতন্ত্র ও বৈশ্বিক জনমত নিয়ে পরিচালিত নতুন আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। ‘গ্লোবাল কান্ট্রি পারসেপশনস ২০২৬’ শীর্ষক এই সমীক্ষা পরিচালনা করেছে বৈশ্বিক জরিপ সংস্থা Nira Data। জরিপে বিশ্বের ১২৯টি দেশ ও তিনটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে নিয়ে ৪৬ হাজার ৬৬৭ জন উত্তরদাতা মতামত দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংস্থাটির ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ জরিপে ৯৮টি দেশের ৯৪ হাজার ১৪৬ জন নাগরিক নিজ নিজ দেশে গণতন্ত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। গাজা যুদ্ধের প্রভাব জরিপ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গাজায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান, ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের ঘটনা, খাদ্য ও মানবিক সহায়তায় অবরোধ, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং পশ্চিম তীরে সহিংসতা বৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরাইলের ভাবমূর্তি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক আদালতগুলোও ইসরাইলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধ আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা অভিযানের পর বিশ্ব জনমতের পরিবর্তন দ্রুত দৃশ্যমান হয়। এতে বলা হয়েছে, এ সময়ের মধ্যে ৭৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, গাজার অধিকাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় পুরো জনগোষ্ঠী বাস্তুচ্যুত অবস্থায় পড়েছে। জাতিসংঘের একাধিক বিশেষজ্ঞ ও গণহত্যা গবেষক পরিস্থিতিকে “গণহত্যাসদৃশ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিতেও বড় পতন সমীক্ষায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার নাটকীয় অবনতি। জরিপ অনুযায়ী, বৈশ্বিক জনমতের বিচারে যুক্তরাষ্ট্র এখন বিশ্বের সবচেয়ে নেতিবাচকভাবে দেখা পাঁচ দেশের একটি। এমনকি আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার সূচকে দেশটি রাশিয়া ও চীনেরও নিচে অবস্থান করছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেট ইতিবাচক ধারণার স্কোর ছিল +২২ শতাংশ। কিন্তু ২০২৬ সালে তা নেমে এসেছে -১৬ শতাংশে। মাত্র দুই বছরে ৩৮ পয়েন্ট পতনকে গবেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর পররাষ্ট্রনীতি, ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে উত্তেজনা, আগ্রাসী শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড প্রশ্নে বিতর্কিত অবস্থান, ইউক্রেনকে সহায়তা কমানো এবং ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরাইল জোটের ভূমিকা বিশ্বজুড়ে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। জরিপে অংশ নেওয়া বহু উত্তরদাতা যুক্তরাষ্ট্রকে এখন “বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি” হিসেবে দেখছেন। এ তালিকায় রাশিয়া ও ইসরাইলের পরই যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান উঠে এসেছে। ‘দ্বৈত মানদণ্ডের’ অভিযোগ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে ইসরাইলের প্রতি ওয়াশিংটনের অব্যাহত সামরিক, কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাতিসংঘে ইসরাইলকে জবাবদিহি থেকে রক্ষা করা, যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও অস্ত্র সহায়তা অব্যাহত রাখা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে নির্বাচিত অবস্থান নেওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে মার্কিন নীতিকে “দ্বৈত মানদণ্ড” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে অনেকের চোখে যুক্তরাষ্ট্র এখন আর শুধু একটি বৈশ্বিক শক্তি নয়; বরং আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীলতা ও সংঘাত রাজনীতিরও প্রতীক হয়ে উঠছে। গণতন্ত্র মূল্যায়নের নতুন ধারা ‘গ্লোবাল ডেমোক্রেসি পারসেপশন ইনডেক্স ২০২৬’ নিজেদের বিশ্বের সবচেয়ে বড় বার্ষিক গণতন্ত্র জরিপ হিসেবে দাবি করেছে। বিশেষজ্ঞভিত্তিক রেটিংয়ের পরিবর্তে এই জরিপে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে গণতন্ত্রের মান মূল্যায়ন করা হয়। জরিপে যেসব সূচক বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— নির্বাচনী ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রাজনৈতিক বহুত্ববাদ নাগরিক শিক্ষা ক্ষমতার ভারসাম্য আইনের শাসন সরকারের স্বচ্ছতা শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনীতি, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার সংকট এখন শুধু কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; বরং দেশগুলোর আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও গণতান্ত্রিক গ্রহণযোগ্যতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
Amal Khalil was a journalist with the Lebanese newspaper Al-Akhbar
ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সংঘাতে সাংবাদিক নিহতের সংখ্যা বাড়ছে: কণ্ঠরোধ করছে ইসরায়েল ? সাংবাদিকদের মৃত্যু নিয়ে উদ্বেগ

লেবাননের সাংবাদিক আমাল খলিল নিহত হওয়ার ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সাংবাদিকরা কি পর্যাপ্ত সুরক্ষা পাচ্ছেন, নাকি তারা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন? লেবাননের দৈনিক আল-আখবার-এর প্রতিবেদক খলিল বুধবার এক হামলায় নিহত হন। তিনি তখন ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী জেইনাব ফারাজের সঙ্গে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। লেবাননের কর্মকর্তারা ঘটনাটিকে “যুদ্ধাপরাধ” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে চলতি বছরে লেবাননে নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে। অন্যদিকে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় অন্তত ২৯৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন—যা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী সংঘাতগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে লক্ষ্যবস্তু করা নিয়ে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বলছে, একাধিক ঘটনায় সন্দেহ দেখা যাচ্ছে—সাংবাদিকদের কি তাদের পেশাগত পরিচয়ের কারণেই টার্গেট করা হচ্ছে? কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)-এর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক সারা কুদাহ বলেন, “এই ঘটনার অনেক প্রশ্ন এখনো উত্তরহীন রয়ে গেছে।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, হামলার পর কেন উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। তার মতে, চিকিৎসা সহায়তা বাধাগ্রস্ত হলে তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন হতে পারে। ইসরায়েলের অবস্থান ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে না। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিরা থাকতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে তাদের “বৈধ সামরিক লক্ষ্য” হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সিপিজে ও জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, এসব দাবির পক্ষে অনেক সময় পর্যাপ্ত বা যাচাইযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা হয় না। বিতর্কিত উদাহরণ ২০২৫ সালের আগস্টে গাজার আল-শিফা হাসপাতালের কাছে এক হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক আনাস আল-শরিফ নিহত হন। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ দাবি করে, তিনি হামাসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু সিপিজে বলছে, তারা যে তথাকথিত প্রমাণ পেয়েছে তা ছিল একটি স্প্রেডশিটে নামের পাশে একটি লোগো—যা গ্রহণযোগ্য প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত নয়। একইভাবে, সাংবাদিক আলি শোয়েইবের ক্ষেত্রেও একটি ছবি প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়, যা পরে বিকৃত বলে জানা যায়। আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বেসামরিক ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করতে হলে কঠোর শর্ত পূরণ করতে হয়। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা জানান, শুধুমাত্র “সম্পৃক্ততা”র অভিযোগ যথেষ্ট নয়—এটি স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য প্রমাণ দ্বারা সমর্থিত হতে হবে। প্রবেশাধিকার ও আটক গাজায় আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ দীর্ঘদিন ধরে সীমাবদ্ধ। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের সংগঠনগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এদিকে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২০০-র বেশি সাংবাদিক আটক হন, যাদের মধ্যে কয়েক ডজন তখনও হেফাজতে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, আটক থাকা কিছু সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন। জবাবদিহিতা নিয়ে উদ্বেগ বিভিন্ন ঘটনায় তদন্তের ঘোষণা দেওয়া হলেও সেগুলোর ফলাফল খুব কম ক্ষেত্রেই প্রকাশিত হয়—এমন অভিযোগ তুলেছে সিপিজে। জাতিসংঘ বলছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কার্যকর প্রয়োগ নির্ভর করে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর ওপর। তথ্যপ্রবাহে প্রভাব বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিক নিহত হওয়া, প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধতা এবং আটক—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে স্বাধীন তথ্যপ্রবাহকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। সংঘাতের বাস্তবতা তুলে ধরার জন্য যেখানে নিরপেক্ষ তথ্য জরুরি, সেখানে প্রতিটি সাংবাদিকের মৃত্যু একটি সম্ভাব্য তথ্যসূত্র হারিয়ে যাওয়ার সমান।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধে দরিদ্র
ইরান যুদ্ধে ত্রিমুখী সংকট : জ্বালানি, খাদ্য, অর্থনীতি,বিশ্বজুড়ে ৩ কোটির বেশি মানুষ দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখের বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়তে পারে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে উন্নয়নশীল দেশগুলো।  যুদ্ধের ছায়ায় দারিদ্র্যের ঢেউ: বৈশ্বিক সংকটের গভীরে অনুসন্ধান মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধবিমানের গর্জন থেমে গেলেও তার প্রতিধ্বনি এখন শোনা যাচ্ছে আফ্রিকার শুষ্ক গ্রাম, এশিয়ার উপকূলীয় শহর এবং ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর ভাঙা অর্থনীতিতে। একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তার মধ্যেই জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) সতর্ক করেছে—ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।  ত্রিমুখী সংকট: জ্বালানি, খাদ্য, অর্থনীতি ইউএনডিপির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা—বিশ্ব এখন একযোগে তিনটি সংকটের মুখোমুখি: জ্বালানি ঘাটতি, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। এই ত্রিমুখী চাপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য হয়ে উঠেছে এক নিঃশব্দ বিপর্যয়। যুদ্ধের পরবর্তী ছয় সপ্তাহে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর মূল কারণ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহ ব্যাহত হওয়া। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল এই পথ দিয়ে    উন্নয়নের চাকা উল্টো দিকে ইউএনডিপির প্রধান এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু সতর্ক করে বলেছেন, “যুদ্ধ থেমে গেলেও এর অর্থনৈতিক অভিঘাত থেকে যায়। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো—যারা দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছিল, তারাই আবার এতে ফিরে যাচ্ছে।” এই বক্তব্য শুধু আবেগ নয়—পরিসংখ্যানও তা সমর্থন করে। সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে, যদি জ্বালানি উৎপাদনে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্ন ঘটে, তাহলে ৩ কোটি ২৫ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারে। এখানে দারিদ্র্যের মানদণ্ড ধরা হয়েছে দৈনিক ৮.৩০ ডলারের কম আয়। ### 🍞 খাদ্য নিরাপত্তা: আসন্ন সংকট জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন এবং সার সরবরাহে ঘাটতির কারণে খাদ্য উৎপাদন হুমকির মুখে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি শুধু মূল্যবৃদ্ধি নয়—বরং একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য নিরাপত্তা সংকটের পূর্বাভাস। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল—এমন ৩৭টি দেশের অর্ধেকের বেশি দারিদ্র্য বৃদ্ধি ঘটবে। এই তালিকায় রয়েছে আফ্রিকা, এশিয়া, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো।  সমাধান কোথায়? ইউএনডিপি একটি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে ৬০০ কোটি ডলারের নগদ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে, যা সরাসরি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে পৌঁছাবে। এই ক্যাশ ট্রান্সফার দারিদ্র্য প্রতিরোধে কার্যকর হলেও সংস্থাটি সতর্ক করেছে—অযাচিত ভর্তুকি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয় এবং তা ধনী শ্রেণিকেও অপ্রয়োজনীয় সুবিধা দেয়।    বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া: কমছে সহায়তা এই সংকটের মাঝেই ধনী দেশগুলো তাদের বৈদেশিক সাহায্য কমিয়ে দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলো ঋণের চাপ ও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৫ সালে উন্নয়ন সহায়তা প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমে গেছে—যা সংকটকে আরও গভীর করছে।    স্থায়ী ক্ষতের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ইতোমধ্যেই সতর্ক করেছে—এই সংঘাতের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাময়িক নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। ডি ক্রুর ভাষায়, “উন্নয়নে বিনিয়োগ হলো সংঘাত প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। দারিদ্র্য কমানো মানে বিশ্বকে স্থিতিশীল করা।”  যুদ্ধের আসল মূল্য যুদ্ধের ময়দানে গোলা-বারুদের হিসাব রাখা সহজ, কিন্তু এর অর্থনৈতিক অভিঘাত মাপা অনেক কঠিন। ইরানকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত আবারও দেখিয়ে দিল—আধুনিক বিশ্বে যুদ্ধ শুধু সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকে না; এটি ছড়িয়ে পড়ে খাদ্যের থালায়, জ্বালানির দামে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। যুদ্ধ থামলেও, এর ক্ষত বহুদিন রয়ে যাবে—বিশেষ করে সেইসব মানুষের জীবনে, যারা সবচেয়ে কম দায়ী, অথচ সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী।      

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের উপ-প্রতিনিধিকে বহিষ্কার যুক্তরাষ্ট্রের
গোপনে ইরানের উপ-প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্র, নিরাপত্তা উদ্বেগের ইঙ্গিত

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    যুক্তরাষ্ট্র গোপনে জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের এক উপ-প্রতিনিধিকে বহিষ্কার করেছে বলে জানা গেছে। দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণ দেখিয়ে গত ডিসেম্বরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওজের বরাতে তুর্কি গণমাধ্যম ইয়েনি শাফাক শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বহিষ্কৃত ওই কূটনীতিক সাদাত আগাজানি, যিনি জাতিসংঘে ইরানের ডেপুটি প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে ডিসেম্বরের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। ইয়েনি শাফাক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘সেকশন ১৩’ নামে একটি বিশেষ অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করে। সাধারণত কূটনীতিকদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে বহিষ্কার করা হলেও, এই পদ্ধতিতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনা হয় না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগাজানির সন্তানদেরও ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে একই ধরনের প্রক্রিয়ায় আরও অন্তত দুইজন ইরানি কূটনীতিককে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি কূটনীতিকদের চলাচল ম্যানহাটনের কেন্দ্র থেকে ২৫ মাইলের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে অন্তত একজন এই নিয়ম লঙ্ঘন করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘে কর্মরত কিছু ইরানি কর্মকর্তার বিষয়ে একটি ‘নোট ভার্বাল’ জারি করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপটি ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল এবং এর সঙ্গে ওই ঘটনাগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ
ইরানে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন ও মানবিক বিপর্যয়

ইত্তেহাদ  নিউজ ডেস্ক :    মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন শুধু যুদ্ধবিমানের শব্দ নয়—ভেসে বেড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক আইনের অস্তিত্ব সংকটের প্রশ্নও। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত নতুন করে বিশ্বকে দাঁড় করিয়েছে এক কঠিন বাস্তবতার সামনে: রাষ্ট্রগুলো কি আর আন্তর্জাতিক আইন মানতে বাধ্য বোধ করছে? বিশ্বজুড়ে শতাধিক আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের স্বাক্ষরিত এক খোলা চিঠি সেই প্রশ্নটিকেই সামনে নিয়ে এসেছে। চিঠিটি প্রকাশিত হয়েছে নিউ ইয়র্ক ইউনিভার্সিটি স্কুল অফ ল-এর একটি অনলাইন জার্নালে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য বিপজ্জনক নজির হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শক্তি প্রয়োগ: আইনের সীমা কোথায়? আন্তর্জাতিক আইনের মূল কাঠামো নির্ধারিত হয়েছে জাতিসংঘ -এর সনদের মাধ্যমে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা আছে—আত্মরক্ষা বা নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতে পারে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের দাবি, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ সেই সীমা অতিক্রম করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের হুমকি পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তোলে। এখানেই প্রশ্ন ওঠে: এটি কি প্রতিরক্ষা, নাকি আক্রমণ? ‘No Quarter’: যুদ্ধনীতির লঙ্ঘন? মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের  “no quarter” মন্তব্য—অর্থাৎ শত্রুকে কোনো দয়া না দেখানোর আহ্বান—আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সরাসরি পরিপন্থী বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি -এর যুদ্ধনীতি অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী বা আহত যোদ্ধাকে হত্যা করা যুদ্ধাপরাধ। এই নীতির ভিত্তি হলো—যুদ্ধেও মানবতা রক্ষা করতে হবে। মিনাব: একটি স্কুল, একটি ভুল, নাকি যুদ্ধাপরাধ? ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ হামলার ঘটনা এই সংঘাতের সবচেয়ে অন্ধকার দিক তুলে ধরে। হামলায় নিহত হয় অন্তত ১৬৮ জন, যার মধ্যে ১১০ জনই শিশু। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, পাশের একটি সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালাতে গিয়ে পুরোনো গোয়েন্দা তথ্যের কারণে ভুলবশত স্কুলটিতে আঘাত হানা হয়। যদি এটি অবহেলার ফল হয়, তাহলে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আলোকে এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে—বিশেষ করে যখন বেসামরিক অবকাঠামোকে সুরক্ষার বাধ্যবাধকতা স্পষ্ট। সংখ্যার আড়ালে মানবিক বিপর্যয় এই যুদ্ধ শুধু কৌশলগত নয়—এটি এক গভীর মানবিক সংকট। ইরানে নিহত: ১,৬০৬ জন (২৪৪ শিশু) লেবাননে নিহত: ১,৩৪৫ জন ইসরায়েলে নিহত: ১৯ জন উপসাগরীয় অঞ্চলে নিহত: অন্তত ২৪ জন এই সংখ্যাগুলো শুধু পরিসংখ্যান নয়—প্রতিটি সংখ্যার পেছনে রয়েছে একটি পরিবার, একটি গল্প, একটি হারিয়ে যাওয়া ভবিষ্যৎ। জাতিসংঘের মানবিক প্রধান টম ফ্লেচার এই পরিস্থিতিকে “বেপরোয়া” বলে উল্লেখ করেছেন। তার ভাষায়, “কোনো এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক আইনকে যেন পাশ কাটানো হয়েছে।” যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান: নিরাপত্তা নাকি কৌশল? হোয়াইট হাউস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপগুলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ ও নিজ জনগণের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ পুনরায় তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে বিশেষজ্ঞদের যুক্তি—যদি আইন লঙ্ঘন করেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হয়, তবে সেই নিরাপত্তা কতটা টেকসই? আইনের ভবিষ্যৎ: ভেঙে পড়ছে কি বৈশ্বিক কাঠামো? এই সংঘাত শুধু একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়েও একটি পরীক্ষা। বিশেষজ্ঞদের মধ্যে হ্যারল্ড হংজু কোহ, ওনা এ. হ্যাথাওয়ে এবং জনাথন ট্রেসি-এর মতো ব্যক্তিত্বরা সতর্ক করেছেন—এ ধরনের নজির যদি চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো আইনের তোয়াক্কা না করেই সামরিক পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত হবে। শেষ প্রশ্ন যুদ্ধের ময়দানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হতে পারে অস্ত্রের শক্তিতে। কিন্তু ইতিহাস বিচার করে—কোন পক্ষ আইন ও মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিল। এই সংঘাত সেই বিচারের আরেকটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। এখন প্রশ্ন একটাই: আন্তর্জাতিক আইন কি শুধু কাগজে থাকবে, নাকি বাস্তবেও তার প্রয়োগ নিশ্চিত হবে?

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ইরানে পারমাণবিক হামলা
ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা:জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট কূটনীতিকের পদত্যাগ

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার আশঙ্কা প্রকাশ করে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি উঠেছে। মোহাম্মদ সাফা নামের ওই কর্মকর্তা সোমবার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্ট এবং দীর্ঘ চিঠিতে তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’-এর নির্বাহী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সংস্থাটি জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদে বিশেষ পরামর্শমূলক মর্যাদা পেয়ে থাকে। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘে এই সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত হন। কী অভিযোগ করেছেন তিনি? পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করে মোহাম্মদ সাফা দাবি করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ে একটি “শক্তিশালী লবি” সক্রিয় রয়েছে, যারা এমন একটি পরিস্থিতির প্রস্তুতি নিচ্ছে যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তেহরানের একটি ছবি যুক্ত করে তিনি বলেন, “মানুষ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পারছে না। জাতিসংঘ ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তিনি সতর্ক করে দেন, তেহরান কোনো জনশূন্য এলাকা নয়—এখানে প্রায় এক কোটি মানুষের বসবাস। একইসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বিশ্বের বড় শহরগুলোর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি হলে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হতো। কেন পদত্যাগ? নিজের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “এই তথ্য প্রকাশ করার জন্য আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। মানবতাবিরোধী কোনো ঘটনার অংশ বা নীরব সাক্ষী থাকতে চাই না।” তিনি সম্ভাব্য “নিউক্লিয়ার উইন্টার”-এর আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন, যা বৈশ্বিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ মোহাম্মদ সাফা দাবি করেন, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলার পর ভিন্নমত প্রকাশ করায় তিনি সমালোচনা ও অভিযোগের মুখে পড়েন। তার অভিযোগ, গাজা যুদ্ধের পর একটি বিশেষ গোষ্ঠী নতুন বিশ্বব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি ও তার পরিবার হত্যার হুমকি পেয়েছেন এবং তথ্য সেন্সরশিপের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এবং পদত্যাগের বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি জাতিসংঘ। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলার স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ
স্বচ্ছ তদন্ত চায় জাতিসংঘ : ইরানের স্কুলে প্রাণঘাতী বোমা হামলা

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার ভলকার তুর্ক দক্ষিণ ইরানের মিনাবে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বোমা হামলার ঘটনায় ‘যত দ্রুত সম্ভব’ তদন্ত শেষ করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওই হামলায় ১১০ জন শিশুসহ ১৬৮ জন নিহত হন। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সামরিক তদন্তকারীরা মনে করছেন, মার্কিন বাহিনী সম্ভবত অনিচ্ছাকৃতভাবে স্কুলটিতে আঘাত হেনে থাকতে পারে। তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি।   জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে সংঘাতকালীন শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ক আলোচনায় তুর্ক বলেন, যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জবাবদিহিতার নিশ্চিতের দায়িত্ব বর্তায়। জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই পৃথকভাবে জানিয়েছে, যে তারা ঘটনাটি তদন্ত করছে। যদিও, ওই স্কুলে যুক্তরাষ্ট্রই প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছিল বলে খোদ দেশটির সামরিক বাহিনীর চলমান তদন্তে উঠে এসেছে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনা গভীর আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। যারা এ হামলা চালিয়েছে, তাদের ওপরই দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দায়িত্ব বর্তায়।   যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তুর্ক বলেন, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আমি চাই যত দ্রুত সম্ভব এ তদন্ত শেষ হোক এবং এর ফলাফল প্রকাশ করা হোক। যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তার বিচার হতে হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানে ৩ হাজার ১০০-এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি এ সংঘাত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালী বন্ধ এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে : জাতিসংঘ মহাসচিব

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান ‘বেআইনি হামলার’ তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। শুক্রবার তিনি সতর্ক করে বলেন, সংঘাত বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি যে কোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জাতিসংঘ থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি বাহিনী। ইরানও এর জবাবে ইসরাইল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন জানায়, তেহরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি ঠেকাতেই এই অভিযান।  তবে এই হামলায় দেশটির সরকার কার্যত নেতৃত্বহীন হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করছেন। এদিকে গুতেরেস বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য ও এর বাইরে চলমান সব বেআইনি হামলা ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য চরম দুর্ভোগ ও ক্ষতির কারণ হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতি, বিশেষ করে অসহায় মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরিস্থিতি সবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। এখন লড়াই থামানোর এবং গুরুত্বের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার সময়।’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার শুক্রবার বলেন, ‘আমরা দেখছি যে এই যুদ্ধে ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ডলার অর্থাৎ রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ রাজনীতিবিদরা অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ করা সহায়তা তহবিল কাটছাঁট করার বড়াই করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রযুক্তি ও বিচারহীনভাবে মানুষ হত্যার এক ভয়াবহ সমন্বয় দেখছি।’ ফ্লেচার বলেন, ‘মানুষের ধ্বংসাত্মক প্রবৃত্তি ও বেপরোয়া যুদ্ধ ঠেকাতে যে সব আইন ও ব্যবস্থা রয়েছে, সেগুলোর ওপর এখন লাগাতার আঘাত করা হচ্ছে।’ যুদ্ধের অন্যান্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সতর্ক করেন, এই সংঘাতের ফলে বাজার ব্যবস্থা ও সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে অসহায় মানুষগুলোই সবার আগে এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। Iran Israel War, Middle East Crisis, UN Warning, Global Economy Risk, Trump Iran Conflict

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা
পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত: দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান চীন ও রাশিয়ার,মধ্যস্থতার প্রস্তাব ইরানের

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে চীন ও রাশিয়া। সীমান্ত পেরিয়ে সহিংসতা বিস্তৃত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দেশ দুটি। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ একাধিক বড় শহরে বিমান হামলা চালানোর পর চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং নিয়মিত ব্রিফিংয়ে বলেন, পরিস্থিতির অবনতিতে সংঘাত আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। তিনি বলেন, “চীন সংঘাতের উত্তেজনা বৃদ্ধিতে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। আমরা উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার এবং সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে আরও রক্তপাত এড়ানো উচিত।” মাও নিং আরও জানান, চীন নিজস্ব কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত রয়েছে। এ বিষয়ে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে অবস্থিত চীনা দূতাবাসগুলো সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বলেও জানান তিনি। রাশিয়ার অবস্থান রাশিয়ার বার্তা সংস্থা আরআইএয়ের খবরে বলা হয়, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে অবিলম্বে সীমান্তবর্তী হামলা বন্ধ করে কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। মস্কো বলেছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় উভয় পক্ষের সংযম অত্যন্ত জরুরি। ইরানের মধ্যস্থতার প্রস্তাব প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সংলাপ আয়োজনের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে “ভালো প্রতিবেশীর মতো সম্পর্ক বজায় রাখা এবং সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য সমাধান” করার আহ্বান জানান। এর আগেও সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির সময় একই ধরনের প্রস্তাব দিয়েছিল তেহরান। আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বান জাতিসংঘের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক। বার্তা সংস্থা বিবিসির খবরে বলা হয়, গুতেরেস উভয় দেশকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তাদের বাধ্যবাধকতা কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অন্যদিকে, ভলকার তুর্ক সংলাপের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন। সংঘাতের পটভূমি বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সীমান্তে পাকিস্তানের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে তালেবান বাহিনী হামলা চালায়। জবাবে তালেবানের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে পাকিস্তান আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলসহ বিভিন্ন শহরে বিমান হামলা চালায়। এ পর্যন্ত উভয়পক্ষের অন্তত ১৮০ জন নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ না নেওয়া হলে এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকিতে রূপ নিতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ
জাতিসংঘ : ফিলিস্তিন সরে দাঁড়ানোয় বাংলাদেশ-সাইপ্রাস মুখোমুখি লড়াই

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নাটকীয় মোড় নিয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ-এর ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে আসন্ন নির্বাচন। আগে ধারণা করা হচ্ছিল, ফিলিস্তিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সক্ষম হলে বাংলাদেশ সরে দাঁড়াবে—এমন নীতিগত অবস্থান ছিল সরকারের। তবে হঠাৎ করেই ফিলিস্তিন নিজ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। ফলে এখন এই পদে লড়াই হবে বাংলাদেশ ও সাইপ্রাস-এর মধ্যে। এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের পালা জাতিসংঘে প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পাঁচটি আঞ্চলিক গ্রুপ থেকে পালাক্রমে সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবারের পালা এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের। যদিও সাইপ্রাস ভৌগোলিকভাবে ইউরোপের অংশ, তবে জাতিসংঘের গঠনতান্ত্রিক কাঠামো অনুযায়ী তারা এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের সদস্য হিসেবেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সাধারণত এ ধরনের নির্বাচন সমঝোতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়। তবে ফিলিস্তিনের সরে দাঁড়ানোর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরালো হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বাংলাদেশের প্রার্থী ও প্রস্তুতি কূটনৈতিক সূত্র জানায়, নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান-কে মনোনয়ন দিয়েছেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের জন্য এই নির্বাচন আগামী জুন মাসে নিউ ইয়র্ক-এ অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হবে। জয়লাভের জন্য প্রয়োজন হবে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন। ৪০ বছর পর আবার সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮০-এর দশকে জাতিসংঘের ৪১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছিল বাংলাদেশ। তখন খ্যাতিমান কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। প্রায় চার দশক পর আবারও সেই মর্যাদাপূর্ণ পদে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। কূটনৈতিক গুরুত্ব জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদটি বৈশ্বিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মর্যাদার। এই পদে নির্বাচিত হলে সংশ্লিষ্ট দেশ আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে এবং বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগ পায়। ফিলিস্তিনের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর এখন মূল লড়াই বাংলাদেশ ও সাইপ্রাসের মধ্যে। আন্তর্জাতিক মহলে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে সমর্থন আদায়ের নীরব কূটনৈতিক প্রচেষ্টা। আগামী জুনের নির্বাচন ঘিরে কূটনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার চরম আক্রমণের মুখে: জাতিসংঘের কড়া হুঁশিয়ারি

বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতি বর্তমানে এক গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সুদান, গাজা ও ইউক্রেনসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাপক লঙ্ঘন এবং সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অ্যান্তোনিও গুতেরেস। সোমবার জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, “আইনের শাসনের জায়গা এখন শক্তির শাসন দখল করে নিচ্ছে। মানবাধিকারকে পরিকল্পিতভাবে এবং কখনও কখনও প্রকাশ্য গর্বের সঙ্গে উপেক্ষা করা হচ্ছে।” সুদান, গাজা ও ইউক্রেনে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সুদান এ চলমান সংঘাতে হাজারো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। গাজায় টানা যুদ্ধ ও অবরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, “একদিকে মানবিক প্রয়োজন বিস্ফোরণোন্মুখ, অন্যদিকে তহবিলের জোগান পুরোপুরি ধসে পড়ছে।” তহবিল সংকটে জাতিসংঘের তদন্ত স্থগিত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান  ভলকার তুর্ক জানান, ব্যাপক অর্থসংকট, বিশেষজ্ঞদের ওপর চাপ এবং কিছু প্রভাবশালী দেশের নিস্পৃহতার কারণে তার দফতর টিকে থাকার লড়াই করছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির সবচেয়ে বড় দাতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। তবে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বকেয়া থাকলেও দেশটি মাত্র ১৬০ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে। তহবিল সংকটের কারণে ২০২৫ সালে শুরু হওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত স্থগিত রয়েছে— গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ তদন্ত আফগানিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘন অনুসন্ধান একজন কূটনীতিক জানান, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মৌখিক সমর্থন থাকলেও অর্থের অভাবে এসব তদন্ত আলোর মুখ দেখছে না। ফিলিস্তিন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের কঠোর সমালোচনা করে গুতেরেস বলেন, “দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানকে দিবালোকেই ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটি হতে দিতে পারে না।” সম্প্রতি ইসরায়েল সরকার অধিকৃত পশ্চিম তীর নিয়ন্ত্রণ জোরদারে নতুন পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে। এর ফলে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ফিলিস্তিনি ভূমি কেনা আরও সহজ হবে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু  দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন। তবে ১৯৬৭ সাল থেকে দখলকৃত পশ্চিম তীরসহ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই সংকট সমাধানের পক্ষে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বড় অংশ অবস্থান নিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সবচেয়ে তীব্র ক্ষমতার লড়াই ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বর্তমান বিশ্ব সবচেয়ে তীব্র ক্ষমতা ও সম্পদের লড়াই প্রত্যক্ষ করছে, যার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক রাজনৈতিক বিভাজন, আঞ্চলিক সংঘাত এবং তহবিল সংকট একত্রে মানবাধিকার রক্ষার আন্তর্জাতিক কাঠামোকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সুদান, গাজা, ইউক্রেন ও অন্যান্য সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলমান মানবিক বিপর্যয় বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার পরিস্থিতিকে গভীর সংকটে ফেলেছে। জাতিসংঘের শীর্ষ নেতৃত্বের সতর্কবার্তা স্পষ্ট— আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মানবাধিকারের বৈশ্বিক কাঠামো আরও ভেঙে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬ 0
গাজা
গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
শহিদ শরিফ ওসমান হাদি-ফাইল ফটো
জাতিসংঘে হাদি হত্যার তদন্ত প্রস্তাব দেবে অন্তর্বর্তী সরকার

অন্তর্বর্তী সরকার শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের চলমান আন্দোলনের মধ্যেই সরকারের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হলো। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, যত দ্রুত সম্ভব এই মামলার তদন্তের জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হবে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার এ হত্যাকাণ্ডে পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অটল এবং যেকোনো আন্তর্জাতিক তদন্তে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। এর আগে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে শহিদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ ও হাদির পরিবার। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে তারা সেখানে জড়ো হন। রাতে প্রেস সচিবের ঘোষণার সময়ও হাদি হত্যার বিচার দাবিতে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখে ইনকিলাব মঞ্চ। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে সংগঠনটির একাধিক সদস্য যমুনার দিকে অগ্রসর হন। এ সময় তারা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা বলেন, “সরকার, প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে ইনকিলাব মঞ্চ। কিন্তু ইনকিলাব মঞ্চ সহযোগিতা চাইলে বারবার সবাই হাত গুটিয়ে নিচ্ছে। জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতেই আমরা যমুনার সামনে অবস্থান নিয়েছি।” উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা শহিদ শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায়। মাথা ও ডান কানের নিচে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর, ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0