Brand logo light

জ্বালানি বাজার

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তিচুক্তি : নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি ও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সমীকরণ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : দীর্ঘ কয়েক দশকের বৈরিতা, পারমাণবিক উত্তেজনা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি সমঝোতার খবর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার দাবি সামনে এলেও এখনো পর্যন্ত ওয়াশিংটন ও তেহরানের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ যৌথ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর অমীমাংসিত রয়ে গেছে। ইউরোপের চার দেশের অবস্থান যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বাস্তব ও ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেলে তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। দেশগুলো বলেছে, ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রাখবে। এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সম্ভাব্য চুক্তির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার আওতায় সেটিকে সীমাবদ্ধ রাখা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালির প্রশ্ন কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হচ্ছে যে, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌচলাচল পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি বাজারে ইতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, কিন্তু আনুষ্ঠানিক নথি কোথায়? যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন যে ইরানের সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে। একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, যিনি নিজেকে আলোচনার মধ্যস্থতাকারী পক্ষগুলোর একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, হোয়াইট হাউস কিংবা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে চুক্তির প্রকৃত কাঠামো, বাস্তবায়ন পদ্ধতি কিংবা আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না। জেনেভায় স্বাক্ষরের সম্ভাবনা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে পারে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীও জানিয়েছেন, সম্ভাব্য স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর উভয় পক্ষের মধ্যে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তবে নির্ধারিত তারিখে স্বাক্ষর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াকে কূটনৈতিকভাবে ‘চলমান আলোচনা’ হিসেবেই দেখছেন অনেক পর্যবেক্ষক। বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘ মহাসচিব এই সমঝোতাকে সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বিশেষভাবে পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার অগ্রগতি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ফরাসি প্রেসিডেন্ট দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে লেবাননের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়টিকেও আঞ্চলিক শান্তির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, চূড়ান্ত স্বাক্ষরের আগে যেকোনো উসকানিমূলক বক্তব্য বা সম্ভাব্য নাশকতা পুরো প্রক্রিয়াকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের বার্তা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা প্রয়োজন। তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ দূর করতে হবে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আশা প্রকাশ করেছেন যে, সম্ভাব্য চুক্তি হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌচলাচল নিশ্চিত করবে এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ সমাধানে সহায়ক হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের প্রচার বনাম বাস্তবতা ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এবং কয়েকটি দেশীয় সংবাদমাধ্যম চুক্তিটিকে ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করছে। তাদের দাবি, দীর্ঘ কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তবে এসব প্রতিবেদনে কোনো স্বাক্ষরিত চুক্তিপত্র, আনুষ্ঠানিক যৌথ বিবৃতি বা আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইকৃত নথি প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া ইরান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কোনো কর্মকর্তা এখনো সরাসরি চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। কী বলছেন বিশ্লেষকরা? আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—দাবি ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা। তাদের মতে, সম্ভাব্য চুক্তি কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর, চুক্তির শর্ত প্রকাশ এবং বাস্তবায়ন কাঠামো নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা অধিক যুক্তিযুক্ত। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা নিঃসন্দেহে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঘটনা। তবে এখনো পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যের বড় অংশই রাজনৈতিক বক্তব্য, কূটনৈতিক ইঙ্গিত এবং রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবির ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রকৃতপক্ষে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি সম্পন্ন হয়েছে কি না, নাকি আলোচনা এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে—সেই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর পাওয়া যাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা, চুক্তির লিখিত নথি এবং আন্তর্জাতিক যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ১৫, ২০২৬ 0
হরমুজ সংকটের ধাক্কা সৌদি বাজেটে
হরমুজ প্রণালি সংকট: সৌদি আরবে রেকর্ড বাজেট ঘাটতি, নতুন নিয়ন্ত্রণে ইরান

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি ১২৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন রিয়াল বা প্রায় ৩৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ২০১৮ সালের পর এটিই সৌদি আরবের সর্বোচ্চ বাজেট ঘাটতি। একই সঙ্গে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই ঘাটতি প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং জ্বালানি পরিবহন ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার আগেভাগেই বড় অঙ্কের ব্যয় শুরু করে। বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, খাদ্য আমদানি এবং বিকল্প বাণিজ্যপথ শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়। লোহিত সাগর ঘিরে নতুন বিনিয়োগ সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় লোহিত সাগর উপকূলীয় বন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবহন ও লজিস্টিক খাতে নতুন প্রকল্পেও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে, যাতে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চয়তার কারণে সৌদি আরব অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে এর তাৎক্ষণিক চাপ পড়ছে রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর। ট্যাংকার জব্দ করল ইরান এদিকে পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে ইরান। ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, বার্বাডোজের পতাকাবাহী ‘ওশান কোই’ নামের ট্যাংকারটি ইরানের তেল বহন করছিল এবং দেশটির তেল রপ্তানিতে বিঘ্ন ঘটানোর প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত ছিল। ফার্স নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, জাহাজটিকে ইরানের দক্ষিণ উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘ওশান কোই’ গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসে। তবে কী কারণে জাহাজটির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। নতুন নিয়ন্ত্রণে হরমুজ প্রণালি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে চলাচলের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে তেহরান। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিচালিত হতো। সম্প্রতি ইরানের নবগঠিত ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ (পিজিএসএ) নতুন একটি ‘ভেসেল ইনফরমেশন ডিক্লারেশন’ প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে ইচ্ছুক সব জাহাজকে ৪০টির বেশি প্রশ্নের উত্তরসহ একটি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। এতে জাহাজের পরিচয়, মালিকানা, ক্রুদের জাতীয়তা এবং বহন করা পণ্যের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করতে হবে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ‘কৌশলগত হাতিয়ার’ হিসেবে হরমুজ ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির টেলিগ্রাম বার্তায় বলা হয়েছে, ‘শক্তিশালী ইরানের কৌশল’ বাস্তবায়নে নতুন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে, যেখানে বিদেশি শক্তির কোনো স্থান থাকবে না। তিনি হরমুজ প্রণালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ‘লিভারেজ’ বা কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। জাহাজপ্রতি ২০ লাখ ডলার দাবি সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালি ব্যবহারকারী প্রতিটি জাহাজের কাছ থেকে প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত পারাপার ফি আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সতর্ক করে জানিয়েছে, কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অর্থ পরিশোধ করলে তা নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বর্তমানে ভারত, পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশ তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল অব্যাহত রাখতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৮, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি iran
হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা: বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহে ধাক্কার আশঙ্কা, হাজারো জাহাজ আটকা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অচলাবস্থা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান এই রুটে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় দুই হাজার জাহাজ এবং ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক পারস্য উপসাগর অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন। তারা প্রণালিটি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের অনুমতির অপেক্ষায় থাকলেও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। গত মার্চ মাসে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক বীমা কোম্পানিগুলো এই রুটকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে ঘোষণা করে ট্যাংকার জাহাজের জন্য ‘যুদ্ধ ঝুঁকি বীমা’ বাতিল করে। ফলে কাগজে-কলমে চলাচল সম্ভব হলেও বীমার অনুপস্থিতিতে বাস্তবে অনেক জাহাজই যাত্রা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী জানিয়েছে, জলপথে পেতে রাখা নৌ-মাইন অপসারণে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। এর আগে পুরোপুরি নিরাপদভাবে জাহাজ চলাচল সম্ভব নয় বলেও সতর্ক করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে মাইন অপসারণ সম্পন্ন হলেও বীমা ব্যয় দীর্ঘদিন উচ্চ পর্যায়েই থাকবে। যতক্ষণ না স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক সমঝোতা অর্জিত হয়, ততক্ষণ এই অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিজেদের নাবিকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা তাৎক্ষণিক সামরিক প্রতিক্রিয়া থেকে বিরত রয়েছে। দেশটির কন্টেইনারবাহী জাহাজ ‘তোস্কা’র ছয় নাবিককে ইতোমধ্যে মুক্ত করা হয়েছে। তেহরানের দাবি, ধারাবাহিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলেই এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে—এ তথ্য জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। ২৯ এপ্রিল প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র নৌবাহিনী ওমান উপসাগর এলাকায় জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়। জাহাজটি ইরানের দিকে যাচ্ছিল এবং এতে ২৮ জন ইরানি নাবিক ছিলেন। ঘটনাটিকে ‘দস্যুতার শামিল’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। শুরু থেকেই ইরান জানিয়ে আসছে, নাবিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ না নিয়ে কূটনৈতিক পথেই সমাধান খুঁজছে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ছয় নাবিক দেশে ফিরলেও এখনো বাকি ২২ জন যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। তাদের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৩০, ২০২৬ 0
ইরান যুদ্ধ
মধ্যপ্রাচ্য সংকট: তেলের দাম বেড়ে ১১১ ডলার, চাপে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতি

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন করে নাড়া দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারেও, যেখানে সাম্প্রতিক ঊর্ধ্বগতির ধারা থমকে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুন ডেলিভারির জন্য ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ ডলারের বেশি হয়েছে। জুলাই মাসের জন্য নির্ধারিত মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৪ ডলারেরও বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যেখানে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার, তা ধীরে ধীরে বেড়ে ১১৯ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে—যা যুদ্ধ শুরুর সময়কার উচ্চমাত্রার সঙ্গে তুলনীয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিনিময়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার যে প্রস্তাব ইরান দিয়েছে, তা গ্রহণে ওয়াশিংটনের অনীহা থাকতে পারে। একই সঙ্গে তেহরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা আপাতত স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে। এই অচলাবস্থার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেও পড়ছে। দেশটির অটো ক্লাব এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গড় গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালন ৪ দশমিক ১৮ ডলারে পৌঁছেছে—যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তা খরচে চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করছেন, জ্বালানি বাজারে এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি আরও তীব্র হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এদিকে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে ধৈর্যচ্যুতি দেখা যাচ্ছে। দোহা ইনস্টিটিউট অব গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের বিশ্লেষক মোহাম্মদ এলমাসরি মনে করেন, “সময় এখন আর কারো পক্ষেই নেই। ইউরোপীয় দেশগুলো ধৈর্য হারিয়ে ফেলছে।” জার্মান চ্যান্সেলরের সাম্প্রতিক এক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইরান আলোচনায় দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে—এমন মন্তব্য থেকে বোঝা যায় যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের চাপের মুখে রয়েছে। অনেক মিত্রই মনে করছে, বর্তমান সংকট সমাধানে ওয়াশিংটন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে এবং এটি মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ক্রমেই কিছু মিত্র দেশের কাছ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন এক ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এক রুশ ধনকুবেরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিলাসবহুল সুপারইয়ট ‘নর্ড’ সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অতিক্রম করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৪২ মিটার দীর্ঘ এই ইয়টটি দুবাই থেকে যাত্রা করে ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছায়। প্রায় ৫০ কোটি ডলার মূল্যের এই নৌযানটি রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকানা ভিন্ন নামে নিবন্ধিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে বর্তমানে আগের তুলনায় কম জাহাজ চলাচল করছে। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। এই প্রেক্ষাপটে, ইরান ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ইউরোপীয় বিমান
হরমুজ প্রণালি বন্ধে ইউরোপে জেট জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা

ইত্তেহাদ নিউজ, অনলাইন ডেস্ক : ইউরোপে জেট জ্বালানির সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় বিমানবন্দরগুলোর সংগঠন এসিআই ইউরোপ। বিবিসি-এর খবরে বলা হয়েছে, সংস্থাটি ইউরোপীয় কমিশন-এর জ্বালানি ও পর্যটন বিষয়ক কমিশনারদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে—তাদের সদস্যদের মধ্যে জেট জ্বালানির প্রাপ্যতা নিয়ে উদ্বেগ দ্রুত বাড়ছে। এসিআই ইউরোপের মহাপরিচালক সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিলে বিমানবন্দর পরিচালনা ও আকাশপথে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এতে সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে ইউরোপের সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এবং আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নে জেট জ্বালানির কাঠামোগত সংকট তৈরি হওয়া প্রায় নিশ্চিত। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি, যার মাধ্যমে ইউরোপের প্রায় ৫০ শতাংশ জেট জ্বালানি আমদানি হয়। ফলে এই রুটে কোনো ধরনের বিঘ্ন সরাসরি ইউরোপের জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে। এদিকে সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি এয়ারলাইন ফ্লাইট কমিয়ে দিয়েছে এবং যাত্রী ভাড়া বাড়াতে শুরু করেছে। গত সপ্তাহে ইউরোপে জেট জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে প্রতি টন ১,৮৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে যুদ্ধ শুরুর আগে এই দাম ছিল ৮৩১ ডলার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ইউরোপের বিমান চলাচল খাত বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
হরমুজ পাড়ি দিল একমাত্র তেলবাহী জাহাজ
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ, বিশ্ব তেল ও জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকটের আশঙ্কা

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : হরমুজ প্রণালী বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধমনী। কিন্তু সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সামরিক সংঘাত এবং অর্থনৈতিক কৌশলের জটিল সমন্বয়ে এই জলপথ এখন কার্যত অস্বাভাবিক এক বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাইরে থেকে এটি শুধু জাহাজ চলাচলের সাময়িক স্থবিরতা মনে হলেও, গভীরে রয়েছে বড় ধরনের কৌশলগত পালাবদলের ইঙ্গিত। অস্বাভাবিক নীরবতা: পরিসংখ্যান যা বলছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন -এর জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিস্ময়কর চিত্র—তেহরান সময় বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুরো প্রণালী দিয়ে মাত্র একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অতিক্রম করেছে। ‘ম্যাব ৫’ নামের এই ট্যাঙ্কারটির ওপর আবার খোদ যুক্তরাষ্ট্রেরই নিষেধাজ্ঞা রয়েছে—যা ঘটনাটিকে আরও ব্যঙ্গাত্মক করে তোলে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। লয়েডস লিস্টের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে ১০৭টি পণ্যবাহী জাহাজ এই পথে চলাচল করত। সেই তুলনায় বর্তমান পরিস্থিতি কার্যত অচলাবস্থার সমান।   দৃশ্যমানের বাইরে অদৃশ্য বাস্তবতা মেরিন ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, কয়েকটি ছোট জাহাজ—ভারত ও পানামার পতাকাবাহী—এই পথ ব্যবহার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি পুরো চিত্র নয়। কারণ: অনেক জাহাজ ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের AIS (Automatic Identification System) বন্ধ রাখে বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নজর এড়াতে এটি একটি প্রচলিত কৌশল ফলে প্রকৃত জাহাজ চলাচলের সংখ্যা সরকারি বা উন্মুক্ত ডেটার চেয়ে বেশি হতে পারে এই “ডিজিটাল অদৃশ্যতা” এখন সামুদ্রিক বাণিজ্যের এক নতুন বাস্তবতা।   যুদ্ধবিরতির পরও স্থবিরতা কেন? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমলেও বাণিজ্যিক আস্থা এখনও ফেরেনি। কারণগুলো স্পষ্ট: নিরাপত্তা ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি বীমা খরচ বেড়েছে নৌপথে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কা রয়ে গেছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে   অর্থনৈতিক চাপ: বিশ্ববাজারে প্রতিক্রিয়া বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০% এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এই স্থবিরতার প্রভাব সরাসরি পড়ছে: তেলের দাম বৃদ্ধি প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি সারের বাজারে অস্থিরতা পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়—এশিয়া, ইউরোপ এবং উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।   নতুন অর্থনৈতিক কৌশল: ডলারকে চ্যালেঞ্জ? এই সংকটের মধ্যেই ইরান এক নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে— হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ট্রানজিট ফি নিজস্ব মুদ্রা রিয়ালে পরিশোধ করতে হবে। একইসঙ্গে অবরোধ চলাকালে কিছু জাহাজকে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে অর্থ দিতে বলা হয়েছিল। আল-জাজিরা-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, এটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ: ডলারের বৈশ্বিক আধিপত্য দুর্বল করা বিকল্প মুদ্রাভিত্তিক বাণিজ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা চীন -এর সঙ্গে অর্থনৈতিক সমন্বয় জোরদার করা অবরোধের সময় অন্তত দুটি জাহাজ ইউয়ানে অর্থ পরিশোধ করেছে—যা এই পরীক্ষামূলক ব্যবস্থার বাস্তব প্রয়োগের ইঙ্গিত দেয়।   “টোল বুথ” কৌশল: সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণের নতুন রূপ বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালীকে একটি “টোল বুথ” হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। এটি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত ক্ষমতার প্রদর্শন: কে চলাচল করবে কোন মুদ্রায় অর্থ দেবে কোন শর্তে নিরাপত্তা পাবে এই নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতে বৈশ্বিক বাণিজ্যের নতুন নিয়ম তৈরি করতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি কয়েকটি সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে: স্বাভাবিকতায় ধীর প্রত্যাবর্তন — নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে জাহাজ চলাচল বাড়বে বিকল্প রুটের ব্যবহার — দীর্ঘমেয়াদে হরমুজ নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা মুদ্রা যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি — ডলার বনাম রিয়াল/ইউয়ান প্রতিযোগিতা স্থায়ী ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা — প্রণালীকে কৌশলগত চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার   হরমুজ প্রণালীর বর্তমান সংকট কেবল একটি সামুদ্রিক সমস্যাই নয়—এটি বৈশ্বিক অর্থনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা ব্যবস্থার এক জটিল সংযোগস্থল। জাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়া হয়তো চোখে পড়ে, কিন্তু আসল গল্পটি লুকিয়ে আছে এর পেছনের শক্তির খেলায়—যেখানে প্রতিটি ট্যাঙ্কার, প্রতিটি মুদ্রা লেনদেন, এবং প্রতিটি নৌচলাচল সিদ্ধান্ত হয়ে উঠছে ভূরাজনীতির অংশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন প্ল্যান্ট
বাংলাদেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে, অকটেন হয় ২৫ শতাংশ

বিবিসি বাংলা: দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে। আর অকটেন হয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারিতে গ্যাসের সাথে পাওয়া কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেন ছাড়াও ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি উৎপাদন হয়। জানা যায়, সিলেটের বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাসের সাথে কনডেনসেট (উপজাত) পাওয়া যায় তা থেকেই উৎপাদন হয় পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল কেরোসিন ও কিছু এলপিজি।বাংলাদেশের মূল চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোল, ২০/২৫ শতাংশ অকটেন উৎপাদন হয়। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি ফ্যাকচুনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। এগুলোর প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার বারেল উপজাত প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ৪ হাজার ৫০০ ব্যারেলের মতো কনডেনসেট বরাদ্ধ পাচ্ছে। এ কনডেনসেট থেকে ৬০০ ব্যারেল অকটেন, ৩ হাজার ৪৫০ ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন ও কিছু ডিজেল উৎপাদন হয়। বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের। ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে। বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে। সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে। বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ। এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই। এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে। ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে। উৎপাদন কোথায় কতটুকু বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি। দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ। হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে। এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে। এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে। বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না। "দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। " অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড। সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট। ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে। হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়। পেট্রোল-অকটেনের এত চাহিদা কেন বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে। সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা। বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। "প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।" পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে। "রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।" "আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ। তবে বাজারে বর্তমানে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ মানুষ এবং কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। পেট্রোলপাম্প মালিকদের মতে, আগে যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার জ্বালানি বিক্রি হতো, এখন সেই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করছেন, ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে পেট্রোলের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হলেও অকটেনের ক্ষেত্রে কিছুটা আমদানির প্রয়োজন রয়েছে। তবে বাজারে যে দীর্ঘ লাইন ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘প্যানিক পারচেজিং’-এর ফল। সরকার জানিয়েছে, মে মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ইসরায়েলের তেল শোধনাগার
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের তেল শোধনাগারে আগুন, মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইসরায়েলের হাইফা শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার সময় ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ গিয়ে শোধনাগারে পড়ে এবং সেখান থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়। ঘটনাস্থল থেকে ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা নির্দেশ করছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাত পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলসহ জেরুজালেম এলাকায় বিমান হামলার সতর্ক সংকেত (সাইরেন) বাজার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো তথ্য জানা যায়নি। এটি প্রথম ঘটনা নয়। গত বছর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ১২ দিনের সংঘাত চলাকালেও হাইফার এই শোধনাগারটি হামলার শিকার হয়েছিল। অন্যদিকে, কুয়েতেও জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত মিনা আবদুল্লাহ তেল শোধনাগারের একটি অপারেশনাল ইউনিটে ড্রোন হামলা চালানো হয়। হামলার পরপরই সেখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (কেপিসি)। এর আগে মিনা আল আহমাদি শোধনাগারেও একই ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও সেখানে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। এদিকে, বুধবার (১৮ মার্চ) ভোরে ইসরায়েল ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে বিমান হামলা চালায়। এটি বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র, যার একটি অংশ কাতারের সঙ্গে যৌথভাবে পরিচালিত। এই হামলার জবাবে ইরান সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কাতারের রাস লাফান এলএনজি কমপ্লেক্সের কিছু অংশে আগুন লাগে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকদিনের ব্যবধানে এ ধরনের ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি নিরাপত্তাকে মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে ফেলেছে। এতে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে এটি ‘জ্বালানি যুদ্ধ’-এ রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় ঢাকায় তেলের চাহিদা বেড়ে গেছে। বেশ কিছু পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে
হরমুজ প্রণালি সংকটের প্রভাব: ঢাকায় তেলের চাহিদা বেড়েছে, পাম্পে ঝুলছে ‘তেল নেই’

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক উত্তেজনার জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে সম্ভাব্য বিঘ্নের আশঙ্কা ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাংলাদেশের জ্বালানি বাজারেও দেখা যাচ্ছে। রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল ও গাড়িচালকদের মধ্যে আগাম সতর্কতার অংশ হিসেবে ট্যাংক ভর্তি করে রাখার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে হঠাৎ করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের চাহিদা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সন্ধ্যার পর রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, কিছু ফিলিং স্টেশন আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে অনেক গাড়িচালক তেল নিতে এসে ফিরে যাচ্ছেন। ঢাকার নীলক্ষেত ও নিউমার্কেট এলাকার সবকটি তেলের পাম্প বন্ধ থাকতে দেখা গেছে। নীলক্ষেত মোড়ের “বন্ধু ফিলিং স্টেশন”-এর এক কর্মী মিলন জানান, বিকেল থেকেই তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। তিনি বলেন, “বিকেল থেকেই অনেক গাড়ি আসছিল। আমাদের কাছে যত তেল ছিল প্রায় সব শেষ হয়ে গেছে। নতুন গাড়ি (সরবরাহ) না আসলে আর তেল দিতে পারবো না।” ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের উল্টা পাশের একটি ফিলিং স্টেশনের বিক্রেতাও একই ধরনের তথ্য দেন। তিনি বলেন, পাম্পে আপাতত তেল নেই। তার ভাষায়, “রাত ৯টার দিকে তেলবাহী গাড়ি আসার কথা। তখন তেল আসলে আবার বিক্রি শুরু করবো। এখন তেল না থাকায় পাম্প বন্ধ রেখেছি।” এদিকে তেল নিতে এসে পাম্প বন্ধ পেয়ে অনেক চালককে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে। মোস্তফা আহমেদ নামে এক গাড়িচালক বলেন, “তেল নিতে আসছিলাম, এসে দেখি পাম্প বন্ধ। পাম্পের লোক বলছে তেল নেই। সরকার বলছে তেল আসছে, আবার পাম্প বলছে নেই। ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে কি না সেটাও সন্দেহ হচ্ছে।” আরেকজন মোটরসাইকেলচালক রাসেল মিয়া বলেন, “যুদ্ধের কারণে যদি সংকট হয়, তাহলে এখনই তো তেল শেষ হয়ে যাওয়ার কথা না। বুঝতে পারছি না দাম বাড়ানোর জন্য পাম্প বন্ধ রাখছে কি না।” তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে এখনই বড় ধরনের জ্বালানি সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মার্চ মাসের তথ্য অনুযায়ী জানিয়েছে, দেশে বর্তমানে— ডিজেল প্রায় ১৪ দিনের পেট্রোল প্রায় ১৫–১৭ দিনের অকটেন প্রায় ২৮ দিনের ফার্নেস অয়েল প্রায় ৯৩ দিনের জেট ফুয়েল প্রায় ৫৫ দিনের মজুত রয়েছে। সরকারি হিসেবে পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সরকার। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে এবং তার প্রভাব বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ইরানে মার্কিন হামলায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার শঙ্কা
ইরানে মার্কিন হামলার শঙ্কা: তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী,ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ইরানের ওপর সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন বিশ্ব অর্থনীতি ও খোদ মার্কিন জনগণের পকেটে তার নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রমাণিত তেলের খনি ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন রুটের নিয়ন্ত্রণ থাকা ইরানের ওপর আক্রমণ করলে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে, যা ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ট্রাম্পের ‘১০ দিনের সময়সীমা’র হুঁশিয়ারিতে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের দাম চড়চড় করে বাড়ছে। বুধবার বিশ্ববাজারের মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৭০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম গত এক মাসে ব্যারেল প্রতি ১০ ডলার বেড়েছে। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আবাসন খাতের মন্দার কারণে রিপাবলিকানরা এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বাড়লে তা সাধারণ ভোটারদের ক্ষুব্ধ করে তুলতে পারে। ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরে তেলের দাম কমার যে কৃতিত্ব দাবি করে আসছিলেন, ইরান সংঘাত তা নস্যাৎ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ইরানের হাতে সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ। মাত্র ২১ মাইল প্রশস্ত এই সরু জলপথ দিয়ে প্রতিদিন ২ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হয়, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে বিশ্বের বাকি অংশে তেল পাঠানোর একমাত্র পথ এটি। সম্প্রতি ইরান সামরিক মহড়ার জন্য এই পথ আংশিক বন্ধ করায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৫ ডলার বেড়ে গিয়েছিল। টর্টয়েজ ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও ম্যানেজার রব থামেল সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদী অচলাবস্থা তৈরি হলে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমনটি হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, তেল রফতানি থেকে আয়ের ওপর ইরান সরকার নিজেই নির্ভরশীল। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ২ দশমিক ৯২ ডলার। তেলের দাম ব্যারেলে ৮০ ডলার হলে পেট্রোলের দাম ৩ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। যদিও ট্রাম্প তেলের দাম কমার কারণে সাধারণ মানুষের বছরে ১০০ থেকে ২০০ ডলার সাশ্রয় হয়েছে বলে দাবি করেন, কিন্তু তার আরোপিত শুল্কের কারণে প্রতিটি মার্কিন পরিবারকে গড়ে ১ হাজার ডলার বাড়তি কর গুনতে হচ্ছে। জ্বালানি বিশেষজ্ঞ টুটল বলেন, কম দামে পেট্রোল পাওয়াটা আরামদায়ক ছিল, কিন্তু দাম এখন ধীরে ধীরে আমাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নির্বাচনের ঠিক আগে তেলের দাম বাড়লে মার্কিনীদের অর্থনৈতিক অসন্তোষ আরও চরম আকার ধারণ করবে। ওপেক-এর তথ্যমতে, ইরান প্রতিদিন গড়ে ৩২ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্ব উৎপাদনের ৪ শতাংশ। বিপুল নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান বড় ছাড় দিয়ে তেল রফতানি অব্যাহত রেখেছে। এখন ট্রাম্পের একটি সামরিক পদক্ষেপ যদি এই সরবরাহকে বাধাগ্রস্ত করে, তবে তার ফলাফল ইরানের চেয়েও ট্রাম্পের নিজের দেশের ভোটারদের কাছে বেশি তিক্ত হতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0