Brand logo light
বাংলাদেশ

বাংলাদেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে, অকটেন হয় ২৫ শতাংশ

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন প্ল্যান্ট
সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন প্ল্যান্ট

বিবিসি বাংলা: দেশের চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোলই উৎপাদন হয় সিলেটে। আর অকটেন হয় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের আওতাধিন দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারিতে গ্যাসের সাথে পাওয়া কনডেনসেট থেকে পেট্রোল, অকটেন ছাড়াও ডিজেল, কেরোসিন ও এলপিজি উৎপাদন হয়।

জানা যায়, সিলেটের বিভিন্ন গ্যাস ফিল্ড থেকে গ্যাসের সাথে কনডেনসেট (উপজাত) পাওয়া যায় তা থেকেই উৎপাদন হয় পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল কেরোসিন ও কিছু এলপিজি।বাংলাদেশের মূল চাহিদার ৫০ শতাংশ পেট্রোল, ২০/২৫ শতাংশ অকটেন উৎপাদন হয়।

সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি ফ্যাকচুনেশন প্ল্যান্ট রয়েছে। এগুলোর প্রতিদিন সাড়ে ৭ হাজার বারেল উপজাত প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। দেশে গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় ৪ হাজার ৫০০ ব্যারেলের মতো কনডেনসেট বরাদ্ধ পাচ্ছে। এ কনডেনসেট থেকে ৬০০ ব্যারেল অকটেন, ৩ হাজার ৪৫০ ব্যারেল পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল কেরোসিন ও কিছু ডিজেল উৎপাদন হয়।

বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ডিজেলের। অথচ অনেক পাম্পে ডিজেল থাকলেও টান পড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের। ডিজেল বাংলাদেশ প্রায় পুরোটাই আমদানি করে। অন্যদিকে বাংলাদেশে নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে পাওয়া কনডেনসেট থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার ব্যারেল পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করছে।

বাংলাদেশে তেলের মজুদ এবং উৎপাদন সক্ষমতা মিলিয়ে পেট্রোল অকটেনের এমন সংকট হওয়ার কথা নয়। কারণ বাংলাদেশে পেট্রোল ও অকটেনের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থা রয়েছে।

সিলেটের গ্যাসক্ষেত্রগুলোয় গ্যাসের সঙ্গে যে কনডেনসেট (গ্যাস উৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে পাওয়া তরল হাইড্রোকার্বন) পাওয়া যায়, সেটি প্রক্রিয়াজাত করে বাংলাদেশ পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদার একটা বড় অংশ উৎপাদন করে।

বাংলাদেশে বছরে পেট্রোলের চাহিদা চার লাখ ৬২ হাজার টন ও অকটেনের চাহিদা চার লাখ ১৫ হাজার টন। বাংলাদেশে নিজস্ব উৎপাদন ও ক্রুড অয়েল থেকে ইস্টার্ন রিফাইনারি পরিশোধন করে পেট্রোল আমদানির প্রয়োজন হয় না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে উৎপাদিত কনডেনসেট থেকে দুই লাখ মেট্রিক টনেরও বেশি, অর্থাৎ মোট চাহিদার প্রায় অর্ধেক পেট্রোল উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া অকটেনও হয়েছে মোট চাহিদার চাহিদার প্রায় চারভাগের একভাগ।

এ বিবেচনায় বিশ্ববাজার থেকে তেল আমদানি পুরো বন্ধ হয়ে গেলেও বাংলাদেশে এই মুহূর্তে পেট্রোল ও অকটেনের দিক থেকে একেবারে জ্বালানিশূন্য হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই।

এরমধ্যে পেট্রোবাংলার কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্টে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশীয় কনডেনসেট প্রক্রিয়াকরণ করে প্রায় এক লাখ ১৬ হাজার ৬৬২ মেট্রিকটন পেট্রোল এবং ৫৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিকটন অকটেন উৎপাদন করেছে।

ইরান যুদ্ধ এবং তেলের মজুদ নিয়ে নানা খবরে আতঙ্ক থেকেই পেট্রোল ও অকটেনের অস্বাভাবিক চাহিদা তৈরি করেছে।

উৎপাদন কোথায় কতটুকু


বাংলাদেশের নিজস্ব কনডেনসেট থেকে পেট্রোল ও অকটেন উৎপাদন করে সরকারি কোম্পানি সিলেট গ্যাস ফিল্ডের দুটি প্ল্যান্ট এবং চারটি বেসরকারি রিফাইনারি।

দেশের নিজস্ব গ্যাসক্ষেত্র থেকে আসা কনডেনসেট থেকে সবচেয়ে বেশি পেট্রোল ও অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল এবং অল্প পরিমাণ এলপিজি উৎপাদন করে হবিগঞ্জ অবস্থিত সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেডের (এসজিএফএল) ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ও ক্যাটালাইটিক রিফর্মিং ইউনিট বা সিআরইউ।

হবিগঞ্জের প্ল্যান্টে বর্তমানে প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বিভাজন করে ৬শ ব্যারেলের (৭৪ মেট্রিকটন) মতো অকটেন, তিন হাজার ৪৫০ ব্যারেল বা ৪২০ মেট্রিকটন পেট্রোল, ১৫০ ব্যারেল বা ২০ মেট্রিকটন ডিজেল ও ১শ ব্যারেল বা ১৩ মেট্রিকটন কেরোসিন এবং ১৭ ব্যারেল বা ১.৫ মেট্রিকটন এলপিজি উৎপাদন হচ্ছে।

এসজিএফএল এর লিকুইড পেট্রোলিয়াম মার্কেটিং বিভাগের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী জীবন শান্তি সরকার জানান, এসজিএফএল এর প্ল্যান্ট দেশীয় কনডেনসেট থেকে দৈনিক চার হাজার ব্যারেলের বেশি পেট্রোল এবং অকটেন উৎপাদন করছে।

এই তেল দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার ৩৩-৩৫ শতাংশ এবং অকটেনের চাহিদার ৭-৮ শতাংশ, কেরোসিনের চাহিদার ৭ শতাংশ এবং ডিজেলের চাহিদার ০.২ শতাংশ পূরণ করতে পারে।

বাংলাদেশে সিলেট গ্যাসফিল্ডসের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট ছাড়াও চারটি বেসরকারি রিফাইনারি দেশীয় কনডেনসেট থেকে প্রক্রিয়াজাত করে পেট্রোল অকটেন, কেরোসিন ও ডিজেল উৎপাদন করে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে পেট্রোলের আমদানি করা প্রয়োজন হয় না।

"দেশীয় যে উৎপাদিত কনডেনসেট সেটি থেকে দেশের মোট পেট্রোলের চাহিদার প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ পূরণ হচ্ছে। আর বাকিটা ইআরএল (ইস্টার্ন রিফাইনারি লি.) তারা ক্রুড অয়েল থেকে এবং প্রাইভেট যারা আছে তারা ইমপোর্টেড কনডেনসেট থেকে পেট্রোলের চাহিদা পূরণ করছে। "

অকটেনের চাহিদা কতটা পূরণ হয় সে হিসেব দিয়ে মি. সরকার জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিপিসি প্রায় ৬২ শতাংশ অকটেন উৎপাদন করেছে, বাকি চাহিদা দেশীয়ভাবে পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

নিজস্ব কনডেনসেট থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি তেল উৎপাদন করে সিলেট গ্যাস ফিল্ড।

সিলেটের দুটি প্ল্যান্টে দৈনিক সাড়ে সাত হাজার ব্যারেল কনডেনসেট প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে গ্যাসের উৎপাদন ও কনডেনসেট উৎপাদন কমে গিয়ে এখন প্রতিদিন সাড়ে চার হাজার ব্যারেল কনডেনসেট বরাদ্দ পায় সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্র্যাকশনেশন প্ল্যান্ট।

ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সংকট সৃষ্টির পর পেট্রোবাংলার নির্দেশনা অনুযায়ী হবিগঞ্জ সিআরইউতে দৈনিক অকটেন উৎপাদন ১শ ব্যারেল বৃদ্ধি করে ৭শ ব্যারেল উৎপাদন করা হচ্ছে এবং সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে সাতদিন লরিতে তের সরবরাহ করা হচ্ছে।

হবিগঞ্জে উৎপাদিত পেট্রোল-অকটেন সিলেট অঞ্চল এবং রংপুর, পার্বতীপুর ও বাঘাবাড়ি এলাকায় সরবরাহ করা হয়।

পেট্রোল-অকটেনের এত চাহিদা কেন


বর্তমানে দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সংকটের মূল কারণ অতিরিক্ত চাহিদা। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এবং ক্রেতাদেরও অনেকে অবৈধ মজুদ করার চেষ্টা করছে, প্রয়োজন ছাড়াও বেশি কিনছেন অনেকে।

সরকার বলছে, স্বাভাবিক চাহিদা পূরণের জন্য বাংলাদেশে প্রয়োজনীয় মজুদ ও তেল আমদানি করা হচ্ছে। মে মাস পর্যন্ত মজুদ সব ধরনের তেলের মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতি জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে গ্রাহকদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না কেনার আহ্বান জানিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পাম্পে সবার হিমশিম খেতে হচ্ছে বলেও জানায় পাম্প মালিকরা।

বৃহত্তর ময়মনসিংহ পেট্রোলপাম্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনে মজুত করার কারণে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

"প্রতিদিন আমি ৫-৬ হাজার লিটার তেল বিক্রি করতাম। পেট্রোল দুই হাজার লিটার আর ডিজেল তিন হাজার লিটার। এখন আমার সেই ডিমান্ড হয়ে গেছে ২০ হাজার- ৩০ হাজার লিটার। সবাই তার গাড়ির তেলের ট্যাংক ফুল করতে চাচ্ছে। আগে যেখানে দুই লিটার তিন লিটার তেল নিত, এখন ৫-১০ লিটার কিনছে। একারণে একটা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে।"

পেট্রোল অকটেনের মজুত এবং উৎপাদন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে পেট্রোল অকটেনের এই চাহিদা অস্বাভাবিক।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশে আইইউবির উপাচার্য অধাপক ম তামিম বলেন, বাংলাদেশে কনডেনসেটের উৎপাদনও কমেছে।

"রশিদপুর হবিগঞ্জ, বিবিয়ানা সিলেটের কয়েকটি ফিল্ড থেকে কনডেনসেট আসে। বিবিয়ানার উৎপাদন ১২শ ১৩শ মিলিয়ন থেকে ৮শ-৯শ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে গেছে। সুতরাং আমাদের নিজস্ব সরবরাহ থেকে পেট্রোলটা মোটামুটি মেটানো যাবে। তবে অকটেন ডেফিনেটলি আমদানি করতে হবে।"

"আমরা জানলাম আগামী মাসের জন্য অকটেন যা প্রয়োজন তার দ্বিগুণ আসছে। সুতরাং গাড়ির লাইন আমরা যেটা দেখছি এটা ডেফেনেটলি প্যানিক পারচেজ।

তবে বাজারে বর্তমানে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা সরবরাহ ঘাটতির কারণে নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বরং ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি ও তেলের বাজার নিয়ে উদ্বেগের কারণে সাধারণ মানুষ এবং কিছু ব্যবসায়ীর মধ্যে অতিরিক্ত কেনাকাটার প্রবণতা তৈরি হয়েছে।

পেট্রোলপাম্প মালিকদের মতে, আগে যেখানে প্রতিদিন কয়েক হাজার লিটার জ্বালানি বিক্রি হতো, এখন সেই চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করছেন, ফলে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের নিজস্ব উৎপাদন দিয়ে পেট্রোলের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা সম্ভব হলেও অকটেনের ক্ষেত্রে কিছুটা আমদানির প্রয়োজন রয়েছে। তবে বাজারে যে দীর্ঘ লাইন ও অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে, তা মূলত ‘প্যানিক পারচেজিং’-এর ফল।

সরকার জানিয়েছে, মে মাস পর্যন্ত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং স্বাভাবিক সরবরাহ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ

View more
সেলিনা বেগম
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়া দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগম সাময়িক বরখাস্ত

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক সেলিনা বেগমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও কেন্দ্রীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৪ মে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও খেলোয়াড়দের দেওয়া অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা-২০১৮ অনুযায়ী সেলিনা বেগমের বিরুদ্ধে কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ধারা ৪৪(৬) অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল টুর্নামেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে মাঠে উপস্থিত থাকলেও শেষ পর্যন্ত খেলায় অংশ নিতে পারেনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দল। এ ঘটনায় শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের অসহযোগিতা ও দায়িত্ব অবহেলাকে দায়ী করেন খেলোয়াড়রা। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে গত ১৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ফুটবল দলের সদস্যরা সেলিনা বেগমকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্তের দাবিতে লিখিত আবেদন দেন। পরে প্রশাসন বিষয়টি তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৭, ২০২৬ 0
সিআইডি

অনলাইন জুয়ার ১১৬ ওয়েবসাইট শনাক্ত, বন্ধে বিটিআরসিকে তালিকা দিল সিআইডি

রাষ্ট্রীয় ব্যাংকের টাকায় ‘জিএমের রাজকীয় অন্দরমহল’: অগ্রণী ব্যাংকে নীতিমালা ভেঙে বিলাসবহুল আবাসনের অভিযোগ

অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি

অগ্রণী ব্যাংক ভোলা জোনে দুর্নীতির অভিযোগ: অনিয়ম ধরায় বদলি, পদোন্নতি পেলেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা

ইভা গ্রেফতার
বরিশালে ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল চক্র : আইনজীবীর মামলায় ইভা গ্রেফতার

 বরিশাল অফিস :   বরিশালে সংঘবদ্ধ ‘হানি ট্র্যাপ’ ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে দায়ের হওয়া এক মামলায় তাজরিন জাহান ইভা নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলাটি করেছেন বরিশাল জজ কোর্টের আইনজীবী এসএম তৌহিদুর রহমান সোহেল। মঙ্গলবার (১৩ মে ২০২৬) বরিশালের সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হলে আদালত সেটি আমলে নিয়ে কোতোয়ালী মডেল থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে জিআর-৩১৬/২০২৬ নম্বরে নথিভুক্ত হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্তরা একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্য। তারা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কথিত সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে মানহানি, ব্ল্যাকমেইল ও অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলে দাবি করেছেন বাদী। যাদের আসামি করা হয়েছে মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে উজিরপুর উপজেলার গুঠিয়া যাত্রকাঠা বৈরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা তাজরিন জাহান ইভাকে (৩৭)। এছাড়া বানারীপাড়া উপজেলার ডাকবাংলা রোড এলাকার সাইফুল ইসলাম (৪২), মো. আসাদ (৫৭), মো. ফিরোজ (৪৭) এবং মারিয়া বেগমকে (২৬) আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও ১০ থেকে ১২ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ‘পরিকল্পিত মানহানি ও ডিজিটাল অপপ্রচার’ মামলার এজাহারে আইনজীবী সোহেল উল্লেখ করেন, প্রধান আসামি তাজরিন জাহান ইভা ও অপর আসামি সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয়ে তার চেম্বারে আইনি পরামর্শ নিতে যেতেন। সেই সূত্র ধরে পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে একটি চক্র তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিত অপপ্রচার চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৮ ও ৯ মে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর ভিডিও ও বক্তব্য প্রচার করা হয়। সেখানে তার অনুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সংগৃহীত ছবি ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, প্রচারিত ভিডিও ও কনটেন্টে তাজরিন জাহান ইভা নিজেকে আইনজীবী সোহেলের স্ত্রী দাবি করেছেন, যা বাদীর মতে “সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত”। ‘তিন লাখ টাকা চাঁদা দাবির’ অভিযোগ বাদী আইনজীবী সোহেলের অভিযোগ, মানহানিকর কনটেন্ট সরিয়ে নিতে অনুরোধ করা হলে অভিযুক্তরা তার কাছে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে আরও আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালী মডেল থানাকে জানানো হলে পুলিশ আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়। অভিযানে গ্রেফতার ইভা মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্টিমারঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিহির চন্দ্র দাসের নেতৃত্বে বুধবার গভীর রাতে সদর রোড এলাকা থেকে তাজরিন জাহান ইভাকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আসামিপক্ষের বক্তব্য মেলেনি অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইল ও সাইবার অপরাধের নতুন উদ্বেগ আইনজীবী ও সাইবার অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পরিচয় বা ভুয়া তথ্যকে কেন্দ্র করে ব্ল্যাকমেইল ও মানহানির ঘটনা দেশে বাড়ছে। বিশেষ করে অনুমতি ছাড়া ছবি ব্যবহার, বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি এবং অনলাইন চাঁদাবাজি এখন সাইবার অপরাধের নতুন মাত্রা তৈরি করেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার ডিজিটাল আলামত, ভিডিও কনটেন্টের উৎস এবং সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের তথ্য বিশ্লেষণ করে পুরো চক্র শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৫, ২০২৬ 0
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী

পরিবেশ অধিদপ্তরের ১৯তম গ্রেডের কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার সম্পদ

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি নির্বাচন: সভাপতি খোকন, সম্পাদক মোহাম্মদ আলী

ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

অধ্যাপক আমির হোসেন
যৌন হয়রানির অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়নি, এর মধ্যেই জাবিপ্রবির ভিসি ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়ার নিয়োগ উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। কারণ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) তার বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী এ নিয়োগ কার্যকর হবে। বর্তমানে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। সম্প্রতি তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হন। তবে তার এই নিয়োগের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—যে শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি, মানসিক নির্যাতন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন, তাকে কীভাবে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসানো হলো? শিক্ষার্থীদের অভিযোগে কী ছিল ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, অশালীন মন্তব্য এবং মানসিক চাপ সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগপত্রে শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, ক্লাস চলাকালে তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পোশাক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নিয়ে মন্তব্য করতেন। নারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার এবং তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটূক্তির ঘটনাও সেখানে উল্লেখ করা হয়। কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, গবেষণা কার্যক্রমে নিরুৎসাহিত করা, নম্বর প্রদানে বৈষম্য সৃষ্টি এবং মতের অমিল হলে একাডেমিক চাপ প্রয়োগের ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিভাগের সহকর্মী শিক্ষকদের সম্পর্কেও তিনি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতেন, যা বিভাগের শিক্ষাবান্ধব পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তদন্ত কমিটি হলেও শেষ হয়নি অনুসন্ধান শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি প্রাথমিক তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক করা হয় আইবিএ’র অধ্যাপক আইরীন আক্তারকে। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসলিমা নাহার। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র বলছে, কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছিল। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও সেই তদন্ত শেষ হয়নি এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিবেদনও প্রকাশ করা হয়নি। এ অবস্থায় ড. আমির হোসেন ভূঁইয়াকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে তদন্ত প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে। ‘অমীমাংসিত অভিযোগ’ নিয়েই প্রশাসনিক পদোন্নতি? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা ও শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কোনো শিক্ষক বা প্রশাসকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তদন্তাধীন থাকলে সাধারণত তাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্বে না দেওয়ার অলিখিত নীতি অনুসরণ করা হয়। তাদের ভাষ্য, “তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই এমন নিয়োগ বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনায় একটি নেতিবাচক বার্তা দিতে পারে।” তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। নৈতিকতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন বিতর্ক বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যৌন হয়রানির অভিযোগ, প্রশাসনিক প্রভাব এবং তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযোগ তদন্তে বিলম্ব এবং একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির পদোন্নতি বা নিয়োগ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জবাবদিহি কাঠামোকে দুর্বল করে। নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, এমন ঘটনায় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। কারণ, অভিযোগের কার্যকর নিষ্পত্তি না হলে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই তার উপাচার্য নিয়োগ দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় নৈতিকতা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১৪, ২০২৬ 0
বাউফলের নিখোঁজ ৪ স্কুলছাত্রী চার দিন পর গাজীপুর থেকে উদ্ধার

পটুয়াখালীর বাউফলের নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী গাজীপুর থেকে উদ্ধার

তারেক রহমান

ইসির ৪৯৩ কোটি টাকার সার্ভার স্টেশন প্রকল্প ফেরত, এক ভবনে সব সরকারি সেবা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

মোবাইল টাওয়ার

মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ: বুয়েটের মাধ্যমে গবেষণা প্রতিবেদন চাইল হাইকোর্ট

অর্থনীতি

করপোরেট ভ্যাট ফাঁকির নেটওয়ার্কে বিপুল রাজস্ব ঘাটতি, চাপ বাড়ছে সাধারণ করদাতার ওপর

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১২, ২০২৬ 0




অপরাধ

মো. রুস্তুম গাজী (৬০)

গলাচিপায় শশুরের ধর্ষনে পুত্রবধুর গর্ভধারন, সন্তান জন্মের পর নবজাতক অপহরণ—শ্বশুরসহ ২ জন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৮, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0