Brand logo light

ঝালকাঠি

নির্মাণ শেষের ৬ মাস পরও হস্তান্তর হয়নি ভবন, কক্ষ সংকটে দুর্ভোগে রাজাপুরের ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার ৯১ নম্বর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় ছয় মাস আগে। কিন্তু নির্মাণে একাধিক ত্রুটির অভিযোগে এখনো ভবনটি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। ফলে নতুন ভবন তালাবদ্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে পাঠ নিচ্ছে পুরোনো জরাজীর্ণ ভবনের মাত্র তিনটি কক্ষে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক রয়েছেন। অথচ পাঁচটি শ্রেণির পাঠদান চালাতে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্র তিনটি কক্ষ। এর মধ্যে একটি কক্ষ অফিস হিসেবে নির্ধারিত থাকলেও কক্ষ সংকটের কারণে সেখানে নিয়মিত ক্লাস নিতে হচ্ছে। বাকি দুই কক্ষে একসঙ্গে দুটি করে শ্রেণির পাঠদান চলছে। শিক্ষকদের ভাষ্য, একই কক্ষে একাধিক শ্রেণির পাঠদান শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে। একজন শিক্ষক ক্লাস নেওয়ার সময় অন্য শিক্ষককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে যেমন সময় নষ্ট হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মনোযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৪) প্রকল্পের আওতায় ৭১ লাখ ৬৫ হাজার ৮০ টাকা ব্যয়ে তিন কক্ষবিশিষ্ট একতলা ভবন নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স টোয়াইস কনস্ট্রাকশন। পরে কাজটি হাতবদল হয়ে মেসার্স নির্ণয় এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৪ সালের ২৪ মার্চ কাজ শুরু হয়ে ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে নির্মাণ শেষ হলেও ভবনটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি বলে দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিলরুবা আক্তারী বলেন, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। নিম্নমানের কাঠ ব্যবহারের কারণে কয়েকটি দরজা বেঁকে গেছে এবং দরজা খোলা-বন্ধেও সমস্যা হচ্ছে। এসব ত্রুটি সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত ভবন গ্রহণ করা সম্ভব নয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই মান নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি ছিল। তাদের দাবি, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ভবনে অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ফলে নতুন ভবন নির্মিত হলেও শিক্ষার্থীরা এখনো গাদাগাদি করে পুরোনো ভবনে পাঠ নিতে বাধ্য হচ্ছে। যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার বাপ্পি কুণ্ডু। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ভবন বুঝে না নেওয়ায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আক্তার হোসেন জানান, নির্মাণকাজে ত্রুটি থাকার কারণেই প্রধান শিক্ষক ভবন গ্রহণ করছেন না বলে তিনি জেনেছেন। রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, ভবন হস্তান্তরের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে আগেই চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশ্ন রয়ে গেছে একটি সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ভবন শেষ হওয়ার ছয় মাস পরও কেন ব্যবহার করা যাচ্ছে না? নির্মাণে যদি ত্রুটি থেকেই থাকে, তবে কাজ চলাকালীন তদারকি কতটা কার্যকর ছিল? আর যদি কাজ চুক্তি অনুযায়ী সম্পন্ন হয়ে থাকে, তাহলে হস্তান্তর প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন আটকে থাকার দায় কার? এদিকে প্রশাসনিক জটিলতার ভার বইতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের, যাদের জন্য নির্মিত নতুন ভবন এখনো কেবল তালাবদ্ধ একটি অবকাঠামো।

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২৬, ২০২৬ 0
সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তা সুজন
সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তা সুজনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদের অভিযোগ, এলাকায় তোলপাড়

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার এক সময়ের আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সন্তান থেকে অল্প সময়ের ব্যবধানে বিপুল সম্পদের মালিক বনে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা সমবায় ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে। তার আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দৃশ্যমান সম্পদের অসামঞ্জস্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, নলছিটি উপজেলার নাঙ্গুলি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওহাব মল্লিক ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। তার ছেলে নাজমুল ইসলাম সুজন কয়েক বছর আগে সমবায় ব্যাংকে চাকরি পান। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে তিনি চাকরিটি লাভ করেন। গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে আসা বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, চাকরিতে যোগদানের পর থেকেই সুজনের আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন হতে থাকে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সমবায় ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৮ সালে সুজন তার নানা বাড়ির পাশেই বাবার নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি বাড়ি ক্রয় করেন। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি কর ফাঁকি দিতে দলিলে প্রকৃত মূল্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া ২০২১ সালে একই এলাকায় আরও একটি জমি কেনার পর সেখানে বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বেতনের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য খুঁজে পাওয়া কঠিন। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, বরিশাল, ঢাকা ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় সুজনের নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকার গুঞ্জন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি নথি বা প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি। এদিকে পারিবারিক বিরোধ নিয়েও এলাকায় আলোচনা রয়েছে। প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুজনের মায়ের দায়ের করা একটি মামলাকে কেন্দ্র করে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে, যা স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন সরকারি সমবায় ব্যাংক কর্মকর্তার স্বল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। তাদের মতে, আয়-ব্যয়ের হিসাব, সম্পদের উৎস এবং ব্যাংকের ঋণ কার্যক্রমে কোনো অনিয়ম হয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা উচিত। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাজমুল ইসলাম সুজন। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তিহীন। জমি কিনেছে আমার বাবা। এছাড়া জমি ক্রয়ের সময় ঋণ নেওয়া হয়েছে।”

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৩, ২০২৬ 0
ঝালকাঠির পুরাতন পৌর গোরস্থান পরিষ্কার করল ‘প্রত্যয় তরুণ সংঘ’
ঝালকাঠির পুরাতন পৌর গোরস্থান পরিষ্কার করল ‘প্রত্যয় তরুণ সংঘ’ | সম্প্রীতি ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত

হাসনাইন তালুকদার দিবস,ঝালকাঠি:  ঝালকাঠির পুরাতন পৌর গোরস্থানের জঙ্গল ও আগাছা পরিষ্কার করে মানবিক উদ্যোগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘প্রত্যয় তরুণ সংঘ’। শুক্রবার (২২ মে) সকাল থেকে সংগঠনটির সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন। উদ্যোগটিতে সংগঠনের সনাতন ধর্মাবলম্বী সদস্যরাও অংশ নেন। স্থানীয়রা এটিকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক ঐক্যের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সংগঠনের সদস্যরা বলেন, গোরস্থান শুধু মৃত ব্যক্তিদের চিরনিদ্রার স্থান নয়, এটি মানুষের আবেগ, সম্মান ও মানবিক দায়িত্ববোধেরও প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে থাকা গোরস্থানটি পরিষ্কার করার মাধ্যমে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার পরিচয় তুলে ধরতে চেয়েছেন তারা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। তাদের ভাষ্য, তরুণদের এমন মানবিক ও সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড সমাজে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করে। প্রত্যয় তরুণ সংঘের কর্মকর্তা ও সদস্যরা ঝালকাঠি পৌর কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, পৌর এলাকার কবরস্থানগুলো নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতি মাসে অন্তত একবার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও সমাজকল্যাণমূলক ও জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২২, ২০২৬ 0
ঝালকাঠির সারেংগল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতিতে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

হাসনাইন তালুকদার দিবস,ঝালকাঠি: ঝালকাঠির কেওড়া ইউনিয়নের “সারেংগল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি” ঘিরে উঠেছে অর্থ আত্মসাত, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর অভিযোগ। সমিতির সভাপতি শেখ মজিবরের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তদন্ত দাবি করেছেন সদস্যরা। অভিযোগের পক্ষে ৮০ জনের বেশি সদস্য স্বাক্ষর করে ঝালকাঠি জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে ৪৯ ধারায় তদন্তের আবেদন জমা দিয়েছেন। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, সমিতির সভাপতি শেখ মজিবর এলাকায় “জ্বীনের বাদশা” নামেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির কার্যালয় ব্যবহার করে প্রতি শুক্রবার সেখানে তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুঁকের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। চলতি বছরের শুরুতে সমিতির সদস্য নম্বর ৪৯২-এর সদস্য মো. ইলিয়াস হোসেন সদস্যদের পক্ষে জেলা সমবায় কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন। ওই আবেদনে সমিতির আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানানো হয়। এরপর গত ১০ মে সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীন মৃধা স্বাক্ষরিত আরও একটি আবেদন জেলা সমবায় কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা পড়ে। সেখানে সদস্যদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা, সমিতির কার্যালয় ও নথিপত্র উদ্ধার এবং নিয়ম অনুযায়ী নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। অচল সমিতি, কার্যালয়ে তাবিজ বাণিজ্যের অভিযোগ সরেজমিনে সারেংগল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির কার্যালয়টি সভাপতির বাড়ির ভেতরে অবস্থিত। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সমিতির কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে আছে। অভিযোগ রয়েছে, সমিতির অফিসে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের পরিবর্তে প্রতি শুক্রবার ঝাড়ফুঁক, জ্বীন চালান ও তাবিজ বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হয়। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়ে শেখ মজিবর বলেন, “এই অভিযোগকে আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি না, বিষয়টি আমার কাছে কিছুই না।” সদস্যদের অভিযোগ: হিসাব নেই, নির্বাচন নেই সারেংগল বাজার এলাকায় সমিতির সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই সমিতির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সদস্য আবু সুফিয়ান মিন্টু, খাদেমুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন বাবুল, শাহীন মৃধা ও ইলিয়াস হোসেনসহ একাধিক সদস্য অভিযোগ করেন, সভাপতি শেখ মজিবর কোনো ধরনের স্বচ্ছ হিসাব উপস্থাপন ছাড়াই সমিতির কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও বিধি অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন না করে কাগজে-কলমে নিজের স্ত্রী মোসা. নাছিমা বেগমকে সভাপতি দেখিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অভিযোগকারী সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সমিতির নামে লিজ নেওয়া রাস্তার পাশের কিছু আমড়া গাছের ফল বিক্রিকে কেন্দ্র করে বিরোধ তৈরি হয়। পরে বিষয়টি থানা পর্যন্ত গড়ায় এবং স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এরপর নিজের অবস্থান শক্ত করতে শেখ মজিবর সমিতির সদস্য সচিব হিসেবে শাহীন মৃধা এবং কোষাধ্যক্ষ হিসেবে হাসান মাহামুদ রিন্টুকে দায়িত্ব দিলেও তাদের কাছে কোনো নথিপত্র বা কার্যকর দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সদস্যদের দাবি, নানা গড়িমসির মাধ্যমে কমিটির মেয়াদ শেষ করা হলেও কোনো আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তের আশ্বাস জেলা সমবায় কর্মকর্তার এ বিষয়ে ঝালকাঠি জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগপত্র হাতে পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, সমিতির কার্যক্রম সচল করতে নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২২, ২০২৬ 0
আওয়ামী দোসর খ্যাত শিপলু কর্মকার
ঝালকাঠি এলজিইডির শতকোটি টাকার টেন্ডার বিতর্কে আওয়ামী দোসর খ্যাত শিপলু কর্মকার : কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ

বরিশাল অফিস :   স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ঝালকাঠি জেলার শতকোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার মূল্যায়ন নিয়ে অনিয়ম, দীর্ঘসূত্রিতা ও কমিশন বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী দোসর খ্যাত সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে বিলম্বিত করে পছন্দসই ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিতে মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। যদিও তাকে সম্প্রতি বরিশাল এলজিইডিতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে, তবে এখনো তিনি ঝালকাঠিতেই দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ঝুলে থাকা ১২টি টেন্ডার ঝালকাঠি এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে জেলার প্রায় ৩০টি গ্রুপের টেন্ডারের মধ্যে অধিকাংশের মূল্যায়ন শেষ হলেও এখনো ১২টি টেন্ডারের মূল্যায়ন সম্পন্ন হয়নি। এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে— আইবিআরপি প্রকল্পের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ জেপি (ঝালকাঠি-পিরোজপুর) প্রকল্প ভিআরআরপি গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন বিডিআইআরডব্লিউএসপি প্রকল্প বরিশাল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প সাইক্লোন আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ অবকাঠামো পুনর্বাসন প্রকল্প (সিএএফডিআরআইআরপি) প্রায় ১০০ কোটি টাকার এসব প্রকল্পের দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৬ জানুয়ারি ২০২৬। অভিযোগ রয়েছে, টেন্ডার মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যের কারণে তিন মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এনওএ জারি, কার্যাদেশ আটকে এদিকে ১৮টি গ্রুপের টেন্ডারের মূল্যায়ন শেষে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড (এনওএ) জারি করা হলেও এখনো কোনো কার্যাদেশে স্বাক্ষর করেননি ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম সাহাবুদ্দিন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় প্রশাসনিকভাবে সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে। পিপিআর বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এলজিইডি সূত্র বলছে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) বিধি ৪৮ অনুযায়ী প্রকিউরমেন্ট প্রসেসিং ও অনুমোদন কার্যক্রম চার সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু শিপলু কর্মকারের দায়িত্বে থাকা টেন্ডারগুলোতে সেই সময়সীমা বহু আগেই অতিক্রম করেছে। ঠিকাদারদের অভিযোগ, ১২টি গার্ডার ব্রিজের টেন্ডারে অভিজ্ঞতার স্থানে অন্য ধরনের কাজের সনদ গ্রহণ করে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানকে যোগ্য ঘোষণা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অন্যদের বিভিন্ন অজুহাতে অযোগ্য ঘোষণা করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে শিপলু কর্মকার একক প্রভাব বিস্তার করছেন এবং পুরো প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। “কমিশন ছাড়া কাজ সম্ভব নয়” নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, এনওএ জারি থেকে শুরু করে কার্যাদেশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কমিশন ছাড়া কাজ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাদের ভাষ্য, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালককে কমিশন দিতে হবে—এমন কথা বলেও অর্থ দাবি করা হয়েছে। মূল্যায়নে বিলম্বের কারণে বেশ কয়েকটি প্যাকেজের টেন্ডারের কার্যকারিতা মেয়াদও শেষ হয়ে গেছে। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ এলজিইডি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে ঝালকাঠিতে যোগদানের পর থেকেই শিপলু কর্মকার টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ রয়েছে, মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় তিনি ছাড়া অন্য কাউকে কার্যত সম্পৃক্ত রাখা হয়নি। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, ঝালকাঠির প্রভাবশালী ঠিকাদার সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে। এই সিন্ডিকেটের নেপথ্যে আওয়ামী লীগের সময়কার প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করেন শিপলু কর্মকার। আগৈলঝাড়া ও ভোলায়ও ছিল বিতর্ক এলজিইডির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি বিতর্কের মুখে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন প্রভাবশালী রাজনৈতিক বলয়ের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে অনুগত ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়া হতো। পরবর্তীতে ভোলা সদর উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে স্থানীয় রাজনৈতিক পরিবারের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলেও অভিযোগ রয়েছে। সেখানেও ঠিকাদার সিন্ডিকেট ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। “অদক্ষ ও অর্থলোভী কর্মকর্তা” এলজিইডির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বলেন, “শিপলু কর্মকারের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, কাজের তদারকিতে ঘাটতি এবং সিনিয়র কর্মকর্তাদের অবমূল্যায়নের মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।” তৎকালীন ভোলা জেলার দায়িত্বশীল এক প্রকৌশলীর ভাষ্য, “তিনি মূলত অদক্ষ ও অর্থলোভী কর্মকর্তা। ক্ষমতাসীনদের কাছাকাছি থেকে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করেছেন।” এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের একজন প্রকল্প পরিচালকও অভিযোগের সুরে বলেন, “আওয়ামী সরকারের সময় গড়ে ওঠা বড় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।” আরেকজন নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, “শিপলু কর্মকার একজন চরম বিতর্কিত প্রকৌশলী। ঠিকাদারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং কৌশলে অর্থ আদায়ই তার মূল লক্ষ্য।” বদলি নিয়েও প্রশ্ন সম্প্রতি বরিশাল বিভাগীয় শহরের নির্বাহী প্রকৌশল কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে তার পদায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এলজিইডির একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, বিতর্কিত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় পদায়ন করায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, বরিশালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় দক্ষ, অভিজ্ঞ ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন ছিল। শিপলু কর্মকার যা বললেন সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শিপলু কর্মকার। তিনি বলেন, “এসব কাজের এস্টিমেট ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগের। আমি যোগদানের পর টেন্ডারগুলো আহ্বান করায় একটি সিন্ডিকেটের আক্রোশের শিকার হয়েছি। তারা সমঝোতার মাধ্যমে ব্রিজের কাজ নিতে চেয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “২০২৫ সালের পিপিআর অনুযায়ী কাউকে কাজ দেওয়ার সুযোগ নেই। মূল্যায়নের সময়সীমা ১৫০ দিন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্রে কারিগরি আপত্তি থাকায় মূল্যায়নে বিলম্ব হয়েছে। আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে চূড়ান্ত মূল্যায়ন শেষ হবে।” বদলির বিষয়ে তিনি বলেন, “শুনেছি আমাকে বরিশালে বদলি করা হয়েছে। তবে এখনো অফিসিয়াল চিঠি হাতে পাইনি। আমার বদলির সঙ্গে এই টেন্ডারের কোনো সম্পর্ক নেই।” প্রশাসনের অবস্থান ঝালকাঠি এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জি এম সাহাবুদ্দিন বলেন, “মূল্যায়নের পুরো দায়িত্ব সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলীর। তিনি বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন।” তিনি আরও জানান, “সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসকের সহায়তা চাওয়া হবে। একই সঙ্গে মিডিয়ার উপস্থিতিতে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চিন্তাভাবনা চলছে, যাতে কোনো সন্দেহ বা দ্বিধা না থাকে।” অন্যদিকে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ঝালকাঠি জেলা থেকে ত্রুটিযুক্ত কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংশোধন শেষে পুনরায় প্রধান কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকিউরমেন্ট ইউনিটের যাচাই শেষে তা আবার জেলায় ফেরত পাঠানো হবে। এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে বলে তিনি দাবি করেন। প্রশ্নের মুখে স্বচ্ছতা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন, ঝালকাঠির টেন্ডার প্রক্রিয়া ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের মতে, শতকোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দীর্ঘসূত্রিতা, মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক এবং কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২২, ২০২৬ 0
রাজাপুর ডাকবাংলো
রাজাপুরে ডাকবাংলোয় ওসির দখলে, স্থানীয়দের ক্ষোভ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুরে জেলা পরিষদের ডাকবাংলো ব্যবহার করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বসবাস করছেন—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভারত থেকে আসা ধর্মীয় মেহমানদের আবাসনের সংকট তৈরি হওয়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাজাপুর থানায় যোগ দেন ওসি সুজন বিশ্বাস। যোগদানের পর তিনি থানার সরকারি বাসভবনে না উঠে জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় অবস্থান নেন। এর আগে রাজাপুর থানার ওসিরা সাধারণত থানার ভেতরে নির্ধারিত সরকারি ভবনেই বসবাস করতেন। অভিযোগ রয়েছে, বর্তমানে ডাকবাংলো ব্যবহারের কারণে সাধারণ মানুষের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, ডাকবাংলোর প্রধান ফটকও অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ রাখা হচ্ছে। গত শুক্রবার ভারতের জৌনপুর থেকে তিনজন আলেম ধর্মীয় প্রচারণার উদ্দেশ্যে রাজাপুরে আসেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর তারা সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভাড়া পরিশোধ করে ওই ডাকবাংলোতেই অবস্থান করতেন। তবে এবার ওসির অবস্থানের কারণে সেখানে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। একজন স্থানীয় ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বলেন, প্রতিবছর জৌনপুরের আলেমরা এ এলাকায় আসেন এবং সাধারণত দুই দিন ডাকবাংলোতে অবস্থান করেন। কিন্তু এবার উপযুক্ত আবাসনের ব্যবস্থা করা না যাওয়ায় স্থানীয়রা বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। ডাকবাংলোর কেয়ারটেকার মো. মানিক তালুকদার জানান, ভবনটি ফাঁকা থাকায় কয়েক দিন আগে ওসি সেখানে ওঠেন। বর্তমানে প্রধান ফটক তালাবদ্ধ রাখা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী বলেন, থানার ভেতরে ওসির নির্ধারিত বাসভবনে সংস্কারকাজ চলছে। কাজ শেষ হলে তিনি ডাকবাংলো ছেড়ে দেবেন। এ বিষয়ে ওসি সুজন বিশ্বাস বলেন, থানার ভেতরে ওসিদের থাকার মতো মানসম্মত ভবন বর্তমানে নেই। আগের ভবনটি পরিত্যক্ত ও বসবাসের অনুপযোগী হওয়ায় বাধ্য হয়েই তিনি ডাকবাংলোয় অবস্থান করছেন। তবে স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, সরকারি আবাসন সংকটের সমাধান জনসাধারণের ব্যবহারের স্থাপনা দখল করে হওয়া উচিত নয়। দ্রুত ডাকবাংলোটি সবার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।  

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ১১, ২০২৬ 0
ঝালকাঠির পালবাড়িতে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ
ঝালকাঠির পালবাড়িতে নিয়মবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ, ঝুঁকিতে মাদ্রাসা ভবন

 ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির পালবাড়িতে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়ম বহির্ভুত সেমি পাকা ঘড় নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে। একই সাথে অপরিকল্পিত কাজের জন্য পার্শবর্তী একটি মাদ্রাসার ভবন ঝুকিরমুখে পরেছে। ঝালকাঠির বিশিষ্ট্য ব্যাবসায়ী শরীফ ফ্লাওয়ার এন্ড ফুড প্রডাক্ট এর সত্বাধিকারী সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. কামাল শরিফ ঐ মাদ্রাসাটি তার নিজের ভবনে পরিচালনা করেন। নির্মাণাধীন বিল্ডিংয়ের পাশে থাকা কামাল শরীফের ভবনের দেয়াল সংযোগ করে পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়ম না মেনে সেমিপাকা বিল্ডিংয়ের কাজ বন্ধের জন্য পৌরসভার প্রশাসক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।  অভিযোগকারী কামাল শরীফ মুঠোফোনে বলেন, 'আমার বিল্ডিং পৌরসভার সকল নিয়ম মেনে তৈরি করেছি। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে এতিমদের মাদ্রাসা পরিচালনা করা হচ্ছে। তাহার উত্তর পাশে একটি বিল্ডিং উত্তোলন কাজ চলতেছে। তারা অবৈধভাবে আমার বিল্ডিং এর দেয়াল ব্যবহার করেছে। অতিদ্রুত কাজ বন্ধ করার দাবী জানাই। এবিষয়ে অভিযুক্তরা বলেন, 'আমরা পাশে জমি পাবো তাই এমনটা করেছি।'

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৭, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে ডা. অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু: তদন্তের দাবি
ঝালকাঠিতে ডা. অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যু: তদন্তের দাবি

বরিশাল অফিস :    ঝালকাঠিতে এক শিশু বিশেষজ্ঞের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে একটি নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছে তার পরিবার। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসক ডা. অসীম কুমার সাহার দেওয়া চিকিৎসার পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। যদিও এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয় বলে দাবি করছেন স্থানীয় অনেকেই। তাদের মতে, অতীতেও একাধিকবার এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঝালকাঠি ও নলছিটি এলাকায় শিশু বিশেষজ্ঞের অভাব থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে ওই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। তবে তার আচরণ, রোগীর কথা মনোযোগ দিয়ে না শোনা এবং যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়া ওষুধ দেওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ   এক অভিভাবক জানান, তার নিজের সন্তানও একবার ওই চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ সেবনের পর আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা আরও অনেকেই জানিয়েছেন। এদিকে  প্রকাশিত একটি সংবাদ প্রতিবেদনেও শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি সামনে আসে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তবে অভিযোগকারীদের দাবি, এতকিছুর পরও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক এবং যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। তারা মনে করেন, চিকিৎসকের দায়িত্ব রোগীর জীবন রক্ষা করা—অবহেলার কারণে তা বিপন্ন করা নয়। এ বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ সচেতন মহল। তারা দ্রুত তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ
ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ

বরিশাল অফিস :  শিশু অতিক্ষ হালদার। পিতা অনিমেষ হালদার। মাতা নিভা হালদার।গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার রাধানগর গ্রামে।২১ এপ্রিল বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ অসীম কুমার সাহার নিকট ঝালকাঠীর চেম্বারে চিকিৎসা সেবা নেন।  অসীম কুমার সাহার চিকিৎসা নেয়ার পরে শিশু অতিক্ষ হালদারের অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করান।৩ মে দুপুর সাড়ে ১২ টায় ১৮ মাস বয়সের সময় অসিম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মুত্যুর কোলো ঢলে পরেন অতিক্ষ হালদার। পরিবারের অভিযোগ শিশু অতিক্ষ হালদারের পরিবারের অভিযোগ ডাক্তার অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় অতিক্ষ হালদার মারা গেছে।তারা বলেন আর কোন শিশু যেন অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মারা না যায়। ফেসবুকের এক পোস্টে গোপাল মিস্ত্রী এই অভিযোগ করেন।  এছাড়া প্রণব হালদার তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেন, ডাক্তার অসীম সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।" . " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার  বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।" জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে  হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে  আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।"  "সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।" ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।"  ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা   মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে  টা কে শেষ করে দিল। ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি দাবী  প্রদীপ হাওলাদার এক পোস্টে " বরিশাল শিশু বিভাগীয় প্রধান (প্রাক্তন) ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই। প্রদীপ হাওলাদার আরেক পোস্টে লিখেন "আমার ভাগ্নার হত্যাকারী, অধ্যাপক ডা: অসিম কুমার সাহা  ও বিভাগীয় প্রধান, শিশু (প্রাক্তন)শেরে -ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাডপাতাল বরিশাল দৃস্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।" মানুষ মারার কারিগর অসীম কুমার  সাহা! শিশু অতিক্ষের মামা।প্রদীপ হাওলাদার ফেসবুকে সর্বশেষ পোস্টে লিখেন" ডাক্তার অসীম কুমার  সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।" . " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার  বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।" জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে  হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে  আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।"  "সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।" ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।"  ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন  দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা   মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে  টা কে শেষ করে দিল। গল্প থেমে যায় হাসপাতালের বিছানায়  পিরোজপুরের একটি সাধারণ পরিবার। ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর হাসি-আনন্দে ভরে থাকত ঘর। কিন্তু কয়েক দিনের অসুস্থতা, তারপর চিকিৎসা—শেষ পর্যন্ত সেই গল্প থেমে যায় ঢাকার একটি হাসপাতালের বিছানায়। পরিবারের অভিযোগ, এটি শুধু একটি মৃত্যু নয়—এটি একটি “ভুল চিকিৎসার ফল”। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি, আর স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ঠিক কী ঘটেছিল? অসুস্থতা থেকে মৃত্যু  পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি প্রথমে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়। ঝালকাঠিতে  ডাঃ অসীম কুমার সাহা নামে এক শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন তারা। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার অংশ হিসেবে শিশুটিকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। স্বজনদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরে ঢাকায় নেওয়া হয়। গত ৩ মে ২০২৬, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে—এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। “একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্নের অবসান” নিহত শিশুর মামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন— “একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।” আরেক স্বজনের ভাষায়, সন্তানের মরদেহ কোলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা “পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাদায়ক মুহূর্ত”। পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধান্তই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অসীম কুমার সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ ও বিচার দাবি করছেন অনেকে। চিকিৎসা অবহেলা—কীভাবে নির্ধারিত হয় দায়? স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ প্রমাণ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া। কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কিনা, তা নির্ধারণে রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ইতিহাস, ব্যবহৃত ওষুধের ধরন, ডোজ, রোগের প্রকৃতি এবং চিকিৎসা প্রটোকল—সবকিছু বিশ্লেষণ করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রেই জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গের পেছনে গুরুতর সংক্রমণ লুকিয়ে থাকতে পারে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। আবার ভুল ডোজ বা অনুপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ করলে তা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে। জবাবদিহিতার প্রশ্ন বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে— শিশুটির মৃত্যু কি প্রতিরোধযোগ্য ছিল? চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি ছিল কি? নাকি এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাগত জটিলতা? একটি অসমাপ্ত গল্প একটি পরিবারের জন্য এটি কেবল একটি খবর নয়—এটি তাদের জীবনের স্থায়ী ক্ষত। একদিকে স্বজনদের বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে অনিশ্চিত প্রশ্ন—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি শিশুর অসমাপ্ত জীবন। এখন নজর তদন্তের দিকে। কারণ সত্য উদঘাটনই নির্ধারণ করবে—এটি কি চিকিৎসা অবহেলা, নাকি এক অনিবার্য ট্র্যাজেডি।  ডাঃ অসীম কুমার সাহার বক্তব্য এ ব্যাপারে ডাঃ অসীম কুমার সাহা জানান,আমার মনে পড়তেছেনা।রোগীর কাগজপত্র দিন।বললেতো হবেনা।আমি রোগীর অবস্থা খারাপ তাই হয়তো ঢাকায় রেফার্ড করছি।তিনি এও বলেন রোগীর হয়তো রোগটাই চিন্থিত করতে পারি নাই।তাই ঢাকায় পাঠিয়েছি।তিনি বলেন কাগজ পত্র না দেখে বলতে পারবোনা বিস্তারিত।

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৫, ২০২৬ 0
মো. জাহিদুল ইসলাম
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বালুবোঝাই ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে চালকের মৃত্যু

মো. আমিনুল ইসলাম : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় বালুবোঝাই একটি ট্রলি থেকে ছিটকে পড়ে মো. জাহিদুল ইসলাম (৩০) নামে এক চালকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকাল আটটার দিকে উপজেলার পশ্চিম ছিটকি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জাহিদুল ইসলাম কাঁঠালিয়া উপজেলার আওরাবুনিয়া গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মো. ইউনুস হাওলাদারের ছেলে। স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, জাহিদুল একটি বালুবোঝাই ট্রলি নিয়ে পশ্চিম ছিটকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে যান। সেখানে ট্রলিটি ঘোরানোর সময় তিনি পিছনের গিয়ারে নিয়ে পেছাতে থাকেন। এ সময় ট্রলির একটি চাকা বালুর মধ্যে দেবে যায়। এর ফলে ট্রলির সামনের অংশ হঠাৎ উপরের দিকে উঠে গেলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পেছনের দিকে ছিটকে পড়েন। এতে বিদ্যালয়ের গেটের সঙ্গে তার মাথার পেছনের অংশে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই অজ্ঞান হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাজাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে, কাঁঠালিয়া থানার ওসি আবু নাসের রায়হান বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
ঝালকাঠির রাজাপুরে খাল খননে সড়ক ধস
ঝালকাঠির রাজাপুরে খাল খননে সড়ক ধস, বর্ষায় বিচ্ছিন্নতার শঙ্কা,ভোগান্তি

মো. নাঈম হাসান ঈমন, ঝালকাঠি : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার তুলাতলা এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ পিচঢালা সড়কে ধস নেমেছে। এতে স্থানীয়দের চলাচলে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং আসন্ন বর্ষা মৌসুমে পুরো যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খালের পাড়ঘেঁষা সড়কের একাংশ ধসে পড়ায় যান চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী, ইউনিয়ন পরিষদের সেবা নিতে আসা মানুষ এবং জরুরি সেবার যানবাহন—যেমন ফায়ার সার্ভিস—চলাচলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় প্রায় ২৪ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। গত ২২ মার্চ এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান এমপি। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খননকাজ শুরু করলে তুলাতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, খাল খননের সময় কোনো ধরনের সঠিক কারিগরি পরিকল্পনা অনুসরণ করা হয়নি। ভেকু মেশিন দিয়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে অতিরিক্ত গভীর করে মাটি কাটায় সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে খালের উত্তর পাশ খাড়া রেখে মাটি সরিয়ে ফেলা হলেও দক্ষিণ পাশে ঢাল রেখে খনন করা হয়েছে, যা ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে। স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল সরদার বলেন, “আমরা বারবার নিষেধ করলেও ভেকু চালক আমাদের কথা শোনেননি। তার মনগড়া খননের কারণে এখন আমাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।” সত্তোরোর্ধ ইউসুফ মোল্লা বলেন, “আমার সামনেই রাস্তার পাশ খাড়া করে কাটা হয়েছে। সতর্ক করার পরও তারা শোনেনি, এখন রাস্তা ভেঙে পড়েছে।” তবে ভেকু মেশিনের মালিক ও মঠবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারেক দাবি করেন, “প্রথমে সামান্য ফাটল ছিল। পরে এসে দেখি বড় ধস হয়েছে। আমার ধারণা, এতে দুষ্কৃতিকারীদের হাত থাকতে পারে।” উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “ঘটনার পরপরই আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। খাল খননের কারণে সড়কের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। খনন শেষ হলে মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, “খাল খননে সংশ্লিষ্টদের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এলজিইডি কর্তৃপক্ষ দ্রুত মেরামতের আশ্বাস দিয়েছে।” উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলায় ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তুলাতলা এলাকার খননকাজও এ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। তবে স্থানীয়দের দাবি, দায়সারা সংস্কার নয়—স্থায়ী ও টেকসই পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে সড়কটি নিরাপদ করা হোক। অন্যথায় বর্ষা মৌসুমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কা রয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৯, ২০২৬ 0
অবশেষে কাটলো অচলাবস্থা, নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব নিলেন রিজভী আহমেদ
নলছিটিতে ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব নিলেন সহকারী কমিশনার রিজভী আহমেদ সবুজ

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় প্রশাসনিক স্থবিরতার অবসান হয়েছে। অবশেষে  দ্বায়িত্ব হস্তান্তর করলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজ। নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থবির হয়ে পড়া সরকারি সেবাগুলো আবার সচল হতে শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিয়মিত ইউএনও না থাকায় জন্ম নিবন্ধন সংশোধন, পৌরসভার নাগরিক সনদ প্রদান এবং ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়নমূলক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সেবা ব্যাহত হচ্ছিল। এতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। দায়িত্ব হস্তান্তর জটিলতার কারণে এই অচলাবস্থা তৈরি হলেও, নতুন করে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরতে শুরু করেছে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে রিজভী আহমেদ সবুজ দায়িত্ব নেওয়ায় এসব সেবা এখন আবার উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের কার্যক্রমে ইউএনও দপ্তর গুরুত্বপূর্ণ সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনার নানা কার্যক্রম এই দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ফলে এই পদটি দীর্ঘদিন শূন্য থাকায় সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছিল। আরও পড়ুন:  নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা: প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের অভিযোগ   নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর ঝুলে থাকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনিক এই শূন্যতা পূরণ হওয়ায় নলছিটির সেবাব্যবস্থা আরও গতিশীল হবে এবং সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৭, ২০২৬ 0
রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও
রাজাপুরে খাল পুনঃখননে অনিয়ম: পরিদর্শনে অসঙ্গতি পেলেন ইউএনও

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় খাল পুনঃখনন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে গিয়ে কাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে তিনি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। উপজেলার আঙ্গারিয়া এলাকায় রাঢ়ি বাড়ির সামনে থেকে শুরু হওয়া খালের বিভিন্ন অংশে ফিতা দিয়ে মাপ নেওয়া হয়। এ সময় নির্ধারিত ৩০ ফুট প্রস্থের পরিবর্তে কোথাও কোথাও ২৬ থেকে ২৮ ফুট পাওয়া যায়। পরিদর্শনে রাজাপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পের ব্যয় ও পরিধি স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির আওতায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিটার খাল পুনঃখননের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টাকা। এছাড়া উপজেলায় মোট ১৩টি খাল খনন ও ৩টি বাঁধ নির্মাণে প্রায় ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪ দশমিক ৮৯ কিলোমিটার খননে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ স্থানীয় কৃষক ও সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের শিডিউল অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খনন না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। তাদের দাবি, খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি অপসারণ করে নালার মতো আকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা প্রকৃত অর্থে খাল পুনঃখনন নয়। একজন কৃষক বলেন, “নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেত। কিন্তু বর্তমান কাজের কারণে কোনো উপকারই হবে না।” তাদের অভিযোগ, খনন কাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু যথাযথ খনন না হওয়ায় একদিকে গাছ হারিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা, অন্যদিকে সেচ সুবিধা ও মাছ চাষের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়েছে। এছাড়া খালের পাড় তির্যকভাবে কাটার কারণে ভেঙে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া পরিদর্শন শেষে ইউএনও রিফাত আরা মৌরি সাংবাদিকদের বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। যেসব স্থানে প্রস্থ কম মনে হয়েছে, সেখানে মাপ নিয়ে ৩০ ফুট পাওয়া যায়নি। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
সেগুফতা মেহনাজ
নলছিটিতে ইউএনও’র দায়িত্ব হস্তান্তর নিয়ে অচলাবস্থা: প্রশাসনিক আদেশ অমান্যের অভিযোগ

ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন :  ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) দায়িত্ব হস্তান্তর ঘিরে তৈরি হয়েছে প্রশাসনিক অচলাবস্থা। বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকার পরও বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি। সাত দিন পেরিয়ে গেলেও দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসনে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি। এদিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের অফিস আদেশও উপেক্ষিত। ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, বরিশাল এর ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের ০৫.১০.০০০০.০০০.০০১.০৫.০০০২.২৬.১১৪ নং স্মারক ও ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয় ২৩ এপ্রিল ২০২৬ তারিখের জারি করা ০৫.১০,৪২০০,০০০.০০৬.০৫.০০০৪.২৫.১২৮ নম্বর স্মারকে এক অফিস আদেশে নলছিটি উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) রিজভী আহমেদ সবুজকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে ইউএনও’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ইউএনও এবং নলছিটির অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সেগুফতা মেহনাজকে নির্দেশ দেওয়া হয় নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দায়িত্বভার বুঝিয়ে দিতে। এই আদেশটি জারি করা হয় বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের ১৯ এপ্রিলের নির্দেশনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান নীতিমালার আলোকে।   সমস্যা কোথায়? নির্দেশনা পরিষ্কার থাকার পরও ৭ দিন পার হয়ে গেছে, কিন্তু দায়িত্ব হস্তান্তর হয়নি। ফলে: প্রশাসনিক কাজকর্মে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, স্থানীয় পর্যায়ে বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে, জেলা প্রশাসন ও বিভাগীয় কমিশনারের আদেশ কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে।   এটা কেন গুরুত্বপূর্ণ? ইউএনও (উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা) একটি উপজেলার প্রশাসনের প্রধান। দায়িত্ব হস্তান্তর না হলে: উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হতে পারে, সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়, আইন-শৃঙ্খলা ও দৈনন্দিন প্রশাসনেও প্রভাব পড়ে।  কী হতে পারে? অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব, ঊর্ধ্বতন নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনীহা ।   আদেশ বাস্তবায়নে বিলম্ব তবে অভিযোগ উঠেছে, নির্দেশনা পাওয়ার পরও সেগুফতা মেহনাজ দায়িত্ব হস্তান্তরে অনীহা দেখাচ্ছেন। ফলে ২৫ এপ্রিল পর্যন্তও আদেশ কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে, যা নিয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। একাধিক সূত্র বলছে, দায়িত্ব হস্তান্তর না হওয়ায় প্রশাসনের ভেতরে “চেইন অব কমান্ড” নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—আদেশ জারির পরও তা বাস্তবায়ন না হওয়া প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য কতটা স্বাভাবিক? মাঠপর্যায়ে প্রভাব নলছিটির বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী ইউএনও না থাকায় তারা নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন না। পৌর এলাকার বাসিন্দা আসলাম বলেন, জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে তিনি ইউএনওকে খুঁজে পাননি। “অফিসে গিয়ে শুনি ইউএনও জেলায় আছেন, কবে আসবেন কেউ বলতে পারে না,” বলেন তিনি। তালতলা গ্রামের বাসিন্দা মফিজুল ইসলাম জানান, জন্মনিবন্ধনের কাজ করতে গিয়ে তিনিও একই সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। “ইউএনও না থাকায় কাজ এগোয় না,” বলেন তিনি। একজন সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “স্থায়ী ইউএনও না থাকলে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।” দীর্ঘদিন ধরে পদ শূন্য নলছিটি উপজেলায় গত কয়েক মাস ধরে ইউএনও পদে স্থায়ী নিয়োগ নেই। এর আগে কয়েকজন কর্মকর্তা স্বল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ ইউএনও প্রশিক্ষণে চলে যাওয়ার পর থেকে পদটি কার্যত শূন্য রয়েছে এবং অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রশাসনের অবস্থান ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সামাল দিতে আপাতত অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। প্রশ্ন ও উদ্বেগ তবে মূল প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—সরকারি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও কেন দায়িত্ব হস্তান্তর বিলম্বিত হচ্ছে? প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি শুধু স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকারিতা নয়, বরং সরকারি নির্দেশনার বাস্তবায়ন ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে। নলছিটির মতো একটি উপজেলায় যেখানে ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে, সেখানে প্রশাসনিক নেতৃত্বে অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হলে জনসেবা আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দ্রুত দায়িত্ব হস্তান্তর ও স্থায়ী ইউএনও নিয়োগের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৫, ২০২৬ 0
তরুণীর মরদেহ উদ্ধার
বরিশালে প্রেমিকের বাসা থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, অভিযুক্ত পলাতক

বরিশাল অফিস :    বাংলাদেশের বরিশাল নগরীতে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি একটি সম্পর্কজনিত বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে নগরীর বগুড়া রোড এলাকায়, অক্সফোর্ড মিশন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশের একটি বাসা থেকে সানজিদা কবির অনিতা (১৯) নামে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত অনিতা কলাপাড়া উপজেলা, পটুয়াখালী-এর বাসিন্দা। তিনি একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযুক্ত হিসেবে যাঁর নাম উঠে এসেছে, সেই মইনুল ইসলাম হিমু (৩০) ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাঁর বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। পুলিশ জানায়, তিনি আগে একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করতেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে পূর্বে পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগ ছিল। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অনিতা ও হিমুর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে তাদের সম্পর্কে অবনতি ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হিমু অনিতাকে বাসায় ডেকে এনে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যান। অভিযুক্তের মা ফাতেমা বেগম জানিয়েছেন, ঘটনার দিন সকালে তিনি অসুস্থতার কারণে বাসার বাইরে ছিলেন। দুপুরে ফিরে এসে দরজা তালাবদ্ধ দেখতে পান। পরে ঘরে প্রবেশ করে বিছানার ওপর অনিতার নিথর দেহ দেখতে পান বলে দাবি করেন তিনি। বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা গেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।” এ ঘটনায় হিমুর মা ফাতেমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৪, ২০২৬ 0
রাজাপুরে খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ
রাজাপুরে খাল খননে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ লুটপাটের অভিযোগ

রাজাপুর : ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং অর্থ লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রকল্পের নামে নামমাত্র কাজ করে বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। উপজেলার সদর এলাকার তুলাতলা এবং আংগারিয়া গ্রামের রাঢ়িবাড়ি খাল খননকে ঘিরে এই অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে, যা প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে। উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের অধীনে মোট ১৩টি খাল খনন এবং ৩টি বাঁধ নির্মাণে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে আলোচিত দুটি খালের ৪.৮৯ কিলোমিটার খনন কাজে ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৫২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ খনন না করে খালের মাঝখান থেকে সামান্য পলি সরিয়ে সরু নালা তৈরি করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি প্রকৃত খাল খনন নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে অর্থ অপচয়ের একটি উদাহরণ। স্থানীয়রা আরও জানান, খনন কাজ শুরুর আগে খালের দুই পাড়ের বহু ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়। খালের পাড় তির্যকভাবে কাটায় তা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে খালটি আবার ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। আংগারিয়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক বলেন, নিয়ম মেনে খাল খনন করা হলে হাজারো কৃষক সেচ সুবিধা পেতেন এবং মাছ চাষের সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় প্রকল্পটি তাদের কোনো বাস্তব উপকারে আসছে না। অন্যদিকে, খাল খনন সমিতির সভাপতি আ. সালাম খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “সরকারি নীতিমালা মেনেই কাজ করা হয়েছে। কিছু স্থানে বসতঘর থাকায় খালের পাড় কাটতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা দপ্তরের নির্দেশনায় করা হয়েছে।” এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা প্রকৌশলী অভিজিৎ মজুমদার বলেন, “কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।” তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
কাঁঠালিয়ায় সরকারি জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ
কাঁঠালিয়ায় সরকারি জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ, প্রশাসনের নির্দেশ অমান্যের দাবি

মো. আমিনুল ইসলাম ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় সরকারি জমি দখল করে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানাযায়, উপজেলার পূর্ব ছিটকি এলাকায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সরকারি রাস্তা ও খালের পাশের জায়গা দখল করে পাকা দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৫০) এর বিরুদ্ধে। শহিদুল ইসলাম স্থানীয় মৃত্যু ফজলুর রহমানের ছেলে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে ভূমি অফিস থেকে তহসিলদার সরজমিন পরিদর্শন করে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তাদের নজরদারি এড়িয়ে রাতের আধারে পাকা স্থাপনা নির্মাণের কাজ করে যাচ্ছে তারা। শহিদুল ইসলামের বড় ভাই সাবেক স্কুল শিক্ষক ফখরুল ইসলাম বাদশা (৬২) স্থাপনা নির্মানে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে। স্থানীয়রা এবস বিষয়ে প্রতিবাদ করলে ভাড়াটে লোকজন দিয়ে তাদের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ রয়েছে শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।  এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম এর বড়ো ভাই ফকরুল ইসলাম বাদশা জানায়, এটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তির দাগের মাথার জমি। এটা আমরা প্রায় চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ বছর যাবৎ ভোগ দখল করে আসছি। ওখানে পুরাতন একটা দোকান আছে,সেখানে আমরা কাজ শুরু করেছিলাম। এখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা তা মেনে নেবো। এ বিষয়ে শহিদুল ইসলাম জানায়, এটা আমাদের দাগের মাথার সম্পত্তি। প্রায় ত্রিশ থেকে চল্লিশ বছর যাবৎ আমরা ভোগ দখল করতেছি। এটা সরকারি জমি হলে আমরা ছেড়ে দিবো।    এ বিষয়ে কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন জানান, অভিযোগ পেয়ে ওখানে ভূমি অফিস থেকে তহসিলদারকে পাঠিয়েছি। তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। ওটা সরাসরি সম্পত্তি হলে খুব তারাতারি তাদেরকে উচ্ছেদ করা হবে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
কাঁঠালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম pic
কাঁঠালিয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

মো. আমিনুল ইসলাম ,ঝালকাঠি : ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলার তাঁরাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় কাঁঠালিয়া সদরের একটি ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. দেলোয়ার হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত এবং দেলোয়ার হোসেন জমাদ্দার। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান ১৯৮৭ সালের ০৩ জানুয়ারি সহকারি শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। যোগদানের পর বিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ গাজীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে বরখাস্ত করান। ১৯৮৮ সালে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, নিয়োগ বানিজ্য, স্কুলের বই, গাছ, আসবাবপত্র, বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি, বিদ্যালয়ের স্বীকৃতিপত্রে টেম্পারিং ও অর্থ আত্মসাৎসহ সীমাহিন অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া বিদ্যালয়ের জমি অন্যত্র বিক্রিতে তিনি পরিচিতির স্বাক্ষর দেন। তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, শহীদুল ইসলাম ১৯৮৮ সালে বিদ্যালয়ে একাধিক সিনিয়র শিক্ষক থাকলেও বিধি ভঙ্গ করে সহকারি শিক্ষক হয়েও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককের দায়িত্ব নেন শহীদুল ইসলাম। এরপর থেকে শুরু হয় তার অপকর্ম। নিজের চাচাতো ভাইকে বিদ্যালয়ের সভাপতি বানিয়ে নিজের মেয়েকে সহকারি গ্রান্থগারিক পদে এবং দুই কর্মচারীকে ২০ লাখ টাকার বিনিয়মে নিয়োগ দেন। বিদ্যালয়ের সাধারণ তহবিল ও এফডিআর এর অর্থ আত্মসাতের করেন। যাহা তদন্তে প্রমানিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের বই, গাছ, আসবাবপত্রসহ বিদ্যালয়ের পুরাতন ঘর বিক্রি করে অর্থ আত্মসাৎ করে যাহা দেশের বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যালয়ের জমিদাতা অহিদুজ্জামান এনায়েত বলেন, তার দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসকসহ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে অভিযোগের বিষয় সত্যতা প্রমানিত হলেও অদৃশ্য কারণে তার অপকর্মের এখন পর্যন্ত কোন বিচার হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলাম খান সম্প্রতি অবসরে যান। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন। বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন । সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষকের কাছে বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলে তিনি তা দিতে পারেনি। এ বিষয়ে জানতে সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামকে মুঠোফোনে জানান, আমি এ বছরের ১০ মার্চ অবসরে যাই। আমাকে হয়রানী করার জন্য এ ধরনের সংবাদ সম্মেলন করছেন। কাঁঠালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মকবুল হোসেন জানান, সভায় সাবেক প্রধান শিক্ষক মো. শহীদুল ইসলামের কাছে বিদ্যালয়ে তার সময়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়। তিনি অগোচালোভাবে উপস্থাপন করেন। সঠিকভাবে উপস্থাপন করার জন্য তাকে সময় দেওয়া হয়েছে।  

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২৩, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নিয়ে বিতর্ক: তিন ফসলি জমি রক্ষায় গ্রামবাসীর প্রতিবাদ
ঝালকাঠিতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট নিয়ে বিতর্ক: তিন ফসলি জমি রক্ষায় গ্রামবাসীর প্রতিবাদ

ঝালকাঠি: ঝালকাঠি পৌরসভার দীর্ঘদিনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানে একটি নতুন সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ১৫১ বছরের পুরোনো এই সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানকে অনেকে স্বাগত জানালেও, প্রস্তাবিত স্থানের কারণে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটি চামটা গ্রামের কুনিয়ারী মৌজায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে অধিকাংশ জমি তিন ফসলি আবাদি। স্থানীয়দের দাবি, এই জমিই তাদের প্রধান জীবিকার উৎস এবং এখানে প্লান্ট নির্মাণ হলে গ্রামের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। গ্রামবাসীরা বলছেন, “উন্নয়নের নামে মানুষের জীবিকা ধ্বংস করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তাদের আশঙ্কা, প্লান্ট চালু হলে বর্জ্য থেকে নির্গত রাসায়নিক ও দুর্গন্ধ আশপাশের জমির উর্বরতা নষ্ট করবে এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগে অপরিকল্পিতভাবে স্থাপিত ইটভাটার কারণে পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন এই প্রকল্প সেই ক্ষতিকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তাদের মতে, একটি কৃষিনির্ভর এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপন পরিকল্পনার ঘাটতিরই ইঙ্গিত দেয়। তারা প্রশ্ন তুলেছেন—যেখানে মানুষ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে, সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি কতটা যুক্তিসঙ্গত? তবে স্থানীয়রা উন্নয়নের বিপক্ষে নন। তারা বিকল্প হিসেবে শহরের উপকণ্ঠে অনাবাদী জমি বা নদীর পাশের ইকো পার্ক এলাকার মতো স্থানে প্লান্ট স্থাপনের প্রস্তাব দিয়েছেন, যেখানে কৃষিজমির ক্ষতি হবে না। গ্রামবাসীদের স্পষ্ট দাবি, প্রকল্পটি বর্তমান স্থান থেকে সরিয়ে পরিবেশবান্ধব ও জনস্বার্থসম্মত কোনো বিকল্প স্থানে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাদের ভাষায়, “কৃষকের জীবিকা ধ্বংস করে কোনো আধুনিক শহর গড়া সম্ভব নয়।”

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২২, ২০২৬ 0
রাজাপুর যুব উন্নয়ন অফিস
রাজাপুর যুব উন্নয়ন অফিসে ৭ বছর অনুপস্থিত থেকেও বেতন—প্রক্সি নিয়োগের অভিযোগ

রাজাপুর: ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসের ক্যাশিয়ার ও অফিস সহায়ক পদের দুই কর্মচারী সাত বছর অনুপস্থিত থেকে প্রক্সি নিয়োগ করে বেতন তুলছেন নিয়মিত। তাদের পরিবর্তে টাকার বিনিময়ে প্রক্সির মাধ্যমে দপ্তরের কার্যক্রম চালাচ্ছেন তারা। অভিযোগ অনুযায়ী, ক্যাশিয়ার আব্দুর রব ও অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. আনোয়ার হোসেন সাত বছর ধরে অফিসে আসেন না। তাদের হয়ে প্রক্সি দিচ্ছেন ঝুমুর নামে এক নারী ও ইসা নামে এক যুবক। মাসে সাত হাজার টাকায় তাদের প্রক্সি নিয়োগ করা হয়।সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রক্সি লোক দিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না। সেবাগ্রহীতারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। ব্যাহত হচ্ছে দাপ্তরিক কাজ । এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানান তারা।অভিযোগ অস্বীকার করে ক্যাশিয়ার আব্দুর রব বলেন, “কর্তৃপক্ষের অনুরোধেই অফিসে যাই না।” কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ার হোসেন অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি দীর্ঘদিন চলাফেরা করতে পারছেন না। তবে তিনি এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ করেন।উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।উপপরিচালক মো. আলাউদ্দিন বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে; প্রক্সির কোনো বিধান নেই।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান নির্যাতনের অভিযোগ
ঝালকাঠিতে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে স্ত্রী-সন্তান নির্যাতনের অভিযোগ

ঝালকাঠি: ঝালকাঠিতে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে তার স্ত্রী ও সন্তানের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত রিয়াছুল আমিন জামাল সিকদার স্থানীয়ভাবে গাবারামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে পরিচিত। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তার স্ত্রী মিসাত জাহান। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে তিনি সনাতন ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মাধ্যমে জামাল সিকদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তবে বিয়ের পর থেকেই তার ওপর যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, স্বামীর চাপে পড়ে বাবার বাড়ি ও আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা এবং চার ভরি স্বর্ণ এনে দিতে বাধ্য হন। মিসাত জাহান আরও বলেন, তাদের বিয়ের কাগজপত্রসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বর্তমানে তার স্বামীর কাছেই রয়েছে। ২০১৩ সালের ৮ নভেম্বর তাদের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে তাকে নিয়মিত শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, একাধিকবার গুরুতর আহত হয়ে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জামাল সিকদারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
Popular post
ফারুকীর সম্পদ কমেছে, তিশার বেড়েছে দ্বিগুণেরও বেশি: সম্পদ বিবরণী ঘিরে আলোচনা

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।

সংসার সামলাতে অটোরিকশা নিয়ে রাস্তায় নেমেছেন রোজিনা

বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।

বাংলাদেশে ঐতিহাসিক নির্বাচন: বিএনপি এগিয়ে, জামায়াতের উত্থান ও তরুণ ভোটারদের প্রভাব

২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

গাজায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনে

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ।  ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী।    ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে,  স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ  বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”

কুড়িগ্রামের তাজু ভাই ২.০: ‘সরকারি রেটে জিলাপি’ প্রশ্নে ভাইরাল এক নির্মাণশ্রমিকের গল্প

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে।  কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে।  কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।  কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি।  মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।

অর্থনীতি

ইসলামী ব্যাংক,

ইসলামী ব্যাংকে আস্থা সংকট কেন কাটছে না?: দেশের বৃহত্তম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংককে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক জুন ২২, ২০২৬ 0




অপরাধ

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো

ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর বিরুদ্ধে ৩০ বিলিয়ন ডলার জালিয়াতি ও অর্থপাচার অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধান

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ২৪, ২০২৬ 0




কৃষি ও জলবায়ু

ধান

শেরপুরে বোরো ধানের দাম কমে লোকসানে কৃষকরা, উৎপাদন খরচও উঠছে না

নিজস্ব প্রতিবেদক মে ৬, ২০২৬ 0