বরিশাল অফিস : শিশু অতিক্ষ হালদার। পিতা অনিমেষ হালদার। মাতা নিভা হালদার।গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার রাধানগর গ্রামে।২১ এপ্রিল বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডাঃ অসীম কুমার সাহার নিকট ঝালকাঠীর চেম্বারে চিকিৎসা সেবা নেন।
অসীম কুমার সাহার চিকিৎসা নেয়ার পরে শিশু অতিক্ষ হালদারের অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবার ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করান।৩ মে দুপুর সাড়ে ১২ টায় ১৮ মাস বয়সের সময় অসিম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মুত্যুর কোলো ঢলে পরেন অতিক্ষ হালদার।
শিশু অতিক্ষ হালদারের পরিবারের অভিযোগ ডাক্তার অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় অতিক্ষ হালদার মারা গেছে।তারা বলেন আর কোন শিশু যেন অসীম কুমার সাহার ভুল চিকিৎসায় মারা না যায়।
ফেসবুকের এক পোস্টে গোপাল মিস্ত্রী এই অভিযোগ করেন। এছাড়া প্রণব হালদার তিনি ফেসবুকের এক পোস্টে লিখেন, ডাক্তার অসীম সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।"
. " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।"
জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।"
"সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।"
ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।"
ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে টা কে শেষ করে দিল।
প্রদীপ হাওলাদার এক পোস্টে " বরিশাল শিশু বিভাগীয় প্রধান (প্রাক্তন) ডা: আসিম কুমার সাহার দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।
প্রদীপ হাওলাদার আরেক পোস্টে লিখেন "আমার ভাগ্নার হত্যাকারী, অধ্যাপক ডা: অসিম কুমার সাহা
ও বিভাগীয় প্রধান, শিশু (প্রাক্তন)শেরে -ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাডপাতাল বরিশাল দৃস্টান্ত মুলক শাস্তি চাই।"
শিশু অতিক্ষের মামা।প্রদীপ হাওলাদার ফেসবুকে সর্বশেষ পোস্টে লিখেন" ডাক্তার অসীম কুমার সাহা ঝালকাঠি উনি একজন মানুষ মারার কারিগর উনি নাকি শিশু বিশেষজ্ঞ ভুল চিকিৎসা দিয়ে। আমার ভাগ্নে টাকে মেরে ফেলল ওনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই ।ডাক্তারকে বলা হয় সৃষ্টিকর্তার রূপ, কিন্তু যখন তারাই জীবনের কারণ হয়ে দাঁড়ায় মৃত্যুর, তখন আর অবশিষ্ট কিছু থাকে না।"
. " ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।"
জ্বর আর কাশি কমাতে গিয়ে হায়ার এন্টিবায়োটিক দিয়ে আজীবনের হাহাকার উপহার দিলেন ডাক্তার অসিম সাহা ঝালকাঠি।"
"সাদা কোটের আড়ালে লুকিয়ে থাকা খুনিদের শাস্তির দাবি জানাই।"
ডাক্তার অসীম সাহার "একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার।"
ঝালকাঠি। জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন ডাক্তার অসীম সাহাকে কঠিন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ব্যবস্থা আনা হোক। ডাক্তার অসীম শাহা মানুষ মারার কারিগর আমার ভাগ্নে টা কে শেষ করে দিল।

পিরোজপুরের একটি সাধারণ পরিবার। ১৮ মাস বয়সী এক শিশুর হাসি-আনন্দে ভরে থাকত ঘর। কিন্তু কয়েক দিনের অসুস্থতা, তারপর চিকিৎসা—শেষ পর্যন্ত সেই গল্প থেমে যায় ঢাকার একটি হাসপাতালের বিছানায়।
পরিবারের অভিযোগ, এটি শুধু একটি মৃত্যু নয়—এটি একটি “ভুল চিকিৎসার ফল”। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বক্তব্য এখনো সামনে আসেনি, আর স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রশ্ন রয়ে গেছে—ঠিক কী ঘটেছিল?
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি প্রথমে জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়। ঝালকাঠিতে ডাঃ অসীম কুমার সাহা নামে এক শিশু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হন তারা। অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসার অংশ হিসেবে শিশুটিকে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, এই ওষুধ প্রয়োগের পর থেকেই শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরে ঢাকায় নেওয়া হয়।
গত ৩ মে ২০২৬, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে—এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহত শিশুর মামা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন—
“একটি ভুল সিদ্ধান্ত, হাজারো স্বপ্ন ভেঙে চুরমার করে দিল। ভুল ওষুধের বোঝায় আজ আমার বোনের পুরো পরিবার নিঃস্ব।”
আরেক স্বজনের ভাষায়, সন্তানের মরদেহ কোলে নেওয়ার অভিজ্ঞতা “পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন ও বেদনাদায়ক মুহূর্ত”।
পরিবারের দাবি, চিকিৎসকের ভুল সিদ্ধান্তই এই মৃত্যুর জন্য দায়ী। তারা অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাঃ অসীম কুমার সাহার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।
পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ক্ষোভ ও বিচার দাবি করছেন অনেকে।
চিকিৎসা অবহেলা—কীভাবে নির্ধারিত হয় দায়?
স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ প্রমাণ করা একটি জটিল প্রক্রিয়া।
কোনো চিকিৎসা সিদ্ধান্ত ভুল ছিল কিনা, তা নির্ধারণে রোগীর পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা ইতিহাস, ব্যবহৃত ওষুধের ধরন, ডোজ, রোগের প্রকৃতি এবং চিকিৎসা প্রটোকল—সবকিছু বিশ্লেষণ করতে হয়।
অনেক ক্ষেত্রেই জ্বর ও কাশির মতো উপসর্গের পেছনে গুরুতর সংক্রমণ লুকিয়ে থাকতে পারে, যেখানে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োজন হতে পারে। আবার ভুল ডোজ বা অনুপযুক্ত ওষুধ প্রয়োগ করলে তা ঝুঁকিপূর্ণও হতে পারে।
বাংলাদেশে চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ নতুন নয়। তবে প্রতিটি ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা গেলে স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
এই ঘটনার ক্ষেত্রেও একই প্রশ্ন সামনে এসেছে—
শিশুটির মৃত্যু কি প্রতিরোধযোগ্য ছিল?
চিকিৎসা পদ্ধতিতে কোনো ত্রুটি ছিল কি?
নাকি এটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাগত জটিলতা?
একটি পরিবারের জন্য এটি কেবল একটি খবর নয়—এটি তাদের জীবনের স্থায়ী ক্ষত।
একদিকে স্বজনদের বুকভাঙা কান্না, অন্যদিকে অনিশ্চিত প্রশ্ন—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে আছে একটি শিশুর অসমাপ্ত জীবন।
এখন নজর তদন্তের দিকে। কারণ সত্য উদঘাটনই নির্ধারণ করবে—এটি কি চিকিৎসা অবহেলা, নাকি এক অনিবার্য ট্র্যাজেডি।
এ ব্যাপারে ডাঃ অসীম কুমার সাহা জানান,আমার মনে পড়তেছেনা।রোগীর কাগজপত্র দিন।বললেতো হবেনা।আমি রোগীর অবস্থা খারাপ তাই হয়তো ঢাকায় রেফার্ড করছি।তিনি এও বলেন রোগীর হয়তো রোগটাই চিন্থিত করতে পারি নাই।তাই ঢাকায় পাঠিয়েছি।তিনি বলেন কাগজ পত্র না দেখে বলতে পারবোনা বিস্তারিত।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের পর সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এক বছরের ব্যবধানে স্বামী ফারুকীর সম্পদ কমলেও স্ত্রী তিশার সম্পদ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রকাশিত তথ্যে উঠে এসেছে এই চিত্র। প্রকাশিত খতিয়ান অনুযায়ী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার সম্পদ এক বছরে অভাবনীয় হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তিশার মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা। ঠিক এক বছর পর, ২০২৫ সালের ৩০ জুন সেই সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৯৯ লাখ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকায়। অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭ হাজার ৬৪১ টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। অন্যদিকে সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক বছরের ব্যবধানে তার সম্পদ কমেছে। ২০২৪ সালের ৩০ জুন তার মোট সম্পদ ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ ৯২ হাজার ২৬ টাকা। ২০২৫ সালের ৩০ জুন তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ১৮ হাজার ২৬ টাকায়। হিসাব অনুযায়ী, এক বছরে তার সম্পদ কমেছে ১১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রধান উপদেষ্টা, উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে। একই সময়ে স্বামী-স্ত্রীর সম্পদে এমন ভিন্নমুখী পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই সাধারণ মানুষের কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় দম্পতি হওয়ায় তাদের এই আয়-ব্যয়ের হিসাব এখন টক অব দ্য কান্ট্রি।
বাসস : বাবা একজন তাঁত শ্রমিক। তিন বোন দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় রোজিনা। অভাব সংসার, তাই এক এতিম যুবকের সাথে বাবা-মা বিয়ে দেন তাকে। বিয়ের পর জন্ম হয় দুই কন্যা সন্তানের। অটোরিকশা চালিয়ে কোন রকম সংসার চালাচ্ছিলেন স্বামী রফিকুল ইসলাম। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুলের এক চোখ সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। আরেকটি চোখ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধীরে ধীরে ওই চোখের দৃষ্টি শক্তিও কমতে থাকে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে অটোরিকশা চালানো। সংসারের উপার্জনক্ষম মানুষটি অচল হয়ে পড়ায় চিকিৎসার খরচ, ঘর ভাড়া ও খাবারের পাশাপাশি মেয়েদের লেখাপড়ার খরচ চালানোই কঠিন হয়ে যায়। দিশেহারা হয়ে পরেন রোজিনা। এক পর্যায়ে মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করে সংসার চালানোর চেস্টা করেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেন না। এমন পরিস্থিতিতে অটোরিকশা চালানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। স্বামী রফিকুলের কাছেই হাতেখড়ি। গ্রামের স্কুলের মাঠে স্বামীর কাছেই অটোরিকশা চালানোর শিক্ষা নেন তিনি। পরে গ্রামের পথে নেমে পড়েন অটোরিকশা নিয়ে। ৫-৬ দিন এভাবে হাত পাকা করে একদিন টাঙ্গাইল শহরে চলে আসেন রোজিনা। এরপর শুরু করেন অটোরিক্সা চালানোর ব্যতিক্রমী জীবন সংগ্রাম। এখন টাঙ্গাইল পৌরসভায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালকদের মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা বেগম। জেলার বাসাইল উপজেলার আইসড়া গ্রামের বাসিন্দা রোজিনা টাঙ্গাইল পৌর শহরের এক প্রান্ত রাবনা বাইপাস থেকে আরেক প্রান্ত বেবিস্ট্যান্ডে যাত্রী আনা নেয়া করেন। যানজটের কারণে শহরে পুরুষ চালকরা যেখানে হিমসিম খায়, সেখানেই বিগত ৫ বছর ধরেই নির্বিঘেœ অটোরিকশা চালাচ্ছেন তিনি। টাঙ্গাইল পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যাায়, টাঙ্গাইল শহরে চলাচলের জন্য ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক ও ৫ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমতি (লাইসেন্স) দেওয়া হয়েছে। যানজট এড়াতে ৪ হাজার ২০০ ইজিবাইক জোড় ও বিজোড় সংখ্যায় দিনে দুই ভাগ করা হয়েছে। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত এক ভাগ এবং বেলা দুইটা থেকে রাত পর্যন্ত আরেক ভাগের ইজিবাইক চলাচল করার নির্দেশনা দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। কিন্তু রোজিনাকে দুই শিফটে চালানোর অনুমতি দিয়েছে পৌরসভা। সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অটোরিকশা নিয়ে যাত্রী ডাকছেন রোজিনা। কলেজ গেট, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, ক্যাপসুল, নিরালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড সর্বত্রই যাত্রী আনানেয়া করেন তিনি। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অন্য অটো চালকদের দাঁড় করতে না দিলেও রোজিনাকে বাঁধা দেননা ট্রাফিক পুলিশ। বলতে গেলে সবাই তার প্রতি সহানুভুতিশীল। ট্রাফিক পুলিশসহ অন্য অটোচালকরাও তাকে সহযোগিতা করেন। রোজিনা বলেন, আমার অটোতে নারী যাত্রীরা খুব কম। তারা মনে করে আমার অটোতে উঠলে দুর্ঘটনায় পড়বে। কিন্তু আমি খুব সাবধানে অটো চালাই। দ্রুত গতিতেও না, আবার একেবারে ধীরগতিতেও না। এখন পর্যন্ত আমি কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়ি নাই। শহরের পুরুষ অটোরিকশা চালকরা আমাকে অনেক সহযোগিতা করে। অটোচালক কাদের মিয়া বলেন, আমাদের শহরে কয়েক হাজার অটো চলাচল করে। তার মধ্যে একমাত্র নারী চালক রোজিনা। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। তাকে আমরা সব সময় সহযোগিতা করি। যাত্রী সাইদ মিয়া বলেন, আমি এ পর্যন্ত ৫-৬ বার রোজিনার অটোতে চড়েছি। তিনি খুব সাবধানে অটো চালান। অন্য পুরুষ অটো চালকের চেয়েও ভালো অটো চালান। নারী সংগঠক সেরাজুম মনিরা বলেন, তিনি অনেক দিন যাবত অটোরিকশা চালাচ্ছেন। আমি রোজিনাকে স্যালুট জানাই। একজন পুরুষের চেয়ে একজন নারী কোনো ভাবেই যে পিছিয়ে নেই, রোজিনা তা প্রমাণ করেছেন। রোজিনা বলেন, অটো চালানোর এই সিদ্ধান্তটি তার জন্য খুব সহজ ছিল না। তিনি বলেন, ৫ ও ১০ বছরের দুই মেয়েকে বাড়িতে রেখে অটোরিকশা নিয়ে সারাদিন রাস্তায় থাকতে হয়। তাদের ভালোভাবে দেখাশোনা করতে পারি না। কিন্তু কি করবো, অভাবের সংসার! এখন ঋণ নিয়ে একটু জমি কিনেছি। প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পের অর্থায়নে প্রশাসন সেখানে ঘর তুলে দিয়েছে। শুরুতে যারা আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করেছে এখন তারাই আমাকে সম্মান করেন। নারীরাও যে কিছু করতে পারে, তা প্রমাণ করেছি। আমার বড় মেয়ে আইসড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ে, ছোট মেয়ে পড়ে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মেয়েদের শিক্ষিত করতে হবে। ধার দেনা শোধ করতে হবে। তাই থেমে গেলো চলবে না। আমি অটোরিকশা চালিয়েই দুই সন্তানকে মানুষ করতে চাই।’ ঘারিন্দা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য বাবুল সরকার বলেন, সরকার রোজিনাকে একটি ঘর নির্মাণ করে দিয়েছে। শুরুতে যারা তাকে নিয়ে নানান কথা বলতো, এখন তার সংকল্প ও মানষিক দৃঢ়তা দেখে থেমে গেছে। আমরা তাকে নিয়ে গর্ব করি। টাঙ্গাইলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, শহরের একমাত্র নারী চালক রোজিনাকে কেউ যেন বিরক্ত করতে না পারে সেদিকে সব সময় নজর রাখে ট্রাফিক পুলিশ। আমরা তাকে সব সময় সহযোগিতা করে আসছি। টাঙ্গাইলের সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহ আলম বলেন, বিষয়টি এখন জানতে পারলাম। ওই নারী এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেন নাই। যদি আমাদের কাছে এসে আবেদন করেন অবশ্যই তাকে আমরা সহযেগিতা করবো, তার পাশে দাঁড়াবো।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে আজ এক ঐতিহাসিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হতে যাচ্ছে যেখানে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক মানচিত্র থেকে কার্যত অনুপস্থিত। বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান এবং কিছু সমীকরণ নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। নির্বাচনের সবচেয়ে বড় নিয়ামক হয়ে দাঁড়িয়েছে আওয়ামী লীগের বিশাল ভোটব্যাংক। দলটির নিয়মিত প্রায় ৪ কোটি ভোটার এখন নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজছেন। সিআরএফ বা বিইপিওএস জরিপ বলছে, এই ভোটারদের প্রায় অর্ধেক বিএনপির দিকে ঝুঁকেছে, যা দলটিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে এগিয়ে দিচ্ছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ আওয়ামী ভোটার জামায়াতে ইসলামীকে বেছে নিতে পারেন বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে দেশজুড়ে সুষম জনসমর্থন থাকা বিএনপি আসন জয়ের ক্ষেত্রে জামায়াতের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে বিএনপির এই সম্ভাব্য জয়ের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা। প্রায় ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় দলের মনোনয়ন না পাওয়া ৯২ জন প্রভাবশালী নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা বিএনপির ১৫ থেকে ৩০টি আসন কমিয়ে দিতে পারে। অন্যদিকে, তরুণ ভোটার বা ‘জেন-জি’ প্রজন্মের বিশাল সমর্থন জামায়াতে ইসলামীর শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের ৪৪ শতাংশ ভোটারই তরুণ, যাদের বড় একটি অংশ প্রথমবার ভোট দিচ্ছেন। এই তরুণরা যদি দলবেঁধে কেন্দ্রে উপস্থিত হন, তবে নির্বাচনী ফলে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। সবশেষে, প্রায় ১৭ থেকে ৩৫ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটার এবং তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে আগামীর সরকার কতটা শক্তিশালী হবে। দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের মূল পূর্বাভাস, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারে এবং জামায়াতে ইসলামী ৮০টির মতো আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। তবে বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব এবং তরুণ ভোটারদের উপস্থিতির ওপর ভিত্তি করে আসন সংখ্যায় বড় ধরনের হেরফের হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় সামরিক ঘাঁটি করার পরিকল্পনা নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ৩৫০ একরের ঘাঁটিটিতে সামরিক বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য থাকতে পারবে। গাজার ‘বোর্ড অব পিস’র নথি পর্যালোচনা করে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান। প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, বোর্ড অব পিসে গাজাকে নিরাপদ করার জন্য ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ) নামে একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। যে স্থানটি ঘাঁটি করার জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে সেখানে আইএসএফের সদস্যরা থাকবে। বোর্ড অব পিসের প্রধান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর সংগঠনটির আংশিক নেতৃত্ব দেবেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারার্ড কুশনার।দ্য গার্ডিয়ান বোর্ড অব পিসের নথি পর্যালোচনা করে জানায়, ধাপে ধাপে একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। সবকিছু শেষ হলে ঘাঁটিটি ১৫ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৫ বর্গমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ঘাঁটিটির চারপাশে ট্রেইলার সংযুক্ত ২৬টি সাঁজোয়া নজরদারি টাওয়ার থাকবে। এছাড়া একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বাংকার ও অস্ত্র রাখার গুদাম থাকবে। পুরো ঘাঁটিটি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখা হবে। সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে দক্ষিণ গাজার একটি শুষ্ক সমতলভূমিতে। সেখানে ইসরায়েলি হামলার চিহ্ন রয়েছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে বিভিন্ন ধাতবের ধ্বংসাবশেষ। ওই এলাকার ভিডিও পর্যালোচনা করেছে দ্য গার্ডিয়ান। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, ঘাঁটি নির্মাণের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আন্তর্জাতিক নির্মাণ কোম্পানিগুলোর একটি ছোট দলকে ইতোমধ্যেই এলাকাটি দেখানো হয়েছে। ওই দলটি দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী। ইন্দোনেশিয়া সরকার গাজায় আট হাজার সেনা সদস্য পাঠানোর জন্য প্রস্তাব দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে বোর্ড অব পিসের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্টের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আরও তিন নেতার ওই বৈঠকে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিল গাজার সাময়িক স্থিতিশীলতার জন্য অস্থায়ীভাবে সামরিক বাহিনী মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। নিরাপত্তা কাউন্সিলই বোর্ড অব পিসের মূল হোতা। গাজার সীমান্ত ও শান্তি প্রণয়নে কাজ করবে আইএসএফ। এছাড়া বেসামরিকদের সুরক্ষা এবং ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে তারা। যদি গাজায় ফের সংঘর্ষ হয়, ইসরায়েল বোমা হামলা চালায় অথবা হামাস হামলা চালায় সেক্ষেত্রে আইএসএফ কি করবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গাজা পুনর্গঠনে ইসরায়েল হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের যে শর্ত দিয়েছে সেটির জন্য আইএসএফ কাজ করবে কিনা তাও স্পষ্ট না। ইতোমধ্যে বোর্ড অব পিসে ২০ এর অধিক দেশ যোগ দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক পরাশক্তি এর থেকে দূরে রয়েছে। জাতিসংঘের অনুমোদন নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সংগঠনটির স্থায়ী নেতৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। রুটজার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আদিল হক বলেন, “বোর্ড অব পিস এক ধরনের আইনি কল্পসত্তা। নামমাত্রভাবে এর নিজস্ব আন্তর্জাতিক আইনগত সত্তা রয়েছে, যা জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলাদা। কিন্তু বাস্তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো ব্যবহারের জন্য একটি ফাঁপা খোলসমাত্র।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা পুনর্গঠনে যে অর্থায়ন ও শাসন কাঠামো হচ্ছে তা অস্বচ্ছ। কয়েকজন ঠিকাদার গার্ডিয়ানকে জানান, গাজায় কাজ করার জন্য মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের প্রায়শ আলোচনা সরকারি ইমেলের বদলে সিগন্যালের মাধ্যমে করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্য মতে, ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্তটি বোর্ড অব পিসের। এতে সহায়তা করছে মার্কিন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঘাঁটিতে তৈরি বাংকার নেটওয়ার্কের মতোন কাজ করবে। প্রতিটি বাংকারের ২৪ মিটারের হবে। উচ্চতা থাকবে আড়াই মিটার। এগুলো এমনভাবে করা হবে যেন সেনা সদস্যরা আশ্রয় নিতে পারে। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের গাজায় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক বা টানেল রয়েছে। সেগুলোর আদলে নেটওয়ার্ক করতে চাওয়া হচ্ছে। পিস অব বোর্ডের নথি পর্যালোচনা করে এমন দাবি করছে গার্ডিয়ান। সংবাদ মাধ্যমটি বলছে, স্থানটির ভূ-ভৌত জরিপ পরিচালনা করবে ঠিকাদাররা। নথির এক অংশে ‘হিউম্যান রেমিয়েনস প্রোটোকল’র কথা বলা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, সন্দেহভাজন মানব অবশিষ্ট বা সাংস্কৃতিক নিদর্শন পাওয়া গেলে অবিলম্বে সেই এলাকায় সব কাজ বন্ধ করতে হবে। চুক্তি কর্মকর্তাকে দিকনির্দেশনার জন্য অবিলম্বে জানাতে হবে। গাজা সিভিল ডিফেন্সের ধারণা, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ রয়েছে। ঘাঁটির জন্য যে স্থানটি বিবেচিত করা হচ্ছে সেটির মালিক কে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে, দক্ষিণ গাজার বেশিরভাগ অংশ বর্তমানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে। জাতিসংঘের অনুমান, যুদ্ধ চলাকালীন ১৯ লাখ ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ফিলিস্তিনের জমিতে সরকারের অনুমতি না নিয়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনকে দখল হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফিলিস্তিনি-কানাডিয়ান আইনজীবী এবং প্রাক্তন শান্তি আলোচক দিয়ানা বুট্টু। তিনি প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “কার অনুমতিতে তারা সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করবে।” বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বোর্ড অব পিসের কথা টানেন। ট্রাম্প প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা সামরিক ঘাঁটির চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “যেমনটি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও মার্কিন সেনা স্থলভাগে যাবে না। আমরা লিক হওয়া নথি নিয়ে আলোচনা করবো না।”
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের প্রত্যন্ত চরাঞ্চল থেকে উঠে এসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে এখন তাইজুল ইসলাম, যিনি অনলাইনে পরিচিত ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। মাত্র একটি ভিডিও—যেখানে তিনি এক দোকানিকে প্রশ্ন করেন, “জিলাপি আজকে কত করে বেচতেছেন সরকারি রেটে?”—এই সরল উপস্থাপনাই তাকে রাতারাতি ভাইরাল করে তোলে। কয়েক ঘণ্টায় ফলোয়ার লাখ ছাড়াল রোববার রাত পর্যন্ত তার ফেসবুক অনুসারী ছিল প্রায় ৩৫ হাজার। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যা থেকে রাতের মধ্যেই তা বেড়ে এক লাখের বেশি হয়ে যায়। ভাইরাল ভিডিওটি ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ লাখবার দেখা হয়েছে। কী ছিল সেই ভিডিওতে? ভিডিওতে দেখা যায়, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর নারায়ণপুর বাজারে দাঁড়িয়ে স্থানীয় ভাষায় তিনি জিলাপির দাম জানতে চান। তার কথাগুলো ছিল একেবারেই সহজ ও গ্রাম্য ভঙ্গিতে— “সাদাডা কত, লালডা কত? সরকারি রেটে বেচতেছেন?” এই সরল প্রশ্নই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। কোথা থেকে উঠে এলেন তাজু ভাই? কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের একটি দুর্গম গ্রামে জন্ম তার। ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত এই অঞ্চলে পৌঁছাতে এখনও কয়েকটি নৌঘাট পার হতে হয়। দারিদ্র্যের কারণে কখনো স্কুলে যাওয়া হয়নি তার। পেশায় তিনি একজন নির্মাণশ্রমিকের সহকারী (হেলপার)। কাজের ফাঁকে ঢাকায় থাকাকালীন মোবাইল ফোনে ভিডিও তৈরি করাই তার শখ। ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাইজুল ইসলামের পরিবারে ছয় ভাই-বোন। তিনি সবার বড়। তার বাবা-মা দুজনই শ্রবণপ্রতিবন্ধী। পরিবার চালাতে তাকে ছোটবেলা থেকেই সংগ্রাম করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “পরিবারের কষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। আমি সাংবাদিক না, কিন্তু আমাদের এলাকায় কেউ আসে না—তাই নিজেরাই ভিডিও বানাই।” ভাইরাল হওয়ার পেছনের উদ্দেশ্য তাইজুলের দাবি, তার ভিডিও শুধুই বিনোদনের জন্য নয়। তিনি চান তার এলাকার অবহেলিত মানুষের কথা প্রশাসনের নজরে আসুক। “আমি চাই চরের মানুষের উন্নয়ন হোক,”—বলছেন তিনি। মিশ্র প্রতিক্রিয়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার সরলতা ও বাস্তবতা তুলে ধরার চেষ্টা প্রশংসা করছেন আবার কেউ তাকে নিয়ে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছেন তবে এসব সমালোচনায় তিনি বিচলিত নন।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রথম দিনেই বড় ধরনের অনুপস্থিতির চিত্র উঠে এসেছে। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে মোট ২৪ হাজার ৭৮৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। একই দিনে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে সাত জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামানের স্বাক্ষরিত পরিসংখ্যানে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। অনুপস্থিতির বিভাজন: কোন বোর্ডে কতজন সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিতি দেখা গেছে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে। সাধারণ শিক্ষা বোর্ড: ১৭,২৩৩ জন অনুপস্থিত মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৪,৪৭৮ জন অনুপস্থিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৩,০৭৩ জন অনুপস্থিত অন্যদিকে, বহিষ্কারের ঘটনাতেও সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে সংখ্যাটি সর্বোচ্চ। মোট সাত জন বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাঁচ জন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের, একজন মাদ্রাসা বোর্ডের এবং একজন কারিগরি বোর্ডের। দেশের ১১ বোর্ডে একযোগে পরীক্ষা শুরু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়, যা শেষ হয় দুপুর ১টায়। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নেয়। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত হয় আলিম পর্যায়ের কোরআন মাজিদ পরীক্ষা এবং কারিগরি বোর্ডে বাংলা-২ (HSC BMT) পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবার মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম/বিএমটি) এবং ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবার নজরদারি জোরদার করেছে। সব বোর্ডে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয়ের মনিটরিং সেল থেকে তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। এছাড়া পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্য বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ—যা পরীক্ষার সময় স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পরীক্ষার প্রথম দিনের এই অনুপস্থিতির হার ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি, চাপ এবং উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সরকারের সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ (নাচোল-গোমস্তাপুর-ভোলাহাট) আসনের ১০টি মসজিদে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ১০টি মসজিদের মধ্যে আটটিই সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমানের নিজ উপজেলা গোমস্তাপুরে হওয়ায় স্থানীয়দের একাংশ বৈষম্যের অভিযোগ তুলেছেন। বরাদ্দ তালিকা পর্যালোচনায় দেখা যায়, বাকি দুটি মসজিদের মধ্যে একটি নাচোল এবং অন্যটি ভোলাহাট উপজেলায়। নাচোলে বরাদ্দ পাওয়া মসজিদটি আবার পৌর জামায়াতের আমির মুনিরুল ইসলামের নিজ গ্রামের বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, একই সংসদীয় এলাকার তিনটি উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে কী নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে এবং কেন একটি উপজেলায় মোট বরাদ্দের ৮০ শতাংশ চলে গেছে। বরাদ্দের চিত্র খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২-এর আওতায় নাচোল, গোমস্তাপুর ও ভোলাহাট উপজেলার ১০টি মসজিদের জন্য মোট ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনে রয়েছে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা। এর মধ্যে গোমস্তাপুর উপজেলায় রয়েছে আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা, যা পুরো আসনের প্রায় অর্ধেক প্রশাসনিক ইউনিট। তবে বরাদ্দের তালিকায় দেখা যায়— গোমস্তাপুর উপজেলায় আটটি মসজিদ রহনপুর পৌরসভার পুরাতন প্রসাদপুর দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ রহনপুর রেলস্টেশন বাজার শাহী জামে মসজিদ নুনগোলা জামে মসজিদ সন্তোষপুর জামে মসজিদ দাঁড়াবাজ গাবতলা জামে মসজিদ দিঘা বাজার জামে মসজিদ পলাশডাঙ্গা জামে মসজিদ কাশিয়াবাড়ি পূর্বপাড়া জামে মসজিদ নাচোল উপজেলায় একটি মুরাদপুর পশ্চিমপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ ভোলাহাট উপজেলায় একটি মধ্য খড়কপুর জামে মসজিদ 'সমতার ভিত্তিতে হলে চিত্র ভিন্ন হতো' স্থানীয় বাসিন্দা ওবায়দুল্লাহর দাবি, প্রশাসনিক ইউনিটের অনুপাতে বরাদ্দ দেওয়া হলে নাচোল ও ভোলাহাটে তিনটি করে এবং গোমস্তাপুরে চারটি মসজিদ বরাদ্দ পাওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, "সমতার ভিত্তিতে বরাদ্দ হলে দুটি পৌরসভার জন্য দুটি এবং প্রতি দুটি ইউনিয়নের জন্য একটি করে মসজিদ বরাদ্দ দেওয়া যেত। সেই হিসাবে নাচোল তিনটি, ভোলাহাট তিনটি এবং গোমস্তাপুর চারটি মসজিদ পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে গোমস্তাপুর পেয়েছে আটটি।" রাজনৈতিক মহলেও প্রশ্ন নাচোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মাজিদুল ইসলাম বলেন, "নাচোলে যে মসজিদে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, সেটি জামায়াতের পৌর আমিরের এলাকায়। এটি বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।" ভোলাহাট উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইয়াজদানি জর্জের ভাষ্য, "উপজেলাভিত্তিক আনুপাতিক বরাদ্দ হওয়া উচিত ছিল। বর্তমান বণ্টন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।" জামায়াত নেতাদের বক্তব্য: 'ভুল হয়েছে' সমালোচনার মুখে স্থানীয় জামায়াত নেতারাও বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্যের ঘাটতির কথা স্বীকার করেছেন। নাচোল উপজেলা জামায়াতের আমির ইয়াকুব আলী বলেন, "আগের বরাদ্দগুলো সমতার ভিত্তিতে হয়েছিল। এবার একটু ভুল হয়েছে। সংসদ সদস্যের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দে সমন্বয় করা হবে।" সংসদ সদস্য যা বলছেন সংসদ সদস্য ড. মু. মিজানুর রহমান বলেন, শুরুতে বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তার ভাষ্য, "তাৎক্ষণিকভাবে একটি তালিকা চাওয়া হয়েছিল। আমার ফাইলে যেসব আবেদন ছিল, সেখান থেকেই তালিকা অনুমোদন দেওয়া হয়। পরে দেখি গোমস্তাপুর উপজেলায় সংখ্যাটা বেশি হয়ে গেছে। পরবর্তী বরাদ্দে উপজেলাভিত্তিক সমতা নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে।" যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে এই বরাদ্দকে ঘিরে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— মসজিদ নির্বাচন ও বরাদ্দের ক্ষেত্রে কী নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে? আবেদনকারীর সংখ্যা, প্রয়োজন নাকি রাজনৈতিক বিবেচনা—কোনটি প্রাধান্য পেয়েছে? একই সংসদীয় এলাকার তিন উপজেলার মধ্যে বরাদ্দ বণ্টনে ভারসাম্য নিশ্চিত করার কোনো প্রশাসনিক যাচাই ছিল কি? ভবিষ্যতে এ ধরনের সরকারি বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? সরকারি অর্থে ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দে এই প্রশ্নগুলোর উত্তরই এখন স্থানীয়দের প্রধান প্রত্যাশা।
ইত্তেহাদ নিউজ,অনলাইন : পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার এক ক্যাশিয়ারের বিরুদ্ধে অর্ধশতাধিক গ্রাহকের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ বর্তমানে পলাতক বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১১টার দিকে ব্যাংকের আউটলেট শাখার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা। তারা দ্রুত অর্থ ফেরত, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। কীভাবে সামনে এলো অভিযোগ ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহণ করলেও সংশ্লিষ্ট ক্যাশিয়ার অনেক ক্ষেত্রে সেই টাকা ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে জমা হিসেবে দেখাতেন না। গ্রাহকরা জানান, টাকা জমা দেওয়ার পর মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস না এলে তারা বিষয়টি জানতে চাইতেন। তখন অভিযুক্ত ক্যাশিয়ার "সার্ভারের সমস্যা"র কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করতেন। পরে হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, একাধিক জমা ব্যাংকের রেকর্ডেই নেই। এভাবে ধাপে ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ সামনে আসে বলে দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্তরা। শুধু গ্রাহক নয়, এজেন্টের অ্যাকাউন্ট থেকেও অর্থ উধাও অভিযোগ অনুযায়ী, শুধু গ্রাহকদের আমানতই নয়, ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলীর মাদার অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রায় ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর্থিক অনিয়মের পরিধি আরও বড় হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। "আমি সর্বস্বান্ত" ভুক্তভোগী লামিয়া বলেন, "আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেলাম। আমার সব টাকা নিয়ে পালিয়েছে।" তার মতো আরও অনেক গ্রাহক দাবি করেছেন, তাদের জীবনভর সঞ্চিত অর্থ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে ব্যাংকের এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী বলেন, অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তার ভাষায়, "ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।" তবে কতজন গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, মোট অর্থের পরিমাণ কত এবং অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রশাসনিক বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তদন্তের অপেক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ঘটনার পর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে— অভিযোগের প্রকৃত আর্থিক পরিমাণ কত? কতজন গ্রাহকের অর্থ জমা হয়নি? অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ব্যবস্থার ফাঁক কোথায় ছিল? দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইন সিস্টেমে জমা না দেখানো হলেও তা কেন শনাক্ত হয়নি? অভিযুক্ত একাই এই অনিয়ম করেছেন, নাকি এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত? এসব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে। বর্তমানে ভুক্তভোগীরা দ্রুত অর্থ ফেরত এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে আসছেন।